খুঁজুন
সোমবার, ২৫শে মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ১১ই জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

সার্বিয়াকে হারিয়ে ফেবারিটের মতোই বিশ্বকাপ শুরু করলো ব্রাজিল

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৫ নভেম্বর, ২০২২, ৪:৫১ পূর্বাহ্ণ
সার্বিয়াকে হারিয়ে ফেবারিটের মতোই বিশ্বকাপ শুরু করলো ব্রাজিল

প্রথমার্ধে ঠিক ব্রাজিলকে ‘ব্রাজিলে’র মতো খুঁজে পাওয়া যাচ্ছিল না; কিন্তু দ্বিতীয়ার্ধে সমর্থকদের মন ভরিয়ে দিয়েছেন নেইমার-ভিনিসিয়ুস-রিচার্লিসনরা। দ্বিতীয়ার্ধের ব্রাজিলকে দেখেই মনে হলো এই দলটি বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হতে পারে। রিচার্লিসনের অসাধারণ জোড়া গোলে ২-০ ব্যবধানে সার্বিয়াকে হারিয়ে ফেবারিটের মতোই বিশ্বকাপ শুরু করলো ৫ বারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ব্রাজিল।

শিরোপার অন্যতম দাবিদার ব্রাজিলকে প্রথমার্ধে গোল পেতে দেয়নি ইউরোপিয়ান দেশ সার্বিয়া। কাতারের লুসাইল স্টেডিয়ামে প্রায় ৮৫ হাজার দর্শকের সামনে একের পর এক আক্রমণ করেও প্রথমার্ধে গোলের দেখা পায়নি সেলেসাওরা।

ফিফা র‌্যাংকিংয়ে ১ নম্বর দল ব্রাজিল। ২১ নম্বরে সার্বিয়া। কাগজে-কলমে ব্যবধান স্পষ্ট। মাঠের খেলায় প্রথমার্ধে সেই ব্যবধান দেখাতে না পারলেও দ্বিতীয়ার্ধে ঠিকই ব্রাজিল দেখিয়েছে, তারা কতটা দুর্ধষ।

বল দখলের লড়াইয়ে ৫৯ ভাগ ছিল ব্রাজিলের, ৪১ ভাগ সার্বিয়ার। সার্বিয়ার জাল লক্ষ্যে ৯টি শট নিয়েছে ব্রাজিলিয়ানরা। যার ৮টিই ছিল লক্ষ্যে। সার্বিয়া নিয়েছে ৩টি। এর মধ্যে একটিও লক্ষ্যে ছিল না।

দ্বিতীয়ার্ধে সার্বিয়া খুব কমই বল পেয়েছে। সার্বদের ডিফেন্স ভেদ করে একের পর এ বল নিয়ে প্রবেশের চেষ্টা করে ব্রাজিলিয়ানরা। তবে প্রতিপক্ষের ডিফেন্ডাররাও ছিল তৎপর। ব্রাজিলের মুহুর্মুহু আক্রমণ প্রতিরোধ করেছে তারা। লাতিন আমেরিকান দেশটিরও দুর্ভাগ্য, দুটি শট ফিরে এসেছে তাদের সাইড বারে লেগে।

প্রথমার্ধে শুরুতে খেলার নিয়ন্ত্রণ কিছুটা সার্বিয়ানদের পায়ে ছিলো। তবে সময় গড়ানোর সাথে সাথে খেলার নিয়ন্ত্রণ ব্রাজিলিয়ানদের কাছে আসলেও সার্বিয়ার ডি বক্সে বল নিয়ে প্রবেশ করার সাধ্য যেন ছিল না নেইমার-ভিনিসিয়ুসদের। রাফিনহা কয়েকবার সুযোগ পেয়েছিলেন; কিন্তু তার দুর্বল শট ব্রাজিলের পক্ষে গোল পেতে যথেষ্ট হয়নি।

ভিনিসিয়ুস জুনিয়র এবং রিচার্লিসন বল নিয়ে বিপজ্জনকভাবে দু’একবার সার্বিয়ার ডি বক্সে ঢুকে পড়লেও সার্বদের কঠোর ডিফেন্সের সামনে সেগুলো কাজে লাগেনি। যে কারণে এক সময় দেখা গেছে নেইমার এবং ক্যাসেমিরোকে দুর পাল্লার শট নিয়ে লক্ষ্যভেদ করতে। কিন্তু সেগুলোও জালে জড়ায়নি। বরং, কাউন্টার অ্যাটাকে কয়েকবার ব্রাজিলের বক্সেও বল নিয়ে প্রবেশ করতে দেখা গেছে সার্বদের।

কিন্তু দ্বিতীয়ার্ধে খেলার চিত্র পুরোপুরি পাল্টে যায়। ব্রাজিল যেন এককভাবেই দ্বিতীয়ার্ধে খেলেছে। সার্বিয়ান ডিফেন্স শুধু ব্রাজিলের আক্রমণ ঠেকানোতেই ব্যস্ত ছিল।

৬২তম মিনিটে প্রথম গোল করে ব্রাজিল। সুযোগ সন্ধানী রিচার্লিসন অসাধারণ এক শটে গোল করে এগিয়ে দেয় ব্রাজিলকে। গোল হজম করে কিছু কাউন্টার অ্যাটাকে উঠে আসে সার্বিয়ানরা।

কিন্তু ৭৩ মিনিটে নেইমার-ভিনিসিয়ুস-রিচার্লিসন কম্বিনেশনে অসাধারণ গোলটি আসার পর সার্বিয়াকে বলতে গেলে ব্রাজিল গোলমুখে আর খুঁজেই পাওয়া যায়নি। ৭৮তম মিনিটে ইনজুরির শঙ্কা নিয়ে নেইমার উঠে যান।

কয়েকজন তরুণ ফুটবলারকে মাঠে নামান কোচ তিতে। তাতে শেষ ১০-১৫ মিনিট খেলার গতি যেন পাল্টে যায়। তিতের সাইড বেঞ্চ যে কতটা দুর্ধর্ষ, তা শেষ মুহূর্তে দেখা গেছে।

১৩ মিনিটেই প্রথম কর্নার আদায় করে নেয় ব্রাজিল। নেইমার শট নিলে গোলরক্ষক মিলিনকোভিক সাভিচ পাঞ্চ করে বল বাইরে পাঠিয়ে দলকে রক্ষা করেন। নেইমারের পরের কর্নার কিকে রাফিনহা লাফিয়ে উঠেছিলেন। কিন্তু তার আগেই বল গোলরক্ষকের হাতে।

২১ মিনিটের সময় পরপর দুই মুহূর্তে অসাধারণ দুটি শট নিয়েছিলে নেইমার এবং ক্যাসেমিরো। নেইমারের শট ফিরে আসে এক ডিফেন্ডারের গায়ে লেগে। ক্যাসেমিরোর শট ফিরিয়ে দেন গোলরক্ষক সাভিচ।

২৬তম মিনিটে সার্বিয়া গোলের দারুণ একটি সুযোগ পেয়েছিলো। ব্রাজিলিয়ানদের কাছ থেকে বল কেড়ে নেন তাদিচ। মিত্রোভিচকে ক্রস করেন তিনি। কিন্তু ব্রাজিল গোলরক্ষক অ্যালিসন লাফ দিয়ে উঠে সেই বল নিজের নিয়ন্ত্রনে নেন।

২৮ মিনিটে দারুণ এক সুযোগ পেয়েছিলো ব্রাজিল। থিয়াগো সিলভা বল পাস দিয়েছিলেন বক্সের মধ্যে। ভিনিসিয়ুস জুনিয়র একা ছিলেন। কিন্তু গোলরক্ষক সাভিচ ঝাঁপিয়ে পড়ে বল ক্লিয়ার করেন।

৩৫তম মিনিটে রাফিনহা দারুণ এক সুযোগ পেয়েছিলেন। কিন্তু তার বাম পায়ের দুর্বল শট গোলরক্ষকের হাতে চলে যায়।

৪১তম মিনিটে গোল্ডেন চান্স পেয়েছিলেন ভিনিসিয়ুস জুনিয়র। কিন্তু সার্বিয়ান ডিফেন্ডারদের চার্জের কারণে ভিনিসিয়ুস ভালো শট নিতে পারেননি। বল চলে যায় বাইরে।

প্রথমার্ধে গোলশূন্যভাবেই মাঠ ছাড়ে ব্রাজিল এবং সার্বিয়া। দ্বিতীয়ার্ধে খেলতে নেমে ৪৬তম মিনিটেই গোলের দারুণ সুযোগ পেয়েছিলেন বার্সা তারকা রাফিনহা। সার্বিয়ার এক ডিফেন্ডারের কাছ থেকে বল কেড়ে নেন তিনি। সামনে ছিলো শুধু গোলরক্ষক। বলটা আলতো টোকা দিলে হয়ে যেতো। কিন্তু তিনি মেরে দেন গোলরক্ষকের শরীরে।

৪৯তম মিনিটে বক্সের সামনে ফ্রি-কিক আদায় করে নেন নেইমার। শট নেন তিনি। কর্নারের বিনিময়ে রক্ষা করেন সার্ব ডিফেন্ডাররা। কর্নার কিক করেন নেইমার। থিয়াগো সিলভার দুর্দান্ত এক হেড, ঘাড়ে বল লাগিয়ে দলকে রক্ষা করেন সার্ব ডিফেন্ডার।

৫৫ মিনিটে বাম পাশ থেকে বক্সের মধ্যে ক্রস করেন ভিনিসিয়ুস। গোল লক্ষ্যে দুর্দান্ত এক শট নেন নেইমার। কিন্তু দুর্ভাগ্য বলটি চলে যায় সাইড বারের অনেক বাইরে দিয়ে।

৫৮ মিনিটে দারুণ এক কাউন্টার অ্যাটাক ছিল সার্বিয়ার। কর্নারের বিনিময়ে বলকে রক্ষা করেন অ্যালেক্স সান্দ্রো। ৬০ মিনিটে নিশ্চিত গোলবঞ্চিত হলো ব্রাজিল। বক্সের বাইরে প্রায় ৩০ গজ দুর থেকে বাঁ-পায়ের দুর্দান্ত এক শট নেন আলেক্স সান্দ্রো। কিন্তু বল বামপাশের সাইডবারে লেগে ফিরে আসে।

৬২ মিনিটে গোল করে ব্রাজিল। অনেক কষ্টের পর আসে গোলটি। নেইমার বল নিয়ে ঢুকে পড়েন বক্সের মধ্যে। ডিফন্ডোরের সামনে বাধা পেলে সুযোগ বুঝে গোলে শট নেন ভিনিসিয়ুস। কিন্তু গোলরক্ষক ঝাঁপিয়ে পড়ে ফিরিয়ে দেন বলটি। ফিরতি বলটিতেই আলতো টোকায় সার্বিয়ার জালে বল জড়িয়ে দেন রিচার্লিসন।

৬৭ মিনিটে আবারও সুযোগ পেয়েছিলো ব্রাজিল। কাউন্টার অ্যাটাকে মাঝ মাঠ থেকে রাফিনহা বল নিয়ে এগিয়ে আসে সার্বিয়ার বক্সের সামনে। ডিফেন্ডার বাধা দিলে সেই বল নিয়ে কয়েক পা এগিয়ে এসে শট নেন ভিনিসিয়ুস। কিন্তু পোস্ট লক্ষ্যে শটটি রাখতে পারেননি তিনি।

৭৩তম মিনিটে দ্বিতীয় গোল। রিচার্লিসনের এই গোলটি চোখে লেগে থাকার মত। বক্সের বাম প্রান্ত থেকে ডান-পায়ের টোকায় বক্সের মাঝে দাঁড়ানো রিচার্লিসনকে বলটি দেন ভিনিসিয়ুস জুনিয়র। রিচার্লিসন প্রথমে বলটি নিয়ন্ত্রনে নেন। হালকা উপরে উঠে যাওয়া বলটিকে একটু সময় নিয়ে অসাধারণ এক বাইসাইকেল কিকে সার্বিয়ার জালে বল জড়ান তিনি।

৭৭ মিনিটে রিচার্লিসনকে তুলে গ্যাব্রিয়েল হেসুসকে মাঠে নামানো হয়। নেইমার হালকা আহত হলে তাকে তুলে নিয়ে মাঠে নামানো অ্যান্তোনিকে। তার আগেই ভিনিসিয়ুসকে তুলে মাঠে নামানো হয় রদ্রিগোকে।

৮১ মিনিটে রাফিনহার কাছ থেকে বল পেয়ে ক্যাসেমিরো শট নেন। কিন্তু বল ডান প্রান্তে পোস্টের কোনায় লেগে ফিরে আসে। ৮২তম মিনিটে রদ্রিগো দুর্দান্ত এক শট নেন। কিন্তু গোলরক্ষক ফিরিয়ে দেন সেটি। ৮৩ তম মিনিটে বাম পায়ের দুর্দান্ত এক শট নেন লুকাস পাকুয়েতার পরিবর্তে মাঠে নামা ফ্রেড। কিন্তু গোলরক্ষক ঝাঁপিয়ে পড়ে সেটি রক্ষা করেন।

Feb2

ঝিনাইদহে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর উপর ডিম নিক্ষেপ ও হামলা

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: শুক্রবার, ২২ মে, ২০২৬, ৩:৪৯ অপরাহ্ণ
ঝিনাইদহে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর উপর ডিম নিক্ষেপ ও হামলা

ঝিনাইদহে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখ্য সংগঠক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর ওপর ডিম নিক্ষেপ ও অতর্কিত হামলার ঘটনা ঘটেছে। ছাত্রদলের নেতা-কর্মীদের বিরুদ্ধে এ অভিযোগ উঠেছে। এসময় ছাত্রদলের হামলায় নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর সঙ্গে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের তিন নেতা-কর্মী আহত হন।

আজ শুক্রবার (২২ মে) দুপুর ২টার দিকে শহরের পুরাতন কালেক্টরেট মসজিদের সামনে এই ঘটনাটি ঘটে।

প্রত্যক্ষদর্শীদের সূত্রে জানা যায়, শুক্রবার জুমার নামাজ আদায় শেষে মসজিদ থেকে বের হচ্ছিলেন নাসির উদ্দিন পাটোয়ারী। এ সময় ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের আহ্বায়ক সাহেদ আহম্মেদ তাঁর সঙ্গে কথা বলতে এগিয়ে যান।

তাদের মধ্যে কথা বলার এক পর্যায়ে হঠাৎ পেছন থেকে কয়েকজন যুবক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর ওপর ডিম নিক্ষেপ করে এবং অতর্কিত হামলা চালায়। এই হামলায় এনসিপির স্থানীয় কয়েকজন যুবক আহত হয়েছেন।

ভুক্তভোগী নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক আইডি থেকে এক পোস্টে হামলার বিস্তারিত জানান। তিনি অভিযোগ করেন, পূর্বনির্ধারিত কর্মসূচি অনুযায়ী জুমার নামাজ আদায় করে মসজিদ থেকে বের হওয়ার পরপরই পুলিশের উপস্থিতিতেই ছাত্রদল ও যুবদলের নেতাকর্মীরা এই হামলা চালায়।

নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী পোস্টে লেখেন, “প্রথমে ডিম, ইট-পাটকেল নিক্ষেপ করা হয়, এরপর হকিস্টিক দিয়ে অতর্কিতভাবে আঘাত করা হয়। তিনজনের মাথা ফাটিয়ে দেওয়া হয় এবং বেশ কয়েকজন আহত হন। আমাকে লক্ষ্য করেও কিল-ঘুষি মারা হয়।”

তিনি আরও অভিযোগ করেন, হামলাকারীরা এ সময় তাদের মোবাইল ফোন, ক্যামেরা এবং মানিব্যাগ ছিনিয়ে নেয়। ঘটনার পর তারা থানায় অবস্থান নিয়ে মামলা দায়েরের প্রস্তুতি নিচ্ছেন বলেও জানান। একই সাথে ছাত্রদল, যুবদল ও বিএনপি থানার সামনে আবারও হামলার প্রস্তুতি নিচ্ছে বলে তিনি ফেসবুক পোস্টে দাবি করেন।

এই ঘটনার পর এনসিপির নেতাকর্মীরা তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে এলাকায় বিক্ষোভ মিছিল করেছেন। বিক্ষোভ থেকে তারা স্বরাষ্ট্র ও আইনমন্ত্রীর পদত্যাগ দাবি করেন এবং হামলায় জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় আনার জোর দাবি জানান।

 

চট্টগ্রামে তিন বছরের শিশুকে ধর্ষণের ঘটনায় মামলা

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: শুক্রবার, ২২ মে, ২০২৬, ২:৪৮ অপরাহ্ণ
চট্টগ্রামে তিন বছরের শিশুকে ধর্ষণের ঘটনায় মামলা

চট্টগ্রামের বাকলিয়ায় তিন বছরের এক শিশুকে ধর্ষণের ঘটনায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। আজ (শুক্রবার) দুপুরে মামলার বিষয়টি নিশ্চিত করেন বাকলিয়া থানার এক কর্মকর্তা।

তিনি বলেন, ভুক্তভোগী শিশুর পিতা বাদী হয়ে মামলা দায়ের করেছেন। মামলায় গ্রেপ্তার মনিরকে আসামি করা হয়েছে।

স্থানীয় সূত্র জানায়, বাকলিয়ার চেয়ারম্যানঘাটা এলাকায় তিন বছর বয়সী এক শিশু নিখোঁজ হওয়ার পর বৃহস্পতিবার বিকেলে তাকে উদ্ধার করা হয়। উদ্ধারের পর শিশুটির শারীরিক অবস্থা দেখে স্বজন ও স্থানীয়দের সন্দেহ হয়, সে যৌন নিপীড়নের শিকার হয়েছে। খবরটি এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে বিকেলের দিকে রাস্তায় নেমে আসেন স্থানীয়রা।

স্থানীয়দের দাবি, অভিযুক্ত যুবকের নাম মনির। তিনি স্থানীয় একটি ডেকোরেশন দোকানে কাজ করেন। তাদের অভিযোগ, মনির তাদের কাছে নিজের অপরাধ স্বীকারও করেছেন।

অভিযুক্ত মনির নিজের অপরাধ স্বীকার করেছেন বলে একটি তথ্য ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়লেও এর সত্যতা সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

গতকাল বিকেল ৪টার দিকে স্থানীয়রা অভিযুক্তের অবস্থান নিশ্চিত করে ‘বিসমিল্লাহ ম্যানশন’ নামের একটি ভবন ঘেরাও করে রাখেন। একপর্যায়ে ভবনটির কলাপসিবল গেট ভেঙে ফেলার চেষ্টাও করা হয়।

খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে শিশুটিকে পরীক্ষার জন্য হাসপাতালে পাঠায়। অন্যদিকে অভিযুক্তকে আটক করে নিয়ে যাওয়ার সময় বিক্ষুব্ধ জনতা পথ আটকে দেয় এবং তাকে নিজেদের হাতে তুলে দেওয়ার দাবি জানায়। বিকেল সাড়ে চারটা থেকে পুলিশকে অবরুদ্ধ করে রাখে স্থানীয়রা। এরপর রাত আটটার দিকে পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে টিয়ারগ্যাস ও সাউন্ড গ্রেনেড নিক্ষেপ করে।

এসময় পুলিশকে লক্ষ্য করে ইটপাটকেল ছোড়েন স্থানীয়রা। এতে পুরো এলাকা রণক্ষেত্রে পরিণত হয়। স্থানীয়দের বাধার মুখে তখন পুলিশ অভিযুক্ত নিয়ে যেতে পারেনি।

পরে রাত ১১টা সময় দিকে জনবল বাড়ায় পুলিশ। পরে বিদ্যুৎ বন্ধ করে অভিযুক্তকে পুলিশের পোশাক পরিয়ে থানায় নিয়ে যাওয়া হয়। এ সময় ফাঁকা গুলি, টিয়ারগ্যাস ও সাউন্ড গ্রেনেড নিক্ষেপ করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করে পুলিশ। এসময় স্থানীয়রা পুলিশের একটি গাড়িতে আগুন দেয়। এতে দফায় দফায় সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।

রামিসার বাসার সামনে বিক্ষোভ, কুলখানির জন্য ঢাকা ছাড়লেন বাবা-মা

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: শুক্রবার, ২২ মে, ২০২৬, ২:৩২ অপরাহ্ণ
রামিসার বাসার সামনে বিক্ষোভ, কুলখানির জন্য ঢাকা ছাড়লেন বাবা-মা

রাজধানীর পল্লবীতে ধর্ষণের পর নৃশংস হত্যার শিকার আট বছরের শিশু রামিসা আক্তারের মৃত্যুর ঘটনায় এখনও থামেনি মানুষের ক্ষোভ আর কান্না।

শুক্রবার (২২ মে) সকাল থেকেই পল্লবীর সেকশন-১১ এলাকায় রামিসাদের বাসার সামনে জড়ো হতে থাকেন বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ। ছোট-ছোট সামাজিক ও স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের ব্যানারে মানববন্ধন, বিক্ষোভ ও প্রতিবাদ কর্মসূচি পালন করতে দেখা যায় স্থানীয়দের।

সেখানে গিয়ে দেখা যায়, বেলা ১১টার পর থেকে রামিসাদের বাসার সামনের গলিতে একে একে জড়ো হন নারী-পুরুষসহ বিভিন্ন বয়সী মানুষ। অনেকের হাতে ছিল ‘রামিসার হত্যাকারীর ফাঁসি চাই’, ‘শিশু ধর্ষণ ও হত্যার বিচার চাই’ লেখা প্ল্যাকার্ড।

এসময় এলাকাজুড়ে ছিল থমথমে পরিবেশ। স্থানীয়দের অনেকেই ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, এমন নির্মম হত্যাকাণ্ডের দৃষ্টান্তমূলক বিচার না হলে সমাজে শিশুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত হবে না।

একটি মানববন্ধনে অংশ নেওয়া লামিয়া খানম নামে এক নারী বলেন, আমরা নিজের সন্তানদের নিয়েই এখন আতঙ্কে আছি। একটা শিশুকে এত নির্মমভাবে হত্যা কোনো মানুষ করতে পারে না।

এদিকে সন্তান হারানোর শোকে এখনও প্রায় নির্বাক রামিসার মা-বাবা। শুক্রবার (আজ) দুপুর ১২টার দিকে মেয়ের কুলখানি ও মিলাদে অংশ নিতে মুন্সীগঞ্জের সিরাজদিখানের উদ্দেশে ঢাকা ছাড়েন তারা। যাওয়ার আগে বাসার সামনে জড়ো হওয়া মানুষদের কান্না আর সান্ত্বনার শব্দে ভারী হয়ে ওঠে পরিবেশ।

পরিবারের স্বজনরা জানান, বৃহস্পতিবার (২১ মে) রাতে সিরাজদিখানে পারিবারিক কবরস্থানে দাফনের সময় পুরো এলাকায় শোকের ছায়া নেমে আসে। রামিসার মা এখনও মেয়ের জামাকাপড় ও ব্যবহৃত জিনিসপত্র বুকে জড়িয়ে কাঁদছেন। আর বাবা আব্দুল হান্নান মোল্লা বারবার মেয়ের শেষ আবদারের কথা মনে করে ভেঙে পড়ছেন। দুই দিন আগে মেয়ের জন্য একটি বোরকা কিনে এনেছিলেন তিনি। কিন্তু সেই বোরকা আর পরা হয়নি রামিসার।

গত মঙ্গলবার সকালে পল্লবীর সেকশন-১১ এলাকায় নিজ বাসার পাশ থেকে নিখোঁজ হয় দ্বিতীয় শ্রেণির ছাত্রী রামিসা। পরে প্রতিবেশী সোহেল রানার ফ্ল্যাট থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় শিশুটির বাবা পল্লবী থানায় মামলা করেন।

পুলিশ জানায়, প্রধান অভিযুক্ত সোহেল রানা শিশুটিকে ধর্ষণের পর হত্যা করে মরদেহ গোপনের চেষ্টা করেন। ঘটনার পর নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। আদালতে তিনি হত্যার দায় স্বীকার করে জবানবন্দিও দিয়েছেন। এ ঘটনায় সোহেলের স্ত্রী স্বপ্না আক্তারকেও গ্রেপ্তার করে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।