খুঁজুন
সোমবার, ২৫শে মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ১১ই জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

খাগড়াছড়ির পরিবহন মালিক গ্রুপে ‘সম্বন্ধী-দুলাভাই’র স্বেচ্ছাচারিতা ॥ আর্থিক ব্যবস্থাপনাতেও চরম অনিয়মের অভিযোগ

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: রবিবার, ১৫ নভেম্বর, ২০২০, ৯:৫৭ অপরাহ্ণ
খাগড়াছড়ির পরিবহন মালিক গ্রুপে ‘সম্বন্ধী-দুলাভাই’র স্বেচ্ছাচারিতা ॥ আর্থিক ব্যবস্থাপনাতেও চরম অনিয়মের অভিযোগ

নিজস্ব প্রতিবেদক,খাগড়াছড়ি : প্রায় একযুগ ধরে খাগড়াছড়ির পরিবহন সেক্টরের সবচেয়ে বড়ো প্রতিষ্ঠান ‘খাগড়াছড়ি সড়ক পরিবহন মালিক গ্রুপ’-এ চলছে অগণতান্ত্রিকভাবে নেতৃত্বে থাকা ‘সম্বন্ধী-দুলাভাই’-এর দ্বৈত স্বেচ্ছাচারিতা। আর্থিক ব্যবস্থাপনাতেও চরম অনিয়মের অভিযোগ আছে।

১৯৯০ সালে ‘খাগড়াছড়ি সড়ক পরিবহন মালিক সমিতি’ গঠন করা হয়। ২০০৪ সালে ‘খাগড়াছড়ি সড়ক পরিবহন মালিক গ্রুপ’ নামে যাত্রা করে, যা বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের নিবন্ধনভুক্ত। এত দিন নির্বাচন না হলেও হাত তুলে বা কণ্ঠভোটে সভাপতি/সম্পাদক নির্বাচন করা হতো। ২০০৯ সালে রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে মাহবুব সভাপতি হওয়ার পর থেকে গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া বন্ধ হয়ে যায়।

সর্বশেষ গত বছরের ২ নভেম্বর (২০১৯ ইংরেজি) খাগড়াছড়ি সড়ক পরিবহন মালিক গ্রুপ এর সাধারণ সভা অনুষ্ঠিত হয়েছিলো। সভায় বানিজ্য সংগঠন আইন ১৪ (১) অমান্য করে নির্বাচন ছাড়াই কমিটি গঠন করা হয়। উক্ত বৈঠকে উপস্থিত তিন মালিক সদস্যের প্রস্তাবনায় সভাপতি হন মাহবুবুল আলম এবং সা: সম্পাদক হন খলিলুর রহমান খোকন। দুইজন একে অপরের দুলাভাই আর সম্বন্ধী। এছাড়া মোঃ হানিফকে কার্যকরী সদস্য করা হয়। অথচ সেই বৈঠকে কমিটি গঠনের কোনই এজেন্ডা ছিলনা।

সভায় উপস্থিত তিন মালিক সদস্যের মোঃ হোসেন, মোঃ রোকন উদ্দিন ও মোঃ নুর হোসেন জানান, আমরা বৈঠকে উপস্থিত ছিলাম ঠিকই। তবে আমরা গণতান্ত্রিক উপায়ে নির্বাচনের কথা বলেছি। ১১ বছর ধরে যারা অবৈধ উপায়ে ক্ষমতা দখল করে রেখেছে সংগঠনের টাকা লুটপাট করছে তাদের প্রস্তাব কিংবা সমর্থন দেয়ার প্রশ্নই ওঠেনা। তারা মিথ্যার আশ্রয় নিয়ে ক্ষমতায় গেছে। এবং ক্ষমতায় যাওয়ার এক বছর পেরিয়ে গেলেও এখনো কমিটির অনুমোদন পায়নি।

এই তিন মালিক সদস্য কার্যকরী কমিটির কোন পদে প্রস্তাব বা সমর্থন দেননি বলেও দাবি করেন।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, সংগঠনটির ১৪৪ জন্য মালিক সদস্যের অধিকাংশ ক্ষমতায় থাকা ব্যক্তিদের প্রতি অসন্তুষ্টি জানিয়েছে। তারা সংগঠনের সভাপতি-সম্পাদকের কাছে লিখিত আবেদন করে সাধারণ নির্বাচন দেয়ার দাবি জানান। আবেদনে তারা সভাপতি সম্পাদককে উদ্দেশ্যে করে বলেন, ছল চাতুরীর আশ্রয় নিয়ে একই ব্যক্তি দিয়ে বার বার কমিটি গঠন করায় মালিকদের ব্যবসার ক্ষতি হচ্ছে। তারা অবিলম্বে সাধারণ নির্বাচনের দাবী জানান।

সংগঠনের বর্তমান সভাপতি মাহবুব উল আলম একদশক যাবত পরিবহন খাতের তিনটি সংগঠন থেকে তিনটি পদে থেকে মাসিক সম্মানী ৪৮ হাজার টাকা। তিনি শ্রম আইন ও ট্রেড ইউনিয়নের শর্ত লঙ্ঘন করে একই সাথে মালিক ও শ্রমিক সংগঠনের নেতৃত্ব দিচ্ছেন।

মালিক গ্রুপের সদস্য এবং খাগড়াছড়ি জেলা শ্রমিক দলের সা: সম্পাদক মো: রোকন উদ্দিন অভিযোগ করেন, নিজের গাড়ি না থাকা সত্ত্বেও ২০০৯ সালে প্রভাব খাটিয়ে মালিক গ্রুপের সদস্য হন মাহবুব। এর পর বাণিজ্য সংগঠন আইন অমান্য করে নির্বাচন ছাড়াই গায়ের জোরে সংগঠনের সভাপতি বনে যান। আর তাঁর আপন সম্বন্ধী খলিলুর রহমান প্রকাশ খোকন ড্রাইভারকে করা হয় মালিক গ্রুপের সাধারণ সম্পাদক। গঠনতান্ত্রিক বৈধভাবে নির্বাচনসহ অন্যান্য নিয়ম অনুসৃত না হওয়ায় কোনো জবাবদিহি নেই।

বিশ্বস্ত সূত্রে জানা গেছে, লাইন খরচের নামে প্রতি মাসে আয় হওয়া প্রায় ১৭ লাখ টাকার কোনো হদিস নেই।

সংগঠনের ১৪৪ সদস্যের বেশিরভাগ কমিটির ওপর অনাস্থা দিলেও তা কাজে আসেনি। সর্বশেষ একতরফা নির্বাচনের প্রতিবাদকারী সদস্য আব্দুল লতিফ হাইকোর্টে রিট করেন। আদালত তিন সপ্তাহের মধ্যে জবাব দিতে বললেও কেউ জবাব দেননি। এদিকে প্রতিবাদ করায় আব্দুল লতিফের দুটি গাড়ি সমিতির রোটেশন থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে। ফলে এক বছর ধরে দুটি বাস চলাচল করতে পারছে না।

সংগঠনের সদস্য মোঃ আবদুল লতিফ বলেন, বৈধ নির্বাচন না হওয়ায় মালিক গ্রুপের কোন স্বচ্ছতা জবাবদিহিতা নেই। লাইন খরচের নামে প্রতি মাসে আয় হওয়া লাখ লাখ টাকার কোন হদিস নেই। প্রতিবাদ করায় রোটেশন থেকে আমার দুটি গাড়ী বাদ দিয়েছে। ফলে আজ প্রায় এক বছর ধরে দুটি বাস চলাচল করতে পারছেনা। গুটি কয়েক লোক পুরো সংগঠনটা জিম্মি করে রেখেছে।

মালিক গ্রুপের আরেক সদস্য ও খাগড়াছড়ি সদর উপজেলা আওয়ামীলীগের সা: সম্পাদক বিশ্বজিৎ রায় দাশ অভিযোগ করেন, বাণিজ্য সংগঠন বিধিমালা ১৪ (১) ধারা অনুযায়ী, পরিচালনা কমিটির মেয়াদ শেষ হওয়ার ৯০ দিন আগে তিন সদস্যবিশিষ্ট নির্বাচনী বোর্ড ও তিন সদস্যবিশিষ্ট নির্বাচনী আপিল বোর্ড গঠন করতে হয়। তা না করে সর্বশেষ ২০১৯ সালের ২ নভেম্বর কমিটি গঠিত হয়েছিল। তফসিল ঘোষণা ছাড়াই সেখানে আলম পরিবারের চার সদস্য মিলে জোর করে কার্যনির্বাহী কমিটি ঘোষণা করেন। ক্ষমতার অপব্যবহার করে মেয়র রফিকুল অন্যায়ভাবে বড় ভাইকে সভাপতি ও খলিলুরকে সাধারণ সম্পাদক ঘোষণা করেন। এ নিয়ে সংগঠনের ১৪৪ সদস্যের মধ্যে ৯০ জন আপত্তি জানান। তাঁরা একতরফা কমিটি বাতিল করে নির্বাচন দেওয়ার দাবি তোলেন।

গত ৩১ অক্টোবর সমিতির উপদেষ্টাদের নিয়ে মালিক গ্রুপের একটি অংশ শহরের একটি রেস্টুরেন্টে বৈঠক করেন। বৈঠকে সড়ক পরিবহন মালিক গ্রুপের উপদেষ্টা রণ বিক্রম ত্রিপুরা ও নির্মলেন্দু চৌধুরী উপস্থিত ছিলেন। এসময় যানবাহন মালিকরা বর্তমান কমিটি এবং সংগঠনটির অনিয়মগুলো তুলে ধরেন।

এই বিষয়ে জানতে চাইলে সংগঠনটির সাধারণ সম্পাদক খলিলুর রহমান খোকন বলেন, আমরা বিধি মোতাবেক নির্বাচনের মাধ্যমে ক্ষমতায় এসেছি। অবৈধ উপায়ে আসিনি। এখন যারা আল্টিমেটাম দিচ্ছে বা গাড়ী বন্ধের হুমকি দিচ্ছে এমন পরিস্থিতি যদি তৈরি হয় নিশ্চই আমরা বসে থাকবো না।

ে্সংরঙগঠনটির সভাপতি মাহবুবুল আলম বলেন, এত বড় সংগঠনে অবৈধভাবে পদে বসার কোন সুযোগ নেই। সাধারণ সদস্যরা চেয়েছে বলে আমরা পদে বসেছি। এই নিয়ে হাই কোর্টে রীট দায়ের করা হয়েছে। এখন আদালত যদি আমাদের বৈধ বলে তাহলে কোন তাহলে নতুন করে কিছু করার নেই। আর যদি অবৈধ বলে তাহলে দ্রুত সাধারণ সভা করে নির্বাচন দিয়ে দিব। শ্রমিক নেতা হয়েও মালিক নেতা হওয়া যাবে না, এমন কিছু বিধানে নেই।

২৪ ঘণ্টা/রিহাম/প্রদীপ

Feb2

ঝিনাইদহে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর উপর ডিম নিক্ষেপ ও হামলা

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: শুক্রবার, ২২ মে, ২০২৬, ৩:৪৯ অপরাহ্ণ
ঝিনাইদহে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর উপর ডিম নিক্ষেপ ও হামলা

ঝিনাইদহে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখ্য সংগঠক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর ওপর ডিম নিক্ষেপ ও অতর্কিত হামলার ঘটনা ঘটেছে। ছাত্রদলের নেতা-কর্মীদের বিরুদ্ধে এ অভিযোগ উঠেছে। এসময় ছাত্রদলের হামলায় নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর সঙ্গে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের তিন নেতা-কর্মী আহত হন।

আজ শুক্রবার (২২ মে) দুপুর ২টার দিকে শহরের পুরাতন কালেক্টরেট মসজিদের সামনে এই ঘটনাটি ঘটে।

প্রত্যক্ষদর্শীদের সূত্রে জানা যায়, শুক্রবার জুমার নামাজ আদায় শেষে মসজিদ থেকে বের হচ্ছিলেন নাসির উদ্দিন পাটোয়ারী। এ সময় ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের আহ্বায়ক সাহেদ আহম্মেদ তাঁর সঙ্গে কথা বলতে এগিয়ে যান।

তাদের মধ্যে কথা বলার এক পর্যায়ে হঠাৎ পেছন থেকে কয়েকজন যুবক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর ওপর ডিম নিক্ষেপ করে এবং অতর্কিত হামলা চালায়। এই হামলায় এনসিপির স্থানীয় কয়েকজন যুবক আহত হয়েছেন।

ভুক্তভোগী নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক আইডি থেকে এক পোস্টে হামলার বিস্তারিত জানান। তিনি অভিযোগ করেন, পূর্বনির্ধারিত কর্মসূচি অনুযায়ী জুমার নামাজ আদায় করে মসজিদ থেকে বের হওয়ার পরপরই পুলিশের উপস্থিতিতেই ছাত্রদল ও যুবদলের নেতাকর্মীরা এই হামলা চালায়।

নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী পোস্টে লেখেন, “প্রথমে ডিম, ইট-পাটকেল নিক্ষেপ করা হয়, এরপর হকিস্টিক দিয়ে অতর্কিতভাবে আঘাত করা হয়। তিনজনের মাথা ফাটিয়ে দেওয়া হয় এবং বেশ কয়েকজন আহত হন। আমাকে লক্ষ্য করেও কিল-ঘুষি মারা হয়।”

তিনি আরও অভিযোগ করেন, হামলাকারীরা এ সময় তাদের মোবাইল ফোন, ক্যামেরা এবং মানিব্যাগ ছিনিয়ে নেয়। ঘটনার পর তারা থানায় অবস্থান নিয়ে মামলা দায়েরের প্রস্তুতি নিচ্ছেন বলেও জানান। একই সাথে ছাত্রদল, যুবদল ও বিএনপি থানার সামনে আবারও হামলার প্রস্তুতি নিচ্ছে বলে তিনি ফেসবুক পোস্টে দাবি করেন।

এই ঘটনার পর এনসিপির নেতাকর্মীরা তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে এলাকায় বিক্ষোভ মিছিল করেছেন। বিক্ষোভ থেকে তারা স্বরাষ্ট্র ও আইনমন্ত্রীর পদত্যাগ দাবি করেন এবং হামলায় জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় আনার জোর দাবি জানান।

 

চট্টগ্রামে তিন বছরের শিশুকে ধর্ষণের ঘটনায় মামলা

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: শুক্রবার, ২২ মে, ২০২৬, ২:৪৮ অপরাহ্ণ
চট্টগ্রামে তিন বছরের শিশুকে ধর্ষণের ঘটনায় মামলা

চট্টগ্রামের বাকলিয়ায় তিন বছরের এক শিশুকে ধর্ষণের ঘটনায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। আজ (শুক্রবার) দুপুরে মামলার বিষয়টি নিশ্চিত করেন বাকলিয়া থানার এক কর্মকর্তা।

তিনি বলেন, ভুক্তভোগী শিশুর পিতা বাদী হয়ে মামলা দায়ের করেছেন। মামলায় গ্রেপ্তার মনিরকে আসামি করা হয়েছে।

স্থানীয় সূত্র জানায়, বাকলিয়ার চেয়ারম্যানঘাটা এলাকায় তিন বছর বয়সী এক শিশু নিখোঁজ হওয়ার পর বৃহস্পতিবার বিকেলে তাকে উদ্ধার করা হয়। উদ্ধারের পর শিশুটির শারীরিক অবস্থা দেখে স্বজন ও স্থানীয়দের সন্দেহ হয়, সে যৌন নিপীড়নের শিকার হয়েছে। খবরটি এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে বিকেলের দিকে রাস্তায় নেমে আসেন স্থানীয়রা।

স্থানীয়দের দাবি, অভিযুক্ত যুবকের নাম মনির। তিনি স্থানীয় একটি ডেকোরেশন দোকানে কাজ করেন। তাদের অভিযোগ, মনির তাদের কাছে নিজের অপরাধ স্বীকারও করেছেন।

অভিযুক্ত মনির নিজের অপরাধ স্বীকার করেছেন বলে একটি তথ্য ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়লেও এর সত্যতা সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

গতকাল বিকেল ৪টার দিকে স্থানীয়রা অভিযুক্তের অবস্থান নিশ্চিত করে ‘বিসমিল্লাহ ম্যানশন’ নামের একটি ভবন ঘেরাও করে রাখেন। একপর্যায়ে ভবনটির কলাপসিবল গেট ভেঙে ফেলার চেষ্টাও করা হয়।

খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে শিশুটিকে পরীক্ষার জন্য হাসপাতালে পাঠায়। অন্যদিকে অভিযুক্তকে আটক করে নিয়ে যাওয়ার সময় বিক্ষুব্ধ জনতা পথ আটকে দেয় এবং তাকে নিজেদের হাতে তুলে দেওয়ার দাবি জানায়। বিকেল সাড়ে চারটা থেকে পুলিশকে অবরুদ্ধ করে রাখে স্থানীয়রা। এরপর রাত আটটার দিকে পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে টিয়ারগ্যাস ও সাউন্ড গ্রেনেড নিক্ষেপ করে।

এসময় পুলিশকে লক্ষ্য করে ইটপাটকেল ছোড়েন স্থানীয়রা। এতে পুরো এলাকা রণক্ষেত্রে পরিণত হয়। স্থানীয়দের বাধার মুখে তখন পুলিশ অভিযুক্ত নিয়ে যেতে পারেনি।

পরে রাত ১১টা সময় দিকে জনবল বাড়ায় পুলিশ। পরে বিদ্যুৎ বন্ধ করে অভিযুক্তকে পুলিশের পোশাক পরিয়ে থানায় নিয়ে যাওয়া হয়। এ সময় ফাঁকা গুলি, টিয়ারগ্যাস ও সাউন্ড গ্রেনেড নিক্ষেপ করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করে পুলিশ। এসময় স্থানীয়রা পুলিশের একটি গাড়িতে আগুন দেয়। এতে দফায় দফায় সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।

রামিসার বাসার সামনে বিক্ষোভ, কুলখানির জন্য ঢাকা ছাড়লেন বাবা-মা

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: শুক্রবার, ২২ মে, ২০২৬, ২:৩২ অপরাহ্ণ
রামিসার বাসার সামনে বিক্ষোভ, কুলখানির জন্য ঢাকা ছাড়লেন বাবা-মা

রাজধানীর পল্লবীতে ধর্ষণের পর নৃশংস হত্যার শিকার আট বছরের শিশু রামিসা আক্তারের মৃত্যুর ঘটনায় এখনও থামেনি মানুষের ক্ষোভ আর কান্না।

শুক্রবার (২২ মে) সকাল থেকেই পল্লবীর সেকশন-১১ এলাকায় রামিসাদের বাসার সামনে জড়ো হতে থাকেন বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ। ছোট-ছোট সামাজিক ও স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের ব্যানারে মানববন্ধন, বিক্ষোভ ও প্রতিবাদ কর্মসূচি পালন করতে দেখা যায় স্থানীয়দের।

সেখানে গিয়ে দেখা যায়, বেলা ১১টার পর থেকে রামিসাদের বাসার সামনের গলিতে একে একে জড়ো হন নারী-পুরুষসহ বিভিন্ন বয়সী মানুষ। অনেকের হাতে ছিল ‘রামিসার হত্যাকারীর ফাঁসি চাই’, ‘শিশু ধর্ষণ ও হত্যার বিচার চাই’ লেখা প্ল্যাকার্ড।

এসময় এলাকাজুড়ে ছিল থমথমে পরিবেশ। স্থানীয়দের অনেকেই ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, এমন নির্মম হত্যাকাণ্ডের দৃষ্টান্তমূলক বিচার না হলে সমাজে শিশুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত হবে না।

একটি মানববন্ধনে অংশ নেওয়া লামিয়া খানম নামে এক নারী বলেন, আমরা নিজের সন্তানদের নিয়েই এখন আতঙ্কে আছি। একটা শিশুকে এত নির্মমভাবে হত্যা কোনো মানুষ করতে পারে না।

এদিকে সন্তান হারানোর শোকে এখনও প্রায় নির্বাক রামিসার মা-বাবা। শুক্রবার (আজ) দুপুর ১২টার দিকে মেয়ের কুলখানি ও মিলাদে অংশ নিতে মুন্সীগঞ্জের সিরাজদিখানের উদ্দেশে ঢাকা ছাড়েন তারা। যাওয়ার আগে বাসার সামনে জড়ো হওয়া মানুষদের কান্না আর সান্ত্বনার শব্দে ভারী হয়ে ওঠে পরিবেশ।

পরিবারের স্বজনরা জানান, বৃহস্পতিবার (২১ মে) রাতে সিরাজদিখানে পারিবারিক কবরস্থানে দাফনের সময় পুরো এলাকায় শোকের ছায়া নেমে আসে। রামিসার মা এখনও মেয়ের জামাকাপড় ও ব্যবহৃত জিনিসপত্র বুকে জড়িয়ে কাঁদছেন। আর বাবা আব্দুল হান্নান মোল্লা বারবার মেয়ের শেষ আবদারের কথা মনে করে ভেঙে পড়ছেন। দুই দিন আগে মেয়ের জন্য একটি বোরকা কিনে এনেছিলেন তিনি। কিন্তু সেই বোরকা আর পরা হয়নি রামিসার।

গত মঙ্গলবার সকালে পল্লবীর সেকশন-১১ এলাকায় নিজ বাসার পাশ থেকে নিখোঁজ হয় দ্বিতীয় শ্রেণির ছাত্রী রামিসা। পরে প্রতিবেশী সোহেল রানার ফ্ল্যাট থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় শিশুটির বাবা পল্লবী থানায় মামলা করেন।

পুলিশ জানায়, প্রধান অভিযুক্ত সোহেল রানা শিশুটিকে ধর্ষণের পর হত্যা করে মরদেহ গোপনের চেষ্টা করেন। ঘটনার পর নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। আদালতে তিনি হত্যার দায় স্বীকার করে জবানবন্দিও দিয়েছেন। এ ঘটনায় সোহেলের স্ত্রী স্বপ্না আক্তারকেও গ্রেপ্তার করে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।