খুঁজুন
শুক্রবার, ১০ই এপ্রিল, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ২৭শে চৈত্র, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

মাদকাসক্তদের বাঁচার স্বপ্ন দেখাচ্ছে ‘পুনর্জন্ম’

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: রবিবার, ৮ নভেম্বর, ২০২০, ৪:০৯ অপরাহ্ণ
মাদকাসক্তদের বাঁচার স্বপ্ন দেখাচ্ছে ‘পুনর্জন্ম’

ঠাকুরগাঁও প্রতিনিধিঃ তিনি নিজে ছিলেন মাদকাসক্ত। একটি মাদকাসক্তি চিকিৎসা কেন্দ্রে দীর্ঘদিন চিকিৎসা নিয়ে সম্পূর্ণ সুস্থ হয়ে নিজ জেলায় ফিরে এসে তার মত অসংখ্য মাদকাসক্ত তরুণকে ফিরিয়ে আনার কঠিন ব্রত নিয়ে চালু করলেন একটি ‘মাদকাসক্তি চিকিৎসা, সেবা ও পরামর্শ কেন্দ্র’। সেই কেন্দ্রটি এখন জীবনের আশা ছেড়ে দেয়া মাদকাসক্ত তরুণদের দেখাচ্ছে বেঁচে থাকার স্বপ্ন।

২০১৯ সালের আগস্ট মাসের ১৭ তারিখে শহরের পশ্চিম গোয়ালপাড়ায় একটি ভাড়া বাড়িতে পথযাত্রা শুরু করে মাদকাসক্তি চিকিৎসা, সেবা ও পরামর্শ কেন্দ্র ‘পুনর্জন্ম’।

ঠাকুরগাঁওয়ের তরুণ কম্পিউটার প্রকৌশলী হাসান কবির শিহাব এর উদ্যোক্তা। তিনি তার কর্মজীবন শুরু করেন একটি মোবাইল ফোন কোম্পানিতে। এরপর একটি কারিগরি কলেজে শিক্ষকতাও করেছেন কিছুদিন। হঠাৎ করেই তার সখ হয় রাজনীতি করার। বিভিন্ন শ্রেণি পেশার মানুষের সাথে ওঠা বসা করতে করতেই হয়ে পড়েন মাদকাসক্ত।

নিজের উপার্জনের সব টাকা চলে যায় নেশার পেছনেই। ক্রমশঃ পরিবারেও তিনি বোঝা হয়ে ওঠেন। মেধাবী এ তরুণকে মাদক গ্রাস করে ফেলে। উপায়ন্তর না দেখে তার ভগ্নিপতি (কৃষিবিদ ডঃমতিউর রহমানের ছেলে, যার ঢাকায় একটি মাদকাসক্তি চিকিৎসা, সেবা ও পরামর্শ কেন্দ্র রয়েছে) ব্যবসায়ী মাহাবুবুর রহমান রানা নিজের মাদকাসক্তি চিকিৎসা কেন্দ্রে শিহাবকে ভর্তি করে দেন। দীর্ঘ আঠারো মাস সেখানে অবস্থান করে সম্পূর্ণ সুস্থ হয়ে ওঠেন শিহাব, ফিরে আসেন ঠাকুরগাঁওয়ে। তিনি মর্মে মর্মে অনুভব করেন একজন মাদকাসক্ত সন্তান

একটি পরিবারের জন্য কতটা যন্ত্রণা বয়ে আনে। চোখের সামনেই অনেক সম্ভাবনাময় তরুণকে ধ্বংস হয়ে যেতে দেখেছেন মাদকের ছোবলে। তিনি
তার অর্জিত অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে মাদকাসক্ত তরুণদের সুপথে ফিরিয়ে আনতে দৃঢ় প্রতিজ্ঞাবদ্ধ হন। এর পর ভগ্নিপতি মাহাবুবুর রহমান রানার সহযোগিতায় গড়ে তোলেন এই মাদকাসক্তি চিকিৎসা, সেবা ও পরামর্শ কেন্দ্র।

এ কেন্দ্রটি সরেজমিন পরিদর্শনের কালে দেখা যায় এখানে ১৯জন মাদকাসক্ত তরুণ ভর্তি আছেন। এদের বয়স ১৫ থেকে ২৫ এর মধ্যে। প্রায় সবাই স্কুল কলেজ বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র। ৫জন স্টাফ আর তিন জন চিকিৎসক প্রয়োজন অনুসারে কাজ করেন এখানে। এছাড়াও মুলত স্বেচ্ছাশ্রমের ভিত্তিতে কিছুটা সুস্থ হয়ে ওঠা তরুণরাই কাজ করে থাকেন। তাদের ভাষায় এটা হচ্ছে ফেলোশিপ জার্নি।

এদের অনেকের সাথেই কথা বলে দেখা গেছে সবাই সপ্রতিভ এবং বুদ্ধিদীপ্ত। প্রায় সবাই একবাক্যে স্বীকার করলেন যে তারা তাদের অতীত কর্মকাণ্ডে অনুতপ্ত। এখান থেকে বের হয়ে স্বাভাবিক জীবনে তারা ফিরতে চান বলেও তারা জানান।

ঠাকুরগাঁও কেন্দ্রের পরিচালক শিহাব বলেন “এখান থেকে অনেকেই সুস্থ হয়ে স্বাভাবিক জীবনে ফিরে গেছেন”। তিনি এ কেন্দ্রটির কার্যক্রম
সম্পর্কে বলেন “এখানে অভিজ্ঞ ডাক্তার এবং মনোরোগ বিশেষজ্ঞ দ্বারা চিকিৎসা, কাউন্সিলিং, ডিটক্সিফিকেশন, থেরাপিউটিক্যাল কমিউনিটি,
সাইকো-এডুকেশন, অকুপেশনাল থেরাপি, রিক্রিয়েশনাল থেরাপি, আফটার কেয়ার ফলো-আপ সেবাগুলো দেয়া হয়ে থাকে।

খরচ সম্পর্কে জানতে চাইলে শিহাব বলেন ঢাকা বা বড় শহরগুলোর এমন প্রতিষ্ঠানগুলোর অনেক খরচ দিতে হলেও আমরা সাধারণ মানুষের সাধ্যের মধ্যেই খরচের অংকটা রেখেছি। এখানে একজন নিবাসীর পেছনে মাসিক খরচ ২ হাজার হতে ৫ হাজারের মধ্যে। এ টাকার মধ্যে থাকা খাওয়া চিকিৎসাসহ আনুসাঙ্গিক খরচ নির্বাহ করা হয়।

শিহাব বলেন, যদি আমরা সামান্য পরিমাণে হলেও সরকারি সাহায্য পেতাম তবে আরো সুন্দরভাবে কার্যক্রম পরিচালনা করতে সক্ষম হতাম।

এ ব্যাপারে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর ঠাকুরগাঁও এর পরিদর্শক শফিকুল ইসলামের দৃষ্টি আকর্ষণ করলে তিনি বলেন “বেসরকারি এসব মাদকাসক্তি চিকিৎসা সেবা কেন্দ্রগুলোর জন্য সরকারি ভাবে সাহায্য করার কোন সুযোগ নেই। পুনর্জন্ম নিবন্ধনের জন্য আবেদন করেছে, সেটা হয়ে গেলেই কিছু কিছু ক্ষেত্রে আমরা তাদের সহযোগিতা করতে পারবো”।

মাদকের ভয়াবহতা সম্পর্কে আমরা কম বেশি সবাই অবগত আছি। দিন দিন এর প্রসার ভয়াবহ রুপে ছড়িয়ে পড়ছে। এটা রোধ করা যেমন জরুরি তেমনি জরুরি মাদকাসক্তদের চিকিৎসা, সেবা ও পরামর্শের। দেশে মাত্র একটি সরকারি মাদকাসক্তি নিরাময় কেন্দ্র সারা দেশের মাদকসেবীর তুলনায় অপ্রতুল। এক্ষেত্রে বেসরকারি ভাবে এগিয়ে আসা কেন্দ্রগুলোর প্রতি সরকারি সহযোগিতা ও নিয়ন্ত্রণ জরুরি বলে মনে করেন সচেতন মহল।

২৪ ঘণ্টা/রিহাম/বর্মন

Feb2

অনলাইন ও অফলাইন ক্লাসের সময়সূচি জানালেন শিক্ষামন্ত্রী

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ৯ এপ্রিল, ২০২৬, ২:৩২ অপরাহ্ণ
অনলাইন ও অফলাইন ক্লাসের সময়সূচি জানালেন শিক্ষামন্ত্রী

বৈশ্বিক জ্বালানি সংকটের কারণে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ৩ দিন অনলাইনে ক্লাস ও বাকি ৩ দিন সশরীরে ক্লাস নেয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন।

শিক্ষামন্ত্রী জানিয়েছেন, সপ্তাহের শনিবার, সোমবার ও বুধবার অফলাইন বা সশরীরে ক্লাস নেয়া হবে। আর রোববার, মঙ্গলবার ও বৃহস্পতিবার অনলাইনে ক্লাস নেয়া হবে। শনিবার (১১ এপ্রিল) থেকে ঢাকা মহানগরীতে চালু হচ্ছে এই পদ্ধতি। জোড়-বিজোড় দিন ভাগ করে অনলাইন ও অফলাইন ক্লাসের এই সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (৯ এপ্রিল) রাজধানীর সেগুনবাগিচায় আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ইনস্টিটিউটে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে মন্ত্রী এই তথ্য জানান।

এছাড়াও মন্ত্রী বলেন, প্রাথমিক বিদ্যালয়ের জন্য অনলাইন ক্লাসের সিদ্ধান্ত পরে জানানো।

জানা যায়, আগামী সপ্তাহে তা শুরু হবে । ভিকারুন্নেসা নূন স্কুল অ্যান্ড কলেজের মতো কিছু শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে এ পদ্ধতি চালু হচ্ছে।

সংবাদ সম্মেলনে রাজধানীর বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রধানরা উপস্থিত ছিলেন।

আবু সাঈদ হত্যা মামলার রায়ের পর আসামিদের হট্টগোল, ‘জয় বাংলা’ স্লোগান

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ৯ এপ্রিল, ২০২৬, ২:০৫ অপরাহ্ণ
আবু সাঈদ হত্যা মামলার রায়ের পর আসামিদের হট্টগোল, ‘জয় বাংলা’ স্লোগান

জুলাই-আগস্ট আন্দোলনের প্রথম শহীদ আবু সাঈদ হত্যার দায়ে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় রায় ঘোষণার পর ট্রাইব্যুনালে হট্টগোল করেছেন সাজাপ্রাপ্ত আসামিরা।

দুপুরে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ এর চেয়ারম্যান বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের বিচারিক প্যানেল রায় ঘোষণা পরে ট্রাইব্যুনাল থেকে বের হওয়ার সময় তারা দায়িত্বরত পুলিশের সাথে ধাক্কাধাক্কি করেন।

এ সময় সাজাপ্রাপ্ত আসামিরা জয় বাংলা স্লোগান দিয়ে বলেন, আমরা এ রায় মানি না। আমাদের ফাঁসানো হয়েছে, আমরা নির্দোষ।

এদিন দুপুর ১২টার দিকে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ এর চেয়ারম্যান বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের বিচারিক প্যানেলে এ রায় পড়া শুরু হয়। প্যানেলের অপর দুই সদস্য বিচারক মো. মঞ্জুরুল বাছিদ ও বিচারক নূর মোহাম্মদ শাহরিয়ার কবীর।

মৃত্যুদণ্ড প্রাপ্ত দুজন আসামি হলেন, পুলিশের সাবেক সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) আমির হোসেন এবং সাবেক কনস্টেবল সুজন চন্দ্র রায়।

এই মামলার ৩০ আসামির মধ্যে তিনজন আসামিকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। বাকি ২৫ আসামিকে বিভিন্ন মেয়াদে সাজা দেওয়া হয়েছে।

আবু সাঈদ হত্যা: দুই পুলিশ সদস্যর মৃত্যুদণ্ড, অন্যদের বিভিন্ন মেয়াদে সাজা

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ৯ এপ্রিল, ২০২৬, ১:১৮ অপরাহ্ণ
আবু সাঈদ হত্যা: দুই পুলিশ সদস্যর মৃত্যুদণ্ড, অন্যদের বিভিন্ন মেয়াদে সাজা

জুলাই-আগস্ট আন্দোলনের প্রথম শহীদ আবু সাঈদ হত্যার দায়ে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় দুই পুলিশ সদস্যকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন ট্রাইব্যুনাল। বাকি ২৮ আসামিকে বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (৯ এপ্রিল) দুপুরে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ এর চেয়ারম্যান বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের বিচারিক প্যানেল এ রায় ঘোষণা করেন।

মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন- রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের সাবেক এএসআই আমির হোসেন ও কনস্টেবল সুজন চন্দ্র রায়।

যাবজ্জীবনপ্রাপ্ত তিনজন হলেন- সাবেক সহকারী পুলিশ কমিশনার (কোতোয়ালি জোন) আরিফুজ্জামান ওরফে জীবন, তাজহাট থানার সাবেক অফিসার ইনচার্জ রবিউল ইসলাম ওরফে নয়ন ও বেরোবির সাবেক ক্যাম্প ইনচার্জ বিভূতি ভূষণ রায় ওরফে মাধব।

এর আগে দুপুর সোয়া ১২টার দিকে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ এর চেয়ারম্যান বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের বিচারিক প্যানেলে এ রায় পড়া শুরু হয়। প্যানেলের অপর দুই সদস্য বিচারক মো. মঞ্জুরুল বাছিদ ও বিচারক নূর মোহাম্মদ শাহরিয়ার কবীর।

বিস্তারিত আসছে…