খুঁজুন
বৃহস্পতিবার, ৯ই এপ্রিল, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ২৬শে চৈত্র, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

চসিকের ৬ষ্ঠ নির্বাচিত পরিষদের ২৩তম সাধারণ সভা

আগামী ডিসেম্বরের মধ্যে নগরীর উন্নয়ন প্রকল্প ও ১৫টি ফুটওভার ব্রীজ নির্মাণ করতে হবে: মেয়র

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২৭ ডিসেম্বর, ২০২২, ৮:০৯ অপরাহ্ণ
আগামী ডিসেম্বরের মধ্যে নগরীর উন্নয়ন প্রকল্প ও ১৫টি ফুটওভার ব্রীজ নির্মাণ করতে হবে: মেয়র

চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের মেয়র মো. রেজাউল করিম চৌধুরী বলেছেন, বাংলাদেশকে স্মার্ট সিটি হিসেবে রূপান্তর করতে প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনা চট্টগ্রামকে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন। বিশেষ করে চট্টগ্রাম নগরীকে একটি আধুনিক বন্দর নগীর হিসেবে গড়ে তোলার জন্য প্রায় দুই হাজার পাঁচশত কোটি টাকার প্রকল্প এবং বারই পাড়া খালসহ নতুন বাস টার্মিনাল নির্মাণ ও সেবেকদের উন্নত বাসস্থানের ব্যবস্থা গ্রহণে পেয প্রকল্পগুলো বরাদ্দ দিয়েছেন তা আগামী ডিসেম্বরের মধ্যে প্রকল্পগুলোর কাজ দৃশমান করতে না পারলে প্রধানমন্ত্রীর কাছে আমাদের কার্যক্রমগুলি প্রশ্নের সম্মুখীন হতে হবে। এই কারণে চলমান প্রকল্পগুলো আন্তরিক এবং মনযোগী হয়ে দ্রæততার সাথে সম্পন্ন করতে হবে। ২ হাজার ৫শত কোটি টাকার প্রকল্পের মধ্যে অন্তত ০১ হাজার কোটি টাকার টেন্ডার আহ্বান সহ কাজগুলো দ্রæততার সাথে সম্পন্ন করা এবং ১৫টি ফুট ওভার ব্রীজ নির্মাণ কাজ সম্পন্ন করার জন্য সংশ্লিষ্ট প্রকল্প পরিচালক ও প্রকৌশলীদের কঠোর নির্দেশনা এবং আগামীতে প্রতিটি সাধারণ সভার আগে প্রকল্প সমুহের কাজের অগ্রগতি সম্পর্ক প্রতিবেদন উপস্থাপনের জন্য প্রকল্প সংশ্লিষ্ট প্রকৌশলীদের নিদের্শনা প্রদান করেন এবং চট্টগ্রাম নগরীকে সুন্দর করে সাজাতে গেলে সকল সেবা সংস্থাকে দায়িত্ব নিতে হবে।

মেয়র বলেন, চসিক শ্রমিক কর্মচারীলীগ (সিবিএ) কর্তৃক উপস্থাপিত প্রতিবেদন আমলে নিয়ে শ্রমিক-কর্মচারীদের চাকুরি স্থায়ী করণের বিষয়টি কার্যকর করার জন্য সভায় সর্বসম্মতিক্রমে সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়।

আজ মঙ্গলবার সকালে নগরীর আন্দরকিল্লাস্থ চসিক পুরাতন নগর ভবনের কে বি আবদুচ ছত্তার মিলনায়তনে চসিকের ৬ষ্ঠ নির্বাচিত পরিষদের ২৩ম সাধারণ সভায় সভাপতির বক্তব্য তিনি একথাগুলো বলেন।

চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশননের সচিব খালেদ মাহমুদের সঞ্চালনায় এতে বক্তব্য রাখেন-প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ শহীদুল আলম, প্যানেল মেয়র আবদুস সবুর লিটন, আফরোজা কালাম, প্রধান প্রকৌশলী রফিকুল ইসলাম মানিক, মেয়রের একান্ত সচিব মুহাম্মদ আবুল হাশেম, কাউন্সিলর, সংরক্ষিত কাউন্সিলর ও বিভাগীয় প্রধানগণ।

মেয়র আরো বলেন, নগরীতে অবৈধ ব্যাটারী চালিত রিক্সার কারণে প্রতিনিয়ত দূর্ঘটনা ও জনসাধারণের ভোগান্তি সৃষ্টি হচ্ছে তা থেকে পরিত্রানের জন্য খুব শিঘ্রই চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের সাথে আলোচনা করে অবৈধ ব্যাটারী চালিত রিক্সা, গ্রাম সিএনজি চলাচল বন্ধ করার অভিযান শুরু করা হবে।

তিনি নগরীর অবৈধ ব্যাটারী চালিত রিক্সা উচ্ছেদ করে সোলার বিদ্যুৎ চালিত রিক্সা চালু করা বিষয়ে পরিক্ষা মূলক ভাবে ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে বলে সভাকে অবহিত করেন। একই সাথে ফুটপাত হতে হকারদের উচ্ছেদ করা এবং উচ্ছেদকৃত স্থানে পুন: দখল হতে না পারে সে ব্যাপারে কঠোরভাবে কার্যকর ব্যবস্থা নেয়ার কথা উল্লেখ করেন। এছাড়া সড়ক ও অলি-গলিতে অবৈধ ভাবে বসা কাঁচা বাজার উচ্ছেদ ও বে-পার্কিং ব্যবস্থা চালু করার পদক্ষেপ নেয়া হবে জানান। মেয়র পিডিবি কর্তৃক বর্ধিতকৃত রাস্তা সমুহ থেকে বিদ্যুতের খুঁটিগুলো সড়ানোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা এবং নালার উপর কোন পোল যাতে স্থাপন করা না হয় সে ব্যাপারে ব্যবস্থা নিতে পিডিবি কর্তৃপক্ষের প্রতি দৃষ্টি আর্কষণ করেন।

তিনি চট্টগ্রাম ওয়াসা কর্তৃক নগরীর বিভিন্ন সড়ক কর্তনের বিষয়ে বলেন, কোন রকমের অনুমতি ছাড়া ওয়াসা রাস্তা কর্তন করলে সংশ্লিষ্ট বাসা/বাড়ীর মালিক, দায়িত্বরত ওয়াসার প্রকৌশলী ও ঠিকাদারের বিরুদ্ধে আইনগত পদক্ষেপ নেয়া হবে বলে কঠোর হুশিযারি উচ্চারণ করেন এবং অনুমিতপত্র থাকলেও সড়ক কর্তনের সময় ওয়ার্ডের সংশ্লিষ্ট কাউন্সিলরকে অবহিত করতে হবে বলে জানান।

মেয়র দুঃখ প্রকাশ করে বলেন, নগরীর বিভিন্ন পাড়া মহাল্লায় ও রাস্তায় স্থাপিত পানির কলগুলো বিনা নোটিশে তুলে নেয়া হচ্ছে বিধায় নগরীর বস্তিবাসী ও যাদের বাসগৃহে ওয়াসার পানির লাইন নেই সেসব জনসাধারণ পানি ব্যবহার থেকে বঞ্চিত ও পানির ভোগান্তি পোহাচ্ছে। এই ভোগান্তি থেকে পরিত্রানের জন্য পূর্বে স্থাপনকৃত পানির কলগুলো ছিল তা পুনরায় স্থাপন, যেগুলো নষ্ট তা বন্ধ না করে সচল করার জন্য ওয়াসা কর্তৃপক্ষের প্রতি আহ্বান জানান।

তিনি নগরীর ৩৭,৩৮,৩৯,৪০ ও ৪১ নং ওয়ার্ডগুলো উপকূলীয় অঞ্চল হওয়ার কারণে অপরিস্কার ও লবণাক্ত পানি ব্যবহার করতে হয় বিধায় মানবিক বিবেচনায় বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে উল্লেখিত ওয়ার্ড সমুহের পানির লাইন স্থাপনের জন্য অনুরোধ জানান।

মেয়র জলাবদ্ধতা প্রসঙ্গে বলেন, নগরীর জলাবদ্ধতা নিরসনের যে মেগা প্রকল্পের কাজ চলছে তা কবে নাগাদ শেষ হবে বলা কঠিন, তবে জলাবদ্ধতা প্রকল্পে খাল ও নালার রিটের্নিং ওয়াল করতে গিয়ে মাটি ভরাট করা হয়েছে রিটের্নিং ওয়ালের কাজ শেষ হোক আর না হোক আগামী বর্ষা মৌসুমের পূর্বে খাল ও নালার মাটি উত্তোলন করে পানি চলাচলের ব্যবস্থা নেয়ার জন্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের প্রতি আহ্বান জানান। অন্যথায় আগামী বর্ষা মৌসুমে এসব এলাকায় জলজট হলে এর দায় দায়িত্ব প্রকল্প বাস্তবায়নকারী সংস্থাকে নিতে হবে।

তিনি বলেন, চসিককে সঠিকভাবে পরিচালন করার জন্য রাজস্ব আয় বৃদ্ধির বিকল্প নেই। এজন্য চসিকের খালি জায়গাগুলোতে আয় বর্ধক প্রকল্প গ্রহণ করতে হবে এবং নালার উপর স্থাপিত স্ল্যাব নির্মানকারীদের কাছ থেকে কর আদায়ের ব্যাপারে ব্যবস্থা নেয়ার কাজ জোরদার করতে হবে। অন্যদিকে বিভিন্ন ফ্ল্যাট মালিকদের কাছে পাওনা, হাট-বাজার ও ঘাট ইজারা গ্রহনকারীদের কাছ থেকে প্রাপ্ত ১৫০ কোটি টাকা আদায়ের ব্যবস্থা গ্রহণ করতে প্রধান রাজস্ব কর্মকর্তাকে নির্দেশনা দেন। এছাড়া রিক্সা ও ভ্যান গাড়ীর লাইসেন্স প্রদান ও নবায়নের অটোমেশন কাজ দ্রুততার সাথে সম্পন্ন করার জন্য সংশ্লিষ্টদের প্রতি নিদের্শ প্রদান করেন।

সভার শুরুতে নগরীতে ইতোমধ্যে মৃত্যু বরণকরী গন্যমান্য ব্যক্তিবর্গের আত্মার মাগফেরাত কামনা করে চসিকের ভাবমুর্তি বিভিন্ন চলমান উন্নয়ন কাজ সফলভাবে সম্পন্ন করার জন্য বিশেষ দোয়া অনুষ্ঠিত হয়। দোয়া পরিচালনা করেন চসিকের মাদ্রসা পরিদর্শক মওলানা মোহাম্মদ হারুন-উর-রশিদ চৌধুরী।

Feb2

মানবিক ডিসি জাহিদের কাছে সাহায্যপ্রার্থীদের ঢল

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: বুধবার, ৮ এপ্রিল, ২০২৬, ১১:০০ অপরাহ্ণ
মানবিক ডিসি জাহিদের কাছে সাহায্যপ্রার্থীদের ঢল

চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসকের গণশুনানিতে ভিড় বাড়ছেই মানবিক সহায়তা প্রত্যাশী মানুষের। অসুস্থতা, দারিদ্র্য, কর্মহীনতা ও চরম আর্থিক সংকটে পড়ে জেলার বিভিন্ন প্রান্ত থেকে মানুষ ছুটে আসছেন শেষ আশ্রয়ের খোঁজে। এসব আবেদন ঘেঁটে দেখা গেছে—প্রতিটি কাগজের আড়ালে লুকিয়ে আছে বেঁচে থাকার তীব্র আর্তি।

ক্যানসারে আক্রান্ত লাভলী দাস গুপ্তা ভারতের একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন। দীর্ঘদিন ধরে চিকিৎসা চালাতে গিয়ে তার পরিবারের সঞ্চয় শেষ হয়ে গেছে। চিকিৎসা ব্যয় বহন করতে না পেরে তিনি আজ বুধবার (৮ এপ্রিল) সারা দেশে মানবিক ডিসি হিসেবে পরিচিত চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞার কাছে আর্থিক সহায়তা চেয়েছেন। চিকিৎসা বন্ধ হয়ে গেলে জীবন ঝুঁকিতে পড়বে জেনে জেলা প্রশাসক তাকে আর্থিক সহয়তা প্রদান করেন তাৎক্ষণিকভাবে।

৫৫ বছর বয়সী মোহাম্মদ সুমন গুরুতর অসুস্থতায় ভুগছেন। রোগ নির্ণয়ের জন্য তাকে একাধিক পরীক্ষা করাতে হয়েছে একটি বেসরকারি ডায়াগনস্টিক সেন্টারে। এসব পরীক্ষার খরচ বহন করতে গিয়ে তিনি এখন আর্থিকভাবে বিপর্যস্ত। জেলার অভিভাবককে তিনি জানান, প্রয়োজনীয় চিকিৎসা চালিয়ে যাওয়ার মতো সামর্থ্য তার আর নেই। তাকেও নিরাশ করলেন না মানবিক ডিসি।

একইভাবে ৬৫ বছর বয়সী হাছিনা বেগমও চিকিৎসা ব্যয়ের ভারে ন্যুব্জ। বয়সজনিত অসুস্থতায় ভুগলেও অর্থাভাবে নিয়মিত চিকিৎসা নিতে পারছেন না। জীবনের এই শেষ সময়ে চিকিৎসা সহায়তা না পেলে পরিস্থিতি আরও অবনতি হওয়ার আশঙ্কার কথা জানান জেলার শীর্ষ কর্মকর্তাকে।

জামিলা বেগম নামের এক নারী জেলা প্রশাসকের সাপ্তাহিক গণশুনানিতে হাজির হয়ে ডিসি জাহিদুল ইসলামকে বলেন, দীর্ঘদিন ধরে অসুস্থ থাকায় চিকিৎসা চালিয়ে যাওয়া তার পক্ষে অসম্ভব হয়ে পড়েছে। পরিবারের আয়ের কোনো নির্ভরযোগ্য উৎস না থাকায় তিনি এখন সম্পূর্ণ অসহায় অবস্থায় দিন কাটাচ্ছেন। জেলা প্রশাসকের আর্থিক সহয়তা পেয়ে উচ্ছ্বসিত জামিলা।

অসুস্থতার কারণে কর্মক্ষমতা হারানোর কথা জানিয়েছেন মো. মনজুর আলম আরেক নাগরিক। আগে উপার্জন করে পরিবার চালালেও বর্তমানে কাজ করতে না পারায় সংসার চালানোই কঠিন হয়ে পড়েছে। চিকিৎসা ব্যয় বহনের পাশাপাশি পরিবারের নিত্যপ্রয়োজনীয় খরচ জোগানোও এখন অসম্ভব হয়ে দাঁড়িয়েছে বলে জানানো হয় জেলা প্রশাসককে। তার পাশেও দাড়ালেন মানবিক ডিসি।

মো. নুরুল ইসলাম আরেক অসহায় নাগরিক দীর্ঘদিন ধরে চিকিৎসা নিতে গিয়ে তিনি নিঃস্ব হয়ে পড়েছেন। ধার-দেনা করে চিকিৎসা চালালেও এখন আর কোনো উপায় নেই। চিকিৎসা বন্ধ হয়ে যাওয়ার ঝুঁকির কথা উল্লেখ করে তিনি জেলা প্রশাসকের জরুরি সহায়তা কামনা করেছিলেন। তাকেও ফিরিয়ে দেননি ডিসি জাহিদুল ইসলাম।

একই নামে আরেক প্রবীণ নাগরিক নিজেকে বয়সের ভারে ন্যুব্জ ও অসহায় উল্লেখ করে চিকিৎসা সহায়তা চেয়েছেন। তিনি জানান, শারীরিক দুর্বলতা ও অসুস্থতার কারণে তিনি সম্পূর্ণ অন্যের ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়েছেন। তাকেও নিরাশ করেন নাই ডিসি।

রাঙামাটি জেলার লংগদু উপজেলার বাসিন্দা, বর্তমানে চট্টগ্রামে বসবাসরত মো. সামাদ আলী জেলা প্রশাসককে বলেন, দারিদ্র্য ও অসুস্থতার কারণে চিকিৎসা চালিয়ে যাওয়া তার পক্ষে সম্ভব হচ্ছে না। তিনি নিজেকে সম্পূর্ণ অসহায় উল্লেখ করে ডিসির সহযোগিতা কামনা করেছিলেন। তাকেও নগদ অর্থ সাহায্য করলেন জেলা প্রশাসক।

গণশুনানিতে জমা পড়া আবেদনগুলোর সার্বিক চিত্রে দেখা যায়, অধিকাংশ আবেদনকারী দীর্ঘমেয়াদি বা জটিল রোগে আক্রান্ত। চিকিৎসা ব্যয় বহন করতে গিয়ে অনেকে নিঃস্ব হয়ে পড়েছেন। আবার অনেকে অসুস্থতার কারণে কর্মক্ষমতা হারিয়ে পরিবার নিয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছেন।

জেলা প্রশাসকের সাপ্তাহিক গণশুনানিতে এ ধরনের আবেদন সরাসরি শোনা হচ্ছে এবং তাৎক্ষণিক সহায়তা ও প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়া হচ্ছে বলে জানা গেছে।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এই প্রক্রিয়া প্রশাসনকে মানুষের আরও কাছাকাছি নিয়ে এসেছে এবং জরুরি সহায়তা প্রদানে কার্যকর ভূমিকা রাখছে।

দিল্লিতে ভারত-বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের বৈঠক

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: বুধবার, ৮ এপ্রিল, ২০২৬, ৭:১২ অপরাহ্ণ
দিল্লিতে ভারত-বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের বৈঠক

দিল্লিতে ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্করের সঙ্গে বৈঠক করেছেন বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান। বুধবার (৮ এপ্রিল) দুপুরে দিল্লির হায়দ্রাবাদ হাউসে আনুষ্ঠানিক বৈঠকের পর তারা একান্তে আলোচনা করেন।

কূটনৈতিক সূত্রে জানা গেছে, বৈঠকে দুই দেশের আঞ্চলিক ও দ্বীপক্ষীয় সম্পর্কের বিষয়গুলো নিয়ে আলোচনা হয়। এ সময় বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবিরও উপস্থিত ছিলেন।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে করা এক পোস্টে ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী জয়শঙ্কর বলেন, ‘বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান ও তার প্রতিনিধিদলকে আজ বিকেলে আতিথেয়তা দিতে পেরে আনন্দিত।’

তিনি আরও বলেন, ‘আমরা দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের বিভিন্ন দিক আরও জোরদার করার বিষয়ে আলোচনা করেছি। পাশাপাশি আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক পরিস্থিতি নিয়েও মতবিনিময় হয়েছে। আমরা ভবিষ্যতেও ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক বজায় রাখতে সম্মত।’

গত ফেব্রুয়ারিতে অনুষ্ঠিত বাংলাদেশের ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর সরকার গঠন করে বিএনপি। নতুন সরকারের আমলে এটিই বাংলাদেশের কোনো মন্ত্রীর প্রথম ভারত সফর।

এ শুভেচ্ছা সফরে গতকাল দিল্লিতে পৌঁছান খলিলুর রহমান। ভারতে পৌঁছানোর প্রথম দিনেই দেশটির জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা অজিত দোভালের সঙ্গে বৈঠক করেন তিনি।

এরপর আজ সকালে ভারতের কয়েকজন সম্পাদক ও জ্যেষ্ঠ সাংবাদিকের সঙ্গে প্রাতঃরাশ সভায় যোগদান করেন। বিকেলে ভারতের পেট্রোলিয়াম ও প্রাকৃতিক গ্যাসবিষয়ক মন্ত্রী হারদীপ সিং পুরির সঙ্গে তার বৈঠকের কথা রয়েছে।

২০২৪-এর জুলাই আন্দোলনে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের কূটনৈতিক সম্পর্কে ভাটা পড়ে। তবে তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন বিএনপি সরকার ক্ষমতা গ্রহণের পর সে সম্পর্ক পুনরুজ্জীবিত হচ্ছে বলে মনে করছেন অনেকে।

আগামী ১১ ও ১২ তারিখ মরিশাসের পোর্ট লুইসে অনুষ্ঠিতব্য ভারত মহাসাগরীয় সম্মেলনে যোগ দেবেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান। এর আগে পারস্পরিক মর্যাদা ও আস্থার ভিত্তিতে দীর্ঘ মেয়াদে সম্পর্ক এগিয়ে নেওয়ার বার্তা নিয়ে ভারত সফরে যান তিনি।

বিসিবিতে বাপের দোয়া, মায়ের দোয়া কমিটি করিনি : স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: বুধবার, ৮ এপ্রিল, ২০২৬, ৬:১৯ অপরাহ্ণ
বিসিবিতে বাপের দোয়া, মায়ের দোয়া কমিটি করিনি : স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

আমিনুল ইসলাম বুলবুলের কমিটি ভেঙে মঙ্গলবার তামিম ইকবালের নেতৃত্বে গঠিত হয়েছে ১১ সদস্যের অ্যাডহক কমিটি। এই কমিটি এখন গোটা বাংলাদেশের ভক্ত-সমর্থকদের আলোচনার বিষয়। এই আলোচনা আজ জায়গা করে নিয়েছে জাতীয় সংসদের অধিবেশনেও।

সেখানেই স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, ‘বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডে (বিসিবি) তামিম ইকবালের নেতৃত্বে আহ্বায়ক কমিটি করা হয়েছে। তিনি একজন খেলোয়াড়। এখানে বাপের দোয়া মায়ের দোয়া কমিটি করিনি।’

মূলত, আজ বুধবার (৮ এপ্রিল) জাতীয় সংসদে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখ্য সংগঠক ও কুমিল্লা-৪ আসনের সংসদ সদস্য হাসনাত আব্দুল্লাহর এক প্রশ্নের জবাবেই এসব কথা বলেন তিনি। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ আরও বলেন, ‘ক্রিকেট বোর্ডসহ সারাদেশের ক্লাবগুলোতে প্রভাব বিস্তার করে অন্তর্বর্তী সরকারের ক্রীড়া উপদেষ্টা। বর্তমান গণতান্ত্রিক সরকার ইনকোয়ারি করেছে, তদন্তের পর বোর্ড ভেঙে দেয়া হয়েছে। পরে তামিম ইকবালের নেতৃত্বে বিসিবির আহ্বায়ক কমিটি করা হয়েছে। এখানে বাপের দোয়া মায়ের দোয়া কমিটি করিনি।’

এর আগে হাসনাত আবদুল্লাহ বলেন, ‘বিসিবি এখন আর বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড নাই, এটা এখন বাপের দোয়া ক্রিকেট বোর্ডে পরিণত হয়ে গেছে।’