খুঁজুন
, ,

খাগড়াছড়ির পরিবহন মালিক গ্রুপে ‘সম্বন্ধী-দুলাভাই’র স্বেচ্ছাচারিতা ॥ আর্থিক ব্যবস্থাপনাতেও চরম অনিয়মের অভিযোগ

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Sunday, 15 November, 2020, 9:57 pm
খাগড়াছড়ির পরিবহন মালিক গ্রুপে ‘সম্বন্ধী-দুলাভাই’র স্বেচ্ছাচারিতা ॥ আর্থিক ব্যবস্থাপনাতেও চরম অনিয়মের অভিযোগ

নিজস্ব প্রতিবেদক,খাগড়াছড়ি : প্রায় একযুগ ধরে খাগড়াছড়ির পরিবহন সেক্টরের সবচেয়ে বড়ো প্রতিষ্ঠান ‘খাগড়াছড়ি সড়ক পরিবহন মালিক গ্রুপ’-এ চলছে অগণতান্ত্রিকভাবে নেতৃত্বে থাকা ‘সম্বন্ধী-দুলাভাই’-এর দ্বৈত স্বেচ্ছাচারিতা। আর্থিক ব্যবস্থাপনাতেও চরম অনিয়মের অভিযোগ আছে।

১৯৯০ সালে ‘খাগড়াছড়ি সড়ক পরিবহন মালিক সমিতি’ গঠন করা হয়। ২০০৪ সালে ‘খাগড়াছড়ি সড়ক পরিবহন মালিক গ্রুপ’ নামে যাত্রা করে, যা বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের নিবন্ধনভুক্ত। এত দিন নির্বাচন না হলেও হাত তুলে বা কণ্ঠভোটে সভাপতি/সম্পাদক নির্বাচন করা হতো। ২০০৯ সালে রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে মাহবুব সভাপতি হওয়ার পর থেকে গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া বন্ধ হয়ে যায়।

সর্বশেষ গত বছরের ২ নভেম্বর (২০১৯ ইংরেজি) খাগড়াছড়ি সড়ক পরিবহন মালিক গ্রুপ এর সাধারণ সভা অনুষ্ঠিত হয়েছিলো। সভায় বানিজ্য সংগঠন আইন ১৪ (১) অমান্য করে নির্বাচন ছাড়াই কমিটি গঠন করা হয়। উক্ত বৈঠকে উপস্থিত তিন মালিক সদস্যের প্রস্তাবনায় সভাপতি হন মাহবুবুল আলম এবং সা: সম্পাদক হন খলিলুর রহমান খোকন। দুইজন একে অপরের দুলাভাই আর সম্বন্ধী। এছাড়া মোঃ হানিফকে কার্যকরী সদস্য করা হয়। অথচ সেই বৈঠকে কমিটি গঠনের কোনই এজেন্ডা ছিলনা।

সভায় উপস্থিত তিন মালিক সদস্যের মোঃ হোসেন, মোঃ রোকন উদ্দিন ও মোঃ নুর হোসেন জানান, আমরা বৈঠকে উপস্থিত ছিলাম ঠিকই। তবে আমরা গণতান্ত্রিক উপায়ে নির্বাচনের কথা বলেছি। ১১ বছর ধরে যারা অবৈধ উপায়ে ক্ষমতা দখল করে রেখেছে সংগঠনের টাকা লুটপাট করছে তাদের প্রস্তাব কিংবা সমর্থন দেয়ার প্রশ্নই ওঠেনা। তারা মিথ্যার আশ্রয় নিয়ে ক্ষমতায় গেছে। এবং ক্ষমতায় যাওয়ার এক বছর পেরিয়ে গেলেও এখনো কমিটির অনুমোদন পায়নি।

এই তিন মালিক সদস্য কার্যকরী কমিটির কোন পদে প্রস্তাব বা সমর্থন দেননি বলেও দাবি করেন।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, সংগঠনটির ১৪৪ জন্য মালিক সদস্যের অধিকাংশ ক্ষমতায় থাকা ব্যক্তিদের প্রতি অসন্তুষ্টি জানিয়েছে। তারা সংগঠনের সভাপতি-সম্পাদকের কাছে লিখিত আবেদন করে সাধারণ নির্বাচন দেয়ার দাবি জানান। আবেদনে তারা সভাপতি সম্পাদককে উদ্দেশ্যে করে বলেন, ছল চাতুরীর আশ্রয় নিয়ে একই ব্যক্তি দিয়ে বার বার কমিটি গঠন করায় মালিকদের ব্যবসার ক্ষতি হচ্ছে। তারা অবিলম্বে সাধারণ নির্বাচনের দাবী জানান।

সংগঠনের বর্তমান সভাপতি মাহবুব উল আলম একদশক যাবত পরিবহন খাতের তিনটি সংগঠন থেকে তিনটি পদে থেকে মাসিক সম্মানী ৪৮ হাজার টাকা। তিনি শ্রম আইন ও ট্রেড ইউনিয়নের শর্ত লঙ্ঘন করে একই সাথে মালিক ও শ্রমিক সংগঠনের নেতৃত্ব দিচ্ছেন।

মালিক গ্রুপের সদস্য এবং খাগড়াছড়ি জেলা শ্রমিক দলের সা: সম্পাদক মো: রোকন উদ্দিন অভিযোগ করেন, নিজের গাড়ি না থাকা সত্ত্বেও ২০০৯ সালে প্রভাব খাটিয়ে মালিক গ্রুপের সদস্য হন মাহবুব। এর পর বাণিজ্য সংগঠন আইন অমান্য করে নির্বাচন ছাড়াই গায়ের জোরে সংগঠনের সভাপতি বনে যান। আর তাঁর আপন সম্বন্ধী খলিলুর রহমান প্রকাশ খোকন ড্রাইভারকে করা হয় মালিক গ্রুপের সাধারণ সম্পাদক। গঠনতান্ত্রিক বৈধভাবে নির্বাচনসহ অন্যান্য নিয়ম অনুসৃত না হওয়ায় কোনো জবাবদিহি নেই।

বিশ্বস্ত সূত্রে জানা গেছে, লাইন খরচের নামে প্রতি মাসে আয় হওয়া প্রায় ১৭ লাখ টাকার কোনো হদিস নেই।

সংগঠনের ১৪৪ সদস্যের বেশিরভাগ কমিটির ওপর অনাস্থা দিলেও তা কাজে আসেনি। সর্বশেষ একতরফা নির্বাচনের প্রতিবাদকারী সদস্য আব্দুল লতিফ হাইকোর্টে রিট করেন। আদালত তিন সপ্তাহের মধ্যে জবাব দিতে বললেও কেউ জবাব দেননি। এদিকে প্রতিবাদ করায় আব্দুল লতিফের দুটি গাড়ি সমিতির রোটেশন থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে। ফলে এক বছর ধরে দুটি বাস চলাচল করতে পারছে না।

সংগঠনের সদস্য মোঃ আবদুল লতিফ বলেন, বৈধ নির্বাচন না হওয়ায় মালিক গ্রুপের কোন স্বচ্ছতা জবাবদিহিতা নেই। লাইন খরচের নামে প্রতি মাসে আয় হওয়া লাখ লাখ টাকার কোন হদিস নেই। প্রতিবাদ করায় রোটেশন থেকে আমার দুটি গাড়ী বাদ দিয়েছে। ফলে আজ প্রায় এক বছর ধরে দুটি বাস চলাচল করতে পারছেনা। গুটি কয়েক লোক পুরো সংগঠনটা জিম্মি করে রেখেছে।

মালিক গ্রুপের আরেক সদস্য ও খাগড়াছড়ি সদর উপজেলা আওয়ামীলীগের সা: সম্পাদক বিশ্বজিৎ রায় দাশ অভিযোগ করেন, বাণিজ্য সংগঠন বিধিমালা ১৪ (১) ধারা অনুযায়ী, পরিচালনা কমিটির মেয়াদ শেষ হওয়ার ৯০ দিন আগে তিন সদস্যবিশিষ্ট নির্বাচনী বোর্ড ও তিন সদস্যবিশিষ্ট নির্বাচনী আপিল বোর্ড গঠন করতে হয়। তা না করে সর্বশেষ ২০১৯ সালের ২ নভেম্বর কমিটি গঠিত হয়েছিল। তফসিল ঘোষণা ছাড়াই সেখানে আলম পরিবারের চার সদস্য মিলে জোর করে কার্যনির্বাহী কমিটি ঘোষণা করেন। ক্ষমতার অপব্যবহার করে মেয়র রফিকুল অন্যায়ভাবে বড় ভাইকে সভাপতি ও খলিলুরকে সাধারণ সম্পাদক ঘোষণা করেন। এ নিয়ে সংগঠনের ১৪৪ সদস্যের মধ্যে ৯০ জন আপত্তি জানান। তাঁরা একতরফা কমিটি বাতিল করে নির্বাচন দেওয়ার দাবি তোলেন।

গত ৩১ অক্টোবর সমিতির উপদেষ্টাদের নিয়ে মালিক গ্রুপের একটি অংশ শহরের একটি রেস্টুরেন্টে বৈঠক করেন। বৈঠকে সড়ক পরিবহন মালিক গ্রুপের উপদেষ্টা রণ বিক্রম ত্রিপুরা ও নির্মলেন্দু চৌধুরী উপস্থিত ছিলেন। এসময় যানবাহন মালিকরা বর্তমান কমিটি এবং সংগঠনটির অনিয়মগুলো তুলে ধরেন।

এই বিষয়ে জানতে চাইলে সংগঠনটির সাধারণ সম্পাদক খলিলুর রহমান খোকন বলেন, আমরা বিধি মোতাবেক নির্বাচনের মাধ্যমে ক্ষমতায় এসেছি। অবৈধ উপায়ে আসিনি। এখন যারা আল্টিমেটাম দিচ্ছে বা গাড়ী বন্ধের হুমকি দিচ্ছে এমন পরিস্থিতি যদি তৈরি হয় নিশ্চই আমরা বসে থাকবো না।

ে্সংরঙগঠনটির সভাপতি মাহবুবুল আলম বলেন, এত বড় সংগঠনে অবৈধভাবে পদে বসার কোন সুযোগ নেই। সাধারণ সদস্যরা চেয়েছে বলে আমরা পদে বসেছি। এই নিয়ে হাই কোর্টে রীট দায়ের করা হয়েছে। এখন আদালত যদি আমাদের বৈধ বলে তাহলে কোন তাহলে নতুন করে কিছু করার নেই। আর যদি অবৈধ বলে তাহলে দ্রুত সাধারণ সভা করে নির্বাচন দিয়ে দিব। শ্রমিক নেতা হয়েও মালিক নেতা হওয়া যাবে না, এমন কিছু বিধানে নেই।

২৪ ঘণ্টা/রিহাম/প্রদীপ

Feb2
Feb2

হাঁটুপানিতে নেমে ত্রাণ বিতরণ করলেন জামায়াত আমির

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Friday, 10 July, 2026, 12:09 pm
হাঁটুপানিতে নেমে ত্রাণ বিতরণ করলেন জামায়াত আমির

চট্টগ্রামের বাঁশখালীতে ভয়াবহ বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছেন ডা. শফিকুর রহমান। সকালে বন্যাকবলিত এলাকা পরিদর্শনের সময় তিনি হাঁটু থেকে কোমরসমান পানিতে নেমে দুর্গত পরিবারের বাড়ি বাড়ি গিয়ে তাদের খোঁজখবর নেন, দুর্ভোগের কথা শোনেন এবং ত্রাণসামগ্রী ও নগদ আর্থিক সহায়তা বিতরণ করেন।

শুক্রবার (১০ জুলাই) সকাল ১০টার দিকে চট্টগ্রাম সফরের অংশ হিসেবে তিনি বাঁশখালীর গুনাগরী ইউনিয়নের বিভিন্ন বন্যাকবলিত এলাকা পরিদর্শন করেন। এ সময় তিনি পানিবন্দি মানুষের সঙ্গে কথা বলে তাদের সার্বিক পরিস্থিতির খোঁজখবর নেন এবং ক্ষয়ক্ষতির চিত্র সরেজমিন দেখেন।

দুর্গত মানুষের দুর্ভোগ প্রত্যক্ষ করে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, দুর্যোগে মানুষের পাশে দাঁড়ানো মানবিক দায়িত্ব। বিপদে-আপদে অসহায় মানুষের পাশে থাকা সবার কর্তব্য। সামর্থ্য অনুযায়ী জামায়াতে ইসলামী বন্যাকবলিত মানুষের পাশে থাকবে এবং ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর সহযোগিতায় কাজ অব্যাহত রাখবে।

তিনি আরও বলেন, সাম্প্রতিক বন্যায় অনেক মানুষ ঘরবাড়ি, ফসল ও জীবিকার প্রধান অবলম্বন হারিয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছেন। ক্ষতিগ্রস্তদের দ্রুত পুনর্বাসন এবং প্রয়োজনীয় সহায়তা নিশ্চিত করতে সরকারের প্রতি কার্যকর উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

পরিদর্শনকালে তিনি হাঁটু থেকে কোমরসমান পানিতে নেমে একাধিক ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের বাড়িতে যান, তাদের প্রয়োজনের কথা শোনেন এবং প্রত্যেক পরিবারের হাতে ত্রাণসামগ্রী ও নগদ আর্থিক সহায়তা তুলে দেন। এ সময় তিনি দুর্গত মানুষের পাশে থাকার আশ্বাস দেন।

ত্রাণ বিতরণ ও এলাকা পরিদর্শনে জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় নেতারা উপস্থিত ছিলেন। পরিদর্শন শেষে তিনি সাতকানিয়ার উদ্দেশে রওনা হন।

চট্টগ্রামে সাড়ে ৪ লাখ মানুষ পানিবন্দি ও খাদ্য সংকটে

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Friday, 10 July, 2026, 10:25 am
চট্টগ্রামে সাড়ে ৪ লাখ মানুষ পানিবন্দি ও খাদ্য সংকটে

টানা বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলে চট্টগ্রাম জেলার অন্তত সাড়ে চার লাখ মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন। সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে সাতকানিয়া উপজেলা। সেখানে প্রায় ৮০ শতাংশ এলাকা প্লাবিত হয়ে সাড়ে তিন লাখের বেশি মানুষ দুর্ভোগে পড়েছেন। চন্দনাইশ, লোহাগাড়া, বাঁশখালী ও বোয়ালখালীর বিস্তীর্ণ এলাকাও পানিতে তলিয়ে গেছে। এসব এলাকায় বিশুদ্ধ পানি, খাবার সংকট দেখা দিয়েছে।

পরিস্থিতি মোকাবিলায় জেলা প্রশাসনের সব কর্মকর্তা-কর্মচারীর সাপ্তাহিক ছুটিসহ সব ধরনের ছুটি বাতিল করা হয়েছে। একই সঙ্গে জেলার প্রতিটি উপজেলায় ও জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে ২৪ ঘণ্টার নিয়ন্ত্রণকক্ষ চালু রাখা হয়েছে।

জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা বলেন, উদ্ধার, ত্রাণ বিতরণ এবং সার্বিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণে সব উপজেলা প্রশাসনকে সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থায় রাখা হয়েছে। বন্যাকবলিত এলাকায় প্রয়োজনীয় সহায়তা পৌঁছে দিতে কাজ চলছে।

এদিকে সাতকানিয়ায় মাত্র তিন বছরের ব্যবধানে আবারও ভয়াবহ বন্যা দেখা দিয়েছে। উপজেলার প্রায় ৮০ শতাংশ এলাকা প্লাবিত হয়ে সাড়ে তিন লাখের বেশি মানুষ পানিবন্দি হয়েছেন। অসংখ্য বসতঘরে পানি ঢুকে পড়েছে। উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স, সাতকানিয়া আদালত, অতিরিক্ত পুলিশ সুপারের কার্যালয়, পৌরসভা কার্যালয় ও থানায়ও বন্যার পানি প্রবেশ করেছে।

বাঁশখালীতেও ভয়াবহ পরিস্থিতি বিরাজ করছে৷ বন্যার পানিতে পাঁচ শতাধিক মাটির ঘর ভেঙে গেছে। বুধবার (৮ জুলাই) রাত ১১টার দিকে বৈলছড়ি এলাকায় চট্টগ্রাম-বাঁশখালী প্রধান সড়ক পানিতে তলিয়ে গেলে চট্টগ্রাম শহরের সঙ্গে বাঁশখালীর সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে। এতে দুর্ভোগে পড়েন হাজারো মানুষ। দুর্গত এলাকাগুলোতে খাদ্য ও বিশুদ্ধ পানির সংকট দেখা দিয়েছে।

স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, কয়েক দিনের টানা বৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলের কারণে উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নে বন্যা পরিস্থিতির আরও অবনতি হয়েছে। প্রতিদিনই নতুন নতুন এলাকা প্লাবিত হচ্ছে। ইতোমধ্যে উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নে পাঁচ শতাধিক মাটির বসতঘর ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। অনেক পরিবার নিরাপদ আশ্রয়ে সরে গেলেও অনেকে এখনো পানিবন্দি অবস্থায় মানবেতর জীবনযাপন করছেন।

পুইছড়ি ইউনিয়নের বাসিন্দা পারভেজ মোশারফ বলেন, কয়েক দিনের ভারী বর্ষণ ও সমুদ্রের জোয়ারের ফলে পুইছড়ি ইউনিয়নের অধিকাংশ এলাকা পানির নিচে তলিয়ে গেছে। এসব এলাকার মানুষ মানবেতর জীবনযাপন করছেন। অধিকাংশ মাটির ঘরও ভেঙে পড়েছে। বসতঘর পানিতে ডুবে যাওয়া রান্নাবান্না হচ্ছে না। তাই খাবারের জন্য কষ্ট পাচ্ছে মানুষ।

এদিকে সাঙ্গু ও ডলু নদীর পানি বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। কেরানীহাট-বান্দরবান সড়কের বুড়ির দোকান এলাকা, বাজালিয়া অলি আহমেদ বীর বিক্রম কলেজের সামনে এবং দস্তিদারহাটের পূর্ব পাশে সড়কের ওপর দিয়ে কয়েক ফুট উঁচু হয়ে বন্যার পানি প্রবাহিত হচ্ছে। এতে যান চলাচল ব্যাহত হচ্ছে। বন্যার কারণে উপজেলার সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ রয়েছে।

ডলু নদী দিয়ে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলের তোড়ে পৌরসভার রামপুর এলাকায় কয়েকশ ফুট বেড়িবাঁধ ভেঙে গেছে। উপজেলার অধিকাংশ সড়ক পানির নিচে তলিয়ে রয়েছে। অনেক এলাকায় এখনো পানি বাড়ছে বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন।

চন্দনাইশেও ভয়াবহ বন্যা পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। উপজেলার দুটি পৌরসভা ও আটটি ইউনিয়নের নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়ে অন্তত ২০ হাজার মানুষ পানিবন্দি হয়েছেন। পাহাড়ি ঢলে শঙ্খ নদীর পানি বিপৎসীমা অতিক্রম করে লোকালয়ে প্রবেশ করেছে।

গত বুধবার সন্ধ্যা থেকে চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কের চন্দনাইশের হাশিমপুর এলাকায় প্রায় দেড় ফুট উচ্চতায় পানি প্রবাহিত হচ্ছে। এতে দূরপাল্লার বাস, পণ্যবাহী যান ও ছোট যানবাহনের চলাচল ব্যাহত হচ্ছে। ধীরগতিতে যান চলাচলের কারণে মহাসড়কে দীর্ঘ যানজট সৃষ্টি হয়েছে। এতে যাত্রীদের চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।

চন্দনাইশের বাসায় আবু নাসের আলিফ বলেন, ‘দিনেদিনে বন্যা পরিস্থিতির অবনতি হচ্ছে। অনেক মানুষ না খেয়ে আছে।’

মরক্কোকে বিদায় করে সবার আগে সেমিফাইনালে ফ্রান্স

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Friday, 10 July, 2026, 9:28 am
মরক্কোকে বিদায় করে সবার আগে সেমিফাইনালে ফ্রান্স

ফুটবল বিশ্বকাপের প্রথম কোয়ার্টার ফাইনাল ম্যাচটি হলো অনেকটা একপেশে। ফরাসিদের দাপুটে ফুটবলের কাছে অসহায় লেগেছে আশরাফ হাকিমিদের। একক আধিপত্য বিস্তার করা ফ্রান্স আফ্রিকান পরাশক্তি মরক্কোকে হারিয়েছে ২-০ গোল ব্যবধানে। তাতেই প্রথম দল হিসেবে সেমিফাইনালে জায়গা করে নিলেন দিদিয়ের দেশামের শিষ্যরা।

শুরু থেকেই একের পর এক আক্রমণ করলেও গোল পাচ্ছিল না ফ্রান্স। ম্যাচের ২৫তম মিনিটে মরক্কোর ডি-বক্সে ফাউল করে বসেন নুসাইর মাজরাউয়ি। লাইন্সম্যানের সঙ্গে দ্রুত কথা বলে রেফারি ফাকুন্দো তেল্লো ফ্রান্সের অনুকূলে পেনাল্টির বাঁশি বাজান। ভিএআরে শরণাপন্ন হলেও সিদ্ধান্ত বদলাননি রেফারি।

স্পট কিক থেকে গোল করার এই গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব নিজ কাঁধে তুলে নেন ফরাসি তারকা কিলিয়ান এমবাপ্পে। বল জালে জড়ানোর জন্য এমবাপ্পে পেনাল্টি কিকটি ডান দিকের নিচের কোণা (বরাবর নিয়েছিলেন। কিন্তু মরক্কোর গোলরক্ষক ইয়াসিন বুনু যেন আগে থেকেই এমবাপ্পের শটের দিক নিখুঁতভাবে অনুমান করতে পেরেছিলেন। সঠিক সময়ে দুর্দান্ত এক ডাইভ দিয়ে এমবাপ্পের সেই শট রুখে দেন বুনু।

৩২তম মিনিটে ফ্রান্সের তরুণ ফরোয়ার্ড দেজিরে দুয়ে এক অনবদ্য একক দৌড়ে মরক্কোর ডি-বক্সে বল নিয়ে ঢুকে পড়েন। গোল করার সুবর্ণ সুযোগ দেখে পোস্টের বাম দিকে লক্ষ্য করে এক শট নেন। কিন্তু তার সেই নিশ্চিত গোলের মুহূর্তটিকে ম্লান করে দেন মরক্কোর প্রাচীর হয়ে দাঁড়ানো গোলরক্ষক ইয়াসিন বুনু। প্রথমার্ধ শেষ হয় গোলশূন্য ব্যবধানেই।

দ্বিতীয়ার্ধের শুরু থেকেই গোলের নেশায় বুঁদ হয়ে উঠে ফ্রান্স। সেই সুবাদে ম্যাচের ৬০তম মিনিটে আসে সেই কাঙ্ক্ষিত মাহেদ্রক্ষণ। ডি-বক্সের বাইরে থেকে এক বিদ্যুৎগতির শট নেন ফরাসি অধিনায়ক কিলিয়ান এমবাপ্পে। তার সেই নিখুঁত ও জোরালো শটটি মরক্কোর রক্ষণভাগকে ফাঁকি দিয়ে ডান দিকের পোস্ট ঘেঁষে জালের ভেতরে আশ্রয় নেয়। তাতেই গোল উদযাপনে মেতে ওঠে ফরাসি শিবির।

এদিকে ৭১তম মিনিটে কিলিয়ান এমবাপ্পের চমৎকার এক পাস থেকে ডি-বক্সের ঠিক বাইরে বল পান উসমান দেম্বেলে। শটটি খুব একটা জোরালো না হলেও মরক্কোর ডিফেন্ডার ও গোলরক্ষককে ফাঁকি দিয়ে বলটি কোনোমতে ডান দিকের নিচের কোণা দিয়ে জালে জড়ায়। তাতেই ব্যবধান দ্বিগুণ হয়।