খুঁজুন
, ,

শেখ হাসিনার ৭৬তম জন্মদিন আজ

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Wednesday, 28 September, 2022, 8:03 am
শেখ হাসিনার ৭৬তম জন্মদিন আজ

জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জ্যেষ্ঠ কন্যা আওয়ামী লীগ সভাপতি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ৭৬তম জন্মদিন আজ বুধবার।

১৯৪৭ সালের ২৮ সেপ্টেম্বর গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়ায় শেখ মুজিবুর রহমান ও শেখ ফজিলাতুন নেছার ঘর আলো করে জন্মগ্রহণ করেন তিনি। পিতার পদাঙ্ক অনুসরণ করে দেশের নেতৃত্ব দেওয়া শেখ হাসিনাকে এখন দক্ষিণ এশিয়ারই অন্যতম সেরা নেতা মনে করা হয়।

জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের ৭৭তম অধিবেশনে যোগ দিতে প্রধানমন্ত্রী জন্মদিনে যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থান করছেন। তার অনুপস্থিতিতেই দিনটি উৎসবমুখর পরিবেশে নানা কর্মসূচি উদযাপন করবে আওয়ামী লীগসহ বিভিন্ন সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠন।

কেন্দ্রীয় কর্মসূচির অংশ হিসেবে বুধবার বিকেল ৩টায় বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলনকেন্দ্রে আলোচনা সভার আয়োজন করেছে আওয়ামী লীগ। কেন্দ্রীয়ভাবে এদিন বাদ জোহর জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমসহ দেশের সব মসজিদে দোয়া ও মিলাদ মাহফিল অনুষ্ঠিত হবে।

এর আগে সকাল ১০টায় ধর্মরাজিক বৌদ্ধ মহাবিহারে (বাসাবো, সবুজবাগ) বৌদ্ধ সম্প্রদায়, সকাল ৯টায় খ্রিস্টান অ্যাসোসিয়েশন বাংলাদেশ (সিএবি) মিরপুর ব্যাপ্টিস্ট চার্চে এবং বেলা সাড়ে ১১টায় ঢাকেশ্বরী মন্দিরে হিন্দু সম্প্রদায় বিশেষ প্রার্থনা সভার আয়োজন করবে। এসব কর্মসূচিতে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় নেতারা উপস্থিত থাকবেন।

একই দিনে ঢাকাসহ সারাদেশে সব সহযোগী সংগঠন আলোচনা সভা, আনন্দ র‌্যালি, শোভাযাত্রা, দোয়া মাহফিল, বিশেষ প্রার্থনা ও আলোকচিত্র প্রদর্শনীসহ দিবসটির তাৎপর্য অনুযায়ী যথাযথ স্বাস্থ্যসুরক্ষা বিধি মেনে বিভিন্ন কর্মসূচি করবে।

আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা চতুর্থবারের মতো প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করছেন। বিভিন্ন প্রতিবেদন অনুসারে, তার নেতৃত্বে অর্থনীতির প্রতিটি সূচকে বাংলাদেশ এগিয়ে যাচ্ছে। বিশ্বের কাছে বাংলাদেশকে একটি রোল মডেল হিসেবে পরিচিত করেছেন।

সন্ত্রাস ও জঙ্গি দমনেও শেখ হাসিনা বিশ্বনেতাদের প্রশংসা কুড়িয়েছেন। মিয়ানমারে জাতিগত সহিংসতায় পালিয়ে আসা রোহিঙ্গা মুসলিমদের আশ্রয় দিয়ে সারাবিশ্বে হয়েছেন প্রশংসিত। বাংলাদেশকে নিয়ে গেছেন অনন্য উচ্চতায়।

রাজনৈতিক বিশ্লেকদের মতে, বঙ্গবন্ধুকন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার গতিশীল নেতৃত্বের কারণেই করোনা মহামারির মধ্যেও দেশের অর্থনীতির চাকা সচল থাকায় বাংলাদেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি এশিয়ার প্রায় সব দেশের ওপরে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঠিক নেতৃত্ব, সময়োচিত পদক্ষেপ, মানুষের জন্য আর্থিক ও খাদ্য সহায়তা, অর্থনীতিকে বাঁচাতে প্রণোদনা ঘোষণা এবং বাস্তবায়নের কারণে দেশে অনাহারে একজন মানুষেরও মৃত্যু হয়নি। খাদ্যের জন্য কখনো কোথাও হাহাকার হয়নি।

শেখ হাসিনার সরকারের আমলেই বঙ্গবন্ধু হত্যা মামলার চূড়ান্ত নিষ্পত্তি ও একাত্তরের ঘাতক যুদ্ধাপরাধীদের বিচারকাজ শেষ করা সম্ভব হয়েছে। সংবিধান সংশোধনের মধ্য দিয়ে মহান মুক্তিযুদ্ধের চেতনা পুনরায় প্রতিষ্ঠা, ভারত ও মিয়ানমারের সঙ্গে সমুদ্রসীমা বিরোধ নিষ্পত্তি এবং সমুদ্রে বাংলাদেশের সার্বভৌমত্ব প্রতিষ্ঠার মধ্য দিয়ে ব্লু ইকোনমির নতুন দিগন্ত উন্মোচন হয়।

তার সরকার ভারতের সঙ্গে সীমান্ত চুক্তি বাস্তবায়ন ও ছিটমহল বিনিময়, বঙ্গবন্ধু-১ স্যাটেলাইটের সফল উৎক্ষেপণের মধ্য দিয়ে মহাকাশ জয়, সাবমেরিন যুগে বাংলাদেশের প্রবেশ, নিজস্ব অর্থায়নে পদ্মা সেতু নির্মাণ, মেট্রোরেল, পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপন, কর্ণফুলী টানেল, এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে, নতুন নতুন উড়াল সেতু, মহাসড়কগুলো ফোর লেনে উন্নীত করে।

প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে এলএনজি টার্মিনাল স্থাপন, খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জন, মাথাপিছু আয় দুই হাজার ৮২৪ মার্কিন ডলারে উন্নীত, দারিদ্র্যের হার হ্রাস, মানুষের গড় আয়ু প্রায় ৭৪ বছর চারমাসে উন্নীত, যুগোপযোগী শিক্ষানীতি প্রণয়ন, সাক্ষরতার হার ৭৫ দশমিক ৬০ শতাংশে উন্নীত করা, বছরের প্রথম দিনে প্রাথমিক থেকে মাধ্যমিক স্তর পর্যন্ত সব শিক্ষার্থীর হাতে বিনামূল্যে নতুন বই পৌঁছে দেওয়া, মাদরাসা শিক্ষাকে মূলধারার শিক্ষার সঙ্গে সম্পৃক্ত করা ও স্বীকৃতি দান, মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপন, প্রত্যেকটি জেলায় বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপনের উদ্যোগ, নারীনীতি প্রণয়ন, ডিজিটাল বাংলাদেশ বিনির্মাণ, ফাইভ-জি মোবাইল প্রযুক্তির ব্যবহার চালুসহ অসংখ্য ক্ষেত্রে কালোত্তীর্ণ সাফল্য অর্জন করেছে বাংলাদেশ।

ডিজিটাল বাংলাদেশ বিনির্মাণের প্রবক্তা শেখ হাসিনা ১৯৮১ সালে আওয়ামী লীগের নেতৃত্ব গ্রহণের পর থেকে দীর্ঘ আন্দোলন সংগ্রামের মধ্যদিয়ে দলকে সুসংগঠিত করেন। ১৯৯৬ সালে প্রথম, ২০০৮ সালে দ্বিতীয়, ২০১৪ সালে তৃতীয় এবং ২০১৮ সালে চতুর্থবারের মতো নির্বাচনে জয়লাভ করে দলকে দেশের নেতৃত্বের আসনে বসাতে সক্ষম হন।

দাদা শেখ লুৎফর রহমান ও দাদি সাহেরা খাতুনের অতি আদরের নাতনি শেখ হাসিনার শৈশব-কৈশোর কেটেছে টুঙ্গিপাড়ায়। শেখ কামাল, শেখ জামাল, শেখ রেহানা ও শেখ রাসেলসহ তারা পাঁচ ভাই-বোন। বর্তমানে শেখ হাসিনা ও শেখ রেহানা ছাড়া কেউই জীবিত নেই। ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্টে পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও মা শেখ ফজিলাতুন নেছাসহ সবাই ঘাতকদের নির্মম বুলেটে নিহত হন।

শেখ হাসিনার শিক্ষাজীবন শুরু হয় টুঙ্গিপাড়ার এক পাঠশালায়। ১৯৫৪ সালের নির্বাচনে বঙ্গবন্ধু প্রাদেশিক পরিষদের সদস্য নির্বাচিত হয়ে পরিবারকে ঢাকায় নিয়ে আসেন। তখন পুরান ঢাকার রজনী বোস লেনে ভাড়া বাসায় ওঠেন তারা।

বঙ্গবন্ধু যুক্তফ্রন্ট মন্ত্রিসভার সদস্য হলে সপরিবারে ৩ নম্বর মিন্টো রোডের বাসায় তারা বসবাস শুরু করেন। শেখ হাসিনাকে ঢাকার টিকাটুলির নারী শিক্ষা মন্দিরে ভর্তি করা হয়। এখন এ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানটি শেরেবাংলা গার্লস স্কুল অ্যান্ড কলেজ নামে খ্যাত। শুরু হয় তার শহর বাসের পালা।

তিনি ১৯৬৫ সালে আজিমপুর বালিকা বিদ্যালয় থেকে মাধ্যমিক, ১৯৬৭ সালে ইন্টারমিডিয়েট গার্লস কলেজ (বর্তমান বদরুন্নেসা সরকারি মহিলা মহাবিদ্যালয়) থেকে উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষায় পাস করেন। ওই বছরেই তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে বাংলা ভাষা ও সাহিত্যে অনার্সে ভর্তি হন এবং ১৯৭৩ সালে স্নাতক ডিগ্রি লাভ করেন।

শেখ হাসিনা বাংলাদেশ ছাত্রলীগের প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে সরকারি ইন্টামেডিয়েট গার্লস কলেজের ছাত্রী সংসদের সহসভাপতি নির্বাচিত হন। তিনি ওই কলেজ শাখা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক এবং পরের বছর সভাপতি হন।

তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির পর ছাত্রলীগের সদস্য হন। পরে তিনি রোকেয়া হল শাখার সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্বও পালন করেন। ছাত্রজীবন থেকেই শেখ হাসিনা সব গণআন্দোলনে সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করেন।

বঙ্গবন্ধুর আগ্রহে ১৯৬৮ সালে পরমাণু বিজ্ঞানী ড. ওয়াজেদ মিয়ার সঙ্গে শেখ হাসিনার বিয়ে হয়। ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ রাতে বঙ্গবন্ধুকে গ্রেফতার করে পাকিস্তানের করাচিতে নিয়ে যাওয়ার পর গোটা পরিবারকে ঢাকায় ভিন্ন এক বাড়িতে গৃহবন্দি করে রাখা হয়।

অবরুদ্ধ বাংলাদেশে মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে ১৯৭১ সালের ২৭ জুলাই শেখ হাসিনা গৃহবন্দি অবস্থায় তার প্রথম সন্তান সজীব ওয়াজেদ জয়ের মা হন। ১৯৭২ সালের ৯ ডিসেম্বর কন্যাসন্তান সায়মা ওয়াজেদ পুতুলের জন্ম হয়।

শেখ হাসিনাকে একাধিকবার হত্যার চেষ্টা করা হয়েছে। ২০০৪ সালের ২১ আগস্ট বঙ্গবন্ধু অ্যাভিনিউতে আওয়ামী লীগের জনসভায় গ্রেনেড নিক্ষেপ করে তাকে হত্যার ষড়যন্ত্র করা হয়। এ হামলায় তিনি বেঁচে গেলেও সমাবেশে আসা ২৪ জন নিহত হন। এছাড়া অন্তত ৫০০ নেতাকর্মী আহত হন।

শিল্প সংস্কৃতি ও সাহিত্য অন্তঃপ্রাণ শেখ হাসিনা লেখালেখিও করেন। তার লেখা ও সম্পাদিত গ্রন্থের সংখ্যা ৩০টিরও বেশি।

প্রকাশিত বইয়ের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হচ্ছে- শেখ মুজিব আমার পিতা, সাদা কালো, ওরা টোকাই কেন, বাংলাদেশে স্বৈরতন্ত্রের জন্ম, দারিদ্র্য দূরীকরণ, আমাদের ছোট রাসেল সোনা, আমার স্বপ্ন আমার সংগ্রাম, সামরিকতন্ত্র বনাম গণতন্ত্র, আর্ন্তজাতিক সর্ম্পক উন্নয়ন, বিপন্ন গণতন্ত্র, সহে না মানবতার অবমাননা, আমরা জনগণের কথা বলতে এসেছি, সবুজ মাঠ পেরিয়ে ইত্যাদি।

২৪ঘণ্টা/বিআর

Feb2
Feb2

অস্ট্রেলিয়াকে গুঁড়িয়ে বাংলাদেশের ঐতিহাসিক জয়

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Sunday, 16 August, 2026, 11:56 am
অস্ট্রেলিয়াকে গুঁড়িয়ে বাংলাদেশের ঐতিহাসিক জয়

নাজমুল হোসেন শান্ত চেয়েছিলেন, ডারউইনে তার দলের খেলোয়াড় পাঁচ দিন ভালো খেলুক। তার চাওয়াকে ছাপিয়ে গেছে বাংলাদেশ। মাত্র চার দিনেই ১১তম সেশনেই অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে অস্ট্রেলিয়াকে হারাল তারা। একেবারে ব্যাটে-বলে নিখুঁত পারফরম্যান্সের প্রদর্শনী করে দেখাল বাংলাদেশ। শক্তিশালী অস্ট্রেলিয়াকে তাদের মাটিতেই এভাবে দাপট দেখানো যে কোনো দলের জন্যই স্বপ্ন। ৯ উইকেটে জিতে সেই স্বপ্নকে বাস্তবে রূপ দিলো বাংলাদেশ।

টেস্ট র‌্যাঙ্কিংয়ের ৯ নম্বরে থাকা দলের কাছে শীর্ষ দল অস্ট্রেলিয়ার জন্য এই ফল হজম করা কঠিন হবে। তবে বাংলাদেশের জন্য এই অর্জন বহুদিন উপভোগ করার মতো। অস্ট্রেলিয়া ডেরা থেকে টেস্ট জয় এমনিতেই অনেক কঠিন। তার ওপর তাদের যা প্রস্তুতি ছিল, আর প্রতিপক্ষের বোলিং আক্রমণের চার জনের প্রত্যেকের ৩০০-এর বেশি টেস্ট উইকেট, সেখানে এমন সাফল্য পাওয়া সত্যিই অসাধারণ। ডারউইন এখন বাংলাদেশের নিয়ন্ত্রণে। তাদের টেস্ট ইতিহাসে রচিত হলো এক নতুন অধ্যায়। অস্ট্রেলিয়া মাটিতে একটি টেস্টের জন্য দীর্ঘ ২৩ বছরের অপেক্ষা পুরোপুরি সার্থক। তারা সিরিজে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে গেল এবং নিশ্চিতভাবে এই টেস্ট সিরিজ তারা আর কোনোভাবেই হারবে না।

২৩ বছর আগে ডারউইন ও কেয়ার্নসে অসহায় আত্মসমর্পণ করেছিল বাংলাদেশ। দুই দশকেরও বেশি সময় পর দ্বিতীয়বারের মতো অস্ট্রেলিয়া সফর করল তারা। এই ম্যাচে বাংলাদেশ কতটা লড়াই করতে পারলেই যেন প্রত্যাশা পূরণ হতো! কিন্তু ১৩ আগস্ট প্রথম দিনেই পেসাররা যেভাবে বুলডোজার চালালেন, তাতেই এক অবিস্মরণীয় জয়ের ভিত যেন তৈরি হয়ে গেল।

দুই সেশনেরও বেশি সময় অপ্রত্যাশিতভাবে বাংলাদেশের বোলারদের দাপট চলল। দুইশ রানের আগেই অলআউট অস্ট্রেলিয়া! যেন বিশ্বাসই হচ্ছিল না। অবশ্য ধারণা করা হচ্ছিল, মিচেল স্টার্ক, প্যাট কামিন্স ও জশ হ্যাজলউডের শক্তিশালী বোলিং লাইনআপও একইভাবে বাংলাদেশের বোলারদের ওপর চড়াও হবে। কিন্তু না, ব্যাটিংয়েও চলল বাংলাদেশের দাপট। তানজিদ হাসান তামিম ঐতিহাসিক সেঞ্চুরি করলেন। নাজমুল হোসেন শান্ত ও মেহেদী হাসান মিরাজও হাফ সেঞ্চুরিতে বড় স্কোরের শক্ত ভিত গড়ে দিলেন।

এই তিন ব্যাটারের অনবদ্য ব্যাটিং এবং টেল এন্ডারের উল্লেখযোগ্য অবদানে বাংলাদেশ ২২৮ রানের বড় লিড নেয়। বিদেশের মাটিতে এর আগে প্রথম ইনিংসে এত বড় লিড কখনও পায়নি তারা। অস্ট্রেলিয়ার ব্যাটাররা দ্বিতীয় ইনিংসে ব্যাট করতে গেল চাপ নিয়ে। এবারও হাসান জোড়া আঘাতে তাদের গলা চেপে ধরেন।

প্রথম ইনিংসে স্টিভ স্মিথ, আর দ্বিতীয় ইনিংসে ক্যামেরন গ্রিন বাংলাদেশের ধারালো বোলারদের সামনে যা একটু প্রতিরোধ গড়লেন। দেশের মাটিতে প্রথম সেঞ্চুরিতে অজিদের লিড এনে দেন। কিন্তু বল হাতে মিরাজ দেখালেন ঘূর্ণি জাদু। তাতে লিডটা বড় হলো না। বাংলাদেশের লক্ষ্যও থাকল নাগালের মধ্যে।

প্রথম ইনিংসের সেঞ্চুরিয়ান তানজিদ এবার ডাক মারলেন। এরপর সাদমান ইসলাম ও মুমিনুল হক জয়ের বাকি আনুষ্ঠানিকতা সারলেন। প্রস্তুতি ম্যাচে বাংলাদেশকে ৫৪ রানে অলআউট করার স্মৃতি অজিদের আত্মবিশ্বাস বাড়াতে কোনো কাজে দিলো না। ৫৭ রানের লক্ষ্য অনায়াসে পূরণ করে ইতিহাসের পাতায় নাম লিখল বাংলাদেশ।

জয়টাও এলো নায়কোচিতভাবে। ১৫তম ওভারের দ্বিতীয় বলে বেউ ওয়েবস্টারকে চার মেরে ডারউইন জয় নিশ্চিত করেন মুমিনুল। সাদমানের সঙ্গে ৫৩ রানের অবিচ্ছিন্ন জুটিতে তিনি অপরাজিত ছিলেন ৩০ রানে। সাদমান টিকে ছিলেন ২৫ রানে। ১ উইকেটে ৫৭ রান করে বাংলাদেশ।

দুই ইনিংস মিলে ৯ উইকেট নিয়ে ম্যাচসেরা হয়েছেন হাসান মাহমুদ।

উত্তর মেখল দরবারে মোনাওয়ার শরীফে ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.) মাহফিল উপলক্ষে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Saturday, 15 August, 2026, 6:02 pm
উত্তর মেখল দরবারে মোনাওয়ার শরীফে ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.) মাহফিল উপলক্ষে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত

গত ১৪ আগস্ট ২০২৬খ্রি. শুক্রবার বাদে আসর উত্তর মেখল দরবারে মোনাওয়ার শরীফে ইমামে রাব্বানী শেখ আবুল বারাকাত আল বদরউদ্দিন আল ফারুকী মুজাদ্দিদে আলফে সানী (রা.) এর ফাতেহা শরীফ ও মাহবুবে ইয়াজদানী আওলাদে রাসুল ও আওলাদে গাউছে পাক হুজুর সৈয়্যাদ আশরাফ জাহাংগীর সিমনানী (রা.) এর ফাতেহা শরীফ এবং মুজাদ্দিদে দ্বীনে মিল্লাত ইমামে আহলে সুন্নাত সৈয়দুনা সরকার আলা হযরত শাহ আহমদ রেজা ফাজেলে বেরলভী (রা.) পবিত্র ফাতেহা শরীফ ও আসন্ন ১১ রবিউল আওয়াল উত্তর মেখল দরবারে মোনাওয়ার শরীফে পবিত্র জশনে ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.) মাহফিল উপলক্ষে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত। আঞ্জুমানে আল আমিন সুবলুস সালাম বাংলাদেশ হাটহাজারী চট্টগ্রাম এর প্রতিষ্টাতা সভাপতি মাওলানা মুহাম্মদ আবু বক্কর কাদেরীর উপস্থাপনায় ছদারত করেন বড় হুজুর কেবলা অলিয়ে কামেল উস্তাযুল উলামা শায়খুল মশায়েখ বাহারুল উলুম হযরতুলহাজ্ব আল্লামা অধ্যক্ষ সৈয়দ মুহাম্মদ নুরুল মোনাওয়ার (রহঃ) এর এজাজতপ্রাপ্ত গদিনশীন আওলাদে পাক জা-নোশিনে মোনাওয়ার হুজুর শাহজাদা মাওলানা সৈয়দ মুহাম্মদ ছালেকুল মাওলা (মা,জি,আ), সাজ্জাদানশীন- উত্তর মেখল দরবারে মোনাওয়ার শরীফ।

এতে প্রধান বক্তা ছিলেন মাওলানা মুহাম্মদ ইমাম উদ্দিন আল কাদেরী, প্রধান আলোচক ছিলেন বাংলাদেশ সূফিবাদী ঐক্য ফোরামের চেয়ারম্যান সাংবাদিক নুর মুহাম্মদ রানা। শুভেচ্ছা বক্তব্য রাখেন মুহাম্মদ ইলিয়াস, মুহাম্মদ হারুনুর রশিদ।

আলোচনায় অংশগ্রহন করেন মাওলানা রিদওয়ান, নাত পরিবেশন করেন শায়েরে আহলে সুন্নাত মাওলানা মুহাম্মদ আরফাত রেজা কাদেরী। উক্ত অনুষ্ঠানে এলাকার গণ্যমান্য ব্যাক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন।

আনোয়ারায় গাউসিয়া কমিটির স্বাগত জুলুছ পূর্ববর্তী মাহফিল অনুষ্ঠিত

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Saturday, 15 August, 2026, 5:44 pm
আনোয়ারায় গাউসিয়া কমিটির স্বাগত জুলুছ পূর্ববর্তী মাহফিল অনুষ্ঠিত

চট্টগ্রাম অফিস: চট্টগ্রামের আনোয়ারা মোহছেন আউলিয়া (রহ.) দরবার শরীফ থেকে গাউসিয়া কমিটি বাংলাদেশ, বটতলী ইউনিয়ন শাখার আয়োজনে ঐতিহাসিক স্বাগত জুলুছ পূর্ববর্তী মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়েছে। গত ১৪ আগস্ট (শুক্রবার) আনোয়ারা মোহছেন আউলিয়া (রহ.) দরবার শরীফ প্রাঙ্গণে এ মাহফিলের আয়োজন করা হয়।

মাহফিলে মেহমান-এ-আলা হিসেবে তাকরীর করেন জামেয়া আহমদিয়া সুন্নিয়া কামিল মাদরাসার সাবেক সফল অধ্যক্ষ আল্লামা মুফতি সৈয়দ মুহাম্মদ অছিয়র রহমান আল-কাদেরী। মাহফিলের উদ্বোধন করেন উপজেলা গাউসিয়া কমিটির সভাপতি আলহাজ্ব আহমদ কবির।

বিশেষ মেহমান হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বটতলী ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান আবুল কালাম আবু, ইসলামী চিন্তাবিদ এস এম হামেদ হোসাইন এবং হিজরি নববর্ষ উদযাপন পরিষদের কো-চেয়ারম্যান মাস্টার মুহাম্মদ আবুল হোসাইন। প্রধান বক্তা হিসেবে বক্তব্য দেন বিশিষ্ট ওয়ায়েজ মাওলানা এনাম রেজা।

আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন আল্লামা আবদুল মোমেন আনোয়ারী, অধ্যক্ষ মুহাম্মদ জানে আলম নেজামী, অধ্যক্ষ ডি.আই.এম. জাহাঙ্গীর আলম, মাওলানা আহমদ নুর আল-কাদেরী, মাওলানা আহমদ উল্লাহ, শায়ের মাওলানা এনামুল হক এনাম, মাওলানা আবুল কাশেম বিন সৈয়দ ফারুকী, মাওলানা সাইফুল আলম, কবি ও সাহিত্যিক মুহাম্মদ আলী আজগর, সাবেক মেম্বার আমীর আহমদ, সমাজসেবক মুহাম্মদ ফেরদৌসুর রহমান, মুহাম্মদ শাহাদাত হোসেন, মুহাম্মদ কামাল উদ্দীন, যুবনেতা মুহাম্মদ আনোয়ার হোসেন, মোহাম্মদ জাকারিয়া, জিয়াউল হক রুভেল, মাহবুব আলম, মোহাম্মদ ওসমান তাহেরী, হুমায়ুন কবির ছোটন, মুহাম্মদ শাকিল, আবদুল মাবুদ সাগরসহ স্থানীয় নেতৃবৃন্দ।

মাহফিলে বক্তারা ধর্মীয় মূল্যবোধ, রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর আদর্শ ও ইসলামী চেতনা ধারণের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

সভায় আগামী ২৬ আগস্ট, বুধবার, বন্দরনগরী চট্টগ্রামে আওলাদে রাসুল শাহিন শাহে ছিরিকোটির বংশধর পীরে বাঙ্গাল সৈয়দ মুহাম্মদ ছাবের শাহ (মজিআ)-এর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিতব্য এশিয়ার বৃহত্তম জশনে জুলুছে ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.)-তে সর্বস্তরের মানুষকে অংশগ্রহণের আহ্বান জানানো হয়।

এ সময় বক্তারা ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.)-এর ছুটি বাতিলের যেকোনো উদ্যোগ বা ষড়যন্ত্র কঠোরভাবে মোকাবিলা করার দৃঢ় সংকল্প ব্যক্ত করেন।