খুঁজুন
সোমবার, ২৫শে মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ১১ই জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

আ.লীগের মধু খেয়ে নৌকার ভরাডুবি করতে ষড়যন্ত্র করেছে বাবুল : এমপি নদভী

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: শনিবার, ১৯ ডিসেম্বর, ২০২০, ৬:৫৪ অপরাহ্ণ
আ.লীগের মধু খেয়ে নৌকার ভরাডুবি করতে ষড়যন্ত্র করেছে বাবুল : এমপি নদভী

লোহাগাড়া (চট্টগ্রাম) প্রতিনিধি : গত কিছুদিন পূর্বে অনুষ্টিত তিনটি ইউপি নির্বাচনে লোহাগাড়া উপজেলা চেয়ারম্যান জিয়াউল হক চৌধুরী বাবুল নৌকার ভরাডুবির জন্য সব ধরনের ষড়যন্ত্র করেছেন বলে মন্তব্য করেছেন চট্টগ্রাম-১৫ (সাতকানিয়া-লোহাগাড়া) আসনের সংসদ সদস্য প্রফেসর ড. আবু রেজা মুহাম্মদ নেজামুদ্দিন নদভী।

বৃহস্পতিবার (১৭ ডিসেম্বর) রাত ৮টায় মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর সাবেক সামরিক সচিব মেজর জেনারেল মিয়া মোহাম্মদ জয়নাল আবেদীন বীর বিক্রম পিএসসি’র প্রথম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে চুনতিবাসীর উদ্যোগে চুনতিস্থ আবেদীন সাহেবের গ্রামের বাড়ীতে আয়োজিত আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিলে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

প্রফেসর ড. নদভী এমপি বলেন, মেজর জেনারেল আবেদীন মামা সাতকানিয়া-লোহাগাড়ার আওয়ামী লীগের রাজনীতিকে প্রসারিত করার জন্য কিছু কিছু লোককে দলে আনার চেষ্টা করেছেন। তাদেরকে বিভিন্নভাবে সুযোগ-সুবিধা দিয়ে স্টাবলিষ্ট করেছেন। কিন্তু উনারা হলেন বড় ধরণের মুনাফেক আর বেঈমান। আবেদীন মামার ইন্তেকালের পর ওনারা মোনাফেক আর বেঈমান হয়ে গেছে।

এ সময় ড. নদভী এমপি লোহাগাড়া উপজেলা চেয়ারম্যান জিয়াউল হক চৌধুরী বাবুলের দিকে সরাসরি ইঙ্গিত করে বলেন, আবেদীন মামা ও আমার সহযোগীতায় বাবুল আওয়ামী লীগের মাধ্যমে আজীবন উপকৃত হয়েছে। আমাদের মাধ্যমে হয়েছে, এক নাম্বার উপকৃত হয়েছে আবেদীন মামার মাধ্যমে। আওয়ামী লীগ থেকে সবকিছু খেয়েছে। আওয়ামী লীগের মধু খেয়ে তার পেট অনেক বড় হয়েছে। খেয়ে হজমও হয়ে গেছে। আবেদীন মামার মৃত্যুর পর বেঈমান হয়ে গেছ । গত ২০ অক্টোবর অনুষ্ঠিত লোহাগাড়ার তিন ইউপি নির্বাচনে নৌকার ভরাডুবির জন্য সব ধরনের ষড়যন্ত্র করেছে এই বাবুল চেয়ারম্যান। তাকে আমরা ছাড় দেবো না। আবেদীন মামার জন্য আজীবন মাগফিরাত কামনা করবো কিন্তু এই মুনাফিকদেরকে সাতকানিয়া-লোহাগাড়ায় আর জায়গা দেবো না। আমি কিন্তু কঠোর মানুষ। আওয়ামী লীগের প্রশ্নে কোন আপোষ নেই।
দলীয় নেতাকর্মীদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, দলের জন্য নিবেদিত হয়ে কাজ করবেন। অসহায় ও সাধারণ মানুষের জন্য কাজ করবেন। তাদের পাশে থাকবেন। কোন মোনাফিকদের সাথে থাকবেন না এবং কাজ করবেন না।

প্রয়াত সামরিক সচিব মেজর জেনারেল আবেদীনের গুণাবলী তুলে ধরতে গিয়ে ড. নদভী এমপি বলেন, বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক রাজনীতির অগ্রযাত্রা ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশের অভিযাত্রায় ধ্রুবতারা হয়ে বেঁচে থাকবেন মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর সুদীর্ঘকালীন সামরিক সচিবের দায়িত্ব পালনকারী মেধাবী সামরিক কর্মকর্তা মেজর জেনারেল মিয়া মোহাম্মদ জয়নুল আবেদীন।
কিংবদন্তীতুল্য সামরিক সচিবের প্রতি মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর ছিল অগাধ আস্থা ও বিশ্বাস এবং তাঁকে পরিবারের একজন সদস্য মনে করতেন।

তিনি বলেন, সৎ, নীতিবান ও বড়মাপের এই দেশপ্রেমিক সামরিক কর্মকর্তার গৌরবময় কীর্তিগাঁথা এবং নেতৃত্ব বাহিনীতে চির অনুসরণীয় হয়ে থাকবে। আত্মীয়তার সূত্রে এবং নিজের বাবার কাছের ছাত্র হিসেবে তাঁর সান্নিধ্যে এসে পাওয়া অকৃত্রিম স্নেহ ও ভালোবাসার কথা অত্যন্ত শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করে ড.আবু রেজা নদভী এমপি বলেন, বহুমুখী প্রতিভাধর সাদামনের অসাধারন ব্যক্তিত্বের অধিকারী মেজর জেনারেল মিয়া মোহাম্মদ জয়নুল আবেদীন ছিলেন অত্যন্ত ধর্মপরায়ন।

ইসলাম ধর্ম ও আরবী ভাষায় তাঁর ছিল অগাধ পান্ডিত্য। সরকার ও আলেম সমাজের মধ্যকার ভুল বুঝাবুঝি নিরসন করে সম্পর্কের সেতুবন্ধন রচনায় এবং কওমী মাদ্রাসার সনদের সরকারী স্বীকৃতি আদায়ে তাঁর সাথে দীর্ঘদিন কাজ করার স্মৃতিচারণ করে ড. আবু রেজা নদভী এমপি বলেন, এই দুই ইস্যুতে তাঁর ভূমিকা ছিল অপরিসীম। দেশ ও জাতির প্রতি তাঁর দায়িত্ববোধ, দুর্দর্শী চিন্তা-ভাবনা দেখে বিমোহিত-বিমুগ্ধ হতাম বারবার।

প্রধানমন্ত্রীর প্রায়াত সামরিক সচিবের বড় ভাই মিয়া মোহাম্মদ ইসমাইল মানিকের সভাপতিত্বে আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিলে প্রধান বক্তা ছিলেন চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মফিজুর রহমান। বিশেষ অতিথি ছিলেন সাতকানিয়া সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার জাকারিয়া রহমান জিকু, লোহাগাড়া উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি খোরশেদ আলম চৌধুরী, চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা আওয়ামী লীগের কার্য্যনির্বাহী সদস্য আলহাজ্ব ওমর ফারুক চৌধুরী, উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সালাহ উদ্দিন হিরু, লোহাগাড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জাকির হোসাইন মাহমুদ, লোহাগাড়া সদর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আলহাজ্ব নুরুচ্ছাফা চৌধুরী, চুনতি ইউপি চেয়ারম্যান জয়নাল আবেদীন জনু, উপজেলা যুবলীগের যুগ্ম আহবায়ক ফজলে এলাহী আরজু ও উপজেলা বঙ্গবন্ধু স্মৃতি পরিষদের সভাপতি মিজানুর রহমান মিজান প্রমুখ।

সভায় উল্লেখযোগ্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন লোহাগাড়া উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান মুহাম্মদ ইব্রাহিম কবির, শাহ মাওলানা আবুল কালাম আজাদ, আধুনগর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান নাজিম উদ্দিন, লোহাগাড়া উপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতি একেএম আসিফুর রহমান চৌধুরী, সাধারণ সম্পাদক এরশাদুর রহমান রিয়াদসহ স্থানীয় আওয়ামী লীগ, যুবলীগ ও ছাত্রলীগের নেতাকর্মী ও সর্বস্তরের জনসাধারণ।

২৪ ঘণ্টা/এ. কে. আজাদ

Feb2

ঝিনাইদহে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর উপর ডিম নিক্ষেপ ও হামলা

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: শুক্রবার, ২২ মে, ২০২৬, ৩:৪৯ অপরাহ্ণ
ঝিনাইদহে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর উপর ডিম নিক্ষেপ ও হামলা

ঝিনাইদহে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখ্য সংগঠক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর ওপর ডিম নিক্ষেপ ও অতর্কিত হামলার ঘটনা ঘটেছে। ছাত্রদলের নেতা-কর্মীদের বিরুদ্ধে এ অভিযোগ উঠেছে। এসময় ছাত্রদলের হামলায় নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর সঙ্গে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের তিন নেতা-কর্মী আহত হন।

আজ শুক্রবার (২২ মে) দুপুর ২টার দিকে শহরের পুরাতন কালেক্টরেট মসজিদের সামনে এই ঘটনাটি ঘটে।

প্রত্যক্ষদর্শীদের সূত্রে জানা যায়, শুক্রবার জুমার নামাজ আদায় শেষে মসজিদ থেকে বের হচ্ছিলেন নাসির উদ্দিন পাটোয়ারী। এ সময় ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের আহ্বায়ক সাহেদ আহম্মেদ তাঁর সঙ্গে কথা বলতে এগিয়ে যান।

তাদের মধ্যে কথা বলার এক পর্যায়ে হঠাৎ পেছন থেকে কয়েকজন যুবক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর ওপর ডিম নিক্ষেপ করে এবং অতর্কিত হামলা চালায়। এই হামলায় এনসিপির স্থানীয় কয়েকজন যুবক আহত হয়েছেন।

ভুক্তভোগী নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক আইডি থেকে এক পোস্টে হামলার বিস্তারিত জানান। তিনি অভিযোগ করেন, পূর্বনির্ধারিত কর্মসূচি অনুযায়ী জুমার নামাজ আদায় করে মসজিদ থেকে বের হওয়ার পরপরই পুলিশের উপস্থিতিতেই ছাত্রদল ও যুবদলের নেতাকর্মীরা এই হামলা চালায়।

নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী পোস্টে লেখেন, “প্রথমে ডিম, ইট-পাটকেল নিক্ষেপ করা হয়, এরপর হকিস্টিক দিয়ে অতর্কিতভাবে আঘাত করা হয়। তিনজনের মাথা ফাটিয়ে দেওয়া হয় এবং বেশ কয়েকজন আহত হন। আমাকে লক্ষ্য করেও কিল-ঘুষি মারা হয়।”

তিনি আরও অভিযোগ করেন, হামলাকারীরা এ সময় তাদের মোবাইল ফোন, ক্যামেরা এবং মানিব্যাগ ছিনিয়ে নেয়। ঘটনার পর তারা থানায় অবস্থান নিয়ে মামলা দায়েরের প্রস্তুতি নিচ্ছেন বলেও জানান। একই সাথে ছাত্রদল, যুবদল ও বিএনপি থানার সামনে আবারও হামলার প্রস্তুতি নিচ্ছে বলে তিনি ফেসবুক পোস্টে দাবি করেন।

এই ঘটনার পর এনসিপির নেতাকর্মীরা তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে এলাকায় বিক্ষোভ মিছিল করেছেন। বিক্ষোভ থেকে তারা স্বরাষ্ট্র ও আইনমন্ত্রীর পদত্যাগ দাবি করেন এবং হামলায় জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় আনার জোর দাবি জানান।

 

চট্টগ্রামে তিন বছরের শিশুকে ধর্ষণের ঘটনায় মামলা

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: শুক্রবার, ২২ মে, ২০২৬, ২:৪৮ অপরাহ্ণ
চট্টগ্রামে তিন বছরের শিশুকে ধর্ষণের ঘটনায় মামলা

চট্টগ্রামের বাকলিয়ায় তিন বছরের এক শিশুকে ধর্ষণের ঘটনায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। আজ (শুক্রবার) দুপুরে মামলার বিষয়টি নিশ্চিত করেন বাকলিয়া থানার এক কর্মকর্তা।

তিনি বলেন, ভুক্তভোগী শিশুর পিতা বাদী হয়ে মামলা দায়ের করেছেন। মামলায় গ্রেপ্তার মনিরকে আসামি করা হয়েছে।

স্থানীয় সূত্র জানায়, বাকলিয়ার চেয়ারম্যানঘাটা এলাকায় তিন বছর বয়সী এক শিশু নিখোঁজ হওয়ার পর বৃহস্পতিবার বিকেলে তাকে উদ্ধার করা হয়। উদ্ধারের পর শিশুটির শারীরিক অবস্থা দেখে স্বজন ও স্থানীয়দের সন্দেহ হয়, সে যৌন নিপীড়নের শিকার হয়েছে। খবরটি এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে বিকেলের দিকে রাস্তায় নেমে আসেন স্থানীয়রা।

স্থানীয়দের দাবি, অভিযুক্ত যুবকের নাম মনির। তিনি স্থানীয় একটি ডেকোরেশন দোকানে কাজ করেন। তাদের অভিযোগ, মনির তাদের কাছে নিজের অপরাধ স্বীকারও করেছেন।

অভিযুক্ত মনির নিজের অপরাধ স্বীকার করেছেন বলে একটি তথ্য ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়লেও এর সত্যতা সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

গতকাল বিকেল ৪টার দিকে স্থানীয়রা অভিযুক্তের অবস্থান নিশ্চিত করে ‘বিসমিল্লাহ ম্যানশন’ নামের একটি ভবন ঘেরাও করে রাখেন। একপর্যায়ে ভবনটির কলাপসিবল গেট ভেঙে ফেলার চেষ্টাও করা হয়।

খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে শিশুটিকে পরীক্ষার জন্য হাসপাতালে পাঠায়। অন্যদিকে অভিযুক্তকে আটক করে নিয়ে যাওয়ার সময় বিক্ষুব্ধ জনতা পথ আটকে দেয় এবং তাকে নিজেদের হাতে তুলে দেওয়ার দাবি জানায়। বিকেল সাড়ে চারটা থেকে পুলিশকে অবরুদ্ধ করে রাখে স্থানীয়রা। এরপর রাত আটটার দিকে পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে টিয়ারগ্যাস ও সাউন্ড গ্রেনেড নিক্ষেপ করে।

এসময় পুলিশকে লক্ষ্য করে ইটপাটকেল ছোড়েন স্থানীয়রা। এতে পুরো এলাকা রণক্ষেত্রে পরিণত হয়। স্থানীয়দের বাধার মুখে তখন পুলিশ অভিযুক্ত নিয়ে যেতে পারেনি।

পরে রাত ১১টা সময় দিকে জনবল বাড়ায় পুলিশ। পরে বিদ্যুৎ বন্ধ করে অভিযুক্তকে পুলিশের পোশাক পরিয়ে থানায় নিয়ে যাওয়া হয়। এ সময় ফাঁকা গুলি, টিয়ারগ্যাস ও সাউন্ড গ্রেনেড নিক্ষেপ করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করে পুলিশ। এসময় স্থানীয়রা পুলিশের একটি গাড়িতে আগুন দেয়। এতে দফায় দফায় সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।

রামিসার বাসার সামনে বিক্ষোভ, কুলখানির জন্য ঢাকা ছাড়লেন বাবা-মা

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: শুক্রবার, ২২ মে, ২০২৬, ২:৩২ অপরাহ্ণ
রামিসার বাসার সামনে বিক্ষোভ, কুলখানির জন্য ঢাকা ছাড়লেন বাবা-মা

রাজধানীর পল্লবীতে ধর্ষণের পর নৃশংস হত্যার শিকার আট বছরের শিশু রামিসা আক্তারের মৃত্যুর ঘটনায় এখনও থামেনি মানুষের ক্ষোভ আর কান্না।

শুক্রবার (২২ মে) সকাল থেকেই পল্লবীর সেকশন-১১ এলাকায় রামিসাদের বাসার সামনে জড়ো হতে থাকেন বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ। ছোট-ছোট সামাজিক ও স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের ব্যানারে মানববন্ধন, বিক্ষোভ ও প্রতিবাদ কর্মসূচি পালন করতে দেখা যায় স্থানীয়দের।

সেখানে গিয়ে দেখা যায়, বেলা ১১টার পর থেকে রামিসাদের বাসার সামনের গলিতে একে একে জড়ো হন নারী-পুরুষসহ বিভিন্ন বয়সী মানুষ। অনেকের হাতে ছিল ‘রামিসার হত্যাকারীর ফাঁসি চাই’, ‘শিশু ধর্ষণ ও হত্যার বিচার চাই’ লেখা প্ল্যাকার্ড।

এসময় এলাকাজুড়ে ছিল থমথমে পরিবেশ। স্থানীয়দের অনেকেই ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, এমন নির্মম হত্যাকাণ্ডের দৃষ্টান্তমূলক বিচার না হলে সমাজে শিশুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত হবে না।

একটি মানববন্ধনে অংশ নেওয়া লামিয়া খানম নামে এক নারী বলেন, আমরা নিজের সন্তানদের নিয়েই এখন আতঙ্কে আছি। একটা শিশুকে এত নির্মমভাবে হত্যা কোনো মানুষ করতে পারে না।

এদিকে সন্তান হারানোর শোকে এখনও প্রায় নির্বাক রামিসার মা-বাবা। শুক্রবার (আজ) দুপুর ১২টার দিকে মেয়ের কুলখানি ও মিলাদে অংশ নিতে মুন্সীগঞ্জের সিরাজদিখানের উদ্দেশে ঢাকা ছাড়েন তারা। যাওয়ার আগে বাসার সামনে জড়ো হওয়া মানুষদের কান্না আর সান্ত্বনার শব্দে ভারী হয়ে ওঠে পরিবেশ।

পরিবারের স্বজনরা জানান, বৃহস্পতিবার (২১ মে) রাতে সিরাজদিখানে পারিবারিক কবরস্থানে দাফনের সময় পুরো এলাকায় শোকের ছায়া নেমে আসে। রামিসার মা এখনও মেয়ের জামাকাপড় ও ব্যবহৃত জিনিসপত্র বুকে জড়িয়ে কাঁদছেন। আর বাবা আব্দুল হান্নান মোল্লা বারবার মেয়ের শেষ আবদারের কথা মনে করে ভেঙে পড়ছেন। দুই দিন আগে মেয়ের জন্য একটি বোরকা কিনে এনেছিলেন তিনি। কিন্তু সেই বোরকা আর পরা হয়নি রামিসার।

গত মঙ্গলবার সকালে পল্লবীর সেকশন-১১ এলাকায় নিজ বাসার পাশ থেকে নিখোঁজ হয় দ্বিতীয় শ্রেণির ছাত্রী রামিসা। পরে প্রতিবেশী সোহেল রানার ফ্ল্যাট থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় শিশুটির বাবা পল্লবী থানায় মামলা করেন।

পুলিশ জানায়, প্রধান অভিযুক্ত সোহেল রানা শিশুটিকে ধর্ষণের পর হত্যা করে মরদেহ গোপনের চেষ্টা করেন। ঘটনার পর নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। আদালতে তিনি হত্যার দায় স্বীকার করে জবানবন্দিও দিয়েছেন। এ ঘটনায় সোহেলের স্ত্রী স্বপ্না আক্তারকেও গ্রেপ্তার করে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।