খুঁজুন
সোমবার, ২৫শে মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ১১ই জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

খালেদা জিয়ার জনপ্রিয়তায় ভীত আ’লীগ:বক্কর

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২৫ ফেব্রুয়ারি, ২০২০, ৭:৪২ অপরাহ্ণ
খালেদা জিয়ার জনপ্রিয়তায় ভীত আ’লীগ:বক্কর

চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আবুল হাশেম বক্কর বলেছেন, মামলা হামলা বর্বরতায় ক্ষমতায় টিকে আছে আওয়ামীলীগ সরকার। বিএনপির চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়া’র জনপ্রিয়তায় ভীত আওয়ামীলীগ।

মিথ্যা প্রহসনের মামলার জালে কারাগারে দেশনেত্রীকে বন্দি করে রেখেছে। একদলীয় শাসন কায়েম করে বাকশালের শুধু আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেয়া বাকি মাত্র।

তিনি এসময় বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব অ্যাড. রুহুল কবির রিজভীর উপর পুলিশী হামলায় জড়িতদের আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবী জানান।

আজ মঙ্গলবার (২৫ ফেব্রুয়ারি) কেন্দ্রীয় কর্মসূচির অংশ হিসেবে চট্টগ্রাম মহানগর যুবদলের উদ্যোগে দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার নি:শর্ত মুক্তি ও বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব অ্যাড. রুহুল কবির রিজভীর উপর পুলিশী হামলার প্রতিবাদে নাসিমন ভবনস্থ দলীয় কার্যালয়ের সম্মুখে অনুষ্ঠিত বিক্ষোভ সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এ সব কথা বলেন।

প্রধান বক্তার বক্তব্যে কেন্দ্রীয় যুবদলের সহসভাপতি ইউসুফ বিন জলিল বলেন, দেশের প্রত্যেকটি সেক্টর ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে। সামান্য যুবলীগ নেত্রীর পাঁচ তারকা হোটেলে প্রেসিডেন্ট স্যুট ভাড়া নিয়ে প্রশাসনের প্রত্যক্ষ মদদে অবৈধ ব্যবসা করেছে। আইন শুধু বিএনপি দমনে। পুলিশ আজ শুধু খুঁজে বিএনপি দলীয় নেতা কর্মী সমর্থকদের।

তিনি কারাবন্দি দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার মৌলিক অধিকার, তার প্রকৃত চিকিৎসা ও ন্যায্য জামিনের জন্য আদালতের উপর নগ্ন হস্তক্ষেপ না করার জন্য সরকারের প্রতি আহবান জানান।

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে যুবদল কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির চট্টগ্রাম বিভাগীয় সহসভাপতি ও চট্টগ্রাম মহানগর যুবদলের সভাপতি মোশাররফ হোসেন দিপ্তী বলেন, লুটপাটে ব্যস্ত আওয়ামীলীগ সরকার। ভোট রোগে আক্রান্ত শাসক গোষ্ঠী। দেশনেত্রীকে রাজনীতি থেকে দূরে রাখতেই মিথ্যা মামলায় সাজা দিয়ে কারাগারে বন্দি করে রেখেছে।ক্ষমতার মসনদ চিরস্থায়ী করতেই সর্বদা কূটকৌশলে ব্যস্ত আওয়ামীলীগ সরকার।

বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন কেন্দ্রীয় যুবদলের সহসাধারণ সম্পাদক মনোয়ারুল ইসলাম তিতাস।

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে যুবদল কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির চট্টগ্রাম বিভাগীয় সহসাধারণ সম্পাদক ও চট্টগ্রাম মহানগর যুবদলের সাধারণ সম্পাদক মুহাম্মদ শাহেদ বলেন, বিএনপির চেয়ারপার্সন দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া ও তারুণ্যের অহংকার দেশনায়ক তারেক রহমানকে রাজনীতি থেকে মাইনাস করার রাষ্ট্রীয় ষড়যন্ত্র চলমান। শাসক গোষ্ঠীর ষড়যন্ত্র জাতীয়তাবাদী আদর্শের সৈনিকেরা কখনোই বাস্তবায়ন করতে দেবে না।

নির্বাচন আসলেই শাসক দলের আসল চরিত্র ফুটে উঠে দেশবাসীর কাছে। সারা বছর লুটপাটে ব্যস্ত থাকা জনগণের উপর মোটেই আস্থা নেই। জনগণ ভোট দিতে পারলেই ক্ষমতা থেকে বিদায় নিতে হবে চিরতরে।

তিনি এ সময় দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তি ও রুহুল কবীর রিজভীর উপর হামলাকারীদেও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবী জানান।

বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন কেন্দ্রীয় যুবদলের সহ সাংগঠনিক সম্পাদক মাহবুবুর রহমান জামান ও চট্টগ্রাম বিভাগীয় সহসাংগঠনিক সম্পাদক মনজুরুল আজিম সুমন।

চট্টগ্রাম মহানগর যুবদলের সিনিয়র সহ-সভাপতি ইকবাল হোসেন’র সভাপতিত্বে ও সিনিয়র যুগ্ম সম্পাদক মোশাররফ হোসাইনের পরিচালনায় অন্যান্যেও মধ্যে বক্তব্য রাখেন নগর যুবদলের সহ-সভাপতি নূর আহমদ গুড্ডু, এস এম শাহ আলম রব, সাহেদ আকবর, এম এ রাজ্জাক, ইকবাল হোসেন সংগ্রাম, ফজলুল হক সুমন, মো. ইলিয়াছ, আবদুল করিম, মোহাম্মদ মুছা, মনিরুল হাসান সিদ্দিকী, হাসান মুরাদ, এড. ফিরোজ, মুজিবুর রহমান মুজিব, আবু সুফিয়ান, অরুপ বড়ুয়া, মো. আলী সাকি, যুগ্ম সম্পাদক মো. হুমায়ুন কবীর, মো. সেলিম, এরশাদ হোসেন, আবদুল হামিদ পিন্টু, সেলিম উদ্দিন রাসেল, তৌহিদুল ইসলাম রাসেল, শাহীন পাটওয়ারী, রাজন খান, মোর্শেদ আহমেদ, ওমর ফারুক, হেলাল হোসেন, গুলজার হোসেন, সহ-সাধারণ সম্পাদক ফেরদৌস আলম, কামাল পাশা, আসাদুর রহমান টিপু, ওসমান গনি, শাহজালাল পলাশ, মুজিবুর রহমান রাসেল, জাফর আহমদ খোকন, রাসেল নিজাম, মো. ইয়াসিন, সম্পাদক মন্ডলীর সদস্য নূর হোসেন উজ্জ্বল, জিল্লুর রহমান জুয়েল, মোহাম্মদ সাগীর, মো. আলাউদ্দিন, এস এম বখতেয়ার উদ্দিন, ইফতেখার শাহরিয়ার আজম, নূরুল আমিন, মো. ইকবাল, সহ-সম্পাদক আতিকুর রহমান, কমল জ্যেতি, মাহবুবুর রহমান, মো. জহিরুল ইসলাম জহির, মনজুর আলম, মিজানুর রহমান বাবুল, গিয়াস উদ্দিন টুনু, মেজবাহ উদ্দিন মিন্টু, হাফেজ কামাল উদ্দিন, আশরাফ উদ্দিন, সিরাজ সিকদার, ইব্রাহিম খান, দেলোয়ার হোসেন, সালাহ উদ্দিন, মো. ইদ্রিস, জাফর সাদেক সোহেল, মাস্টার ফজলুল হক, ইয়াসিন আজাদ, মো. ইউসুফ, আবুল কালাম আবু, আবু বক্কর সিদ্দিকী আবু, সাইদুল ইসলাম, মিজানুর রহমান দুলাল জাহাঙ্গীর আলম মানিক, ইমরান ভূঁইয়া, নগর যুবদলের সদস্য আইয়ুব আলী, শাবাব ইয়াজদানী, সোহাগ খান, আবদুস সাত্তার, রাশেদ পারভেজ, আবদুল করিম, সাখাওয়াত কবীর সুমন, থানা যুবদলের যুগ্ম আহবায়ক মনজুর আলম মঞ্জু, শওকত খান রাজু, সাহেদ খান পারভেজ, ইউনুস মুন্না, আইয়ুব আলী, রাসেল আকাশ, সাইফুল ইসলাম, মেজবাহ উদ্দিন চৌধুরী, আবু বক্কর বাবু, এস এম আলী, বাদশা আলমগীর, এস এম শাহবাজ, মো. হাসান, মো. ইউনুস, জহিরুল ইসলাম, সাইফুল ইসলাম প্রমুখ।

Feb2

ঝিনাইদহে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর উপর ডিম নিক্ষেপ ও হামলা

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: শুক্রবার, ২২ মে, ২০২৬, ৩:৪৯ অপরাহ্ণ
ঝিনাইদহে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর উপর ডিম নিক্ষেপ ও হামলা

ঝিনাইদহে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখ্য সংগঠক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর ওপর ডিম নিক্ষেপ ও অতর্কিত হামলার ঘটনা ঘটেছে। ছাত্রদলের নেতা-কর্মীদের বিরুদ্ধে এ অভিযোগ উঠেছে। এসময় ছাত্রদলের হামলায় নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর সঙ্গে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের তিন নেতা-কর্মী আহত হন।

আজ শুক্রবার (২২ মে) দুপুর ২টার দিকে শহরের পুরাতন কালেক্টরেট মসজিদের সামনে এই ঘটনাটি ঘটে।

প্রত্যক্ষদর্শীদের সূত্রে জানা যায়, শুক্রবার জুমার নামাজ আদায় শেষে মসজিদ থেকে বের হচ্ছিলেন নাসির উদ্দিন পাটোয়ারী। এ সময় ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের আহ্বায়ক সাহেদ আহম্মেদ তাঁর সঙ্গে কথা বলতে এগিয়ে যান।

তাদের মধ্যে কথা বলার এক পর্যায়ে হঠাৎ পেছন থেকে কয়েকজন যুবক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর ওপর ডিম নিক্ষেপ করে এবং অতর্কিত হামলা চালায়। এই হামলায় এনসিপির স্থানীয় কয়েকজন যুবক আহত হয়েছেন।

ভুক্তভোগী নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক আইডি থেকে এক পোস্টে হামলার বিস্তারিত জানান। তিনি অভিযোগ করেন, পূর্বনির্ধারিত কর্মসূচি অনুযায়ী জুমার নামাজ আদায় করে মসজিদ থেকে বের হওয়ার পরপরই পুলিশের উপস্থিতিতেই ছাত্রদল ও যুবদলের নেতাকর্মীরা এই হামলা চালায়।

নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী পোস্টে লেখেন, “প্রথমে ডিম, ইট-পাটকেল নিক্ষেপ করা হয়, এরপর হকিস্টিক দিয়ে অতর্কিতভাবে আঘাত করা হয়। তিনজনের মাথা ফাটিয়ে দেওয়া হয় এবং বেশ কয়েকজন আহত হন। আমাকে লক্ষ্য করেও কিল-ঘুষি মারা হয়।”

তিনি আরও অভিযোগ করেন, হামলাকারীরা এ সময় তাদের মোবাইল ফোন, ক্যামেরা এবং মানিব্যাগ ছিনিয়ে নেয়। ঘটনার পর তারা থানায় অবস্থান নিয়ে মামলা দায়েরের প্রস্তুতি নিচ্ছেন বলেও জানান। একই সাথে ছাত্রদল, যুবদল ও বিএনপি থানার সামনে আবারও হামলার প্রস্তুতি নিচ্ছে বলে তিনি ফেসবুক পোস্টে দাবি করেন।

এই ঘটনার পর এনসিপির নেতাকর্মীরা তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে এলাকায় বিক্ষোভ মিছিল করেছেন। বিক্ষোভ থেকে তারা স্বরাষ্ট্র ও আইনমন্ত্রীর পদত্যাগ দাবি করেন এবং হামলায় জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় আনার জোর দাবি জানান।

 

চট্টগ্রামে তিন বছরের শিশুকে ধর্ষণের ঘটনায় মামলা

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: শুক্রবার, ২২ মে, ২০২৬, ২:৪৮ অপরাহ্ণ
চট্টগ্রামে তিন বছরের শিশুকে ধর্ষণের ঘটনায় মামলা

চট্টগ্রামের বাকলিয়ায় তিন বছরের এক শিশুকে ধর্ষণের ঘটনায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। আজ (শুক্রবার) দুপুরে মামলার বিষয়টি নিশ্চিত করেন বাকলিয়া থানার এক কর্মকর্তা।

তিনি বলেন, ভুক্তভোগী শিশুর পিতা বাদী হয়ে মামলা দায়ের করেছেন। মামলায় গ্রেপ্তার মনিরকে আসামি করা হয়েছে।

স্থানীয় সূত্র জানায়, বাকলিয়ার চেয়ারম্যানঘাটা এলাকায় তিন বছর বয়সী এক শিশু নিখোঁজ হওয়ার পর বৃহস্পতিবার বিকেলে তাকে উদ্ধার করা হয়। উদ্ধারের পর শিশুটির শারীরিক অবস্থা দেখে স্বজন ও স্থানীয়দের সন্দেহ হয়, সে যৌন নিপীড়নের শিকার হয়েছে। খবরটি এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে বিকেলের দিকে রাস্তায় নেমে আসেন স্থানীয়রা।

স্থানীয়দের দাবি, অভিযুক্ত যুবকের নাম মনির। তিনি স্থানীয় একটি ডেকোরেশন দোকানে কাজ করেন। তাদের অভিযোগ, মনির তাদের কাছে নিজের অপরাধ স্বীকারও করেছেন।

অভিযুক্ত মনির নিজের অপরাধ স্বীকার করেছেন বলে একটি তথ্য ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়লেও এর সত্যতা সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

গতকাল বিকেল ৪টার দিকে স্থানীয়রা অভিযুক্তের অবস্থান নিশ্চিত করে ‘বিসমিল্লাহ ম্যানশন’ নামের একটি ভবন ঘেরাও করে রাখেন। একপর্যায়ে ভবনটির কলাপসিবল গেট ভেঙে ফেলার চেষ্টাও করা হয়।

খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে শিশুটিকে পরীক্ষার জন্য হাসপাতালে পাঠায়। অন্যদিকে অভিযুক্তকে আটক করে নিয়ে যাওয়ার সময় বিক্ষুব্ধ জনতা পথ আটকে দেয় এবং তাকে নিজেদের হাতে তুলে দেওয়ার দাবি জানায়। বিকেল সাড়ে চারটা থেকে পুলিশকে অবরুদ্ধ করে রাখে স্থানীয়রা। এরপর রাত আটটার দিকে পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে টিয়ারগ্যাস ও সাউন্ড গ্রেনেড নিক্ষেপ করে।

এসময় পুলিশকে লক্ষ্য করে ইটপাটকেল ছোড়েন স্থানীয়রা। এতে পুরো এলাকা রণক্ষেত্রে পরিণত হয়। স্থানীয়দের বাধার মুখে তখন পুলিশ অভিযুক্ত নিয়ে যেতে পারেনি।

পরে রাত ১১টা সময় দিকে জনবল বাড়ায় পুলিশ। পরে বিদ্যুৎ বন্ধ করে অভিযুক্তকে পুলিশের পোশাক পরিয়ে থানায় নিয়ে যাওয়া হয়। এ সময় ফাঁকা গুলি, টিয়ারগ্যাস ও সাউন্ড গ্রেনেড নিক্ষেপ করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করে পুলিশ। এসময় স্থানীয়রা পুলিশের একটি গাড়িতে আগুন দেয়। এতে দফায় দফায় সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।

রামিসার বাসার সামনে বিক্ষোভ, কুলখানির জন্য ঢাকা ছাড়লেন বাবা-মা

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: শুক্রবার, ২২ মে, ২০২৬, ২:৩২ অপরাহ্ণ
রামিসার বাসার সামনে বিক্ষোভ, কুলখানির জন্য ঢাকা ছাড়লেন বাবা-মা

রাজধানীর পল্লবীতে ধর্ষণের পর নৃশংস হত্যার শিকার আট বছরের শিশু রামিসা আক্তারের মৃত্যুর ঘটনায় এখনও থামেনি মানুষের ক্ষোভ আর কান্না।

শুক্রবার (২২ মে) সকাল থেকেই পল্লবীর সেকশন-১১ এলাকায় রামিসাদের বাসার সামনে জড়ো হতে থাকেন বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ। ছোট-ছোট সামাজিক ও স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের ব্যানারে মানববন্ধন, বিক্ষোভ ও প্রতিবাদ কর্মসূচি পালন করতে দেখা যায় স্থানীয়দের।

সেখানে গিয়ে দেখা যায়, বেলা ১১টার পর থেকে রামিসাদের বাসার সামনের গলিতে একে একে জড়ো হন নারী-পুরুষসহ বিভিন্ন বয়সী মানুষ। অনেকের হাতে ছিল ‘রামিসার হত্যাকারীর ফাঁসি চাই’, ‘শিশু ধর্ষণ ও হত্যার বিচার চাই’ লেখা প্ল্যাকার্ড।

এসময় এলাকাজুড়ে ছিল থমথমে পরিবেশ। স্থানীয়দের অনেকেই ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, এমন নির্মম হত্যাকাণ্ডের দৃষ্টান্তমূলক বিচার না হলে সমাজে শিশুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত হবে না।

একটি মানববন্ধনে অংশ নেওয়া লামিয়া খানম নামে এক নারী বলেন, আমরা নিজের সন্তানদের নিয়েই এখন আতঙ্কে আছি। একটা শিশুকে এত নির্মমভাবে হত্যা কোনো মানুষ করতে পারে না।

এদিকে সন্তান হারানোর শোকে এখনও প্রায় নির্বাক রামিসার মা-বাবা। শুক্রবার (আজ) দুপুর ১২টার দিকে মেয়ের কুলখানি ও মিলাদে অংশ নিতে মুন্সীগঞ্জের সিরাজদিখানের উদ্দেশে ঢাকা ছাড়েন তারা। যাওয়ার আগে বাসার সামনে জড়ো হওয়া মানুষদের কান্না আর সান্ত্বনার শব্দে ভারী হয়ে ওঠে পরিবেশ।

পরিবারের স্বজনরা জানান, বৃহস্পতিবার (২১ মে) রাতে সিরাজদিখানে পারিবারিক কবরস্থানে দাফনের সময় পুরো এলাকায় শোকের ছায়া নেমে আসে। রামিসার মা এখনও মেয়ের জামাকাপড় ও ব্যবহৃত জিনিসপত্র বুকে জড়িয়ে কাঁদছেন। আর বাবা আব্দুল হান্নান মোল্লা বারবার মেয়ের শেষ আবদারের কথা মনে করে ভেঙে পড়ছেন। দুই দিন আগে মেয়ের জন্য একটি বোরকা কিনে এনেছিলেন তিনি। কিন্তু সেই বোরকা আর পরা হয়নি রামিসার।

গত মঙ্গলবার সকালে পল্লবীর সেকশন-১১ এলাকায় নিজ বাসার পাশ থেকে নিখোঁজ হয় দ্বিতীয় শ্রেণির ছাত্রী রামিসা। পরে প্রতিবেশী সোহেল রানার ফ্ল্যাট থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় শিশুটির বাবা পল্লবী থানায় মামলা করেন।

পুলিশ জানায়, প্রধান অভিযুক্ত সোহেল রানা শিশুটিকে ধর্ষণের পর হত্যা করে মরদেহ গোপনের চেষ্টা করেন। ঘটনার পর নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। আদালতে তিনি হত্যার দায় স্বীকার করে জবানবন্দিও দিয়েছেন। এ ঘটনায় সোহেলের স্ত্রী স্বপ্না আক্তারকেও গ্রেপ্তার করে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।