খুঁজুন
মঙ্গলবার, ২৬শে মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ১২ই জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

চসিকে কাউন্সিলর পদে যারা বিজয়ী হলেন

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২৮ জানুয়ারি, ২০২১, ১:১০ পূর্বাহ্ণ
চসিকে কাউন্সিলর পদে যারা বিজয়ী হলেন

চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন (চসিক) নির্বাচনে অনুষ্ঠিত ভোটে কাউন্সিলর নতুনের জয়জয়কার হয়েছে। ৩৯টি ওয়ার্ডের মধ্যে সবকটিতে জয়ী হয়েছে আওয়ামী লীগ। এর মধ্যে ১৯টিতে জয় নতুনদের।

এদিকে এবারই প্রথম চসিকের কোনো ওয়ার্ডে জয় পাননি বিএনপির কোনো কাউন্সিলর প্রার্থী।

চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন (চসিক) নির্বাচনে ১৪টি সংরক্ষিত ওয়ার্ড এবং ৪১টি সাধারণ ওয়ার্ডের মধ্যে ৩৯ ওয়ার্ডে (১৮ নম্বর পূর্ব বাকলিয়া ও ৩১ নম্বর আলকরণ ওয়ার্ড ছাড়া) নির্বাচিত কাউন্সিলর প্রার্থীদের ফলাফল প্রকাশ করা হয়েছে।

১৮ নম্বর পূর্ব বাকলিয়া ওয়ার্ডে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হয়েছেন মোহাম্মদ হারুন অর রশিদ।
অপরদিকে ৩১ নম্বর আলকরণ ওয়ার্ডে কাউন্সিলর প্রার্থী তারেক সোলেমান সেলিমের মৃত্যুতে নির্বাচন স্থগিত করা হয়েছে। নতুন তফসিল অনুযায়ী নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে আগামী ২৮ ফেব্রুয়ারি।

বুধবার (২৭ জানুয়ারি) রিটার্নিং কর্মকর্তা মুহাম্মদ হাসানুজ্জামান সাধারণ এবং সংরক্ষিত মিলিয়ে ৫৩ ওয়ার্ডের ফলাফল নগরীর স্টেডিয়ামস্থ জিমনেশিয়াম চত্বর থেকে ঘোষণা করেন ।

সাধারণ ওয়ার্ডে নির্বাচিতদের তালিকা
১নং দক্ষিণ পাহাড়তলী: আওয়ামী লীগের গাজী মো. শফিউল আজিম (ঘুড়ি)
২নং জালালাবাদ ওয়ার্ড: বিদ্রোহী মো. সাহেদ ইকবাল বাবু (ঝুড়ি)
৩নং পাঁচলাইশ: বিদ্রোহী প্রার্থী মো. শফিকুল ইসলাম (মিষ্টি কুমড়া)
৪নং চান্দগাঁও: বিদ্রোহী প্রার্থী মো. এসরারুল হক (ঘুড়ি)
৫নং মোহরা: আওয়ামী লীগের মোহাম্মদ কাজী নুরুল আমিন মামুন (ঘুড়ি)
৬নং পূর্ব ষোলশহর: আওয়ামী লীগের এম আশরাফুল আলম (ঘুড়ি)
৭নং পশ্চিম ষোলশহর: আওয়ামী লীগের মো. মোবারক আলী (টিফিন ক্যারিয়ার)
৮নং শুলকবহর: আওয়ামী লীগের মো. মোরশেদ আলম (লাটিম)
৯নং পাহাড়তলী: বিদ্রোহী প্রার্থী মোহাম্মদ জহুরুল আলম জসিম (মিষ্টি কুমড়া)
১০নং উত্তর কাট্টলী: আওয়ামী লীগের নিছার উদ্দিন আহমেদ (মিষ্টি কুমড়া)
১১নং দক্ষিণ কাট্টলী: আওয়ামী লীগের মো. ইসমাইল (টিফিন ক্যারিয়ার)
১২নং সরাইপাড়া: আওয়ামী লীগের মো. নুরুল আমিন (রেডিও)
১৩নং পাহাড়তলী: আওয়ামী লীগের মো. ওয়াসিম উদ্দিন চৌধুরী (লাটিম)
১৪নং লালখান বাজার: আওয়ামী লীগের আবুল হাসনাত মো. বেলাল (ঘুড়ি)
১৫নং বাগমনিরাম: আওয়ামী লীগের মোহাম্মদ গিয়াস উদ্দীন (ঘুড়ি)
১৬নং চকবাজার: আওয়ামী লীগের সাইয়েদ গোলাম হায়দার মিন্টু(ব্যাডমিন্টন র‌্যাকেট)
১৭নং পশ্চিম বাকলিয়া: আওয়ামী লীগের এ মোহাম্মদ শহিদুল আলম (ঘুড়ি)
১৮নং পূর্ব বাকলিয়া: বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হয়েছেন মোহাম্মদ হারুন অর রশিদ।
১৯নং দক্ষিণ বাকলিয়া: আওয়ামী লীগের মো. নুরুল আলম (মিষ্টি কুমড়া)
২০নং দেওয়ান বাজার: আওয়ামী লীগের চৌধুরী হাসান মাহমুদ হাসনী (ঠেলাগাড়ি)
২১নং জামালখান: আওয়ামী লীগের শৈবাল দাশ সুমন (ঠেলাগাড়ি)
২২নং এনায়েত বাজার: আওয়ামী লীগের মোহাম্মদ সলিম উল্লাহ বাচ্চু(ঘুড়ি)
২৩নং উত্তর পাঠানটুলী: আওয়ামী লীগের মোহাম্মদ জাবেদ (মিষ্টি কুমড়া)
২৪নং উত্তর আগ্রাবাদ: আওয়ামী লীগের নাজমুল হক ডিউক (ঠেলাগাড়ি)
২৫নং রামপুরা: আওয়ামী লীগ সমর্থিত আব্দুস সবুর লিটন(টিফিন ক্যারিয়ার)
২৬নং উত্তর হালিশহর: আওয়ামী লীগের মোহাম্মদ হোসেন (ঠেলাগাড়ি)
২৭নং দক্ষিণ আগ্রাবাদ: মো. শেখ জাফরুল হায়দার চৌধুরী(লাটিম)
২৮নং পাঠানটুলী: আওয়ামী লীগের নজরুল ইসলাম বাহাদুর (রেডিও)
২৯নং পশ্চিম মাদারবাড়ি: আওয়ামী লীগের গোলাম মোহাম্মদ জোবায়ের (রেডিও)
৩০নং পূর্ব মাদারবাড়ি: আওয়ামী লীগের আতাউল্লাহ চৌধুরী(ঘুড়ি)
৩১নং আলকরণ: কাউন্সিলর প্রার্থী তারেক সোলেমান সেলিমের মৃত্যুতে নির্বাচন স্থগিত করা হয়েছে। নতুন তফসিল অনুযায়ী নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে আগামী ২৮ ফেব্রুয়ারি।
৩২নং আন্দরকিল্লা: আওয়ামী লীগ সমর্থিত জহর লাল হাজারী (মিষ্টি কুমড়া)
৩৩নং ফিরিঙ্গি বাজার: বিদ্রোহী প্রার্থী হাসান মুরাদ বিপ্লব (মিষ্টি কুমড়া)
৩৪নং পাথরঘাটা: আওয়ামী লীগের পুলক খাস্তগীর (ঠেলাগাড়ি)
৩৫নং বক্সিরহাট: আওয়ামী লীগের হাজী নুরুল হক (ঘুড়ি)
৩৬নং গোসাইলডাঙ্গা: বিদ্রোহী প্রার্থী মো. মোর্শেদ আলী।
৩৭নং মুনিররগর: আওয়ামী লীগের মোহাম্মদ আবদুল মান্নান (ঠেলাগাড়ি)
৩৮নং দক্ষিণ মধ্যম হালিশহর: আওয়ামী লীগের গোলাম মো. চৌধুরী (ঠেলাগাড়ি)
৩৯নং দক্ষিণ হালিশহর: আওয়ামী লীগের জিয়াউল হক সুমন(লাটিম)
৪০নং উত্তর পতেঙ্গা: আওয়ামী লীগের আবদুল বারেক(ঠেলাগাড়ি)
৪১নং দক্ষিণ পতেঙ্গা: আওয়ামী লীগের ছালেহ আহম্মেদ চৌধুরী (ঘুড়ি)।

সংরক্ষিত নারী কাউন্সিলররা হলেন-
১ নং ওয়ার্ডে নির্বাচিত হয়েছে বিদ্রোহী প্রার্থী ফেরদৌস বেগম মুন্নী (আনারস)।
২নং ওয়ার্ডে নির্বাচিত হয়েছেন আওয়ামীলীগের জোবাইরা নার্গিস খান (মোবাইল ফোন)।
৩নং ওয়ার্ডে নির্বাচিত হয়েছেন আওয়ামী লীগের জেসমিন পারভীন জেসী (চশমা)।
৪নং ওয়ার্ডে নির্বাচিত হয়েছেন আওয়ামী লীগের তছলিমা বেগম নুরজাহান (বই)।
৫নং ওয়ার্ডে নির্বাচিত হয়েছেন আওয়ামী লীগের আনজুমান আরা বেগম (বই)।
৬নং ওয়ার্ডে নির্বাচিত হয়েছেন আওয়ামী লীগের শাহীন আকতার রোজী (আনারস)।
৭নং ওয়ার্ডে নির্বাচিত হয়েছেন আওয়ামী লীগের রুমকি সেনগুপ্ত (হেলিকপ্টর)।
৮নং ওয়ার্ডে নির্বাচিত হয়েছেন আওয়ামী লীগের নীলু নাগ (মোবাইল ফোন)।
৯নং ওয়ার্ডে নির্বাচিত হয়েছেন আওয়ামী লীগের জাহেদা বেগম পপি (স্টিল আলমারি)।
১০ নং ওয়ার্ডে নির্বাচিত হয়েছেন আওয়ামী লীগের হুরে আরা বেগম (মোবাইল ফোন)।
১১নং ওয়ার্ডে নির্বাচিত হয়েছেন আওয়ামী লীগের ফেরদৌসি আকবর (বই)।
১২ নং ওয়ার্ডে নির্বাচিত হয়েছেন আওয়ামী লীগের আফরোজা জহুর (আফরোজা কালাম) (গ্লাস)।
১৩ নং ওয়ার্ডে নির্বাচিত হয়েছেন আওয়ামী লীগের লুৎফুন্নেছা দোভাষ বেবী (গ্লাস)।
১৪ নং ওয়ার্ডে নির্বাচিত হয়েছেন আওয়ামী লীগের শাহানুর বেগম (গ্লাস)।

Feb2

বাংলাদেশকে ৫ বিলিয়ন ডলার দেবে এডিবি

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: সোমবার, ২৫ মে, ২০২৬, ৬:২৯ অপরাহ্ণ
বাংলাদেশকে ৫ বিলিয়ন ডলার দেবে এডিবি

বাংলাদেশের জন্য আগামী পাঁচ বছরে পাঁচ বিলিয়ন মার্কিন ডলার সহায়তার পরিকল্পনা ঘোষণা করেছে এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি)। একই সঙ্গে বাংলাদেশে বার্ষিক ঋণসহায়তা প্রায় ২০ শতাংশ বাড়ানোর কথাও জানিয়েছে সংস্থাটি।

সোমবার সকালে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে বৈঠকে এসব বিষয় তুলে ধরেন এডিবি সভাপতি মাসাতো কান্দা। সাক্ষাৎকালে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী ও প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব এ বি এম আব্দুস সাত্তার উপস্থিত ছিলেন।

এ বিষয়ে এডিবির এক বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, এডিবি সভাপতির সফরকালে ২০২৬ সালের বার্ষিক প্রতিশ্রুতি কর্মসূচির আওতায় প্রায় ১ দশমিক ৪ বিলিয়ন ডলারের ঋণচুক্তিও সই হয়েছে।

এডিবি সভাপতি মাসাতো কান্দা বলেন, ‘বাংলাদেশ এখন একটি গুরুত্বপূর্ণ নতুন পর্যায়ে প্রবেশ করছে। অর্জিত স্থিতিশীলতা ধরে রাখা, নতুন প্রবৃদ্ধির উৎস তৈরি এবং আরও বহুমুখী ও সহনশীল অর্থনীতি গড়ে তুলতে এডিবি সহায়তা করবে।’

এডিবি জানিয়েছে, ‘ইন্টিগ্রেটেড গ্রোথ নেটওয়ার্ক ডেভেলপমেন্ট ইনিশিয়েটিভ’ নামে নতুন একটি কর্মসূচির আওতায় আগামী পাঁচ বছরে এই পাঁচ বিলিয়ন ডলার সহায়তা দেওয়া হবে। এর লক্ষ্য হচ্ছে বিনিয়োগ বাড়ানো, কর্মসংস্থান সৃষ্টি, যোগাযোগব্যবস্থা উন্নয়ন এবং আঞ্চলিক বৈষম্য কমিয়ে ভারসাম্যপূর্ণ প্রবৃদ্ধি নিশ্চিত করা।

পরিকল্পনা অনুযায়ী, বছরে গড়ে প্রায় এক বিলিয়ন ডলার করে অর্থায়ন দেওয়া হবে। এটি বাংলাদেশের জন্য এডিবির বর্ধিত বার্ষিক ঋণসহায়তার কাঠামোর মধ্যেই অন্তর্ভুক্ত থাকবে।

বর্তমানে বাংলাদেশে এডিবির বার্ষিক সার্বভৌম ঋণ প্রতিশ্রুতির পরিমাণ প্রায় দুই বিলিয়ন ডলার। মধ্য মেয়াদে তা বাড়িয়ে প্রায় ২ দশমিক ৪ বিলিয়ন ডলারে উন্নীত করার পরিকল্পনা করেছে সংস্থাটি। এডিবি জানিয়েছে, বাড়তি অর্থায়ন বিনিয়োগ-নির্ভর প্রবৃদ্ধি, কর্মসংস্থান, অর্থনৈতিক বহুমুখীকরণ, সুশাসন এবং স্বল্পোন্নত দেশের (এলডিসি) তালিকা থেকে উত্তরণ প্রক্রিয়াকে সহায়তা করবে।

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংকটে জ্বালানি তেল, তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি), সার ও পরিবহন ব্যয় বৃদ্ধিতে এডিবি বাংলাদেশকে অতিরিক্ত ২৫০ মিলিয়ন ডলার সহায়তা দেবে।

এডিবি আরও জানিয়েছে, বাংলাদেশের মধ্যমেয়াদি উন্নয়ন কাঠামো বাস্তবায়নে সহায়তার জন্য ২০ লাখ ডলারের কারিগরি সহায়তাও দেওয়া হবে।

৬ ঘণ্টায় কোরবানির বর্জ্য অপসারণের লক্ষ্য চসিকের, তদারকিতে থাকবেন মেয়র

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: সোমবার, ২৫ মে, ২০২৬, ৬:০৩ অপরাহ্ণ
৬ ঘণ্টায় কোরবানির বর্জ্য অপসারণের লক্ষ্য চসিকের, তদারকিতে থাকবেন মেয়র

পবিত্র ঈদুল আজহা উপলক্ষ্যে কোরবানির পশুর বর্জ্য দ্রুত অপসারণ করে নগরবাসীকে পরিচ্ছন্ন পরিবেশ উপহার দিতে কোরবানির দিন দুপুর ২টা থেকে পরবর্তী ছয় ঘণ্টার মধ্যে নগরীর সব কোরবানির বর্জ্য পরিষ্কারের লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন (চসিক)।

এ লক্ষ্য বাস্তবায়নে সোমবার (২৫ মে) টাইগারপাসে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের কার্যালয়ের কনফারেন্স রুমে কোরবানির বর্জ্য ব্যবস্থাপনা সংক্রান্ত এক প্রস্তুতি সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় চসিকের পরিচ্ছন্ন বিভাগ, যান্ত্রিক শাখা ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা অংশ নিয়ে কার্যক্রম বাস্তবায়নের বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা করেন।

সভায় চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন বলেন, ‘চট্টগ্রাম নগরীর কোরবানির বর্জ্য অপসারণ কার্যক্রম কোরবানির দিন দুপুর ২টা থেকে শুরু হবে। আমরা লক্ষ্য নির্ধারণ করেছি, পরবর্তী ছয় ঘণ্টার মধ্যেই পুরো নগরীর বর্জ্য পরিষ্কার কার্যক্রম সম্পন্ন করতে হবে। এ লক্ষ্য বাস্তবায়নে সবাইকে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে।’

তিনি আরও বলেন, ‘আমি নিজেও দুপুর ২টা থেকে নগরীর বিভিন্ন এলাকা পরিদর্শন করব। বিমান অফিসের সামনের সেকেন্ডারি ট্রান্সফার স্টেশন (এসটিএস) এলাকা থেকে এই পরিদর্শন কার্যক্রম শুরু করা হবে।’

মেয়র সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের নির্দেশনা দিয়ে বলেন, নগরবাসী যাতে প্রতিটি ওয়ার্ডে নির্ধারিত স্থানে কোরবানির পশু জবাই করেন এবং জবাই শেষে চসিকের সরবরা করা পলিথিন ব্যাগে বর্জ্য সংগ্রহ করে নির্দিষ্ট পয়েন্টে রেখে যান, সে বিষয়ে ব্যাপক সচেতনতামূলক কার্যক্রম পরিচালনা করতে হবে।

ডা. শাহাদাত হোসেন বলেন, ‘যত্রতত্র বর্জ্য পড়ে থাকলে রোগজীবাণু ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা থাকে। এজন্য পর্যাপ্ত ব্লিচিং পাউডার সরবরাহ করতে হবে এবং তা যথাযথভাবে ব্যবহার হচ্ছে কিনা তাও নিশ্চিত করতে হবে।’

সভায় মেয়র পরিচ্ছন্ন বিভাগের সুপারভাইজারসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের কোরবানির পশুর চামড়া ব্যবস্থাপনায় সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়ার নির্দেশ দেন। তিনি বলেন, ‘কোরবানির বর্জ্য ব্যবস্থাপনার অন্যতম বড় চ্যালেঞ্জ হলো চামড়া ব্যবস্থাপনা। আমরা এরইমধ্যে চামড়া ব্যবসায়ী, আড়তদার এবং সংশ্লিষ্ট সরকারি দপ্তরগুলোর সঙ্গে বৈঠক করেছি। কোরবানির চামড়া যেন যত্রতত্র পড়ে না থাকে এবং পরিবেশের বিপর্যয় সৃষ্টি না হয়, সেজন্য সংশ্লিষ্ট সবাইকে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে।’

তিনি আরও বলেন, ‘যারা চামড়া সংগ্রহ ও ব্যবসার সঙ্গে জড়িত, তাদের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখতে হবে এবং নিশ্চিত করতে হবে যাতে চামড়াগুলো যথাযথভাবে সংরক্ষণ ও ব্যবস্থাপনা করা হয়।’

সভায় বক্তব্য রাখেন চসিকের প্রধান পরিচ্ছন্ন কর্মকর্তা ক্যাপ্টেন ইখতিয়ার উদ্দিন চৌধুরী, উপ-প্রধান পরিচ্ছন্ন কর্মকর্তা প্রণব কুমার শর্মা, মশক নিয়ন্ত্রণ কর্মকর্তা শরফুল ইসলাম মাহি এবং যান্ত্রিক শাখার প্রকৌশলীরা।

সভায় জানানো হয়, ঈদের দিন দুপুর ২টা থেকে নগরীর ৪১টি ওয়ার্ডে একযোগে কোরবানির বর্জ্য অপসারণ কার্যক্রম শুরু হবে। এজন্য প্রতিটি ওয়ার্ডের জন্য পৃথক গাড়ির ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। জোন কর্মকর্তা, সুপারভাইজার ও পরিচ্ছন্নতা কর্মীদের সমন্বয়ে ওয়ার্ডভিত্তিক কার্যক্রম পরিচালিত হবে। যে তিনটি ওয়ার্ড সবচেয়ে দ্রুত ও দক্ষতার সঙ্গে বর্জ্য অপসারণ কার্যক্রম সম্পন্ন করতে পারবে, সেই সেরা তিনটি ওয়ার্ডকে আকর্ষণীয় পুরস্কার দেওয়ার ঘোষণা দেন মেয়র। তবে দ্রুততার নামে যেন পরিচ্ছন্নতায় কোনো ঘাটতি না থাকে, সেদিকেও সবাইকে সতর্ক থাকার নির্দেশনা দেন তিনি।

ঈদের দিন নগরীকে পরিচ্ছন্ন রাখতে দায়িত্ব পালনকারী পরিচ্ছন্ন কর্মীদের জন্য খাবারের ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে বলে জানান মেয়র। তিনি বলেন, পরিচ্ছন্ন কর্মীদের খাবারের মান বজায় রাখতে এবার তিনটি পৃথক গ্রুপের মাধ্যমে খাবার সরবরাহের ব্যবস্থা করা হয়েছে। সভায় পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রমকে সফল করতে প্রয়োজনীয় জনবল, যানবাহন ও সরঞ্জাম প্রস্তুত রাখার বিষয়েও বিস্তারিত আলোচনা করা হয়।

হাটের ঝামেলা এড়িয়ে এগ্রো ফার্মমুখী ক্রেতা

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: সোমবার, ২৫ মে, ২০২৬, ৪:২৬ অপরাহ্ণ
হাটের ঝামেলা এড়িয়ে এগ্রো ফার্মমুখী ক্রেতা

ক্রেতা-বিক্রেতার দর কাষাকষিতে জমে উঠছে নগরের পশুর হাটগুলো। শেষ সময়ে নিজেদের পছন্দের পশু কিনতে অনেকে যাচ্ছেন হাটে।

তবে ভিন্ন চিত্রও রয়েছে। হাটগুলোতে যখন ক্রেতা-বিক্রেতার হাক ডাকে জমজমাট, তখন এগ্রো ফার্মগুলোতে বেচাবিক্রি প্রায় শেষ।

নগরজীবনের ব্যস্ততা, হাটের ভিড় ও ঝক্কি-ঝামেলা এড়াতে নগরবাসীর বড় একটি অংশ সরাসরি এগ্রো ফার্মে গিয়ে গরু কিনছেন।

বিভিন্ন এগ্রো ফার্ম ঘুরে দেখা যায়, অনেক ফার্মেই হাতেগোনা কয়েকটি গরু অবশিষ্ট রয়েছে।

খামারিরা বলছেন, গত কয়েক বছরের তুলনায় এবার ক্রেতারা বেশ আগেভাগেই গরু কিনে নিচ্ছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছবি দেখে যোগাযোগ করলেও অধিকাংশ ক্রেতাই শেষ পর্যন্ত ফার্মে এসে সরাসরি গরু দেখে কিনছেন।

এগ্রো ফার্মগুলোর মালিকরা বলছেন, তারা অনলাইনে প্রচারণা চালালেও মূলত বিক্রি করছেন অফলাইনে। তাদের মতে, অনলাইনে গরু দেখতে এক রকম লাগলেও বাস্তবে আকার, গঠন কিংবা ওজনের পার্থক্য নিয়ে অনেক সময় ক্রেতাদের মধ্যে বিভ্রান্তি তৈরি হয়। তাই গ্রাহক সন্তুষ্টি নিশ্চিত করতে বেশিরভাগ ফার্মই ক্রেতাদের সরাসরি এসে গরু দেখে কেনার পরামর্শ দিচ্ছেন। তাছাড়া মানুষ এখন বাজারে দালাল কিংবা অতিরিক্ত ভিড়ের ঝামেলা এড়াতে পরিচিত ফার্ম থেকে গরু কিনতে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করছেন। বিশেষ করে পরিবার নিয়ে গিয়ে পছন্দ করে গরু কেনার প্রবণতা ফার্মমুখী করছে ক্রেতাদের। অনেক ফার্ম আবার নির্দিষ্ট টাকার মধ্যে প্যাকেজ সুবিধা, বাসায় পৌঁছে দেওয়া সুবিধাও দিচ্ছে।

চট্টগ্রামের অন্যতম বড় খামার নাহার এগ্রো কোরবানিকে সামনে রেখে প্রায় পাঁচশতাধিক গরু প্রস্তুত করেছিল। বর্তমানে তাদের ফার্মে অবিক্রীত রয়েছে মাত্র ১২টি গরু। বাকি সময়ে তাদের সব গরু বিক্রি হয়ে যাওয়ার আশা প্রকাশ করছেন প্রতিষ্ঠান সংশ্লিষ্টরা। একইভাবে সারাহ এগ্রোতে সাড়ে পাঁচশ গরুর বিপরীতে অবিক্রীত আছে মাত্র ১৭টি। এশিয়ান এগ্রোতেও একই চিত্র। প্রতিষ্ঠানটি কোরবানির জন্য ২৫০টি গরু প্রস্তুত করলেও কোরবানির তিনদিন আগে এসে প্রায় ৯৯ শতাংশ গরুই বিক্রি হয়ে গেছে।

সারাহ এগ্রো’র ব্যবস্থাপনা পরিচালক হালিশ চৌধুরী বলেন, গরু মোটাতাজাকরণে এবার আমাদের অনেক চ্যালেঞ্জের মধ্যে পড়তে হয়েছে। গো-খাদ্যের দাম বেড়েছে, শ্রমিক সংকট ছিল, আবার পরিবহন ব্যয়ও আগের তুলনায় অনেক বেশি। তারপরও আমরা স্বাস্থ্যসম্মত উপায়ে গরু লালন-পালনের চেষ্টা করেছি।

এশিয়ান এগ্রো’র ম্যানেজার মোহাম্মদ রায়হান বলেন, এবার গরু বিক্রিতে আমরা অনেক ভালো সাড়া পেয়েছি। ক্রেতারা আগের চেয়ে এখন বেশি সচেতন। তারা ফার্মে এসে গরুর খাবার, পরিচর্যা ও স্বাস্থ্য পরিস্থিতি দেখে কিনছেন। কোরবানির এখনও কয়েকদিন বাকি থাকলেও প্রায় সব গরু বিক্রি হয়ে গেছে।

গরু বিক্রির একই চিত্র অন্যান্য এগ্রো ফার্মগুলোতেও। সিটি এগ্রো ফার্ম নামের আরেকটি প্রতিষ্ঠানে ১৫০টি গরু মোটাতাজা করেছিল। এর মধ্যে ১৩৮টি বিক্রি হয়ে গেছে বলে জানিয়েছেন মালিক। চাটগাঁ এগ্রো ৬০টি গরু প্রস্তুত করলেও বর্তমানে খামারটিতে অবশিষ্ট আছে মাত্র ১৫টি গরু। স্টার এগ্রো নামের প্রতিষ্ঠানে সবকটি গরুই ইতোমধ্যে বিক্রি হয়ে গেছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

সিটি এগ্রো’র মালিক এনামুল হক জানান, গো-খাদ্যের দাম প্রায় ১০ শতাংশ বেড়ে গেছে। ভুসি, খড়, ভুট্টাসহ প্রায় সব ধরনের খাদ্যের দাম বেশি ছিল। এতে উৎপাদন খরচ অনেক বেড়েছে। তারপরও আমরা চেষ্টা করেছি ক্রেতাদের সাধ্যের মধ্যে গরু দিতে।

স্টার এগ্রো’র মালিক মো. জায়েদ হাসান বলেন, আমাদের বেশিরভাগ গ্রাহক ব্যবসায়ী, চাকরিজীবী ও উচ্চবিত্ত পরিবারের। তারা সাধারণত সময় বাঁচাতে এবং ঝামেলা এড়াতে ফার্ম থেকে গরু কিনে থাকেন। অনেক পুরোনো গ্রাহকও প্রতিবছর আমাদের কাছ থেকে গরু নেন।

এগ্রো ফার্ম থেকে গরু কিনে স্বস্তি প্রকাশ করছেন ক্রেতারাও। নগরীর একটি বেসরকারি ব্যাংকের কর্মকর্তা মো. ফোরকান। তিনি গত কয়েক বছর ধরে গরু কেনেন এগ্রো ফার্ম থেকে। তিনি বলেন, আমি মূলত সময় ও ঝামেলা এড়াতেই এগ্রো ফার্ম থেকে গরু কিনি। পশুর হাটে গেলে অনেক ভিড় থাকে, দরদাম নিয়েও ঝামেলা হয়। আবার ভালো গরু চিনতেও সমস্যা হয়। কিন্তু এগ্রো ফার্মে এসে শান্ত পরিবেশে গরু দেখা যায়, পরিচর্যার বিষয়টাও বোঝা যায়। তাই কয়েক বছর ধরেই আমি ফার্ম থেকেই কোরবানির গরু কিনছি।

এগ্রো ফার্ম থেকে গরু কেনা আজিজুল হক নামের এক ব্যবসায়ী জানান, আগে প্রতি বছর পশুর হাটে গিয়ে গরু কিনতাম। কিন্তু এখন হাটে অতিরিক্ত ভিড়, যানজট ও সময়ের চাপের কারণে এগ্রো ফার্ম থেকেই গরু কিনছি। এখানে গরুর খাবার, পরিচর্যার ধরন সরাসরি দেখা যায়। দরদামও তুলনামূলক স্বচ্ছ থাকে, তাই পরিবার নিয়েই ফার্মে এসে গরু পছন্দ করেছি।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এগ্রো ফার্ম থেকে গরু সংগ্রহের প্রবণতা বাড়লেও কোরবানির পশুর হাটের আবেদন এখনো অনেক বেশি। বিশেষ করে মধ্যবিত্ত ও সাধারণ ক্রেতাদের বড় একটি অংশ এখনো হাট থেকেই গরু কিনতে বেশি স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেন। অন্যদিকে এগ্রো ফার্মের ক্রেতাদের বড় অংশই উচ্চবিত্ত, ব্যবসায়ী কিংবা এমন মানুষ, যারা কোরবানির গরু কেনার ঝক্কি-ঝামেলা এড়াতে চান।

চট্টগ্রাম জেলা প্রাণিসম্পদ কার্যালয়ের তথ্যমতে, চলতি বছর জেলায় কোরবানির জন্য স্থানীয়ভাবে মোট ৭ লাখ ৮৩ হাজার ১৫১টি গবাদিপশু প্রস্তুত করা হয়েছে। এর মধ্যে গরু রয়েছে ৪ লাখ ৯৯ হাজার ২৭৯টি, ছাগল ১ লাখ ৯৪ হাজার ৫১৯টি, মহিষ ৪৭ হাজার ৮৩৪টি এবং ভেড়া ৪১ হাজার ৪২৩টি। জেলায় মোট চাহিদা ধরা হয়েছে ৮ লাখ ১৮ হাজার ৬৭১টি পশু।