সহজে ঘর সাজানোর ৭টি ইনডোর প্লান্ট
অনেকেই শখের বসে ইনডোর প্লান্ট নিয়ে কাজ করতে চান। তবে কিছুটা ভয়ও কাজ করে। একে তো দামভীতি। তাছাড়া যত্নও করতে হয় বেশ। তবে এ ধারণা একদমই ভুল।
আসলে গাছ হলো সুন্দর শিল্পকর্ম। গাছ দিয়ে ঘর সাজাতে জুড়ি মেলা ভার। ঘরের কোনে ছোট একটি গাছ বাসার শোভা বাড়িয়ে দেয় কয়েক গুণ।
সময় সংবাদের পাঠকদের জন্য ইনডোর প্লান্ট নিয়ে আজ বিস্তারিত তুলে ধরা হলো।
এবারের তালিকায় পাবেন ৭টি সবচেয়ে সহজ ইন্ডোর প্লান্টের উদাহরণ। এর মধ্যে একটি বাদে বাকি সবই ডাল কেটে পুঁতলেই হয়। আর বেশি যত্নেরও প্রয়োজন নেই।
তবে মনে রাখা প্রয়োজন যে ইনডোর প্লান্ট হলেও গাছের সালোকসংশ্লেষের জন্য আলো প্রয়োজন। তাই চেষ্টা করতে দক্ষিণ, পূর্ব বা পশ্চিমের রোদ আসে এমন জানলার পাশে রাখার। মাটি শুকিয়ে গেলে নিয়মিত পানি দিন। তবে অতিরিক্ত পানিও দেওয়া যাবে না। ইনডোর প্লান্টের জন্য খুব বেশি সারের প্রয়োজন হয় না।
যে কেউ করতে পারবেন এমন ৭টি ইন্ডোর প্লান্ট :
১. মানি প্লান্ট
অনেকেই ভাবতে পারেন এ আর এমন কী গাছ! আসলে সেই জন্যই এই নাম রাখা। কারণ মানি প্লান্ট করা বেশ সহজ। আর ঠিকভাবে যত্ন নিলে মানি প্লান্টের সৌন্দর্য অনেক দামি গাছকেও হার মানায়।
বিভিন্নভাবে করতে পারেন মানি প্লান্ট। ছোট টবে করে বারান্দায় হ্যাঙ্গিং প্লান্ট হিসেবে করতে পারেন। আবার বড় টবের মাঝে একটি লাঠি পুঁতে নিতে পারেন। সেটি বেয়ে বেয়ে মানি প্লান্ট বাড়বে। আবার ছোট বাহারি টবেও করতে পারেন। বুক সেলফ বা টেবিলের এক কোনে রাখবেন।
২. সানসাভেরিয়া
ইদানীং ইন্টেরিয়র ডেকরেশনের বাজারে খুব জনপ্রিয় সানসাভেরিয়া। Mother-in-Law’s Tounge নামেও পরিচিত। খুবই হার্ডি গাছ। এক সপ্তাহ পানি দিতে ভুলে গেলেও কোনো সমস্যা নেই। বিভিন্ন জাতের সানসাভেরিয়া হয়। হলুদ বর্ডার, কালচে সবুজ পাতার গাছটি সাদা বা লাল টবে সত্যিই খুব সুন্দর দেখায়।
গোড়া থেকে চারা বের হয়। সেটা তুলে বসালেই গাছ হবে। অনেকে গোটা পাতা কেটে বসান। তবে সেটায় অনেক সময় লাগে।
৩. ড্রাসিনা
এই গাছটি অনেকেই বাগানে করেন। ইনডোর প্লান্ট হিসাবেও বেশ ভালো। তবে মাটি বেশিদিন যাতে শুকিয়ে না যায় সেদিকে নজর রাখবেন। মাটি শুকিয়ে গেলে পাতা ঝড়ে যায়। তবে, পানি দিলেই আবার সতেজ হয়ে ওঠে।
৪. এরিকা পাম
সবচেয়ে জনপ্রিয় ইনডোর প্লান্টের তালিকা করা হলে তার মধ্যে প্রথম দশে অবশ্যই এরিকা পামের নাম থাকবে। যে কোনও নার্সারিতেই পাবেন এরিকা পাম। দামও খুব বেশি নয়। খুব বেশি যত্নেরও প্রয়োজন নেই। টবে পানি না বসলেই হল।
তবে অন্যান্যগুলির তুলনায় এটি একটু বেশি রোদ পছন্দ করেন। তাই জানলার ধারে বা বারান্দায় রাখলে সবচেয়ে ভালো। অথবা সপ্তাহে ২ দিন ঘরে রেখে বাকি ৫ দিন বারান্দা বা বাগানে রাখতে পারেন।
এই গাছটি যেহেতু একটু লম্বা হয়, তাই খাট বা সোফার পাশে, ঘরের এক কোনে দেখতে বেশ সুন্দর লাগে।
৫. মনস্টেরা
২০২০-২১-এ সবচেয়ে জনপ্রিয় ইন্ডোর প্লান্ট কী জানেন? মনস্টেরা। বড় বড় পাতার এই গাছ এখন ইন্টিরিয়ার ডিজাইনারদের প্রথম পছন্দ।
মানি প্লান্টের মতো ডাল কেটে বসালেই এই গাছ হয়। বাগানপ্রেমী কাউকে ছবি পাঠিয়ে জিজ্ঞাসা করতে পারেন এর বিষয়ে। কাটিং পেয়ে যাবেন। কাটিং বসানোর পর কয়েক দিন ছায়ায় রাখবেন। মাটি ভিজে ভিজে রাখবেন।
তবে মনস্টেরা বড় হতে একটু সময় লাগে। প্রথম ৫-৬টা পাতায় কোনো বিন্যাস বা নকশা থাকে না। একটু বড় হলে তখন দেখা যায় তার আসল রূপ। তাই একটু ধৈর্য ধরতে হবে।
৬. কোলিয়াস
সবুজ বাদ দিয়ে একটু অন্যরকম রং চাই? তাহলে তাহলে এটাই সেরা চয়েস। ডাল কেটে বসালেই হবে। তবে একটা টবে ৪-৫টি অন্তত কাটিং বসাবেন। নিয়মিত পানি দিলেই গাছ ধরে যাবে।
কোলিয়াসের ক্ষেত্রে নিয়মিত ডগা ছাঁটা খুব গুরুত্বপূর্ণ। তবেই গাছ ঘন ও সুন্দর হবে। ডগার পাতা না ছাঁটলে গাছ বেশি লম্বা হয়ে যাবে। পাতার সংখ্যাও কম হবে।
৭. রবার প্লান্ট
ইন্ডোর প্লান্ট হিসাবে রাবার প্লান্টের জনপ্রিয়তা নতুন নয়। একটু বড় ঘর হলে ও প্রচুর আলো বাতাস থাকলে এই গাছ পারফেক্ট। বারান্দাতেও করতে পারেন। খুবই হার্ডি গাছ।
ডাল কেটে বসালেও হয়। তবে নার্সারি থেকে একটু হরমোন পাউডার কিনে নেবেন। সেটি ডালের কাটা স্থানে লাগিয়ে বসাবেন। মাটি অল্প ভিজে রাখবেন।
রবার গাছের বিভিন্ন ভ্যারাইটি হয়। কালচে পাতা, লাল দাগসহ পাতা ইত্যাদি।
এন-কে


আপনার মতামত লিখুন