খুঁজুন
, ,

চট্টগ্রামকে বাসযোগ্য নগরে পরিণত করতে কাজ করছি: ডা. শাহাদাত

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Sunday, 22 March, 2026, 9:35 pm
চট্টগ্রামকে বাসযোগ্য নগরে পরিণত করতে কাজ করছি: ডা. শাহাদাত

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নির্দেশনায় চট্টগ্রামকে বাসযোগ্য নগরী হিসেবে গড়তে সংশ্লিষ্ট সবাইকে নিয়ে ক্লিন, গ্রীন, হেলদি ও সেইফ সিটির পরিকল্পনা বাস্তবায়নে কাজ করছেন বলে জানিয়েছেন চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন।

তিনি বলেন, ইতোমধ্যে জলাবদ্ধতা নিরসন ও নগরীর যোগাযোগ অবকাঠামো উন্নয়নে উল্লেখযোগ্য সাফল্য এসেছে। চট্টগ্রামকে বাণিজ্যিক রাজধানী হিসেবে গড়ার পরিকল্পনা বাস্তবায়নে সংশ্লিষ্ট সবাইকে নিয়ে কাজ করার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন মেয়র।

রবিবার (২২ মার্চ) বিকেলে নগরীর লাভ লেইনস্থ স্বরণিকা কমিউনিটি সেন্টারে পবিত্র ঈদুল ফিতর উপলক্ষে নগরবাসীর সাথে ঈদের শুভেচ্ছা বিনিময়কালে তিনি এসব কথা বলেন।

অনুষ্ঠানে প্রায় আট হাজার রাজনৈতিক নেতাকর্মী ও শুভানুধ্যায়ীদের জন্য চট্টগ্রামের ঐতিহ্যবাহী মেজবানের আয়োজন করেন মেয়র। ফিন্নি, পোলাওসহ নানা মুখরোচক খাবারের মাধ্যমে মেয়রের আতিথেয়তা গ্রহণ করেন অতিথিরা।

এছাড়া তিনি শনিবার পবিত্র ঈদুল ফিতরের দিন জাতীয় মসজিদ জমিয়াতুল ফালাহতে চট্টগ্রামের বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ ও নাগরিকদের সাথে ঈদুল ফিতরের নামাজ আদায় করেন। এরপর নগরীর চকবাজারের কিশলয় কমিউনিটি সেন্টারে নগরবাসীর সাথে ঈদের শুভেচ্ছা বিনিময় করেন।

শুভেচ্ছা বিনিময়কালে ডা. শাহাদাত হোসেন বলেন, চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের মেয়র হওয়ার পর থেকে দ্রব্যমূল্য স্থিতিশীল রাখতে আমি বাজারে বাজারে গিয়ে মনিটরিং করেছি। এই শহরের নিরাপত্তার জন্য আমি কাজ করেছি। শুধু নালা, নর্দমা, খাল বিল পরিষ্কার নয় আমাদের এই শহরকে নিরাপত্তার চাদরে ঢেকে দিতে হবে।

তিনি বলেন, গত পাঁচই আগস্টের পর থেকে আপনারা দেখেছেন আমরা মঠ মন্দিরে পাহারা দিয়েছি। আমাদের নেতাকর্মীরা বিভিন্ন জায়গায় পাহারা দিয়েছে। চট্টগ্রামবাসী যাতে নিরাপদে নির্ভিঘ্নে চলতে পারে সে ব্যাপারে আমি সজাগ আছি। কোন সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি, মাস্তানি চলবে না এই শহরে। আমরা সবাই ঐক্যবদ্ধ আছি। আমরা এই শহরকে একটা নিরাপদ শহরে পরিণত করতে চাই।

মেয়র বলেন, ক্ষমতা থাকলেই তা দেখানোর নাম রাজনীতি নয়। দেশ ও জনগণের কল্যাণে নিঃস্বার্থ কাজ করাই বিএনপির রাজনীতির মূলমন্ত্র। কুকর্ম করতে গিয়ে আওয়ামী লীগের কবর রচিত হয়েছে। বিএনপির নাম ব্যবহার করে কুকর্মকারীদের স্থান বিএনপিতে হবে না। রাজনীতিতে এখন বড় ধরনের পরিবর্তন এসেছে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান রাজনীতিতে এখন বড় ধরনের পরিবর্তন নিয়ে এসেছে।

তিনি বলেন, বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের নেতৃত্বে ১৯৭৫ পরবর্তী সময়ে বাংলাদেশ ‘বটমলেস বাস্কেট’ থেকে উঠে এসে কৃষি, গার্মেন্টস ও রেমিটেন্স খাতে অভাবনীয় সাফল্য অর্জন করে। সেই ধারাবাহিকতায় বর্তমানেও রেমিটেন্স প্রবাহ বৃদ্ধি, কৃষি ও গার্মেন্টস খাতের উন্নয়ন অব্যাহত রাখার পাশাপাশি নতুন খাত হিসেবে পর্যটন শিল্প, সেমিকন্ডাক্টর চিপস এবং ফার্মাসিউটিক্যালস খাতকে গুরুত্ব দিতে হবে। এসব খাতে বিনিয়োগ ও রপ্তানি বৃদ্ধির মাধ্যমে দেশের অর্থনীতিকে আরও শক্তিশালী করার পরিকল্পনার কথা উল্লেখ করেন মেয়র।

নগরবাসীর প্রতি আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, দেশপ্রেম যেমন ঈমানের অংশ, তেমনি শহরপ্রেমও ঈমানের অংশ। তিনি সবাইকে যত্রতত্র ময়লা, প্লাস্টিক ও পলিথিন না ফেলার অনুরোধ জানান এবং চট্টগ্রামকে একটি পরিচ্ছন্ন, বাসযোগ্য নগর গড়ে তুলতে নাগরিকদের সহযোগিতা কামনা করেন।

চট্টগ্রামের জলাবদ্ধতা নিরসনে গত ১৬ মাসে নেওয়া বিভিন্ন উদ্যোগের কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, বন্দর কর্তৃপক্ষ, চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ, পানি উন্নয়ন বোর্ড ও জেলা প্রশাসনের সমন্বয়ে খাল সংস্কার ও ড্রেনেজ ব্যবস্থার উন্নয়ন কার্যক্রম চলমান রয়েছে। ৫৭টি খালের মধ্যে অধিকাংশ খালের সংস্কার কাজ চলমান এবং পর্যায়ক্রমে সব খাল পুনরুদ্ধার করা হবে। চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন নগরীর জলাবদ্ধতা সমস্যার স্থায়ী সমাধানে প্রকল্প গ্রহণের পথে এগিয়ে গেছে। বাস্তবায়িত হলে এ প্রকল্প চট্টগ্রামের জলবদ্ধতার স্থায়ী সমাধান করবে।

কিশোর গ্যাং প্রতিরোধে খেলাধুলার প্রসারে গুরুত্ব দিয়ে মেয়র জানান, ৪১টি খেলার মাঠের মধ্যে ইতোমধ্যে ১১টি উন্নয়ন করা হয়েছে এবং বাকি মাঠগুলোও দ্রুত সংস্কার করা হবে।
এছাড়া জনস্বাস্থ্য উন্নয়নে বিভিন্ন কর্মসূচির কথাও তুলে ধরেন তিনি। স্কুলগামী শিক্ষার্থীদের স্বাস্থ্যসেবা, টাইফয়েড ভ্যাকসিন প্রদান, এবং ব্রেস্ট, কোলোরেক্টাল ও লিভার ক্যান্সার বিষয়ে সচেতনতা বৃদ্ধির জন্য বিভিন্ন কার্যক্রম বাস্তবায়ন করা হচ্ছে বলে জানান মেয়র।

তিনি আশা প্রকাশ করেন, সম্মিলিত প্রচেষ্টা, দেশপ্রেম ও সততার মাধ্যমে একটি দুর্নীতিমুক্ত, সমৃদ্ধশালী বাংলাদেশ গড়ে তোলা সম্ভব।

মহানগর বিএনপির আহবায়ক কমিটির সদস্য মো. কামরুল ইসলামের পরিচালনায় অনুষ্ঠানে শুভেচ্ছা বিনিময় করেন ভূমি ও পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ব্যরিস্টার মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিন, জাতীয় সংসদ সদস্য মোহাম্মদ আবু সুফিয়ান, আলহাজ্ব এরশাদ উল্লাহ, সাঈদ আল নোমান, জসিম উদ্দিন আহমেদ, বন্দর চেয়ারম্যান রিয়ার এডমিরাল মুনিরুজ্জামান, কেন্দ্রীয় বিএনপির শ্রম সম্পাদক এ এম নাজিম উদ্দীন, সদস্য শামসুল আলম, মহানগর বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক বীর মুক্তিযোদ্ধা একরামুল করিম, চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা বিএনপির আহবায়ক আলহাজ্ব ইদ্রিস মিয়া, চট্টগ্রাম প্রেসক্লাবের সভাপতি জাহিদুল করিম কচি, মেট্রোপলিটন সাংবাদিক ইউনিয়নের সভাপতি মো. শাহনওয়াজ, সন্মিলিত পেশাজীবী পরিষদের সদস্য সচিব ডা. খুরশীদ জামিল চৌধুরী, চমেক ড্যাবের সভাপতি অধ্যাপক ডা. জসিম উদ্দিন, জেলা ড্যাবের সভাপতি অধ্যাপক ডা. তমিজ উদ্দিন আহমেদ মানিক, চমেক হাসপাতালের পরিচালক বিগ্রেডিয়ার জেনারেল ডা. তসলিম উদ্দিন, সিএমপির ডিসি সাউথ হোসাইন মো. কবির ভূইয়া, দক্ষিণ জেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক শেখ মো. মহিউদ্দিন, চসিক সচিব মোহাম্মদ আশরাফুল আমিন, প্রধান প্রকৌশলী আনিসুর রহমান, প্রধান পরিচ্ছন্ন কর্মকর্তা ক্যাপ্টেন ইখতিয়ার উদ্দিন আহমেদ চৌধুরী, সাতকানিয়া আসনে বিএনপির সংসদ সদস্য প্রার্থী নাজমুল মোস্তফা আমিন, জেলা রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটির ভাইস প্রেসিডেন্ট এড. ইফতেখার হোসেন চৌধুরী মহসিন, মহানগর বিএনপির যুগ্ম আহবায়ক মোহাম্মদ মিয়া ভোলা, আলহাজ্ব এম এ আজিজ, অ্যাডভোকেট আবদুস সাত্তার, এস এম সাইফুল আলম, কাজী বেলাল উদ্দিন, সফিকুর রহমান স্বপন, হারুন জামান, নিয়াজ মোহাম্মদ খান, ইয়াছিন চৌধুরী লিটন, সাবেক যুগ্ম আহবায়ক এস কে খোদা তোতন, আবদুল মান্নান, উত্তর জেলা বিএনপির সাবেক যুগ্ম আহবায়ক ইঞ্জিনিয়ার বেলায়েত হোসেন, মহানগর বিএনপির সদস্য অ্যাডভোকেট মফিজুল হক ভূঁইয়া, ইকবাল চৌধুরী, জয়নাল আবেদীন জিয়া, অধ্যাপক নুরুল আলম রাজু, এস. এম আবুল ফয়েজ, আবুল হাসেম, ইসকান্দর মির্জা, মুজিবুল হক, মো. মহসিন, খোরশেদুল আলম, মো. সালাউদ্দিন, গাজী সিরাজ উল্লাহ, সৈয়দ শিহাব উদ্দীন আলম, মামুনুল ইসলাম হুমায়ুন, মশিউল আলম স্বপন, গাজী আইয়ুব, আবু মুসা, হানিফ সওদাগর, জেলা আইনজীবী সমিতির সাবেক সভাপতি এড. এনামুল হক, বর্তমান সাধারণ সম্পাদক এড. হাসান আলী চৌধুরী, মহানগর যুবদলের সাবেক সভাপতি মোশাররফ হোসেন দিপ্তী, সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ শাহেদ, দক্ষিণ জেলা যুবদলের সভাপতি মোহাম্মদ শাহজাহান, মহানগর স্বেচ্ছাসেবক দলের আহবায়ক বেলায়েত হোসেন বুলু, সদস্য সচিব জমির উদ্দিন নাহিদ, ছাত্রদলের আহবায়ক সাইফুল আলম, মহিলাদলের সাধারণ সম্পাদক জেলী চৌধুরী, জাসাসের আহবায়ক এম এ মুছা বাবলু, সদস্য সচিব মামুনুর রশীদ শিপন, তাতীদলের আহবায়ক সেলিম হাফেজ, সদস্য সচিব মনিরুজ্জামান মুরাদ প্রমুখ।

Feb2
Feb2

দক্ষিণ পতেঙ্গায় ত্রাণ বিতরণ করলেন চসিক মেয়র ও প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Monday, 13 July, 2026, 11:24 pm
দক্ষিণ পতেঙ্গায় ত্রাণ বিতরণ করলেন চসিক মেয়র ও প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন

সাম্প্রতিক টানা বর্ষণ ও জলাবদ্ধতায় ক্ষতিগ্রস্ত দক্ষিণ পতেঙ্গা ওয়ার্ডের মাইজপাড়া এলাকার এক হাজার পরিবারের মাঝে ত্রাণ সামগ্রী বিতরণ করলেন চসিক মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন ও পানি সম্পদ প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদ এমপি।

সোমবার বিকেলে নগরীর দক্ষিণ পতেঙ্গা ওয়ার্ডের মাইজপাড়ার একটি কমিউনিটি সেন্টারে জলাবদ্ধতায় ক্ষতিগ্রস্ত এক হাজার পরিবারের মাঝে এসব ত্রাণ সামগ্রী বিতরণ করা হয়।

ত্রাণ বিতরণকালে মেয়র ও প্রতিমন্ত্রী ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলেন এবং তাদের সার্বিক পরিস্থিতির খোঁজখবর নেন।

এসময় ডা. শাহাদাত হোসেন বলেন, জলাবদ্ধতা নিরসনে সিটি কর্পোরেশন নিরবচ্ছিন্নভাবে কাজ করছে। নালা নর্দমা পরিষ্কার, খাল পুনরুদ্ধার এবং পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থার উন্নয়নে সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর সঙ্গে সমন্বিত উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। স্থায়ী সমাধানের লক্ষ্যে পরিকল্পিতভাবে কাজ এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে।

তিনি নগরবাসীর প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, পরিচ্ছন্ন নগর গড়ে তুলতে সবার সহযোগিতা প্রয়োজন। নালা নর্দমা ও খালে ময়লা আবর্জনা না ফেললে জলাবদ্ধতা অনেকাংশে কমিয়ে আনা সম্ভব। নাগরিক সচেতনতাই একটি পরিচ্ছন্ন ও বাসযোগ্য চট্টগ্রাম গঠনের অন্যতম পূর্বশর্ত।

প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদ বলেন, আমাদের প্রথম অগ্রাধিকার মানুষের জীবন ও নিরাপত্তা। পানিবন্দি মানুষকে উদ্ধার, আশ্রয়কেন্দ্রে প্রয়োজনীয় সহায়তা, খাবার বিতরণ এবং জলাবদ্ধতা দ্রুত নিরসনে সিটি কর্পোরেশনসহ সংশ্লিষ্ট সব সংস্থা মাঠে কাজ করছে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত এই কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, মানুষের দুর্দিনে তাদের পাশে দাঁড়ানোই জনপ্রতিনিধির সবচেয়ে বড় দায়িত্ব। চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন দুর্যোগের শুরু থেকেই নগরবাসীর পাশে রয়েছে এবং ভবিষ্যতেও থাকবে। কোনো ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারকে আমরা অসহায় অবস্থায় রেখে যাব না। প্রয়োজন অনুযায়ী ত্রাণ ও অন্যান্য সহায়তা অব্যাহত থাকবে।

এসময় উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম আহবায়ক মোহাম্মদ মিয়া ভোলা, যুগ্ম আহবায়ক আহমেদুল আলম চৌধুরী রাসেল, আহবায়ক কমিটির সদস্য মো, কামরুল ইসলাম, ডা. নুরুল আবসার, চট্টগ্রাম সিটি রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটির সাধারণ সম্পাদক গোলাম বাকি মাসুদ, বিএনপি নেতা আবদুস সাত্তার, মোহাম্মদ হারুন, ইকবাল হোসেন, নাজমুল হুদা চৌধুরী নাজিম, শফি মেম্বার প্রমুখ।

উত্তর পতেঙ্গার পানিবন্দি পরিবারের মাঝে শুকনো খাবার বিতরণ

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Monday, 13 July, 2026, 8:27 pm
উত্তর পতেঙ্গার পানিবন্দি পরিবারের মাঝে শুকনো খাবার বিতরণ

চট্টগ্রাম নগরের উত্তর পতেঙ্গাতে পানিবন্দি ও অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছেন যুবদল। আজ সোমবার (১৩ জুলাই) উত্তর পতেঙ্গা ৪০ নং ওর্য়াড় এর হিন্দু পাড়া ১ ও ২ নং গলির ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের মাঝে তারা শুকনো খাবার বিতরণ করেন।

চট্টগ্রাম মহানগর যুবদলের সাবেক সিনিয়র সহ সভাপতি ইকবাল হোসেন জানান, এটি কেবল একটি ছোট প্রচেষ্টা। সমাজের বিত্তবান ও সামর্থ্যবান মানুষ এগিয়ে এলে আরও অনেক অসহায় এবং পানিবন্দি পরিবারের কাছে সহায়তা পৌঁছে দেওয়া সম্ভব হবে। সবাইকে নিজ নিজ অবস্থান থেকে বন্যা ও জলাবদ্ধতায় ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পাশে দাঁড়ানোর আহ্বান জানান তিনি।

এ সময় এই মানবিক কার্যক্রম বাস্তবায়নে যারা আর্থিক ও নানাভাবে সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিয়েছেন তাদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান যুবদল নেতৃবৃন্দ। ভবিষ্যতেও যেকোনো দুর্যোগে এমন মানবিক উদ্যোগ অব্যাহত থাকবে বলেও জানান তিনি।

উত্তর পতেঙ্গা ৪০ নং ওর্য়াড় এর হিন্দু পাড়া ১ ও ২ নং গলির পানি বন্দি পরিবার এর মাঝে শুকনো খাবার বিতরণ করেন চট্টগ্রাম মহানগর যুবদলের সাবেক সিনিয়র সহ সভাপতি ইকবাল হোসেন।

আরো উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রাম মহানগর যুবদলের সাবেক ত্রান ও পূর্ণবাসন বিষয়ক সম্পাদক মোহাম্মদ ইকবাল, সহ সম্পাদক ইয়াছিন আজাদ, পতেঙ্গা থানা যুবদলের সংগঠক আলমগীর হোসেন জুয়েল, জিলহজ্জ শাকিল, মাসুদ রানা, মামুনুর রশিদ, জিসু দত্ত, রান্টু দত্ত, রাজন দাস, মিন্টু ধর, মাসুদ প্রমুখ।

সরকার বন্যাদুর্গত মানুষের পাশে আছে, থাকবে: সাতকানিয়ায় বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রী

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Monday, 13 July, 2026, 6:12 pm
সরকার বন্যাদুর্গত মানুষের পাশে আছে, থাকবে: সাতকানিয়ায় বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রী

বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত বলেছেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সরকার চট্টগ্রাম ও পার্বত্য চট্টগ্রামসহ দেশের বন্যাদুর্গত মানুষের পাশে রয়েছে এবং ভবিষ্যতেও থাকবে। দুর্গত মানুষের যেকোনো প্রয়োজনে সরকার সর্বাত্মক সহযোগিতা দিয়ে যাচ্ছে এবং তা অব্যাহত থাকবে।

সোমবার চট্টগ্রামের সাতকানিয়া উপজেলার কেওচিয়া ইউনিয়নের বন্যাকবলিত এলাকা পরিদর্শন, ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের খোঁজখবর গ্রহণ এবং ত্রাণ বিতরণকালে তিনি এসব কথা বলেন।

প্রতিমন্ত্রী বন্যাদুর্গত মানুষের উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের পক্ষ থেকে শুভেচ্ছা ও সমবেদনা জানিয়ে বলেন, গত কয়েকদিন ধরে মানুষ চরম দুর্ভোগের মধ্যে রয়েছে। তিনি দ্রুত বন্যা পরিস্থিতির উন্নতি কামনা করে বলেন, সরকারের পক্ষ থেকে প্রতিটি দুর্গত, অসহায় ও খাদ্যসংকটে থাকা মানুষের কাছে খাদ্যসহ প্রয়োজনীয় সহায়তা পৌঁছে দেওয়া হবে।

তিনি আরও বলেন, শুধু জরুরি খাদ্য সহায়তাই নয়, বন্যার পানি নেমে যাওয়ার পর ক্ষতিগ্রস্ত বসতঘর মেরামতে সরকারি সহায়তা দেওয়া হবে। এছাড়া যাদের ফসলের জমি, মাছের ঘের কিংবা গবাদিপশুর ক্ষতি হয়েছে, তাদের পুনর্বাসন ও স্বাভাবিক জীবনে ফিরিয়ে আনতেও সরকার প্রয়োজনীয় উদ্যোগ গ্রহণ করবে।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, উপজেলা প্রশাসন ও জেলা প্রশাসন বন্যার প্রথম দিন থেকেই দুর্গত মানুষের কষ্ট লাঘবে নিরলসভাবে কাজ করছে। স্থানীয় সংসদ সদস্যও শুরু থেকেই ত্রাণ কার্যক্রমে সক্রিয় রয়েছেন। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নির্দেশনায় তিনি এসব কার্যক্রমের সমন্বয় ও তদারকির জন্য সাতকানিয়ায় এসেছেন বলেও উল্লেখ করেন।

প্রত্যন্ত অঞ্চলে ত্রাণ পৌঁছে দিতে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী এবং বাংলাদেশ বিমান বাহিনীর ভূমিকার প্রশংসা করে প্রতিমন্ত্রী তাদের প্রতি ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।

এদিন প্রতিমন্ত্রীর কর্মসূচি সকাল ১২টায় ইকবাল কনভেনশন সেন্টার থেকে শুরু হয়। পরে কেওচিয়া হাইস্কুলে বাংলাদেশ বিমান বাহিনীর সহায়তায় ৩০০ জন, ধর্মপুর বিশ্বর বাড়িতে ৩০০ জন এবং বাজালিয়া মাহালিয়া রাস্তার মাথায় জাগরণী ফাউন্ডেশনের সহযোগিতায় ৫০০ জন বন্যাদুর্গত মানুষের মধ্যে ত্রাণ বিতরণ করা হয়। এছাড়া উপজেলা পরিষদে বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচি (WFP) ও উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে ৫০০ কার্টন বিস্কুট এবং ৫০০ প্যাকেট চাল বিতরণ করা হয়। ডেমশা ইউনিয়ন পরিষদে জেলা পরিষদ চট্টগ্রামের সহায়তায় আরও ৩০০ প্যাকেট শুকনো খাবার বিতরণ করা হয়।

ত্রাণ বিতরণ ও পরিদর্শন কর্মসূচিতে সংসদ সদস্য মোহাম্মদ জসীম উদ্দিন আহমেদ, জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) পাঠান মোঃ সাইদুজ্জামান উপজেলা প্রশাসনের কর্মকর্তা, পুলিশ প্রশাসনের সদস্য, জনপ্রতিনিধি, রাজনৈতিক ও সামাজিক নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।