আনোয়ারা উপজেলায় ল্যাম্পি স্কিন ডিজিজে আক্রান্ত হচ্ছে গবাদি পশু
চট্টগ্রামের আনোয়ারা উপজেলায় ল্যাম্পি স্কিন ডিজিজে আক্রান্ত হয়ে পড়েছে শত শত গবাদি পশু। বিরল এই রোগে আক্রান্ত হওয়ায় উপজেলার খামারীরা আতংকিত হয়ে পড়েছে।
ল্যাম্পি স্কিন ডিজিজ নামে ভাইরাজ এই রোগটি দেশে নতুন হওয়ায় এর কোন নির্দিষ্ট চিকিৎসা নাই বলে জানিয়েছে প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তারা। রোগের সুনির্দিষ্ট ভ্যাকসিন ও চিকিৎসা না থাকার ফলে উপজেলা জুড়েই প্রকোপ বিস্তার করেছে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।
উপজেলা প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তর সূত্র জানা যায়, ইতি মধ্যে প্রায় এক থেকে দেড়শ গুরু হাসপাতালে এসে চিকিৎসা নিয়েছে। এছাড়াও এপর্যন্ত আনোয়ারায় ল্যাম্পি স্কিন ডিজিজে আনুমানিক দুইশর অধিক গরু আক্রান্ত হয়েছে বলে জানিয়েছে উপজেলা প্রাণিসম্পদ সূত্র।
গ্রামের ক্ষুদ্র খামারীদের সাথে কথা বলে জানা গেছে, গরুর গায়ে প্রথমে গুটি গুটি দেখা যায় নতুবা কোন এক জায়গায় ফোলে যায় তার পর শরীর থেকে পানি বের হয়ে ক্ষত সৃষ্টি হয়। এরপর দু-একদিনের মধ্যেই গরুর শরীরজুড়েই গুটির পরিমাণ আরো বৃদ্ধি পেয়ে ক্ষত থেকে রক্ত ও পৌঁছ বের হয়। এ সময় গরুর শরীরে অতিরিক্ত তাপমাত্রা দেখা দেয় এবং গরু আহার ছেড়ে দেয়।
অনেক সময় গরুর বুকের নিচে পানি জমে ক্ষত সৃষ্টি হয়। এছাড়া ক্ষতস্থান থেকে মাংস খসে খসে পড়ে। সঠিক সময়ে উপযুক্ত চিকিৎসা কিংবা রোগের লক্ষণ জানা না থাকায় বেশ কিছু গরুর অবস্থা অবনতির দিকে। গরুর অবস্থা বেগতিক দেখে উপজেলার খামারীরা দিশেহারা হয়ে পড়েছে ।
এ ব্যাপারে উপজেলা ভেটেনারি সার্জন ডা. নাইফা বেগম বলেন, সারা দেশে কম বেশি এই রোগে আক্রান্ত হচ্ছে গবাদি পশু গুলো। আমরা পর্যাপ্ত পরিমাণ চিকিৎসা দিচ্ছি এই নিয়ে খামারীদের হতাশ হওয়ার কোন কারণ নেই,কারণ ভাইরাজ জাতীয় রোগটি নতুন হলেও এর প্রভাব তেমন এতটা ক্ষতিকর না। যদিও ভাইরাজে আক্রান্ত গরু গুলো পুরোপুরি সুস্থ হতে দীর্ঘ সময় লাগবে।
এটি একটি মৌসুমে রোগ বলে ধারণা করা হচ্ছে ঋতু পরিবর্তন হলে অবস্থা উন্নতি হবে। তারপরেও রোগটি নিয়ন্ত্রণ করার জন্য আমরা সাধ্যমতো চেষ্টা করে যাচ্ছি এই জন্য উপসহকারি প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তাদের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।


আপনার মতামত লিখুন