খুঁজুন
সোমবার, ২৫শে মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ১১ই জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

মেয়র নির্বাচিত হলে চট্টগ্রামকে বিশ্বের অন্যতম পর্যটন নগরী হিসেবে গড়ে তুলবো- ডা. শাহাদাত

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ১২ মার্চ, ২০২০, ৪:৩৪ অপরাহ্ণ
মেয়র নির্বাচিত হলে চট্টগ্রামকে বিশ্বের অন্যতম পর্যটন নগরী হিসেবে গড়ে তুলবো- ডা. শাহাদাত

ভোট চাওয়ার পাশাপাশি করোনা ভাইরাস প্রতিরোধে সচেতনতামূলক প্রচারণা চালিয়েছেন চসিক নির্বাচনে বিএনপির মেয়র প্রার্থী ডা. শাহাদাত হোসেন।

তিনি বলেছেন, দেশের বর্তমান তাপমাত্রায় করোনা ভাইরাস তেমন প্রভাব ফেলবে না। তবুও আমাদের সচেতন থাকতে হবে।

আজ বৃহস্পতিবার (১২ মার্চ) সকাল সাড়ে ১০টায় নগরীর ১৩ নম্বর পাহাড়তলী ওয়ার্ডে গণসংযোগকালে তিনি এ প্রচারণা চালান।

বিএনপি’র ভাইস চেয়ারম্যান আব্দুল্লাহ আল নোমান কে সাথে নিয়ে জালালাবাদ হাউজিং সোসাইটি টাওয়ারের মোড়ে থেকে গণসংযোগ শুরু করে মুরগি ফার্ম, ওয়ারলেস, পাহাড়তলী কলেজ, ঝাউতলা কোলোনি, ঝাউতলা বাজার, সর্দার নগর, আম বাগান, ভাঙ্গাপুল, বাস্তুহারা, ওয়ার্কশপ গেইট হয়ে রেলওয়ে স্কুলে এসে শেষ করেন।

এ সময় ডা. শাহাদাত হোসেন বলেন, দুর্নীতিমুক্ত একটি সুন্দর সমাজ গড়ার প্রত্যয় নিয়ে চসিক নির্বাচনে অংশ নিয়েছি। চট্টগ্রামকে একটি স্বাস্থ্যসম্মত, নিরাপদ, সাম্য ও সম্প্রীতির শহরে পরিণত করতে চাই। একটি আইটি প্রযুক্তি সমৃদ্ধ স্মার্ট, আধুনিক, পরিচ্ছন্ন ও পরিবেশ বান্ধব শহর গড়ার জন্য নির্বাচনী মাঠে নেমেছি। মেয়র নির্বাচিত হলে চট্টগ্রামকে বিশ্বের অন্যতম পর্যটন নগরী হিসেবে গড়ে তুলবো।

তিনি বলেন, গতবছর চট্টগ্রামে ডেঙ্গু রোগের প্রকোপ বেড়ে গেলে আমি একজন চিকিৎসক হিসেবে আমার তৈরি করা ক্লোরিন সলিউশন বানিয়ে ডেঙ্গু ভাইরাসের বিরুদ্ধে গণসচেতনতা তৈরি করেছিলাম।বাংলাদেশের জন্য এটা একটা উদাহরণ ছিল। প্রতিটি জায়গায় ব্লিচিং পাউডারের সাথে পানির মিশ্রণ করে সারা চট্টগ্রাম শহরে ছিটিয়েছি। যেটা পরে সিটি কর্পোরেশন অনুসরণ করেছে। ডেঙ্গ প্রতিরোধে বিএনপি যেভাবে গণসচেতনতা তৈরি করেছে করোনা ভাইরাস প্রতিরোধেও মানুষের মাঝে সচেতনতা তৈরি করছে। আমি মেয়র নির্বাচিত হলে আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করে ডেঙ্গু মশা এবং মশক নিধনে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করবো।

নির্বাচনী প্রচারনায় বক্তব্য রাখছেন বিএনপির সহ-সভাপতি আবদুল্লাহ আল নোমান

তিনি বলেন,চসিক নির্বাচনে আমরা জয়ের জন্য মাঠে নেমেছি।জয়ের মাধ্যমে দেশমাতা বেগম খালেদা জিয়াকে মুক্ত করবো। তাই প্রতিটি কেন্দ্রে আপনাদেরকে ভ্যানগার্র্ডের ভূমিকা পালন করতে হবে।চট্টগ্রামের মানুষ অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছে আমাদেরকে বিজয়ের মালা পরিয়ে দেওয়ার জন্য। আমি ২০% লোকের মেয়র হতে চাই না, ৮০% মানুষের মেয়র হতে চাই। আমি নগর পিতা নই,নগর বাসীর সেবক হতে চাই। জনগনকে ভোটকেন্দ্রে আসতে উৎসাহিত করুন। জনগণের পবিত্র আমানত রক্ষার জন্য ভোট কেন্দ্রে গিয়ে ভোটাধিকার নিশ্চিত করুন। ইনশাল্লাহ জয় আমাদের সুনিশ্চিত।

এ সময় বিএনপি’র ভাইস চেয়ারম্যান আব্দুল্লাহ আল নোমান বলেন,চট্টগ্রামে ধানের শীষের পক্ষে গণজোয়ার সৃষ্টি হয়েছে। সিটি করপোরেশন নির্বাচনে জয়ের জন্য মাঠে নেমেছে বিএনপি। বিএনপি’র নেতা-কর্মীরা সবাই ঐক্যবদ্ধ।

সরকারের সকল অপকর্মের জবাব দিতে সবাই এখন সোচ্চার। বিএনপি’র মেয়র প্রার্থী ডাক্তার শাহাদাত হোসেন একজন সৎ ও যোগ্য ব্যক্তি।একজন পেশাজীবী হিসেবে তিনি সকলের কাছে পরিচিত।তাই ভয়কে জয় করে প্রতিটি ভোট কেন্দ্র পাহারা দিয়ে তাকে বিজয়ী করতে হবে।তিনি ডা. শাহাদাত হোসেনকে ধানের শীষে ভোট দিয়ে জয় যুক্ত করার আহবান জানান।

তিনি বলেন, বিএনপি ক্ষমতায় থাকা কালে ১৭ টি পয়েন্টের উপর ভিক্তি করে লালদিঘীর মাঠে বেগম খালেদা জিয়া চট্টগ্রামকে বাণিজ্যিক রাজধানী করার ঘোষণা দিয়েছিলেন।এখন নিবার্চনে এসে আওয়ামীলীগের মেয়র প্রার্থী রেজাউল করিম চৌধূরী আমাদেরকে বাণিজ্যিক রাজধানী করার স্বপ্ন দেখাচ্ছে।এটা একধরনের বিভ্রান্তিকর।এসব বক্তব্য চট্টগ্রাম বাসীর সাথে প্রতারণার সামিল।

এসময় চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপি’র সাধারণ সম্পাদক আবুল হাশেম বক্কর, সিনিয়র সহ-সভাপতি আবু সুফিয়ান, চাকসু ভিপি নাজিম উদ্দিন, চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির সহ-সভাপতি এস কে হুদা তোতন, শফিকুর রহমান স্বপন, যুগ্ম সম্পাদক ১৩নং পাহাড়তলী ওয়ার্ডের কাউন্সিলর প্রার্থী জাহাঙ্গীর আলম দুলাল, আহমেদুল আলম চৌধুরী রাসেল, গাজী মোহাম্মদ সিরাজ উল্লাহ, সাংগঠনিক সম্পাদক কামরুল ইসলাম, ফাতেমা বাদশা, আব্দুল হালিম স্বপন, জেলী চৌধুরী, এম আর মঞ্জু,মহিলা কাউন্সিলর প্রার্থী ছকিনা বেগম, ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি জাহিদ মাস্টার, সাধারণ সম্পাদক এস এম আজাদ, নগর যুবদল নেতা আব্দুল হামিদ পিন্টু, আমান উল্লাহ আমান, তানভীর মল্লিক, হাসান আল মামুন, জিয়াউর রহমান জিয়া, হেলাল হোসেন, বাদশা আলমগীর, মনিরুল ইসলাম মনির, মোঃ শাহাবুদ্দিন, মোহাম্মদ জসিম উদ্দিন, মোহাম্মদ কামাল, মোহাম্মদ সরোয়ার, মোহাম্মদ মিল্টন প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

Feb2

ঝিনাইদহে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর উপর ডিম নিক্ষেপ ও হামলা

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: শুক্রবার, ২২ মে, ২০২৬, ৩:৪৯ অপরাহ্ণ
ঝিনাইদহে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর উপর ডিম নিক্ষেপ ও হামলা

ঝিনাইদহে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখ্য সংগঠক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর ওপর ডিম নিক্ষেপ ও অতর্কিত হামলার ঘটনা ঘটেছে। ছাত্রদলের নেতা-কর্মীদের বিরুদ্ধে এ অভিযোগ উঠেছে। এসময় ছাত্রদলের হামলায় নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর সঙ্গে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের তিন নেতা-কর্মী আহত হন।

আজ শুক্রবার (২২ মে) দুপুর ২টার দিকে শহরের পুরাতন কালেক্টরেট মসজিদের সামনে এই ঘটনাটি ঘটে।

প্রত্যক্ষদর্শীদের সূত্রে জানা যায়, শুক্রবার জুমার নামাজ আদায় শেষে মসজিদ থেকে বের হচ্ছিলেন নাসির উদ্দিন পাটোয়ারী। এ সময় ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের আহ্বায়ক সাহেদ আহম্মেদ তাঁর সঙ্গে কথা বলতে এগিয়ে যান।

তাদের মধ্যে কথা বলার এক পর্যায়ে হঠাৎ পেছন থেকে কয়েকজন যুবক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর ওপর ডিম নিক্ষেপ করে এবং অতর্কিত হামলা চালায়। এই হামলায় এনসিপির স্থানীয় কয়েকজন যুবক আহত হয়েছেন।

ভুক্তভোগী নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক আইডি থেকে এক পোস্টে হামলার বিস্তারিত জানান। তিনি অভিযোগ করেন, পূর্বনির্ধারিত কর্মসূচি অনুযায়ী জুমার নামাজ আদায় করে মসজিদ থেকে বের হওয়ার পরপরই পুলিশের উপস্থিতিতেই ছাত্রদল ও যুবদলের নেতাকর্মীরা এই হামলা চালায়।

নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী পোস্টে লেখেন, “প্রথমে ডিম, ইট-পাটকেল নিক্ষেপ করা হয়, এরপর হকিস্টিক দিয়ে অতর্কিতভাবে আঘাত করা হয়। তিনজনের মাথা ফাটিয়ে দেওয়া হয় এবং বেশ কয়েকজন আহত হন। আমাকে লক্ষ্য করেও কিল-ঘুষি মারা হয়।”

তিনি আরও অভিযোগ করেন, হামলাকারীরা এ সময় তাদের মোবাইল ফোন, ক্যামেরা এবং মানিব্যাগ ছিনিয়ে নেয়। ঘটনার পর তারা থানায় অবস্থান নিয়ে মামলা দায়েরের প্রস্তুতি নিচ্ছেন বলেও জানান। একই সাথে ছাত্রদল, যুবদল ও বিএনপি থানার সামনে আবারও হামলার প্রস্তুতি নিচ্ছে বলে তিনি ফেসবুক পোস্টে দাবি করেন।

এই ঘটনার পর এনসিপির নেতাকর্মীরা তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে এলাকায় বিক্ষোভ মিছিল করেছেন। বিক্ষোভ থেকে তারা স্বরাষ্ট্র ও আইনমন্ত্রীর পদত্যাগ দাবি করেন এবং হামলায় জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় আনার জোর দাবি জানান।

 

চট্টগ্রামে তিন বছরের শিশুকে ধর্ষণের ঘটনায় মামলা

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: শুক্রবার, ২২ মে, ২০২৬, ২:৪৮ অপরাহ্ণ
চট্টগ্রামে তিন বছরের শিশুকে ধর্ষণের ঘটনায় মামলা

চট্টগ্রামের বাকলিয়ায় তিন বছরের এক শিশুকে ধর্ষণের ঘটনায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। আজ (শুক্রবার) দুপুরে মামলার বিষয়টি নিশ্চিত করেন বাকলিয়া থানার এক কর্মকর্তা।

তিনি বলেন, ভুক্তভোগী শিশুর পিতা বাদী হয়ে মামলা দায়ের করেছেন। মামলায় গ্রেপ্তার মনিরকে আসামি করা হয়েছে।

স্থানীয় সূত্র জানায়, বাকলিয়ার চেয়ারম্যানঘাটা এলাকায় তিন বছর বয়সী এক শিশু নিখোঁজ হওয়ার পর বৃহস্পতিবার বিকেলে তাকে উদ্ধার করা হয়। উদ্ধারের পর শিশুটির শারীরিক অবস্থা দেখে স্বজন ও স্থানীয়দের সন্দেহ হয়, সে যৌন নিপীড়নের শিকার হয়েছে। খবরটি এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে বিকেলের দিকে রাস্তায় নেমে আসেন স্থানীয়রা।

স্থানীয়দের দাবি, অভিযুক্ত যুবকের নাম মনির। তিনি স্থানীয় একটি ডেকোরেশন দোকানে কাজ করেন। তাদের অভিযোগ, মনির তাদের কাছে নিজের অপরাধ স্বীকারও করেছেন।

অভিযুক্ত মনির নিজের অপরাধ স্বীকার করেছেন বলে একটি তথ্য ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়লেও এর সত্যতা সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

গতকাল বিকেল ৪টার দিকে স্থানীয়রা অভিযুক্তের অবস্থান নিশ্চিত করে ‘বিসমিল্লাহ ম্যানশন’ নামের একটি ভবন ঘেরাও করে রাখেন। একপর্যায়ে ভবনটির কলাপসিবল গেট ভেঙে ফেলার চেষ্টাও করা হয়।

খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে শিশুটিকে পরীক্ষার জন্য হাসপাতালে পাঠায়। অন্যদিকে অভিযুক্তকে আটক করে নিয়ে যাওয়ার সময় বিক্ষুব্ধ জনতা পথ আটকে দেয় এবং তাকে নিজেদের হাতে তুলে দেওয়ার দাবি জানায়। বিকেল সাড়ে চারটা থেকে পুলিশকে অবরুদ্ধ করে রাখে স্থানীয়রা। এরপর রাত আটটার দিকে পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে টিয়ারগ্যাস ও সাউন্ড গ্রেনেড নিক্ষেপ করে।

এসময় পুলিশকে লক্ষ্য করে ইটপাটকেল ছোড়েন স্থানীয়রা। এতে পুরো এলাকা রণক্ষেত্রে পরিণত হয়। স্থানীয়দের বাধার মুখে তখন পুলিশ অভিযুক্ত নিয়ে যেতে পারেনি।

পরে রাত ১১টা সময় দিকে জনবল বাড়ায় পুলিশ। পরে বিদ্যুৎ বন্ধ করে অভিযুক্তকে পুলিশের পোশাক পরিয়ে থানায় নিয়ে যাওয়া হয়। এ সময় ফাঁকা গুলি, টিয়ারগ্যাস ও সাউন্ড গ্রেনেড নিক্ষেপ করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করে পুলিশ। এসময় স্থানীয়রা পুলিশের একটি গাড়িতে আগুন দেয়। এতে দফায় দফায় সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।

রামিসার বাসার সামনে বিক্ষোভ, কুলখানির জন্য ঢাকা ছাড়লেন বাবা-মা

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: শুক্রবার, ২২ মে, ২০২৬, ২:৩২ অপরাহ্ণ
রামিসার বাসার সামনে বিক্ষোভ, কুলখানির জন্য ঢাকা ছাড়লেন বাবা-মা

রাজধানীর পল্লবীতে ধর্ষণের পর নৃশংস হত্যার শিকার আট বছরের শিশু রামিসা আক্তারের মৃত্যুর ঘটনায় এখনও থামেনি মানুষের ক্ষোভ আর কান্না।

শুক্রবার (২২ মে) সকাল থেকেই পল্লবীর সেকশন-১১ এলাকায় রামিসাদের বাসার সামনে জড়ো হতে থাকেন বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ। ছোট-ছোট সামাজিক ও স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের ব্যানারে মানববন্ধন, বিক্ষোভ ও প্রতিবাদ কর্মসূচি পালন করতে দেখা যায় স্থানীয়দের।

সেখানে গিয়ে দেখা যায়, বেলা ১১টার পর থেকে রামিসাদের বাসার সামনের গলিতে একে একে জড়ো হন নারী-পুরুষসহ বিভিন্ন বয়সী মানুষ। অনেকের হাতে ছিল ‘রামিসার হত্যাকারীর ফাঁসি চাই’, ‘শিশু ধর্ষণ ও হত্যার বিচার চাই’ লেখা প্ল্যাকার্ড।

এসময় এলাকাজুড়ে ছিল থমথমে পরিবেশ। স্থানীয়দের অনেকেই ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, এমন নির্মম হত্যাকাণ্ডের দৃষ্টান্তমূলক বিচার না হলে সমাজে শিশুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত হবে না।

একটি মানববন্ধনে অংশ নেওয়া লামিয়া খানম নামে এক নারী বলেন, আমরা নিজের সন্তানদের নিয়েই এখন আতঙ্কে আছি। একটা শিশুকে এত নির্মমভাবে হত্যা কোনো মানুষ করতে পারে না।

এদিকে সন্তান হারানোর শোকে এখনও প্রায় নির্বাক রামিসার মা-বাবা। শুক্রবার (আজ) দুপুর ১২টার দিকে মেয়ের কুলখানি ও মিলাদে অংশ নিতে মুন্সীগঞ্জের সিরাজদিখানের উদ্দেশে ঢাকা ছাড়েন তারা। যাওয়ার আগে বাসার সামনে জড়ো হওয়া মানুষদের কান্না আর সান্ত্বনার শব্দে ভারী হয়ে ওঠে পরিবেশ।

পরিবারের স্বজনরা জানান, বৃহস্পতিবার (২১ মে) রাতে সিরাজদিখানে পারিবারিক কবরস্থানে দাফনের সময় পুরো এলাকায় শোকের ছায়া নেমে আসে। রামিসার মা এখনও মেয়ের জামাকাপড় ও ব্যবহৃত জিনিসপত্র বুকে জড়িয়ে কাঁদছেন। আর বাবা আব্দুল হান্নান মোল্লা বারবার মেয়ের শেষ আবদারের কথা মনে করে ভেঙে পড়ছেন। দুই দিন আগে মেয়ের জন্য একটি বোরকা কিনে এনেছিলেন তিনি। কিন্তু সেই বোরকা আর পরা হয়নি রামিসার।

গত মঙ্গলবার সকালে পল্লবীর সেকশন-১১ এলাকায় নিজ বাসার পাশ থেকে নিখোঁজ হয় দ্বিতীয় শ্রেণির ছাত্রী রামিসা। পরে প্রতিবেশী সোহেল রানার ফ্ল্যাট থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় শিশুটির বাবা পল্লবী থানায় মামলা করেন।

পুলিশ জানায়, প্রধান অভিযুক্ত সোহেল রানা শিশুটিকে ধর্ষণের পর হত্যা করে মরদেহ গোপনের চেষ্টা করেন। ঘটনার পর নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। আদালতে তিনি হত্যার দায় স্বীকার করে জবানবন্দিও দিয়েছেন। এ ঘটনায় সোহেলের স্ত্রী স্বপ্না আক্তারকেও গ্রেপ্তার করে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।