বিনা বেতনে বিলিয়ন ডলারের মালিক
বৈদ্যুতিক গাড়ি নির্মাতা প্রতিষ্ঠান টেসলার প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা হয়েও ২০২০ সালে কোনো বেতন নেননি এলন মাস্ক। অথচ সেই বছরই শেয়ারবাজারে তার ছিল ২ হাজার ২০০ কোটি ডলারের শেয়ার। ২০২০ সালে এলন মাস্ক কোনো বেতন নেননি।
কোম্পানির পক্ষ থেকে বলা হয়, তিনি কখনোই নিজের বেতন নেন না। অনেক বেশি শেয়ারের মালিক হওয়ায় তার অর্থের পরিমাণও বেশি। ২০২১ সালে শেয়ারের মালিক হয়ে আবারও মাইলফলক অর্জন করেন তিনি।
২০২০ সালে টেসলার শেয়ারের দাম ৭৪৩ শতাংশ পর্যন্ত বাড়ে। যুক্তরাষ্ট্রের শেয়ারবাজারে ইতিহাস তৈরি করে টেসলার স্টক। ২০২১ সালে দুটি মাইলফলক অর্জন করে টেসলা। এই বছরই তৃতীয়বারের মতো মাইলফলক অর্জন করতে পারে বৈদ্যুতিক গাড়ি নির্মাতা প্রতিষ্ঠানটি।
স্টক কেনাবেচার অনেক সুযোগ থাকলেও নিজের মালিকানায় থাকা স্টক খুব একটা বিক্রি করেন না মাস্ক। অনেক সময় কর ফাঁকি দিতেও শেয়ার বিক্রি করেন বিভিন্ন কোম্পানির প্রধান নির্বাহীরা। কিন্তু নিজের কোম্পানির প্রধান নির্বাহী হওয়ার পর থেকে এমন ঘটনা খুব কম ঘটেছে যে, মাস্ক তার মালিকানার শেয়ার বিক্রি করেছেন। চলতি বছরের জুনে এলন মাস্ক ১৭ কোটি ডলারের শেয়ারের মালিক হয়েছেন। কিনেছেন কোম্পানির আরও ৭ কোটি ডলারের শেয়ার। মালিকানায় এসেছে কোম্পানির ২৩ শতাংশ শেয়ার।
২০১৯ সালে টেসলার সিইও হিসেবে মাস্কের বেতন ছিল ২৩ হাজার ৭৬০ ডলার। ২০১৮ সালে ছিল ৫৬ হাজার ৩৮০ ডলার। তবে কোম্পানির সঙ্গে মাস্কের চুক্তি, শেয়ারের দাম বাড়লে মাস্ক লাভবান হবেন আর শেয়ারের দাম কমলে মাস্ককে ক্ষতিপূরণ দিতে হতে পারে। ১০ বছরের চুক্তিতে ১৬টি মাইলস্টোন নির্ধারণ করা আছে। টেসলা যদি ১২টি মাইলফলক অর্জন করে, কোম্পানির বাজারমূল্য ৬৫ হাজার কোটি ডলার হবে। সে সময় মাস্কের মালিকানায় থাকা শেয়ারের দাম অনেক বেড়ে যাবে।
চলতি মাস পর্যন্ত টেসলা ৬টি মাইলফলক অর্জন করে ফেলেছে। কোম্পানির বাজারমূল্যও ৬৫ হাজার কোটি ডলার ছাড়িয়ে গেছে। চলতি মাসেই এ কোম্পানির বাজারমূল্য পৌঁছেছে ৭০ হাজার কোটি ডলারে। চুক্তির সময় ২০১৮ সালে টেসলার শেয়ারের দাম ছিল ৭০ ডলার। এখন টেসলার শেয়ারের বাজারমূল্য ৭১৬ ডলার। এর মধ্যে টেসলার কোনো শেয়ারই বিক্রি করেননি মাস্ক।
ব্লুমাবর্গের তথ্য বলছে, ২০২০ সালে মাস্ককে ৬৭০ কোটি ডলার ক্ষতিপূরণ দিতে হতে পারে, যে মার্কিন ইতিহাসে কোন কোম্পানির প্রধান নির্বাহী হিসেবে সর্বোচ্চ। মাস্ক জানান, টেসলার মুনাফা মানুষকে মঙ্গলে নিয়ে যেতে কাজে লাগাবেন তিনি। এক টুইটার বার্তায় তিনি জানান, নিজের কোম্পানিতে স্টক অপশন রেখেছেন, সেখান থেকে আসা অর্থ কাজে লাগাবেন আগামী ১০ থেকে ২০ বছরে মানুষকে মঙ্গলে নিয়ে যেতে।
বিশ্বের সবচেয়ে ধনী ব্যক্তিদের একজন এলন মাস্ক। নিজের প্রতিষ্ঠান টেসলার শেয়ার আর নিজের মহাকাশ গবেষণা প্রতিষ্ঠান স্পেস এক্সই এর পেছনের কারণ। ফোর্বসের তথ্য অনুযায়ী, এলন মাস্কের মোট সম্পদের পরিমাণ ১৮ হাজার কোটি ডলার। বিশ্বের আরেক শীর্ষ ধনী ব্যক্তি অনলাইন জায়ান্ট আমাজন প্রতিষ্ঠাতা জেফ বেজসের থেকে প্রতিযোগিতায় কিছুটা পিছিয়ে তিনি। জেফ বেজসের মোট সম্পদের পরিমাণ ১৯ হাজার কোটি ডলার।
এগিয়ে আছেন ফ্রেঞ্চ প্রতিষ্ঠান এলভিএইচএমএর প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা বার্নার্ড আর্নল্ট, যার মোট অর্থের পরিমাণ ২০ হাজার কোটি ডলার। বর্তমানে টেসলার শেয়ারের মূল্য ১৭ হাজার কোটি ডলার।
এন-কে


আপনার মতামত লিখুন