খুঁজুন
, ,

লক্ষ্মীপুরে বাধা পেরিয়ে ৫ নারীর সফলতা

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Sunday, 8 November, 2020, 12:59 pm
লক্ষ্মীপুরে বাধা পেরিয়ে ৫ নারীর সফলতা

অ আ আবীর আকাশ,লক্ষ্মীপুর প্রতিনিধি : লক্ষ্মীপুরের রামগঞ্জ উপজেলাতে ৫ জন নারী নিজেদের অদম্য ইচ্ছেশক্তিতে সমাজে প্রতিষ্ঠিত হতে পেরেছেন। শত ঘাত-প্রতিঘাতকে পিছনে ফেলে তারা কঠোর পরিশ্রম, একাগ্রতা, আত্মবিশ্বাসের কারণে আজ সম্মানের আসনে আধিষ্ঠ হয়েছেন। কেউ দুর্বল অবস্থান থেকে পরিশ্রম করে সন্তানদের করেছে প্রতিষ্ঠিত আর কেউ নির্যাতনে বিভীষিকা মুছে নিজে হয়েছে সাবলম্বী।

শাহিনা আক্তার
হিন্দু নারী থেকে মুসলমান হওয়া শাহিনা আক্তার (মঞ্জুমা রানী) ভালোবেসে মাসিমপুর গ্রামের মুসলিম ছেলে রফিকুল ইসলামকে ১৯৮৫ সালে বিয়ে করার অপরাদে পিতা-মা,ভাই-বোন থেকে বিচ্ছিন্ন হয়। দায়িত্বশীল স্বামীর অনুপস্থিতিতে পরিবারের সদস্যরা চালায় নানা প্রকার নির্যাতন। ১৯৯৫ সালে একটি এনজিওতে চাকুরী নিয়ে কর্মময় জীবন শুরু করেন। ১৯৯৮ সালে চন্ডিপুর ইউপি থেকে সংরক্ষিত মহিলা মেম্বার নিবার্চিত হন। এরপর থেকে টানা ৪ বার মেম্বার হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। চাকুরীর বেতন ও মেম্বার হিসেবে পাওয়ায় সম্মানী দিয়ে এক মেয়েকে মাস্টার্স, এক মেয়েকে ফাজিল এবং এক ছেলেকে এইচএসসি পাশ করিয়েছেন। জরাজীর্ণ বসতঘর থেকে বর্তমানে সমাজে প্রতিষ্ঠিত নারী শাহিনা আক্তার।

আছমা খানম
দরিদ্র পরিবারের সন্তান আছমা খানম টিউশনি করে অনার্সে অধ্যায়নরত অবস্থায় ২০১০ সালে বদরপুর গ্রামের জাহাঙ্গীর আলমের সাথে পারিবারিক ভাবে বিয়ে হয়। কিন্তু বিধিবাম! বিয়ের ৫ বছরের মাথায় স্বামী মারা যান। দাম্পত্ব্য জীবনে কোন সন্তান না হওয়ায় স্বামীর বাড়িতে থাকার জায়গাটুকু হয়নি। ফলে দরিদ্র বাবার বাড়িতে ফিরে আবার শুরু করেন জীবন যুদ্ধ। টিউশনি করে পড়া-লেখা চালিয়ে মাস্টার্স পাশ করেই মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তরের আইজিএ প্রকল্পের ট্রেইনার পদে চাকুরী পান। বর্তমানে রামগঞ্জ উপজেলা মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তরে কর্মরত আছেন। অদম্য ইচ্ছেশক্তিই তাঁকে আজ স্বাবলম্বী হতে সাহায্য করেছে।

আমেনা বেগম
উপজেলার আলীপুর গ্রামের আমেনা বেগমের স্বামী আবদুর রশিদ লোকাল বাসের লাইনম্যান হিসেবে ৫ হাজার টাকা দিয়ে সংসার চালাতে হিমশিম খাচ্ছে। জরাজীর্ণ বসতঘরে বৃষ্টি আসলে পানি পড়ে। স্থানীয় একটি আর্থিক প্রতিষ্ঠান থেকে কিছু টাকা ঋন নিয়ে পৈত্রিক ৫ শতাংশ এবং স্বামীর ৪শতাংশ সম্পত্তিতে শুরু করেন হাঁস-মুরগী, কবুতর পালন। শুরু করেন নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করার যুদ্ধ। সন্তানদের পড়া-লেখা,সাংসারিক কাজ ও হাঁস-মুরগী, কবুতর পালনে কঠোর পরিশ্রম করে মাত্র কয়েক বছরে আমেনা স্বাবলম্বী নারী হিসেবে
প্রতিষ্ঠিত হন। বর্তমানে সুন্দর একটি বসতঘর, ১৪টি হাঁস, ১৫টি মুরগী, ১২টি কবুতর, ১৭টি ছাগল, ৪টি গাভী, ১টি ষাঁড় ও ৩টি গো-বাছুর রয়েছে আমেনা বেগমের।

রায়হান আক্তার
১৯৭৯ সালে ৯ম শ্রেনীর ছাত্রী থাকাবস্থায় রামগঞ্জ পৌর আঙ্গারপাড়া গ্রামের দেলোয়ার হোসেনের সাথে বিয়ে হয় রায়হান আক্তারের। বিয়ের পর স্বামীর পরিবার নববধূ রায়হান আক্তারের পড়া-লেখার করার পক্ষে না থাকলেও নিজের প্রবল ইচ্ছেশক্তিতে পড়া-লেখা অব্যাহত রাখেন তিনি।

১৯৮২ সালে এইচএসসি পাশ করার পরেই প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সহকারী শিক্ষক হিসেবে চাকুরী পান। লক্ষ্মীপুর সরকারী কলেজ থেকে বি.এড ও এম.এস.এস পাশ করার পরে ২০০১ সালে প্রধান শিক্ষক হিসেবে পদোন্নতি লাভ করেন। তার ছেলে কুমিল্লা ভিক্টোরীয়া কলেজ থেকে রসায়ন বিষয়ে অনার্স ও মাস্টার্স সম্পন্ন করে ইসলামী ব্যাংক রামগঞ্জ শাখা সিনিয়র অফিসার হিসেবে কর্মরত আছেন এবং মেয়েও কুমিল্লা ভিক্টোরীয়া কলেজ থেকে রসায়ন বিষয়ে অনার্স ও মাস্টার্স সম্পন্ন করে সোনালী ব্যাংক রামগঞ্জ শাখা সিনিয়র অফিসার হিসেবে কর্মরত আছেন।

পারভিন আক্তার
রামগঞ্জ পৌর কাজিরখিল গ্রামের লুৎফর রহমান চট্টগ্রামে বিমান বাহিনীর সৈনিক হিসেবে কর্মরত থাকায় স্ত্রী পারভিন আক্তারকে কর্মস্থলে নিয়ে যান। স্বামীর বেতনের টাকা সংসারে নুন আনতে পান্তা পুরায় দেখে গৃহবধূ পারভিন নিজের এক আত্মীর সহযোগীতা সেলাই কাজ শিখেন। ঘরে থেকেই আশ-পাশের নারীদের পোষাক সেলাইসহ বিভিন্ন ধরনের কাজ করতে থাকেন। ২০১১ সালে ভারতের গুজরাটে গান্ধী আশ্রম ট্রাস্টের মাধ্যমে ২১ দিন ব্যাপী নারীদের দক্ষতা উন্নয়ন প্রশিক্ষন গ্রহন করেন। তিনি এই পর্যন্ত ৩০০ নারীদের প্রশিক্ষন দিয়েছেন এবং নিজে ৭টি প্রশিক্ষণ নিয়ে প্রতিকুলতা অতিক্রম করে বর্তমানে রামগঞ্জ পৌরসভার সংরক্ষিত কাউন্সিলর হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। মাত্র কয়েক বছরে কঠোর পরিশ্রমে পারভিন আক্তার জরাজীর্ণ বসতঘর থেকে দৃষ্টিনন্দন ঘরে বসবাস করার পাশাপাশি প্রতিষ্টিত নারী হিসেবে সম্মানিত।

২৪ ঘণ্টা/রিহাম

Feb2
Feb2

রাঙ্গুনিয়ায় রাহাতিয়া দরবারে জশনে জুলূস ও মীলাদ মাহ্ফিল

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Monday, 24 August, 2026, 7:52 pm
রাঙ্গুনিয়ায় রাহাতিয়া দরবারে জশনে জুলূস ও মীলাদ মাহ্ফিল

আনজুমান-এ রাহাতিয়া বিসমিল্লাহ্ শাহ্ বয়ানিয়ার উদ্যোগে ঐতিহ্যবাহী রাঙ্গুনিয়া রাহাতিয়া দরবার শরীফ প্রাঙ্গণ থেকে ৯ রবীউল আউয়াল ২৩ আগস্ট সকাল ১১ টায় পবিত্র জশনে জুলূসে ঈদে মীলাদুন্নবী (সা.) উপলক্ষে এক বর্ণাঢ্য র‍্যালি ও মীলাদ মাহ্ফিল অনুষ্ঠিত হয়।

জুলূসে নেতৃত্ব দেন রাহাতিয়া দরবার শরীফের সাজ্জাদানশীন, পীরে কামিল শাহ্ সূফী আল্লামা সৈয়্যদ মুহাম্মদ আবুল বয়ান শাহ্ নঈমী আশরাফী নকশবন্দী (মু.যি.আ.)।

রাঙ্গুনিয়া রাহাতিয়া দরবার শরীফ যিয়ারতের মাধ্যমে জুলূস শুরু হয়। রাঙ্গুনিয়া সরকারি কলেজ রোড হয়ে রাহাতুল্লাহ্ নকশবন্দী সড়ক হয়ে মরিয়ম নগর চৌমুহনী শাহী জামে মসজিদ সামনে সংক্ষিপ্ত আলোচনা ও মুনাজাত হয়। পুনরায় কাপ্তাই সড়ক প্রদক্ষিণ করে রাঙ্গুনিয়া কলেজ গেট হয়ে
রাহাতিয়া দরবার শরীফ পার্শস্থ রাহাতিয়া শাহী ঈদগাহ্ ময়দানে এসে জড়ো হয়। জুলূসে অংশ নেওয়া সুন্নী জনতার হাতে ছিল বাংলাদেশের জাতীয় পতাকা, আনজুমান-এ রাহাতিয়া বিসমিল্লাহ্ শাহ্ বয়ানিয়ার পতাকা, প্লেকার্ড ও ফেস্টুন।

জলূসে অংশগ্রহণকারীদের কণ্ঠে “ইয়া নবী সালাম আলাইকা”, “মুস্তফা জানে রহমত পেহ্ লাখো সালাম” ইত্যাদি হামদ, না’তে রাসূল (সা.) এবং “না’রায়ে তাকবীর আল্লাহু আকবর”, “না’রায়ে রিসালাত ইয়া রাসুলাল্লাহ্ (দ.)”।

রাহমাতুল্লিল আলামীন (সা.)-এর শুভাগমণের শুকরগুযার সম্পর্কিত স্লোগানে পুরো এলাকা মুখরিত হয়।

রাহাতিয়া দরবার শরীফের নায়েবে সাজ্জাদানশীন, পীরযাদাহ্ মাওলানা সৈয়্যদ মুহাম্মদ গোলাম রসুল শাহ্ নঈমী (মু.যি.আ.)-এর সার্বিক তত্ত্বাবধান ও পরিচালনায় এতে প্রধান মেহমান ছিলেন ভারত থেকে আগত পীরযাদাহ্ মাওলানা মুহাম্মদ বায়েজীদ আশরাফী।

বক্তব্য রাখেন আনজুমান-এ আহলে তাসাওউফ বাংলাদেশ-এর চেয়ারম্যান আলহাজ্ব মাওলানা গাজী মুঈনুদ্দীন রিজভী, বায়েজীদ দায়রায়ে মঈনিয়া রহমানিয়ার মুনতাজিম, মাওলানা মুহাম্মদ নজরুল ইসলাম আশরাফী মাইজভান্ডারী, বাংলাদেশ সূফীবাদী ঐক্য ফোরাম বাংলাদেশ-এর চেয়ারম্যান সাংবাদিক নূর মোহাম্মদ রানা, আনজুমান-এ রাহাতিয়া বিসমিল্লাহ্ শাহ্ বয়ানিয়ার মহাসচিব মুহাম্মদ নঈম উদ্দিন প্রমুখ।

না’তে রাসূল (সা.) পরিবেশন করেন শায়ের ওমর ফারুক ইরন, শায়ের আলভী হাসান।

অনুষ্ঠানের শুরুতে পবিত্র কুরআন তিলাওয়াত, না’তে রাসূল (সা.) শেষে মীলাদ, ক্বিয়াম ও মুনাজাতের মাধ্যমে মুসলিম উম্মাহ্’র শান্তি ও সমৃদ্ধির জন্য বিশেষ দু’আ করা হয়।

মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় কারাগারে শ্যামল-মোজাম্মেল-রুপা

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Monday, 24 August, 2026, 2:52 pm
মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় কারাগারে শ্যামল-মোজাম্মেল-রুপা

চব্বিশের জুলাই গণঅভ্যুত্থানে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রীর সংবাদ সম্মেলনে প্রশ্ন করার নামে উসকানিমূলক বক্তব্য দেওয়ার অভিযোগে করা মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় তিন সাংবাদিককে গ্রেপ্তার দেখিয়ে কারাগারে পাঠিয়েছেন ট্রাইব্যুনাল। একইসঙ্গে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের জন্য আগামী ২৫ অক্টোবর দিন ধার্য করা হয়েছে।

সোমবার (২৪ আগস্ট) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ এর সদস্য বিচারক মো. মঞ্জুরুল বাছিদের নেতৃত্বাধীন দুই সদস্যের বিচারিক প্যানেল এ আদেশ দেন। প্যানেলের অপর সদস্য বিচারক নূর মোহাম্মদ শাহরিয়ার কবীর।

তিন সাংবাদিক হলেন, জাতীয় প্রেসক্লাবের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও ভোরের কাগজের সম্পাদক শ্যামল দত্ত, একাত্তর টেলিভিশনের সাবেক প্রধান সম্পাদক মোজাম্মেল বাবু এবং একই প্রতিষ্ঠানের সাবেক প্রধান প্রতিবেদক ফারজানা রুপা।

ট্রাইব্যুনালে প্রসিকিউশনের পক্ষে শুনানি করেন প্রসিকিউটর ফারুক আহাম্মদ। সঙ্গে ছিলেন প্রসিকিউটর জহিরুল আমিন, মার্জিনা রায়হান, তারেক আবদুল্লাহসহ অন্যান্য প্রসিকিউটর।

শুনানিতে প্রসিকিউটর ফারুক আহাম্মদ জানান, জুলাই গণঅভ্যুত্থান-সংশ্লিষ্ট মানবতাবিরোধী অপরাধের একটি মামলায় তিন সাংবাদিকের বিরুদ্ধে ১৭ আগস্ট প্রোডাকশন ওয়ারেন্ট জারি করা হয়েছিল। এর পরিপ্রেক্ষিতে তাদের আজ ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হয়েছে। এ মামলায় তিনজনকেই গ্রেপ্তার দেখিয়ে কারাগারে পাঠানোর আবেদন করছে প্রসিকিউশন। একইসঙ্গে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের জন্য দুই মাস সময় চান তিনি।

শুনানি শেষে প্রসিকিউশনের আবেদন মঞ্জুর করে শ্যামল দত্ত, মোজাম্মেল বাবু ও ফারজানা রুপাকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন ট্রাইব্যুনাল। পাশাপাশি তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের জন্য পরবর্তী তারিখ নির্ধারণ করা হয়।

প্রসিকিউশন জানায়, ২০২৪ সালের ১৪ জুলাই গণভবনে একটি সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করেছিলেন তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। ওই দিন তাকে প্রশ্ন করার নামে কিছু উসকানিমূলক বক্তব্য দিয়েছিলেন কয়েকজন সাংবাদিক। এর পরিপ্রেক্ষিতে আন্দোলনকারীদের রাজাকারের বাচ্চা ও রাজাকারের নাতিপুতি বলেছিলেন শেখ হাসিনা।

রাষ্ট্রপক্ষের অভিযোগ, ওই উসকানিমূলক প্ররোচনার ধারাবাহিকতায় জুলাইয়ে মানবতাবিরোধী অপরাধ সংঘটিত হয়। এ মামলায় ১৪ জুলাইয়ের ওই ঘটনার বিষয়ে তদন্ত চলছে।

নুসরাত হত্যা : হাইকোর্টে দুই আসামির মৃত্যুদণ্ড, ১০ জন খালাস

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Monday, 24 August, 2026, 1:11 pm
নুসরাত হত্যা : হাইকোর্টে দুই আসামির মৃত্যুদণ্ড, ১০ জন খালাস

ফেনীর সোনাগাজীর বহুল আলোচিত মাদ্রাসাছাত্রী নুসরাত হত্যা মামলায় সোনাগাজী ইসলামিয়া ফাজিল (ডিগ্রি) মাদ্রাসার বরখাস্ত হওয়া অধ্যক্ষ সিরাজ উদদৌলাসহ দুই আসামির মৃত্যুদণ্ড, ১০ আসামিকে খালাস ও চার আসামিকে আমৃত্যু কারাদণ্ড দিয়েছেন হাইকোর্ট।

সোমবার (২৪ আগস্ট) দুপুরে বিচারপতি ভীষ্মদেব চক্রবর্তী ও বিচারপতি কে এম রাশেদুজ্জামান রাজার হাইকোর্ট বেঞ্চ এ রায় ঘোষণা করেন।

মৃত্যুদণ্ড বহাল রাখা হয়েছে যে দুই আসামির তারা হলেন-সোনাগাজী ইসলামিয়া ফাজিল (ডিগ্রি) মাদ্রাসার তৎকালীন অধ্যক্ষ সিরাজ উদদৌলা (৫৭) এবং শাহাদাত হোসেন শামীম(২০)।

আলোচিত এই মামলায় ফেনীর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল ২০১৯ সালের ২৪ অক্টোবর রায় দিয়েছিলেন। রায়ে মাদ্রাসার বরখাস্ত হওয়া অধ্যক্ষ সিরাজ উদদৌলাসহ ১৬ জনকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছিল।

নথিপত্র অনুযায়ী, ২০১৯ সালের ২৭ মার্চ সোনাগাজী ইসলামিয়া ফাজিল (ডিগ্রি) মাদ্রাসার তৎকালীন অধ্যক্ষ সিরাজ উদদৌলা নিজ কক্ষে ডেকে নিয়ে নুসরাতের শ্লীলতাহানি করেন। এ ঘটনায় মামলা হলে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়।

মামলা তুলে না নেওয়ায় ৬ এপ্রিল মাদ্রাসার ছাদে ডেকে নিয়ে নুসরাতের হাত-পা বেঁধে গায়ে কেরোসিন ঢেলে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়। ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ওই বছরের ১০ এপ্রিল নুসরাতের মৃত্যু হয়। এ ঘটনায় নুসরাতের বড় ভাই মাহমুদুল হাসান (নোমান) সোনাগাজী থানায় মামলা করেন। পরে মামলাটি হত্যা মামলায় রূপান্তরিত হয়।