মিরসরাই ও জোরারগঞ্জে পৃথক হামলায় ছাত্রলীগ ও আওয়ামীলীগের দুই নেতা আহত
মিরসরাই (চট্টগ্রাম) প্রতিনধি : পৃথক দুটি ঘটনাকে কেন্দ্র করে প্রতিপক্ষের হামলায় মিরসরাই আওয়ামীলীগ ও ছাত্রলীগের দুই নেতা মারাত্মক আহত হয়েছে। বর্তমানে দুজনই হাসপাতালে আশঙ্কাজনক আবস্থায় চিকিৎসাধিন।
জানা যায়, গতকাল শুক্রবার (২৯নভেম্বর) সন্ধ্যায় মিরসরাইয়ের আবুতোরাব বাজারে এক ছাত্রলীগ নেতাকে কুপিয়ে জখম করেছে আরেক ছাত্রলীগ নেতা। আহত আব্দুল কাইয়ুম সদ্য বিলুপ্ত ১১নং মঘাদিয়া ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সভাপতি।
অপরদিকে এর আগের দিন বৃহস্পতিবার (২৮ নভেম্বর) বিকেলে একই উপজেলার জোরারগঞ্জ থানার ৪ নং ধুম ইউনিয়নের শুক্কুর বারইয়ারহাট এলাকায় ধানকাটা নিয়ে বিরোধের জের ধরে সাইফুদ্দিন চৌধুরী রূপম (৪৫) নামের এক আওয়ামী লীগ নেতাকে কুপিয়ে মারাত্মক জখম করেছে একই বাড়ির বিপ্লব ও তার সঙ্গিরা।
তবে এ প্রতিবেদন তৈরি করা পর্যন্ত উভয় ঘটনার একটিরও অভিযোগ করা হয়নি থানায়। ফলে দুটি ঘটনার একটিতেও মামলা হয়নি বলে থানা সূত্রে জানা গেছে।
স্থানীয়রা জানান, ধানকাটা নিয়ে বিরোধের জের ধরে সাইফুদ্দিন চৌধুরী রূপম (৪৫) নামের এক আওয়ামী লীগ নেতাকে কুপিয়ে মারাত্মক জখম করেছে প্রতিপক্ষ। বৃহস্পতিবার (২৮ নভেম্বর) বিকেলে উপজেলা ৪ নং ধুম ইউনিয়নের শুক্কুরবারইয়ারহাট এলাকার কাজলের দোকানের সামনে এই ঘটনা ঘটেছে। বর্তমানে রূপম ঢাকা ট্রমা সেন্টারে চিকিৎসাধীন রয়েছে।
তার শারীরিক অবস্থা আশংকানজক। সে ধুম ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সদ্য বিলুপ্ত কমিটির যুগ্ম সম্পাদকের দায়িত্বে ছিলেন।
আওয়ামী লীগ নেতা এসএম সিরাজ মেম্বার বলেন, রূপমের সাথে দীর্ঘদিন একই বাড়ির বিল্পবের জমি সংক্রান্ত বিরোধ চলে আসছিলো। বৃহস্পতিবার বিকেলে নিজের জমি থেকে জোরপূর্বক জমি থেকে ধান কাটার বিষয়টি জিজ্ঞেস করলে কিছু বুঝে উঠার আগেই বিল্পবের হাতে থাকা দা দিয়ে কুপিয়ে মারাত্মক জখম করে। এসময় রূপমের হাতের কবজি কেটে প্রচুর রক্তক্ষরণ হয়।
এরপর স্থানীয় লোকজনের সহায়তায় তাকে উদ্ধার করে প্রথমে বারইয়ারহাট জেনারেল হাসপাতাল নেয়া হয়। সেখান থেকে চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে (চমেক) ও পরে শারীরিক অবস্থা আশংকাজনক হলে ঢাকা পঙ্গু হাসপাতালে প্রেরণ করা হয়। এরপর সেখান থেকে ঢাকা ট্রমা সেন্টারে নিয়ে শুক্রবার সকালে তার হাতের অপারেশন করা হয়েছে।
এই ঘটনায় জোরারগঞ্জ থানায় একটি মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে। ধুম ইউনিয়নের ১ নং ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক হাজ্বী শামশুদ্দিন ভূঁইয়া বলেন, রূপম ভাইয়ের উপর হামলার প্রতিবাদে ও দোষীদের শাস্তির দাবীতে শুক্রবার বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে।
অপরদিকে একই উপজেলার মিরসরাই থানার আবুতোরাব বাজারে এক ছাত্রলীগ নেতা কুপিয়ে জখম করেছে আরেক ছাত্রলীগ নেতাকে। হামলায় আহত আব্দুল কাইয়ুম সদ্য বিলুপ্ত ১১নং মঘাদিয়া ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সভাপতি। শুক্রবার সন্ধ্যায় আবুতোরাব বাজারের মঘাদিয়া অংশে ওই ঘটনা ঘটে।
স্থানীয়রা জানায়, শুক্রবার (২৯নভেম্বর) সন্ধ্যায় আব্দুল কাইয়ুম ও ডালিম নামের অপর এক ছাত্রলীগ কর্মি আবুতোরাব বাজারের মডেল স্টোর নামের একটি দোকানে চা খেতে আসে। এসময় একে অপরের সাথে বাক বিতন্ডার এক পর্যায়ে দোকানটিতে ভাংচুর চালায়। ওই দোকানটির মালিক ১৩নং মায়ানী ইউনিয়ন ছাত্রলীগ সভাপতি ওমর ফারুকের বাবা।
ভাংচুরের খবর পেয়ে ওমর ফারুক ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে আব্দুল কাইয়ুমের উপর চড়াও হয়। এসময় সেখানে থাকা দা দিয়ে কুপিয়ে আব্দুল কাইয়ুমকে জখম করে। স্থানীয়রা আহতবস্থায় কাইয়ুমকে উদ্ধার করে প্রথমে মিরসরাই সদরের একটি হাসপাতালে ভর্তি করায়। পরবর্তীতে অবস্থার অবনতি ঘটলে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে (চমেক) পাঠানো হয়েছে।
জোরারগঞ্জ থানার ওসি মুফিজ উদ্দিন ভূইঞা ও মিরসরাই থানার ওসি (তদন্ত) বিপুল দেবনাথ উভয় ঘটনার সত্যাতা স্বীকার করে বলেন, ঘটনা মৌখিকভাবে শুনেছি কিন্তু এখনো কেউ অভিযোগ দায়ের করিনি। অভিযোগ পেলে আইনানুগ ব্যাবস্থা নেওয়া হবে। আবুতোরাবের ঘটনায় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনে রাখতে পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।


আপনার মতামত লিখুন