খুঁজুন
, ,

বেতনের টাকা অসহায় রোগীর পেছনে খরচ করেন মানবিক পুলিশ শওকত

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Thursday, 13 February, 2020, 4:28 pm
বেতনের টাকা অসহায় রোগীর পেছনে খরচ করেন মানবিক পুলিশ শওকত

ডাস্টবিনের পাশে পড়ে আছেন ভারসাম্যহীন অসুস্থ রোগী। ওই রোগীর এক পা অর্ধেকজুড়ে পচে গেছে, শরীর থেকে বের হচ্ছে উৎকট গন্ধ। এমন রোগী থেকে সবাই দূরে থাকলেও পরম যত্নে তাদের চিকিৎসা দিয়ে ভালো করে তুলছেন সুপারহিউম্যান খ্যাত সিএমপির মানবিক পুলিশ সদস্য মুহাম্মদ শওকত হোসেন।

গতকাল রাত এগারোটায় আরজে রেজা কিবরিয়ার ফেসবুকে পেইজে ‘জীবনের গল্প’ অনুষ্ঠানের বাইশতম পর্বে অতিথি হয়ে আসেন শওকত হোসেন। এক ঘণ্টা বিশ মিনিটের অনুষ্ঠানে দর্শকদের মানবিক পুলিশ হয়ে ওঠার বাস্তব অভিজ্ঞতা শেয়ার করেন। অনুষ্ঠানটি প্রচার হওয়ার পরপরই ভাইরাল হয়ে যায়।

তিনি বর্তমানে চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের মানবিক পুলিশ শাখার টিম লিডার হিসেবে কর্মরত আছেন। ১০ বছর ধরে চট্টগ্রাম বিভাগীয় পুলিশ হাসপাতালে কাজ করছেন। বাড়ি নোয়াখালীর কবিরহাটে। বাবা একজন মুক্তিযোদ্ধা।

প্রতিদিনই কোনো না কোনো ভারসাম্যহীন রোগীকে শওকত হোসেন হাসপাতালে নিয়ে এসে সুস্থ করে তুলছেন। এসব রোগীকে দেখভাল করতে গিয়ে গত ১০ বছর ধরে নিজের জন্য একটি পোশাকও কিনতে পারেননি তিনি। বিভিন্ন পারিবারিক ও অফিসের অনুষ্ঠানে যেতেন সহকর্মীর পোশাক পড়ে। তার বেতনের অর্ধেকের বেশি টাকা ব্যয় হচ্ছে অসহায় এসব রোগীর পেছনে।

যেভাবে মানবিক পুলিশ হয়ে উঠলেন তিনি

মুহাম্মদ শওকত হোসেন পুলিশের কনস্টেবল হিসেবে ২৪তম ব্যাচে যোগ দেন ২০০৫ সালে। তখন তার মূল বেতন ছিলো ২ হাজার ৮৫০ টাকা। সবকিছু মিলিয়ে বেতন পেতেন ৫ হাজার টাকা। ওইসময় আর্থিক অনটনে দিন অতিবাহিত করতেন। চাকরি ছেড়ে দেওয়ার কথা বললে মুক্তিযোদ্ধা বাবা ধৈর্য ধরতে বলতেন।বাবার অভয়ে তার পুলিশে পথচলা শুরু। ২০০৫ সাল থেকে ২০০৯ সাল পর্যন্ত ঢাকায় কর্মরত ছিলেন। এরপর বদলি হয়ে চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশে আসেন।

পাশাপাশি তিনি বাংলাদেশ কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের অধীনে তিন বছরের ডিপ্লোমা ইন মেডিক্যাল অ্যাসিসটেন্ট ও দুই বছরের প্যারামেডিক্যাল কোর্সে লেখাপড়া করেন।

২০০৯ সালে কিছুদিন রাঙামাটিতে কর্মরত থাকার পর শওকত হোসেনের চট্টগ্রাম বিভাগীয় পুলিশ হাসপাতালে বদলি হন। দায়িত্ব ছিলো রাঙামাটি থেকে আসা আহত পুলিশ সদস্যদের সেবা দেওয়া। একসময় তাকে ওটির ইনচার্জ হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয়। তখন থেকে তার রোগীর সঙ্গে সখ্যতা গড়ে উঠে।

কাজের ফাঁকে ফাঁকে রাস্তার ধারে পড়ে থাকা ভারসাম্যহীন অসুস্থ রোগীকে হাসপাতালে এনে সুস্থ করে তুলতেন তিনি। প্রথম দিকে নিজেই একা কাজ করলেও এখন তার সহযোগী আছেন ১০জন। প্রতিদিনই কোনো না কোনো রোগীকে হাসপাতালে এনে সুস্থ করে তুলছেন শওকত হোসেন।

শওকত হোসেন বলেন, ‘রাস্তার পাশে পড়ে থাকা রোগী, যাদের শরীর থেকে ছড়াতো উৎকট গন্ধ, এমন মানুষের পাশে কেউ যেতেন না। আমি মনে করতাম, এই মানুষটি তো আমিও হতে পারতাম বা আমার ভাইও হতে পারতো। এই ভেবে নিজে উদ্যোগী হয়ে অসুস্থ রোগীদের হাসপাতালে এনে সুস্থ করে তুলতাম।

তিনি বলেন, প্রায় সময় এমন রোগী পেতাম- কারও হাত, কারও পা বা কারও মুখ পচে গেছে। এসব রোগীর শরীর থেকে পোকাও বের হচ্ছে। এমন রোগীকে হাসপাতালে নিয়ে যেতাম। নিজের টাকায় কয়েক সেট কাপড় কিনে তাদের পড়াতাম। সেই কাপড়ে প্রস্রাব, পায়খানা করলে কাপড়টি বদলিয়ে নতুন কাপড় পড়াতাম নিজ হাতে। এভাবে সুস্থ করে তুলতাম।

গত ১০ বছরে নিজের জন্য একটিও নতুন কাপড় কেনেননি উল্লেখ করে শওকত হোসেন বলেন, শত শত রোগীর চিকিৎসা করাতে গিয়ে অনেক টাকার প্রয়োজন হয়। তবে অনেকে এগিয়ে এলেও টাকার পরিমাণ অপ্রতুল। নিজের বেশিরভাগ টাকা এসব রোগীর পেছনে চলে যাওয়ায় ১০ বছরে নতুন কোনো পোশাকও কিনিনি। বিভিন্ন অনুষ্ঠানে যেতাম সহকর্মীর পোশাক পড়ে। পরিচিতজনকে বলতাম, আমার কিছু গরীব মানুষের জন্য কাপড়-চোপড় দরকার। তখন তারা যে কাপড়গুলো দিতো, তা থেকে অসুস্থ রোগীকে দিতাম, নিজেও পড়তাম।

‘নিজের স্ত্রীকে নিয়েও দূরে কোথাও ঘুরতে যেতে পারিনি। আমার স্ত্রীও বিষয়টি বুঝেন, তিনি বরং আমাকে এ কাজে সাহায্য করেন। আমার আশা, দেশের মানুষ এসব রোগীর জন্য এগিয়ে আসবেন। সবাই এগিয়ে এলে তখনই আমার পরিশ্রম সার্থক হবে’ যোগ করেন তিনি।

জীবনের গল্প অনুষ্ঠানের ভিডিও লিঙ্ক:

https://m.facebook.com/story.php?story_fbid=3122027817809671&id=2539033922775733

Feb2
Feb2

ট্রেনে ফেলে যাওয়া স্বর্ণ-টাকা ফিরিয়ে দিলেন স্টুয়ার্ড গার্ড

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Sunday, 19 July, 2026, 9:34 am
ট্রেনে ফেলে যাওয়া স্বর্ণ-টাকা ফিরিয়ে দিলেন স্টুয়ার্ড গার্ড

ট্রেনে ময়লার ঝুড়িতে যাত্রীর ফেলে যাওয়া স্বর্ণের চেইন ও নগদ টাকা ফিরিয়ে দিয়ে প্রশংসায় বাসছেন স্টুয়ার্ড গার্ড মোশারফ হোসেন।

বুধবার (১৫ জুলাই) চট্টগ্রাম থেকে ছেড়ে আসা ঢাকাগামী মহানগর গোধূলি ট্রেনে এই স্বর্ণের চেইন ও টাকা ফেলে যান যাত্রী।

স্টুয়ার্ড গার্ড মোশারফ হোসেন ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা শহরের কাউতলী এলাকা বাসিন্দা। তার এই সততা ও দায়িত্বশীলতার উজ্জ্বল দৃষ্টান্তে তিনি প্রশংসায় ভাসছে।

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে তাকে নিয়ে অনেকেই প্রশংসা করছেন। ব্রাহ্মণবাড়িয়ার রেলস্টেশনে মোশারফ হোসেন বলেন, অন্যের জিনিস আমি কেন রাখবো। এটা ফিরিয়ে দিতে পেরে আমি অনেক আনন্দিত এবং অনেক ভালো লেগেছে। চাকরি জীবনে প্রায় ২০ বছর, এই ২০ বছরে এই নিয়ে কয়েকবার যাত্রীর ফেলে যাওয়া মূল্যবান জিনিস ফিরিয়ে দিয়েছি।

তিনি আরও বলেন, গত বুধবার রাতে আম খেয়ে আমের খোসাগুলো কেবিনের ময়লার ঝুড়িতে ফেলতে গিয়ে দেখি, একটি পলিথিনে মোড়ানো অনেকগুলো জর্দার কৌটা। আমি এগুলো জর্দা মনে করে নিজের কাছে রেখে দিই। পরে আমার মোবাইলে একটি কল আসে এবং অপর প্রান্ত থেকে একজন বলেন যে, তার কিছু মালামাল হারিয়ে গেছে। তখন আমি তার কাছে জানতে চাই কী জিনিস হারিয়েছে। তিনি বলেন, স্বর্ণের চেইন ও কিছু টাকা। তখন তাকে বলি, এসব তো কেবিনে নেই। পরে তিনি জানান, পলিথিনে মোড়ানো জর্দার কৌটার ভেতরেই চেইন ও টাকা রাখা আছে। এরপর আমার কাছে রাখা জর্দার কৌটাটি খুলে দেখি, তার ভেতরে প্রায় দুই ভরি ওজনের একটি স্বর্ণের চেইন ও দুই হাজার টাকা। পরে আমি ওই যাত্রীকে ফোন করে জানাই যে, জিনিসগুলো আমার কাছে নিরাপদেই আছে।

মোশারফ হোসেন বলেন, পরে রাতে চট্টগ্রামগামী তূর্ণা নিশীতা ট্রেন ভৈরববাজার স্টেশনে এলে যাত্রীর স্বজনের কাছে স্বর্ণের চেইন ও টাকা বুঝিয়ে দেওয়া হয়।

কনটেইনার খালাসের সময় চট্টগ্রাম বন্দরে দুর্ঘটনা

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Sunday, 19 July, 2026, 9:01 am
কনটেইনার খালাসের সময় চট্টগ্রাম বন্দরে দুর্ঘটনা

চট্টগ্রাম বন্দরের চট্টগ্রাম কনটেইনার টার্মিনালের (সিসিটি) ৩ নম্বর বার্থে কনটেইনার খালাসের সময় একটি দুর্ঘটনা ঘটেছে। এতে একটি কোয়ে গ্যান্ট্রি ক্রেন ও একটি আমদানি কনটেইনার আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তবে এ ঘটনায় কেউ হতাহত হয়নি।

শনিবার (১৮ জুলাই) দিবাগত রাত পৌনে ৮টার দিকে এ দুর্ঘটনা ঘটে।

চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ জানায়, চ্যাং হাই নামের একটি জাহাজ থেকে কোয়ে গ্যান্ট্রি ক্রেন-৪ (কিউজিসি-৪) দিয়ে ৪০ ফুটের একটি আমদানি কনটেইনার খালাস করা হচ্ছিল। এ সময় স্প্রেডারের ল্যাশিং ছিঁড়ে গেলে কনটেইনারটি ক্রেনের বিমের ওপর পড়ে যায়। এতে ক্রেন ও কনটেইনার উভয়ই আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়।

দুর্ঘটনার পরপরই বন্দর কর্তৃপক্ষ নিরাপত্তা প্রোটোকল কার্যকর করে এবং উদ্ধার কার্যক্রম শুরু করে। ঘটনাস্থল নিরাপদ করার পাশাপাশি দুর্ঘটনাকবলিত কনটেইনার অপসারণ এবং ক্ষতিগ্রস্ত যন্ত্রপাতি উদ্ধারের কাজ শুরু হয়।

চট্টগ্রাম বন্দর কতৃপক্ষের সচিব সৈয়দ রেফায়েত হামিম বলেন, ঘটনার কারণ অনুসন্ধানে একটি বিশেষ কারিগরি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটি যান্ত্রিক ত্রুটির কারণ অনুসন্ধান করে প্রতিবেদন দেবে। একই সঙ্গে রোববার সকাল থেকে ক্ষতিগ্রস্ত কোয়ে গ্যান্ট্রি ক্রেন-৪ (কিউজিসি-৪)-এর মেরামত কাজ শুরু হওয়ার কথা রয়েছে।

বন্দর কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, সিসিটির ৩ নম্বর বার্থের দুর্ঘটনাকবলিত স্থান ছাড়া বন্দরের অন্যান্য সব বার্থে কনটেইনার হ্যান্ডলিং ও সার্বিক অপারেশনাল কার্যক্রম স্বাভাবিক রয়েছে।

১০ গোলের পাগলাটে ম্যাচে সাকার হ্যাটট্রিকে দুর্দান্ত জয় ইংল্যান্ডের

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Sunday, 19 July, 2026, 7:16 am
১০ গোলের পাগলাটে ম্যাচে সাকার হ্যাটট্রিকে দুর্দান্ত জয় ইংল্যান্ডের

পাগলাটে এক ম্যাচ। প্রথমার্ধ শেষে ৪ গোলে পিছিয়ে ছিল ফ্রান্স। তবে দ্বিতীয়ার্ধের মাত্র ২১ মিনিটে তিন গোল শোধ করে ম্যাচে ফিরে ফরাসিরা। তবে ম্যাচের শেষ হাসি হেসেছে ইংল্যান্ড। তৃতীয় স্থান নির্ধারণী ম্যাচে বুকো সাকার হ্যাটট্রিকে ফ্রান্সকে ৬-৪ গোলে হারিয়েছে ইংলিশরা।

ম্যাচের ৩ মিনিটেই প্রথম গোলের দেখা পায় ইংল্যান্ড। মাঝমাঠ থেকে বল কেড়ে বেশ খানিকটা দৌড়ে বক্সের বাইরে থেকে নেওয়া দারুণ শটে গোল করেন ডেক্লান রাইস।

এরপর ম্যাচের ১২ মিনিটে আবারও ফ্রান্সের জালে বল জড়ায় ইংল্যান্ড। তবে কায়ো সাকার সেই গোলটি অফসাইডের কারণে বাতিল হয়ে যায়। এরপর ম্যাচের ১৮ মিনিটে ঠিকই ব্যবধান দ্বিগুণ করে ইংল্যান্ড। রাইসের ক্রস থেকে হেডে গোল করেন এজরা কনসা।

এরপর ম্যাচের ৩৭ মিনিটে স্কোরশিটে নাম লেখেন সাকা। মার্কাস রাশফোর্ডের পাস থেকে বল জালে জড়ান তিনি। প্রথমার্ধে যোগ করা সময়ে কনসার পাস থেকে বাঁ পায়ের শটে নিজের দ্বিতীয় গোলের দেখা পান সাকা। এতে ৪-০ গোলের বড় লিড নিয়ে বিরতিতে যায় ইংল্যান্ড।

বিরতি থেকে ফিরে ম্যাচের ৪৮ মিনিটে প্রতি আক্রমণ থেকে গোল পায় ফ্রান্স। মাইকেল ওলিসের পাস থেকে বাঁ পায়ের শটে গোল করেন কিলিয়ান এমবাপ্পে। এরপর ম্যাচের ৫৪ মিনিটে এমবাপ্পে পাস থেকে দলের পক্ষে দ্বিতীয় গোল করেন বারকোলা।

এরপর ম্যাচের ৬৬ মিনিটে ওলিসের পাস থেকে নিজের দ্বিতীয় গোল করেন এমবাপ্পে। চলতি বিশ্বকাপে এটি তার দশম গোল। সেইসঙ্গে বিশ্বকাপের ইতিহাসে সর্বোচ্চ গোলের রেকর্ড গড়লেন তিনি।

এরপর ম্যাচের ৮৪ মিনিটে জেড স্পেনসকে বক্সের ভেতরে ফাউল করলে পেনাল্টি পায় ইংল্যান্ড। স্পট কিক থেকে বল জালে জড়িয়ে হ্যাটট্রিক পূর্ণ করেন সাকা। এরপর যোগ করা সময়ে গোল করে ব্যবধান কমান উসমান ডেম্বেলে।

তবে ম্যাচের একদম শেষ মুহূর্তে মাঝমাঠ থেকে বল টেনে নিয়ে বক্সে ঢুকে গোল জুড বেলিংহাম। এটি বিশ্বকাপে তার ৭ম গোল। শেষ পর্যন্ত ৬-৪ গোলের জয় নিয়ে মাঠ ছাড়ে ইংলিশরা।