আজ সন্দ্বীপ উপজেলা আওয়ামী লীগের সম্মেলন
সন্দ্বীপ (চট্টগ্রাম) প্রতিনিধি : দীর্ঘ ৮ বছর পর সন্দ্বীপ উপজেলা আওয়ামী লীগের সম্মেলন অনুষ্ঠিত হবে আজ ৩০ নভেম্বর। এই উপলক্ষে প্রার্থী, নেতা কর্মী ও কাউন্সিলরদের মাঝে উৎসব মুখর পরিবেশ বিরাজ করছে।
কাউন্সিলকে ঘিরে পদ প্রত্যাশীরা ইতিমধ্যে তাদের প্রচারণা শেষ করেছেন, আবার কেউ কেউ উপর মহলের আশির্বাদে পদ পাওয়ার জন্য লবিং করে যাচ্ছে। সেই ক্ষেত্রে বর্তমান সাংসদের অনুসারী প্রার্থীদের সংখ্যায় বেশি বলে কাউন্সিলরদের আশংকা প্রকাশ করছেন শেষ পর্যন্ত সব নিয়ম মাফিক শেষ হবে কিনা।
সম্মেলনে ভোটাভুটির মাধ্যমে নাকি সমঝোতায় নতুন নেতৃত্ব আসছে তা নিয়েও আলোচনার কমতি নেই। তবে সভাপতি-সাধারণ সম্পাদকসহ কমিটির গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি পদে নতুন মুখ আসতে পারে বলে দলের কেন্দ্র ও জেলা হাইকমান্ড সূত্রে নিশ্চিত হওয়া গেছে। উৎসবের পাশাপাশি সম্মেলন অনুষ্ঠানে প্রতিদ্বন্দ্বিতাকে ঘিরে কোনো অনভিপ্রেত ঘটনা ঘটে কি না—এ নিয়ে আতঙ্কে আছেন কেউ কেউ।
দেশের বৃহৎ এ সংগঠনের উপজেলা কমিটির সভাপতি পদে দুই জন সাধারণ সম্পাদক পদ প্রত্যাশীরা সংখ্যা এক ডজনেরও বেশি। পদ প্রত্যাশীদের অনুসারী ও শুভাকাঙ্খিরা পছন্দের প্রার্থীকে নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রচার-প্রচারণায় সরব রয়েছেন।
উপজেলা আওয়ামী লীগের সম্মেলনে সভাপতি পদে বর্তমান সভাপতি ও উপজেলা চেয়ারম্যান মাস্টার শাহজাহান, সাবেক সাধারণ সম্পাদক মুক্তিযোদ্ধা রফিকুল ইসলামকে নিয়ে তৃনমূলের নেতাকর্মীদের আগ্রহ চোখে পড়ার মতো।
সাধারণ সম্পাদক পদ পাওয়ার জন্য যারা লড়ছেন তাদের মধ্যে- উপজেলা আওয়ামী লীগের সহ – সভাপতি হাজী ফোরকান উদ্দীন আহমেদ, ভাইস চেয়ারম্যান মাঈন উদ্দীন মিশন, বর্তমান সাধারণ সম্পাদক মো. আলী খসরু, যুগ্ন সাধারণ সম্পাদক আলাউদ্দীন বেদন, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাকসুদুর রহমান খাঁন শাহীন, সাংগঠনিক সম্পাদক মশিউর রহমান বেলাল, দপ্তর সম্পাদক আবু তাহের, জেলা যুবলীগের অর্থ সম্পাদক আতিকুর রহমান ফরহাদ পৌর আওয়ামী লীগের সাবেক সভাপতি অধ্যক্ষ জামিল ফরহাদ লবিং ও প্রচারণা শেষ করেছেন, মুলত এই পদের প্রতিদ্বন্দ্বিতা হবে দুই থেকে তিনজনের মধ্যে।
সর্বশেষ কাউন্সিল অনুষ্ঠিত হয় ২০১১ সালে। দীর্ঘ ৮ বছর পর সন্দ্বীপ উপজেলা আওয়ামী লীগের সম্মেলন হচ্ছে তাই তৃণমূল নেতাকর্মীদেরও আগ্রহের কমতি নেই। তবে কাউন্সিলে দলীয় আদর্শে বিশ্বাসী ত্যাগী আর নিবেদিতদের স্থান দিতে আহবান জানিয়েছেন তৃণমূল কর্মীরা।
সভাপতি সাধারণ সম্পাদক পদে একাধিক জনের আগ্রহ থাকায় কাউন্সিলরদের সরাসরি ভোটে নির্বাচিত করা হতে পারে এমন ধারণা সকলের।
সম্মেলনে প্রধান অতিথি থাকবেন সাবেক মন্ত্রী, আওয়ামীলীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য ইঞ্জিনিয়ার মোশারফ হোসেন এমপি। বিশেষ অতিথি থাকবেন উত্তর জেলা আওয়ামীলীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি এ বি এম ফজলে করিম চৌধুরী এমপি, সাধারণ সম্পাদক এম এ সালাম ও স্থানীয় সংসদ সদস্য মাহফুজুর রহমান মিতা এমপি।
উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মাস্টার শাহজাহান বলেন, দীর্ঘ দিন উপজেলা আওয়ামী লীগের দায়িত্ব পালন করে আসছি। দলের যেকোন দুঃসময়ে ছিলাম এবং আমৃত্যু থাকবো। যদি তৃনমূলের নেতাকর্মীরা মনে করে আমি থাকলে উপজেলা আওয়ামী লীগের জন্য মঙ্গলজনক হবে তাহলে আমি বঙ্গবন্ধু কন্যা জননেত্রী শেখ হাসিনার হাতকে শক্তিশালী করার জন্য কাজ করার বিষয়ে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।
সভাপতি পদ প্রত্যাশী সাবেক সাধারণ সম্পাদক মুক্তিযোদ্ধা মো. রফিকুল ইসলাম বলেন ৭৫ পরবর্তী দলের দুঃসময়ে হাল ধরেছিলাম। দলের যেকোন আন্দোলন সংগ্রামে ওতপ্রোত জড়িত ছিলাম। আশা করি দলের নীতিনির্ধাকরা এবং তৃণমূলের নেতাকর্মীরা আমাকে সভাপতি পদে নির্বাচিত করবেন।
এমপি মন্ত্রীদের উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি হওয়ার বিষয়ে বিধি নিষেধ থাকায় সন্দ্বীপের সংসদ সদস্য মাহফুজুর রহমান মিতা সভাপতি পদে আগ্রহী নয় বলে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ঘোষণা দিয়েছেন।
এমপি মিতা আরো বলেন, বর্তমান উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মাস্টার শাহজাহান এর নেতৃত্বে উপজেলা আওয়ামী লীগ এখনো পর্যন্ত ঐক্যবদ্ধ আছে। তিনি উপজেলা আওয়ামী লীগের বটবৃক্ষ। পুনরায় তিনি সভাপতি হলে উপজেলা আওয়ামী লীগ শক্তিশালী হবে বলে নেতৃস্থানীয়রা মনে করছেন। তাই আমি মনে প্রাণে চাইব মাস্টার শাহজাহান আবারও উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি হোক। কারণ তিনি আমার পিতার মতো। আগামী দিনে আমরা বাবা ছেলে মিলে উপজেলা আওয়ামী লীগকে সুসংগঠিত করতে কাঁধে কাঁধ রেখে কাজ করে যাব।


আপনার মতামত লিখুন