খুঁজুন
বুধবার, ৮ই এপ্রিল, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ২৫শে চৈত্র, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

চট্টগ্রামে সাংবাদিক নির্যাতনের ঘটনায় চবি সাংবাদিক সমিতির নিন্দা

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ৩ নভেম্বর, ২০২০, ৭:১৫ অপরাহ্ণ
চট্টগ্রামে সাংবাদিক নির্যাতনের ঘটনায় চবি সাংবাদিক সমিতির নিন্দা

চবি প্রতিনিধিঃ চট্টগ্রামের সাংবাদিক গোলাম সারোয়ারকে অপহরণ ও নির্যাতনের ঘটনায় তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় সাংবাদিক সমিতি (চবিসাস)। সারোয়ার স্থানীয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল সিটিনিউজ বিডি ও সাপ্তাহিক আজকের সূর্যোদয় পত্রিকার সাংবাদিক ছিলেন।

মঙ্গলবার সকালে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় সাংবাদিক সমিতির (চবিসাস) সভাপতি আব্দুল্লাহ আল ফয়সাল ও সাধারণ সম্পাদক জোবায়ের চৌধুরী এক যৌথ বিবৃতিতে এমন প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন।

বিবৃতিতে তারা বলেন, সাংবাদিকরা কোনো পক্ষের লোক নন, অন্যায়-অবিচারের বিরুদ্ধে সাংবাদিকদের কলম সব সময় সোচ্চার থাকে। মানুষের না বলা কথাগুলো সাংবাদিকরাই প্রকাশ করে আসছে যুগ যুগ ধরে। এ সত্যকে লালন করেই শুধুমাত্র সংবাদ উপস্থাপনের জন্যই গোলাম সরোয়ারের উপরে নির্যাতনের খড়গ নেমে এসেছে। ক্ষমতার অসীম চর্চা এবং গণতান্ত্রিক মতামতকে হত্যা করার স্পৃহা শাসকদেরকে জবাবদিহিতা মুক্ত থাকতে সহযোগিতা করছে, এর ফলে কমেছে প্রশ্ন তোলার সুযোগ। যারাই প্রশ্ন উত্থাপন করছে তাদেরকেই দমিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে। গণমাধ্যমকর্মী সরোয়ারের উপরে এমন ভয়াবহ নির্যাতন সেই ইঙ্গিত প্রদান করে।

বিবৃতিতে আরও বলা হয়, এ ধরনের ঘটনা বাক ও সাংবাদক্ষেত্রের স্বাধীনতাকে বাধাগ্রস্ত করে। যা মোটেই কাম্য নয়। সাংবাদিক নির্যাতনকারী ও ইন্ধনদাতাদের দ্রুত চিহ্নিত করে বিচারের আওতায় আনতে হবে। একই সাথে সাংবাদিক পেশাজীবীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে। তা না হলে সন্ত্রাসীরা গণমাধ্যমের কণ্ঠরোধ করতে বারবার হামলা চালানোর সাহস পাবে। তাই আইন প্রয়োগকারী সংস্থার কাছে অতিসত্বর এ ঘটনায় দোষী ব্যক্তিদের যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়ার জোর দাবি জানাচ্ছি।

উল্লেখ্য যে, গত ২৯ অক্টোবর চট্টগ্রামের ব্যাটারি গলিস্থ নিজবাসা থেকে অফিসের উদ্দেশ্যে বের হয়ে নিখোঁজ হন গোলাম সারোয়ার। তিনদিন নিখোঁজ থাকার পরে রোববার সন্ধ্যা সাড়ে সাতটার দিকে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের সীতাকুন্ডের কুমিরা ইউনিয়ন এলাকায় খালের পাড় থেকে তাকে উদ্ধার করে স্থানীয়রা। উদ্ধার পরবর্তী যে ভিডিওটি ভাইরাল হয়েছে তাতে সংবাদিক সরোয়ারকে বলতে শোনা গেছে, ‘ভাই, আমাকে মাইরেন না, প্লিজ আমি আর নিউজ করবো না’।

২৪ ঘণ্টা/রিহাম/মেহেদী

Feb2

নিষিদ্ধই থাকছে আ.লীগের কার্যক্রম, সংসদে বিল পাস

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: বুধবার, ৮ এপ্রিল, ২০২৬, ৫:৪৯ অপরাহ্ণ
নিষিদ্ধই থাকছে আ.লীগের কার্যক্রম, সংসদে বিল পাস

ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগের কার্যক্রম নিষিদ্ধ করতে অন্তর্বর্তী সরকারের জারি করা অধ্যাদেশ বিল আকারে সংসদে পাস হয়েছে।

বুধবার (০৮ এপ্রিল) দুপুরে জাতীয় সংসদে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ কর্তৃক উত্থাপিত সন্ত্রাসবিরোধী বিল ২০২৬ সংসদে ‘হ্যাঁ’ ভোটে জয়যুক্ত হয়েছে।

এর মাধ্যমে বিদ্যমান সন্ত্রাসবিরোধী আইনকে আরও সংশোধন ও কঠোর করা হচ্ছে। এতে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের কার্যক্রম নিষিদ্ধই থাকছে।

সংসদে বক্তব্যে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, আগে থেকেই দেশে সন্ত্রাসবিরোধী আইন থাকলেও সাম্প্রতিক পরিস্থিতি ও জনমতের প্রেক্ষিতে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার একটি বিশেষ অধ্যাদেশ জারি করে। সেই অধ্যাদেশে গণহত্যার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সংগঠনগুলোর কার্যক্রম নিষিদ্ধ করার বিধান রাখা হয়, যার আওতায় আওয়ামী লীগের কার্যক্রমও নিষিদ্ধ করা হয় বলে উল্লেখ করেন তিনি।

এর আগে বেলা ১১টায় স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রমের সভাপতিত্বে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনের বৈঠক পুনরায় শুরু হয়।

জুলাই যোদ্ধাদের সুরক্ষা ও দায়মুক্তি দিয়ে সংসদে বিল পাস

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: বুধবার, ৮ এপ্রিল, ২০২৬, ৫:৪২ অপরাহ্ণ
জুলাই যোদ্ধাদের সুরক্ষা ও দায়মুক্তি দিয়ে সংসদে বিল পাস

জুলাই গণঅভ্যুত্থানে অংশ নেওয়া ‘জুলাই যোদ্ধা’দের আইনি ও সাংবিধানিক সুরক্ষা এবং দায়মুক্তি দিয়ে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদে বিল সর্বসম্মত কণ্ঠভোটে পাস হয়েছে।

বুধবার (৮ এপ্রিল) স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সংসদ অধিবেশনে বিলটি উত্থাপন করেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দীন আহমদ। পরে তা সর্বসম্মত কণ্ঠভোটে পাস হয়।

সংসদে পাস হওয়া ‘জুলাই গণ-অভ্যুত্থান (সুরক্ষা ও দায় নির্ধারণ) অধ্যাদেশ, ২০২৬’ বিলের মাধ্যমে অভ্যুত্থানে অংশগ্রহণকারীদের বিরুদ্ধে করা সব ধরনের দেওয়ানি ও ফৌজদারি মামলা এবং আইনি কার্যধারা প্রত্যাহারের পথ প্রশস্ত হলো।

আইন অনুযায়ী, নির্ধারিত বিধান অনুসরণ করে এসব অভিযোগ বাতিল করা হবে। এ ছাড়া এই অভ্যুত্থানের সঙ্গে জড়িত কোনো ব্যক্তির বিরুদ্ধে ভবিষ্যতে নতুন করে কোনো মামলা বা আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ আইনত বাধা (বারিত) হিসেবে গণ্য হবে।

একই দিনে সংসদে ‘সন্ত্রাসবিরোধী আইনের সংশোধনী অধ্যাদেশ বিল-২০২৬’ পাস হয়েছে। এর ফলে ক্ষমতাচ্যুত দল আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক কার্যক্রম নিষিদ্ধ হওয়ার আইনি ভিত্তি নিশ্চিত হলো।

নতুন এই সংশোধনী অনুযায়ী, এখন থেকে কোনো ব্যক্তি বা সত্তার পাশাপাশি কোনো রাজনৈতিক দল বা সংগঠনকেও সন্ত্রাসে জড়িত থাকার অভিযোগে নিষিদ্ধ করার ক্ষমতা পাবে সরকার।

বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড ‘বাপের দোয়া ক্রিকেট বোর্ডে’ পরিণত হয়েছে

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: বুধবার, ৮ এপ্রিল, ২০২৬, ৪:৫৯ অপরাহ্ণ
বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড ‘বাপের দোয়া ক্রিকেট বোর্ডে’ পরিণত হয়েছে

কুমিল্লা-৪ আসনের সংসদ সদস্য হাসনাত আবদুল্লাহ বলেছেন, সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে নগ্নভাবে দলীয়করণ করা হচ্ছে। ইতিমধ্যে বাংলাদেশ ব্যাংকে দখল করা হয়েছে। বিসিবি এখন আর বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড এটা নাই। এটা হয়ে গেছে হচ্ছে ‘বাপের দোয়া ক্রিকেট বোর্ডে’ পরিণত হয়েছে।

বুধবার (৮এপ্রিল) সংসদের প্রথম অধিবেশনে ১১ দিনের বিকেলের সেশনে জুলাই গণঅভ্যুত্থান (সুরক্ষা ও দায় নির্ধারণ) আইন, ২০২৬ উত্থাপনের পর সংসদে দাঁড়িয়ে তিনি এসব কথা বলেন।

তিনি বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানে অংশগ্রহণকারীদের সুরক্ষা ও দায় নির্ধারণের লক্ষ্যে যে বিলটা আনা হয়েছে। সেই বিলে যদি আমরা দেখি এখানে কমিশন বলতে জাতীয় মানবাধিকার কমিশনকে বুঝানো হয়েছে। এখানে দুই এর ‘ঘ’তে সংজ্ঞার মধ্যে আমরা যদি দেখি বিশৃঙ্খল পরিস্থিতির অপরাধমূলক অপব্যবহার এটার ব্যাখ্যাটা দেওয়া হয়েছে। রাজনৈতিক প্রতিরোধের পরিবর্তে সংকীর্ণ ও ব্যক্তি স্বার্থে সংঘঠিত যে হত্যাকাণ্ডগুলো হয়েছে। এটাকে একভাবে দেখা হবে। আর আরেকটা হচ্ছে, গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা পুনরুদ্ধারের উদ্দেশ্য যেই কার্যাবলীগুলো সংগঠিত হয়েছে। সেটাকে একভাবে দেখা হবে।

তিনি আরও বলেন, প্রবলেমের জায়গাটা যেটা সেটা হচ্ছে, সংকীর্ণ ও ব্যক্তিগত স্বার্থে যে ধরনের সংগঠিত হত্যাকাণ্ড হয়েছে সেটাকে কে ডিফাইন করবে? সেটাকে কিন্তু ডিফাইন করবে এই আইন অনুযায়ী জাতীয় মানবাধিকার কমিশন। অর্থাৎ এই ইনডেমনিটিটা জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের ওপরে নির্ভর করবে। এবার এই জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের যে অধ্যাদেশ সেটা কিন্তু ইতোমধ্যে ল্যাপস করে দেওয়ার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। এখন এই জাতীয় মানবাধিকার কমিশনটা এটা যদি ২০০৯ সালের অনুযায়ী যদি চলে তাহলে সেটা কিন্তু পুরোপুরি সরকার নিয়ন্ত্রিত একটা মানবাধিকার কমিশন। যেই মানবাধিকার কমিশন বিরোধী দল ও মতকে দমনের জন্য ব্যবহার করা হয়েছে। ভিকটিম ব্লেমিংয়ের জন্য ব্যবহার করা হয়েছে। যেই মানবাধিকার কমিশন গুম খুনের বৈধতা উৎপাদন করা হয়েছে।

হাসনাত আবদুল্লাহ বলেন, এই মানবাধিকার কমিশনকে যদি আমরা মন্ত্রণালয়ের অধীনে রাখি এবং ওই মানবাধিকার কমিশনের মধ্য দিয়েই যদি আমরা জুলাই গণঅভ্যুত্থানের এই কার্যক্রমগুলোকে বিচারের এবং নিরীক্ষণের দায়িত্ব দেওয়া হয়, সেক্ষেত্রে এই নিরীক্ষণ কিন্তু প্রশ্নবিদ্ধ হবে।

তিনি বলেন, আমরা এই গণঅভ্যুত্থান পরবর্তী সময়ে যদি জাতীয় মানবাধিকার কমিশনকে একটা মন্ত্রণালয়ের অধীনে রাখি, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অধীনে রাখি তাদের মাধ্যমে আমরা নিরপেক্ষ ধরনের অনুসন্ধান আমরা কতটা পাব, সেটা নিয়ে কিন্তু আমরা সন্ধিহান, সেই জায়গা থেকে এই বিলটিকে যদি আমরা বাস্তবায়ন করতে চাই, এটাকে যদি আমরা ফাংশনাল করতে চাই তাহলে জাতীয় মানবাধিকার কমিশনকে অবশ্যই-অবশ্যই সেটাকে স্বায়িত্বশাসিত করতে হবে।

তিনি আরও বলেন, যারা সবচেয়ে বেশি নির্যাতিত হয়েছে, নিপীড়িত হয়েছে, তারাই এটাকে একটা মন্ত্রণালয়ের অধীনে রাখতে চাচ্ছে। এই অজুহাতে জাতীয় মানবাধিকার কমিশন যদি অটোনমাস হয়ে যায় তাহলে সেটাকে এটার জবাবদিহিতা কিভাবে নিশ্চিত হবে?

‘যেভাবে বর্তমানে প্রতিষ্ঠানগুলো নগ্য করা হচ্ছে সেজন্য জাতীয় মানবাধিকার কমিশন যে দলীয়করণ করা হবে না, আবার বাপের দোয়া একটা মানবাধিকার কমিশন বা বিরোধীদল দমন কমিশন করা হবে না, এটার প্রতি কিন্তু আমাদের আস্থা নাই।’

হাসনাত আবদুল্লাহ বলেন, বিলটা পাস হওয়ার আগে আমাদের জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের এই বিল হচ্ছে হওয়া নিষ্পত্তি হওয়া জরুরি। না হয় বিসিবির মতো আমরা আবার বাপের দোয়া কমিশন দেখতে পাব। বাংলাদেশ ব্যাংকের মতো আবার দলীয়করণ দেখতে পাব। আমরা বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে যেভাবে এক ধরনের দলীয়করণ করা হয়েছে, আমরা সেটি দেখতে পাব।