বোয়ালখালীতে অটোরিকশা চালক হত্যা মামলায় গ্রেফতার ৩
চট্টগ্রামের বোয়ালখালীতে সিএনজি অটোরিকশা চালক মো. হেলাল (৩৯) হত্যা মামলায় তিন আসামিকে গ্রেফতার করেছে র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব)।
মঙ্গলবার (৬ ডিসেম্বর) দুপুরে এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানিয়েছে পুলিশের এই এলিট ফোর্স।
এর আগে গতকাল সোমবার (৫ ডিসেম্বর) বিকেল পাঁচটার দিকে পৃথক অভিযানে নগরীর বাকলিয়া এলাকার নতুন ব্রিজ, চাক্তাই শুটকি পট্টি এবং বোয়ালখালীর মীরাপাড়া এলাকা থেকে তাদের গ্রেফতার করা হয়।
গ্রেফতাররা হলেন, বোয়ালখালী থানাধীন পশ্চিম শাকপুরা গ্রামের মো. মনু মিয়ার ছেলে মোহাম্মদ বখতিয়ার (২৭), একই গ্রামের মো. শফিকের ছেলে মো. ইলিয়াস (৩৫) এবং মধ্যম শাকপুরা গ্রামের মৃত আহমেদ ছফার ছেলে মনির আহম্মদ ওরফে মেহেরাজ (২৬)।
সিএনজি অটোরিকশা চালক হেলাল হত্যাকাণ্ডে সরাসরি জড়িত বলে র্যাবের কাছে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে স্বীকার করেছেন গ্রেফতার তিনজন।
নিহত হেলাল নেত্রকোনা জেলার পূর্বধলা থানা এলাকার জনৈক চাঁন মিয়ার ছেলে। তিনি বোয়ালখালী পৌরসভার পশ্চিম গোমদণ্ডী জমাদার হাট এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে ভাড়া বাসায় থাকতেন।
র্যাব-৭ এর জ্যেষ্ঠ সহকারী পরিচালক মো. নূরুল ইসলাম জাগো নিউজকে জানান, ভিকটিম হেলাল সিএনজি অটোরিকশা চালাতেন। বোয়ালখালী জমাদারহাট এলাকায় পরিবার নিয়ে ভাড়া বাসায় থাকতেন। তাদের সংসারে দুই ছেলে ও দুই মেয়ে সন্তান রয়েছে। একটি সিএনজি অটোরিকশার কেনাবেচার বকশিসের টাকা ভাগ বাটোয়ারা নিয়ে কথা কাটাকাটির জেরে ক্ষিপ্ত হয়ে খুনিরা হেলালকে পরিকল্পিতভাবে খুন করেছে।
তিনি জানান, গ্রেফতার ইলিয়াসের সঙ্গে হেলালের আগে থেকে পরিচয় ছিল। ইলিয়াস সিএনজি অটোরিকশার গ্যারেজে মিস্ত্রির কাজ করতো। তার সঙ্গে সিএনজি অটোরিকশা কেনাবেচার বকশিসের টাকা ভাগাভাগি নিয়ে হেলালের কথা কাটাকাটি হয়। এরপর গ্রেফতার বখতিয়ার ও মেহেরাজকে ভাড়াটে হিসেবে নিয়ে হেলালকে হত্যার পরিকল্পনা করে ইলিয়াস।
এই র্যাব কর্মকর্তা আরও জানান, গত ২৯ নভেম্বর সন্ধ্যায় হেলালকে অন্য একটি সিএনজি অটোরিকশা কেনাবেচার কথা বলে ডেকে তিনজন মিলে আমুচিয়া ইউনিয়নের পোস্ট অফিস সড়কের ভিতের দুর্গম এলাকায় নিয়ে যায়। সেখানে নিয়ে হাতুড়ি দিয়ে পিটিয়ে এবং ছুরিকাঘাত করে তাকে খুন করা হয়। এরপর তার সিএনজি অটোরিকশাটি নিয়ে ইলিয়াস, বখতিয়ার ও মেহেরাজ পালিয়ে যায়।
তিনি বলেন, হেলালকে খুন করার পর মরদেহ পাশের একটি জমিতে ফেলে যায় খুনিরা। তিনদিন পর পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে। ওই ঘটনায় হেলালের স্ত্রী বোয়ালখালী থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। ওই মামলার পর গোয়েন্দা নজরদারি চালিয়ে হেলাল হত্যাকাণ্ডে জড়িত তিনজনকে গ্রেফতার করা হয়। গ্রেফতারদের মঙ্গলবার বোয়ালখালী থানায় সোপর্দ করা হয়েছে।


আপনার মতামত লিখুন