খুঁজুন
বৃহস্পতিবার, ১৮ই জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ৪ঠা আষাঢ়, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

সব সময় ত্যাগের রাজনীতি করেছি, ভোগের নয়: রাষ্ট্রপতি

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ১৬ মে, ২০২৩, ৬:২৯ অপরাহ্ণ
সব সময় ত্যাগের রাজনীতি করেছি, ভোগের নয়: রাষ্ট্রপতি

রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন তার সাংবাদিকতা জীবনের বিভিন্ন স্মৃতিচারণ করে বলেছেন, অনেক গৌরবোজ্জ্বল দিন এই প্রেস ক্লাবে অতিবাহিত করেছি। বিভিন্ন সময়ে মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছি। ৭০ থেকে ৭৫ জনকে চাকরি দিয়েছি, কিন্তু কোনো প্রতিদান নেইনি।

তিনি আরও বলেন, আমি সবসময় ত্যাগের রাজনীতি করেছি, কোনো ভোগের রাজনীতি করিনি।

মঙ্গলবার (১৬ মে) দুপুরে পাবনা প্রেস ক্লাবে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে রাষ্ট্রপতি এসব কথা বলেন।

মো. সাহাবুদ্দিন দেশের ২২তম রাষ্ট্রপতি হিসেবে শপথ নিয়েছেন গত ২৪ এপ্রিল। রাষ্ট্রপতি হিসেবে নিজ জেলা পাবনায় এটাই তার প্রথম সফর। মঙ্গলবার রাষ্ট্রপতি পাবনা প্রেস ক্লাব চত্বরে পৌঁছলে সাংবাদিক নেতারা ফুল দিয়ে তাকে শুভেচ্ছা জানান। পাবনা প্রেস ক্লাবের আজীবন সদস্য মো. সাহাবুদ্দিন।

সত্তরের দশকে ছাত্র রাজনীতির প্রসঙ্গ টেনে অনেক গুণী সাংবাদিক এবং বিভিন্ন সংগঠনের নেতাদের কথা শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করেন রাষ্ট্রপতি। তিনি বলেন, অনেক মতবাদ দেখেছি কিন্তু মুক্তিযুদ্ধে অংশ নিয়েছি মুজিব আদর্শ বা মুজিববাদের ওপর বিশ্বাস করেই। তখন কোনো মতবাদই কাজে লাগেনি। একমাত্র জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের চিন্তাধারা কাজে লেগেছে। তার নেতৃত্বে আমরা মুক্তিযুদ্ধে গিয়েছি এবং দেশ স্বাধীন করেছি।

এসময় দল-মত নির্বিশেষে সব সাংবাদিকের ঐক্যবদ্ধ সহযোগিতা কামনা করেন রাষ্ট্রপতি। তিনি বলেন, কোনো সমাজ ব্যবস্থা ধার করে চলে না। সমাজ ব্যবস্থা চলবে দেশের মানুষ কী চায় (তার ওপর ভিত্তি করে)। মানুষের ইচ্ছার ওপর দিয়ে সমাজ ব্যবস্থা করে গড়ে তুলতে হবে।

মতবিনিময় সভায় সভাপতিত্ব করেন পাবনা প্রেস ক্লাবের সভাপতি এ বি এম ফজলুর রহমান। এতে বক্তব্য রাখেন মাছরাঙ্গা টেলিভিশনের ব্যবস্থাপনা পরিচালক এবং পাবনা প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা অঞ্জন চৌধুরী পিন্টু, প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি অধ্যক্ষ শিবজিত নাগ, সাবেক সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা রবিউল ইসলাম রবি, সাধারণ সম্পাদক সৈকত আফরোজ আসাদ প্রমুখ।

এর আগে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন পাবনার বিসিক শিল্প নগরীতে স্কয়ার লাইফসাইন্স লিমিটেডের ফলক উন্মোচন করেন। রাষ্ট্র প্রধানসহ তার সংশ্লিষ্ট সচিবরা সেখানে এক দোয়া অনুষ্ঠানে অংশ নেন।

রাষ্ট্রপতি সাহাবুদ্দিন চারদিনের পাবনা সফরের দ্বিতীয় দিনে আজ সকালে বাংলাদেশ ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প করপোরেশনের (বিসিক) শিল্পনগরী পরিদর্শন করেন। রাষ্ট্রপতি সেখানে পৌঁছালে তাকে ফুল দিয়ে স্বাগত জানান স্কয়ার গ্রুপের চেয়ারম্যান স্যামুয়েল এস. চৌধুরী। পরে রাষ্ট্রপতি স্কয়ার লাইফসাইন্সেস লিমিটেডের উৎপাদন এলাকা পরিদর্শন করেন।

 

Feb2

৯৫তম মিনিটের গোলে পানামাকে হারাল ঘানা

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ১৮ জুন, ২০২৬, ৯:৫১ পূর্বাহ্ণ
৯৫তম মিনিটের গোলে পানামাকে হারাল ঘানা

পানামা তাদের বিশ্বকাপ ইতিহাসের প্রথম পয়েন্ট পাওয়ার খুব কাছে ছিল। ঘানাকে রুখে দেওয়ার একেবারে দ্বারপ্রান্তে ছিল তারা। কিন্তু যোগ করা সময়ে আচমকা গোল হজম করল দলটি। তাতে ৮ বছর পর বিশ্বকাপে ফিরে জয়শূন্যই থাকতে হলো তাদেরকে।

বদলি গোলকিপারের বীরত্বের পর যোগ করা সময়ের পঞ্চম মিনিটে গোল করে ঘানা। তাতে ১-০ ব্যবধানে জিতে ‘এল’ গ্রুপে নিজেদের প্রথম ম্যাচ জিতল তারা।

২০১০ সালের কোয়ার্টার ফাইনালিস্ট ঘানা যোগ করা সময়ের একেবারে শেষ মুহূর্তে গোল করে। টরন্টোতে কালেব ইয়েরেঙ্কির একমাত্র গোল গড়ে দেয় ম্যাচের পার্থক্য। বেঞ্চ থেকে উঠে এসে তাকে গোল বানিয়ে দেন ব্রান্ডন থমাস আসান্তে।

অথচ পুরো ম্যাচজুড়ে পানামার দাপট ছিল। ৬২ শতাংশ বল দখলে রেখেছিল তারা। ১১টি শটও নিয়েছিল পানামা, বিপরীতে ঘানার আটটি। ঘানার বদলি গোলকিপার বেঞ্জামিন আসারে শেষ ৪৫ মিনিট গোলপোস্টে থেকে তিন সেভে পানামাকে হতাশ করেন।

এর মধ্যে তিনি বক্সের মধ্যে থেকে নেওয়া দুটি শট ঠেকান। দলের উদ্ধারকর্তা হিসেবে ম্যাচে ছাপ রাখেন আসারে। তারপর অপ্রত্যাশিতভাবে শেষ মুহূর্তে গোল খেয়ে বসে পানামা। থমাস আসান্তে আলগা বল পেয়ে বাঁ দিক দিয়ে ঢোকেন এবং গোলমুখের সামনে বল ঠেলে দেন। সেখান থেকে ইয়েরেঙ্কি জাল কাঁপান।

ঘানা তাদের মিডফিল্ডার থমাস পার্টিকে ছাড়া মাঠে নামে। ইংল্যান্ডে ধর্ষণের অভিযোগে অভিযুক্ত এই ফুটবলারকে ভিসা দেয়নি কানাডা।

প্রথমার্ধে গোলে নেওয়া একমাত্র শট এসেছিল দুই মিনিটের মধ্যে। পানামা ফরোয়ার্ড সিসিলিও ওয়াটারম্যান নিচু ক্রস পান আমির মুরিলোর কাছ থেকে। বক্সের মাঝ থেকে শট নেন তিনি। কিন্তু আতি জিগি ডানপাশে ডাইভ দিয়ে বল ফিরিয়ে দেন।

এই গোলকিপার কয়েকটি সংঘর্ষের ধাক্কা সামলানোর পর হাফটাইমে বদলি হয়ে মাঠ ছাড়েন। তার পরিবর্তে নেমে নায়কের ভূমিকা পালন করেন আসারে।

কেইনের জোড়া গোলে আট ও আঠারোর হারের শোধ নিলো ইংল্যান্ড

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ১৮ জুন, ২০২৬, ৮:০৪ পূর্বাহ্ণ
কেইনের জোড়া গোলে আট ও আঠারোর হারের শোধ নিলো ইংল্যান্ড

২০০৮ সালে বাছাইপর্বের হোম-অ্যাওয়ে দুটি ম্যাচেই হেরে ইউরোর টিকিট বঞ্চিত হয়েছিল ইংল্যান্ড। ২০১৮ সালে তো আরও বড় হৃদয়ভঙ্গের গল্প লেখা হলো—বিশ্বকাপ সেমিফাইনালে হেরে গিয়েছিল তারা। সেই দুটি হারের শোধ এবার তুলে নিলো থ্রি লায়নরা। ক্রোয়েশিয়াকে ৪-২ গোলে হারাল তারা। ১৯৬৬ সালের পশ্চিম জার্মানির বিপক্ষে ফাইনালের পর এই প্রথম বিশ্বকাপে ৪-২ ব্যবধানে জিতল ইংলিশরা।

ক্রোয়েশিয়া ডালাস স্টেডিয়ামে ফেভারিট হিসেবে মাঠে নেমেছিল। ইংল্যান্ড প্রথমার্ধে দুইবার এগিয়েছে, দুইবারই গোল শোধ দিয়েছে ক্রোটরা। তবে দ্বিতীয়ার্ধে দুটি গোল করে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নেয় ইংলিশরা এবং সেই লিড ধরে রেখে জয় দিয়ে বিশ্বকাপ শুরু করল ইংল্যান্ড।

১২ মিনিটে পেনাল্টি গোলে এগিয়ে যায় ইংল্যান্ড। বক্সের ভেতরে লুকা মদ্রিচ নোনি মাদুয়েকেকে ফাউল করলে ইংল্যান্ড একটি পেনাল্টি পায়।

তবে কেইন শট নেওয়ার সময় কিছুটা ইতস্তত করছিলেন। তাকে হতাশ করে ক্রোয়েশিয়ার গোলরক্ষক ডমিনিক লিভাকোভিচ সঠিক দিকে ঝাঁপিয়ে পড়ে শটটি ঠেকিয়ে দেন। ইংল্যান্ডের সমর্থকরা একই সঙ্গে চরম হতাশ ও বিস্মিত হয়।

যদিও রেফারি ক্লেমেন্ট টার্পিন ভিএআর পরীক্ষার জন্য খেলা পুনরায় শুরু করতে একটু সময় নেন। যেখানে দেখা যায়, কেইন শট নেওয়ার আগেই লিভাকোভিচ তার গোললাইন ছেড়ে সামনে এগিয়ে এসেছিলেন। এই কারণে ইংলিশ তারকা ১২ গজ দূর থেকে পেনাল্টি নেওয়ার আরেকটি সুযোগ পাবেন।

দ্বিতীয়বার কেইন আর কোনো ভুল করেননি। তিনি আগেরবারের মতো একই দিকে শট নিয়েছিলেন। বলটি নিখুঁতভাবে জালের নিচের ডান কোণায় জড়ায়।

ক্রোয়েশিয়া পাল্টা জবাব দিতে সময় নেয়নি। ৩৬ মিনিটে পিটার সুচিচের অ্যাসিস্টে বক্সের বাইরে থেকে বাঁ পায়ের শটে সমতা ফেরান বাতুরিনা। ঘণ্টায় ৭৫ মাইল বেগের শট ঠেকাতে পারেননি ইংলিশ গোলকিপার জর্ডান পিকফোর্ড।

ছয় মিনিট পর কর্নার থেকে ডেকলান রাইসের অ্যাসিস্টে কেইনের হেডে ক্রোয়েশিয়ার জাল কাঁপে। জাতীয় দলের জার্সিতে ৮১তম গোল করেন তিনি এবং বিশ্বকাপে দশম গোল করে দেশের সর্বকালের শীর্ষ গোলদাতা গ্যারি লিনেকারের পাশে বসেন।

যোগ করা পাঁচ মিনিটের একেবারে শেষ মুহূর্তে পিটার মুসা ক্রোয়েশিয়াকে সমতায় ফেরান। ইভান পেরিসিচের হেড পাসে ডান পায়ের শটে স্কোর ২-২ করেন তিনি।

হাফটাইমের পর শুরুতেই গোল, এগিয়ে যায় ইংল্যান্ড। ৪৭ মিনিটে ডান প্রান্ত দিয়ে অ্যান্ডারসনের বাড়ানো একটি বল বেলিংহাম নিজের নিয়ন্ত্রণে নেন এবং ফাঁকা জায়গায় গতি বাড়িয়ে গোলপোস্টের দিকে এগিয়ে যান। এরপর কোনাকুনি এক শটে বলটিকে গোলপোস্টের কোণ ঘেঁষে দূরের পোস্টে জড়িয়ে দেন।

এগিয়ে যাওয়ার ঠিক পরপরই ব্যবধান বাড়ানোর সুবর্ণ সুযোগ হাতছাড়া করেন বেলিংহাম ও ও’রেইলি। প্রথমে বেলিংহামের শট রুখে দেন ক্রোয়েশিয়ান গোলরক্ষক লিভাকোভিচ। এরপর রাইসের নেওয়া কর্নার থেকে ও’রেইলি হেড করলেও বলটি দূরের পোস্টের সামান্য বাইরে দিয়ে চলে যায়।

দ্বিতীয় হাইড্রেশন ব্রেকের পর ইংল্যান্ড তাদের আক্রমণ ধরে রাখে। বক্সের ঠিক বাইরে থেকে রাইসের একটি বাঁকানো শট লিভাকোভিচ তার বাঁ দিকে ঝাঁপিয়ে পড়ে পোস্টের ওপর দিয়ে পার করে দেন। এরপর ইংল্যান্ড পরপর কয়েকটি কর্নার পেলেও গোল করতে পারেনি।

ডান দিক থেকে রাইসের ক্রসে ও’রেইলির হেড লিভাকোভিচ কোনোমতে ঠেকিয়ে দেন। ফিরতি বলে গর্ডন হেড করলেও ক্রোট গোলকিপার দ্রুত উঠে এসে সেটিও রুখে দেন এবং শেষ পর্যন্ত ক্রোয়েশিয়ার ডিফেন্ডাররা বলটি ক্লিয়ার করে বিপদমুক্ত হন।

পরে বাম প্রান্ত থেকে কেইনের নেওয়া একটি কোনাকুনি শট লিভাকোভিচ দারুণ দক্ষতায় বাঁচিয়ে দেন। এরপর ইংলিশ ফরোয়ার্ডের নেওয়া ফিরতি বাউন্সিং শটটিও তিনি কোনোমতে ফিরিয়ে দেন এবং স্তানিসিচ এসে কেইনের নিশ্চিত ট্যাপ-ইন গোল করা রুখে দেন। ততক্ষণে ইংল্যান্ড গোলপোস্টে ১৮টি শট নিয়ে ফেলেছে।

লিভাকোভিচের বীরত্বে গোল করতে ব্যর্থ ইংল্যান্ড এক গোলের ব্যবধান আরও বড় করতে মরিয়া। তিনি না থাকলে ততক্ষণে আরও গোল পেত থ্রি লায়নরা। আর এক গোলের লিড তাদেরকে চাপে রেখেছিল। এমন সময় পাশালিচ ডান দিক থেকে কাট-ইন করে একটি শক্তিশালী বাম পায়ের শট নিলে পিকফোর্ড দারুণভাবে ঠেকিয়ে ইংল্যান্ডের উদ্ধারকর্তা হিসেবে আবির্ভূত হন।

স্পেনস মাঝমাঠ দিয়ে ফাঁকা জায়গায় বল পেয়ে ডিফেন্ডারদের পেছনে ফেলে একটি শট নিলেও বলটি গোলরক্ষকের গায়ে লেগে ফিরে আসে এবং ডিফেন্ডাররা তা ক্লিয়ার করেন। অন্যদিকে সমতায় ফেরার জন্য ক্রোয়েশিয়ানরা একের পর এক আক্রমণ করতে থাকায় ইংল্যান্ডের শিবিরেও চাপ বাড়ছিল। কোভাসিচ দূর থেকে একটি নিচু শট নিয়ে পিকফোর্ডকে পরীক্ষা করলেও ইংলিশ কিপার ডান দিকে নিচু হয়ে বলটি গ্লাভসবন্দী করেন।

অবশেষে ইংল্যান্ড আবারও দুর্দান্তভাবে ম্যাচে নিজেদের আধিপত্য ফিরে পায়। ডান দিক থেকে আক্রমণ চালিয়ে সাকা বল নিয়ে ভেতরে ঢোকেন এবং বক্সের বাম পাশে ফাঁকায় থাকা র‍্যাশফোর্ডকে পাস দেন। র‍্যাশফোর্ড অত্যন্ত ঠান্ডা মাথায় কিছুটা জায়গা তৈরি করে লিভাকোভিচের বাম দিক দিয়ে বল জালে জড়িয়ে দেন। তাতে ইংল্যান্ড দুই গোলের লিড পায়।

শেষদিকে ক্রোয়েশিয়া উইং দিয়ে আক্রমণ শাণিয়ে একটি কর্নার আদায় করলেও দূরের পোস্টে জিভার্দিওলের শটটি কেইন চমৎকারভাবে ব্লক করেন। পিকফোর্ড একটি বাউন্সিং বল লুফে যখন নিলেন, ইংল্যান্ডের উদ্বোধনী ম্যাচ জয় নিশ্চিত হতে তখন আর মাত্র দুই মিনিট বাকি ছিল।

প্রথম বিশ্বকাপ গোলে পর্তুগালকে চমকে দিলো কঙ্গো

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ১৮ জুন, ২০২৬, ৭:৫৪ পূর্বাহ্ণ
প্রথম বিশ্বকাপ গোলে পর্তুগালকে চমকে দিলো কঙ্গো

ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোর ষষ্ঠ বিশ্বকাপের শুরুটা হলো হতাশায় ঘেরা। ১৯৭৪ সালে জায়ার নামে প্রথম বিশ্বকাপ খেলা ডিআর কঙ্গো ৫২ বছর পর ফিরে তার দল পর্তুগালকে রুখে দিলো। ম্যাচের শুরুতে লিড নেয় পর্তুগিজরা। কিন্তু হাফটাইমের আগে শেষ মুহূর্তে গোল করে সমতা ফেরায় কঙ্গো।

টেক্সাস অঙ্গরাজ্যের হিউস্টন স্টেডিয়ামে ‘কে’ গ্রুপের প্রথম ম্যাচেই বড় চমকের দেখা মিলল। ফিফা র‌্যাঙ্কিংয়ের ৪৬ নম্বরে থাকা কঙ্গো বিশ্বকাপের প্রথম পয়েন্ট পেল তাদের চেয়ে ৪১ ধাপ এগিয়ে থাকা একটি দলের বিপক্ষে। এমনকি বিশ্বকাপের প্রথম পয়েন্ট নিয়েই গ্রুপের শীর্ষে উঠে গেছে আফ্রিকান দেশটি।

বিশ্বকাপের আগে নানা প্রতিকূলতার মধ্য দিয়ে গিয়েছে কঙ্গো। বিশেষ করে দেশে ইবোলা মহামারির কারণে তাদের প্রস্তুতিতে বাধা পড়েছে। তারপরও আন্তর্জাতিক ফুটবলের সবচেয়ে বড় মঞ্চে তাদের দুর্দান্ত এক প্রত্যাবর্তন হলো।

তারা ম্যাচের শুরুর দিকের কঠিন সময়টি কাটিয়ে ওঠে। খেলা যত গড়িয়েছে, তাদের আত্মবিশ্বাস ততই বেড়েছে। হাফটাইমের আগমুহূর্তে সমতাসূচক গোল করার পর দ্বিতীয়ার্ধে তারা ম্যাচটি জিতেও যেতে পারত।

১৯৭৪ সালে একমাত্র বিশ্বকাপে তিন ম্যাচে ১৪ গোল হজম করা দেশটি ইউরোপিয়ান জায়ান্টদের রুখে দিলো। নিশ্চিতভাবে এই ফল তাদের আত্মবিশ্বাস বাড়িয়ে দিলো।

ম্যাচের শুরুতেই লিড নেয় পর্তুগাল। বার্সা ডিফেন্ডার জোয়াও কানসেলোর বিপজ্জনক ক্রসে বল ভেসে যায় পেনাল্টি এরিয়ায়। পেদ্রো নেতো সেখান থেকে হেড ক্রস করেন। পর্তুগালের এই স্কোয়াডের সর্বকনিষ্ঠ খেলোয়াড় জোয়াও নেভেস লাফিয়ে হেড করলেন। ম্যাচ ঘড়িতে তখন সময় ৫ মিনিট ৩২ সেকেন্ড, চলতি বিশ্বকাপে দ্বিতীয় দ্রুততম গোলে এগিয়ে গেল পর্তুগাল।

কিন্তু প্রথমার্ধের নাটকীয় সমাপ্তি ঘটে। কঙ্গো তাদের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপ গোল করে পর্তুগালের বিপক্ষে সমতা ফিরিয়ে আনে ইনজুরি টাইমের পঞ্চম মিনিটে।

ঠিক প্রথমার্ধ শেষের বাঁশি বাজার মুহূর্তে ডিবক্সের মধ্যে সম্পূর্ণ অরক্ষিত থাকা উইসা হেড করে জাল কাঁপালেন। মাসুয়াকুর একটি ক্রস থেকে বল জালে জড়িয়ে কঙ্গোর সমর্থকদের স্বপ্নের রাজ্যে ভাসান তিনি।

কঙ্গোর জন্য এই গোলটি প্রাপ্য ছিল। ম্যাচের কঠিন শুরুর পর ধীরে ধীরে নিজেদের গুছিয়ে নিয়েছিল তারা। পর্তুগাল অবশ্য ম্যাচের শুরুতেই আক্রমণাত্মক খেলেছিল। তবে রবার্তো মার্তিনেসের দল সেই লিড আর বাড়িয়ে নিতে পারেনি। বাকি সময়ে কঙ্গোর গোলপোস্টে এমপাসিওকে খুব একটা কঠিন পরীক্ষার মুখে পড়তে হয়নি।

প্রথমার্ধের সময় যত গড়িয়েছে, এই আফ্রিকান দলটির আত্মবিশ্বাস ততই বেড়েছে। কঙ্গো ১১তম মিনিটে প্রথম আক্রমণে যায়। উইসা জায়গা বের করে লক্ষ্যে শট নেন। অল্পের জন্য গোলপোস্ট ঘেষে বেরিয়ে যায় বল। দুই মিনিট পর আরেকটি সুযোগ। বাকাম্বুর বক্সের প্রান্ত থেকে নেওয়া শট আরাউজো ব্লক করে ফেরান।

এই দুটি আক্রমণেই যেন কঙ্গো চমক দেখানোর আত্মবিশ্বাস পেয়ে যায়। হাফটাইম শেষ করে গোল দিয়ে। বিরতির পর কানসেলো ওভারহেড কিকে কঙ্গোর জালে বল ঠেলেছিলেন, কিন্তু মাঠেই অফসাইডের বাঁশি বাজে। তিন মিনিট পর বাকাম্বু পর্তুগালের পোস্টে আঘাত করেন। ওই শট লক্ষ্যভেদ করলেও গোল হতো না অফসাইডের কারণে।

দলের তারকা ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো পুরো ম্যাচে ছিলেন একেবারে বিবর্ণ। নামের প্রতি সুবিচার করতে পারেননি পাঁচবারের ব্যালন ডি’অর জয়ী। প্রথমার্ধে মাত্র ১৭ বার বলে পা লাগাতে পেরেছেন তিনি, যা দলের অন্য যে কারও চেয়ে কম। পুরো ম্যাচ শেষে তার পাস ছিল ২১টি। শট নিয়েছেন তিনটি। এর মধ্যে ৬৮ ও ৭৪ মিনিটে গোলের সুযোগ তৈরি করেছিলেন। কিন্তু তার শট দুটি ডানপাশের পোস্টের বাইরে দিয়ে যায়।

তার সুযোগ নষ্টের পর বাকাম্বুর একটি শট ক্রসবারের ওপর দিয়ে গেলে কঙ্গোর লিড নেওয়া হয়নি। পুরো ম্যাচে ৭৫ শতাংশ বল দখলে রেখেও পর্তুগাল প্রথম গোলের পর প্রকৃতপক্ষে লক্ষ্যে আর কোনো শট রাখতে পারেনি। সব মিলিয়ে তারা শট নিয়েছে ৭টি, যা বিশ্বকাপের এক ম্যাচে তাদের যৌথভাবে সবচেয়ে কম। ফেভারিট হিসেবে বিশ্বকাপে অংশ নিয়ে প্রথম ম্যাচেই কঠিন পরিস্থিতির শিকার পর্তুগিজরা। অন্যদিকে ড্র করেও জয়ের হাসিই যেন হাসছে কঙ্গো। আগামী বুধবার তাদের প্রতিপক্ষ কলম্বিয়া। মঙ্গলবার উজবেকিস্তানের মুখোমুখি হবে পর্তুগাল।