মান্না দের কফি হাউস গান নিয়ে কটাক্ষ সোহিনীর
প্রখ্যাত সংগীতশিল্পী মান্না দের কালজয়ী গান ‘কফি হাউসের সেই আড্ডাটা আজ আর নেই…’। দুই বাংলার শ্রোতার মনে যুগ যুগ ধরে গেঁথে আছে গানটি। অথচ জনপ্রিয় এ গানটি নিয়ে নেতিবাচক মন্তব্য করে বসলেন ভারতীয় পরিচালক সোহিনী দাশগুপ্ত।
‘কফি হাউস’ নিয়ে কলকাতা তো বটেই ঢাকাবাসীর আবেগও কম নয়। ধোঁয়া ওঠা কফির কাপ। আর অনেকটা আড্ডা। যতক্ষণ খুশি আলাপ-আলোচনা-পর্যালোচনা চলতেই থাকে। এখানেই বন্ধুত্বের সূত্রপাত, প্রেমের পরিণতি। বিষাদের বেদনায় পাতার পর পাতা লেখা কবিতার উৎস এই কফি হাউস।
শুক্রবার (১৮ ফেব্রুয়ারি) সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে ‘কফি হাউস’ গানটি নিয়ে পোস্ট দেন সোহিনী। পোস্টে তিনি লিখেছেন, কফি হাউসের সেই আড্ডাটা ভীষণ লুজার সং! সাতটা ন্যাকার ঘ্যানঘ্যান। নস্টালজিয়ারও একটা স্ট্যান্ডার্ড থাকা উচিত। নিজের পোস্টের নিচে পরিচালক জানিয়েছেন, সকালে রেডিওয় গানটি শোনার পর তার এ উপলব্ধি হয়েছে।
সোহিনীর ওই পোস্টে অনেকে মন্তব্যও করেছেন। পরিচালকে সমর্থন করে লেখা হয়েছে, যে কোনো স্মৃতি নিয়ে কেউ যদি বেশি ঘ্যানঘ্যান করে বেশি দিন সেটা অসহ্য হয়ে দাঁড়ায়। সেই জন্য গানটা, মাঝে মাঝে শুনি। ফাইনালি! কেউ তো আমার মনের কথা বুঝল, এমন মন্তব্যও করা হয়েছে।
অন্যদিকে সোহিনীর মন্তব্যের বিরোধিতাও করা হয়েছে মন্তব্য বাক্সে। সেখানে আবার লেখা হয়েছে, এটা তো কালজয়ী গান। আপনার ব্যক্তিগত মতামত তবে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে দিলে সেটা ব্যক্তিগত আর থাকে না, তাই না! আপনি একটা কিছু ঘ্যানঘ্যানহীন নসট্যালজিক লিখুন না। পুলক বন্দ্যোপাধ্যায়, মান্না দের সৃষ্টি নিয়ে উক্তি করেছেন মানে আপনার মধ্যে কিছু এক্সট্রা অর্ডিনারি ক্ষমতা আছে।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে ভারতীয় সংবাদ মাধ্যম আনন্দবাজারকে সোহিনী বলেন, সকালে এফএম চ্যানেলে গানটি শুনতে শুনতে এ কথাগুলোই মনে হয়েছিল। সেই জায়গা থেকে কথাগুলো বলেছি। এবং এগুলো আমার উপলব্ধি।
পরিচালক আরও বলেন, আশির দশকে প্রথম এই গান শুনেছি। ভীষণ ভালো লেগেছিল সেই সময়। যেমন সুর, তেমনই গানের কথা। স্মৃতি তার সিংহভাগ জুড়ে। ধীরে ধীরে বড় হয়েছি। বার বার শুনতে শুনতে মনে হয়েছে গানে যেন একটি মেয়ের সম্পর্কেই বলা হয়েছে। সেই সময় হয়তো ওই গান সমসাময়িক ছিল। এখন সম্ভবত সেই সময় আর নেই। এই প্রজন্মের নিরিখে দেখলে আমার যেমন মনে হয়েছে বাকিদেরও সেটাই বক্তব্য, গানটি কিছু হেরে যাওয়া মানুষের। কয়েক জন হতাশ মানুষের ব্যর্থতার কাহিনি এ গান। তারা তাদের দুঃখের কাঁদুনি গাইছেন!
তার আরও দাবি, কফি হাউস সব সময়েই স্মৃতি-বিজড়িত। তা বলে সেখানে শুধুই কান্না, হতাশা থাকবে? গানের পাত্র-পাত্রীরা সবাই খুবই খারাপ আছেন। ব্যতিক্রম সুজাতা। তিনি সুখে আছেন বলে তার সুখকে যেন কটাক্ষও করা হয়েছে। এটা বোধ হয় একেবারেই গ্রহণযোগ্য নয়।
সোহিনী বলেন, স্বাধীন মতপ্রকাশের জায়গা থেকেই ফেসবুকে এ মন্তব্য লিখেছি। সুরকার, গীতিকার বা গায়ককে আক্রমণ করতে নয়। পুরোটাই করেছি মজার ছলে।
মজার ছলেই যদি আগামী প্রজন্ম বুদ্ধদেব দাশগুপ্তের কোনো কাজকে একইভাবে ব্যাখ্যা করেন, এমন প্রশ্নের জবাবে সোহিনী বলেন, আমি বুদ্ধদেব দাশগুপ্তের স্ত্রী বলেই কি পরিচালকের নাম উঠে এল?
তিনি বলেন, এ সমালোচনা সবার ক্ষেত্রেই প্রযোজ্য। একটি শিল্প সবার জন্য। তাকে ঘিরে ভালো লাগা বা মন্দ লাগা থাকবেই। সেটা বুদ্ধদেব দাশগুপ্তের কাজ হতে পারে। কিংবা মৃণাল সেন, সত্যজিৎ রায়ের।
এন-কে


আপনার মতামত লিখুন