খুঁজুন
, ,

দুঃস্বপ্ন দেখেন! এর কারণ কী?

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Saturday, 20 August, 2022, 5:00 pm
দুঃস্বপ্ন দেখেন! এর কারণ কী?

দুঃস্বপ্ন আমাদের জীবনে প্রায় ঘটে থাকে। যা মাঝে মাঝে ভংয়করও বটে। গভীর ঘুমে আচ্ছন্ন, আচমকাই দুঃস্বপ্নের দাপটে সাধের ঘুম ভাঙ্গে রাতে। এমন তো অনেকের সঙ্গেই ঘটে। কিন্তু, কেন দুঃস্বপ্ন দেখি আমরা? এ বিষয়ে কৌতূহল দীর্ঘ দিনের। তা নিয়ে অনেকের অনেক ধরণের মত রয়েছে। এবার সে তালিকায় নাম লিখিয়েছে আমেরিকার মনোবিদ এবং লেখিকা কারমেন হেরার।

দুঃস্বপ্ন দেখার আসল কারণ কী? এ বিষয়ে ‘কমিটেড: ফাইন্ডিং লভ অ্যান্ড লয়ালটি থ্রু দ্য সেভেন আর্কিওটাইপস’-এর লেখিকার দাবি, একটি-দু’টি নয়, এর পিছনে লুকিয়ে রয়েছে ছ’টি কারণ।

চলুন দেখে নেওয়া যাক সেগুলো কী কী-

দুঃস্বপ্নের কারণ জানানোর আগে স্বপ্নকে বিশ্লেষণ করেছেন হেরা।

একটি ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যমকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, “ঘুমের মধ্যেও মস্তিষ্কের বেশ কিছু অংশ সজাগ থাকে। এবং মস্তিষ্কের থ্যালামাস, মেডিয়াল প্রিফ্রন্টাল কর্টেক্স এবং পস্টেরিয়র সিঙ্গুলেট কর্টেক্স-সহ একাধিক জেগে থাকা অংশের বুননে গড়ে ওঠে স্বপ্ন।”

হেরার মতে, “কখনও কখনও মস্তিষ্কের এই অংশগুলো নিজেদের মধ্যে যে সঙ্কেত আদানপ্রদান করে, তা নেতিবাচক এবং বেশ বিচলিত করে দেওয়ার মতো হয়।’’

এর কারণও খোলসা করেছেন হেরা। হেরা আরও বলেন, “মানসিক আঘাত, মাদকসেবন অথবা অন্য কোনও কারণে দুঃস্বপ্নের জন্ম হয়। বস্তুত, গভীর ভাবে ঘুমিয়ে থাকার সময় চোখের দ্রুত নড়াচড়া (চিকিৎসাজগতে যা র‌্যাপিড আই মুভমেন্ট বা আরইএম নামে পরিচিত)-র পর্যায়ে দুঃস্বপ্নের তাড়না হয়।”

আমেরিকার মনোবিদের মতে, সম্পর্কের অসম্পূর্ণতাও দুঃস্বপ্নকে ডেকে আনে।

তিনি বলেন, “স্বপ্নের মধ্যে আমাদের অসম্পূর্ণ আবেগগুলি ধরা দেয়। আপনি যদি কোনও সম্পর্কে নিজেকে অপূর্ণ মনে করেন, তা সে যে কারণেই হোক না কেন, তার থেকে দুঃস্বপ্নের জন্ম হতে পারে।”

হেরার মতে, সম্পর্কে প্রতারিত হওয়া বা নিজেকে পরিত্যাজ্য মনে হলে অথবা সঙ্গীর সঙ্গে ঝগড়াঝাঁটির জেরে তৈরি হওয়া আবেগের থেকেও দুঃস্বপ্ন দেখা দিতে পারে। এ ধরনের হতাশাজনক অপূর্ণতা এবং ভয় এমন ভাবে মনে চেপে বসে যে সেগুলিই তখন কিছু মানুষের ক্ষেত্রে দুঃস্বপ্নে রূপান্তরিত হয়।”

দুঃস্বপ্নের জেরে সাধের ঘুমটি মাঠে মারা গেলে কারই বা ভাল লাগে? হেরার পরামর্শ, “দুঃস্বপ্ন অতিমাত্রায় বিরক্ত করতে থাকলে তা নিয়ে বিশেষজ্ঞের মুখোমুখি হওয়াই ভালো।”

শুধু কি আবেগের অপূর্ণতা, সঠিক পদ্ধতিতে না ঘুমালেও দুঃস্বপ্ন হানা দিতে পারে বলে মনে করেন হেরা।

তিনি বলেন, “দীর্ঘ দিন ধরে অনিয়মিত ঘুমের ধাত থাকলে তা আমাদের বিশ্রামে বেশ ব্যাঘাত করতে পারে। বার বার ঘুমের সময় পাল্টানোর জেরেও আমাদের মন উদ্‌ভ্রান্ত হয়ে পড়ে। অনেকে আবার অনিদ্রায় ভোগেন। এর জেরে স্বপ্নের চরিত্র বদলে গিয়ে তা দুঃস্বপ্নে বদলে যায়।”

অনিয়মিত ঘুমের পাশাপাশি আরও একটি চমকপ্রদ তথ্য মনে করিয়ে দিয়েছেন হেরা।

তার মতে, “বেশ কয়েকটি সমীক্ষায় দেখা গিয়েছে যে, চিৎ হয়ে ঘুমালে তাতে অনিদ্রার উদ্রেক হতে পারে। এমনকি, এতে নাক ডাকার সমস্যা হয়, কখনও বা শ্বাসপ্রশ্বাস এবং ঘুমেরও ব্যাঘাত ঘটে। এগুলোর পাশাপাশি তা দুঃস্বপ্নকেও ডেকে আনতে পারে।”

কে না জানে, পেটভরে খাওয়ার সঙ্গে ঘুমের সম্পর্ক বেশ গভীর! তবে এর সঙ্গে দুঃস্বপ্নের সম্পর্কের কথা শুনিয়েছেন হেরা।

তিনি বলেন, “দীর্ঘ দিন ধরেই আমাদের খাবারদাবারের সঙ্গে স্বপ্নের সম্পর্ক গড়া হয়েছে।”

হেরার সতর্কবার্তা, খাওয়ার পর পরই ঘুমাতে গেলে তাতে হানা দিতে পারে দুঃস্বপ্ন।

তিনি জানান, অনেকেই এটা মানেন যে, রাতে খাওয়ার ঠিক পরেই ঘুমাতে গেলে দুঃস্বপ্ন দেখা দিতে পারে। এটা বিজ্ঞানসম্মত ভাবেও সত্য। কারণ, খাওয়ার পর দেহের বিপাকক্রিয়া বেড়ে যায়। তাতে রাতে মস্তিষ্কের কাজকর্মও বৃদ্ধি পায়।

নিত্য দিনের নানা টানাপড়েনে মানসিক চাপ বাড়লেও তা সহজেই দুঃস্বপ্নকে টেনে আনতে পারে। এমনই মনে করেন হেরা। বিষয়টি সহজ ভাবে বুঝিয়ে দিয়েছেন তিনি।

হেরার কথায়, মানসিক চাপ বাড়লে তা উদ্বেগের মাত্রাকেও বাড়িয়ে দেয়। তাতে অনেক সময় মনে হয় যেন খাদের কিনারে পৌঁছে গিয়েছেন। এর থেকে মেজাজ খিটখিটে হয়ে যাওয়া বা রাগে ফেটে পড়ার মতো মানসিক অবস্থা অথবা মনোযোগেও বিঘ্ন ঘটতে পারে।

মানসিক চাপ থেকে জৈবিক ঘড়ির ছন্দও বিগড়ে যেতে পারে বলে জানিয়েছেন হেরা। তিনি জনান, জৈবিক ঘড়ির ছন্দ বিগড়ে গেলে তাতে ঘুমের বারোটা বাজতে দেরি হয় না। সেই সঙ্গে দুঃস্বপ্নের অবতারণাও ঘটে।’’

হেরার দাবি, “স্বপ্ন হোক বা দুঃস্বপ্ন— সমস্ত কিছুরই উদ্দেশ্য রয়েছে। দুঃস্বপ্নের উৎস কী এবং তা কোন পদ্ধতিতে কাজ করে, তা বুঝে নিতে পারলে আমরা নিরুপদ্রব ঘুমের সন্ধান পেতে পারি।”

বিজ্ঞানের পথ ধরে দুঃস্বপ্নের কারণ ব্যাখ্যা করলেও এ নিয়ে যে দৈবিক বা অতিপ্রাকৃতিক শক্তির যোগের ভূরি ভূরি তত্ত্ব ছড়িয়ে রয়েছে, তাকে উড়িয়ে দিতে চান না হেরা।

তার কথায়, “আপনি বিশ্বাস করুন বা না করুন, এমন তত্ত্বও রয়েছে যে, স্বপ্নের মাধ্যমে এই মহাবিশ্ব আপনার সঙ্গে সংযোগ স্থাপনের চেষ্টা করছে। এর অর্থ এটা নয় যে দুঃস্বপ্ন দেখামাত্রই আপনার জীবনে ক্ষতিকর কিছু ঘটবে। তবে এমন হতে পারে, যে মানুষটিকে আপনি স্বপ্নে দেখেছেন তিনি কোনও দুঃসহ অবস্থার মধ্যে রয়েছেন। অথবা তাঁর যত্ন নিতে হবে। ফলে আপনার প্রিয় মানুষটির ভাল মতো খেয়াল রাখুন।

এন-কে

Feb2
Feb2

১০ মিনিটের ব্যবধানে ২ গোল করে ইংল্যান্ডকে জেতালেন কেইন

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Thursday, 2 July, 2026, 12:33 am
১০ মিনিটের ব্যবধানে ২ গোল করে ইংল্যান্ডকে জেতালেন কেইন

ম্যাচের শুরুতেই ব্রায়ান সিপেঙ্গার গোলে পিছিয়ে পড়েছিল ইংল্যান্ড। প্রথমার্ধজুড়ে একের পর এক সুযোগ তৈরি করেও সমতায় ফিরতে পারেনি থ্রি লায়নরা। তবে বিরতির পর আক্রমণের ধার বাড়িয়ে শেষ পর্যন্ত দারুণ এক প্রত্যাবর্তন করেছে তারা। কেইনের জোড়া গোলে ২-১ ব্যবধানে জয় তুলে নিয়ে বিশ্বকাপের শেষ ষোলো নিশ্চিত করেছে ইংল্যান্ড। আগামী ৬ জুলাই শেষ ষোলোয় ইংল্যান্ডের প্রতিপক্ষ মেক্সিকো।

৭৫তম মিনিটে অ্যান্থনি গর্ডনের নিখুঁত ক্রস থেকে হেডে সমতা ফেরান অধিনায়ক হ্যারি কেইন। এরপর ম্যাচের ৮৬তম মিনিটে আবারও জালে বল জড়িয়ে ইংল্যান্ডকে ২-১ ব্যবধানে এগিয়ে দেন তিনি।

১৯৬৬ সালের পর বিশ্বকাপে প্রথমে গোল হজম করে পিছিয়ে পড়ার পর এবারই প্রথম কোনো ম্যাচ জিতে মাঠ ছাড়ল ইংল্যান্ড। আর সেই ঐতিহাসিক প্রত্যাবর্তনের নায়ক অধিনায়ক হ্যারি কেইন। অন্যদিকে অসাধারণ লড়াই করেও শেষ পর্যন্ত বিদায় নিতে হলো ডিআর কঙ্গোকে।

ম্যাচের শুরুতেই বড় ধাক্কা খায় ইংল্যান্ড। ৭ম মিনিটে দারুণ এক গোলে ডিআর কঙ্গোকে এগিয়ে দেন ব্রায়ান সিপেঙ্গার। ডি-বক্সের বাঁ দিক থেকে ডান পায়ের নিখুঁত শটে বল জালের নিচের বাঁ কোণে পাঠিয়ে দেন এই ফরোয়ার্ড। গোলটির পেছনে বড় অবদান ছিল অধিনায়ক শানসেল এমবেম্বার, তার অ্যাসিস্ট থেকেই গোল হয়।

গোল শোধে মরিয়া হয়ে ওঠে ইংল্যান্ড। ৩০ মিনিটে জুড বেলিংহাম সমতায় ফেরানোর সুবর্ণ সুযোগ পেয়েছিলেন। শূন্যে ভেসে আসা ক্রসে দারুণ এক হেডে বল পোস্টের ডান দিকে পাঠান তিনি। কিন্তু ডিআর কঙ্গোর গোলরক্ষক লিওনেল এমপাসি অসাধারণ রিফ্লেক্সে বলটি ফিরিয়ে দেন। নিশ্চিত গোল বাঁচিয়ে দলকে এগিয়ে রাখেন তিনি।

পাঁচ মিনিট পর আবারও সুযোগ তৈরি করে ইংল্যান্ড। ডি-বক্সের ভেতরে বল পেয়ে প্রথম স্পর্শেই জোরালো শট নেন মার্কাস রাশফোর্ড। তবে কঙ্গোর এক ডিফেন্ডারের গায়ে লেগে বল দিক পরিবর্তন করায় হতাশ হতে হয় তাকে। সমতায় ফেরার আরেকটি সম্ভাবনা নষ্ট হয়ে যায় ইংলিশদের।

৪২ মিনিটে ব্যবধান প্রায় দ্বিগুণ করে ফেলেছিল ডিআর কঙ্গো। ইংল্যান্ডের রক্ষণভাগের ভুলে সুযোগ পেয়ে যান ইওয়ান উইসা। অ্যারন ওয়ান-বিসাকার বাড়ানো বলে প্রথম ছোঁয়াতেই শট নেন তিনি। তবে ইংল্যান্ডকে রক্ষা করে গোলপোস্ট। বল পোস্টে লেগে ফিরে এলে বড় বিপদ থেকে বেঁচে যায় থ্রি লায়নরা।

এর দুই মিনিট পর ম্যাচে তৈরি হয় বিতর্ক। মাঝমাঠ থেকে আসা লম্বা বল ধরে কঙ্গোর বক্সে ঢুকে পড়েন হ্যারি কেইন। তাকে থামাতে পোস্ট ছেড়ে বেরিয়ে আসেন গোলরক্ষক এমপাসি। দুজনের সংঘর্ষে বক্সের ভেতরে পড়ে যান ইংল্যান্ড অধিনায়ক। পেনাল্টির জোরালো দাবি তুললেও রেফারি উল্টো কেইনের বিপক্ষেই ফাউলের বাঁশি বাজান। ফলে পেনাল্টির বদলে ফ্রি-কিক পায় ডিআর কঙ্গো।

প্রথমার্ধের যোগ করা সময়েও গোলের খুব কাছাকাছি পৌঁছে গিয়েছিল ইংল্যান্ড। ডান দিক থেকে আসা ক্রসে বেলিংহামের নিচু হেড গোলমুখে যাচ্ছিল। কিন্তু আবারও সামনে দাঁড়িয়ে যান এমপাসি। বাঁ দিকের নিচের কোণ থেকে দুর্দান্ত সেভ করে ইংল্যান্ডকে গোলবঞ্চিত করেন তিনি।

৫৪তম মিনিটে আবারও দুর্দান্ত এক সেভে ইংল্যান্ডকে হতাশ করেন এমপাসি। জুড বেলিংহামের শট কঙ্গোর এক ডিফেন্ডারের গায়ে লেগে দিক পরিবর্তন করে জালের দিকে যাচ্ছিল, কিন্তু অসাধারণ ক্ষিপ্রতায় বলটি ঠেকিয়ে দেন তিনি।

তবে ৭৫তম মিনিটে অ্যান্থনি গর্ডনের বাড়ানো ক্রসে হেড করে সমতা ফেরান অধিনায়ক হ্যারি কেইন। কঙ্গোর গোলরক্ষক বলটিতে হাত লাগালেও সেটিকে জালে যাওয়া থেকে আটকাতে পারেননি।

সমতায় ফেরার মাত্র ১১ মিনিট পরই ম্যাচের ভাগ্য বদলে দেন কেইন। ৮৬তম মিনিটে গর্ডনের কাছ থেকে বল পেয়ে বক্সে ঢুকে ডান পায়ের জোরালো শটে বল পাঠিয়ে দেন জালে। ১১ মিনিট আগে ১–০ ব্যবধানে পিছিয়ে থাকা ইংল্যান্ড ২–১ ব্যবধানে এগিয়ে যায়।

কেইনের এই জোড়া গোলই শেষ পর্যন্ত ইংল্যান্ডকে এনে দেয় মূল্যবান জয়। একই সঙ্গে বিশ্বকাপে মোট ১৩ গোল করে ব্রাজিল কিংবদন্তি পেলের বিশ্বকাপ গোলসংখ্যাকেও ছাড়িয়ে গেছেন ইংল্যান্ড অধিনায়ক। এবারের আসরে তার গোল মোট ৫টি।

উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ৫ হাজার সশস্ত্র আনসার মোতায়েন

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Wednesday, 1 July, 2026, 11:04 pm
উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ৫ হাজার সশস্ত্র আনসার মোতায়েন

দেশের উপজেলা পর্যায়ের স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানে নিরাপত্তা জোরদার, দালালচক্র ও অনিয়ম প্রতিরোধ এবং সেবাগ্রহীতাদের জন্য নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করতে সারাদেশের ৫০০টি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ৫ হাজার সশস্ত্র অঙ্গীভূত আনসার সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে।

বুধবার (১ জুলাই) বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনী সদর দপ্তরে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে অঙ্গীভূত আনসার সদস্যদের প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা দেওয়া হয়। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মামুনূর রশিদ।

তিনি জানান, সরকারের জাতীয় নিরাপত্তা পরিকল্পনার অংশ হিসেবে প্রতিটি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ১০ জন করে আনসার সদস্য দায়িত্ব পালন করবেন। এর মধ্যে থাকবেন একজন প্লাটুন কমান্ডার, একজন সহকারী প্লাটুন কমান্ডার এবং আটজন আনসার সদস্য। তারা ২৪ ঘণ্টা পালাক্রমে দায়িত্ব পালন করে স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানে শৃঙ্খলা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করবেন।

ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মামুনূর রশিদ বলেন, স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে দালালচক্র, অবৈধ অ্যাম্বুলেন্স বাণিজ্য, ঔষধ চক্র এবং অন্যান্য অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড প্রতিরোধে আনসার সদস্যদের কার্যকর ভূমিকা রাখতে হবে। সরকারি হাসপাতাল ও স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানে দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে বাহিনীর সদস্যরা ইতোমধ্যে দক্ষতা, সততা ও পেশাদারিত্বের পরিচয় দিয়েছেন বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

তিনি আরও বলেন, উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের মতো সংবেদনশীল কর্মস্থলে কোনো সদস্য অনৈতিক বা অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত হলে তার বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। জনগণের আস্থা ও বিশ্বাস রক্ষায় কোনো ধরনের ব্যত্যয় গ্রহণযোগ্য হবে না।

অনুষ্ঠানে অতিরিক্ত মহাপরিচালক জানান, বাহিনীর নিয়োগ ও মোতায়েন প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে আধুনিক সফ্‌টওয়্যারভিত্তিক যাচাই-বাছাই পদ্ধতি অনুসরণ করা হচ্ছে। এর ফলে যোগ্য সদস্য নির্বাচন এবং বাহিনীর পেশাদারিত্ব আরও সুসংহত হচ্ছে।

তিনি আশা প্রকাশ করেন, সদস্যদের সততা ও দক্ষতার ধারাবাহিকতা বজায় থাকলে জাপান, সংযুক্ত আরব আমিরাত ও মলদোভাসহ বিভিন্ন দেশে বৈদেশিক কর্মসংস্থানের সুযোগ আরও বাড়বে।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সগুলোতে আনসার সদস্য মোতায়েনের ফলে চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীদের দীর্ঘদিনের নিরাপত্তা উদ্বেগ কমবে। একই সঙ্গে দালালচক্রের দৌরাত্ম্য নিয়ন্ত্রণ, সেবাগ্রহীতাদের নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ, সরকারি সম্পদের সুরক্ষা এবং স্বাস্থ্যসেবার সামগ্রিক শৃঙ্খলা ও সেবার মান উন্নয়নে এ উদ্যোগ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে আশা করা হচ্ছে।

অনুষ্ঠানে মো. রফিকুল ইসলাম, মো. আব্দুল মজিদ এবং মো. রাশেদুজ্জামানসহ বাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

ঢাকা ঘিরে বৃত্তাকার সড়ক ও নৌপথের অগ্রগতি কতটা হলো, জানলেন প্রধানমন্ত্রী

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Wednesday, 1 July, 2026, 10:16 pm
ঢাকা ঘিরে বৃত্তাকার সড়ক ও নৌপথের অগ্রগতি কতটা হলো, জানলেন প্রধানমন্ত্রী

রাজধানীর যানজট নিরসনে বৃত্তাকার সড়ক ও নৌপথ কার্যকরভাবে ব্যবহারের জন্য অবকাঠামো নির্মাণ প্রকল্পের অগ্রগতি কতটা হলো, তা নিয়ে বৈঠক করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

বুধবার (১ জুলাই) বিকেলে সচিবালয়ে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সভাকক্ষে প্রধানমন্ত্রীর সভাপতিত্বে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের সড়ক ব্যবস্থাপনাবিষয়ক বৈঠকে এ নিয়ে আলোচনা হওয়ার তথ্য দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর উপপ্রেস সচিব হাসান শিপলু।

তিনি বলেন, এই প্রকল্পের মাধ্যমে রাজধানীর যানজট নিরসন কীভাবে হবে, তা বৈঠকে বিস্তারিতভাবে তুলে ধরা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে রাজধানীর ইনার সার্কুলার রিং রোড নির্মাণ প্রকল্পের সর্বশেষ অবস্থা অবহিত করা হয়েছে।

ঢাকার এই বৃত্তাকার সড়কের একটি অংশ আব্দুল্লাহপুর রেলগেট থেকে ধউর, বিরুলিয়া, গাবতলী, বছিলা, হাজারীবাগ, সোয়ারিঘাট, কদমতলী, তেঘরিয়া, পোস্তগোলা, ফতুল্লা, চাষাঢ়া ও শিমরাইল হয়ে ডেমরা পর্যন্ত বিস্তৃত। আরেকটি অংশ আব্দুল্লাহপুর রেলগেইট থেকে তেরমুখ, পূর্বাচল ও বেরাইদ হয়ে ডেমরায় যাবে। সবমিলিয়ে প্রায় প্রায় ৮৯ কিলোমিটার। এর মধ্যে রায়েরবাজার, হাজারীবাগ ও কামরাঙ্গীরচর অংশের নির্মাণকাজ চলছে। বৈঠকে জানানো হয় এই পথে ৪৫ শতাংশ কাজ সম্পন্ন হয়েছে।

বৃত্তাকার এই সড়ক নির্মাণ হলে রাজধানীর ভেতরের সড়ক ব্যবহার না করেই এক প্রান্ত থেকে আরেক প্রান্তে যাওয়া যাবে। সিলেট, মাওয়া ও চট্টগ্রামের যাত্রীরা ঢাকা না ঢুকেও গন্তব্যে যেতে পারবেন। এতে শহরে যানবাহনের চাপ কমবে এবং একই সঙ্গে যানজটও কমে আসবে।

একইভাবে ঢাকা শহরে ঘিরে ১১০ কিলোমিটারের নদী পথ রয়েছে তার চালু করা গেলে রাজধানীর সড়কে যানবাহনের চাপ কমবে এবং রাজধানীর বৃত্তকার নদী পথে মানুষজন এক গন্তব্যে থেকে অন্য গন্তবে যেতে পারবে অনায়াসে।

প্রধানমন্ত্রীর উপ প্রেস সচিব হাসান শিপলু বলেন, এই বিষয়গুলো বৈঠকে তুলে ধরা হয়। সেখানে বিশেষজ্ঞরা এর কারিগরি দিক উপস্থাপন করেন। নদী পথ ব্যবহার করলে পরিবেশ দুষণমুক্ত থাকবে, জ্বালানি সাশ্র্রয়ী হবে, সময়ও কম লাগবে বলে বিশেষজ্ঞরা বৈঠকে বলেছেন। কারণ নদী পথের যানবাহনগুলো হবে বিদ্যুৎচালিত।

বৈঠকে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রশাসক আবদুস সালাম, স্থানীয় সরকার বিভাগের সচিব শহীদুল হাসান, সড়ক পরিবহন সচিব জিয়াউল হক, নৌপরিবহন সচিব মো. জাকারিয়া, রেল পথ সচিব ফাহমিদুল ইসলাম, বিআইডাব্লিউটিএ এর চেয়ারম্যান মহিদুল ইসলাম, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রধান নির্বাহী জহিরুল ইসলাম, প্রধান প্রকৌশলী নুর আজিজুর রহমান, অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী কাজী মো. বোরহান উদ্দিন, তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী মিঠুন চন্দ্র শীল, বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক খান মাহমুদ আমানত ও অধ্যাপক মো. হাদিউজ্জামান উপস্থিত ছিলেন।