বৃদ্ধ পিতাকে দাওয়াত খাওয়ানোর কথা বলে রাস্তায় ফেলে গেছে সন্তানেরা
দাওয়াত খাওয়ানোর কথা বলে বাড়ির বাইরে এনে অসুস্থ বৃদ্ধ পিতাকে রাজধানী ঢাকার রাস্তায় ফেলে যান সন্তানেরা। কয়েকদিন রাস্তায় পড়ে থাকার পর হতভাগা এই বাবার ঠিকানা হয়েছে বৃ্দ্ধাশ্রমে।
একজন নারী চিকিৎসক গত বুধবার কল্যাণপুরের দক্ষিণ পাইকপাড়ায় চাইল্ড অ্যান্ড ওল্ড এইজ কেয়ারে ফোন দিয়ে বিষয়টি জানালে তাকে ধানমন্ডির ১৫ নম্বরের কেএফসি রেস্তোরাঁর পাশ থেকে উদ্ধার করা হয়। বর্তমানে তিনি অনেকটা সুস্থ।
বৃদ্ধাশ্রমের প্রধান নির্বাহী মিলটন সমাদ্দার গণমাধ্যমকে জানান, উনি একদমই কানে শুনতে পারেন না। শরীরের বাম পাশ প্যারালাইজড। রাস্তায় কয়েকদিন ফেলে রাখায় শরীর একদম ভেঙে পড়েছে। আমাদের নিজস্ব চিকিৎসক তাকে দেখেছেন। এখন চিকিৎসা পেয়ে উনি অনেক ভালো আছেন।
পরিবারের সদস্যদের খোঁজা হচ্ছে জানিয়ে মিলটন বলেন, আমরা এখনো তার পরিবারের কাউকে পায়নি। উনি একদমই কানে শোনেন না। উচ্চস্বরে কথা বলতে হয়। তিনি ঠিকানা বলেছেন ডেমরা। সেখানে নিজের দুটি বাড়ি রয়েছে বলেও জানিয়েছেন তিনি। এক মেয়ের নাম বললেও তা স্পষ্ট বোঝা যায় না। তবে এ টুকু বোঝা গেছে তাকে দাওয়াত খাওয়ানোর কথা বলে রাস্তায় ফেলে গেছে সন্তানেরা।
ধারণা করা হচ্ছে এক সাইড প্যারালাইজড এই কারণে বিছানায় পায়খানা-প্রসাব করেন। হয়ত একটা মাত্র মেয়ে সামলাতে পারছে না। চিন্তা করেছে রাস্তায় ফেলে রেখে যায়।
এ বছরের ১৩ সেপ্টেম্বর কল্যাণপুরের এই বৃদ্ধাশ্রমেই মারা যান মতিন মিয়া নামে এক ব্যক্তি। মতিনকে দুই বছর আগে দূর-সম্পর্কের মামা পরিচয়ে বৃদ্ধাশ্রমে রেখে যান নিজের সন্তান। মৃত্যুর আগে কয়েকবার ছেলে ও নাতি-নাতনিদের দেখতে চেয়েছিলেন তিনি। বারবার মতিনের সঙ্গে সন্তানদের দেখা করতে বলা হলেও তারা কেউ আসেননি। এমনকি মৃত্যুর পরও বাবার মরদেহ দেখতে আসেনি ছেলে ও স্বজনরা। পরে তাকে মিরপুর করবস্থানে দাফন করেন বৃদ্ধাশ্রমের কর্মীরা।


আপনার মতামত লিখুন