খুঁজুন
, ,

ঢাকার স্টাইলে চট্টগ্রামে নির্বাচন হতে দেবো না:খসরু

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Sunday, 8 March, 2020, 8:32 pm
ঢাকার স্টাইলে চট্টগ্রামে নির্বাচন হতে দেবো না:খসরু

বিএনপির জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেছেন, চসিক নির্বাচন বাংলাদেশের মানুষের ভোটাধিকার ফিরে পাবার একটি বড় আন্দোলন। সংবিধান প্রত্যেক নাগরিকের জন্য ভোটাধিকার নিশ্চিত করেছে। যেটা বর্তামান অনির্বাচিত সরকার অবৈধ সংসদের মাধ্যমে জনগণের কাছ থেকে কেড়ে নিয়েছে। ভোট কেড়ে নেয়ার পর একটার পর একটা অধিকার কেড়ে নিচ্ছে। ক্ষমতায় থাকার জন্য ও ক্ষমতায় যাওয়ার জন্য জনগণের অধিকার হাইজ্যাক করছে। তা না হলে তাদের ক্ষমতায় ঠিকে থাকা সম্ভব নয়।

এই প্রেক্ষাপটে আজকে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হচ্ছে। আন্দোলনের অংশ হিসাবে এই নির্বাচনে আমাদের ভোটাধিকার দিয়ে পাবার মাধ্যমে আমরা সফল হতে পারবো। ২৯ মার্চ যদি ভোটাধিকার ফিরিয়ে দিতে পারি তাহলে রাজনৈতিক অধিকার ফিরে পাবো।

তিনি আজ রবিবার (৮ মার্চ) বিকালে চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির উদ্যোগে নাসিমন ভবনস্থ দলীয় কার্যালয় মাঠে চসিক নির্বাচনের বিএনপির মেয়র প্রার্থী ডা. শাহাদাত হোসেনের প্রধান নির্বাচনী কার্যালয় উদ্বোধনকালে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এ কথা বলেন।

তিনি বলেন, বিভিন্ন নির্বাচনে আমরা দেখেছি চট্টগ্রামের মানুষ সময় মতো তাদের উদ্যোগ নেয়। এটা অন্য কোন বড় শহরের মতো নয়। ঢাকার নির্বাচনে ইভিএম দিয়ে ভোট কেড়ে নিয়েছে। চট্টগ্রামে আমরা সেটা হতে দেবো না। ওবায়দুল কাদের ইতিমধ্যে চট্টগ্রামের সার্কিট হাউসে নির্বাচনী সভা করেছে। এটা সম্পূর্ণভাবে নির্বাচনী আচরণ বিধি লংগন করেছে। ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেন এমপি হিসেবে নির্বাচনী কমিটির প্রধান হয়ে বিধি ভঙ্গ করেছেন। আমরা ঢাকার স্টাইলে চট্টগ্রামে নির্বাচন হতে দেবো না। যদি ইসি আমাদের কথা না মানে তাহলে আমরা পদক্ষেপ নেবো। আমাদের সর্বশক্তি দিয়ে আমরা প্রতিরোধ করবো। তাই আপনাদের সুশৃংখলভাবে ভূমিকা পালন করতে হবে।

তিনি বলেন, আমাদের প্রত্যেকটি কেন্দ্রে নিয়ন্ত্রিভাবে নির্বাচন করতে হবে। কারণ আমরা ভোট ডাকাতদের বিরুদ্ধে নির্বাচন করছি। এটা কোন সাধারণ নির্বাচন নয়। প্রত্যেক নেতা কর্মীকে কেন্দ্রে শক্ত অবস্থান নিতে হবে। যাতে বাইরের কেউ এসে কোন সুযোগ নিতে না পারে। ভয়কে জয় করে শক্তিশালী অবস্থান থেকে নির্বাচন করতে হবে। আওয়ামীলীগ তো রাষ্ট্রযন্ত্র ও সরকারী বাহিনীর উপর নির্ভরশীল। তারা ভীত বলেই অন্যের উপর নির্ভর করে। আমাদের মনে সাহস আছে বলেই একটা সামন্য কথা বললেই তারা লাফ দেয়।

তিনি বলেন, আওয়ামীলীগ বেগম খালেদা জিয়া ও জনগণকে ভয় পায় বলেই দেশনেত্রীকে জেলে বন্দি করে রেখেছে। আওয়ামীলীগ এখন ভোটের ভয়ে আছে। এই ভয়ের থেকে ইভিএম চুরির মেশিন নিয়ে এসেছে। তারা জনগণের উপর নির্ভরশীল নয়। কিন্তু চোরের দশ দিন গৃহস্তের একদিন। এবার চট্টগ্রাম গৃহস্তরা জাগ্রত হয়ে গেছে। চট্টগ্রামে ভোট চুরি করতে দেব না। চট্টগ্রামে এবার ভোট চোর ধরবো। হাতেনাতে চোর ধরতে হবে। সাহসের সাথে মনোবল নিয়ে কেন্দ্রে গেলে জয় কেউ কেড়ে নিতে পারবে না।

তিনি বলেন, ডা. শাহাদাত হোসেন একজন ভাল মানুষ। একজন পেশাজীবি হিসেবে সবার কাছে জনপ্রিয়। আর বিএনপির নেতাকর্মীরা এখন জ্বলে পুরে খাঁটি সোনায় পরিণত হয়ে গেছে। তাই আমাদেও বিজয় কেউ কেড়ে নিতে পারবে না।

সভাপতির বক্তব্যে বিএনপির মেয়র প্রার্থী ও চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির সভাপতি ডাঃ শাহাদাত হোসেন বলেন, আমাদের লড়াই হচ্ছে গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার, আইনের শাসন ও ভোটাধিকার রক্ষার লড়াই। এই ভোটের অধিকার রক্ষার জন্য ২৯ মার্চ প্রতিটি কেন্দ্রে স্ব স্ব অবস্থান নিয়ে সবকিছুকে উপেক্ষা করে বিজয়ী হতে হবে। বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তির বার্তা ২৯ মার্চ বিজয়ের মাধ্যমে দিতে চায়। বিজয়ী হয়ে দেশনেত্রীকে মুক্ত করবো এই হচ্ছে আমাদেও স্লোগান। ইনশাআল্লাহ বিজয় আমাদের সুনিশ্চিত।

তিনি বলেন, বেগম খালেদা জিয়াকে বন্দি করে আওয়ামীলীগ রাজনৈতিক দেউলিয়াত্বের প্রমাণ দিয়েছে। আজকে জনগণ তাদের পাশে নেই। জনগণ এখন ধানের শীষ ও বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তির পক্ষে। জনগণ এখন ২৯ মার্চ বিজয়ীর মাধ্যমে বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তির প্রহর গুনছে। অতীতে চট্টগ্রামবাসীর পাশে ছিলাম ভবিষ্যতেও থাকবো। কোন বাঁধা বিপত্তি বিজয় থেকে আমাদের দূরে রাখতে পারবে না। তাই সবাইকে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তির বার্তা নিয়ে বিজয় সুনিশ্চিত করতে হবে।

প্রধান বক্তার বক্তব্যে কেন্দ্রীয় বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক মাহবুবের রহমান শামীম বলেন, দেশে এখন একটি অগণতান্ত্রিক সরকার ক্ষমতা দখল করে আছে। দেশে এখন জংলী শাসন চলছে। ভোট ডাকাতীর সরকার ক্ষমতায় আছে। এই অবস্থায় আমরা চসিক নির্বাচন করছি। গণতন্ত্রকে রক্ষার জন্য আমরা নির্বাচনে অংশ নিয়েছি। ২৯ মার্চের চসিক নির্বাচনকে ৯০’র গণআন্দোলনের মত নিতে চায়। সেইজন্য কেন্দ্রে কেন্দ্রে অবস্থান নিয়ে পাহারা বসাতে হবে। ২৯ মার্চ আমরা বিজয়ের মালা নিয়ে ঘরে ফিরবো ইনশাআল্লাহ।

এতে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিএনপি চেয়ারর্পাসনের উপদেষ্টাবেগম রোজি কবির, এস এম ফজলুল হক, বিএনপির কেন্দ্রীয় শ্রম বিষয়ক সম্পাদক এ এম নাজিম উদ্দীন, সাবেক মন্ত্রী জাফরুল ইসলাম চৌধুরী, কেন্দ্রীয় শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন। চট্টগ্রাম মহানগর বিএপির সি: যুগ্ম সম্পাদক এস এম সাইফুল আলমের পরিচালনায় অন্যান্যদের মধ্যে
বক্তব্য রাখেন চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আবুল হাসেম বক্কর, সিনিয়র সহসভাপতি আবু সুফিয়ান, বিএনপি নেতা এম এ হালিম, চাকসু ভিপি নাজিম উদ্দিন, ইসহাক কাদের চৌধুরী, আলহাজ্ব এম এ আজিজ, মোহাম্মদ মিয়া ভোলা, সামশুল আলম, সৈয়দ আজম উদ্দিন, ইদ্রীস মিয়া চেয়ারম্যান, মোহাম্মদ আলী, নাজিমুর রহমান, আশরাফ চৌধুরী, হারুন জামান, মাহবুবুল আলম, অধ্যাপক নুরুল আলম রাজু, ইকবাল চৌধুরী, জাহিদুল করিম কচি, ইঞ্জিনিয়ার বেলায়েত হোসেন, শাহ আলম, ইসকান্দর মির্জা, ইয়াছিন চৌধূরী লিটন, আবদুল মন্নান, জাহাঙ্গির আলম দুলাল, আহমেদুল আলম রাসেল, কাউন্সিলর আবুল হাসেম, আনোয়ার হোসেন লিপু, এডভোকেট আবু তাহের, মনজুর আলম চৌধুরী মনজু, মো. কামরুল ইসলাম, শেখ নুরুল্লা বাহার, জেলী চৌধুরী প্রমুখ।

Feb2
Feb2

প্রধানমন্ত্রীর উপস্থিতিতে শপথ নিলেন সারোয়ার আলমগীর

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Thursday, 9 July, 2026, 11:28 pm
প্রধানমন্ত্রীর উপস্থিতিতে শপথ নিলেন সারোয়ার আলমগীর

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের উপস্থিতিতে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের নির্বাচিত সংসদ সদস্য সারোয়ার আলমগীরের শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়েছে। অনুষ্ঠানে নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যকে শপথ বাক্য পাঠ করান বাংলাদেশ জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ।

বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) সন্ধ্যা সোয়া ৭টায় জাতীয় সংসদের স্পিকারের কার্যালয়ে এ শপথ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।

সংসদ সচিবালয়ের সচিব ব্যারিস্টার মো. গোলাম সরওয়ার ভুঁইয়ার সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। সংবিধানের ১৪৮ অনুচ্ছেদের তৃতীয় তফসিল এবং জাতীয় সংসদের কার্যপ্রণালি বিধি-৫ এর আলোকে এই শপথ বাক্য পাঠ করানো হয়। শপথ গ্রহণ শেষে নতুন সংসদ সদস্য প্রচলিত রীতি অনুযায়ী সংসদ সচিবের কক্ষে রক্ষিত শপথ বইয়ে স্বাক্ষর করেন।

শপথ অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন সরকারের স্থানীয় সরকার মন্ত্রী, অর্থমন্ত্রী, জাতীয় সংসদের ডেপুটি স্পিকার, চিফ হুইপ ও অন্যান্য হুইপরা। এছাড়া বেশ কয়েকজন সংসদ সদস্য এবং সংসদ সচিবালয়ের সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা এ সময় উপস্থিত থেকে নবনির্বাচিত এমপিকে অভিনন্দন জানান।

যুগ্ম-সচিব পদে ১৭৯ কর্মকর্তার পদোন্নতি

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Thursday, 9 July, 2026, 10:31 pm
যুগ্ম-সচিব পদে ১৭৯ কর্মকর্তার পদোন্নতি

১৭৯ জন উপসচিবকে যুগ্ম-সচিব পদে পদোন্নতি দিয়েছে সরকার। বিএনপি সরকার গঠন করার পর প্রশাসনে এটিই প্রথম বড় পদোন্নতি।

বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে থেকে এ সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছে।

পদোন্নতি পাওয়া কর্মকর্তাদের জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের বিশেষ ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওএসডি) করা হয়েছে। তবে নতুন যুগ্ম-সচিবদের পদায়ন করে আদেশ জারি করা হয়নি।

প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, যুগ্ম-সচিব পদে পদোন্নতিপ্রাপ্ত কর্মকর্তারা তাদের যোগদানপত্র সরাসরি জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব বরাবর বা অনলাইনে ই-মেইলে (sa1@mopa.gov.bd) পাঠাতে পারবেন।

পদোন্নতির আদেশে উল্লেখিত কর্মস্থল থেকে কোনো কর্মকর্তার দপ্তর/কর্মস্থল ইতোমধ্যে পরিবর্তন হলে কর্মরত দপ্তরের নাম ঠিকানা উল্লেখ করে যোগদানপত্র দাখিল করবেন।

পরবর্তী সময়ে কোনো কর্মকর্তার বিরুদ্ধে কোনরকম বিরূপ/ভিন্নরূপ তথ্য পাওয়া গেলে, তার ক্ষেত্রে এই আদেশের প্রয়োজনীয় সংশোধন/বাতিল করার অধিকার কর্তৃপক্ষ সংরক্ষণ করে বলে প্রজ্ঞাপনে জানানো হয়েছে।

অন্যদিকে পৃথক প্রজ্ঞাপনে আরও ৭ জনকে যুগ্ম-সচিব পদে পদোন্নতি দেওয়া হয়েছে। এ নিয়ে একদিনে মোট ১৭৯ জন এ পদে পদোন্নতি দেওয়া হলো।

বর্তমানে প্রশাসনে যুগ্ম-সচিবের সংখ্যা হলো এক হাজার ৬১ জন। এ পদোন্নতির মূল বিবেচ্য ছিল বাংলাদেশ সিভিল সার্ভিস (বিসিএস) প্রশাসন ক্যাডারের ২৪তম ব্যাচ। এছাড়া ইতোপূর্বে বঞ্চিত বিভিন্ন ব্যাচের কর্মকর্তারাও পদোন্নতির তালিকায় রয়েছেন।

‘সরকারের উপসচিব, যুগ্মসচিব, অতিরিক্ত সচিব ও সচিব পদে পদোন্নতি বিধিমালা, ২০০২’-এ বলা হয়েছে, যুগ্ম-সচিব পদে পদোন্নতির ক্ষেত্রে ৭০ শতাংশ প্রশাসন ক্যাডারের কর্মকর্তাদের ও ৩০ শতাংশ অন্যান্য ক্যাডারের উপসচিব পদে কর্মরতদের বিবেচনায় নিতে হবে।

বিধিমালা অনুযায়ী, উপসচিব পদে কমপক্ষে ৫ বছর চাকরিসহ সংশ্লিষ্ট ক্যাডারের সদস্য হিসেবে কমপক্ষে ১৫ বছরের চাকরির অভিজ্ঞতা বা উপ-সচিব পদে কমপক্ষে ৩ বছর চাকরিসহ ২০ বছরের অভিজ্ঞতা থাকলে কোনো কর্মকর্তা যুগ্মসচিব পদে পদোন্নতির জন্য বিবেচিত হন।

সুন্দরভাবে বেঁচে থাকার জন্যই সবুজায়ন জরুরি : প্রধানমন্ত্রী

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Thursday, 9 July, 2026, 3:04 pm
সুন্দরভাবে বেঁচে থাকার জন্যই সবুজায়ন জরুরি : প্রধানমন্ত্রী

প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেছেন, সব সৃষ্টি থেকে উপকার ভোগ করতে হলে, মানুষ হিসেবে আমাদের অবশ্যই কিছু দায়িত্ব এবং কর্তব্য রয়েছে। যথানিয়মে সব সৃষ্টির যত্ন এবং পরিচর্যা করা মানব সমাজের দায়িত্ব।

তিনি বলেন, বিজ্ঞানের উৎকর্ষতার সঙ্গে সঙ্গে এটি প্রমাণিত সত্য, বাস্তুতন্ত্র বা ইকোসিস্টেমের সঙ্গে মানব সমাজের সম্পর্ক গভীর এবং অবিচ্ছেদ্য। বাস্তুতন্ত্রের নিরাপদ লালন এবং বিকাশের সঙ্গে মানব সমাজের নিরাপদ বেড়ে ওঠা ওতপ্রোতভাবে জড়িত। সুতরাং, আজকের এই পরিবেশ মেলা কিংবা বৃক্ষমেলার আয়োজন, এটি কিন্তু বর্তমান এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের সুন্দর ও সুস্থভাবে বেড়ে ওঠার জন্য একটি নিরাপদ বিনিয়োগ বলেই আমি মনে করি।

বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) রাজধানীর আগারগাঁওয়ে চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে বিশ্ব পরিবেশ দিবস ও পরিবেশ মেলা এবং জাতীয় বৃক্ষরোপণ অভিযান ও বৃক্ষমেলা-২০২৬ উপলক্ষ্যে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী এ কথা বলেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, বৃক্ষরোপণের প্রয়োজনীয়তা এবং উপকারিতা নিয়ে নতুন করে বেশি কিছু বলার নেই। বৃক্ষরোপণ কিংবা সবুজায়নের গুরুত্ব সম্পর্কে আমরা সবাই কম বেশি অবগত। আপনার-আমার-আমাদের আগামী প্রজন্মের সুন্দরভাবে বেঁচে থাকার জন্যই সবুজায়ন জরুরি। একটি সন্তান পৃথিবীতে জন্মগ্রহণ করলে, আসুন আমরা একটি করে গাছ লাগানোর মধ্য দিয়ে প্রতিটি প্রাণের জন্মকে উদযাপন করি, স্মরণীয় করে রাখি। একজন নবজাতকের পাশাপাশি একটি গাছও বেড়ে উঠুক। এভাবেই এগিয়ে যাক সবুজায়নের জন্য সামাজিক আন্দোলন।

তারেক রহমান বলেন, সবুজায়নের সামাজিক আন্দোলনের পাশাপাশি পরিবেশ সংরক্ষণে সরকারিভাবেও নানা উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। বর্তমান সরকার শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে গ্রিন ভলান্টিয়ারিজম চালু করার পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। একইসঙ্গে ক্লাইমেট ইয়ুথ ফেলোশিপ চালু এবং এনভায়রনমেন্ট স্টার্ট-আপ ফান্ডসহ বেশ কিছু ইতিবাচক উদ্যোগ নিয়েছে।

তিনি বলেন, সরকারের নেওয়া উদ্যোগগুলো সফলভাবে বাস্তবায়িত হলে বর্তমান এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্যে একটি নিরাপদ, স্বাস্থ্যকর ও সবুজ বাংলাদেশ গঠন অসম্ভব নয়।

বর্তমান সরকার পাঁচ বছরে নতুন করে ২৫ কোটি গাছ রোপণের কর্মসূচি নিয়েছে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, তবে ইচ্ছেমতো গাছ রোপণ করলেই উদ্দেশ্য সাধিত হবে না। বরং কোন পরিবেশে, কোন প্রকারের মাটিতে, কি ধরনের আবহাওয়ায়, কোন প্রজাতির গাছ রোপণ করা দরকার, এগুলো-পরীক্ষা নিরীক্ষা খুবই গুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয়। যেমন ইউক্যালিপটাস কিংবা আকাশমণি প্রজাতির গাছ দ্রুত বেড়ে ওঠে, কিন্তু এ ধরনের গাছ আমাদের পরিবেশের জন্য কতটা উপযোগী সেটি অবশ্যই গবেষণার দাবি রাখে।

তিনি বলেন, নতুন বৃক্ষরোপণের ক্ষেত্রে দেশীয় প্রজাতির গাছ যেমন ওষুধি, অর্কিড, বাঁশজাতীয়, বনজ, ফলদ, অর্থকরী এবং বিপন্ন প্রজাতির গাছ রোপণ অগ্রাধিকার দেওয়া উচিত।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, নতুন বৃক্ষরোপণ অবশ্যই জরুরি, তবে রোপিত গাছ নিরাপদে বেড়ে উঠছে কিনা কিংবা বেড়ে উঠতে পারছে কিনা, সেটি নিশ্চিত করা তার চেয়েও বেশি জরুরি। আর যুগ যুগ ধরে স্থানীয় বাস্তুতন্ত্রের অংশ হয়ে যাওয়া, বিদ্যমান গাছগুলোকে কেটে না ফেলে, জীব বৈচিত্র্য রক্ষা করা সবচেয়ে বেশি জরুরি। আমি আশা করি, বনবিভাগ সেটি নিশ্চিত করবে। সরকার পরিবেশ রক্ষার স্বার্থে বন উজাড়, পাহাড় কাটা, ম্যানগ্রোভ ধ্বংস এবং বন্যপ্রাণী নিধনের বিরুদ্ধেও কঠোর অবস্থান নিয়েছে।

তিনি বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত-এটি এখন আর ভবিষ্যতের কোনো আশঙ্কার বিষয় নয়। বরং এটিই এখন আমাদের প্রতিদিনের বাস্তবতা। ঘূর্ণিঝড়, বন্যা, খরা, তাপপ্রবাহ কিংবা দাবদাহ, নদীভাঙন, লবণাক্ততা, আমাদের কৃষি, স্বাস্থ্য, অর্থনীতি সর্বোপরি জন জীবনকে চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলে দিয়েছে। এই বাস্তবতায় বর্তমান সরকার পরিবেশকে কোনো আলাদা খাত হিসেবে নয়, বরং জাতীয় উন্নয়নের অন্যতম ভিত্তি হিসেবে বিবেচনা করছে। বর্তমান সরকারের লক্ষ্য এমন একটি সবুজ, পরিচ্ছন্ন, জলবায়ু-সহনশীল টেকসই বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠা যেখানে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ও পরিবেশ সংরক্ষণ পাশাপাশি এগিয়ে যাবে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, বৃক্ষরোপণের পাশাপাশি বর্তমান সরকার সারাদেশে ২০ হাজার কিলোমিটার নদী ও খাল খনন ও পুনঃখননের যে কর্মসূচি বাস্তবায়ন শুরু করেছে, সেটি শুধুমাত্র কৃষকদের জন্য বছর জুড়ে কৃষি সেচ সুবিধাই নিশ্চিত করবে না, বরং জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত মোকাবিলার ক্ষেত্রেও কার্যকর ভূমিকা রাখবে। তবে পরিবেশের উন্নয়ন শুধুমাত্র বৃক্ষরোপণ কিংবা খাল খননের ওপরই নির্ভর করে না। রাজধানীসহ বিশেষ করে সারাদেশের সব নগর বন্দর এবং শহরতলির বর্জ্য ব্যবস্থাপনাতেও আমূল পরিবর্তন আনার কোনো বিকল্প নেই।

তিনি বলেন, প্লাস্টিক বর্জ্য উল্লেখযোগ্যভাবে কমিয়ে আনার লক্ষ্যে সরকার এরইমধ্যে কাজ শুরু করেছে। একইসঙ্গে জৈব সার উৎপাদন, পুনর্ব্যবহার, বর্জ্য থেকে জ্বালানি উৎপাদন এবং রিডিউস-রিইউজ-রিসাইকেল এই থ্রিআরএস নীতিকে সরকার জাতীয় পর্যায়ে বাস্তবায়নের নীতি বাস্তবায়নের উদ্যোগ নিয়েছে। বর্জ্য ব্যবস্থাপনা একটি সুশৃঙ্খল পদ্ধতিতে আনতে হলে এটি শুধুমাত্র নগর প্রশাসন কিংবা পুলিশ দিয়ে নিশ্চিত করা সম্ভব নয়, এজন্য প্রয়োজন ছোট বড় প্রতিটি নাগরিকের দায়িত্বশীল আচরণ। প্রতিটি নাগরিকের প্রতি উদাত্ত আহ্বান, অনুগ্রহ করে যেখানে সেখানে বর্জ্য কিংবা উচ্ছিষ্ট ফেলবেন না।

ঘরে কিংবা বাইরে সবসময় সব বর্জ্য নির্ধারিত স্থানে ফেলুন। নিজে সুস্থ থাকুন-নিজের পরিবারের জন্যও পরিবেশ সুন্দর রাখুন বলেও মন্তব্য করেন প্রধানমন্ত্রী।