খুঁজুন
শুক্রবার, ১২ই জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ২৯শে জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

সাংবাদিক শোয়েবের মৃত্যুতে তথ্যমন্ত্রী, বিএফইউজে, সিইউজে, প্রেস ক্লাব ও সিআরএফের শোক

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: বুধবার, ২৫ নভেম্বর, ২০২০, ৯:২৭ অপরাহ্ণ
সাংবাদিক শোয়েবের মৃত্যুতে তথ্যমন্ত্রী, বিএফইউজে, সিইউজে, প্রেস ক্লাব ও সিআরএফের শোক

চট্টগ্রাম ডেস্ক : চট্টগ্রামের সিনিয়র সাংবাদিক, অনুবাদক শোয়েব খান এর মৃত্যুতে তথ্যমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ, বিএফইউজে, সিইউজে, প্রেস ক্লাব, চট্টগ্রাম রিপোর্টাস ফোরাম ও চট্টগ্রাম টিভি জার্নালিস্ট অ্যসোসিয়েশনের নেতৃবৃন্দরা শোক প্রকাশ করে শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানিয়েছেন।

বুধবার (২৫ নভেম্বর) সকাল পৌনে আটটার দিকে তিনি চিকিৎসাধীন অবস্থায় চট্টগ্রাম নগরের সিএসসিআর হাসপাতালে ইন্তেকাল করেন। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৫৮ বছর। বাদ যোহর চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবের সামনে মরহুমের জানাযা শেষে মরদেহ গ্রামের বাড়ি ফটিকছড়িতে নিয়ে যাওয়া হয়।

সেখানেই জানাযা শেষে পারিবারিক কবরস্থানে তাঁকে দাফন করা হয়। গত দুই সপ্তাহ ধরে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন সাংবাদিক এস এম শোয়েব খান।

প্রেসক্লাবের সামনে অনুষ্ঠিত জানাযার পূর্বে সাংবাদিক শোয়েব খানের বর্ণাঢ্য কর্মজীবন স্মরণ করে সংক্ষিপ্ত স্মরণ সভায় প্রেসক্লাব সভাপতি আলহাজ আলী আব্বাসের সভাপতিত্বে বক্তব্য রাখেন বিএফইউজে-বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়নের সহসভাপতি রিয়াজ হায়দার চৌধুরী, চট্টগ্রাম সাংবাদিক ইউনিয়ন-সিইউজে সভাপতি মোহাম্মদ আলী ও সাধারণ সম্পাদক ম শামসুল ইসলাম। সঞ্চালনা করেন প্রেসক্লাবের যুগ্ম সম্পাদক নজরুল ইসলাম ।

জানাযায় বিজিএমইএ প্রাক্তন প্রথম সহসভাপতি নাসিরুদ্দিন চৌধুরী, মহানগর বিএনপির নেতা ও সাবেক কাউন্সিলর নিয়াজ মোহাম্মদ খানসহ বিভিন্ন শ্রেণী পেশার মানুষ অংশ নেন। সেখানে সাংবাদিকদের বিভিন্ন সংগঠনের পক্ষ থেকে ফুলেল শ্রদ্ধা নিবেদন করা হয়।

তথ্যমন্ত্রীর শোক : সাংবাদিক শোয়েব খানের ইন্তেকালে গভীর শোক ও দুঃখ প্রকাশ করেছেন তথ্যমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ। এক বিবৃতিতে তিনি প্রয়াতের আত্মার শান্তি কামনা করেন ও শোকসন্তপ্ত পরিবারের সদস্যদের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান। তথ্যমন্ত্রী শোকবার্তায় মরহুমের স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানান এবং দৈনিক পূর্বকোণসহ বেতার ও টেলিভিশনে তার কর্মময় জীবনের কথা স্মরণ করেন।

বিএফইউজে’র শোক : বিএফইউজে-বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়নের সদস্য এস এম শোয়েব খান মৃত্যুতে বিএফইউজে-বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়নের সভাপতি মোল্লা জালাল, সহসভাপতি রিয়াজ হায়দার চৌধুরী, মহাসচিব ও দিল্লিস্থ বাংলাদেশ হাইকমিশনে নবনিযুক্ত প্রেস মিনিস্টার শাবান মাহমুদ, যুগ্ম মহাসচিব মহসীন কাজী, নির্বাহী সদস্য রুবেল খান ও আজহার মাহমুদ এক বিবৃতিতে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন।

বিবৃতিতে বিএফইউজে নেতৃবৃন্দ শোকাহত পরিবারের সদস্যদের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান। নেতৃবৃন্দরা বলেন, ‘ সাংবাদিক এস এম শোয়েব খান সৎ অমায়িক নিবেদিত প্রাণ সাংবাদিক ছিলেন । তাঁর মৃত্যুতে সংবাদ মাধ্যমের অপূরণীয় ক্ষতি হলো। সাংবাদিক সমাজে তাঁর অবদান স্মরণীয় থাকবে।

তাছাড়াও সিনিয়র সাংবাদিক সোয়েব খানের মৃত্যুতে গভীর শোক জানিয়েছেন চট্টগ্রাম প্রেসক্লাব সভাপতি আলী আব্বাস ও সাধারণ সম্পাদক চৌধুরী ফরিদ, চট্টগ্রাম সাংবাদিক ইউনিয়ন-সিইউজে সভাপতি মোহাম্মদ আলী ও সাধারণ সম্পাদক ম শামসুল ইসলাম, চট্টগ্রাম রিপোর্টার্স ফোরাম সভাপতি কাজী আবুল মনসুর ও সাধারণ সম্পাদক আলিউর রহমান, চট্টগ্রাম টিভি জার্নালিস্ট এসোসিয়েশন সভাপতি নাসির উদ্দিন তোতা ও সাধারণ সম্পাদক লতিফা আনসারি প্রমুখ নেতৃবৃন্দ ।

মরহুমের গ্রামের বাড়ি ফটিকছড়ির বাবুনগরে। মৃত্যুকালে তিনি স্ত্রী, এক পুত্র ও এক কন্যাসহ অনেক গুণগ্রাহী রেখে গেছেন।

প্রায় ৩০ বছর তিনি দৈনিক পূর্বকোণের সহ সম্পাদক ছিলেন। এছাড়া বেতার ও টেলিভিশনেও সক্রিয় ছিলেন তিনি। চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ১৬তম ব্যাচের লোকপ্রশাসন বিভাগের ছাত্র ছিলেন এসএম শোয়েব খান। সাংবাদিকতায় যুক্ত হন ১৯৯০ সাল থেকে।

রাজীব/২৪ ঘণ্টা

Feb2

পিছিয়ে পড়েও জয় দিয়ে বিশ্বকাপ শুরু দক্ষিণ কোরিয়ার

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: শুক্রবার, ১২ জুন, ২০২৬, ১০:৩৪ পূর্বাহ্ণ
পিছিয়ে পড়েও জয় দিয়ে বিশ্বকাপ শুরু দক্ষিণ কোরিয়ার

ফ্রি-কিক থেকে জোরাল হেডে গোল করেই বাঁধানহারা উল্লাসে মেতে উঠলেন তমাস সৌচেক। চেকিয়ার তারকা মিডফিল্ডার ছুটে গেলেন কর্নার স্ট্যান্ডের দিকে। কিন্তু সেখানেই দাঁড়িয়ে থাকা সহকারি রেফারি তখন পতাকা উঁচিয়ে ধরে আছেন। অফ সাইড! সেটির রেশ থাকতে থাকতেই পুরো উল্টো গেল ছবি। অন্য প্রান্তে দারুণ এক দলীয় গোলে এগিয়ে গেল দক্ষিণ কোরিয়া। সেই গোলই শেষ পর্যন্ত গড়ে দিল ব্যবধান।

২০২৬ বিশ্বকাপের দ্বিতীয় ম্যাচে উত্তেজনায় ঠাসা দ্বিতীয়ার্ধে বল জালে ঢুকল চারবার। গোল হলো তিনটি। গতিময় ফুটবলের প্রদর্শনীতে চেকিয়াকে ২-১ গোলে হারিয়ে বিশ্ব আসরে শুভ সূচনা করল দক্ষিণ কোরিয়া।

মেক্সিকোর গুয়াদালহারার সাপোপানে খেলার ধারার অনেকটা বিপরীতে গোল করে চেকিয়াকে এগিয়ে দিয়েছিলেন লাজিস্লাভ ক্রেইচি। কিন্তু মোহনীয় এক গোলে এশিয়া টাইগারদের সমতায় ফেরান হং ইন-বম। পরে তার পাস থেকেই গোল করেন ওহ হিউন-গিউ। সেটিই হয়ে থাকে জয়সূচক গোল।

২০১০ বিশ্বকাপের পর প্রথমবার জয় দিয়ে বিশ্বকাপ শুরু করতে পারল দক্ষিণ কোরিয়া।

কোরিয়ানদের বড় ভরসা, দেশের সর্বোচ্চ গোলের রেকর্ডের জন্য যার প্রয়োজন আর মোটে দুটি গোল, সেই সন হিউং-মিন একের পর এক সুযোগ হাতছাড়া করেন। এক পর্যায়ে তাকে তুলে নেওয়া হয়। তার হতাশাজনক পারফরম্যান্সের খেসারত শেষ পর্যন্ত দিতে হয়নি দলকে।

স্কুলের বেঞ্চ ছেড়ে কর্মস্থলে শিশু, চট্টগ্রামে বাড়ছে শিশুশ্রম

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: শুক্রবার, ১২ জুন, ২০২৬, ১০:০৫ পূর্বাহ্ণ
স্কুলের বেঞ্চ ছেড়ে কর্মস্থলে শিশু, চট্টগ্রামে বাড়ছে শিশুশ্রম

সকাল সাড়ে ৯টা। চট্টগ্রাম নগরের নতুন ব্রিজ এলাকায় ‘কোতোয়ালি মার্কেট, কোতোয়ালি মার্কেট’ বলে যাত্রী ডাকছে এক শিশু। তার নাম সাকিব। নগরের নিউ মার্কেট-নতুন ব্রিজ সড়কে পরিবহন শ্রমিক হিসেবে কাজ করে সে। সাকিবের বয়স এখন ৯। ৯ বছর বয়সী শিশু শ্রমিক সাকিব জানায়, তার বাবা কোথায় আছেন কিংবা কী করেন, সে কিছুই জানে না। ছোটোবেলা থেকে বাবাকে কখনও দেখেনি। মা আগে গার্মেন্টসে চাকরি করতেন। মায়ের আয়েই সংসার চলতো। কিন্তু বর্তমানে মা কর্মহীন হয়ে পড়ায় সংসারে অভাব-অনটন নিত্যসঙ্গী হয়ে উঠেছে।

সাকিব বলে, পরিবারের খরচ চালাতে ছোটোবেলা থেকেই কাজ করছি। আগে টেম্পো ও মাহিন্দ্রা গাড়িতে হেলপার হিসেবে কাজ করেছি। পরে নিউ মার্কেট থেকে নতুন ব্রিজ রুটে চলাচলকারী সিএনজিচালিত অটোরিকশায় ভাড়া তোলার কাজ শুরু করি। প্রতিদিন সকাল থেকে রাত পর্যন্ত কাজ করে প্রায় ১০০ টাকা পাই। সেই টাকা দিয়ে নিজের খরচের পাশাপাশি মাকেও সাহায্য করি। অনেক সময় ঠিকমতো খেতে পারি না। কিন্তু কাজ না করলে ঘরে খাবার জুটবে না।

নগরের আগ্রাবাদ কদমতলী এলাকার একটি ওয়ার্কশপে কাজ করে ১৩ বছর বয়সী রবিউল নামের আরেক শিশু শ্রমিক। সে জানায়, তার বাবা দীর্ঘদিন ধরে অসুস্থ। এক সময় সে স্কুলে পড়ত। কিন্তু পরিবারের আর্থিক সংকটের কারণে দুই বছর আগে পড়াশোনা ছেড়ে দিতে বাধ্য হয়।

রবিউল বলে, ‘তখন (দুই বছর আগে) থেকেই এই ওয়ার্কশপে কাজ করছি। প্রতিদিন সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত ১০ থেকে ১২ ঘণ্টা কাজ করতে হয়। মাস শেষে যে টাকা পাই, তা মায়ের হাতে তুলে দিই। ওই টাকা দিয়ে সংসার চলে, বাবার ওষুধও কিনতে হয়। আমার ইচ্ছা ছিল পড়াশোনা করে বড় কিছু হওয়ার। এখনও বন্ধুদের স্কুলে যেতে দেখলে খারাপ লাগে। কিন্তু পরিবারের কথা চিন্তা করে কাজ করতে হচ্ছে। অনেক সময় কাজ করতে গিয়ে ক্লান্ত লাগে, হাত-পায়ে ব্যথা হয়। তারপরও পরিবারের জন্য কাজ করে যাচ্ছি।’

বিশ্ব শিশুশ্রম প্রতিরোধ দিবস (১২ জুন) উপলক্ষ্যে চট্টগ্রামের সাকিব ও রবিউলের মতো কয়েকজন শিশু শ্রমিকের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, নগর ও জেলার বিভিন্ন এলাকায় শিশুশ্রম এখনও উদ্বেগজনক পর্যায়ে রয়েছে। বিশেষ করে পরিবহন খাত, অটোগ্যারেজ, ঝুঁকিপূর্ণ কারখানা এবং অনানুষ্ঠানিক খাতে বিপুল সংখ্যক শিশু কাজ করছে।

চট্টগ্রাম নগরের বিভিন্ন এলাকায় দেখা যায়, সকালে যখন স্কুলের ঘণ্টা বাজে, তখন বিভিন্ন গ্যারেজ, ওয়ার্কশপ, পরিবহন খাত ও ইটভাটায় কাজে ব্যস্ত হয়ে পড়ে শত শত শিশু। তাদের কারও হাতে বই-খাতা নেই; আছে রেঞ্চ, হাতুড়ি কিংবা অন্যান্য শ্রমের সরঞ্জাম। দারিদ্র্য, পারিবারিক সংকট এবং শিক্ষা থেকে ঝরে পড়ার কারণে দিন দিন শিশুশ্রমের ঝুঁকিতে পড়ছে তারা।

বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) এক জরিপ অনুযায়ী, দেশে ৫ থেকে ১৭ বছর বয়সী শিশুদের মধ্যে শিশুশ্রমে যুক্ত থাকার হার ৯ দশমিক ২ শতাংশে পৌঁছেছে, যা ২০১৯ সালে ছিল ৬ দশমিক ৮ শতাংশ। ফলে প্রায় ১২ লাখ অতিরিক্ত শিশু শ্রমে জড়িয়ে পড়েছে।

শিশু অধিকার নিয়ে কাজ করে ইয়ং পাওয়ার ইন সোশ্যাল অ্যাকশন (ইপসা)। ইপসার হেড অব অ্যাডভোকেসি মোহাম্মদ আলী শাহীন বলেন, ‘শিশুশ্রম শুধু শিশুদের শিক্ষা থেকে বঞ্চিত করছে না, বরং তাদের শারীরিক ও মানসিক বিকাশেও নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। ঝুঁকিপূর্ণ কাজে নিয়োজিত শিশুরা দুর্ঘটনা, স্বাস্থ্যঝুঁকি ও নির্যাতনের শিকার হওয়ার আশঙ্কায় থাকে। সরকার শিশুশ্রম শূন্যের কোটায় নামিয়ে আনার একটি পরিকল্পনা নিয়েছিল। কিন্তু সেটি পুরোপুরি বাস্তবায়ন করা সম্ভব হয়নি। আমরাও শিশুশ্রম বন্ধে বিভিন্ন কার্যক্রম পরিচালনা করছি। আমি মনে করি, সরকার ও এ খাতে কাজ করা বিভিন্ন সংগঠনের সমন্বিত উদ্যোগের মাধ্যমে পরিকল্পনাটি বাস্তবায়ন করা সম্ভব হবে।’

আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থা (আইএলও) ও ইউনিসেফের তথ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশে ঝুঁকিপূর্ণ শিশুশ্রমের হার কিছুটা কমলেও কর্মরত শিশুর সংখ্যা এখনও উল্লেখযোগ্য। বর্তমানে ১০ লাখের বেশি শিশু ঝুঁকিপূর্ণ কাজে নিয়োজিত রয়েছে এবং তাদের অধিকাংশই অনানুষ্ঠানিক খাতে কাজ করছে। জাতীয় শিশুশ্রম জরিপ ২০২২ অনুযায়ী, চট্টগ্রাম বিভাগে প্রায় ৬ লাখ ৪০ হাজার শিশু শ্রমে নিয়োজিত, যা দেশের বিভাগগুলোর মধ্যে সর্বোচ্চ। জাতীয়ভাবে ঝুঁকিপূর্ণ শিশুশ্রমে নিয়োজিত শিশুর সংখ্যা ১০ লাখেরও বেশি।

শিশু শ্রমিকদের স্বাস্থ্যঝুঁকি প্রসঙ্গে চট্টগ্রাম জেলার ডেপুটি সিভিল সার্জন ডা. তৌহিদুল আনোয়ার বলেন, ‘শিশুদের ভারী কাজ ও স্বাস্থ্যঝুঁকি থেকে রক্ষা করতে হলে সর্বপ্রথম শিশুশ্রম বিরোধী আইনের কঠোর প্রয়োগ এবং কর্মক্ষেত্রে নিয়মিত সরকারি তদারকি নিশ্চিত করতে হবে। পাশাপাশি দরিদ্র পরিবারগুলোর জন্য আর্থিক সহায়তা, অভিভাবকদের সচেতনতা বৃদ্ধি এবং শিশুদের জন্য সম্পূর্ণ বিনামূল্যে শিক্ষার ব্যবস্থা জরুরি, যাতে তারা কাজের পরিবর্তে স্কুলে যেতে পারে। একই সঙ্গে গণমাধ্যমে প্রচার বাড়ানো এবং ঝুঁকিপূর্ণ শিশুশ্রমের বিরুদ্ধে দ্রুত ব্যবস্থা নিতে চাইল্ড হেল্পলাইনের (১০৯৮) ব্যবহার সহজলভ্য করতে হবে।’

শিশু অধিকারকর্মীরা বলছেন, পরিবারের অর্থনৈতিক দুরবস্থা, শিক্ষার ব্যয়, সামাজিক নিরাপত্তার সীমাবদ্ধতা এবং সচেতনতার অভাব শিশুশ্রম বৃদ্ধির প্রধান কারণ। তারা মনে করেন, দরিদ্র পরিবারগুলোকে আর্থিক সহায়তা দেওয়া, শিক্ষার্থীদের বিদ্যালয়ে ধরে রাখা এবং শিশুশ্রম নিরসনে আইন প্রয়োগ জোরদার না করলে পরিস্থিতির উন্নতি হবে না।

এ বিষয়ে আইনজীবী ও মানবাধিকারকর্মী হারুনুর রশীদ রুবেল বলেন, ‘চট্টগ্রামে বিশেষ করে পরিবহন খাত, ওয়ার্কশপ, গ্যারেজ, শুঁটকিপল্লি ও ইটভাটায় শিশুদের শ্রমিক হিসেবে বেশি ব্যবহার করা হচ্ছে। শিশুরা তাদের শ্রমের ন্যায্য মূল্য সম্পর্কে সচেতন না হওয়ায় অনেকেই শোষণের শিকার হচ্ছে। আবার অনেক পরিবার অভাব-অনটনের কারণে শিশুদের কাজে পাঠিয়ে দেয়। ফলে তারা শিক্ষার সুযোগ থেকে বঞ্চিত হচ্ছে।’

তিনি আরও বলেন, ‘শিশুশ্রম প্রতিরোধে কঠোর আইন থাকলেও এর যথাযথ প্রয়োগ দেখা যায় না। এজন্য জনসচেতনতা বৃদ্ধির পাশাপাশি আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলোকে আরও কার্যকর ভূমিকা পালন করতে হবে। শিশু সুরক্ষায় সমাজের সব শ্রেণি-পেশার মানুষকে এগিয়ে আসতে হবে।’

সিডিএর নতুন চেয়ারম্যান ইঞ্জিনিয়ার বেলায়েত হোসেন

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: শুক্রবার, ১২ জুন, ২০২৬, ৯:২২ পূর্বাহ্ণ
সিডিএর নতুন চেয়ারম্যান ইঞ্জিনিয়ার বেলায়েত হোসেন

চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (সিডিএ) চেয়ারম্যান হলেন বিএনপি নেতা ইঞ্জিনিয়ার বেলায়েত হোসেন। আগামী এক বছরের জন্যে এই পদে তাকে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (১১ জুন) জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের উপসচিব গোলাম রাব্বানী স্বাক্ষারিত এক প্রজ্ঞাপনে এ তথ্য জানানো হয়।

প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ আইন, ২০১৮ এর ধারা ৭ (১) অনুযায়ী ইঞ্জিনিয়ার বেলায়েত হোসেনকে অন্য যে কোনো পেশা, ব্যবসা কিংবা সরকারি, আধা-সরকারি, বেসরকারি প্রতিষ্ঠান/সংগঠনের সাথে কর্ম-সম্পর্ক পরিত্যাগের শর্তে যোগদানের তারিখ হতে এক বছর মেয়াদে চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান পদে চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ প্রদান করা হলো।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে ইঞ্জিনিয়ার বেলায়েত হোসেন বলেন, ‘আমি সিডিএর চেয়ারম্যান পদে নিয়োগপ্রত্যাশী ছিলাম। দল আমাকে মূল্যায়ন করেছে। আমি এর সর্বোচ্চ প্রতিদান দেব। আমার দলের নেতা এবং প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান, অর্থমন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরীসহ আমার মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রীদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানাই।’

একইসঙ্গে তিনি চট্টগ্রামের উন্নয়নের স্বার্থে সিটি কর্পোরেশন, ওয়াসাসহ সকল উন্নয়ন সংস্থার সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ করার কথা জানান।

ইঞ্জিনিয়ার বেলায়েত হোসেনের গ্রামের বাড়ি চট্টগ্রামের দ্বীপ উপিজেলা সন্দ্বীপে। তিনি চট্টগ্রাম উত্তর জেলা বিএনপির সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। এর আগে গত সংসদ নির্বাচনে চট্টগ্রাম-৩ (সন্দ্বীপ) আসনে বিএনপির মনোনয়নপ্রত্যাশীও ছিলেন।