খুঁজুন
সোমবার, ২৫শে মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ১১ই জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

লক্ষ্মীপুরে বাধা পেরিয়ে ৫ নারীর সফলতা

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: রবিবার, ৮ নভেম্বর, ২০২০, ১২:৫৯ অপরাহ্ণ
লক্ষ্মীপুরে বাধা পেরিয়ে ৫ নারীর সফলতা

অ আ আবীর আকাশ,লক্ষ্মীপুর প্রতিনিধি : লক্ষ্মীপুরের রামগঞ্জ উপজেলাতে ৫ জন নারী নিজেদের অদম্য ইচ্ছেশক্তিতে সমাজে প্রতিষ্ঠিত হতে পেরেছেন। শত ঘাত-প্রতিঘাতকে পিছনে ফেলে তারা কঠোর পরিশ্রম, একাগ্রতা, আত্মবিশ্বাসের কারণে আজ সম্মানের আসনে আধিষ্ঠ হয়েছেন। কেউ দুর্বল অবস্থান থেকে পরিশ্রম করে সন্তানদের করেছে প্রতিষ্ঠিত আর কেউ নির্যাতনে বিভীষিকা মুছে নিজে হয়েছে সাবলম্বী।

শাহিনা আক্তার
হিন্দু নারী থেকে মুসলমান হওয়া শাহিনা আক্তার (মঞ্জুমা রানী) ভালোবেসে মাসিমপুর গ্রামের মুসলিম ছেলে রফিকুল ইসলামকে ১৯৮৫ সালে বিয়ে করার অপরাদে পিতা-মা,ভাই-বোন থেকে বিচ্ছিন্ন হয়। দায়িত্বশীল স্বামীর অনুপস্থিতিতে পরিবারের সদস্যরা চালায় নানা প্রকার নির্যাতন। ১৯৯৫ সালে একটি এনজিওতে চাকুরী নিয়ে কর্মময় জীবন শুরু করেন। ১৯৯৮ সালে চন্ডিপুর ইউপি থেকে সংরক্ষিত মহিলা মেম্বার নিবার্চিত হন। এরপর থেকে টানা ৪ বার মেম্বার হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। চাকুরীর বেতন ও মেম্বার হিসেবে পাওয়ায় সম্মানী দিয়ে এক মেয়েকে মাস্টার্স, এক মেয়েকে ফাজিল এবং এক ছেলেকে এইচএসসি পাশ করিয়েছেন। জরাজীর্ণ বসতঘর থেকে বর্তমানে সমাজে প্রতিষ্ঠিত নারী শাহিনা আক্তার।

আছমা খানম
দরিদ্র পরিবারের সন্তান আছমা খানম টিউশনি করে অনার্সে অধ্যায়নরত অবস্থায় ২০১০ সালে বদরপুর গ্রামের জাহাঙ্গীর আলমের সাথে পারিবারিক ভাবে বিয়ে হয়। কিন্তু বিধিবাম! বিয়ের ৫ বছরের মাথায় স্বামী মারা যান। দাম্পত্ব্য জীবনে কোন সন্তান না হওয়ায় স্বামীর বাড়িতে থাকার জায়গাটুকু হয়নি। ফলে দরিদ্র বাবার বাড়িতে ফিরে আবার শুরু করেন জীবন যুদ্ধ। টিউশনি করে পড়া-লেখা চালিয়ে মাস্টার্স পাশ করেই মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তরের আইজিএ প্রকল্পের ট্রেইনার পদে চাকুরী পান। বর্তমানে রামগঞ্জ উপজেলা মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তরে কর্মরত আছেন। অদম্য ইচ্ছেশক্তিই তাঁকে আজ স্বাবলম্বী হতে সাহায্য করেছে।

আমেনা বেগম
উপজেলার আলীপুর গ্রামের আমেনা বেগমের স্বামী আবদুর রশিদ লোকাল বাসের লাইনম্যান হিসেবে ৫ হাজার টাকা দিয়ে সংসার চালাতে হিমশিম খাচ্ছে। জরাজীর্ণ বসতঘরে বৃষ্টি আসলে পানি পড়ে। স্থানীয় একটি আর্থিক প্রতিষ্ঠান থেকে কিছু টাকা ঋন নিয়ে পৈত্রিক ৫ শতাংশ এবং স্বামীর ৪শতাংশ সম্পত্তিতে শুরু করেন হাঁস-মুরগী, কবুতর পালন। শুরু করেন নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করার যুদ্ধ। সন্তানদের পড়া-লেখা,সাংসারিক কাজ ও হাঁস-মুরগী, কবুতর পালনে কঠোর পরিশ্রম করে মাত্র কয়েক বছরে আমেনা স্বাবলম্বী নারী হিসেবে
প্রতিষ্ঠিত হন। বর্তমানে সুন্দর একটি বসতঘর, ১৪টি হাঁস, ১৫টি মুরগী, ১২টি কবুতর, ১৭টি ছাগল, ৪টি গাভী, ১টি ষাঁড় ও ৩টি গো-বাছুর রয়েছে আমেনা বেগমের।

রায়হান আক্তার
১৯৭৯ সালে ৯ম শ্রেনীর ছাত্রী থাকাবস্থায় রামগঞ্জ পৌর আঙ্গারপাড়া গ্রামের দেলোয়ার হোসেনের সাথে বিয়ে হয় রায়হান আক্তারের। বিয়ের পর স্বামীর পরিবার নববধূ রায়হান আক্তারের পড়া-লেখার করার পক্ষে না থাকলেও নিজের প্রবল ইচ্ছেশক্তিতে পড়া-লেখা অব্যাহত রাখেন তিনি।

১৯৮২ সালে এইচএসসি পাশ করার পরেই প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সহকারী শিক্ষক হিসেবে চাকুরী পান। লক্ষ্মীপুর সরকারী কলেজ থেকে বি.এড ও এম.এস.এস পাশ করার পরে ২০০১ সালে প্রধান শিক্ষক হিসেবে পদোন্নতি লাভ করেন। তার ছেলে কুমিল্লা ভিক্টোরীয়া কলেজ থেকে রসায়ন বিষয়ে অনার্স ও মাস্টার্স সম্পন্ন করে ইসলামী ব্যাংক রামগঞ্জ শাখা সিনিয়র অফিসার হিসেবে কর্মরত আছেন এবং মেয়েও কুমিল্লা ভিক্টোরীয়া কলেজ থেকে রসায়ন বিষয়ে অনার্স ও মাস্টার্স সম্পন্ন করে সোনালী ব্যাংক রামগঞ্জ শাখা সিনিয়র অফিসার হিসেবে কর্মরত আছেন।

পারভিন আক্তার
রামগঞ্জ পৌর কাজিরখিল গ্রামের লুৎফর রহমান চট্টগ্রামে বিমান বাহিনীর সৈনিক হিসেবে কর্মরত থাকায় স্ত্রী পারভিন আক্তারকে কর্মস্থলে নিয়ে যান। স্বামীর বেতনের টাকা সংসারে নুন আনতে পান্তা পুরায় দেখে গৃহবধূ পারভিন নিজের এক আত্মীর সহযোগীতা সেলাই কাজ শিখেন। ঘরে থেকেই আশ-পাশের নারীদের পোষাক সেলাইসহ বিভিন্ন ধরনের কাজ করতে থাকেন। ২০১১ সালে ভারতের গুজরাটে গান্ধী আশ্রম ট্রাস্টের মাধ্যমে ২১ দিন ব্যাপী নারীদের দক্ষতা উন্নয়ন প্রশিক্ষন গ্রহন করেন। তিনি এই পর্যন্ত ৩০০ নারীদের প্রশিক্ষন দিয়েছেন এবং নিজে ৭টি প্রশিক্ষণ নিয়ে প্রতিকুলতা অতিক্রম করে বর্তমানে রামগঞ্জ পৌরসভার সংরক্ষিত কাউন্সিলর হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। মাত্র কয়েক বছরে কঠোর পরিশ্রমে পারভিন আক্তার জরাজীর্ণ বসতঘর থেকে দৃষ্টিনন্দন ঘরে বসবাস করার পাশাপাশি প্রতিষ্টিত নারী হিসেবে সম্মানিত।

২৪ ঘণ্টা/রিহাম

Feb2

ঝিনাইদহে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর উপর ডিম নিক্ষেপ ও হামলা

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: শুক্রবার, ২২ মে, ২০২৬, ৩:৪৯ অপরাহ্ণ
ঝিনাইদহে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর উপর ডিম নিক্ষেপ ও হামলা

ঝিনাইদহে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখ্য সংগঠক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর ওপর ডিম নিক্ষেপ ও অতর্কিত হামলার ঘটনা ঘটেছে। ছাত্রদলের নেতা-কর্মীদের বিরুদ্ধে এ অভিযোগ উঠেছে। এসময় ছাত্রদলের হামলায় নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর সঙ্গে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের তিন নেতা-কর্মী আহত হন।

আজ শুক্রবার (২২ মে) দুপুর ২টার দিকে শহরের পুরাতন কালেক্টরেট মসজিদের সামনে এই ঘটনাটি ঘটে।

প্রত্যক্ষদর্শীদের সূত্রে জানা যায়, শুক্রবার জুমার নামাজ আদায় শেষে মসজিদ থেকে বের হচ্ছিলেন নাসির উদ্দিন পাটোয়ারী। এ সময় ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের আহ্বায়ক সাহেদ আহম্মেদ তাঁর সঙ্গে কথা বলতে এগিয়ে যান।

তাদের মধ্যে কথা বলার এক পর্যায়ে হঠাৎ পেছন থেকে কয়েকজন যুবক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর ওপর ডিম নিক্ষেপ করে এবং অতর্কিত হামলা চালায়। এই হামলায় এনসিপির স্থানীয় কয়েকজন যুবক আহত হয়েছেন।

ভুক্তভোগী নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক আইডি থেকে এক পোস্টে হামলার বিস্তারিত জানান। তিনি অভিযোগ করেন, পূর্বনির্ধারিত কর্মসূচি অনুযায়ী জুমার নামাজ আদায় করে মসজিদ থেকে বের হওয়ার পরপরই পুলিশের উপস্থিতিতেই ছাত্রদল ও যুবদলের নেতাকর্মীরা এই হামলা চালায়।

নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী পোস্টে লেখেন, “প্রথমে ডিম, ইট-পাটকেল নিক্ষেপ করা হয়, এরপর হকিস্টিক দিয়ে অতর্কিতভাবে আঘাত করা হয়। তিনজনের মাথা ফাটিয়ে দেওয়া হয় এবং বেশ কয়েকজন আহত হন। আমাকে লক্ষ্য করেও কিল-ঘুষি মারা হয়।”

তিনি আরও অভিযোগ করেন, হামলাকারীরা এ সময় তাদের মোবাইল ফোন, ক্যামেরা এবং মানিব্যাগ ছিনিয়ে নেয়। ঘটনার পর তারা থানায় অবস্থান নিয়ে মামলা দায়েরের প্রস্তুতি নিচ্ছেন বলেও জানান। একই সাথে ছাত্রদল, যুবদল ও বিএনপি থানার সামনে আবারও হামলার প্রস্তুতি নিচ্ছে বলে তিনি ফেসবুক পোস্টে দাবি করেন।

এই ঘটনার পর এনসিপির নেতাকর্মীরা তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে এলাকায় বিক্ষোভ মিছিল করেছেন। বিক্ষোভ থেকে তারা স্বরাষ্ট্র ও আইনমন্ত্রীর পদত্যাগ দাবি করেন এবং হামলায় জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় আনার জোর দাবি জানান।

 

চট্টগ্রামে তিন বছরের শিশুকে ধর্ষণের ঘটনায় মামলা

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: শুক্রবার, ২২ মে, ২০২৬, ২:৪৮ অপরাহ্ণ
চট্টগ্রামে তিন বছরের শিশুকে ধর্ষণের ঘটনায় মামলা

চট্টগ্রামের বাকলিয়ায় তিন বছরের এক শিশুকে ধর্ষণের ঘটনায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। আজ (শুক্রবার) দুপুরে মামলার বিষয়টি নিশ্চিত করেন বাকলিয়া থানার এক কর্মকর্তা।

তিনি বলেন, ভুক্তভোগী শিশুর পিতা বাদী হয়ে মামলা দায়ের করেছেন। মামলায় গ্রেপ্তার মনিরকে আসামি করা হয়েছে।

স্থানীয় সূত্র জানায়, বাকলিয়ার চেয়ারম্যানঘাটা এলাকায় তিন বছর বয়সী এক শিশু নিখোঁজ হওয়ার পর বৃহস্পতিবার বিকেলে তাকে উদ্ধার করা হয়। উদ্ধারের পর শিশুটির শারীরিক অবস্থা দেখে স্বজন ও স্থানীয়দের সন্দেহ হয়, সে যৌন নিপীড়নের শিকার হয়েছে। খবরটি এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে বিকেলের দিকে রাস্তায় নেমে আসেন স্থানীয়রা।

স্থানীয়দের দাবি, অভিযুক্ত যুবকের নাম মনির। তিনি স্থানীয় একটি ডেকোরেশন দোকানে কাজ করেন। তাদের অভিযোগ, মনির তাদের কাছে নিজের অপরাধ স্বীকারও করেছেন।

অভিযুক্ত মনির নিজের অপরাধ স্বীকার করেছেন বলে একটি তথ্য ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়লেও এর সত্যতা সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

গতকাল বিকেল ৪টার দিকে স্থানীয়রা অভিযুক্তের অবস্থান নিশ্চিত করে ‘বিসমিল্লাহ ম্যানশন’ নামের একটি ভবন ঘেরাও করে রাখেন। একপর্যায়ে ভবনটির কলাপসিবল গেট ভেঙে ফেলার চেষ্টাও করা হয়।

খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে শিশুটিকে পরীক্ষার জন্য হাসপাতালে পাঠায়। অন্যদিকে অভিযুক্তকে আটক করে নিয়ে যাওয়ার সময় বিক্ষুব্ধ জনতা পথ আটকে দেয় এবং তাকে নিজেদের হাতে তুলে দেওয়ার দাবি জানায়। বিকেল সাড়ে চারটা থেকে পুলিশকে অবরুদ্ধ করে রাখে স্থানীয়রা। এরপর রাত আটটার দিকে পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে টিয়ারগ্যাস ও সাউন্ড গ্রেনেড নিক্ষেপ করে।

এসময় পুলিশকে লক্ষ্য করে ইটপাটকেল ছোড়েন স্থানীয়রা। এতে পুরো এলাকা রণক্ষেত্রে পরিণত হয়। স্থানীয়দের বাধার মুখে তখন পুলিশ অভিযুক্ত নিয়ে যেতে পারেনি।

পরে রাত ১১টা সময় দিকে জনবল বাড়ায় পুলিশ। পরে বিদ্যুৎ বন্ধ করে অভিযুক্তকে পুলিশের পোশাক পরিয়ে থানায় নিয়ে যাওয়া হয়। এ সময় ফাঁকা গুলি, টিয়ারগ্যাস ও সাউন্ড গ্রেনেড নিক্ষেপ করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করে পুলিশ। এসময় স্থানীয়রা পুলিশের একটি গাড়িতে আগুন দেয়। এতে দফায় দফায় সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।

রামিসার বাসার সামনে বিক্ষোভ, কুলখানির জন্য ঢাকা ছাড়লেন বাবা-মা

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: শুক্রবার, ২২ মে, ২০২৬, ২:৩২ অপরাহ্ণ
রামিসার বাসার সামনে বিক্ষোভ, কুলখানির জন্য ঢাকা ছাড়লেন বাবা-মা

রাজধানীর পল্লবীতে ধর্ষণের পর নৃশংস হত্যার শিকার আট বছরের শিশু রামিসা আক্তারের মৃত্যুর ঘটনায় এখনও থামেনি মানুষের ক্ষোভ আর কান্না।

শুক্রবার (২২ মে) সকাল থেকেই পল্লবীর সেকশন-১১ এলাকায় রামিসাদের বাসার সামনে জড়ো হতে থাকেন বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ। ছোট-ছোট সামাজিক ও স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের ব্যানারে মানববন্ধন, বিক্ষোভ ও প্রতিবাদ কর্মসূচি পালন করতে দেখা যায় স্থানীয়দের।

সেখানে গিয়ে দেখা যায়, বেলা ১১টার পর থেকে রামিসাদের বাসার সামনের গলিতে একে একে জড়ো হন নারী-পুরুষসহ বিভিন্ন বয়সী মানুষ। অনেকের হাতে ছিল ‘রামিসার হত্যাকারীর ফাঁসি চাই’, ‘শিশু ধর্ষণ ও হত্যার বিচার চাই’ লেখা প্ল্যাকার্ড।

এসময় এলাকাজুড়ে ছিল থমথমে পরিবেশ। স্থানীয়দের অনেকেই ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, এমন নির্মম হত্যাকাণ্ডের দৃষ্টান্তমূলক বিচার না হলে সমাজে শিশুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত হবে না।

একটি মানববন্ধনে অংশ নেওয়া লামিয়া খানম নামে এক নারী বলেন, আমরা নিজের সন্তানদের নিয়েই এখন আতঙ্কে আছি। একটা শিশুকে এত নির্মমভাবে হত্যা কোনো মানুষ করতে পারে না।

এদিকে সন্তান হারানোর শোকে এখনও প্রায় নির্বাক রামিসার মা-বাবা। শুক্রবার (আজ) দুপুর ১২টার দিকে মেয়ের কুলখানি ও মিলাদে অংশ নিতে মুন্সীগঞ্জের সিরাজদিখানের উদ্দেশে ঢাকা ছাড়েন তারা। যাওয়ার আগে বাসার সামনে জড়ো হওয়া মানুষদের কান্না আর সান্ত্বনার শব্দে ভারী হয়ে ওঠে পরিবেশ।

পরিবারের স্বজনরা জানান, বৃহস্পতিবার (২১ মে) রাতে সিরাজদিখানে পারিবারিক কবরস্থানে দাফনের সময় পুরো এলাকায় শোকের ছায়া নেমে আসে। রামিসার মা এখনও মেয়ের জামাকাপড় ও ব্যবহৃত জিনিসপত্র বুকে জড়িয়ে কাঁদছেন। আর বাবা আব্দুল হান্নান মোল্লা বারবার মেয়ের শেষ আবদারের কথা মনে করে ভেঙে পড়ছেন। দুই দিন আগে মেয়ের জন্য একটি বোরকা কিনে এনেছিলেন তিনি। কিন্তু সেই বোরকা আর পরা হয়নি রামিসার।

গত মঙ্গলবার সকালে পল্লবীর সেকশন-১১ এলাকায় নিজ বাসার পাশ থেকে নিখোঁজ হয় দ্বিতীয় শ্রেণির ছাত্রী রামিসা। পরে প্রতিবেশী সোহেল রানার ফ্ল্যাট থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় শিশুটির বাবা পল্লবী থানায় মামলা করেন।

পুলিশ জানায়, প্রধান অভিযুক্ত সোহেল রানা শিশুটিকে ধর্ষণের পর হত্যা করে মরদেহ গোপনের চেষ্টা করেন। ঘটনার পর নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। আদালতে তিনি হত্যার দায় স্বীকার করে জবানবন্দিও দিয়েছেন। এ ঘটনায় সোহেলের স্ত্রী স্বপ্না আক্তারকেও গ্রেপ্তার করে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।