খুঁজুন
বৃহস্পতিবার, ১১ই জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ২৮শে জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

আমাদের সাহায্য করুন, যেন দুনিয়া আফগানিস্তানকে ত্যাগ না করে

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: বুধবার, ১৮ আগস্ট, ২০২১, ৫:০৭ অপরাহ্ণ
আমাদের সাহায্য করুন, যেন দুনিয়া আফগানিস্তানকে ত্যাগ না করে

সাহরা করিমি আফগান চলচ্চিত্র নির্মাতা। চলচ্চিত্রে পিএইচডি করা প্রথম এবং একমাত্র আফগান নারী। ঢাকা আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবে ছবি নিয়ে এসেছিলেন এই নির্মাতা। তাঁর চলচ্চিত্র ‘হাওয়া’, ‘মরিয়ম’, ‘আয়েশা’ ভেনিস চলচ্চিত্র উৎসবে হরাইজন পুরস্কারের জন্য মনোনীত হয়েছিল। আফগানিস্তানের বর্তমান অবস্থা নিয়ে বিশ্বচলচ্চিত্র দরবারে খোলা চিঠি পাঠিয়েছেন সাহরা। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সেই চিঠি শেয়ার করেছেন ভারতীয় নির্মাতা অনুরাগ কশ্যপ, চিঠিটি নিয়ে করা ‘ভ্যারাইটি’র প্রতিবেদন শেয়ার করেছেন বাংলাদেশের নির্মাতা মোস্তফা সরয়ার ফারুকী। প্রথম আলোর পাঠকের জন্য চিঠিটি তুলে ধরা হলো।

আমার নাম সাহরা করিমি। আমি একজন চলচ্চিত্র নির্মাতা এবং ১৯৬৮ সালে প্রতিষ্ঠিত আফগানিস্তানের একমাত্র সরকারি মালিকানাধীন সিনেমা প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান আফগান ফিল্মের বর্তমান মহাপরিচালক।

ভগ্নহৃদয় আর গভীর আশা নিয়ে আপনাদের লিখছি। আফগানিস্তানের চমৎকার জনগণ, বিশেষ করে চিত্রনির্মাতাদের তালেবানের হাত থেকে বাঁচাতে আপনারা আমার সঙ্গে যোগ দিতে পারেন। কয়েক সপ্তাহ ধরে অনেকগুলো প্রদেশ দখল করেছে তালেবান। গণহারে তারা আমাদের মানুষজনকে হত্যা করেছে। অনেক শিশু অপহরণ করেছে তারা। মেয়েদের তারা নিজেদের মানুষজনের কাছে ‘শিশুবধূ’ হিসেবে বিক্রি করে দিয়েছে। পোশাকের জন্য তারা একজন নারীকে খুন করেছে পর্যন্ত। উপড়ে ফেলেছে এক নারীর চোখ। আমাদের প্রিয় এক কৌতুকাভিনেতাকে তারা নিপীড়ন করে মেরে ফেলেছে। আমাদের ঐতিহাসিক একজন কবিকে তারা হত্যা করেছে। সরকারের সংস্কৃতি ও যোগাযোগ বিভাগের প্রধানকে তারা হত্যা করেছে। সরকারসংশ্লিষ্ট মানুষদের তারা গোপনে মেরে ফেলেছে। সবার সামনে তারা আমাদের মানুষদের ফাঁসিতে ঝুলিয়েছে। হাজার হাজার পরিবারকে বাস্তুচ্যুত করেছে। প্রদেশগুলো থেকে পালিয়ে আসা পরিবারগুলো কাবুলের ক্যাম্পে আছে। খুবই অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে তারা দিনযাপন করছে। ক্যাম্পগুলোতে লুটপাট চলছে। দুধের অভাবে বাচ্চা মারা যাচ্ছে। এটা একটা মানবিক সংকট, এখনো সারা বিশ্ব চুপ করে আছে।

যদিও আমরা জানি এটা ঠিক নয়, তবু এই নীরবতায় আমরা অভ্যস্ত হয়ে উঠছি। আমরা জানি আমাদের মানুষদের ত্যাগ করার এই সিদ্ধান্ত ভুল। এই যে তাড়াহুড়ো করে সৈন্য প্রত্যাহার, এটা বিশ্বাসঘাতকতা। পশ্চিমাদের শীতল যুদ্ধজয়ে আমরা আফগানরা সবকিছু করেছিলাম। তারপর আমাদের জনগণকে ভুলে যাওয়া হলো, যার পরিণতি তালেবান কালো শাসন। ২০ বছরে আমাদের দেশে বিশেষ করে তরুণ প্রজন্মের মধ্য যে ব্যাপক অর্জন সাধিত হয়েছিল, সবকিছু হারিয়ে যেতে পারে।

আপনাদের কণ্ঠস্বর আমাদের দরকার। গণমাধ্যম, সরকার এবং বিশ্বমানবাধিকার সংস্থাগুলো তাদের সুবিধামতো নীরব হয়ে আছে। যেন তালেবানের সঙ্গে এই ‘শান্তি চুক্তি’ কোনোকালে বৈধ ছিল। কখনোই এটা বৈধ ছিল না। স্বীকৃতি তাদের ক্ষমতায় আসার আত্মবিশ্বাস দিয়েছে। এ আলোচনা প্রক্রিয়ার পুরো সময়ে তালেবান আমাদের জনগণকে নিষ্ঠুরভাবে হত্যা করেছে। আমার দেশে একজন চলচ্চিত্র নির্মাতা হিসেবে নিজেকে গড়ে তুলতে আমি যে কঠোর পরিশ্রম করেছি, তার সবকিছুই বিফলে যাওয়ার ঝুঁকিতে আছে। যদি তালেবানরা ক্ষমতায় যায়, তারা শিল্পকলা নিষিদ্ধ করে দেবে। তাদের পরবর্তী হিটলিস্টে থাকতে পারি আমি ও অন্যান্য নির্মাতা।
তারা নারী অধিকারকে চুলোয় পাঠাবে। আমাদের ঘরের ভেতরে ঢুকিয়ে দেওয়া হবে। আমাদের কণ্ঠস্বর ও অভিব্যক্তিগুলোকে টুঁটি চেপে ধরা হবে। তালেবান যখন ক্ষমতায় ছিল, স্কুলে একটা মেয়েও ছিল না। এখন ৯০ লাখেরও বেশি আফগান মেয়ে স্কুলে আছে। অবিশ্বাস্য হচ্ছে হেরাতের বিশ্ববিদ্যালয়পড়ুয়া শিক্ষার্থীর ৫০ শতাংশই নারী। তালেবানের কাছে তৃতীয় বৃহত্তম এই শহরটির সদ্যই পতন হয়েছে। অবিশ্বাস্য এসব অর্জন সম্পর্কে খুব কমই জানে বিশ্ব। সামান্য এই কয়েক সপ্তাহে অনেকগুলো স্কুল ধ্বংস করেছে তালেবানরা। আবারও ২০ লাখ মেয়েকে জোর করে স্কুল থেকে বের করে দেওয়া হয়েছে।

এই দুনিয়াকে আমি বুঝি না। এই নীরবতাও আমি বুঝি না। এখানেই আমি রয়ে যাব, আমার দেশের জন্য লড়ে যাব। কিন্তু একা আমি এটা করতে পারব না। আপনাদের মতো মিত্র আমার দরকার। আমাদের এখানে যা ঘটছে, দুনিয়াকে তা জানানোর কাজে আমাদের সাহায্য করুন প্লিজ। এখানে, এই আফগানিস্তানে যা ঘটছে, আপনার দেশের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যমকে তা অবহিত করে আমাদের সাহায্য করুন প্লিজ। আফগানিস্তানের বাইরে আমাদের কণ্ঠস্বর হোন। তালেবান যদি কাবুল দখল করে নেয়, ইন্টারনেট বা যোগাযোগের অন্য মাধ্যমে ব্যবহারের সুযোগ আর আদৌ হয়তো আমাদের থাকবে না। আমাদের কণ্ঠস্বর হওয়ার কাজে আপনাদের চলচ্চিত্রকার, শিল্পীদের নিয়োজিত করুন।

এটা কোনো গৃহযুদ্ধ না, এটা প্রক্সি যুদ্ধ। এটা একটা আরোপিত যুদ্ধ। তালেবানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের কর্মকাণ্ডের জের এই যুদ্ধ। যতটা পারেন, এসব তথ্য আপনাদের মিডিয়ায় শেয়ার করুন, আপনাদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আমাদের নিয়ে লিখুন।
দুনিয়ার উচিত হবে না আমাদের থেকে মুখ ফিরিয়ে নেওয়া। আফগান নারী, শিশু, শিল্পী ও চলচ্চিত্রকারদের হয়ে আপনার কণ্ঠ ও সমর্থন আমাদের দরকার। এ মুহূর্তে এই সমর্থনটাই হতে পারে আমাদের জন্য সর্বোচ্চ সাহায্য, এটাই আমাদের এখন সবচেয়ে বেশি দরকার।

আমাদের সাহায্য করুন, যেন দুনিয়া আফগানিস্তানকে ত্যাগ না করে, তালেবান কাবুল দখল করে নেওয়ার আগেই আমাদের সাহায্য করুন। হাতে আমাদের অল্প সময়, হয়তো কয়েকটা দিন মাত্র আছে। আপনাদের অনেক ধন্যবাদ। অন্তর থেকে আপনাদের বিশুদ্ধ ও সাচ্চা দিলের আমি প্রশংসা করি।
বিনীত
সাহরা করিমি

এন-কে

Feb2

চট্টগ্রামের ক্রীড়া উন্নয়নে কাজ করার অঙ্গীকার ইসরাফিল খসরুর

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: বুধবার, ১০ জুন, ২০২৬, ১১:০৬ অপরাহ্ণ
চট্টগ্রামের ক্রীড়া উন্নয়নে কাজ করার অঙ্গীকার ইসরাফিল খসরুর

বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) নবনির্বাচিত পরিচালক ও ফাইন্যান্স কমিটির চেয়ারম্যান ইসরাফিল খসরুকে সংবর্ধনা দিয়েছে চট্টগ্রাম ক্রীড়া সংগঠক পরিষদ। এ সময় চট্টগ্রামের ক্রীড়া অবকাঠামো উন্নয়ন ও খেলাধুলার প্রসারে একযোগে কাজ করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন সংশ্লিষ্টরা।

বুধবার (১০ জুন) বিকেলে চট্টগ্রাম জেলা স্টেডিয়াম চত্বরে আয়োজিত সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন বলেন, চট্টগ্রামে খেলার মাঠের সংকট দূর করতে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন প্রতিটি ওয়ার্ডে খেলার মাঠ তৈরির উদ্যোগ নিয়েছে।

তিনি জানান, চট্টগ্রাম আউটার স্টেডিয়াম ও অনুশীলন মাঠের উন্নয়নের জন্য ইতোমধ্যে সিটি করপোরেশন ১০ কোটি টাকা বরাদ্দ দিয়েছে।

বিসিবি পরিচালক ইসরাফিল খসরু বলেন, আমি কোনো মন্ত্রী বা সংসদ সদস্য নই। তারপরও আপনারা আমাকে যে সম্মান দিয়েছেন, তা আমি চিরদিন মনে রাখব। স্থানীয় জ্যেষ্ঠ ক্রীড়া সংগঠকদের সঙ্গে নিয়ে চট্টগ্রামের ক্রীড়াঙ্গনের উন্নয়নে কাজ করে যাব।অবকাঠামোগত উন্নয়ন ছাড়া খেলাধুলার উন্নয়ন সম্ভব নয়। এ সময় তিনি এ খাতে আরও কার্যকর উদ্যোগ নেওয়ার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

চট্টগ্রাম ক্রীড়া সংগঠক পরিষদের আহ্বায়ক হাজী মোহাম্মদ সালাউদ্দিনের সভাপতিত্বে এবং সদস্য সচিব এইচ এম রাশেদ খানের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন চট্টগ্রাম বিভাগীয় ক্রীড়া সংস্থার অ্যাডহক কমিটির সদস্য সচিব মসিউল আলম স্বপন, সিজেকেএস ক্লাব উপদেষ্টা হাফিজুর রহমান, সভাপতি অ্যাডভোকেট শাহীন আফতাব রেজা, সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ শাহাবুদ্দীন শামীম। আরও উপস্থিত ছিলেন ক্রীড়া সংগঠক মাহাবুবুর রহমান, বাংলাদেশ কারাতে ফেডারেশনের সভাপতি শাহাজাদা আলম, মহানগর বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক মোহাম্মদ মিয়া ভোলা, মোহাম্মদ আজিজ, শফিকুর রহমান স্বপন, কাজী বেলাল ও মঞ্জুর আলম মঞ্জু প্রমুখ।

বিরোধী দলের এলাকাতেও সমান উন্নয়ন হবে : প্রধানমন্ত্রী

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: বুধবার, ১০ জুন, ২০২৬, ৯:০৫ অপরাহ্ণ
বিরোধী দলের এলাকাতেও সমান উন্নয়ন হবে : প্রধানমন্ত্রী

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, বর্তমান সরকার দেশের সুষম উন্নয়নে বিশ্বাস করে। তাই সরকারি দলের সংসদ সদস্যদের মতো বিরোধী দলের সংসদ সদস্যদের এলাকাতেও সমানভাবে উন্নয়ন কাজ করা হবে। একইসঙ্গে গঠনমূলক সমালোচনা থাকলে সরকার তা গ্রহণ করবে বলেও জানান তিনি।

আজ (বুধবার) বিকেলে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের দ্বিতীয় ও প্রথম বাজেট অধিবেশনের চতুর্থ দিনে সম্পূরক প্রশ্নের উত্তরে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন। অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রম।

সংসদে ব্যারিস্টার মীর আহমদ বিন কাসেমের এক সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী সংরক্ষিত আসনের নারী সংসদ সদস্যদের এলাকার উন্নয়ন ও কর্মপরিধি নিয়ে কথা বলেন। সরাসরি নির্বাচিত সংসদ সদস্যদের নির্দিষ্ট আসন থাকলেও নারী সংসদ সদস্যদের সংবিধানে বা আইনে নির্দিষ্ট কোনো আসন নেই। তবে রাজনৈতিক বা সাংগঠনিক কাঠামোর ভিত্তিতে দলীয় অবস্থান থেকে তাদের কাজের জন্য কিছু জায়গা নির্দিষ্ট করে দেওয়া হয়েছে।

এলাকার উন্নয়নে সরাসরি নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি এবং নারী সংসদ সদস্য—উভয়েরই কাজ করার অধিকার রয়েছে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘উন্নয়নের বিষয়ে সরকারি নিয়মানুযায়ী আমরা এগোচ্ছি। আপনার এলাকার উন্নয়নের বিষয়ে আমার সহযোগিতা করার কিছু থাকলে জানাবেন, আমি সরাসরি সহযোগিতা করার চেষ্টা করব।’

পরবর্তীতে সংসদ সদস্য আনিছুর রহমানের এক প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী দেশের সুষম উন্নয়ন এবং বিরোধী দলের প্রতি সরকারের সহযোগিতার দৃষ্টিভঙ্গি তুলে ধরেন।

স্পিকারের নেতৃত্বে অনুষ্ঠিত একটি বৈঠকের প্রসঙ্গ টেনে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘কয়েকদিন আগে সংসদ কীভাবে চলবে সে বিষয়ে কমিটির একটি বৈঠক ছিল। সেখানে বিরোধীদলীয় নেতাও ছিলেন। তিনি উল্লেখ করেছিলেন যে, ঈদের আগে সরকারের (এলজিইডি) পক্ষ থেকে দেওয়া কিছু সহযোগিতা হয়তো বিরোধীদলীয় অনেক সংসদ সদস্য পাননি। আমি ওই বৈঠক থেকে বেরিয়েই এলজিইডি মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রী উভয়কেই সঙ্গে সঙ্গে নির্দেশনা দিয়েছিলাম, বিরোধীদলীয় কোনো সংসদ সদস্য যদি না পেয়ে থাকেন, তবে যাতে দ্রুত সেই ব্যবস্থা নেওয়া হয়।’

তারেক রহমান বলেন, ‘বর্তমান সরকার দেশের সম-উন্নয়নে বিশ্বাস করে। সরকারি দলের সংসদ সদস্যরা যেভাবে এলাকার উন্নয়ন করবেন, ঠিক একইভাবে সরকারের সম্পূর্ণ সহযোগিতা থাকবে বিরোধীদলীয় সদস্যবৃন্দ যারা আছেন, তাদের এলাকাতেও। আমরা সমানভাবে কাজ করার চেষ্টা করব।’

সরকারের পক্ষ থেকে উন্নয়ন সহযোগিতা দেওয়ার পরও সরকারি দলের বিরুদ্ধে যেসব অপপ্রচার হয়, সেগুলো বন্ধে বিরোধী দলের সঙ্গে কোনো আলোচনা হবে কি না—সাংসদ আনিসুর রহমান এমনটি জানতে চাইলে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বলেন, ‘আমার মনে হয় এ বিষয়ে আমাদের আরও অপেক্ষা করতে হবে। সবেমাত্র শুরু হলো, লেট আস ওয়েট অ্যান্ড সি।’

এরপর প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, ‘এই সরকার জনগণের দ্বারা নির্বাচিত, গণতন্ত্রে বিশ্বাসী এবং জনগণের কাছে জবাবদিহিমূলক একটি সরকার। কাজেই যদি গঠনমূলক কোনও সমালোচনা থাকে, অবশ্যই সেটি আমরা গ্রহণ করব এবং সেভাবে আমরা পদক্ষেপ নেব।’

সালমান শাহর দেহাবশেষ কবর থেকে উত্তোলনের নির্দেশ

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: বুধবার, ১০ জুন, ২০২৬, ৮:৫৫ অপরাহ্ণ
সালমান শাহর দেহাবশেষ কবর থেকে উত্তোলনের নির্দেশ

হত্যার প্রকৃত কারণ উদঘাটনের জন্য নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের উপস্থিতিতে প্রখ্যাত চিত্রনায়ক সালমান শাহর (চৌধুরী মোহাম্মদ শাহরিয়ার ইমন) দেহাবশেষ কবর থেকে উত্তোলনের অনুমতি দিয়েছেন আদালত। দেহাবশেষ উত্তোলনপূর্বক সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি ও ময়নাতদন্ত সম্পন্ন করার অনুমতি দিয়েছেন আদালত। মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তার আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ঢাকা মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জুয়েল রানা গত ২৪ মে এ আদেশ দেন।

এর আগে গত ২০ মে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা সিআইডি পুলিশের পরিদর্শক জিয়াউল মোর্শেদ এ আবেদন করেন।

বুধবার (১০ জুন) মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা সিআইডি পুলিশের পরিদর্শক জিয়াউল মোর্শেদ বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, হত্যার প্রকৃত কারণ উদঘাটনের জন্য নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের উপস্থিতিতে প্রখ্যাত চিত্রনায়ক সালমান শাহর (চৌধুরী মোহাম্মদ শাহরিয়ার ইমন) দেহাবশেষ (লাশ) কবর থেকে উত্তোলনপূর্বক সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি ও ময়নাতদন্ত সম্পন্ন করার অনুমতির আবেদন করি। আদালত আবেদন মঞ্জুর করেন। কিছু কার্যক্রম আছে, তা শেষ করে আমরা দেহাবশেষ কবর থেকে উত্তোলন করে সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি ও ময়নাতদন্ত সম্পন্ন করব।

১৯৯৬ সালের ৬ সেপ্টেম্বর মারা যান চিত্রনায়ক চৌধুরী মোহাম্মদ শাহরিয়ার ইমন ওরফে সালমান শাহ। সে সময় এ বিষয়ে অপমৃত্যুর মামলা দায়ের করেছিলেন তার বাবা প্রয়াত কমরউদ্দিন আহমদ চৌধুরী। পরে ১৯৯৭ সালের ২৪ জুলাই ছেলেকে হত্যা করা হয়েছে অভিযোগ করে মামলাটিকে হত্যা মামলায় রূপান্তরের আবেদন জানান তিনি। অপমৃত্যু মামলার সঙ্গে হত্যাকাণ্ডের অভিযোগের বিষয়টি একসঙ্গে তদন্ত করতে সিআইডিকে নির্দেশ দেন আদালত। ১৯৯৭ সালের ৩ নভেম্বর আদালতে চূড়ান্ত প্রতিবেদন দেয় সিআইডি। প্রতিবেদনে সালমান শাহর মৃত্যুকে আত্মহত্যা বলে উল্লেখ করা হয়। ওই বছরের ২৫ নভেম্বর ঢাকার সিএমএম আদালতে চূড়ান্ত প্রতিবেদন গৃহীত হয়। সে সময় সিআইডির প্রতিবেদন প্রত্যাখ্যান করে তার বাবা কমরউদ্দিন আহমদ চৌধুরী রিভিশন মামলা দায়ের করেন। সবশেষ গত বছরের ২০ অক্টোবর ঢাকার ষষ্ঠ অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ মো. জান্নাতুল ফেরদৌস ইবনে হক বাদীপক্ষের করা রিভিশন মঞ্জুর করে মামলাটি হত্যা মামলা হিসেবে গ্রহণের নির্দেশ দেন।

এর পরিপ্রেক্ষিতে ২১ অক্টোবর রাজধানীর রমনা থানায় মামলাটি দায়ের করেন সালমান শাহর মামা মোহাম্মদ আলমগীর। মামলায় সালমান শাহর স্ত্রী সামীরা হকসহ ১১ জনকে আসামি করা হয়। আসামিদের বিরুদ্ধে দণ্ডবিধির ৩০২/৩৪ ধারায় অভিযোগ আনা হয়েছে।

সামীরা ছাড়া মামলার অপর আসামিরা হলেন— শিল্পপতি ও সাবেক চলচ্চিত্র প্রযোজক আজিজ মোহাম্মদ ভাই, লতিফা হক লুছি, খলনায়ক ডন, ডেবিট, জাভেদ, ফারুক, মে-ফেয়ার বিউটি সেন্টারের রুবি, আব্দুস ছাত্তার, সাজু এবং রেজভি আহমেদ ফরহাদ। এছাড়া মামলায় অজ্ঞাতনামা আরও অনেককে আসামি করা হয়েছে।

মামলার অভিযোগে মোহাম্মদ আলমগীর উল্লেখ করেন, ১৯৯৬ সালের ৬ সেপ্টেম্বর তার বোন নিলুফার জামান চৌধুরী (নীলা চৌধুরী), বোনের স্বামী কমর উদ্দীন আহমদ চৌধুরী এবং তাদের ছোট ছেলে শাহরান শাহ নিউ ইস্কাটনের বাসায় সালমান শাহের সঙ্গে দেখা করতে যান। সেখানে গিয়ে তারা জানতে পারেন, সালমান ঘুমাচ্ছেন।

কিছুক্ষণ পর প্রডাকশন ম্যানেজার সেলিম ফোন করে জানান, সালমানের কিছু হয়েছে। দ্রুত তারা বাসায় ফিরে দেখেন, সালমান শয়নকক্ষে নিথর পড়ে রয়েছেন এবং কয়েকজন বহিরাগত নারী তার হাত-পায়ে তেল মালিশ করছেন। পাশের কক্ষে সামীরার আত্মীয় রুবি বসে ছিলেন।

সালমানের মা চিৎকার করে তাকে হাসপাতালে নেওয়ার অনুরোধ করেন। পথে তারা সালমানের গলায় দড়ির দাগ এবং মুখমণ্ডল ও পায়ে নীলচে দাগ দেখতে পান। পরে তাকে হলি ফ্যামিলি হাসপাতাল হয়ে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক জানান, সালমান শাহ অনেক আগেই মারা গেছেন।

মোহাম্মদ আলমগীর আরও উল্লেখ করেন, সালমানের বাবা কমর উদ্দীন আহমদ চৌধুরী মৃত্যুর আগে ছেলের মৃত্যুকে হত্যা বলে সন্দেহ করে ১৯৯৭ সালের ২৪ জুলাই চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে একটি দরখাস্ত দাখিল করেন। এতে তিনি রমনা থানার অপমৃত্যু মামলাটি দণ্ডবিধির ৩০২/৩৪ ধারায় হত্যা মামলা হিসেবে গ্রহণ এবং সিআইডির মাধ্যমে তদন্তের আবেদন জানান।

সালমানের বাবার মৃত্যুর পর আলমগীর তার বোনের পক্ষ থেকে মামলাটি পরিচালনা করছেন। মামলায় অভিযুক্তদের মধ্যে কেউ মৃত্যুবরণ করে থাকলে প্রমাণ সাপেক্ষে তারা মামলার দায় থেকে অব্যাহতি পাবেন।