তিন দশকে সবচেয়ে ‘অস্ত্রবাজ’ মার্কিন প্রেসিডেন্ট যিনি
কোন দেশ অভ্যন্তরীণ সামরিক শক্তিকে শক্তিশালী করা ও প্রতিরক্ষা সুরক্ষার জন্য বরাবরই বিভিন্ন দেশ থেকে আধুনিক ও শক্তিশালী অস্ত্র কিনে বা সরবরাহ করে থাকে। অস্ত্র বিক্রির প্রসঙ্গ এলেই আলোচনার সামনে আসে যুক্তরাষ্ট্রের নাম।
বরাবরই অস্ত্র বিক্রিতে মার্কিন প্রশাসন শীর্ষে থাকলেও এটা হয়তো অনেককে অবাক করবে যে গত তিন দশকে যুক্তরাষ্ট্র শাসন করা প্রেসিডেন্টদের মধ্যে ৪৫তম মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সময়ে সবচেয়ে বেশি অস্ত্র বিক্রি করেছে দেশটি। অথচ এই মার্কিন শাসকের আমলে বিশ্বে বাণিজ্য যুদ্ধ ছাড়া তার পূর্বসূরীদের আমলের মতো তেমন ভয়াবহ কোনো যুদ্ধ কিংবা ভয়ঙ্কক আগ্রাসনের ঘটনা ঘটেনি।
ট্রাম্প ক্ষমতায় ছিলেন ২০১৭ সালের ২০ জানুয়ারি থেকে ২০২১ সালের ২০ জানুয়ারি পর্যন্ত।
১৯৬৬ সাল থেকে শান্তি, সামরিক ব্যয় ও অস্ত্রের বাজার পর্যালোচনা করে তথ্য সরবরাহকারী সুইডেনের স্টোকহোমভিত্তিক গবেষণা সংস্থা সিপ্রি’র সর্বশেষ প্রকাশিত তথ্যে (মার্চ, ২০২১) দেখা যায়, ২০১৬-২০২০ এই পাঁচ বছরে বিশ্বে যত অস্ত্র বিক্রি হয়েছে তার ৩৭ ভাগই দখলে ছিল মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের। আগের পাঁচ বছরে অর্থাৎ ২০১১-২০১৫ সময়ে এই দখল ছিল ৩২ শতাংশ। অর্থাৎ ৫ বছরে অস্ত্রবাজারে মার্কিন আধিপত্য বেড়েছে আরও ১৫ শতাংশ। পরিসংসখ্যান বলছে, মার্কিন অস্ত্রের বড় ক্রেতা সৌদি আরব।
এদিকে, বৈশ্বিক অস্ত্র চাহিদার ২০ শতাংশ সরবরাহ করে ক্ষমতাধর রাশিয়া দ্বিতীয় অবস্থানে থাকলেও ২০১১-২০১৫ সময়কালের চেয়ে ২০১৬-২০২০ -এই পাঁচ বছরে অস্ত্রবাজারের ৬ শতাংশ হারিয়েছে দেশটি। এ সময়ে রাশিয়ার অস্ত্রের চাহিদা কমেছে ২২ শতাংশ। রাশিয়া থেকে সবচেয়ে বেশি অস্ত্র কিনেছে ভারত।
৮ দশমিক ২ শতাংশ বাজার হিস্যা নিয়ে অস্ত্র সরবরাহে তৃতীয় অবস্থান ফ্রান্সের। আগের পাঁচ বছরের তুলনায় ২০১৬-২০২০ এই পাঁচ বছরে অস্ত্রবাজারে দেশটির দখল বেড়েছে ৪৪ ভাগ। ফ্রান্স থেকেও অস্ত্র আমদানিক দেশগুলোর মধ্যে শীর্ষে রয়েছে ভারত।
২০১১-২০১৫ সালের তুলনায় জার্মান অস্ত্রের চাহিদা ২১ শতাংশ বাড়ায় ২০২০ পর্যন্ত পাঁচ বছরে বাজারের সাড়ে ৫ শতাংশ দখল পায় দেশটি। জার্মান অস্ত্রের সবচেয়ে অংশ গেছে দক্ষিণ কোরিয়ায়।
গত পাঁচ বছরে অবশ্য চীনা অস্ত্রের রপ্তানি কমেছে ৭ দশমিক ৮ শতাংশ। ২০১১ থেকে ২০১৫; এই পাঁচ বছরে অস্ত্রবাজারের ৫ দশমিক ৬ শতাংশ দখলে ছিল চীনের; সেখানে গত পাঁচ বছরে অস্ত্রবাজারে দেশটির সরবরাহ নেমে এসেছে ৫ দশমিক ২ শতাংশে। চীনের বড় ক্রেতা হিসেবে সামনে রয়েছে পাকিস্তান।
সিপ্রির ওই প্রতিবেদনে দেখা যায়, ২০১৬-২০২০ -এই ৫ বছরে আগের ৫ বছরের তুলনায় মধ্যপ্রাচ্যে সবচেয়ে বেশি অস্ত্র গেছে। এসময়ে এই অঞ্চলের অস্ত্র আমদানি বেড়েছে ২৫ শতাংশ। ইউরোপে বেড়েছে ১২ শতাংশ। তবে, আফ্রিকায় অস্ত্র আমদানি কমেছে ১৩ শতাংশ, যুক্তরাষ্ট্রেও অস্ত্র আমদানি কমিয়ে দিয়েছে ৪৩ শতাংশ ও অস্ত্রের আমদানি ৮ দশমিক ৩ শতাংশ কমেছে এশিয়া ও ওশেনিয়া অঞ্চলে।
অস্ত্র আমদানির তালিকায় শীর্ষে রয়েছে সৌদি আরব। রাজারে সরবরাহকৃত অস্ত্রের ১১ শতাংশই কিনেছে সৌদি সরকার। গত পাঁচ বছরে দেশটিতে অস্ত্র আমদানি বেড়েছে ৬১ শতাংশ। দ্বিতীয় শীর্ষ অস্ত্র আমদানিকারক দেশ ভারত। বিশ্ববাজারের সাড়ে ৯ শতাংশ অস্ত্রই কিনেছে দেশটি। এরপর শীর্ষ পাঁচের তালিকায় যথাক্রমে রয়েছে মিশর, অস্ট্রেলিয়া ও চীন।
২০১৬-২০ সময়কালে আগের ৫ বছরের তুলনায় বিশ্বে অস্ত্র কেনা-বেচা কমেছে দশমিক ৫ শতাংশ। ২০০৬-২০১০ সময়কালের চেয়ে অবশ্য বেড়েছে ১২ শতাংশ।
এন-কে


আপনার মতামত লিখুন