খুঁজুন
, ,

আবরার হত্যার বিচারসহ ৭ দফা দাবি বুয়েট শিক্ষার্থীদের

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Tuesday, 8 October, 2019, 12:34 pm
আবরার হত্যার বিচারসহ ৭ দফা দাবি বুয়েট শিক্ষার্থীদের

.jpg

বুয়েটের মেধাবী ছাত্র আবরার ফাহাদ হত্যার প্রতিবাদে সাত দফা দাবি জানিয়েছেন সাধারণ শিক্ষার্থীরা।

ফাহাদ হত্যার বিচার দাবিতে আজ সকাল থেকে বুয়েট ক্যাম্পাস উত্তাল। আবরারের সহপাঠীসহ সাধারণ শিক্ষার্থীরা সকাল সাড়ে ১০টায় বুয়েট কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার প্রাঙ্গণ থেকে ‘বুয়েটের সাধারণ শিক্ষার্থীবৃন্দ’ ব্যানারে একটি মিছিল শুরু করেন তারা।

এসময় ‘খুনীদের ঠিকানা, এই বুয়েটে হবে না’, ‘ফাঁসি ফাঁসি, ফাঁসি চাই’, ‘প্রশাসনের দুই গালে, জুতা মারো তালে তালে’, ‘ভিসি তুই নীরব কেন, জবাব চাই, দিতে হবে’ এসব স্লোগান দিতে শোনা যায় শিক্ষার্থীদের।

মিছিলটি বুয়েটের হলগুলো ঘুরে বেলা সোয়া ১১টার দিকে বুয়েট শহীদ মিনারের সামনে আসেন। সেখানে সাংবাদিকদের কাছে নিজেদের সুনির্দিষ্ট সাতটি দাবি তুলে ধরেন শিক্ষার্থীরা।

দাবিগুলো হলো-

১. খুনিদের সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে।

২. ৭২ ঘণ্টার মধ্যে খুনিদের শনাক্ত করে সবার ছাত্রত্ব আজীবন বহিষ্কারের বিষয়টি নিশ্চিত করতে হবে।

৩. দায়েরকৃত মামলা দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালের অধীনে স্বল্পতম সময়ে নিষ্পত্তি করতে হবে।

৪. বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য কেন ৩০ ঘণ্টা অতিবাহিত হওয়ার পরও ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়নি, তা তাকে সশরীরে ক্যাম্পাসে এসে আজ বিকেল ৫ টার মধ্যে জবাবদিহি করতে হবে। একই সঙ্গে ডিএসডব্লিউ স্যার কেন ঘটনাস্থল থেকে পলায়ন করেছেন, এ বিষয়ে তাঁকে আজ বিকেল ৫ টার মধ্যে সবার সামনে জবাবদিহি করতে হবে।

৫. আবাসিক হলগুলোতে র‍্যাগের নামে ও ভিন্ন মতাবলম্বীদের ওপর সকল প্রকার শারীরিক এবং মানসিক নির্যাতন বন্ধে প্রশাসনকে জড়িত সকলের ছাত্রত্ব বাতিল করতে হবে। একই সঙ্গে আহসানউল্লা হল এবং সোহরাওয়ার্দী হলের পূর্বের ঘটনাগুলোতে জড়িত সকলের ছাত্রত্ব বাতিল ১১ অক্টোবর,২০১৯ তারিখ বিকেল ৫ টার মধ্যে নিশ্চিত করতে হবে।

৬. রাজনৈতিক ক্ষমতা ব্যবহার করে আবাসিক হল থেকে ছাত্র উৎখাতের ব্যাপারে অজ্ঞ থাকা এবং ছাত্রদের নিরাপত্তা নিশ্চিতে সম্পূর্ণভাবে ব্যর্থ হওয়ায় শেরে বাংলা হলের প্রভোস্টকে ১১ অক্টোবর, ২০১৯ তারিখ বিকেল ৫ টার মধ্যে প্রত্যাহার করতে হবে।

৭. মামলা চলাকালে সকল খরচ এবং আবরারের পরিবারের সকল ক্ষতিপূরণ বুয়েট প্রশাসনকে বহন করতে হবে।

এই কর্মসূচি আজ বিকাল ৫টা পর্যন্ত চলবে বলে জানিয়েছেন শিক্ষার্থীরা। এই সময়ের মধ্যে ভিসিকে সামনে আসার আল্টিমেটাম দেয়া হয়েছে। এ সময় শিক্ষার্থীরা ‘বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্ররাজনীতি বন্ধ চাই’ স্লোগান দিতে থাকেন।

এদিকে বেলা সাড়ে ১১টার দিকে আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের সঙ্গে একাত্মতা প্রকাশ করে বুয়েটের ছাত্রকল্যাণ পরিচালক অধ্যাপক ড. মিজানুর রহমান বলেছেন, ‘বুয়েট ক্যাম্পাসে ছাত্ররাজনীতির প্রয়োজন নেই।’

তিনি বলেন, ‘আমাদের বর্তমান যে পরিস্থিতি তাতে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে ছাত্ররাজনীতির প্রয়োজন নেই।’

অন্যদিকে শিক্ষার্থীদের সাত দফা দাবির সঙ্গে একাত্মতার ঘোষণা দিয়েছে বুয়েট শিক্ষক সমিতি।

বুয়েট ক্যাম্পাসে শিক্ষক সমিতির সভাপতি এ কে এম মাসুদ বলেন, অতীতে যেসব বেআইনি ঘটনা ঘটেছে, সেগুলোর কোনো বিচার হয়নি। তারই খেসারত হিসেবে আজকের এই হত্যাকাণ্ড। আগের ঘটনার কোনো ব্যবস্থা নিলে এ ঘটনা ঘটত না। শিক্ষক সমিতির সদস্যরা গতকাল ভিসির সঙ্গে দেখা করেন। তিনি বলেছিলেন ব্যবস্থা নেবেন। তারপর আর তার সঙ্গে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি। শিক্ষক সমিতি ছাত্রদের এই আন্দোলনের সঙ্গে একমত। এটি যৌক্তিক বলে মনে করে।

ভারতের সঙ্গে চুক্তির বিরোধিতা করে শনিবার বিকালে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে একটি স্ট্যাটাস দেন ফাহাদ। এর জের ধরে রোববার রাতে শেরেবাংলা হলের নিজের ১০১১ নম্বর কক্ষ থেকে তাকে ডেকে নিয়ে ২০১১ নম্বর কক্ষে বেধড়ক পেটানো হয়। এতে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়। পিটুনির সময় নিহত আবরারকে ‘শিবিরকর্মী’ হিসেবে চিহ্নিত করার চেষ্টা চালায় খুনিরা।

ময়নাতদন্তকারী চিকিৎসক জানিয়েছেন, তার মরদেহে অসংখ্য আঘাতের চিহ্ন পাওয়া গেছে। আবরার বুয়েটের তড়িৎ ও ইলেকট্রনিক প্রকৌশল বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের (১৭ তম ব্যাচ) শিক্ষার্থী ছিলেন।

গতকাল সোমবার আবরার হত্যার প্রতিবাদে দিনভরই উত্তপ্ত ছিল বুয়েট ক্যাম্পাস। গতকাল দুপুর থেকে রাত নয়টা পর্যন্ত শেরেবাংলা হলের প্রভোস্টকে অবরুদ্ধ করে রাখেন। তারা হলের সিসিটিভি ক্যামেরায় ধারণ করা রোববার রাতের ফুটেজ দেখানোর এবং দোষী ব্যক্তিদের নাম প্রকাশের দাবি জানান শিক্ষার্থীরা।

এ ঘটনায় বুয়েট শাখা ছাত্রলীগের সহ-সভাপতি মুহতাসিম ফুয়াদ ও সাধারণ সম্পাদক মেহেদী হাসান রাসেলসহ মোট ১০ জনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। তবে এ ঘটনায় ১৪ জন জড়িত বলে জানিয়েছেন ডিএমপির অতিরিক্ত কমিশনার (অপরাধ) কৃষ্ণপদ রায়।

এ ঘটনায় ১৯ জনকে আসামি করে তার বাবা চকবাজার থানায় সোমবার রাতে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। বুয়েট কর্তৃপক্ষ একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছে। পাশাপাশি গঠন করেছে একটি তদন্ত কমিটিও।

এদিকে ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার প্রমাণ মেলায় বুয়েট শাখার সহ-সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকসহ ১১ জনকে ছাত্রলীগ থেকে স্থায়ীভাবে বহিষ্কার করা হয়েছে।

আবরার ফাহাদ বুয়েটের ইলেকট্রিক্যাল অ্যান্ড ইলেকট্রনিক ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্র ছিলেন। তার গ্রামের বাড়ি কুষ্টিয়ায়। তাকে মারধরের সময় ২০১১ নম্বর কক্ষে উপস্থিত ছিলেন বুয়েট ছাত্রলীগের সহসম্পাদক আশিকুল ইসলাম বিটু।

শিক্ষার্থী, পুলিশ ও ছাত্রলীগ সূত্র জানায়, শনিবার বাংলাদেশ-ভারতে হওয়া চুক্তি নিয়ে ফেসবুকে একটি স্ট্যাটাস দেন আবরার। পরে সেটি শাখা ছাত্রলীগের গ্রন্থনা ও প্রকাশনা সম্পাদক ইশতিয়াক মুন্নার নজরে আসে।

তিনি একই হলের শিক্ষার্থী বুয়েট শাখা ছাত্রলীগের সহসম্পাদক আশিকুল ইসলাম বিটু, উপ-সমাজসেবা সম্পাদক ইফতি মোশাররফ সকাল, ক্রীড়া সম্পাদক মেজবাউল ইসলাম জিয়ন এবং তথ্য ও গবেষণা সম্পাদক অনিক সরকারকে বিষয়টি জানান।

এরপর সিদ্ধান্ত হয় আবরারকে ডেকে এনে জিজ্ঞাসা করা হবে। সে অনুযায়ী শনিবার রাত ৮টার দিকে ১০১১ নম্বর কক্ষ থেকে আবরারকে ডেকে আনার নির্দেশ দেন বুয়েট ছাত্রলীগ সাধারণ সম্পাদক মেহেদী হাসান রাসেল।

এ সময় তার সঙ্গে উল্লিখিত নেতারা উপস্থিত ছিলেন। এরা সবাই ১৬ ও ১৭ ব্যাচের শিক্ষার্থী। এদের মধ্যে দু’জন রোববার রাত ৮টার দিকে আবরারকে ডেকে ২০১১ নং কক্ষে নিয়ে যান।

সূত্র আরও জানায়, সেখানে নেয়ার পর আবরারের কাছ থেকে মোবাইল ফোন কেড়ে নেয়া হয়। তার ফেসবুক মেসেঞ্জার চেক করাসহ জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। আগে থেকেই ওই রুমে ক্রিকেটের স্টাম্প, হকিস্টিক, বাঁশের লাঠি, চাপাতি রাখা ছিল।

তা দিয়েই জিজ্ঞাসাবাদের একপর্যায়ে শুরু হয় মারধর। একপর্যায়ে আবরার অচেতন হয়ে পড়লে কোলে করে মুন্নার কক্ষে (২০০৫ নং) নেয়া হয়। সেখানে অবস্থার আরও অবনতি হলে দোতলা ও নিচতলার সিঁড়ির মধ্যবর্তী জায়গায় অচেতন আবরারকে নিয়ে যায় তারা।

যাতে শরীরে আঘাতের চিহ্ন দেখা না যায় সে জন্য কাপড় দিয়ে মুড়িয়ে রাখা হয় তার দেহ। এরপর হল প্রভোস্ট ও চিকিৎসককে খবর দেয়া হয়। চিকিৎসক এসে আবরারকে মৃত ঘোষণা করেন। তখন কর্তৃপক্ষ পুলিশে খবর দেয়।

পুলিশ এসে আবরারকে হলের ক্যান্টিনে নিয়ে একটি তোশকের ওপর রাখে। এরপর তাকে নেয়া হয় ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে। আবরারকে পেটানো সংক্রান্ত ভিডিও ফুটেজের একটি অংশ সোমবার রাতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে।

বুয়েট শেরেবাংলা হল শাখা ছাত্রলীগ সূত্রে জানা গেছে, আবরারকে জেরা ও পেটানোর সময় ওই কক্ষে সমাজসেবাবিষয়ক উপ-সম্পাদক ও বায়োমেডিকেল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের ছাত্র ইফতি মোশাররফ ওরফে সকালসহ তৃতীয় বর্ষের আরও কয়েকজন শিক্ষার্থী ছিলেন।

ওই কক্ষে এসে দ্বিতীয় দফা আবরারকে পেটান বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের তথ্য ও গবেষণা সম্পাদক এবং মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থী অনিক সরকার, ক্রীড়া সম্পাদক ও নেভাল আর্কিটেকচার অ্যান্ড মেরিন ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের একই বর্ষের মেফতাহুল ইসলাম জিয়নসহ কয়েকজন। নাম প্রকাশ না করার শর্তে একজন প্রত্যক্ষদর্শী বলেন, পেটানোর পর আবরারের মৃত্যু হলে রাতে তারা সহপাঠীদের ডেকে লাশ নিচতলার সিঁড়ির সামনে রাখে।

Feb2
Feb2

পুলিশের যানবাহনে হামলার সুনির্দিষ্ট গোয়েন্দা তথ্য নেই, শুধু ‘রিমাইন্ডার’

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Sunday, 2 August, 2026, 4:17 pm
পুলিশের যানবাহনে হামলার সুনির্দিষ্ট গোয়েন্দা তথ্য নেই, শুধু ‘রিমাইন্ডার’

রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে সাম্প্রতিক বোমা-আতঙ্ক ও সন্দেহজনক বস্তু উদ্ধারের ঘটনার প্রেক্ষাপটে পুলিশকে জারি করা সতর্কতা কোনো নির্দিষ্ট গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে নয়, বরং এটি নিয়মিত নিরাপত্তা ব্যবস্থার অংশ হিসেবে দেওয়া একটি ‘রিমাইন্ডার’ বলে জানিয়েছেন ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (ডিবি) মো. শফিকুল ইসলাম।

রোববার (২ আগস্ট) দুপুরে ডিএমপির মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এক প্রশ্নের জবাব তিনি এসব কথা বলেন।

শফিকুল ইসলাম বলেন, আমরা তো জনগণের জানমালের নিরাপত্তা বিধান করে থাকি। পুলিশের পাশাপাশি নিজেদের নিরাপত্তাটা দেখতে হয়, কাজেই এই সতর্কতা আমরা সবসময় দিয়ে থাকি। তবুও সম্প্রতি আপনারা দেখছেন যে কয়েকটা বোমার বিষয় এসেছে এবং ফলস কিছু রিউমার ছড়ানো হচ্ছে। এ বিষয়টি নিয়ে আমরা তৎপর এবং সব মিলিয়ে আমাদের নিজেদের নিরাপত্তাটা যেন বজায় থাকে, এইজন্য এমন সতর্কতা বিভিন্ন সময় দেওয়া হয়। আগেও এমন নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। যেন পুলিশের সব যানবাহন থেকে শুরু করে স্থাপনা যেন নিরাপদ থাকে। তাই পুলিশকে আবারও নির্দেশনা দিয়ে রিমাইন্ডার দেওয়া হয়েছে, যেন পুলিশ অধিক সতর্ক থাকে।

তিনি বলেন, যেহেতু ইদানীং বিভিন্ন সত্য মিথ্যা মিলে একটা ঘটনা ঘটানোর চেষ্টা করা হয়েছে, সেজন্য একটা সতর্কতা জারি করা হয়েছে। এটা একটা রিমাইন্ডার।

আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর উপর হামলার কোনো সুনির্দিষ্ট গোয়েন্দা তথ্য রয়েছে কিনা এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, না ওরকম স্পেসিফিক কিছু নেই। তবে আমরা সবসময় সতর্ক থাকি। আমাদের যারা সিনিয়র অফিসার আছেন তারা আমাদের সুপারভাইজার। আমরা যারা ফিল্ডে বিচরণ করি, তারা যেন আরেকটু সতর্ক থাকি সেই জন্য রিমাইন্ডার।

মতিঝিলের ছাতা বোমা নিয়ে প্রশ্ন করা হলে ডিবি প্রধান বলেন, এটার তদন্ত সিটিটিসি করছে, আমরা আসলে ছায়া তদন্ত করছি। এই ঘটনার সঙ্গে যারা জড়িত তাদের শনাক্ত করে আমরা গ্রেপ্তারের চেষ্টা করছি। তবে এ বিষয়ে আমাদের তদন্ত চলমান রয়েছে, তাই এখন কিছু বলা যাবে না।

এর পিছনে জড়িত কোনো সংগঠনের নাম পাওয়া গেছে কিনা প্রশ্ন করে তিনি বলেন, এরকম দুই একজন তো থাকবে। এটা তো ধরেন একক ব্যক্তি হিসেবে কেউ করবে না। কেউ করলে কোনো একটা ম্যান্ডেট প্রচার বা তার মতাদর্শ প্রচারের জন্য এরকম কর্মকাণ্ড করে থাকে।

এর আগে শনিবার (১ আগস্ট) পুলিশ সদর দপ্তরের অপারেশন্স নিয়ন্ত্রণকক্ষ থেকে মাঠপর্যায়ের সব ইউনিটে একটি জরুরি বার্তা পাঠিয়ে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদারের নির্দেশ দেওয়া হয়।

বার্তায় বলা হয়, উগ্রবাদী সংগঠনের সদস্য বা দুর্বৃত্তরা পুলিশের ব্যবহৃত জিপ, পিকআপ, বাসসহ বিভিন্ন যানবাহনকে হামলার লক্ষ্যবস্তু করতে পারে। এ কারণে ডিউটিরত কোনো যানবাহন সাময়িকভাবে থামালে নিরাপদ স্থানে পার্ক করতে হবে এবং পুলিশের নজরদারির মধ্যে রাখতে হবে। পাশাপাশি ডিউটি শেষে থানা, পুলিশ লাইনস ও অফিস প্রাঙ্গণে রাখা গাড়িগুলোর নিরাপত্তা বাড়াতে নিয়মিত টহল, নজরদারি এবং সন্দেহজনক ব্যক্তি বা বস্তু শনাক্তে বিশেষ সতর্ক থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়।

যদিও এ বিষয়ে পুলিশ সদর দপ্তরের আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তবে সদর দপ্তরের এআইজি (মিডিয়া) এ এইচ এম শাহাদাত হোসাইন গণমাধ্যমকে বলেন, পুলিশ সদস্যদের সক্রিয় ও সতর্ক রাখতে নিয়মিত এমন নির্দেশনা দেওয়া হয়। এতে আতঙ্কিত হওয়ার কোনো কারণ নেই।

এদিকে গত এক সপ্তাহে রাজধানীতে একাধিক বোমা-আতঙ্কের ঘটনা ঘটে। ২৪ জুলাই মতিঝিল মেট্রোরেল স্টেশনের নিচে একটি ছাতার ভেতর থেকে শক্তিশালী আইইডি উদ্ধার করে নিষ্ক্রিয় করে পুলিশ। পরে জানানো হয়, সেটি সনাতন ধর্মাবলম্বীদের উল্টো রথযাত্রার পথ লক্ষ্য করে রাখা হয়েছিল।

পরদিন বাংলাদেশ ব্যাংকের সামনে ছাতা বের হয়ে থাকা একটি বস্তা ঘিরে আতঙ্ক সৃষ্টি হলেও সেটিতে কোনো বিস্ফোরক পাওয়া যায়নি।

সবশেষ শনিবার মিরপুর-১০ ও ফার্মগেট মেট্রোরেল স্টেশনে দুটি সন্দেহজনক ব্যাগ ও বস্তা উদ্ধার হলেও পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর ডিএমপির বোমা নিষ্ক্রিয়কারী দল জানায়, সেগুলোতে কোনো বিস্ফোরক দ্রব্য ছিল না।

পুলিশ সূত্র বলছে, সাম্প্রতিক এসব ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতেই মাঠপর্যায়ের সদস্যদের আরও সতর্ক থাকতে নতুন করে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

সিআরএ’র নেতৃত্বে রুবেল-রমিজ

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Sunday, 2 August, 2026, 1:24 pm
সিআরএ’র নেতৃত্বে রুবেল-রমিজ

চট্টগ্রামে কর্মরত পেশাদার সংবাদকর্মীদের সংগঠন চট্টগ্রাম রিপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন (সিআরএ)। সংগঠনের সদস্যদের মতামতের ভিত্তিতে দুই বছরের পুরনো কমিটি ভেঙে নতুন করে গঠন করা হয়েছে আহবায়ক কমিটি।

শনিবার (১ আগষ্ট) সিআরএ-এর আগের কমিটির সভাপতি সোহাগ আরেফিন ও সাধারণ সম্পাদক নুরু আমিন খোকনসহ সংগঠনের অন্যান্য সদস্যদের ভার্চুয়াল মিটিং ও মতামতের ভিত্তিতে আগামী ৯০ দিনের মধ্যে সংগঠনের গঠনতন্ত্র অনুযায়ী নির্বাচনী কার্যক্রম সম্পন্ন করার লক্ষ্যে নতুন আহবায়ক কমিটি ঘোষণা করা হয়।

ঘোষিত কমিটিতে নিউজডে২৪ সম্পাদক মোঃ রুবেল আহ্বায়ক ও দৈনিক সকালের সময় এবং নিউজ ২১ বাংলা টিভির চট্টগ্রাম প্রতিনিধি সাইফুদ্দিন রমিজকে সদস্য সচিব করা হয়।

এছাড়া দৈনিক আজকালের খবর পত্রিকার চট্টগ্রাম প্রতিনিধি মোহাম্মদ শাকিল অর্থ সম্পাদক, নিউজ ডে২৪ প্রতিনিধি সাফায়েত মোরশেদ, দৈনিক একুশে সংবাদের রিয়াজ উদ্দিন, দৈনিক সূর্যোদয় পত্রিকার রতন বড়ুয়া ও চট্টগ্রাম পোস্ট’র মাল্টিমিডিয়ার ইনচার্জ কামরুল সিফাত উল্লাহ কার্যকরী সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন।

নবগঠিত কমিটির আহ্বায়ক মো:রুবেল বলেন, সকলের মতামত ও আস্থার ভিত্তিতে আমাদের ওপর যে দায়িত্ব অর্পণ করা হয়েছে, তা সততা, স্বচ্ছতা ও নিরপেক্ষতার সঙ্গে পালন করব। সংগঠনের গঠনতন্ত্র অনুসরণ করে আগামী ৯০ দিনের মধ্যে একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন আয়োজনের জন্য আমরা সর্বাত্মক চেষ্টা করব।

সদস্য সচিব সাইফুদ্দিন রমিজ বলেন, চট্টগ্রাম রিপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের সকল সদস্যকে সঙ্গে নিয়ে একটি ঐক্যবদ্ধ ও শক্তিশালী সংগঠন গড়ে তোলাই আমাদের লক্ষ্য। নির্বাচনী প্রক্রিয়া যেন অংশগ্রহণমূলক,স্বচ্ছ ও গ্রহণযোগ্য হয়,সে বিষয়ে আহ্বায়ক কমিটি আন্তরিকভাবে কাজ করবে। সকল সদস্যের সহযোগিতা ও পরামর্শ কামনা করছি।

এ সময় আহ্বায়ক কমিটির পক্ষ থেকে আরও জানানো হয়, সংগঠনের গঠনতন্ত্র মোতাবেক আগামী ৯০ দিনের মধ্যে নির্বাচনী কার্যক্রম সম্পন্ন করে নির্বাচিত কমিটির কাছে দায়িত্ব হস্তান্তর করা হবে।

বিএনপির স্থায়ী কমিটির বৈঠক: রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের দায়িত্ব প্রধানমন্ত্রীর

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Sunday, 2 August, 2026, 9:18 am
বিএনপির স্থায়ী কমিটির বৈঠক: রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের দায়িত্ব প্রধানমন্ত্রীর

২৩তম রাষ্ট্রপতি নির্বাচনসহ সমসাময়িক রাজনৈতিক বিষয়ে দলের করণীয় নির্ধারণে বৈঠক করেছে বিএনপির সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী ফোরাম স্থায়ী কমিটি।

শনিবার (০১ আগস্ট) রাত ৮টার দিকে বিএনপির চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে গুলশানে দলের চেয়ারম্যানের কার্যালয়ে বৈঠকটি অনুষ্ঠিত হয়। প্রায় দেড় ঘণ্টাব্যাপী বৈঠক রাত সাড়ে ৯টার দিকে শেষ হয়।

বৈঠক সূত্রে জানা গেছে, নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচন, সরকারের উন্নয়নমূলক কার্যক্রমের গতি, স্থানীয় সরকার নির্বাচন এবং দলের সার্বিক সাংগঠনিক বিষয়গুলো বৈঠকে প্রাধান্য পায়।

সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি, দেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি নির্বাচন এবং মনোনয়ন প্রক্রিয়াই ছিল বৈঠকের প্রধান এজেন্ডা। সাবেক রাষ্ট্রপতি মোহাম্মদ সাহাবুদ্দিনের পদত্যাগে শূন্য হওয়া পদে দলের উপযুক্ত প্রার্থী মনোনয়ন নিয়ে দীর্ঘ আলোচনা হয়। তবে শেষ পর্যন্ত নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে দলীয় প্রার্থী চূড়ান্ত করার দায়িত্ব দলের চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ওপরই ন্যস্ত করেন স্থায়ী কমিটির সদস্যরা।

বৈঠকে স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, ড. আবদুল মঈন খান, নজরুল ইসলাম খান, ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু, ডা. এজেড এম জাহিদ হোসেন, সেলিমা রহমান প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

বৈঠক শেষে বিএনপির মহাসচিব ও স্থায়ী সরকারমন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে দলের প্রার্থী চূড়ান্ত করার দায়িত্ব প্রধানমন্ত্রীর কাছে দিয়েছে দলের স্থায়ী কমিটি।

স্থায়ী কমিটির সদস্য ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, ‘স্পিকার অস্থায়ীভাবে ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করছেন। আইন অনুযায়ী ৯০ দিনের মধ্যে রাষ্ট্রপতি নির্বাচন সম্পন্ন করতে হবে। সে লক্ষ্যে নির্বাচন কমিশন ইতোমধ্যে জানিয়েছে, তারা রাষ্ট্রপতি নির্বাচন আয়োজনের জন্য প্রস্তুত। তফসিল ঘোষণা হলে দলের পক্ষ থেকে কে রাষ্ট্রপতি পদে প্রার্থী হবেন, সেই দায়িত্ব দলের চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রীকে স্থায়ী কমিটি ন্যস্ত করেছে।’

এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘নতুন রাষ্ট্রপতি হিসেবে কোনো নাম প্রস্তাব বা এ-সংক্রান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার দায়িত্ব আমরা দলের চেয়ারম্যানের ওপরই ন্যস্ত করেছি। নির্বাচন কমিশন তফসিল ঘোষণা করলে মনোনয়নপত্র বিক্রি ও জমা হবে। এরপর যাচাই-বাছাই শেষে যদি একক প্রার্থী থাকেন, তাহলে ভোটগ্রহণের প্রয়োজন হবে না। আর একাধিক প্রার্থী হলে জাতীয় সংসদের একটি বিশেষ অধিবেশন আহ্বান করা হবে। স্পিকারের সঙ্গে আলোচনা করে নির্বাচন কমিশন এ বিষয়ে দিনক্ষণ নির্ধারণ করবে।’

স্থানীয় সরকার নির্বাচন প্রসঙ্গে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘স্থানীয় সরকার নির্বাচন বিষয়ে বিএনপি মহাসচিব বলেছেন, আমরা চলতি বছরের শেষ দিকে অথবা আগামী বছরের শুরুতে নির্বাচন অনুষ্ঠানের জন্য প্রস্তুত আছি। সে অনুযায়ী প্রস্তুতি চলছে।’

বৈঠকে অংশ নেওয়া স্থায়ী কমিটির অন্তত দুই সদস্য জানান, ক্ষমতাসীন দল হিসেবে বিএনপির নেতৃত্বাধীন সরকারের বিভিন্ন অগ্রাধিকারমূলক প্রকল্পের বাস্তবায়ন ও অগ্রগতি বৈঠকে পর্যালোচনা করা হয়। একই সঙ্গে দলের সাংগঠনিক কাঠামোকে আরও যুগোপযোগী ও শক্তিশালী করার তাগিদ দেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। বিশেষ করে রাষ্ট্রপতি মনোনয়ন ইস্যুতে স্থায়ী কমিটির সদস্যদের মতামত মনোযোগ দিয়ে শোনেন দলের চেয়ারম্যান। পরে সর্বসম্মতিক্রমে চূড়ান্ত প্রার্থী মনোনয়নের ক্ষমতা তারেক রহমানের ওপর ন্যস্ত করা হয়।

বৈঠক সূত্র জানায়, যুক্তরাষ্ট্রের শীর্ষ ব্যবসায়ী প্রতিনিধিদের আসন্ন বাংলাদেশ সফর এবং দ্বিপাক্ষিক সহযোগিতা সম্প্রসারণের সম্ভাবনা নিয়েও ইতিবাচক আলোচনা হয়েছে। পাশাপাশি আগস্ট মাসে রাষ্ট্রীয় কার্যক্রমের পাশাপাশি দলীয় শৃঙ্খলা আরও সুদৃঢ় রাখার বিষয়ে দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেন বিএনপি প্রধান।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, নির্বাচন কমিশন আনুষ্ঠানিকভাবে তফসিল ঘোষণার পরই রাষ্ট্রপতি পদে দলের প্রার্থীর নাম ঘোষণা করা হবে। ইতোমধ্যে নির্বাচনী প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিন ভারপ্রাপ্ত স্পিকার কায়সার কামালের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন। আগামী সেপ্টেম্বরে বসতে যাওয়া জাতীয় সংসদের পরবর্তী অধিবেশনেই নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচন সম্পন্ন হতে পারে।