খুঁজুন
, ,

বাংলাদেশ-ভারত পররাষ্ট্র সচিব পর্যায়ের বৈঠকে চোখ সবার

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Sunday, 8 December, 2024, 11:11 am
বাংলাদেশ-ভারত পররাষ্ট্র সচিব পর্যায়ের বৈঠকে চোখ সবার

‘কূটনৈতিক সম্পর্কের দৃশ্যমান অবনতি’ এবং উভয় দেশের ‘রাজনৈতিক উত্তেজনার’ মধ্যেই সোমবার (৯ ডিসেম্বর) ঢাকায় বৈঠকে বসতে যাচ্ছেন বাংলাদেশ ও ভারতের পররাষ্ট্র সচিব। বৈঠকে বাংলাদেশের পররাষ্ট্র সচিব মো. জসিম উদ্দিন এবং ভারতের পররাষ্ট্র সচিব বিক্রম মিশ্রি নিজ নিজ প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব দেবেন।

বাংলাদেশে শেখ হাসিনার সরকারের পতনের পর অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তীকালীন সরকার ক্ষমতায় আসার পর দুই দেশের মধ্যে এটিই উচ্চ পর্যায়ের প্রথম বৈঠক। বৈঠকটি এমন এক সময়ে অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে যখন বাংলাদেশে সনাতন ধর্মীয় একজন নেতার গ্রেফতারের প্রতিক্রিয়া দেখিয়েছে ভারত, সাথে বাংলাদেশে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের ওপর নিপীড়নের অভিযোগও তুলেছে – আবার কলকাতা ও আগরতলায় বাংলাদেশ হাই কমিশনে হামলার ঘটনা নিয়ে প্রতিবেশী দুই দেশের সম্পর্কে টানাপোড়েন চলছে।

বিশ্লেষকদের অনেকে মনে করেন, পররাষ্ট্র সচিবদের বৈঠক থেকে বড় কিছু অর্জনের সুযোগ না থাকলেও, বিদ্যমান পরিস্থিতিতে দুই দেশ বৈঠক বা আলোচনায় বসেছে- এটাই হবে একটি গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি।

বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র মোহাম্মদ রফিকুল আলম বলেছেন, দুই দেশের মধ্যকার ‘কমন বিষয়’গুলোই আলোচনায় আসবে।

‘সীমান্ত, বাণিজ্য, কানেকটিভিটি, পানির মতো অনেক বিষয় দুই দেশের আলোচনায় সাধারণভাবে থাকে। তবে, এজেন্ডায় শেষ পর্যন্ত কী থাকবে তা নিয়ে সংশ্লিষ্ট উইং কাজ করছে,’ বিবিসি বাংলাকে বলছিলেন তিনি।

সাবেক কূটনীতিক হুমায়ুন কবির বলছেন, এজেন্ডায় যাই থাকুক, সব ধরনের উস্কানি নিরসন করে উত্তেজনা কমিয়ে এনে দুই দেশের সম্পর্ক স্বাভাবিক করার জন্য এবারের এই বৈঠক গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।

প্রসঙ্গত, বাংলাদেশ ও ভারতীয় পররাষ্ট্র সচিবের এই দ্বিপাক্ষিক বৈঠকটি ‘ফরেন অফিস কনসালটেশন (এফওসি) নামে পরিচিত। এটি মূলত দুই দেশের সব বিষয় নিয়েই আলোচনার একটি ফোরাম।

এফওসি বৈঠকে নতুন ইস্যু যেমনি উঠে আসে, তেমনি আগের সিদ্ধান্তগুলো দুই দেশের তরফে কোনটি কতটা বাস্তবায়ন হলো তা নিয়ে পর্যালোচনাও হয়ে থাকে। পাশাপাশি ভবিষ্যতে কোন ক্ষেত্রে কী করা যায় তেমন কিছুও আলোচনা হয় এই ফোরামে।

ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রণধীর জয়সোয়াল তার নিয়মিত ব্রিফিংয়ে বলেছেন, এফওসি বৈঠক হলো বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে একটি কাঠামোবদ্ধ বিষয় এবং ভারতও এ বৈঠকের দিকে তাকিয়ে আছে।

ব্রিফিংয়ে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের একজন নেতা চিন্ময় কৃষ্ণ দাসের বিষয়ে এক প্রশ্নের জবাবে মি. জয়সোয়াল বলেছেন ‘আইনি অধিকারের প্রতি শ্রদ্ধা এবং সুষ্ঠু ও স্বচ্ছ বিচারের বিষয়টি ভারত আবারও উল্লেখ করছে’।

বৈঠকটি নিয়ে এত আলোচনা কেন

ফরেন অফিস কনসালটেশন (এফওসি) বৈঠক একটি নিয়মিত ও স্বাভাবিক কূটনৈতিক কার্যক্রম হলেও বিভিন্ন কারণে এবারের বৈঠকটি অতিরিক্ত আগ্রহ তৈরি করেছে।

বৈঠকটির বিষয়ে গত বুধবার পররাষ্ট্র উপদেষ্টা তৌহিদ হোসেন সাংবাদিকদের বলেছেন, ‘এটা খুবই স্পষ্ট, আমরা চাই ভালো সম্পর্ক। তবে সেটা ‘রেসিপ্রোকাল’ হতে হবে, দুই পক্ষকেই চাইতে হবে এবং সে লক্ষ্যে কাজ করতে হবে।’

মূলত শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর ‘সংখ্যালঘু ইস্যুতে’ দুই দেশের সম্পর্কের দৃশ্যমান অবনতি হয়েছে। এবং সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোর ঘটনাপ্রবাহ দুই দেশের মধ্যে যে উত্তেজনা সৃষ্টি করেছে – তাতে এই বৈঠকে কী আলোচনা হয়, এবং এখান থেকে নতুন কোন দিকে পরিস্থিতি মোড় নেয় কী-না তা নিয়ে আগ্রহ আছে মানুষের মনে।

সর্বশেষ গত দুই সপ্তাহের মধ্যে পাল্টাপাল্টি বক্তব্য বিবৃতি ছাড়াও বাংলাদেশে সনাতম ধর্মাবলম্বীদের একজন নেতা চিন্ময় কৃষ্ণ দাসকে ‘রাষ্ট্রদ্রোহিতার অভিযোগ করে’ গ্রেফতারের ঘটনার জের ধরে ভারতের আগরতলায় বাংলাদেশ হাই কমিশনে হামলার ঘটনায় উত্তেজনাকর পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে দুই দেশের সম্পর্কের ক্ষেত্রে।

এ ঘটনায় ভারতীয় রাষ্ট্রদূত প্রণয় ভার্মাকে গত মঙ্গলবার ঢাকায় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে ডেকে প্রতিবাদ জানিয়েছে বাংলাদেশ। ইতোমধ্যে ভারতের কলকাতা ও আগরতলায় বাংলাদেশের কূটনৈতিক মিশনের প্রধানরা পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নির্দেশে বৃহস্পতিবার ঢাকায় ফিরে এসেছেন।

এদিকে, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বৈঠকের পর প্রণয় ভার্মা সাংবাদিকদের বলেছিলেন যে, কোনো নির্দিষ্ট একটি ইস্যুকে কেন্দ্র করে বাংলাদেশ ও ভারতের সম্পর্ক মূল্যায়ন করা যাবে না।

‘আমরা আমাদের আলোচনা চলমান রাখবো। বৈঠক তারই একটা অংশ। আমাদের বিস্তৃত সম্পর্ক রয়েছে, পারস্পরিক স্বার্থ-সংশ্লিষ্ট সম্পর্ক রয়েছে,’ বলছিলেন তিনি।

বাংলাদেশ সরকারের কয়েকজন উপদেষ্টাও ভারতের নাম উল্লেখ করে নানা মন্তব্য করেছেন, যা ব্যাপকভাবে আলোচনায় এসেছে। বাংলাদেশে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমেও ভারত বিরোধী প্রচারণা লক্ষ্য করা যাচ্ছে।

আবার বাংলাদেশে সংখ্যালঘুদের ব্যাপকভাবে নির্যাতন করা হচ্ছে- ভারতীয় মিডিয়ায় এমন প্রচারেও ক্ষোভ প্রকাশ করা হচ্ছে বাংলাদেশে। বাংলাদেশ সরকারও এ ধরনের খবর সত্য নয় বলে দাবি করেছে।

প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস বুধবার দেশের সব রাজনৈতিক দল এবং বৃহস্পতিবার ধর্মীয় নেতাদের সঙ্গে এ নিয়ে বৈঠক করেছেন।

আবার শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর এবারের আন্দোলনের সঙ্গে জড়িত নেতাদের পক্ষ থেকে ভারতকে নিয়ে যেসব বক্তব্য বিবৃতি এসেছে, তাতে ভারতের দিক থেকেও নিরাপত্তা ইস্যুতে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে বলে অনেকে ধারণা করছেন।

সাবেক কূটনীতিক হুমায়ুন কবির বলছেন, সব মিলিয়েই দুই দেশের মধ্যে ‘সম্পর্কের শীতলতা’ কিংবা ‘উত্তেজনা’ তৈরি হয়েছে।

‘এখন বৈঠকে যদি এই উত্তেজনা কমিয়ে আনতে দুই দেশ একমত হতে পারে, তাহলেও তো সম্পর্ক স্বাভাবিক করার দিকে অগ্রসর হওয়া যায়। সেটিই হওয়া উচিত,’ বিবিসি বাংলাকে বলছিলেন তিনি।

তবে, ঢাকায় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা যে ধারণা দিয়েছেন তাতে ভারতে অবস্থানরত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বিষয়টি আলোচনায় আসবে কী-না তা এখনো নিশ্চিত নয়।

যদিও ভারতে অবস্থান করে শেখ হাসিনার বক্তব্য বিবৃতি নিয়ে বাংলাদেশের প্রধান উপদেষ্টা স্বয়ং বিভিন্ন সাক্ষাতকারে উষ্মা প্রকাশ করেছেন।

গত সপ্তাহে শেখ হাসিনা যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে আওয়ামী লীগ আয়োজিত একটি অনুষ্ঠানে ভার্চুয়ালি যোগ দিয়েছেন। লন্ডনেও একটি অনুষ্ঠানে তার টেলিফোনে অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে।

এমন পরিস্থিতিতে ভারতে অবস্থান করে শেখ হাসিনার বিবৃতি দেওয়ার বিষয়টিতে বাংলাদেশের সরকারের আপত্তির বিষয়টি আলোচনায় আসতে পরে বলে অনেকে মনে করছেন।

একই সাথে বাংলাদেশের পক্ষ থেকে ভারতীয় গণমাধ্যম ও কিছু রাজনৈতিক দলের সংখ্যালঘু ইস্যুতে ‘অপতথ্য প্রচার’ এর বিষয়টিতেও ভারতীয়দের দৃষ্টি আকর্ষণের বিষয়টি আলোচনায় থাকবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

তবে, শেখ হাসিনার প্রত্যর্পণ বা এমন কিছু এই আলোচনায় আসার সুযোগ নেই। কারণ বাংলাদেশ কর্তৃপক্ষ আগেই বলেছে, বিচারিক আদালতে শেখ হাসিনা বিরুদ্ধে করা মামলার যে বিচার চলছে, তার রায় হবার পরেই তারা এ বিষয়ে ভারতের সাথে আলোচনা করবে।

আলোচনায় কী কী আসতে পারে

পররাষ্ট্র সচিব পর্যায়ের এ বৈঠকে আলোচনার জন্য প্রাথমিক এজেন্ডা ঠিক করে থাকে দুই দেশের সংশ্লিষ্ট শাখাগুলো। আবার আলোচনার সময় অনেক ক্ষেত্রে নতুন নতুন বিষয়ও উঠে আসে। তবে ঠিক কী নিয়ে আলোচনা হবে তা সম্পর্কে এখনো নিশ্চিত এজেন্ডা ঘোষণা বা প্রকাশ করেনি কোনো পক্ষই।

কর্মকর্তারা যে ধারণা দিচ্ছেন তা হলো, বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে উচ্চ পর্যায়ের যেকোনো আলোচনায় কয়েকটি বিষয়টি নিয়মিত আলোচনায় আসে। বাংলাদেশ যেমন অভিন্ন নদীর পানি বণ্টন কিংবা আরও বিশেষ ভাবে তিস্তাসহ কিছু নদীর পানির বিষয়টি উল্লেখ করে থাকে।

এর বাইরে বাণিজ্য ঘাটতি কমিয়ে আনা ও সীমান্ত পরিস্থিতিও গুরুত্ব পেয়ে থাকে।

পাশাপাশি গত ৫ আগস্ট সরকার পরিবর্তনের পর বাংলাদেশে ভিসা কার্যক্রম অনেকটাই বন্ধ করে রেখেছে ভারত। বৈঠকে এ বিষয়টিও উঠে আসবে বলে মনে করা হচ্ছে।

তবে এর বাইরেও যে বিষয়টির দিকে সবার নজর থাকবে সেটি হলো- সংখ্যালঘু ইস্যুকে ঘিরে দুই দেশ তাদের নিজেদের অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করে কী-না কিংবা কীভাবে করে।

বাংলাদেশে অন্তর্বর্তী সরকার দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকেই ভারত বাংলাদেশে সংখ্যালঘু নির্যাতনের নিয়ে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়ার কথা বলে আসছে।

অন্যদিকে, বাংলাদেশ সরকার সংখ্যালঘু নির্যাতনের অভিযোগ সত্যি নয় বলে মনে করে এবং তারা মনে করে ভারতীয় গণমাধ্যম ও কিছু রাজনৈতিক দল এ বিষয়ে অপপ্রচার ও অতিরঞ্জন করছে।

সাবেক রাষ্ট্রদূত হুমায়ুন কবির বলছেন, ভারতের সরকারি দলের লোকজনকেই বাংলাদেশ নিয়ে বেশি কথা বলতে দেখা যাচ্ছে।

‘এখন দুই দেশ যদি একমত হয় যে উত্তেজনা কমিয়ে আনা হবে – তাহলেই সম্পর্কের শীতলতা কাটিয়ে ওঠার সুযোগ তৈরি হবে।’

প্রসঙ্গত, পররাষ্ট্র সচিব বিক্রম মিশ্রি কাল সোমবারই ঢাকায় এসে সচিব পর্যায়ের বৈঠকে অংশ নেবেন। সফরকালে তিনি পররাষ্ট্র উপদেষ্টার সাথেও সাক্ষাত করবেন। তবে প্রধান উপদেষ্টার সাথে তার সাক্ষাৎ চূড়ান্ত হয়েছে কী-না সেটি এখনো জানা যায়নি।

Feb2
Feb2

৪১ ওয়ার্ডে ৪১টি খেলার মাঠ গড়ার অঙ্গীকার বাস্তবায়নে কাজ চলছে: মেয়র

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Saturday, 10 October, 2026, 1:05 pm
৪১ ওয়ার্ডে ৪১টি খেলার মাঠ গড়ার অঙ্গীকার বাস্তবায়নে কাজ চলছে: মেয়র

চট্টগ্রাম নগরীর ৪১টি ওয়ার্ডে ৪১টি খেলার মাঠ গড়ে তোলার অঙ্গীকার বাস্তবায়নে কাজ করে যাচ্ছেন বলে জানিয়েছেন চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন। তিনি বলেন, মেয়র হিসেবে শপথ গ্রহণের পর নগরীর প্রতিটি ওয়ার্ডে খেলার মাঠ গড়ে তোলার অঙ্গীকার করেছিলেন। সেই লক্ষ্যে ইতোমধ্যে ১১টি মাঠের উন্নয়ন ও প্রস্তুতকরণের কাজ সম্পন্ন হয়েছে। আরও কয়েকটি মাঠের উন্নয়নকাজ চলমান রয়েছে।

শনিবার কল্পলোক আবাসিক এলাকার ১ নম্বর খেলার মাঠ ও পার্ক সংস্কারকাজের উদ্বোধন এবং আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। কল্পলোক মডেল মসজিদ চত্বর মাঠ প্রাঙ্গণে কল্পলোক আবাসিক সমাজকল্যাণ সমিতি (১ম পর্যায়) এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে।

মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন বলেন, “মেয়র হিসেবে শপথ গ্রহণের পর আমি অঙ্গীকার করেছিলাম, চট্টগ্রাম নগরীর ৪১টি ওয়ার্ডে ৪১টি খেলার মাঠ গড়ে তুলব। সেই অঙ্গীকার বাস্তবায়নে ইতোমধ্যে ১১টি মাঠের উন্নয়ন ও প্রস্তুতকরণের কাজ সম্পন্ন হয়েছে। হালিশহর এইচ ব্লক মাঠ, হালিশহর বহুরূপী মাঠ, ফিরোজশাহ মাঠ, হালিশহর এস ব্লক মাঠ (বি ব্লক সংলগ্ন) এবং হালিশহর বিডিআর মাঠসহ বেশ কয়েকটি মাঠ উন্নয়ন করে খেলার উপযোগী করা হয়েছে।”

তিনি আরও বলেন, বর্তমানে হালিশহর শিশু পার্ক মাঠ, হাজী মোহাম্মদ মহসীন কলেজ মাঠ, বাকলিয়া স্টেডিয়াম ও বাকলিয়া স্কুল মাঠের উন্নয়নকাজ চলমান রয়েছে। অন্যদিকে, আগ্রাবাদ জাম্বুরি মাঠের উন্নয়নকাজ শেষ পর্যায়ে রয়েছে। নগরীর অন্যান্য ওয়ার্ডেও নতুন খেলার মাঠ গড়ে তোলার লক্ষ্যে ডিপিপি (উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাব) প্রস্তুতসহ প্রয়োজনীয় কার্যক্রম এগিয়ে চলছে।

খেলাধুলার সামাজিক গুরুত্ব তুলে ধরে মেয়র বলেন, “আমি বিশ্বাস করি, খেলাধুলা শুধু বিনোদনের মাধ্যম নয়, বরং সুস্থ দেহ ও সুস্থ মন গঠনের অন্যতম হাতিয়ার। শিশু-কিশোর ও তরুণদের জন্য পর্যাপ্ত খেলাধুলার সুযোগ নিশ্চিত করা গেলে মাদকাসক্তি, সন্ত্রাস ও কিশোর গ্যাংয়ের মতো সামাজিক সমস্যার বিরুদ্ধে কার্যকর প্রতিরোধ গড়ে তোলা সম্ভব। তাই প্রতিটি ওয়ার্ডে খেলার মাঠ গড়ে তোলা আমাদের ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ বিনিয়োগ।”

তিনি বলেন, “ইনশাআল্লাহ, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জনাব তারেক রহমানের নির্দেশনা অনুযায়ী, চট্টগ্রাম নগরীর ৪১টি ওয়ার্ডে ৪১টি খেলার মাঠ গড়ে তোলার অঙ্গীকার বাস্তবায়নে আমি নিরলসভাবে কাজ করে যাব। আমাদের লক্ষ্য, খেলাধুলার সুযোগ সম্প্রসারণের মাধ্যমে একটি সুস্থ, সুন্দর ও নিরাপদ চট্টগ্রাম গড়ে তোলা।”

অনুষ্ঠানে কল্পলোক আবাসিক সমাজকল্যাণ সমিতি (১ম পর্যায়)-এর সভাপতি এম. আব্দু শুক্কুর সভাপতিত্ব করেন। এতে মুখ্য উদ্বোধক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রাম-৯ আসনের সংসদ সদস্য আবু সুফিয়ান। সংস্কারকাজের উদ্বোধন করেন চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (সিডিএ) চেয়ারম্যান প্রকৌশলী বেলায়েত হোসেন। এ ছাড়া উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক আনোয়ার হোসেন লিপু, স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ এবং আবাসিক এলাকার বাসিন্দারা।

অনুষ্ঠানে বক্তারা কল্পলোক আবাসিক এলাকার খেলার মাঠ ও পার্ক সংস্কারের উদ্যোগকে স্বাগত জানান। তাঁরা বলেন, মাঠ ও পার্কের উন্নয়ন এলাকার শিশু-কিশোর, তরুণ এবং সাধারণ বাসিন্দাদের খেলাধুলা, শরীরচর্চা ও সুস্থ বিনোদনের সুযোগ বাড়াবে। পাশাপাশি এসব উন্মুক্ত স্থান সংরক্ষণ ও নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণের ওপরও গুরুত্বারোপ করেন তাঁরা।

কল্পলোকের খেলার মাঠ ও পার্ক সংস্কারের এ উদ্যোগ নগরীতে পরিকল্পিত উন্মুক্ত স্থান সম্প্রসারণ এবং নাগরিকদের জীবনমান উন্নয়নের ধারাবাহিক প্রচেষ্টার অংশ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

অনুষ্ঠানে কল্পলোক আবাসিক সমাজকল্যাণ সমিতির (১ম পর্যায়) সভাপতি এম. এ. শুক্কুরের সভাপতিত্বে বক্তব্য রাখেন আবদুল্লাহ আল হারুন, অ্যাডভোকেট আজিজুল হক, আমির হক ও মোহাম্মদ আবুল হোসাইন। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন আলী আকবর।

ভারতের দেওয়া ২৫০ রানের লক্ষ্যকে মামুলি বানিয়ে জিতল ক্যারিবীয়রা

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Saturday, 10 October, 2026, 7:04 am
ভারতের দেওয়া ২৫০ রানের লক্ষ্যকে মামুলি বানিয়ে জিতল ক্যারিবীয়রা

লক্ষ্য ২৫০ রান। ১৮ ওভার শেষে ওয়েস্ট ইন্ডিজের সংগ্রহ ৪ উইকেটে ২৪০। ভারতের বিপক্ষে রাঁচিতে দ্বিতীয় টি-টুয়েন্টিতে জয় পেতে শেষ দুই ওভারে ক্যারিবীয়দের প্রয়োজন ছিল মাত্র ১০ রান। একই ব্যবধান ছিল সেঞ্চুরি থেকেও দূরত্বে থাকা অধিনায়ক শাই হোপের। অক্ষর প্যাটেলের করা ১৯তম ওভারের প্রথম ও তৃতীয় বলে ছক্কা হাঁকিয়ে দলকে জেতানোর পাশাপাশি শতকও পূর্ণ করেন তিনি।

অক্ষরের ওভারের প্রথম বলটি ডিপ মিডউইকেট দিয়ে সীমানাছাড়া করেন হোপ। পরের বলটি এক্সট্রা কাভারে ঠেলে দিলেও রান নেননি ওয়েস্ট ইন্ডিজ অধিনায়ক। তৃতীয় বলে ওয়াইড লং অন দিয়ে ছক্কা মেরে সেঞ্চুরি ও জয়—দুটিই একসঙ্গে উদ্‌যাপন করেন তিনি। মাত্র ৪৫ বলে শতক পূর্ণ করা হোপের দুর্দান্ত ইনিংসে ৯ বল হাতে রেখেই ৬ উইকেটে জয় পায় ওয়েস্ট ইন্ডিজ।

এই জয়ে পাঁচ ম্যাচের টি-টুয়েন্টি সিরিজে ১-১ সমতা ফিরিয়েছে ক্যারিবীয়রা। আন্তর্জাতিক টি-টুয়েন্টিতে রান তাড়া করে জয়ের ইতিহাসে এটি দ্বিতীয় সর্বোচ্চ সংগ্রহের লক্ষ্য অতিক্রম করার ঘটনা।

আন্তর্জাতিক টি-টুয়েন্টিতে রান তাড়ার বিশ্ব রেকর্ডের ম্যাচেও ছিল ওয়েস্ট ইন্ডিজ। তবে ২০২৩ সালে সেঞ্চুরিয়ানে সেই রেকর্ড গড়েছিল তাদের প্রতিপক্ষ দক্ষিণ আফ্রিকা। ২৫৯ রানের লক্ষ্য পেরিয়ে ম্যাচটি জিতেছিল স্বাগতিকেরা।

রাঁচিতে আজকের ম্যাচের শুরুতে অবশ্য ওয়েস্ট ইন্ডিজের এমন দাপুটে জয়ের আভাস পাওয়া যায়নি। ভারতের পেসার মায়াঙ্ক যাদব প্রথম ওভারের চতুর্থ বলেই ক্যারিবীয়দের স্কোর ৫ রানে ২ উইকেটে নামিয়ে দেন। এরপর রোভম্যান পাওয়েলকে সঙ্গে নিয়ে তৃতীয় উইকেটে ২৭ বলে ৫৩ রানের জুটি গড়েন হোপ। পাওয়েল ১৩ বলে ২৪ রান করে ফিরলে ক্রিজে আসেন শেরফান রাদারফোর্ড।

রাদারফোর্ডকে নিয়ে পরের ৯ ওভারে ১২০ রান যোগ করেন হোপ। ৩৭ বলে ৭টি ছক্কায় ৮৪ রান করে রাদারফোর্ড যখন আউট হন, তখনও জয়ের জন্য ওয়েস্ট ইন্ডিজের প্রয়োজন ছিল ৩৫ বলে ৭২ রান।

সেই চাপ সামলে শেষ পর্যন্ত দলকে জয়ের বন্দরে পৌঁছে দেন হোপ। রোমারিও শেফার্ডের সঙ্গে তাঁর জুটিতে মাত্র ২৬ বলে আসে ৭৪ রান। শেফার্ডও ছিলেন আক্রমণাত্মক; ১৩ বলে ৩৪ রান করে অপরাজিত থাকেন তিনি।

আন্তর্জাতিক টি-টুয়েন্টিতে এটি হোপের দ্বিতীয় সেঞ্চুরি। তাঁর ৪৫ বলের ইনিংসটি সাজানো ছিল ৬টি চার ও ৯টি ছক্কায়। এর আগে গত বছর ঘরের মাঠে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ১০২ রানের অপরাজিত ইনিংস খেলেছিলেন এই ক্যারিবীয় অধিনায়ক।

এর আগে ব্যাটিংয়ে নেমে ভারত নির্ধারিত ২০ ওভারে ৫ উইকেটে ২৪৯ রান তোলে। দলের হয়ে সর্বোচ্চ ৮২ রান করেন ওপেনার সঞ্জু স্যামসন। ৪১ বলের ইনিংসে ৯টি চার ও ৪টি ছক্কা মারেন তিনি।

এ ছাড়া তিলক বর্মা ১৮ বলে অপরাজিত ৪৪, ঈশান কিষান ২২ বলে ৪৩ এবং অধিনায়ক শ্রেয়াস আইয়ার ১৮ বলে ৪০ রান করেন। ভারতের বড় সংগ্রহও শেষ পর্যন্ত জয়ের জন্য যথেষ্ট হয়নি হোপের দুর্দান্ত ব্যাটিংয়ের সামনে।

 

জলাবদ্ধতা নিরসনে সামষ্টিক সমাধান নিশ্চিত করা হবে: অর্থমন্ত্রী

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Friday, 9 October, 2026, 7:24 pm
জলাবদ্ধতা নিরসনে সামষ্টিক সমাধান নিশ্চিত করা হবে: অর্থমন্ত্রী

চট্টগ্রাম মহানগরীর জলাবদ্ধতা নিরসনে চলমান প্রকল্পগুলোর সমন্বিত বাস্তবায়ন, খালের দুই পাড়ে হাঁটার পথ ও সাইকেল ট্র্যাক নির্মাণ এবং সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর নিয়মিত সমন্বয় ও পর্যালোচনার ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী।

তিনি বলেন, বিচ্ছিন্নভাবে ছোট ছোট প্রকল্প বাস্তবায়নের পরিবর্তে নগরীর জলাবদ্ধতা সমস্যার স্থায়ী সমাধানে সামষ্টিক পরিকল্পনা গ্রহণ করতে হবে।

শুক্রবার বিকেলে টাইগারপাসস্থ চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন (চসিক) কার্যালয়ের সম্মেলন কক্ষে চট্টগ্রাম মহানগরীর জলাবদ্ধতা নিরসনে করণীয় নির্ধারণে সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে আয়োজিত মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় বক্তব্য রাখেন চট্টগ্রাম-৮ আসনের সংসদ সদস্য আলহাজ্ব এরশাদ উল্লাহ, চট্টগ্রাম-৯ আসনের সংসদ সদস্য মোহাম্মদ আবু সুফিয়ান, সিডিএ চেয়ারম্যান প্রকৌশলী বেলায়েত হোসেন, সেনাবাহিনীর ৩৪ ইঞ্জিনিয়ার কন্সট্রাকশন বিগ্রেডের বিগ্রেড কমান্ডার বিগ্রেডিয়ার জেনারেল শামসুল আলম শামস, চট্টগ্রাম ওয়াসার ব্যবস্থাপনা পরিচালক প্রকৌশলী সেলিম মোহাম্মদ জানে আলম, জেলা প্রশাসক জাহিদুল ইসলাম মিঞা।

অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী বলেন, চট্টগ্রাম মহানগরীর জলাবদ্ধতা সমস্যার বিভিন্ন দিক নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। ইতোমধ্যে বাস্তবায়িত কাজগুলো পর্যালোচনার পাশাপাশি যেসব কাজ এখনো বাকি রয়েছে, সেগুলো দ্রুত সম্পন্ন করার বিষয়ে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে আলোচনা করা হয়েছে।

তিনি বলেন, বিভিন্ন সময়ে নগরীর জলাবদ্ধতা নিরসনে একাধিক প্রকল্প নেওয়া হলেও সামগ্রিক পরিকল্পনা ও সমন্বয়ের অভাবে প্রত্যাশিত ফল পাওয়া কঠিন হয়ে পড়ে। একটি প্রকল্পের কাজ শেষ হওয়ার আগেই অন্য এলাকায় নতুন সমস্যা তৈরি হতে পারে। তাই বিচ্ছিন্ন উদ্যোগের পরিবর্তে সমন্বিত পরিকল্পনার মাধ্যমে জলাবদ্ধতা সমস্যার কার্যকর সমাধান নিশ্চিত করতে হবে।

তিনি বলেন, নগরীর বড় খালগুলোর উন্নয়নের পাশাপাশি খালের দুই পাড়ে মানুষের হাঁটাচলার উপযোগী পথ তৈরির পরিকল্পনা রয়েছে। যেখানে সুযোগ রয়েছে, সেখানে সাইকেল ট্র্যাক নির্মাণের বিষয়টিও চলমান ও ভবিষ্যৎ প্রকল্পে অন্তর্ভুক্ত করা হবে। এর মাধ্যমে জলাবদ্ধতা নিরসনের পাশাপাশি নগরবাসীর হাঁটাচলা, সাইকেল চালানো, শরীরচর্চা ও অবসর কাটানোর সুযোগ সৃষ্টি হবে। খালকেন্দ্রিক উন্নয়নকে শুধু পানি নিষ্কাশনের মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে নগরবাসীর জীবনযাত্রার মান উন্নয়ন এবং পরিবেশবান্ধব নগর গড়ে তোলার অংশ হিসেবে বিবেচনা করতে হবে।

নগরীর পরিবেশ ও সৌন্দর্য বৃদ্ধিতে বৃক্ষরোপণের ওপর গুরুত্বারোপ করে মন্ত্রী বলেন, যেখানে সুযোগ রয়েছে, সেখানে গাছ লাগাতে হবে। বৃক্ষরোপণ নগরীর সৌন্দর্য বৃদ্ধির পাশাপাশি পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা এবং বায়ুদূষণ কমাতে সহায়ক হবে। জলাবদ্ধতা নিরসন, সবুজায়ন, হাঁটার পথ ও সাইকেল ট্র্যাক, সবকিছুকে সমন্বিতভাবে বিবেচনায় নিয়ে চট্টগ্রামকে আরও বাসযোগ্য নগরীতে পরিণত করার উদ্যোগ নিতে হবে।

মন্ত্রী আরও বলেন, চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন, চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (সিডিএ), পানি উন্নয়ন বোর্ড, চট্টগ্রাম ওয়াসা, বন্দর কর্তৃপক্ষসহ সংশ্লিষ্ট সব প্রতিষ্ঠানকে নিয়মিত সমন্বয় ও পর্যালোচনার মাধ্যমে কাজ করতে হবে। এ লক্ষ্যে প্রতি মাসে কাজের অগ্রগতি পর্যালোচনা করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। নিয়মিত সমন্বয় নিশ্চিত করা গেলে প্রকল্প বাস্তবায়নে অর্থের অপচয় কমবে, কাজের গতি বাড়বে এবং নগরবাসীর দৈনন্দিন দুর্ভোগ কমিয়ে আনা সম্ভব হবে।

সভায় চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন বলেন, নগরীর নালা খাল পরিষ্কার ও জলাবদ্ধতা নিরসনে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোকে সঙ্গে নিয়ে সমন্বিতভাবে কাজ করা হচ্ছে। বর্ষার আগে নালা ও খালের উন্নয়ন ও পরিষ্কার কার্যক্রমের জন্য ৪৫ কোটি টাকা বরাদ্দ দেওয়ায় তিনি অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানান।

মেয়র বলেন, জলাবদ্ধতা নিরসনে সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর সমন্বয় নিশ্চিত করতে ইতোমধ্যে একাধিক সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। ভবিষ্যতেও এ কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে। যেসব খালের উন্নয়নকাজ সম্পন্ন হয়েছে, সেগুলো চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের কাছে হস্তান্তরের পর প্রয়োজনীয় প্রযুক্তিগত সহায়তা ও রক্ষণাবেক্ষণ কার্যক্রম সমন্বিতভাবে পরিচালনার পরিকল্পনা রয়েছে।

তিনি বলেন, চট্টগ্রাম মহানগরীতে মোট ১৩০টি খাল চিহ্নিত করা হয়েছে। এর মধ্যে কয়েকটি খালের কাজ ইতোমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে এবং আরও ৪১টি খাল উন্নয়নের জন্য প্রকল্প প্রণয়নের কাজ চলছে। প্রয়োজন অনুযায়ী অবশিষ্ট খালগুলোর উন্নয়নেও উদ্যোগ নেওয়া হবে। জলাবদ্ধতামুক্ত, পরিচ্ছন্ন ও পর্যটনবান্ধব চট্টগ্রাম গড়ে তুলতে খালগুলোর উন্নয়ন, নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণ এবং সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর সমন্বিত উদ্যোগ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

মেয়র জানান, বিমানবন্দর এলাকায় ২ দশমিক ২ কিলোমিটারের বেশি দীর্ঘ সাইকেল ট্র্যাক নির্মাণ করা হয়েছে, যা দেশের প্রথম সাইকেল ট্র্যাক হিসেবে উল্লেখ করেন তিনি। ভবিষ্যতে খালকেন্দ্রিক উন্নয়ন প্রকল্পের সঙ্গে হাঁটার পথ ও সাইকেল ট্র্যাক যুক্ত করার পরিকল্পনাও রয়েছে। এর মাধ্যমে জলাবদ্ধতা নিরসনের পাশাপাশি নগরীর সৌন্দর্য বৃদ্ধি এবং নাগরিকদের চলাচলের সুযোগ সম্প্রসারিত হবে।

চট্টগ্রাম-৮ আসনের সংসদ সদস্য আলহাজ্ব এরশাদ উল্লাহ বলেন, আমার নির্বাচনী এলাকার কিছু স্থানে ভারী বৃষ্টিপাতের পর দীর্ঘ সময় পানি জমে থাকার পেছনে ড্রেনেজ ব্যবস্থার প্রতিবন্ধকতা ও পানি নিষ্কাশনের সীমাবদ্ধতা রয়েছে।

তিনি বলেন, জলাবদ্ধতা নিরসনে ড্রেনেজ ব্যবস্থা, খাল এবং পানি সংরক্ষণের স্থানগুলোকে সমন্বিতভাবে ব্যবস্থাপনার আওতায় আনতে হবে। পাশাপাশি পানি নিষ্কাশনের পথে প্রতিবন্ধকতা দূর করা এবং প্রয়োজনীয় অবকাঠামো নির্মাণে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে।

সভায় চট্টগ্রাম-৯ আসনের সংসদ সদস্য মোহাম্মদ আবু সুফিয়ান বলেন, চট্টগ্রাম নগরীর জলাবদ্ধতা নিরসনে সংশ্লিষ্ট সব সংস্থার মধ্যে সমন্বয় আরও বাড়াতে হবে। সিডিএ, চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন, পানি উন্নয়ন বোর্ড, চট্টগ্রাম ওয়াসাসহ সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোকে নিজ নিজ দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে। তাহলেই চলমান প্রকল্পগুলোর সুফল দীর্ঘমেয়াদে ধরে রাখা সম্ভব হবে।

চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (সিডিএ) চেয়ারম্যান প্রকৌশলী বেলায়েত হোসেন বলেন, নগরীর জলাবদ্ধতা নিরসনে বিচ্ছিন্ন প্রকল্পের পরিবর্তে সমন্বিত ও সামষ্টিক সমাধান নিশ্চিত করা জরুরি। চট্টগ্রাম মহানগরীর ১৩০টি খালের মধ্যে ৩৭টি সংস্কার করা হয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, পানি প্রবাহ স্বাভাবিক রাখা এবং ড্রেনেজ ব্যবস্থার কার্যকারিতা নিশ্চিত করতে অবশিষ্ট খালগুলোতেও প্রয়োজন অনুযায়ী সংস্কারকাজ করতে হবে।

তিনি বলেন, নগরীতে স্থাপিত স্লুইসগেট ও রেগুলেটরগুলোর কার্যকর পরিচালনা ও রক্ষণাবেক্ষণ নিশ্চিত করতে বিশেষ প্রকল্প গ্রহণ করা প্রয়োজন। এ ক্ষেত্রে দক্ষ প্রকৌশল প্রতিষ্ঠানকে আউটসোর্সিংয়ের মাধ্যমে দায়িত্ব দেওয়ার বিষয়টিও বিবেচনা করা যেতে পারে।

আউটার রিং রোড প্রকল্পের অগ্রগতি তুলে ধরে সিডিএ চেয়ারম্যান বলেন, কালুরঘাট পর্যন্ত প্রকল্পের প্রথম ও দ্বিতীয় পর্যায়ের কাজ ডিসেম্বরের মধ্যে শেষ করার আশা করা হচ্ছে। প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে নদীর তীরবর্তী এলাকার সৌন্দর্য বৃদ্ধি এবং নগরবাসীর বিনোদনের সুযোগ সম্প্রসারিত হবে।

সেনাবাহিনীর ৩৪ ইঞ্জিনিয়ার কন্সট্রাকশন বিগ্রেডের বিগ্রেড কমান্ডার বিগ্রেডিয়ার জেনারেল শামছুল আলম শামস বলেন, চট্টগ্রামের জলাবদ্ধতা নিরসনে চলমান প্রকল্প প্রায় শেষের পথে। প্রকল্পটি শেষ হলে নগরীর জলাবদ্ধতা অনেকাংশে হ্রাস পাবে। তবে, প্রকল্পের বাহিরে থাকা খালগুলোও খনন করতে হবে এবং সংস্কারের পর রক্ষণাবেক্ষণে জোর দিতে হবে।

জেলা প্রশাসক জাহিদুল ইসলাম মিঞা বলেন, চট্টগ্রাম মহানগরীর জলাবদ্ধতা নিরসনে পাম্প ও স্লুইসগেট স্থাপন করলেই হবে না, এগুলোর কার্যকর পরিচালনা ও নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণ নিশ্চিত করতে হবে। সাম্প্রতিক বন্যায় সাতকানিয়া ও বাঁশখালীতে মানুষ ও যানবাহনের আশ্রয়ের উপযোগী উঁচু জায়গার সংকট দেখা গেছে। এ পরিস্থিতি মোকাবিলায় প্রতিটি ইউনিয়নে অন্তত এক কিলোমিটার রাস্তা তুলনামূলক উঁচু করে নির্মাণের প্রস্তাব দেন তিনি। তাঁর মতে, এ ধরনের অবকাঠামো বন্যার সময় মানুষ ও গবাদিপশুর আশ্রয়স্থল হিসেবে ব্যবহার করা যেতে পারে। পাশাপাশি প্রয়োজন অনুযায়ী হেলিকপ্টার অবতরণ এবং সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থার সুযোগও রাখা যেতে পারে। এ বিষয়ে মন্ত্রিপরিষদে সুপারিশ পাঠানো হয়েছে বলেও জানান জেলা প্রশাসক।

চট্টগ্রাম ওয়াসার ব্যবস্থাপনা পরিচালক প্রকৌশলী সেলিম মোহাম্মদ জানে আলম বলেন, নগরীর জলাবদ্ধতা নিরসনে স্লুইসগেট ও রেগুলেটর পরিচালনা এবং রক্ষণাবেক্ষণের জন্য দক্ষ প্রকৌশল প্রতিষ্ঠানকে আউটসোর্সিংয়ের মাধ্যমে দায়িত্ব দেওয়া যেতে পারে। সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর রক্ষণাবেক্ষণ সক্ষমতা বিবেচনায় নিয়ে কার্যকর ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দেন তিনি।

জলাবদ্ধতা নিরসনে নগরীর দুপাশে অন্তত দুটি সংযোগকারী ‘ক্রস খাল’ নির্মাণের প্রস্তাব দিয়ে ওয়াসার ব্যবস্থাপনা পরিচালক বলেন, মহেশখাল সম্প্রসারণসহ এ ধরনের খাল নির্মাণ ও সংযোগ নিশ্চিত করা গেলে পানি নিষ্কাশনের সক্ষমতা বাড়তে পারে। পাশাপাশি নৌচলাচলের সুযোগও সৃষ্টি হতে পারে। তিনি আরও বলেন, খালের পানিপ্রবাহ বাধাগ্রস্ত হওয়া রোধে ভবিষ্যতে সেতু নির্মাণের ক্ষেত্রে আর্চ ব্রিজের নকশা বিবেচনা করা প্রয়োজন।

নগরীর পয়োনিষ্কাশন ব্যবস্থার উন্নয়ন প্রসঙ্গে তিনি জানান, হালিশহরে সুয়ারেজ প্রকল্পের কাজ আগামী বছর শুরু করার পরিকল্পনা রয়েছে। প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে গৃহস্থালি বর্জ্যপানি সরাসরি ড্রেনে যাওয়ার প্রবণতা কমবে এবং নগরীর পরিবেশ উন্নয়নে ভূমিকা রাখবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

দীর্ঘমেয়াদি পানি সরবরাহ পরিকল্পনার বিষয়ে ওয়াসার ব্যবস্থাপনা পরিচালক বলেন, আগামী ১০০ বছরের চাহিদা বিবেচনায় নিয়ে পানি উন্নয়ন প্রকল্পের পরিকল্পনা করা হচ্ছে। বাণিজ্যিক এলাকার জন্য সরকারি বেসরকারি অংশীদারত্বের (পিপিপি) ভিত্তিতে দৈনিক ১০০ কোটি লিটার পানি শোধনের একটি প্রকল্প গ্রহণের কথাও তিনি উল্লেখ করেন।

এতে আরো বক্তব্য রাখেন সিএমপি কমিশনার হাসান মোহাম্মদ শওকত আলী, অতি: বিভাগীয় কমিশনার মনোয়ারা বেগম, জলাবদ্ধতার মেগা প্রকল্প পরিচালক লে. কর্নেল মোহাম্মদ মহসিন, সিএমপির অতি: কমিশনার হোসাইন মোহাম্মদ কবির ভূইয়া, চসিকের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ও সচিব মোহাম্মদ আশরাফুল আমিন, প্রধান প্রকৌশলী আনিসুর রহমান, প্রধান পরিচ্ছন্ন কর্মকর্তা ক্যাপ্টেন শামীম মোহাম্মদ খান, বন্দর কর্তৃপক্ষের চীফ হাইড্রোগ্রাপার কমান্ডার মো. ওবায়দুর রহমান, পানি উন্নয়ন বিভাগের প্রকল্প পরিচালক কর্নেল তারিকুল আলম, চসিকের খাল ও জলাবদ্ধতা বিশেষজ্ঞ শাহরিয়ার খালেদ, সিটি রেড ক্রিসেন্টের সাধারণ সম্পাদক গোলাম বাকি মাসুদ সহ বিভিন্ন সরকারি দপ্তর ও সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন ।