খুঁজুন
সোমবার, ২৫শে মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ১১ই জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

কোভিড-১৯ মোকাবেলায় আরো সহযোগিতার আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: শুক্রবার, ৪ ডিসেম্বর, ২০২০, ১১:৫৩ অপরাহ্ণ
কোভিড-১৯ মোকাবেলায় আরো সহযোগিতার আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা কোভিড-১৯ মোকাবেলায় মানসম্পন্ন ভ্যাকসিনের সার্বজনীন ও ন্যায়সঙ্গত প্রবেশাধিকার নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছেন। পাশাপাশি, তিনি ভ্যাকসিনটি স্থানীয়ভাবে উৎপাদনে উন্নয়নশীল দেশগুলোকে প্রযুক্তি হস্তান্তর এবং মহামারী পরবর্তী চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় তাদের আর্থিক সহায়তা প্রদানসহ তিনটি অগ্রাধিকার ক্ষেত্রে জরুরি মনোযোগে গুরুত্ব এবং আরো বৈশ্বিক সহযোগিতার প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দিয়েছেন।

কোভিড-১৯ মহামারীর প্রেক্ষাপটে ইউএনজিএর ৩১তম বিশেষ অধিবেশনে আজ এক প্রাক রেকর্ডকৃত ভাষণে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘তবুও কিছু অগ্রাধিকার ক্ষেত্রে জরুরি মনোযোগ এবং আরো সহযোগিতা প্রয়োজন। প্রথমত, আমাদের যথা সময়ে ন্যায্যতার ভিত্তিতে ও সাশ্রয়ী মূল্যে সবার জন্য মানসম্মত ভ্যাকসিন প্রাপ্তি নিশ্চিত করা প্রয়োজন।’

জোট নিরপেক্ষ আন্দোলন (ন্যাম)-এর বর্তমান চেয়ার আজারবাইজান এবং জাতিসংঘের সেক্রেটারি জেনারেল আজ থেকে শুরু হওয়া দুই দিনের এ বিশেষ অধিবেশন ডেকেছেন।

শেখ হাসিনা আরো বলেন যে ২০৩০ সালের উন্নয়ন এজেন্ডা সমতার নীতি দ্বারা পরিচালিত এসডিজি অর্জনে সার্বজনীন স্বাস্থ্য কভারেজের মৌলিক ভূমিকার স্বীকৃতি দেয়।

তিনি বলেন, ‘একইভাবে, যখন ভ্যাকসিন প্রাপ্তির কথা আসে, তখন কাউকে পিছনে রাখা সমীচীন হবে না। এটি মহামারী পরাস্ত করতে, জীবন বাঁচাতে এবং অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধার ত্বরান্বিত করতে আমাদের সহায়তা করবে।’

দ্বিতীয়ত, কোভিড-১৯ ভ্যাকসিনকে গোটা বিশ্বের জন্য একটি ‘বৈশ্বিক জনপণ্য বিবেচনা করতে হবে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ডব্লিউএইচও’র অ্যাক্ট এবং কোভাক্স সুবিধার উদ্যোগ এ ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

তিনি আরো বলেন, ‘উন্নত দেশগুলোর ট্রিপস চুক্তির আওতায় আইপি রাইটস ওয়েভার ব্যবহার করে উন্নয়নশীল দেশগুলোতে স্থানীয়ভাবে ভ্যাকসিন উৎপাদনের জন্য প্রযুক্তি হস্তান্তর করতে অঙ্গীকারাবদ্ধ হতে হবে। বাংলাদেশের সক্ষমতা রয়েছে এবং সুযোগ পেলে ভ্যাকসিন তৈরি করতে প্রস্তুত রয়েছে।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘তৃতীয়ত, কোভিড-১৯-এর পরিপ্রেক্ষিতে আর্থিক সহায়তাসহ উন্নয়নশীল দেশগুলোর যেসব চ্যালেঞ্জ রয়েছে, সেগুলোকে বিশেষভাবে স্বীকৃতি দিতে হবে। সরকারসমূহের পাশাপাশি, জাতিসংঘ, আইএফআই, সুশীল সমাজকে তাদের নিজ নিজ দায়িত্ব পালন করতে হবে এবং কোভিড-১৯ মোকাবেলায় একে অপরের সাথে সক্রিয়ভাবে সহযোগিতা করতে হবে।’

তিনি বলেন, সারা বিশ্ব এখনো এই মারাত্মক ভাইরাস এবং এর প্রভাব মোকাবেলায় এক কঠিন সময় পার করছে। এ প্রেক্ষাপটে এ অধিবেশন সর্বোচ্চ গুরুত্ব বহন করে উল্লেখ করে তিনি বলেন, কোভিড-১৯ মহামারী বিশ্বজুড়ে স্বাস্থ্য ব্যবস্থা ও অর্থনীতিকে ধ্বংস করে দিয়েছে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘বিশ্বজুড়ে নিয়ন্ত্রণে না আনলে কোভিড -১৯কে কখনোই কোনো একটি স্থানে নিয়ন্ত্রণে আনা যাবে না। আসুন আমরা একটি টেকসই বিশ্বের জন্য ২০৩০ এজেন্ডা সম্পাদনে নতুনভাবে প্রতিশ্রুতি গ্রহণ করি যেখানে আমাদের পরবর্তী প্রজন্ম ভবিষ্যত মহামারী মোকাবেলায় সমর্থ হবে।’ এই অধিবেশন কোভিড-১৯ মহামারী মোকাবেলায় যৌথ পদক্ষেপ, বৈশ্বিক সংহতি এবং বহুপক্ষীয় সহযোগিতা জোরদার হবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করে তিনি আশ্বাস দেন যে বাংলাদেশ এ বৈশ্বিক প্রচেষ্টায় সকলের সাথে কাজ করতে প্রস্তুত রয়েছে।

বিশ্বব্যাপী এপর্যন্ত ১.৪ মিলিয়নেরও বেশি লোক মারা গিয়েছে এবং প্রতিদিন শত শত মানুষ মারা যাচ্ছে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘এ মহামারী অনেক মানুষকে আরো দরিদ্র করে তুলেছে এবং আরো অনেকে ক্রমে দারিদ্র্যের দিকে ধাবিত হচ্ছে। সকল দেশে অপুষ্টি, বৈষম্য ও ক্রমবর্ধমান অসমতা চেপে বসছে এবং শিক্ষাব্যবস্থা ব্যাহত হচ্ছে। এর ফলে, ব্যবসা, বাণিজ্য ও পর্যটনে প্রবল ধ্বস নামায় মানুষের জীবন-জীবিকা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, এ মহামারী মানুষের জীবন ও জীবিকা রক্ষায় ঐক্যবদ্ধ প্রয়াস গ্রহণে এবং তা আরো উন্নত করতে এ সংকট থেকে শিক্ষা গ্রহণের সুযোগ করে দিয়েছে।

তিনি বলেন, ‘দুর্ভাগ্যক্রমে, কোভিড-১৯-এর বিরুদ্ধে আমাদের লড়াই এখনো শেষ হয়নি। অনেক দেশই দ্বিতীয় বা তৃতীয় ধাক্কার মুখোমুখি হচ্ছে।’

বাংলাদেশ এ মহামারীর কারণে মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘কোভিড-১৯ আমাদের অর্থনীতি, আমাদের জীবন ও জীবিকা, আমাদের অভিবাসী জনগোষ্ঠিকে ব্যাপক প্রভাবিত করেছে এবং আমাদের কষ্টার্জিত উন্নয়ন সাফল্যকে বিপর্যস্ত করে তুলেছে।’

তিনি বলেন, ‘তবে আমরা শুরু থেকেই এবং কার্যকরভাবে হস্তক্ষেপ করেছি এবং আমাদের অর্থনীতি ও জনগণকে মহামারী থেকে রক্ষায় সাহসী পদক্ষেপ নিয়েছি। আমার সরকার ব্যবসা, কর্মসংস্থান ও উৎপাদনশীলতার ওপর প্রভাব হ্রাস করতে ১৪.১৪ বিলিয়ন ডলার মূল্যের প্রণোদনা প্যাকেজ ঘোষণা করেছে, যা আমাদের জিডিপির ৪.৩ শতাংশের সমান।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, মার্চ মাসের প্রথম দিকে ভাইরাস শনাক্ত হওয়ার পর থেকে সরকার ২৫ মিলিয়নেরও বেশি লোককে সহায়তা প্রদানে সামাজিক সুরক্ষা-বেষ্টনীর আওতা সম্প্রসারিত করেছে। তিনি জানান, ‘মহামারীটির দ্বিতীয় ধকল সামাল দিতে ব্যাপক পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।’

Feb2

সন্ত্রাসীরা যতই ঝামেলার দিকে যাক, আমরা প্রতিহত করার চেষ্টা করব

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: সোমবার, ২৫ মে, ২০২৬, ৩:৪৭ অপরাহ্ণ
সন্ত্রাসীরা যতই ঝামেলার দিকে যাক, আমরা প্রতিহত করার চেষ্টা করব

চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডে অপরাধীদের অভয়ারণ্য হিসেবে পরিচিত জঙ্গল সলিমপুরে আবারও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর উপর সশস্ত্র হামলার ঘটনা ঘটেছে। রোববার (২৪ মে) দিবাগত রাতে ‘ইয়াসিন বাহিনী’র একদল সন্ত্রাসী যৌথ বাহিনীর ক্যাম্পে অতর্কিত গুলিবর্ষণ করে এবং বুলডোজার দিয়ে একটি নির্মাণাধীন ক্যাম্পের দেয়াল ভেঙে দেয়।

সোমবার (২৫ মে) সকালে জঙ্গল সলিমপুরের ফের হামলার এই ঘটনা নিয়ে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হন চট্টগ্রামের পুলিশ সুপার (এসপি) মাসুদ আলম। এসময় তিনি ঘটনাটিকে কোটি টাকার সাম্রাজ্য হারাতে বসা সন্ত্রাসীদের ঝাঁকুনি বলে অভিহিত করেন।

এসপি মাসুদ আলম বলেন, ‘এই জঙ্গল সলিমপুর সন্ত্রাসীদের একটা বড় স্বার্থের এবং ইন্টারেস্টের জায়গা। এগুলো প্রতিটা টাকার বিষয়। কোটি কোটি টাকার বিশাল এ সাম্রাজ্য যখন তাদের হাতছাড়া হয়ে যাচ্ছে, তখন হাতছাড়া হওয়ার আগে তারা একটা ঝামেলার দিকে যাচ্ছে। তারা যতই ঝামেলার দিকে যাক, আমরা প্রতিহত করতে চেষ্টা করব।’

এসময় তিনি জানান, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নিতে বিপুল সংখ্যক আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা সেখানে অবস্থান করছে। সামনে প্রয়োজনে আরও বেশি পরিমাণে ফোর্স মোতায়েন করা হবে এবং সে অনুযায়ী কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

হামলার মূল হোতা হিসেবে চিহ্নিত ইয়াসিন নামের ওই ব্যক্তির বিষয়ে এসপি বলেন, ‘এই ইয়াসিন নামের ব্যক্তিটি সম্প্রতি এখানে তৎপরতা শুরু করেছে। আমাদের মনে হচ্ছে, ওর ব্যাকগ্রাউন্ড বা ওর পেছনে কেউ থাকতে পারে। তদন্ত সাপেক্ষে আমরা তা শনাক্ত করার চেষ্টা করছি। তাদের দ্রুত আইনের আওতায় আনার প্রক্রিয়া চলছে।’

আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর মূল উদ্দেশ্যের কথা জানিয়ে তিনি বলেন, ‘আমাদের মূল লক্ষ্য হচ্ছে এই জনপদে যেকোনো মূল্যে আইনশৃঙ্খলা রক্ষা করে শান্তি-শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনা। একে যেন আবার দেশের ভেতরে আরেক দেশ বা কোনো রাষ্ট্রের ভেতরে রাষ্ট্র না বানানো হয়, তার জন্য যা যা করা দরকার আমরা করবো।’

আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর অভিযান ঠেকাতে সন্ত্রাসীরা জঙ্গল সলিমপুরের প্রবেশমুখের অন্তত চারটি রাস্তা কেটে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করে। তবে সেই বাঁধা উপেক্ষা করেই ভোররাত থেকে যৌথবাহিনীর সদস্যরা অভিযান শুরু করে। এই প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত এলাকাটিতে ব্যাপক তল্লাশি চালিয়ে জড়িত সন্দেহে ১৫ থেকে ২০ জনকে আটক করা হয়েছে।

র‌্যাব ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, রোববার রাত আনুমানিক ১টার দিকে জঙ্গল সলিমপুরের আলিনগর এলাকায় সদ্য স্থাপন করা যৌথ বাহিনীর ক্যাম্প লক্ষ্য করে মুহুর্মুহু গুলিবর্ষণ শুরু করে সন্ত্রাসীরা। একপর্যায়ে হামলাকারীরা এস্কেভেটর ও বুলডোজার দিয়ে বিভিন্ন স্থাপনায় আঘাত করে। এতে যৌথবাহিনীর একটি ক্যাম্পের অবকাঠামো গুঁড়িয়ে দেয় তারা। আগামী ঈদের পর ক্যাম্পটি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর উদ্বোধন করার কথা ছিল।

সন্ত্রাসীরা অত্যাধুনিক আগ্নেয়াস্ত্র থেকে গুলি ছুড়লে র‌্যাব ও পুলিশ সদস্যরা আত্মরক্ষার্থে পাল্টা গুলি চালায়। প্রায় দুই ঘণ্টাব্যাপী এভাবে গুলিবিনিময় চলে। তবে প্রধান সড়কগুলো কেটে ফেলার কারণে যৌথবাহিনীর অতিরিক্ত ফোর্সকে গাড়ি রেখে পায়ে হেঁটে দুর্গম পাহাড়ি পথ পাড়ি দিয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছাতে হয়। ফলে হামলাকারীরা পাহাড়ের গভীরে পালিয়ে যায়।

উল্লেখ্য, দীর্ঘ তিন দশক ধরে জঙ্গল সলিমপুরের সরকারি খাস জমি দখল করে ভূমিদস্যু ও বিভিন্ন সন্ত্রাসীগোষ্ঠী নিজস্ব রাজত্ব চালিয়ে আসছিল। চলতি বছরের ১৯ জানুয়ারি এখানে অভিযানে গিয়ে সন্ত্রাসীদের হামলায় র‌্যাবের এক কর্মকর্তা নিহত হওয়ার পর গত ৯ মার্চ যৌথবাহিনীর প্রায় ৪ হাজার সদস্য অভিযান চালিয়ে এলাকাটি প্রশাসনের নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার ঘোষণা দেওয়া হয়। এরপর সেখানে স্থায়ী ক্যাম্প নির্মাণ করা হলেও তা ভেঙে দেয় সন্ত্রাসীরা। তাদের আধিপত্য ফিরে পেতে এই দুঃসাহসিক হামলা চালায় তারা।

ঝিনাইদহে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর উপর ডিম নিক্ষেপ ও হামলা

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: শুক্রবার, ২২ মে, ২০২৬, ৩:৪৯ অপরাহ্ণ
ঝিনাইদহে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর উপর ডিম নিক্ষেপ ও হামলা

ঝিনাইদহে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখ্য সংগঠক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর ওপর ডিম নিক্ষেপ ও অতর্কিত হামলার ঘটনা ঘটেছে। ছাত্রদলের নেতা-কর্মীদের বিরুদ্ধে এ অভিযোগ উঠেছে। এসময় ছাত্রদলের হামলায় নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর সঙ্গে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের তিন নেতা-কর্মী আহত হন।

আজ শুক্রবার (২২ মে) দুপুর ২টার দিকে শহরের পুরাতন কালেক্টরেট মসজিদের সামনে এই ঘটনাটি ঘটে।

প্রত্যক্ষদর্শীদের সূত্রে জানা যায়, শুক্রবার জুমার নামাজ আদায় শেষে মসজিদ থেকে বের হচ্ছিলেন নাসির উদ্দিন পাটোয়ারী। এ সময় ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের আহ্বায়ক সাহেদ আহম্মেদ তাঁর সঙ্গে কথা বলতে এগিয়ে যান।

তাদের মধ্যে কথা বলার এক পর্যায়ে হঠাৎ পেছন থেকে কয়েকজন যুবক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর ওপর ডিম নিক্ষেপ করে এবং অতর্কিত হামলা চালায়। এই হামলায় এনসিপির স্থানীয় কয়েকজন যুবক আহত হয়েছেন।

ভুক্তভোগী নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক আইডি থেকে এক পোস্টে হামলার বিস্তারিত জানান। তিনি অভিযোগ করেন, পূর্বনির্ধারিত কর্মসূচি অনুযায়ী জুমার নামাজ আদায় করে মসজিদ থেকে বের হওয়ার পরপরই পুলিশের উপস্থিতিতেই ছাত্রদল ও যুবদলের নেতাকর্মীরা এই হামলা চালায়।

নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী পোস্টে লেখেন, “প্রথমে ডিম, ইট-পাটকেল নিক্ষেপ করা হয়, এরপর হকিস্টিক দিয়ে অতর্কিতভাবে আঘাত করা হয়। তিনজনের মাথা ফাটিয়ে দেওয়া হয় এবং বেশ কয়েকজন আহত হন। আমাকে লক্ষ্য করেও কিল-ঘুষি মারা হয়।”

তিনি আরও অভিযোগ করেন, হামলাকারীরা এ সময় তাদের মোবাইল ফোন, ক্যামেরা এবং মানিব্যাগ ছিনিয়ে নেয়। ঘটনার পর তারা থানায় অবস্থান নিয়ে মামলা দায়েরের প্রস্তুতি নিচ্ছেন বলেও জানান। একই সাথে ছাত্রদল, যুবদল ও বিএনপি থানার সামনে আবারও হামলার প্রস্তুতি নিচ্ছে বলে তিনি ফেসবুক পোস্টে দাবি করেন।

এই ঘটনার পর এনসিপির নেতাকর্মীরা তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে এলাকায় বিক্ষোভ মিছিল করেছেন। বিক্ষোভ থেকে তারা স্বরাষ্ট্র ও আইনমন্ত্রীর পদত্যাগ দাবি করেন এবং হামলায় জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় আনার জোর দাবি জানান।

 

চট্টগ্রামে তিন বছরের শিশুকে ধর্ষণের ঘটনায় মামলা

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: শুক্রবার, ২২ মে, ২০২৬, ২:৪৮ অপরাহ্ণ
চট্টগ্রামে তিন বছরের শিশুকে ধর্ষণের ঘটনায় মামলা

চট্টগ্রামের বাকলিয়ায় তিন বছরের এক শিশুকে ধর্ষণের ঘটনায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। আজ (শুক্রবার) দুপুরে মামলার বিষয়টি নিশ্চিত করেন বাকলিয়া থানার এক কর্মকর্তা।

তিনি বলেন, ভুক্তভোগী শিশুর পিতা বাদী হয়ে মামলা দায়ের করেছেন। মামলায় গ্রেপ্তার মনিরকে আসামি করা হয়েছে।

স্থানীয় সূত্র জানায়, বাকলিয়ার চেয়ারম্যানঘাটা এলাকায় তিন বছর বয়সী এক শিশু নিখোঁজ হওয়ার পর বৃহস্পতিবার বিকেলে তাকে উদ্ধার করা হয়। উদ্ধারের পর শিশুটির শারীরিক অবস্থা দেখে স্বজন ও স্থানীয়দের সন্দেহ হয়, সে যৌন নিপীড়নের শিকার হয়েছে। খবরটি এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে বিকেলের দিকে রাস্তায় নেমে আসেন স্থানীয়রা।

স্থানীয়দের দাবি, অভিযুক্ত যুবকের নাম মনির। তিনি স্থানীয় একটি ডেকোরেশন দোকানে কাজ করেন। তাদের অভিযোগ, মনির তাদের কাছে নিজের অপরাধ স্বীকারও করেছেন।

অভিযুক্ত মনির নিজের অপরাধ স্বীকার করেছেন বলে একটি তথ্য ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়লেও এর সত্যতা সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

গতকাল বিকেল ৪টার দিকে স্থানীয়রা অভিযুক্তের অবস্থান নিশ্চিত করে ‘বিসমিল্লাহ ম্যানশন’ নামের একটি ভবন ঘেরাও করে রাখেন। একপর্যায়ে ভবনটির কলাপসিবল গেট ভেঙে ফেলার চেষ্টাও করা হয়।

খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে শিশুটিকে পরীক্ষার জন্য হাসপাতালে পাঠায়। অন্যদিকে অভিযুক্তকে আটক করে নিয়ে যাওয়ার সময় বিক্ষুব্ধ জনতা পথ আটকে দেয় এবং তাকে নিজেদের হাতে তুলে দেওয়ার দাবি জানায়। বিকেল সাড়ে চারটা থেকে পুলিশকে অবরুদ্ধ করে রাখে স্থানীয়রা। এরপর রাত আটটার দিকে পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে টিয়ারগ্যাস ও সাউন্ড গ্রেনেড নিক্ষেপ করে।

এসময় পুলিশকে লক্ষ্য করে ইটপাটকেল ছোড়েন স্থানীয়রা। এতে পুরো এলাকা রণক্ষেত্রে পরিণত হয়। স্থানীয়দের বাধার মুখে তখন পুলিশ অভিযুক্ত নিয়ে যেতে পারেনি।

পরে রাত ১১টা সময় দিকে জনবল বাড়ায় পুলিশ। পরে বিদ্যুৎ বন্ধ করে অভিযুক্তকে পুলিশের পোশাক পরিয়ে থানায় নিয়ে যাওয়া হয়। এ সময় ফাঁকা গুলি, টিয়ারগ্যাস ও সাউন্ড গ্রেনেড নিক্ষেপ করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করে পুলিশ। এসময় স্থানীয়রা পুলিশের একটি গাড়িতে আগুন দেয়। এতে দফায় দফায় সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।