খুঁজুন
শুক্রবার, ১০ই এপ্রিল, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ২৭শে চৈত্র, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

লক্ষ্মীপুরে বাধা পেরিয়ে ৫ নারীর সফলতা

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: রবিবার, ৮ নভেম্বর, ২০২০, ১২:৫৯ অপরাহ্ণ
লক্ষ্মীপুরে বাধা পেরিয়ে ৫ নারীর সফলতা

অ আ আবীর আকাশ,লক্ষ্মীপুর প্রতিনিধি : লক্ষ্মীপুরের রামগঞ্জ উপজেলাতে ৫ জন নারী নিজেদের অদম্য ইচ্ছেশক্তিতে সমাজে প্রতিষ্ঠিত হতে পেরেছেন। শত ঘাত-প্রতিঘাতকে পিছনে ফেলে তারা কঠোর পরিশ্রম, একাগ্রতা, আত্মবিশ্বাসের কারণে আজ সম্মানের আসনে আধিষ্ঠ হয়েছেন। কেউ দুর্বল অবস্থান থেকে পরিশ্রম করে সন্তানদের করেছে প্রতিষ্ঠিত আর কেউ নির্যাতনে বিভীষিকা মুছে নিজে হয়েছে সাবলম্বী।

শাহিনা আক্তার
হিন্দু নারী থেকে মুসলমান হওয়া শাহিনা আক্তার (মঞ্জুমা রানী) ভালোবেসে মাসিমপুর গ্রামের মুসলিম ছেলে রফিকুল ইসলামকে ১৯৮৫ সালে বিয়ে করার অপরাদে পিতা-মা,ভাই-বোন থেকে বিচ্ছিন্ন হয়। দায়িত্বশীল স্বামীর অনুপস্থিতিতে পরিবারের সদস্যরা চালায় নানা প্রকার নির্যাতন। ১৯৯৫ সালে একটি এনজিওতে চাকুরী নিয়ে কর্মময় জীবন শুরু করেন। ১৯৯৮ সালে চন্ডিপুর ইউপি থেকে সংরক্ষিত মহিলা মেম্বার নিবার্চিত হন। এরপর থেকে টানা ৪ বার মেম্বার হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। চাকুরীর বেতন ও মেম্বার হিসেবে পাওয়ায় সম্মানী দিয়ে এক মেয়েকে মাস্টার্স, এক মেয়েকে ফাজিল এবং এক ছেলেকে এইচএসসি পাশ করিয়েছেন। জরাজীর্ণ বসতঘর থেকে বর্তমানে সমাজে প্রতিষ্ঠিত নারী শাহিনা আক্তার।

আছমা খানম
দরিদ্র পরিবারের সন্তান আছমা খানম টিউশনি করে অনার্সে অধ্যায়নরত অবস্থায় ২০১০ সালে বদরপুর গ্রামের জাহাঙ্গীর আলমের সাথে পারিবারিক ভাবে বিয়ে হয়। কিন্তু বিধিবাম! বিয়ের ৫ বছরের মাথায় স্বামী মারা যান। দাম্পত্ব্য জীবনে কোন সন্তান না হওয়ায় স্বামীর বাড়িতে থাকার জায়গাটুকু হয়নি। ফলে দরিদ্র বাবার বাড়িতে ফিরে আবার শুরু করেন জীবন যুদ্ধ। টিউশনি করে পড়া-লেখা চালিয়ে মাস্টার্স পাশ করেই মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তরের আইজিএ প্রকল্পের ট্রেইনার পদে চাকুরী পান। বর্তমানে রামগঞ্জ উপজেলা মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তরে কর্মরত আছেন। অদম্য ইচ্ছেশক্তিই তাঁকে আজ স্বাবলম্বী হতে সাহায্য করেছে।

আমেনা বেগম
উপজেলার আলীপুর গ্রামের আমেনা বেগমের স্বামী আবদুর রশিদ লোকাল বাসের লাইনম্যান হিসেবে ৫ হাজার টাকা দিয়ে সংসার চালাতে হিমশিম খাচ্ছে। জরাজীর্ণ বসতঘরে বৃষ্টি আসলে পানি পড়ে। স্থানীয় একটি আর্থিক প্রতিষ্ঠান থেকে কিছু টাকা ঋন নিয়ে পৈত্রিক ৫ শতাংশ এবং স্বামীর ৪শতাংশ সম্পত্তিতে শুরু করেন হাঁস-মুরগী, কবুতর পালন। শুরু করেন নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করার যুদ্ধ। সন্তানদের পড়া-লেখা,সাংসারিক কাজ ও হাঁস-মুরগী, কবুতর পালনে কঠোর পরিশ্রম করে মাত্র কয়েক বছরে আমেনা স্বাবলম্বী নারী হিসেবে
প্রতিষ্ঠিত হন। বর্তমানে সুন্দর একটি বসতঘর, ১৪টি হাঁস, ১৫টি মুরগী, ১২টি কবুতর, ১৭টি ছাগল, ৪টি গাভী, ১টি ষাঁড় ও ৩টি গো-বাছুর রয়েছে আমেনা বেগমের।

রায়হান আক্তার
১৯৭৯ সালে ৯ম শ্রেনীর ছাত্রী থাকাবস্থায় রামগঞ্জ পৌর আঙ্গারপাড়া গ্রামের দেলোয়ার হোসেনের সাথে বিয়ে হয় রায়হান আক্তারের। বিয়ের পর স্বামীর পরিবার নববধূ রায়হান আক্তারের পড়া-লেখার করার পক্ষে না থাকলেও নিজের প্রবল ইচ্ছেশক্তিতে পড়া-লেখা অব্যাহত রাখেন তিনি।

১৯৮২ সালে এইচএসসি পাশ করার পরেই প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সহকারী শিক্ষক হিসেবে চাকুরী পান। লক্ষ্মীপুর সরকারী কলেজ থেকে বি.এড ও এম.এস.এস পাশ করার পরে ২০০১ সালে প্রধান শিক্ষক হিসেবে পদোন্নতি লাভ করেন। তার ছেলে কুমিল্লা ভিক্টোরীয়া কলেজ থেকে রসায়ন বিষয়ে অনার্স ও মাস্টার্স সম্পন্ন করে ইসলামী ব্যাংক রামগঞ্জ শাখা সিনিয়র অফিসার হিসেবে কর্মরত আছেন এবং মেয়েও কুমিল্লা ভিক্টোরীয়া কলেজ থেকে রসায়ন বিষয়ে অনার্স ও মাস্টার্স সম্পন্ন করে সোনালী ব্যাংক রামগঞ্জ শাখা সিনিয়র অফিসার হিসেবে কর্মরত আছেন।

পারভিন আক্তার
রামগঞ্জ পৌর কাজিরখিল গ্রামের লুৎফর রহমান চট্টগ্রামে বিমান বাহিনীর সৈনিক হিসেবে কর্মরত থাকায় স্ত্রী পারভিন আক্তারকে কর্মস্থলে নিয়ে যান। স্বামীর বেতনের টাকা সংসারে নুন আনতে পান্তা পুরায় দেখে গৃহবধূ পারভিন নিজের এক আত্মীর সহযোগীতা সেলাই কাজ শিখেন। ঘরে থেকেই আশ-পাশের নারীদের পোষাক সেলাইসহ বিভিন্ন ধরনের কাজ করতে থাকেন। ২০১১ সালে ভারতের গুজরাটে গান্ধী আশ্রম ট্রাস্টের মাধ্যমে ২১ দিন ব্যাপী নারীদের দক্ষতা উন্নয়ন প্রশিক্ষন গ্রহন করেন। তিনি এই পর্যন্ত ৩০০ নারীদের প্রশিক্ষন দিয়েছেন এবং নিজে ৭টি প্রশিক্ষণ নিয়ে প্রতিকুলতা অতিক্রম করে বর্তমানে রামগঞ্জ পৌরসভার সংরক্ষিত কাউন্সিলর হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। মাত্র কয়েক বছরে কঠোর পরিশ্রমে পারভিন আক্তার জরাজীর্ণ বসতঘর থেকে দৃষ্টিনন্দন ঘরে বসবাস করার পাশাপাশি প্রতিষ্টিত নারী হিসেবে সম্মানিত।

২৪ ঘণ্টা/রিহাম

Feb2

অনলাইন ও অফলাইন ক্লাসের সময়সূচি জানালেন শিক্ষামন্ত্রী

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ৯ এপ্রিল, ২০২৬, ২:৩২ অপরাহ্ণ
অনলাইন ও অফলাইন ক্লাসের সময়সূচি জানালেন শিক্ষামন্ত্রী

বৈশ্বিক জ্বালানি সংকটের কারণে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ৩ দিন অনলাইনে ক্লাস ও বাকি ৩ দিন সশরীরে ক্লাস নেয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন।

শিক্ষামন্ত্রী জানিয়েছেন, সপ্তাহের শনিবার, সোমবার ও বুধবার অফলাইন বা সশরীরে ক্লাস নেয়া হবে। আর রোববার, মঙ্গলবার ও বৃহস্পতিবার অনলাইনে ক্লাস নেয়া হবে। শনিবার (১১ এপ্রিল) থেকে ঢাকা মহানগরীতে চালু হচ্ছে এই পদ্ধতি। জোড়-বিজোড় দিন ভাগ করে অনলাইন ও অফলাইন ক্লাসের এই সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (৯ এপ্রিল) রাজধানীর সেগুনবাগিচায় আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ইনস্টিটিউটে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে মন্ত্রী এই তথ্য জানান।

এছাড়াও মন্ত্রী বলেন, প্রাথমিক বিদ্যালয়ের জন্য অনলাইন ক্লাসের সিদ্ধান্ত পরে জানানো।

জানা যায়, আগামী সপ্তাহে তা শুরু হবে । ভিকারুন্নেসা নূন স্কুল অ্যান্ড কলেজের মতো কিছু শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে এ পদ্ধতি চালু হচ্ছে।

সংবাদ সম্মেলনে রাজধানীর বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রধানরা উপস্থিত ছিলেন।

আবু সাঈদ হত্যা মামলার রায়ের পর আসামিদের হট্টগোল, ‘জয় বাংলা’ স্লোগান

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ৯ এপ্রিল, ২০২৬, ২:০৫ অপরাহ্ণ
আবু সাঈদ হত্যা মামলার রায়ের পর আসামিদের হট্টগোল, ‘জয় বাংলা’ স্লোগান

জুলাই-আগস্ট আন্দোলনের প্রথম শহীদ আবু সাঈদ হত্যার দায়ে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় রায় ঘোষণার পর ট্রাইব্যুনালে হট্টগোল করেছেন সাজাপ্রাপ্ত আসামিরা।

দুপুরে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ এর চেয়ারম্যান বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের বিচারিক প্যানেল রায় ঘোষণা পরে ট্রাইব্যুনাল থেকে বের হওয়ার সময় তারা দায়িত্বরত পুলিশের সাথে ধাক্কাধাক্কি করেন।

এ সময় সাজাপ্রাপ্ত আসামিরা জয় বাংলা স্লোগান দিয়ে বলেন, আমরা এ রায় মানি না। আমাদের ফাঁসানো হয়েছে, আমরা নির্দোষ।

এদিন দুপুর ১২টার দিকে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ এর চেয়ারম্যান বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের বিচারিক প্যানেলে এ রায় পড়া শুরু হয়। প্যানেলের অপর দুই সদস্য বিচারক মো. মঞ্জুরুল বাছিদ ও বিচারক নূর মোহাম্মদ শাহরিয়ার কবীর।

মৃত্যুদণ্ড প্রাপ্ত দুজন আসামি হলেন, পুলিশের সাবেক সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) আমির হোসেন এবং সাবেক কনস্টেবল সুজন চন্দ্র রায়।

এই মামলার ৩০ আসামির মধ্যে তিনজন আসামিকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। বাকি ২৫ আসামিকে বিভিন্ন মেয়াদে সাজা দেওয়া হয়েছে।

আবু সাঈদ হত্যা: দুই পুলিশ সদস্যর মৃত্যুদণ্ড, অন্যদের বিভিন্ন মেয়াদে সাজা

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ৯ এপ্রিল, ২০২৬, ১:১৮ অপরাহ্ণ
আবু সাঈদ হত্যা: দুই পুলিশ সদস্যর মৃত্যুদণ্ড, অন্যদের বিভিন্ন মেয়াদে সাজা

জুলাই-আগস্ট আন্দোলনের প্রথম শহীদ আবু সাঈদ হত্যার দায়ে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় দুই পুলিশ সদস্যকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন ট্রাইব্যুনাল। বাকি ২৮ আসামিকে বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (৯ এপ্রিল) দুপুরে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ এর চেয়ারম্যান বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের বিচারিক প্যানেল এ রায় ঘোষণা করেন।

মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন- রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের সাবেক এএসআই আমির হোসেন ও কনস্টেবল সুজন চন্দ্র রায়।

যাবজ্জীবনপ্রাপ্ত তিনজন হলেন- সাবেক সহকারী পুলিশ কমিশনার (কোতোয়ালি জোন) আরিফুজ্জামান ওরফে জীবন, তাজহাট থানার সাবেক অফিসার ইনচার্জ রবিউল ইসলাম ওরফে নয়ন ও বেরোবির সাবেক ক্যাম্প ইনচার্জ বিভূতি ভূষণ রায় ওরফে মাধব।

এর আগে দুপুর সোয়া ১২টার দিকে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ এর চেয়ারম্যান বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের বিচারিক প্যানেলে এ রায় পড়া শুরু হয়। প্যানেলের অপর দুই সদস্য বিচারক মো. মঞ্জুরুল বাছিদ ও বিচারক নূর মোহাম্মদ শাহরিয়ার কবীর।

বিস্তারিত আসছে…