খুঁজুন
রবিবার, ৩রা মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ২০শে বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

সরকার সংলাপের নামে আগামি নির্বাচনের ভোট চুরির আলোচনা করছেঃ আমির খসরু

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: বুধবার, ৫ জানুয়ারি, ২০২২, ১০:০০ অপরাহ্ণ
সরকার সংলাপের নামে আগামি নির্বাচনের ভোট চুরির আলোচনা করছেঃ আমির খসরু

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, বর্তমানে দেশ এমন এক প্রেক্ষাপটে উপনীত হয়েছে যেখানে কোন গণতন্ত্র নেই। সরকসর ৫ জানুয়ারী গণতন্ত্রকে হত্যা করেছে গণতন্ত্রের মা বেগম খালেদা জিয়া এখনো পরিপূর্ণ মুক্তি দেনি। তিনি এখন মারাত্মক অসুস্থ। সংবিধানে যেখানে সবার চিকিৎসা নিশ্চিত করতে বলা হয়েছে, সেখানে বেগম খালেদা জিয়াকে চিকিৎসা সেবা থেকে বি ত করেছে সরকার।

তি‌নি আজ বুধবার (৫ জানুয়ারী) ২০২২ ইং বিকা‌লে চট্টগ্রাম প্রেসক্লা‌বের সাম‌নে গণতন্ত্র হত‌্যা দিবস উপল‌ক্ষ্যে কেন্দ্রঘো‌ষিত চট্টগ্রাম মহানগর ও দ‌ক্ষিন জেলা বিএন‌পি আ‌য়ো‌জিত মানববন্ধন কর্মসূ‌চিতে প্রধ‌ান অ‌তি‌থির বক্ত‌ব্যে উপ‌রোক্ত বক্তব‌্য রা‌খেন।

পূর্ব‌নির্ধারিত মানববন্ধন কর্মসূ‌চি বিকাল ৩টায় শুরু হওয়ার কথা থাক‌লেও তারই আ‌গে ৪১ টি ওয়ার্ড় থেকে মিছিলে প্রেসক্লাব চত্তর কানায় কান‌ায় পূর্ণ হ‌য়ে যায়। এরই মা‌ধ্যে পু‌লিশ নেতাকর্মী‌দের উপর লা‌ঠি চার্জ কর‌লেও নেতাকর্মীরা প্রতি‌রোধ ক‌রে মানবন্ধন কর্মসূ‌চি চল‌তে থা‌কে। একপর্যা‌য়ে মানববন্ধন কর্মসূ‌চি সমা‌বে‌শে প‌রিণত হয়।

আ‌মীর খসরু ব‌লেন, আমাদেরকে এমন কঠিন প্রেক্ষাপট মোকাবেলা করতে হচ্ছে। সামনের সময়গুলো যে কতো কঠিন হবে তা অনুধাবন করা যায়। তবে এটা শুধু বিএনপির সমস্যা নয়। দেশের মানুষের সমস্যা। দেশের গণতন্ত্র মুক্তির সংগ্রামে বিএনপির নেতৃত্বে জাতীকে এগিয়ে আসতে হবে। ২০১৪ সালে ৫ জানুয়ারী থেকে আজ পর্যন্ত দেশের মানুষ দিনটিকে গণতন্ত্র হত্যা দিবস মনে করে। মন থেকে দেশের মানুষ মুক্তি চায়, আমরাও দেশের মাবুষের মুক্তির কথা বলতেছি। আজকের এই তার প্রমান। আজকে এই সরকারের বিরোধে ঐক্যবোধ হয়ে কাজ করতে হবে।

আমীর খসরু আ‌রো ব‌লেন, যারা ২০০৮ সা‌লে ভোট চু‌রি ক‌রে‌ছে, যারা ২০১৪ সা‌লে ভোট চু‌রি ক‌রে‌ছে, যারা ২০১৮ সা‌লে ভোট চু‌রি ক‌রে‌ছে, আগামী দি‌নের নির্বাচ‌নে ভোট চু‌রির আ‌লোচনা চল‌ছে। এই ভোট চোর‌দের আ‌লোচনায় কি‌ছু উচ্ছিষ্ট রাজ‌নৈ‌তিক দল ভোট‌চোর‌দের থে‌কে উচ্ছিষ্ট খাবার খাওয়ার জন‌্য ঘুরঘুর কর‌ছে। এই ভোট‌চোর‌দের এবার রুখ‌তে হ‌বে, এই ভোট‌চোর‌দের দা‌বি‌য়ে দি‌তে হ‌বে বাংলা‌দেশ।বাংলা‌দেশ‌কে ফেরত নি‌তে হ‌বে। বাংলা‌দেশ‌কে উদ্ধার কর‌তে হ‌বে। বাংলা‌দে‌শের আত্না‌কে মুক্ত কর‌তে হ‌বে। এই ভোট চোর‌দের হাত থে‌কে বাংলা‌দে‌কে মুক্ত কর‌তে হ‌বে। এই যে আ‌ন্দোল‌নের গণ‌জোয়ার উ‌ঠে‌ছে সে আ‌ন্দোল‌নে ভোট‌ চোররা ভে‌সে যা‌বে। কোন অ‌স্তিত্ব থাক‌বে না। সাবাই‌কে ঐক‌্যবদ্ধ ভা‌বে এ‌দের‌কে পরা‌জিত কর‌তে হ‌বে। আজ‌কে শুধু দে‌শে নয় বি‌দে‌শি‌দের কা‌ছেও ওরা ধরা প‌ড়ে‌ছে। পালা‌নোর জায়গা পা‌বেনা। আজ‌কে দে‌শে বি‌দে‌শে সবাই পর্য‌বেক্ষন কর‌ছে ভোটচু‌রির সা‌থে কারা কারা জ‌ড়িত। আজ‌কে যে আ‌ন্দোলন শুরু হ‌য়ে‌ছে দে‌শে বি‌দে‌শে, তা অব‌্যহত রে‌খে দেশ‌কে মুক্ত কর‌তে হ‌বে।

সভাপতির বক্তব্যে চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপি’র আহ্বায়ক ডা. শাহাদাত হোসেন বলেছেন, ২০১৪ সালের রকিব উদ্দিন কমিশনার ও ২০১৮ সালে সালের নুরুল হুদা কমিশনারের অধীনে ভোট ডাকাতির নির্বাচন হয়েছিল। তারা সবাই রাস্ট্রপতির সার্চ কমিটির মাধ্যমে নির্বাচিত। কাজেই যারা এই সার্চ কমিটির মাধ্যমে নির্বাচিত হয়েছে নির্বাচন কমিশনার ও প্রধান নির্বাচন কমিশনারসহ সবাই ভোট ডাকাতির সাথে জড়িত। এই সরকার আরও একটি ভোট ডাকাতির পাঁয়তারা করছে। সুতরাং এই ধরনের কোনো সার্চ কমিটির মাধ্যমে নির্বাচন কমিশন এই দেশের মানুষ মানবেনা। তত্ত¦াবাবধায়ক সরকারের অধীনে ছাড়া বাংলাদেশে কোনো নির্বাচন হবে না। এই সরকারের অধীনে ২০১৪ সালে ও ২০১৮ সালে সার্চ কমিটি রাষ্ট্রপতির মাধ্যমে হয়েছিল। সেই নির্বাচন কমিশন গুলো বাংলাদেশের জনগণের ভোটাধিকার গণতন্ত্রকে হত্যা করেছ। এখনো তারা আবারো চিন্তাভাবনা করছে আরও একটি ভোট ডাকাতির ইতিহাস রচনা করতে । এই ধরনের কোন ভোট ডাকাতির নির্বাচন করে, গণতন্ত্র হত্যা করে এই দেশে আর কোনো নির্বাচন হবে না। হতে দেওয়া হবে না। জনগণের ভোটের অধিকার রক্ষায় নির্দলীয় নিরপেক্ষ সরকারের বিকল্প নেই। ডা. শাহাদাত হোসেন আরো বলেন, দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তির দাবিতে বিএনপির নেতাকর্মীরা সোচ্চার। পাশাপাশি আইনের শাসন দুর্নীতিমুক্ত বাংলাদেশ গড়তে দৃঢ় প্রত্যয়।

চট্টগ্রাম মহানগর বিএন‌পির সদস‌্য স‌চিব আবুল হা‌শেম বক্কর ব‌লে‌ছেন, ২০১৪ সালে ৫ জানুয়ারী একতরফা ভোটার‌বিহীন নির্বাচ‌নের মাধ‌্যমে মানু‌ষের গণতা‌ন্ত্রিত অ‌ধিকার হত্যার ক‌রে জগদ্দল পাথ‌রের মত চে‌পে ব‌সে‌ছে বর্তমান ফ‌্যা‌সিবাদ সরকার। আজ দে‌শে ভোটা‌ধিকার, আই‌নের শাসন, মতপ্রকা‌শের স্বাধীনতা নেই। ২০১৪ সা‌লের পর সরকার সর্ব‌ক্ষে‌ত্রে দেশের মানুষের গণতা‌ন্ত্রিক অ‌ধিকার কে‌ড়ে নি‌য়ে‌ছে। স্বাধীন দে‌শে এই যেন পারাধীনতার শৃংখল। দে‌শের প্রতি‌টি নির্বাচ‌নে প্রশাস‌ন ও নির্বাচন ক‌মিশ‌নের যৌথ প্রযোজনায় ভোট ডাকা‌তির মহোৎসব চল‌ছে। দে‌শের জনগন এই ভোট‌চোর‌দের বিরুদ্ধে জে‌গে উ‌ঠে‌ছে। আমরা আজ জনগণের গণতন্ত্র মুক্তি ও গণতন্ত্র মা কে মুক্তির জন্য এইখানে এসেছি। অ‌চি‌রেই দে‌শে গণতন্ত্র, ভোটা‌ধিার প্রতি‌ষ্ঠিত হ‌বে, বেগম খা‌লেদা জিয়ার মু‌ক্তির মাধ‌্যমে জনগণ প‌রিপূর্ণ মু‌ক্তির স্বাদ পা‌বে।

চট্টগ্রাম মহানগর বিএন‌পির আহবায়ক ডা. শাহাদাত হো‌সেন’র সভাপ‌তি‌ত্বে সদস‌্য স‌চিব আবুল হাশেম বক্কর’র প‌রিচালনায় মানববন্ধন কর্মসূ‌চি‌তে বক্তব‌্য রা‌খেন দ‌ক্ষিন জেলা বিএন‌পির সা‌বেক সভাপ‌তি ও সা‌বেক মন্ত্রী জাফরুল ইসলাম চৌধুরী, দ‌ক্ষিন জেলা বিএন‌পির আহবায়ক আবু সু‌ফিয়ান, মহানগর বিএন‌পির সি‌.যুগ্ম আহবায়ক আলহাজ্ব এম এ আজিজ, যুগ্ম আহবায়ক মোঃ ‌মিয়া ভোলা, এডঃ আবদুস সাত্তার, এস এম সাইফুল আলম, নাজিমুর রহমান, শফিকুর রহমান স্বপন কাজী বেলাল উদ্দীন, ইয়াসিন চৌধুরী লিটন, শাহ আলম, ইস্কান্দার মির্জা, আব্দুল মান্নান, সদস‌্য এরশাদ উল্লাহ, হারুন জামান, কমিশনার মাহবুবুল আলম, ইকবাল চৌধুরী, অধ্যাপক নুরুল আলম রাজু, এস এম আবুল ফয়েজ, নাজিম উ‌দ্দিন আহ‌মেদ, আর ইউ চৌধুরী শাহীন, আহমেদুল আলম চৌধুরী রাসেল,আবুল হাশেম হা‌শেম, আনোয়ার হোসেন লিপু, গাজী সিরাজ উল্লাহ, মনজুর আলম চৌধুরী মনজু, কামরুল ইসলাম , মহানগর যুবদ‌লের সভাপ‌তি মোশারফ হো‌সেন দিপ্তী, জেলা বিএনপির সদস্য এডভোকেট ইফতেখার মহসিন,জামাল হোসেন ,লায়ন হেলাল উদ্দিন , মোস্তাফিজুর রহমান,নগর স্বেচ্ছা‌সেবক দ‌লের সভাপ‌তি এইচ এম রা‌শেদ খান, ভ‌ারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক আ‌লি মুর্তোজা খান, ছাত্রদ‌লের আহবায়ক সাইফুল আলম, সদস‌্য স‌চিব শরীফুল ইসলাম তুহীন, থানা বিএন‌পির সভাপ‌তি মোশারফ হো‌সেন ডেপ‌টি, হাজী হা‌নিফ সওদাগর, সরফরাজ কা‌দের রা‌সেল, ডা. নুরুল আফসার, আবদুস সাত্তার সে‌লিম, মো. সেকান্দর, মোঃ আজম, আবুল্লাহ আল হারুন, থানা বিএন‌পির সাধারণ সম্পাদক,আলহাজ্ব জ‌কির হো‌সেন, সাহাব উ‌দ্দিন, ম‌নির আহমদ চৌধুরী, জ‌সিম উ‌দ্দিন জিয়া, জাহাঙ্গীর আলম, মঈনউদ্দীন চৌধুরী মাঈনু, নূর হো‌সেন, আবদুল কা‌দের জ‌সিম, হাজী বাদশা মিয়া, হা‌বিবুর রহমানসহ থানা ও ওয়ার্ডের নেতৃবৃন্দ।

Feb2

জনপ্রশাসন সঠিকভাবে কাজ করলে অবশ্যই জনগণের রায় প্রতিফলিত হয়

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: রবিবার, ৩ মে, ২০২৬, ৩:৩৩ অপরাহ্ণ
জনপ্রশাসন সঠিকভাবে কাজ করলে অবশ্যই জনগণের রায় প্রতিফলিত হয়

প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়াম্যান তারেক রহমান বলেছেন, জনপ্রশাসন যদি সঠিকভাবে কাজ করে তাহলে অবশ্যই জনগণের রায় প্রতিফলিত হয়। ১২ ফেব্রুয়ারি নির্বাচনে জনগণের সামনে একটি বিষয় কিন্তু প্রমাণিত হয়েছে।

তিনি বলেন, এই নির্বাচনে জনরায়ের প্রতি ফলন ঘটেছে। জনপ্রশাসনের পক্ষে সুষ্ঠু নির্বাচন পরিচালনা করা সম্ভব। সেটি আপনারা প্রমাণ করেছেন ১২ তারিখের নির্বাচনে। অপরদিকে যদি আপনাদের কাজ করতে না দেওয়া হয়, তাহলে কি হতে পারে সেটি আমরা ১৪, ১৮ বা ২৪ সালের নির্বাচনগুলোতে দেখেছি।

রোববার (৩ মে) রাজধানীর ওসমানি স্মৃতি মিলনায়তনে চার দিন ব্যাপী জেলা প্রশাসক (ডিসি) সম্মেলন-২০২৬ এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।

প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের পর জেলা প্রশাসকদের সঙ্গে এটিই তার প্রথম আনুষ্ঠিক সভা জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, একটি অবাধ সুষ্ঠু এবং নিরপেক্ষভাবে অনুষ্ঠিত জাতীয় নির্বাচনে জনগণের রায়ে বিএনপি রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব গ্রহণের পর আপনাদের সঙ্গে আমার এটাই প্রথম আনুষ্ঠানিক একটি সভা বা বৈঠক।

তিনি বলেন, ১২ ফেব্রুয়ারি জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠানে আপনাদের সবাই হয়তো জেলা প্রশাসক হিসেবে সরাসরি জাতীয় নির্বাচনের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ছিলেন না। তবে আপনারা প্রায় প্রত্যেকেই হয়তো যিনি যার অবস্থান থেকে প্রত্যক্ষ কিংবা পরোক্ষভাবে জাতীয় নির্বাচন পরিচালনা কার্যক্রমের সঙ্গে হয়তো জড়িত ছিলেন। বিগত জাতীয় নির্বাচন পরিচালনায় পেশাদারিত্বের পরিচয় দিয়ে জনপ্রশাসনে যারা জাতীয় দায়িত্ব পালন করেছেন, আমি প্রথমেই তাদের জানাই আন্তরিক অভিনন্দন এবং ধন্যবাদ।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, এই জেলা প্রশাসক সম্মেলন অবশ্যই নতুন কিছু নয়, এটি জেলা প্রশাসকদের একটি নিয়মিত বাৎসরিক সম্মেলন। আজ থেকে এটি শুরু হবে এবং ৬ মে পর্যন্ত চলবে। জনস্বার্থে প্রশাসনের কী ভূমিকা পালন করা উচিত সেটি অবশ্যই আপনারা-কম বেশি অবগত রয়েছেন। এটি নিয়েও বোধহয় নতুন করে বিস্তারিত কিছু বলার নেই। তবে এটি যেহেতু বর্তমান গণতান্ত্রিক সরকারের সঙ্গে আপনাদের প্রথম আনুষ্ঠানিক বৈঠক, সেহেতু সরকারের গৃহীত নীতিমালা এবং জনপ্রশাসন সম্পর্কে সরকারের কিছু পদক্ষেপ বা পর্যবেক্ষণ এবং নির্দেশনা নিয়েই মূলত আমি আপনাদের সামনে কয়েকটি কথা তুলে ধরতে চাই বা বলতে চাই।

তিনি বলেন, একটি দেশের জনপ্রশাসনে পদোন্নতি কিংবা পোস্টিংয়ের জন্য যতগুলো প্রশাসনিক পদ রয়েছে, প্রতিটি পদই রাষ্ট্র এবং সরকারের জন্য অবশ্যই প্রয়োজনীয় ও গুরুত্বপূর্ণ। সুতরাং শুধুমাত্র পদোন্নতি কিংবা নিজেদের পছন্দের জায়গায় পোস্টিংয়ের জন্য পেশাদারিত্বের সঙ্গে আপস করলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা সাময়িকভাবে হয়তো লাভবান হতে পারেন। তবে আমি ব্যক্তিগতভাবে মনে করি, সেটি সার্বিকভাবে জনপ্রশাসনের দক্ষতা এবং নিরপেক্ষতার উপরে একটা নেতিবাচক প্রভাব ফেলে। সুতরাং জনপ্রশাসনের কর্মকর্তাদের সব পদে কাজ করার মানসিকতা থাকা জরুরি।

তিনি আরও বলেন, সবসময় নিজেদের পছন্দের পদে পদায়ন কিংবা পোস্টিং পাওয়ার মানসিকতাই কিন্তু জনপ্রশাসনকে হয়তোবা দুর্নীতি পরায়ন এবং অপেশাদার করে তোলার অন্যতম একটি কারণ। সুতরাং আপনাদের প্রতি আমার বিশেষ আহ্বান থাকবে জনপ্রশাসনের প্রতিটি পদকেই গুরুত্বপূর্ণ এবং অনিবার্য ভাবুন। দেশের যেকোনো স্থানেই যেকোনো সময় জনপ্রশাসনের যেকোনো পদে দায়িত্ব পালনের জন্য নিজেদের মানসিকভাবে প্রস্তুত করে রাখুন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, সরকার যেরকম চিরস্থায়ী নয়, জনপ্রশাসনের কোনো পদ কারও জন্য চিরস্থায়ী নয়। এজন্যই আমি পূর্বের কথাটি বলেছি আপনাদের সামনে। জনপ্রশাসনের যেকোন স্তরের কর্মকর্তারা যদি রাষ্ট্রের প্রয়োজনে, যেকোনো সময়, যেকোনো পদে, দেশের স্বার্থে, যেকোনো স্থানে কাজ করার জন্য মানসিকভাবে প্রস্তুতি থাকেন, আমার বিশ্বাস জনপ্রশাসনে পেশাদারিত্ব গড়ে ওঠার ক্ষেত্রে এটা একটা সহায়ক ভূমিকা রাখবে।

তারেক রহমান বলেন, জনগণ সরাসরি ভোটের মাধ্যমে দীর্ঘদিন ধরে একটি জবাবদিহিমূলক ন্যায়ভিত্তিক ও জনকল্যাণমুখী শাসন ব্যবস্থার প্রত্যাশা থেকে সাধারণ মানুষের আকাঙ্ক্ষার প্রতিফলন হচ্ছে বর্তমান সরকার। স্বাভাবিকভাবেই জনগণ সরকারের প্রতিটি কাজের মাধ্যমে তাদের আকাঙ্ক্ষার একটি বাস্তব প্রতিফলন দেখতে চাইবে। বিশেষ করে বিভাগীয় কমিশনার এবং জেলা প্রশাসকরাই জনগণের সঙ্গে সরকারের প্রধান সেতু বন্ধন। আপনাদের সততা কর্মদক্ষতা এবং দায়বদ্ধতার উপরে সরকারের গৃহীত কার্যক্রমের সাফল্য বলা যায় প্রায় পুরোটাই নির্ভর।

তিনি বলেন, দেশের বর্তমান রাজনৈতিক অর্থনৈতিক অবস্থা ব্যবস্থা সম্পর্কে আমার মনে হয় আপনারা ভালোভাবে অবগত রয়েছেন। দেশের ইতিহাসের সবচেয়ে ভঙ্গুর অর্থনীতি দুর্বল বিভাজিত জনপ্রশাসন এবং অবনতিশীল আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির মধ্যে বর্তমান সরকারকে কাজ শুরু করতে হয়েছিল। অবশ্যই আমি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি, আপনাদের সহযোগিতায় অনেকখানি সেই পরিস্থিতি আমরা পরিবর্তন করতে সক্ষম হয়েছি, এই আড়াই মাসে। তবে সম্পূর্ণভাবে সেটি এখনো পরিবর্তিত হয়নি। ফ্যাসিবাদী শাসন আমলে দুর্নীতি, লুটপাট, রাষ্ট্র এবং জনগণকে ঋণগ্রস্ত করে ফেলেছিল। সেই শাসন আমল ৩০ লাখ কোটি টাকা ঋণের বোঝা বর্তমান সরকারের কাঁধে। বিগত সরকারের সময় দেশকে একটা আমদানিনির্ভর রাষ্ট্রে পরিণত করে ফেলা হয়েছিল। বিভিন্ন স্ট্যাটিস্টিকস যেটা বলে দেশে দারিদ্র বেড়েছে। দেশে বেকারত্ব বেড়েছে। নতুন কর্মসংস্থান হয় নাই বললেই চলে। প্রতিটি সাংবিধানিক এবং বিধিবদ্ধ প্রতিষ্ঠানকে বলা যায় অকার্যকর করে ফেলা হয়েছিল। আপনারা মনে হয় তার সবচেয়ে বড় উদাহরণ।

তিনি বলেন, বর্তমানে যুদ্ধ পরিস্থিতি নতুন সরকারের সামনে একটি চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। যুদ্ধ পরিস্থিতি থেকে হয়তো এই মুহূর্তে পৃথিবীর কোনো দেশই রক্ষা পায়নি। সব দেশই কমবেশি এফেক্টেড হয়েছে। বাংলাদেশে এফেক্টেড হয়েছে। তবে জনগণের ভোগান্তি না বাড়িয়ে আমরা সকলে মিলে কিভাবে পরিস্থিতির মোকাবিলা করা যায় সেটি হচ্ছে আমাদের চেষ্টা বা অব্যাহত চেষ্টা। আপনাদের সহযোগিতায় সেই চেষ্টা আমরা অব্যাহত রেখেছি। ঠিক এই পরিস্থিতি মোকাবিলা করেই কিন্তু বর্তমান সরকার দেশের আবহমান কালের ধর্মীয় সামাজিক মূল্যবোধের আলোকে একটি ন্যায়ভিত্তিক কল্যাণ রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা করতে চাইছি আমরা। এই লক্ষ্যকে বাস্তবায়নে সরকার দেশের প্রতিটি শ্রেণিপেশার মানুষের জীবন মান উন্নয়নের বিভিন্ন পদক্ষেপের বাস্তবায়ন কাজ শুরু করেছে সরকার।

জুলাই সনদের প্রতিটি দফা আমরা বাস্তবায়ন করব : প্রধানমন্ত্রী

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: রবিবার, ৩ মে, ২০২৬, ১:১৪ অপরাহ্ণ
জুলাই সনদের প্রতিটি দফা আমরা বাস্তবায়ন করব : প্রধানমন্ত্রী

জুলাই সনদের প্রতিটি দফা আমরা বাস্তবায়ন করব বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান।

রোববার (০৩ মে) রাজধানীর ওসমানি স্মৃতি মিলনায়তনে ৪দিন ব্যাপী জেলা প্রশাসক (ডিসি) সম্মেলন-২০২৬-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমি আরেকটু পরিষ্কার করে আপনাদের সামনে তুলে ধরতে চাই। নির্বাচনী ইশতেহার এবং জনগণের সামনে স্বাক্ষরিত যে জুলাই সনদ। আমরা সেই সব কিছু অর্থাৎ আমাদের ম্যানিফেস্টো এবং জুলাই সনদ এটার প্রতিটি দফা, প্রতিটি অঙ্গীকার পর্যায়ক্রমে আমরা বাস্তবায়ন করতে চাই।

তিনি বলেন, আমরা এ ব্যাপারে বদ্ধপরিকর। আমি আশা করব, আপনারা আপনাদের মেধা ও যোগ্যতা দিয়ে জনগণের কাছে দেওয়া সরকারের প্রতিটি প্রতিশ্রুতি, দক্ষতার সঙ্গে বাস্তবায়নে ভূমিকা রাখতে সক্ষম হবেন, ইনশাআল্লাহ।

সিলেটে ট্রাক-পিকআপ সংঘর্ষে নিহত ৮

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: রবিবার, ৩ মে, ২০২৬, ১১:২২ পূর্বাহ্ণ
সিলেটে ট্রাক-পিকআপ সংঘর্ষে নিহত ৮

সিলেটের দক্ষিণ সুরমার তেলিবাজারে ট্রাক ও পিকআপের সংঘর্ষে ৮ জন নিহত হয়েছেন। রোববার (৩ মে) সকাল সাড়ে ৬টার দিকে ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের তেলিবাজার এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। তাৎক্ষণিক নিহতদের পরিচয় পাওয়া যায়নি।

এ ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও কয়েকজন। নিহতদের বেশিরভাগ নির্মাণ শ্রমিক বলে জানা গেছে। তারা সিলেট থেকে সুনামগঞ্জ যাচ্ছিলেন।

সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশের (এসএমপি) অতিরিক্ত উপকমিশনার (গণমাধ্যম) মো. মঞ্জুরুল আলম এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, একটি পিকআপে করে বেশ কয়েকজন শ্রমিক সিলেট থেকে সুনামগঞ্জের দিকে যাচ্ছিলেন। তেলিবাজার এলাকায় যাওয়ার পর উল্টো দিক থেকে আসা কাঁঠালভর্তি একটি ট্রাকের সঙ্গে পিকআপের সংঘর্ষ হয়। এতে ঘটনাস্থলে চারজনের মৃত্যু হয় এবং হাসপাতালে নেওয়ার পর আরও চারজনের মৃত্যু হয়।

মরদেহ সিলেট এম এ জি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে নেওয়া হয়েছে। নিহতদের পরিচয় শনাক্তে পুলিশ কাজ করছে বলে জানিয়েছে এসএমপি।

সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশের অতিরিক্ত উপকমিশনার (গণমাধ্যম) মো. মঞ্জুরুল আলম বলেন, সংঘর্ষে ৮ জনের মৃত্যু হয়েছে। দুর্ঘটনায় আরও বেশ কয়েকজন আহত হয়েছেন। তাদের হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। হতাহতদের পরিচয় শনাক্ত করতে পুলিশ কাজ করছে।