খুঁজুন
, ,

সেবক হিসেবে সেবা করার সুযোগ দিন:রেজাউল করিম

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Saturday, 7 March, 2020, 10:19 pm
সেবক হিসেবে সেবা করার সুযোগ দিন:রেজাউল করিম

চট্টগ্রামবাসীর সেবক হিসেবে সেবা করতে সুযোগ চেয়েছেন চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন নির্বাচনে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ মনোনীত মেয়র পদপ্রার্থী এম. রেজাউল করিম চৌধুরী।

তিনি বলেন, বঙ্গবন্ধু কন্যা মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আমার উপর যে আস্থা রেখেছেন সেটাকে কাজে লাগিয়ে চট্টগ্রামে চলমান উন্নয়নকে আরো বেগবান করবো। আল্লাহ আমাকে একটা সুযোগ এনে দিয়েছেন, আপনাদের সহযোগিতা পেলে আমি কামিয়াব হবো বলে আশা করি।

আজ (৭ মার্চ) শনিবার সকালে নগরীর চান্দগাঁও থানার ওয়াছিয়া আহমাদিয়া সুন্নীয়া এতিমখানা ও মাদ্রাসার অভিভাবক সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে মাদ্রাসার ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি ও আওয়ামী লীগের মেয়র প্রার্থী এম. রেজাউল করিম চৌধুরী এসব কথা বলেন।

তিনি আরো বলেন, এক সময় চান্দগাঁও থানাসহ সব বৃহত্তর বাকলিয়া ছিল। এখন বিভক্ত হলেও আমরা সবাই বৃহত্তর বাকলিয়ার সন্তান। একটি ঘরে পাঁচজন ভাই থাকলে যেমন পাঁচ মতাদর্শে থাকতে পারে, আমাদের বাকলিয়াতেও অনেক ভাই ভিন্ন মতাদর্শে থাকতে পারে। কিন্তু পাঁচ ভাই যেমন ঘরে এসে এক সাথে বসে, তেমনিভাবে আমি আপনাদের ভাই, বন্ধু হিসাবে আমাকে একবার সেবক হিসেবে আপনাদের সেবা করার সুযোগ দিন। তাহলে সকলের মতামতের ভিত্তিতে একটি পরিকল্পিত আধুনিক চট্টগ্রাম গড়ে তুলবো।

তিনি বলেন, মৃত্যুর পর কেউ কিছু নিয়ে যেতে পারব না, আমাদের সাথে যাবে আমাদের ভালো কাজ। এ মাদ্রাসায় এতিম যেসব শিক্ষার্থী আছে, তাদের এলাকাবাসীকে দেখতে হবে। এদের কারো মা নেই, কারো বাবা নাই। এদের পাশে দাঁড়ালে সেটা হবে ছদকায়ে জারিয়া। এ কাজগুলো মৃত্যুর পর আমাদের সাথে যাবে।

মাদ্রাসার অধ্যক্ষ ছৈয়দ মুহাম্মদ আবু ছালেহের সভাপতিত্বে উপাধ্যক্ষ কাজী মফিজুর রহমানের সঞ্চালনায় অতিথি ছিলেন ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতি এম শামসুল আলম, ৬ নং পূর্ব ষোলশহর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর লায়ন এম আশরাফুল আলম।

এসময় উপস্থিত ছিলেন মাদ্রাসা পরিচালনা কমিটির আবদুর রশিদ ডিলার, মুসা সওদাগর, আবুল বশর সওদাগর, বদরুল আলম, আবু তাহের, শিক্ষক আবু তৈয়ব, রেজাউল করিম, আমিরুল ইসলাম, মুনিরুল হাসান, ইফফাৎ জাহান, চেমন আরা বেগম,আবদুল করিম, আবুল হোসাইন, নজরুল ইসলাম, হাসান ইমাম, আবদুল বারী, হাফেজ নুরুল আলম, মুহাম্মদ আবদুল্লাহ প্রমুখ।

অসুস্থ প্রবীণ আ’লীগ নেতাকে দেখতে গেলেন মেয়র প্রার্থী রেজাউল করিম

অসুস্থ প্রবীণ আওয়ামীলীগ নেতা, বঙ্গবন্ধুর স্লেহভাজন ফকির মোহাম্মদ চৌধুরী (ফকির সওদাগর) কে দেখতে যান রেজাউল করিম চৌধুরী। শনিবার (৭ মার্চ ) নগরীর ১৯নং দক্ষিণ বাকলিয়ার বলিরহাটস্থ ফকির সওদাগরের নিজ বাসভবনে যান।

অসুস্থ প্রবীণ আ’লীগ নেতাকে দেখতে গেলেন মেয়রপ্রার্থী রেজাউল করিম।

এসময় রেজাউল করিম চৌধুরীকে কাছে পেয়ে আবেগ আপ্লুত হয়ে পড়েন প্রবীণ এ আওয়ামীলীগ নেতা। রেজাউল করিম চৌধুরী দ্রুত তার আরোগ্য কামনা করে দোয়া করেছেন।

এসময় উপস্থিত ছিলেন বাকলিয়া থানা আওয়ামীলীগের সদস্য মো. মুসা, পূর্ব ষোলশহর ওয়ার্ড আওয়ামীলীগের সভাপতি মো. সামশুল আলম, সাধারণ সম্পাদক কাউন্সিলর এম আশরাফুল আলম, দক্ষিণ বাকলিয়া ওয়ার্ড আওয়ামীলীগের যুগ্ম সম্পাদক জসিম উদ্দীন, মো, তছকির, ইউনিট আওয়ামীলীগের যুগ্ম সম্পাদক সরওয়ার উদ্দীন, মো. মাসুদ, চান্দঁগাও থানা ছাত্রলীগের সহসভাপতি আবদুল্লাহ আল হাসান হিমেল , ওয়ার্ড ছাত্রলীগের সভাপতি মো. ফারুক, শাহজাহান, কামাল উদ্দীন, মো. হাশেম ও মো. কাশেম প্রমুখ।

সুখে দুখে পাশে থাকার অঙ্গীকার রেজাউল করিমের

আজ শনিবার (৭ মার্চ) নগরীর খুলশী কলোনীস্থ নগরে বসবাসরত অবাঙালী বিহারদের প্রতিনিধি দলের সাথে মতবিনিময়কালে প্রধান অতিথির বক্তব্যে মেয়র প্রার্থী রেজাউল করিম চৌধুরী বলেন, সুখে দুঃখে আগে যেভাবে আপনাদের পাশে ছিলাম, আগামীতে আরো বেশি পাশে পাবেন। সকল ধর্মের, সকল মতের মানুষের বসবাস এ চট্টগ্রামে। এ নগরীর সকল মানুষকে সাথে নিয়ে পরিকল্পিত বাসযোগ্য চট্টগ্রাম গড়ে তোলা আমার লক্ষ্য। তাই সকল ভেদাভেদ ভুলে উন্নয়নের স্বার্থে চট্টগ্রামের স্বার্থে আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থীকে বিজয়ী করার আহবান জানিয়েছেন তিনি।

অবাঙালী বিহারদের প্রতিনিধি দলের সাথে মতবিনিময় করছেন রেজাউল করিম চৌধুরী।

এসময় তিনি আরো বলেন, চট্টগ্রামে প্রায় ৬০ হাজার ভোটার রয়েছে। যারা স্বাধীনতার পর থেকে চট্টগ্রামে বসবাস করে আসছে। আমাদেও বাঙালীদের মতো তারাও আমাদের দেশ ও সমাজের উন্নয়নে কাজ করছে। অনেকে উচ্চ শিক্ষা গ্রহন করে প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষায় শিক্ষিত এখন। আমরা সবাই এ চট্টগ্রামের মানুষ। এ নগরকে কিভাবে নিরাপদ, বাসযোগ্য ও একটি আধুনিক নগর হিসাবে গড়ে তোলা যায়, সেটা সমাজের প্রতিটি স্তরের মানুষের মতামত ও অংশগ্রহনের মাধ্যমে নিশ্চিত করা হবে। চট্টগ্রামে যে উন্নয়নযজ্ঞ চলছে এটা ধারাবাহিকতার জন্য সকলকে এগিয়ে আসার জন্য আহবান জানান তিনি।

অবাঙালীদের সংগঠন এসপিজিআরসি’র জোনাল সাধারণ সম্পাদক সোহেল খাঁনের সভাপতিত্বে মতবিনিময়কালে উপস্থিত ছিলেন ৮নং শুলকবহর ওয়ার্ডেও কাউন্সিলর প্রার্থী মো. মোরশেদ আলম, এসপিজিআরসির জোনালের যুগ্ম সম্পাদক সোহেল আশরাফী, এসবি নগর শাখার যুগ্ম সম্পাদক আজগর আলী, রৌফাবাদ শাখার সাধারণ সম্পাদক আজিজ রায়হান, এসবি নগর শাখার সভাপতি কাইয়ুম সাহেব, ফিরোজশাহ কলোনীর সভাপতি মো. ইকবাল, সাব্বির হান্নান, মোতালেব সরকার প্রমুখ।

ইসকন বিভাগীয় মন্দির পরিদর্শন :

নগরীর নন্দনকাননস্থ আন্তর্জাতিক কৃষ্ণ ভাবনামৃত সংঘ (ইসকন) চট্টগ্রাম বিভাগীয় প্রধান কার্য্যলয় ও শ্রী শ্রী রাধা মধাব মন্দিও এবং শ্রী শ্রী গৌর নিতাই আশ্রম পরিদর্মন করেছেন রেজাউল করিম চৌধুরী।

শনিবার (৭ মার্চ ) সন্ধ্যায় মন্দির পরিদর্শনে গেলে জোউল করিম চৌধুরীকে স্বাগত জানান মন্দির অধ্যক্ষ পণ্ডিত গদাধর দাস ব্রক্ষচারী, যুগ্ম সম্পাদক মুকুন্দ ভক্তি দাস।

এসময় রেজাউল করিম চৌধুরী বলেন, ধর্ম মানুষকে পবিত্র করে। কোন ধর্ম হানাহানি, মারামারি করার জন্য নির্দেশ দেয়নি। ধর্ম যার যার , রাষ্ট্র সবার। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশ বিনির্মাণে ধর্মীয় গুরুদের আন্তরিকভাবে কাজ করার জন্য আহবান জানান।

এসময় উপস্থিত ছিলেন শিক্ষাবিদ অধ্যাপক ড. মাসুম চৌধুরী, সুবল সখা দাস ব্রক্ষচারী, সুমন চৌধুরী, অপূর্ব মনোহর দাস ব্রক্ষচারী, তারা নিত্যনান্দ দাস ব্রক্ষচারী উপস্থিত ছিলেন।

Feb2
Feb2

প্রধানমন্ত্রীর উপস্থিতিতে শপথ নিলেন সারোয়ার আলমগীর

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Thursday, 9 July, 2026, 11:28 pm
প্রধানমন্ত্রীর উপস্থিতিতে শপথ নিলেন সারোয়ার আলমগীর

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের উপস্থিতিতে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের নির্বাচিত সংসদ সদস্য সারোয়ার আলমগীরের শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়েছে। অনুষ্ঠানে নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যকে শপথ বাক্য পাঠ করান বাংলাদেশ জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ।

বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) সন্ধ্যা সোয়া ৭টায় জাতীয় সংসদের স্পিকারের কার্যালয়ে এ শপথ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।

সংসদ সচিবালয়ের সচিব ব্যারিস্টার মো. গোলাম সরওয়ার ভুঁইয়ার সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। সংবিধানের ১৪৮ অনুচ্ছেদের তৃতীয় তফসিল এবং জাতীয় সংসদের কার্যপ্রণালি বিধি-৫ এর আলোকে এই শপথ বাক্য পাঠ করানো হয়। শপথ গ্রহণ শেষে নতুন সংসদ সদস্য প্রচলিত রীতি অনুযায়ী সংসদ সচিবের কক্ষে রক্ষিত শপথ বইয়ে স্বাক্ষর করেন।

শপথ অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন সরকারের স্থানীয় সরকার মন্ত্রী, অর্থমন্ত্রী, জাতীয় সংসদের ডেপুটি স্পিকার, চিফ হুইপ ও অন্যান্য হুইপরা। এছাড়া বেশ কয়েকজন সংসদ সদস্য এবং সংসদ সচিবালয়ের সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা এ সময় উপস্থিত থেকে নবনির্বাচিত এমপিকে অভিনন্দন জানান।

যুগ্ম-সচিব পদে ১৭৯ কর্মকর্তার পদোন্নতি

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Thursday, 9 July, 2026, 10:31 pm
যুগ্ম-সচিব পদে ১৭৯ কর্মকর্তার পদোন্নতি

১৭৯ জন উপসচিবকে যুগ্ম-সচিব পদে পদোন্নতি দিয়েছে সরকার। বিএনপি সরকার গঠন করার পর প্রশাসনে এটিই প্রথম বড় পদোন্নতি।

বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে থেকে এ সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছে।

পদোন্নতি পাওয়া কর্মকর্তাদের জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের বিশেষ ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওএসডি) করা হয়েছে। তবে নতুন যুগ্ম-সচিবদের পদায়ন করে আদেশ জারি করা হয়নি।

প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, যুগ্ম-সচিব পদে পদোন্নতিপ্রাপ্ত কর্মকর্তারা তাদের যোগদানপত্র সরাসরি জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব বরাবর বা অনলাইনে ই-মেইলে (sa1@mopa.gov.bd) পাঠাতে পারবেন।

পদোন্নতির আদেশে উল্লেখিত কর্মস্থল থেকে কোনো কর্মকর্তার দপ্তর/কর্মস্থল ইতোমধ্যে পরিবর্তন হলে কর্মরত দপ্তরের নাম ঠিকানা উল্লেখ করে যোগদানপত্র দাখিল করবেন।

পরবর্তী সময়ে কোনো কর্মকর্তার বিরুদ্ধে কোনরকম বিরূপ/ভিন্নরূপ তথ্য পাওয়া গেলে, তার ক্ষেত্রে এই আদেশের প্রয়োজনীয় সংশোধন/বাতিল করার অধিকার কর্তৃপক্ষ সংরক্ষণ করে বলে প্রজ্ঞাপনে জানানো হয়েছে।

অন্যদিকে পৃথক প্রজ্ঞাপনে আরও ৭ জনকে যুগ্ম-সচিব পদে পদোন্নতি দেওয়া হয়েছে। এ নিয়ে একদিনে মোট ১৭৯ জন এ পদে পদোন্নতি দেওয়া হলো।

বর্তমানে প্রশাসনে যুগ্ম-সচিবের সংখ্যা হলো এক হাজার ৬১ জন। এ পদোন্নতির মূল বিবেচ্য ছিল বাংলাদেশ সিভিল সার্ভিস (বিসিএস) প্রশাসন ক্যাডারের ২৪তম ব্যাচ। এছাড়া ইতোপূর্বে বঞ্চিত বিভিন্ন ব্যাচের কর্মকর্তারাও পদোন্নতির তালিকায় রয়েছেন।

‘সরকারের উপসচিব, যুগ্মসচিব, অতিরিক্ত সচিব ও সচিব পদে পদোন্নতি বিধিমালা, ২০০২’-এ বলা হয়েছে, যুগ্ম-সচিব পদে পদোন্নতির ক্ষেত্রে ৭০ শতাংশ প্রশাসন ক্যাডারের কর্মকর্তাদের ও ৩০ শতাংশ অন্যান্য ক্যাডারের উপসচিব পদে কর্মরতদের বিবেচনায় নিতে হবে।

বিধিমালা অনুযায়ী, উপসচিব পদে কমপক্ষে ৫ বছর চাকরিসহ সংশ্লিষ্ট ক্যাডারের সদস্য হিসেবে কমপক্ষে ১৫ বছরের চাকরির অভিজ্ঞতা বা উপ-সচিব পদে কমপক্ষে ৩ বছর চাকরিসহ ২০ বছরের অভিজ্ঞতা থাকলে কোনো কর্মকর্তা যুগ্মসচিব পদে পদোন্নতির জন্য বিবেচিত হন।

সুন্দরভাবে বেঁচে থাকার জন্যই সবুজায়ন জরুরি : প্রধানমন্ত্রী

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Thursday, 9 July, 2026, 3:04 pm
সুন্দরভাবে বেঁচে থাকার জন্যই সবুজায়ন জরুরি : প্রধানমন্ত্রী

প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেছেন, সব সৃষ্টি থেকে উপকার ভোগ করতে হলে, মানুষ হিসেবে আমাদের অবশ্যই কিছু দায়িত্ব এবং কর্তব্য রয়েছে। যথানিয়মে সব সৃষ্টির যত্ন এবং পরিচর্যা করা মানব সমাজের দায়িত্ব।

তিনি বলেন, বিজ্ঞানের উৎকর্ষতার সঙ্গে সঙ্গে এটি প্রমাণিত সত্য, বাস্তুতন্ত্র বা ইকোসিস্টেমের সঙ্গে মানব সমাজের সম্পর্ক গভীর এবং অবিচ্ছেদ্য। বাস্তুতন্ত্রের নিরাপদ লালন এবং বিকাশের সঙ্গে মানব সমাজের নিরাপদ বেড়ে ওঠা ওতপ্রোতভাবে জড়িত। সুতরাং, আজকের এই পরিবেশ মেলা কিংবা বৃক্ষমেলার আয়োজন, এটি কিন্তু বর্তমান এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের সুন্দর ও সুস্থভাবে বেড়ে ওঠার জন্য একটি নিরাপদ বিনিয়োগ বলেই আমি মনে করি।

বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) রাজধানীর আগারগাঁওয়ে চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে বিশ্ব পরিবেশ দিবস ও পরিবেশ মেলা এবং জাতীয় বৃক্ষরোপণ অভিযান ও বৃক্ষমেলা-২০২৬ উপলক্ষ্যে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী এ কথা বলেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, বৃক্ষরোপণের প্রয়োজনীয়তা এবং উপকারিতা নিয়ে নতুন করে বেশি কিছু বলার নেই। বৃক্ষরোপণ কিংবা সবুজায়নের গুরুত্ব সম্পর্কে আমরা সবাই কম বেশি অবগত। আপনার-আমার-আমাদের আগামী প্রজন্মের সুন্দরভাবে বেঁচে থাকার জন্যই সবুজায়ন জরুরি। একটি সন্তান পৃথিবীতে জন্মগ্রহণ করলে, আসুন আমরা একটি করে গাছ লাগানোর মধ্য দিয়ে প্রতিটি প্রাণের জন্মকে উদযাপন করি, স্মরণীয় করে রাখি। একজন নবজাতকের পাশাপাশি একটি গাছও বেড়ে উঠুক। এভাবেই এগিয়ে যাক সবুজায়নের জন্য সামাজিক আন্দোলন।

তারেক রহমান বলেন, সবুজায়নের সামাজিক আন্দোলনের পাশাপাশি পরিবেশ সংরক্ষণে সরকারিভাবেও নানা উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। বর্তমান সরকার শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে গ্রিন ভলান্টিয়ারিজম চালু করার পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। একইসঙ্গে ক্লাইমেট ইয়ুথ ফেলোশিপ চালু এবং এনভায়রনমেন্ট স্টার্ট-আপ ফান্ডসহ বেশ কিছু ইতিবাচক উদ্যোগ নিয়েছে।

তিনি বলেন, সরকারের নেওয়া উদ্যোগগুলো সফলভাবে বাস্তবায়িত হলে বর্তমান এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্যে একটি নিরাপদ, স্বাস্থ্যকর ও সবুজ বাংলাদেশ গঠন অসম্ভব নয়।

বর্তমান সরকার পাঁচ বছরে নতুন করে ২৫ কোটি গাছ রোপণের কর্মসূচি নিয়েছে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, তবে ইচ্ছেমতো গাছ রোপণ করলেই উদ্দেশ্য সাধিত হবে না। বরং কোন পরিবেশে, কোন প্রকারের মাটিতে, কি ধরনের আবহাওয়ায়, কোন প্রজাতির গাছ রোপণ করা দরকার, এগুলো-পরীক্ষা নিরীক্ষা খুবই গুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয়। যেমন ইউক্যালিপটাস কিংবা আকাশমণি প্রজাতির গাছ দ্রুত বেড়ে ওঠে, কিন্তু এ ধরনের গাছ আমাদের পরিবেশের জন্য কতটা উপযোগী সেটি অবশ্যই গবেষণার দাবি রাখে।

তিনি বলেন, নতুন বৃক্ষরোপণের ক্ষেত্রে দেশীয় প্রজাতির গাছ যেমন ওষুধি, অর্কিড, বাঁশজাতীয়, বনজ, ফলদ, অর্থকরী এবং বিপন্ন প্রজাতির গাছ রোপণ অগ্রাধিকার দেওয়া উচিত।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, নতুন বৃক্ষরোপণ অবশ্যই জরুরি, তবে রোপিত গাছ নিরাপদে বেড়ে উঠছে কিনা কিংবা বেড়ে উঠতে পারছে কিনা, সেটি নিশ্চিত করা তার চেয়েও বেশি জরুরি। আর যুগ যুগ ধরে স্থানীয় বাস্তুতন্ত্রের অংশ হয়ে যাওয়া, বিদ্যমান গাছগুলোকে কেটে না ফেলে, জীব বৈচিত্র্য রক্ষা করা সবচেয়ে বেশি জরুরি। আমি আশা করি, বনবিভাগ সেটি নিশ্চিত করবে। সরকার পরিবেশ রক্ষার স্বার্থে বন উজাড়, পাহাড় কাটা, ম্যানগ্রোভ ধ্বংস এবং বন্যপ্রাণী নিধনের বিরুদ্ধেও কঠোর অবস্থান নিয়েছে।

তিনি বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত-এটি এখন আর ভবিষ্যতের কোনো আশঙ্কার বিষয় নয়। বরং এটিই এখন আমাদের প্রতিদিনের বাস্তবতা। ঘূর্ণিঝড়, বন্যা, খরা, তাপপ্রবাহ কিংবা দাবদাহ, নদীভাঙন, লবণাক্ততা, আমাদের কৃষি, স্বাস্থ্য, অর্থনীতি সর্বোপরি জন জীবনকে চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলে দিয়েছে। এই বাস্তবতায় বর্তমান সরকার পরিবেশকে কোনো আলাদা খাত হিসেবে নয়, বরং জাতীয় উন্নয়নের অন্যতম ভিত্তি হিসেবে বিবেচনা করছে। বর্তমান সরকারের লক্ষ্য এমন একটি সবুজ, পরিচ্ছন্ন, জলবায়ু-সহনশীল টেকসই বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠা যেখানে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ও পরিবেশ সংরক্ষণ পাশাপাশি এগিয়ে যাবে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, বৃক্ষরোপণের পাশাপাশি বর্তমান সরকার সারাদেশে ২০ হাজার কিলোমিটার নদী ও খাল খনন ও পুনঃখননের যে কর্মসূচি বাস্তবায়ন শুরু করেছে, সেটি শুধুমাত্র কৃষকদের জন্য বছর জুড়ে কৃষি সেচ সুবিধাই নিশ্চিত করবে না, বরং জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত মোকাবিলার ক্ষেত্রেও কার্যকর ভূমিকা রাখবে। তবে পরিবেশের উন্নয়ন শুধুমাত্র বৃক্ষরোপণ কিংবা খাল খননের ওপরই নির্ভর করে না। রাজধানীসহ বিশেষ করে সারাদেশের সব নগর বন্দর এবং শহরতলির বর্জ্য ব্যবস্থাপনাতেও আমূল পরিবর্তন আনার কোনো বিকল্প নেই।

তিনি বলেন, প্লাস্টিক বর্জ্য উল্লেখযোগ্যভাবে কমিয়ে আনার লক্ষ্যে সরকার এরইমধ্যে কাজ শুরু করেছে। একইসঙ্গে জৈব সার উৎপাদন, পুনর্ব্যবহার, বর্জ্য থেকে জ্বালানি উৎপাদন এবং রিডিউস-রিইউজ-রিসাইকেল এই থ্রিআরএস নীতিকে সরকার জাতীয় পর্যায়ে বাস্তবায়নের নীতি বাস্তবায়নের উদ্যোগ নিয়েছে। বর্জ্য ব্যবস্থাপনা একটি সুশৃঙ্খল পদ্ধতিতে আনতে হলে এটি শুধুমাত্র নগর প্রশাসন কিংবা পুলিশ দিয়ে নিশ্চিত করা সম্ভব নয়, এজন্য প্রয়োজন ছোট বড় প্রতিটি নাগরিকের দায়িত্বশীল আচরণ। প্রতিটি নাগরিকের প্রতি উদাত্ত আহ্বান, অনুগ্রহ করে যেখানে সেখানে বর্জ্য কিংবা উচ্ছিষ্ট ফেলবেন না।

ঘরে কিংবা বাইরে সবসময় সব বর্জ্য নির্ধারিত স্থানে ফেলুন। নিজে সুস্থ থাকুন-নিজের পরিবারের জন্যও পরিবেশ সুন্দর রাখুন বলেও মন্তব্য করেন প্রধানমন্ত্রী।