খুঁজুন
, ,

উত্তর দিবেন কি মাননীয় মন্ত্রী:প্রশ্ন ফারাজ করিমের

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Tuesday, 17 December, 2019, 8:19 pm
উত্তর দিবেন কি মাননীয় মন্ত্রী:প্রশ্ন ফারাজ করিমের

সম্প্রতি প্রকাশিত রাজাকারের তালিকায় রাউজানের সাংসদ ও রেলপথ মন্ত্রনালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি এবিএম ফজলে করিম চৌধুরীর পিতা সাবেক পূর্ব পাকিস্তান প্রাদেশিক পরিষদের বিরোধীদলীয় নেতা এ.কে.এম. ফজলুল কবির চৌধুরীর নাম অন্তর্ভূক্ত সম্পর্কে নিজের ফেইসবুক ফেইজে মরহুম ফজলুল কবির চৌধুরীর বর্ণাঢ্য রাজনৈতিক জীবন নিয়ে এক তথ্যবহুল স্ট্যাটাস তুলে ধরেছেন ফজলুল কবির চৌধুরীর নাতি ও রাউজানের সাংসদপুত্র তরুণ রাজনীতিবিদ ফারাজ করিম চৌধুরী। ফারাজের স্ট্যাটাসটি ফেসবুকে এরইমধ্যে ভাইরাল হয়ে গেছে।

ফারাজ করিম চৌধুরীর স্ট্যাটাসটি হুবহু তুলে ধরা হলো-
তবে কি একজন রাজাকারের বাড়িতে জাতির পিতার সরকার ৮ জন পুলিশ দিয়ে নিরাপত্তা দিয়েছিলেন এবং ৭২ এ তার মৃত্যুর পর লাশ স্পেশাল সেনা বিমান করে চট্টগ্রাম এনেছিল ? উত্তর দিবেন কি মাননীয় মন্ত্রী ?

রাজা আর তার আবহাওয়া অধিদপ্তরের সেই গল্প শুনেছিলেন না? ঐ যে রাজা তার আবহাওয়া অধিদপ্তরের কথা শুনে মাছ ধরতে আসে আর তখন এক মূর্খ জেলে তাকে প্রশ্ন করে যে ‘জ’মহারাজা আপনি আজ কেন মাছ ধরতে এলেন? আজ তো বৃষ্টি হবে। রাজা তাকে গালি দিয়ে উত্তর দিয়েছিলো ‘মূর্খ, তুই কি জানোস, আমার আধুনিক আবহাওয়া অফিস আমাকে বলেছে আজ কোনো বৃষ্টি হবেনা’। তার কিছুক্ষন পর বৃষ্টি শুরু হয় আর রাজা ভিজে যায়। প্রচন্ড ক্ষেপা রাজা তখন আবহাওয়া অধিদপ্তরের প্রধান কে গ্রেফতার করার নির্দেশ দেয় আর সেই মূর্খকে আবহাওয়া দপ্তরের প্রধান বানিয়ে দেয়। আর সেই থেকেই নাকি দায়িত্ব শীল পদ গুলোতে মূর্খদের বসানোর সূত্রপাত হয়েছিল। যাইহোক অপ্রাসঙ্গিক কথা না বলি। আজ যার সূত্র ধরে আমি এবং আমার পরিবারকে রাজাকার পরিবার আখ্যায়িত করেছেন তার সম্পর্কে তো আমাকে কথা বলতেই হয়।

এ.কে.এম. ফজলুল কবির চৌধুরী ছিলেন একজন রাজনীতিবিদ। যদি এক কথায় শুনতে চান তাহলে তাকে মুসলমান হিসেবে পরিচয় করিয়ে দিতেই আমি ব্যক্তিগতভাবে গর্ব করি। তবে পেশায় ছিল একজন রাজনীতিবিদ যিনি ১৯৩৮ সালে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় হতে আইন শাস্ত্রে এম.এ. ডিগ্রি লাভ করেন। তাকে নিয়ে আমি গর্ব করি তার পদ পদবীর জন্য অথবা তার ভিআইপি স্ট্যাটাসের জন্য নয়। বরং তার ভিআইপি স্ট্যাটাস যাদের দ্বারা অর্জিত সেই ভিআইপির (পি) অর্থাৎ (পারসন) বা যদি বলি পিপল, যে জনগণের পক্ষে তার সীমাহীন ভালোবাসার জন্য। পার্লামেন্টের পুরনো বইগুলো যদি আপনারা দেখেন, তবে আপনারা অনেককিছুই জানতে পারবেন। ১৯৬২’র দিকে যখন বাংলাদেশ ছিল না, সেসময় পূর্ব-পাকিস্তানের স্বার্থ ও বাঙালীদের পক্ষে দাবী আদায়ে সংসদে বলিষ্ঠ ভূমিকা রেখেছিলেন জনাব এ.কে.এম. ফজলুল কবির চৌধুরী। তিনি পশ্চিম পাকিস্তানকে প্রায় সময় চাপ প্রয়োগ করতেন এবং চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার সময় তিনি যে আওয়াজ তুলেছিলেন তাও এখানে প্রতীয়মান। আজ আপনারা দেখতে পান চট্টগ্রাম চেম্বার অব কমার্স এন্ড ইন্ডাষ্ট্রিজ, চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, চট্টগ্রাম সিটি কলেজ, চট্টগ্রাম নাইট কলেজ, চট্টগ্রাম মহিলা কলেজ এবং চট্টগ্রাম ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজ যেগুলোর প্রতিটার প্রতিষ্ঠার মধ্যে তার এবং চট্টগ্রামের আরো কয়েকজন গুণী ব্যক্তিত্বের অবদান রয়েছে। যদি প্রমান চান আমি তা তুলে ধরতে পারবো। জনাব চৌধুরী একক প্রচেষ্টায় ১৯৬৩ সালে রাউজান কলেজ এবং ১৯৬২ সালে রাউজানের গহিরায় শান্তির জন্য নোবেল পুরস্কার অর্জনকারী বেলজিয়ামের ডমিনিক পীয়ের অনুদানে প্রতিষ্ঠা করেন শান্তির দ্বীপ।

ফজলুল কবির চৌধুরী, আলহাজ্ব খান বাহাদুর আবদুল জব্বার চৌধুরীর ও মাতৃকুল মধ্যযুগীয় মুসলিম মহিলা কবি রহিমুন্নেসার পৌত্রী বেগম ফাতেমা খাতুন চৌধুরীর ঔরশে জন্ম গ্রহণ করেন। তিনি ছিলেন সাবেক পূর্ব পাকিস্তান প্রাদেশিক পরিষদের বিরোধীদলীয় নেতা (আজকের দিনে যেই পদের অধিকারী আমাদের দেশের বর্তমান বিরোধী দলীয় নেত্রী বেগম রৌশান এরশাদ)। প্রাদেশিক আইন পরিষদের চেয়ারম্যান ও ছিলেন এবং দু দু বার সংসদ সদস্য ছিলেন। প্রথমে রাউজান রাঙ্গুনিয়া বোয়ালখালীর (১৯৬২) আর পরবর্তীতে রাউজান হাটহাজারীর (১৯৬৫)। কোন রাজনৈতিক দলও করতেন না, বরং স্বতন্ত্রভাবে অন্যান্য স্বতন্ত্র সদস্যদের একত্রিত করে বিরোধী দলীয় নেতা নির্বাচিত হয়েছিলেন। অর্থাৎ তিনি মুসলিম লীগের কেউ ছিলেন না। যেহুতু রাজনীতির সূত্রেই আজ আমার মরহুম দাদা কে তার মৃত্যুর প্রায় অর্ধ শতাধিক বছর পর অভিযুক্ত করা হয়েছে, সেই ক্ষেত্রে তার রাজনৈতিক পরিচয় আমাকে তুলে ধরতেই হলো।

বিজয়ের মাসে বিজয় দিবসের আগ মুহুর্তে, গত ১৫ ডিসেম্বর সন্ধ্যা সাড়ে ৬ টার দিকে রাউজান কলেজে আমি যাই যা অভিযুক্ত মরহুম এ.কে.এম ফজলুল কবির চৌধুরী প্রতিষ্ঠা করেছিল। সন্ধ্যা ৭ টার দিকে রাউজান কলেজের শহীদ মিনারে খোলা আকাশের নিচে বসে আমরা আওয়ামী পরিবার ও ছাত্রলীগের ভাইয়েরা সহ একত্রে রাউজানের মুক্তিযোদ্ধাদের বীরত্বপূর্ণ গল্পগাঁথা শুনছিলাম। রাউজানে তাদের সেই যুদ্ধের পুরনো স্মৃতিগুলি বলতে গিয়ে মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার আবু জাফর সাহেব বলেন, আজকে আমাদের মাঝে যে বসে আছেন তার দাদা ফজলুল কবির চৌধুরী

ব্যাক্তিগতভাবে আমাকে ও আমার সহকর্মীদেরকে ১৯৬৫ সালে ফাতেমা জিন্নাহ’র পক্ষে আইয়ুব বিরোধী আন্দোলন করায় জেল থেকে মুক্ত করে আনেন। সেসময় থেকে জনাব ফজলুল কবির চৌধুরী আমাদেরকে মুক্তিযুদ্ধের প্রতি অনুপ্রাণিত করতে থাকেন। এবং বিভিন্নভাবে আমাদের সুযোগ-সুবিধা করে দিতেন। যখন বাড়ী ফিরছিলাম, তখন খবর এলো আমার দাদা ফজলুল কবির চৌধুরী নাকি রাজাকার ছিলেন। এবং মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয় কর্তৃক প্রকাশিত রাজাকারের তালিকায় আমার দাদার নাম তিনবার উল্লেখ করা হয়েছে।

যে মন্ত্রণালয় এখনো মুক্তিযোদ্ধাদের সম্মান দিতে শিখে নি, যে মন্ত্রণালয় মুক্তিযোদ্ধাদের সম্মাননা দেওয়ার সময় অভিযুক্ত ছিল, সেই মন্ত্রণালয়ের স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন করলে নিশ্চয় আমার কবিরা গুনাহ হয়ে যাবে না। অভিযোগ যেহেতু করেছেন, এখন তার প্রতিক্রিয়া শোনার সময় এসেছে।
কল্পনা করা বা স্বপ্ন দেখা ভালো। তবে অবাস্তব কল্পনা, অবাস্তব চিন্তাভাবনা, বানোয়াট গল্প বলা ভালো নয়। মহান মুক্তিযুদ্ধের সময় আমাদের বাড়ী ছিল চট্টগ্রামের পাথরঘাটায়। বাড়ির নাম ইকবাল ভিল্লা যা কিনা এই অঞ্চলের একটি ঐতিহ্যবাহী বাড়ী হিসেবে পরিচিত। কথা বলতে গেলে অনেক কিছু চলে আসবে আর লিখতে গেলে এই বাড়ীর অনেক ইতিহাস যা লিখে শেষ করা যাবে না। মুক্তিযুদ্ধকালীন সময়ে আমার দাদা এ.কে.এম ফজলুল কবির চৌধুরী পাথরঘাটার বাড়ীতে অবস্থান করতেন।

তার ২য় পুত্রের নাম ফজলে রাব্বি চৌধুরী, আমার বাবার বড় ভাই, আমার মেঝো চাচা। মুক্তিযুদ্ধের সময় তার বয়স ২১। তাকে অনেকেই একজন সহযোগী মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন। কারণ তিনি মুক্তিযুদ্ধের সময় বীর বাঙ্গালীদের পক্ষে অবস্থান করে নিরীহ বাঙ্গালীদের রক্ষা ও পাকিস্তানী হানাদার বাহিনীকে প্রতিহত করার জন্য ভূমিকা রেখেছিলেন। নালাপাড়ার হাজী আবদুর রহিমকে চিনেন কেউ ? চিনে থাকলে নিশ্চই জানবেন যে মেঝো চাচা ১৯৭১ সালের মার্চের শেষ দিকে গান পাউডার নিয়ে টেরীবাজার মিঠা গলিতে গিয়েছিলেন। এবং পরে সেই গান পাউডার ফিরিঙ্গি বাজারের মনাকে দিয়েছিলেন। সেই মনা কিন্তু একজন মুক্তিযোদ্ধা। বঙ্গবন্ধুর ঘোষিত ৬ দফার ৬ তারা বিশিষ্ট পতাকা ও টুপি ব্যবহার করতেন বলে বর্তমান কাজির দেওরির পাশে অবস্থিত নেভাল একাডেমীর ছাদ হতে আমার দাদার সেই ল্যান্ডক্রুসার গাড়ীটিকে (গাড়ী নং ৮১৪৭) লক্ষ্য করে গুলি ছুড়ে পাকিস্তানী আর্মি। সেসময় আমার চাচার সাথে গাড়ীতে ছিলেন এ.কে. খানের জামাতা এম.আর. সিদ্দিকী।

সেই ল্যান্ড ক্রুসার গাড়ী ছিল যার গাড়ী নং ৮১৪৭ ব্যবহার করে আমার চাচা ফজলে রাব্বি চৌধুরী মুক্তিযুদ্ধের সময় জীবনের ঝুঁকি নিয়ে চট্টগ্রাম কলেজের শিক্ষক সহ বিভিন্ন ব্যক্তিদের তাদের নিজ বাসায় নিরাপদে নামিয়ে দিয়ে আসতেন। এই সকল ঘটনার সাক্ষী দিবেন বীর মুক্তিযোদ্ধা হাফিজ জাহান খান রুশনীর ভাই জার্মান প্রবাসী রুমু। শুনেছি যুদ্ধের সময় চাচা একদিন চট্টগ্রামের নিউ মার্কেট এলাকায় রিকসা নিয়ে যাচ্ছিলেন। পথিমধ্যে ৪ জন নিরীহ বাঙালীকে ধরে পাকিস্তানী ৩ জন আর্মি ব্যাপক মারধর করছিল। সে সময় তিনি রিকসা থেকে নেমে পাকিস্তানী আর্মির সাথে বাকবিতণ্ডায় জড়িয়ে পড়েন এবং নিরীহ সেই বাঙালীদের উদ্ধার করেন। এর কিছুদিন পর চট্টগ্রাম শহর থেকে রাউজান যাওয়ার পথে কয়েকজন হিন্দুকে পাকিস্তানী আর্মিরা ধরে নিয়ে যেতে দেখলে জনাব ফজলে রাব্বি চৌধুরী গাড়ী থেকে নেমে সেসব হিন্দুদের রক্ষা করে নিরাপদে বাড়ীতে পৌঁছে দেন। বলি শামসুর নাম অনেকেই শুনেছেন, বিশেষ করে যারা তৎকালীন ইতিহাস সম্পর্কে অবগত আছেন। বলি শামসুও আমার চাচার সাথে গাড়ীতে থাকতেন। তার ভাই মাহবুবও গাড়ীতে থাকতেন। তারা যুদ্ধ কালীন সময় আমার চাচার ভূমিকার সাক্ষী দিবেন যদি বেঁচে থেকে থাকে। চাচার কথা বলার পিছে কারণ আছে। চট্টগ্রামের মানুষ ভালো করে জানে যে আমাদের সেদিকে একটি সংস্কৃতি আছে। বাপ বিষ খেলে ছেলেও বিষ খেতে চাই। অর্থাৎ বাপ ছাড়া ছেলে এক পা দিতে অসঙ্গতি প্রকাশ করেন।

১৯৭১ সালের ১৬ ডিসেম্বর বীর বাঙালীর মহান আত্মত্যাগের মধ্য দিয়ে স্বাধীন হয় আমাদের প্রিয় বাংলাদেশ। দেশ স্বাধীন হওয়ার পর জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সরকার আমার দাদাকে ৮ জন রাষ্ট্রীয় পুলিশ দিয়ে নিরাপত্তা প্রদান করতো। যেহেতু আমার দাদার আপন ছোট ভাইয়ের নাম ফজলুল কাদের চৌধুরী এর রেশ ধরে পরিবারের অন্য কারো যেন ক্ষতি না হয় সেজন্য সরকারের পক্ষ থেকে পরবর্তীতে বেঙ্গল লিবারেশন ফোর্স সহ বাড়তি পুলিশ মোতায়েন করেন তখন কার সরকার। এই কথার প্রমান ও সাক্ষী দুটি আছে। রাষ্ট্রপতি আবু সাইদ চৌধুরীর সন্তান সাবেক পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী আবুল হাসান চৌধুরীকে জিজ্ঞেস করলে মুক্তিযুদ্ধের সময় জনাব এ.কে.এম. ফজলুল কবির চৌধুরীর ভূমিকা সম্পর্কে জানতে পারবেন।

মুক্তিযুদ্ধ চলাকালীন সময় এবং এর আগে থেকেই পাকিস্তান সরকারের বাঙালীদের প্রতি নিপীড়ন ও শোষণমূলক আচরণের প্রতি ইংগিত করে জনাব এ.কে.এম. ফজলুল কবির চৌধুরী বলতেন, “শুধুমাত্র বন্দুকের নল দিয়ে দেশ শাসন করা যায় না, পাকিস্তানের নিষ্ঠুরতম আচরণের জন্য একদিন কঠিন মাশুল দিতে হবে।” তিনি পাকিস্তান সরকারের অন্যায়-শোষণকে কখনো মেনে নিতে পারেন নি।বাঙ্গালীদেরকে সবসময় তিনি সহযোগিতা করতেন। সেই সময় শ্রী শ্রী বর্মন নামে একজন হিন্দু ব্যক্তিকে তিনি পাথরঘাটার বাসায় আশ্রয় দিয়েছিলেন। যিনি ভারতের তৎকালীন একটি ব্যাংকে চাকরী করতেন।

ফজলুল কবির চৌধুরী যদি রাজাকার হয়ে থাকে তবে বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি, স্পিকার, মন্ত্রী, মেয়র, দলের সাধারণ সম্পাদক, সরকারী-বেসরকারি উচ্চ পদস্থ কর্মকর্তা, সমাজের বিভিন্ন শ্রেণী পেশার গুণী ব্যক্তিত্বরা, যারা কিনা অনেকে নিজেরাই মুক্তিযোদ্ধা, তারা কি রাজাকারের কবর জিয়ারত করে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা নিবেদন করে আসছেন এতদিন ? ফজলুল কবির চৌধুরী যদি রাজাকার হয়ে থাকে তবে কি একজন রাজাকারকে জাতির পিতার সরকার নিরাপত্তা দেয়ার ব্যবস্থা করেছিল ? তিনি যদি রাজাকার হয়ে থাকেন তবে কি একজন রাজাকারের লাশ জাতির পিতার নির্দেশে সেসময় সরকারের বিশেষ বিমান করে ঢাকা থেকে চট্টগ্রাম আনা হয়েছিল ?

তবে কি মন্ত্রণালয়ের গেজেটেড ভাতা প্রাপ্ত মুক্তিযোদ্ধা রাজাকার ছিল কারণ তার মেয়ে অন্য রাজনৈতিক দল করে বলে? তবে কি যেই ট্রাইবুনাল দ্বারা যুদ্ধ অপরাধের বিচার করলেন, সেই ট্রাইবুনালের কৌঁসুলি রাজাকার ছিল ? তবে কি বঙ্গবন্ধুর সাথে একই মঞ্চে থাকা আওয়ামী লীগ নেতা, মুক্তিযুদ্ধ সংগ্রাম পরিষদের সভাপতি মুজিবুল হক ও রাজাকার ছিল ? তবে কি বঙ্গবন্ধুর ভগ্নিপতি আব্দুর রব সেরনিয়াবাতের বড় ভাই ও রাজাকার ছিল ? উত্তর দিবেন কি মাননীয় মন্ত্রী ?

Feb2
Feb2

প্রধানমন্ত্রীর উপস্থিতিতে শপথ নিলেন সারোয়ার আলমগীর

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Thursday, 9 July, 2026, 11:28 pm
প্রধানমন্ত্রীর উপস্থিতিতে শপথ নিলেন সারোয়ার আলমগীর

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের উপস্থিতিতে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের নির্বাচিত সংসদ সদস্য সারোয়ার আলমগীরের শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়েছে। অনুষ্ঠানে নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যকে শপথ বাক্য পাঠ করান বাংলাদেশ জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ।

বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) সন্ধ্যা সোয়া ৭টায় জাতীয় সংসদের স্পিকারের কার্যালয়ে এ শপথ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।

সংসদ সচিবালয়ের সচিব ব্যারিস্টার মো. গোলাম সরওয়ার ভুঁইয়ার সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। সংবিধানের ১৪৮ অনুচ্ছেদের তৃতীয় তফসিল এবং জাতীয় সংসদের কার্যপ্রণালি বিধি-৫ এর আলোকে এই শপথ বাক্য পাঠ করানো হয়। শপথ গ্রহণ শেষে নতুন সংসদ সদস্য প্রচলিত রীতি অনুযায়ী সংসদ সচিবের কক্ষে রক্ষিত শপথ বইয়ে স্বাক্ষর করেন।

শপথ অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন সরকারের স্থানীয় সরকার মন্ত্রী, অর্থমন্ত্রী, জাতীয় সংসদের ডেপুটি স্পিকার, চিফ হুইপ ও অন্যান্য হুইপরা। এছাড়া বেশ কয়েকজন সংসদ সদস্য এবং সংসদ সচিবালয়ের সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা এ সময় উপস্থিত থেকে নবনির্বাচিত এমপিকে অভিনন্দন জানান।

যুগ্ম-সচিব পদে ১৭৯ কর্মকর্তার পদোন্নতি

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Thursday, 9 July, 2026, 10:31 pm
যুগ্ম-সচিব পদে ১৭৯ কর্মকর্তার পদোন্নতি

১৭৯ জন উপসচিবকে যুগ্ম-সচিব পদে পদোন্নতি দিয়েছে সরকার। বিএনপি সরকার গঠন করার পর প্রশাসনে এটিই প্রথম বড় পদোন্নতি।

বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে থেকে এ সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছে।

পদোন্নতি পাওয়া কর্মকর্তাদের জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের বিশেষ ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওএসডি) করা হয়েছে। তবে নতুন যুগ্ম-সচিবদের পদায়ন করে আদেশ জারি করা হয়নি।

প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, যুগ্ম-সচিব পদে পদোন্নতিপ্রাপ্ত কর্মকর্তারা তাদের যোগদানপত্র সরাসরি জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব বরাবর বা অনলাইনে ই-মেইলে (sa1@mopa.gov.bd) পাঠাতে পারবেন।

পদোন্নতির আদেশে উল্লেখিত কর্মস্থল থেকে কোনো কর্মকর্তার দপ্তর/কর্মস্থল ইতোমধ্যে পরিবর্তন হলে কর্মরত দপ্তরের নাম ঠিকানা উল্লেখ করে যোগদানপত্র দাখিল করবেন।

পরবর্তী সময়ে কোনো কর্মকর্তার বিরুদ্ধে কোনরকম বিরূপ/ভিন্নরূপ তথ্য পাওয়া গেলে, তার ক্ষেত্রে এই আদেশের প্রয়োজনীয় সংশোধন/বাতিল করার অধিকার কর্তৃপক্ষ সংরক্ষণ করে বলে প্রজ্ঞাপনে জানানো হয়েছে।

অন্যদিকে পৃথক প্রজ্ঞাপনে আরও ৭ জনকে যুগ্ম-সচিব পদে পদোন্নতি দেওয়া হয়েছে। এ নিয়ে একদিনে মোট ১৭৯ জন এ পদে পদোন্নতি দেওয়া হলো।

বর্তমানে প্রশাসনে যুগ্ম-সচিবের সংখ্যা হলো এক হাজার ৬১ জন। এ পদোন্নতির মূল বিবেচ্য ছিল বাংলাদেশ সিভিল সার্ভিস (বিসিএস) প্রশাসন ক্যাডারের ২৪তম ব্যাচ। এছাড়া ইতোপূর্বে বঞ্চিত বিভিন্ন ব্যাচের কর্মকর্তারাও পদোন্নতির তালিকায় রয়েছেন।

‘সরকারের উপসচিব, যুগ্মসচিব, অতিরিক্ত সচিব ও সচিব পদে পদোন্নতি বিধিমালা, ২০০২’-এ বলা হয়েছে, যুগ্ম-সচিব পদে পদোন্নতির ক্ষেত্রে ৭০ শতাংশ প্রশাসন ক্যাডারের কর্মকর্তাদের ও ৩০ শতাংশ অন্যান্য ক্যাডারের উপসচিব পদে কর্মরতদের বিবেচনায় নিতে হবে।

বিধিমালা অনুযায়ী, উপসচিব পদে কমপক্ষে ৫ বছর চাকরিসহ সংশ্লিষ্ট ক্যাডারের সদস্য হিসেবে কমপক্ষে ১৫ বছরের চাকরির অভিজ্ঞতা বা উপ-সচিব পদে কমপক্ষে ৩ বছর চাকরিসহ ২০ বছরের অভিজ্ঞতা থাকলে কোনো কর্মকর্তা যুগ্মসচিব পদে পদোন্নতির জন্য বিবেচিত হন।

সুন্দরভাবে বেঁচে থাকার জন্যই সবুজায়ন জরুরি : প্রধানমন্ত্রী

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Thursday, 9 July, 2026, 3:04 pm
সুন্দরভাবে বেঁচে থাকার জন্যই সবুজায়ন জরুরি : প্রধানমন্ত্রী

প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেছেন, সব সৃষ্টি থেকে উপকার ভোগ করতে হলে, মানুষ হিসেবে আমাদের অবশ্যই কিছু দায়িত্ব এবং কর্তব্য রয়েছে। যথানিয়মে সব সৃষ্টির যত্ন এবং পরিচর্যা করা মানব সমাজের দায়িত্ব।

তিনি বলেন, বিজ্ঞানের উৎকর্ষতার সঙ্গে সঙ্গে এটি প্রমাণিত সত্য, বাস্তুতন্ত্র বা ইকোসিস্টেমের সঙ্গে মানব সমাজের সম্পর্ক গভীর এবং অবিচ্ছেদ্য। বাস্তুতন্ত্রের নিরাপদ লালন এবং বিকাশের সঙ্গে মানব সমাজের নিরাপদ বেড়ে ওঠা ওতপ্রোতভাবে জড়িত। সুতরাং, আজকের এই পরিবেশ মেলা কিংবা বৃক্ষমেলার আয়োজন, এটি কিন্তু বর্তমান এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের সুন্দর ও সুস্থভাবে বেড়ে ওঠার জন্য একটি নিরাপদ বিনিয়োগ বলেই আমি মনে করি।

বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) রাজধানীর আগারগাঁওয়ে চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে বিশ্ব পরিবেশ দিবস ও পরিবেশ মেলা এবং জাতীয় বৃক্ষরোপণ অভিযান ও বৃক্ষমেলা-২০২৬ উপলক্ষ্যে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী এ কথা বলেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, বৃক্ষরোপণের প্রয়োজনীয়তা এবং উপকারিতা নিয়ে নতুন করে বেশি কিছু বলার নেই। বৃক্ষরোপণ কিংবা সবুজায়নের গুরুত্ব সম্পর্কে আমরা সবাই কম বেশি অবগত। আপনার-আমার-আমাদের আগামী প্রজন্মের সুন্দরভাবে বেঁচে থাকার জন্যই সবুজায়ন জরুরি। একটি সন্তান পৃথিবীতে জন্মগ্রহণ করলে, আসুন আমরা একটি করে গাছ লাগানোর মধ্য দিয়ে প্রতিটি প্রাণের জন্মকে উদযাপন করি, স্মরণীয় করে রাখি। একজন নবজাতকের পাশাপাশি একটি গাছও বেড়ে উঠুক। এভাবেই এগিয়ে যাক সবুজায়নের জন্য সামাজিক আন্দোলন।

তারেক রহমান বলেন, সবুজায়নের সামাজিক আন্দোলনের পাশাপাশি পরিবেশ সংরক্ষণে সরকারিভাবেও নানা উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। বর্তমান সরকার শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে গ্রিন ভলান্টিয়ারিজম চালু করার পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। একইসঙ্গে ক্লাইমেট ইয়ুথ ফেলোশিপ চালু এবং এনভায়রনমেন্ট স্টার্ট-আপ ফান্ডসহ বেশ কিছু ইতিবাচক উদ্যোগ নিয়েছে।

তিনি বলেন, সরকারের নেওয়া উদ্যোগগুলো সফলভাবে বাস্তবায়িত হলে বর্তমান এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্যে একটি নিরাপদ, স্বাস্থ্যকর ও সবুজ বাংলাদেশ গঠন অসম্ভব নয়।

বর্তমান সরকার পাঁচ বছরে নতুন করে ২৫ কোটি গাছ রোপণের কর্মসূচি নিয়েছে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, তবে ইচ্ছেমতো গাছ রোপণ করলেই উদ্দেশ্য সাধিত হবে না। বরং কোন পরিবেশে, কোন প্রকারের মাটিতে, কি ধরনের আবহাওয়ায়, কোন প্রজাতির গাছ রোপণ করা দরকার, এগুলো-পরীক্ষা নিরীক্ষা খুবই গুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয়। যেমন ইউক্যালিপটাস কিংবা আকাশমণি প্রজাতির গাছ দ্রুত বেড়ে ওঠে, কিন্তু এ ধরনের গাছ আমাদের পরিবেশের জন্য কতটা উপযোগী সেটি অবশ্যই গবেষণার দাবি রাখে।

তিনি বলেন, নতুন বৃক্ষরোপণের ক্ষেত্রে দেশীয় প্রজাতির গাছ যেমন ওষুধি, অর্কিড, বাঁশজাতীয়, বনজ, ফলদ, অর্থকরী এবং বিপন্ন প্রজাতির গাছ রোপণ অগ্রাধিকার দেওয়া উচিত।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, নতুন বৃক্ষরোপণ অবশ্যই জরুরি, তবে রোপিত গাছ নিরাপদে বেড়ে উঠছে কিনা কিংবা বেড়ে উঠতে পারছে কিনা, সেটি নিশ্চিত করা তার চেয়েও বেশি জরুরি। আর যুগ যুগ ধরে স্থানীয় বাস্তুতন্ত্রের অংশ হয়ে যাওয়া, বিদ্যমান গাছগুলোকে কেটে না ফেলে, জীব বৈচিত্র্য রক্ষা করা সবচেয়ে বেশি জরুরি। আমি আশা করি, বনবিভাগ সেটি নিশ্চিত করবে। সরকার পরিবেশ রক্ষার স্বার্থে বন উজাড়, পাহাড় কাটা, ম্যানগ্রোভ ধ্বংস এবং বন্যপ্রাণী নিধনের বিরুদ্ধেও কঠোর অবস্থান নিয়েছে।

তিনি বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত-এটি এখন আর ভবিষ্যতের কোনো আশঙ্কার বিষয় নয়। বরং এটিই এখন আমাদের প্রতিদিনের বাস্তবতা। ঘূর্ণিঝড়, বন্যা, খরা, তাপপ্রবাহ কিংবা দাবদাহ, নদীভাঙন, লবণাক্ততা, আমাদের কৃষি, স্বাস্থ্য, অর্থনীতি সর্বোপরি জন জীবনকে চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলে দিয়েছে। এই বাস্তবতায় বর্তমান সরকার পরিবেশকে কোনো আলাদা খাত হিসেবে নয়, বরং জাতীয় উন্নয়নের অন্যতম ভিত্তি হিসেবে বিবেচনা করছে। বর্তমান সরকারের লক্ষ্য এমন একটি সবুজ, পরিচ্ছন্ন, জলবায়ু-সহনশীল টেকসই বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠা যেখানে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ও পরিবেশ সংরক্ষণ পাশাপাশি এগিয়ে যাবে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, বৃক্ষরোপণের পাশাপাশি বর্তমান সরকার সারাদেশে ২০ হাজার কিলোমিটার নদী ও খাল খনন ও পুনঃখননের যে কর্মসূচি বাস্তবায়ন শুরু করেছে, সেটি শুধুমাত্র কৃষকদের জন্য বছর জুড়ে কৃষি সেচ সুবিধাই নিশ্চিত করবে না, বরং জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত মোকাবিলার ক্ষেত্রেও কার্যকর ভূমিকা রাখবে। তবে পরিবেশের উন্নয়ন শুধুমাত্র বৃক্ষরোপণ কিংবা খাল খননের ওপরই নির্ভর করে না। রাজধানীসহ বিশেষ করে সারাদেশের সব নগর বন্দর এবং শহরতলির বর্জ্য ব্যবস্থাপনাতেও আমূল পরিবর্তন আনার কোনো বিকল্প নেই।

তিনি বলেন, প্লাস্টিক বর্জ্য উল্লেখযোগ্যভাবে কমিয়ে আনার লক্ষ্যে সরকার এরইমধ্যে কাজ শুরু করেছে। একইসঙ্গে জৈব সার উৎপাদন, পুনর্ব্যবহার, বর্জ্য থেকে জ্বালানি উৎপাদন এবং রিডিউস-রিইউজ-রিসাইকেল এই থ্রিআরএস নীতিকে সরকার জাতীয় পর্যায়ে বাস্তবায়নের নীতি বাস্তবায়নের উদ্যোগ নিয়েছে। বর্জ্য ব্যবস্থাপনা একটি সুশৃঙ্খল পদ্ধতিতে আনতে হলে এটি শুধুমাত্র নগর প্রশাসন কিংবা পুলিশ দিয়ে নিশ্চিত করা সম্ভব নয়, এজন্য প্রয়োজন ছোট বড় প্রতিটি নাগরিকের দায়িত্বশীল আচরণ। প্রতিটি নাগরিকের প্রতি উদাত্ত আহ্বান, অনুগ্রহ করে যেখানে সেখানে বর্জ্য কিংবা উচ্ছিষ্ট ফেলবেন না।

ঘরে কিংবা বাইরে সবসময় সব বর্জ্য নির্ধারিত স্থানে ফেলুন। নিজে সুস্থ থাকুন-নিজের পরিবারের জন্যও পরিবেশ সুন্দর রাখুন বলেও মন্তব্য করেন প্রধানমন্ত্রী।