খুঁজুন
সোমবার, ২৫শে মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ১১ই জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ঢাকার স্টাইলে চট্টগ্রামে নির্বাচন হতে দেবো না:খসরু

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: রবিবার, ৮ মার্চ, ২০২০, ৮:৩২ অপরাহ্ণ
ঢাকার স্টাইলে চট্টগ্রামে নির্বাচন হতে দেবো না:খসরু

বিএনপির জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেছেন, চসিক নির্বাচন বাংলাদেশের মানুষের ভোটাধিকার ফিরে পাবার একটি বড় আন্দোলন। সংবিধান প্রত্যেক নাগরিকের জন্য ভোটাধিকার নিশ্চিত করেছে। যেটা বর্তামান অনির্বাচিত সরকার অবৈধ সংসদের মাধ্যমে জনগণের কাছ থেকে কেড়ে নিয়েছে। ভোট কেড়ে নেয়ার পর একটার পর একটা অধিকার কেড়ে নিচ্ছে। ক্ষমতায় থাকার জন্য ও ক্ষমতায় যাওয়ার জন্য জনগণের অধিকার হাইজ্যাক করছে। তা না হলে তাদের ক্ষমতায় ঠিকে থাকা সম্ভব নয়।

এই প্রেক্ষাপটে আজকে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হচ্ছে। আন্দোলনের অংশ হিসাবে এই নির্বাচনে আমাদের ভোটাধিকার দিয়ে পাবার মাধ্যমে আমরা সফল হতে পারবো। ২৯ মার্চ যদি ভোটাধিকার ফিরিয়ে দিতে পারি তাহলে রাজনৈতিক অধিকার ফিরে পাবো।

তিনি আজ রবিবার (৮ মার্চ) বিকালে চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির উদ্যোগে নাসিমন ভবনস্থ দলীয় কার্যালয় মাঠে চসিক নির্বাচনের বিএনপির মেয়র প্রার্থী ডা. শাহাদাত হোসেনের প্রধান নির্বাচনী কার্যালয় উদ্বোধনকালে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এ কথা বলেন।

তিনি বলেন, বিভিন্ন নির্বাচনে আমরা দেখেছি চট্টগ্রামের মানুষ সময় মতো তাদের উদ্যোগ নেয়। এটা অন্য কোন বড় শহরের মতো নয়। ঢাকার নির্বাচনে ইভিএম দিয়ে ভোট কেড়ে নিয়েছে। চট্টগ্রামে আমরা সেটা হতে দেবো না। ওবায়দুল কাদের ইতিমধ্যে চট্টগ্রামের সার্কিট হাউসে নির্বাচনী সভা করেছে। এটা সম্পূর্ণভাবে নির্বাচনী আচরণ বিধি লংগন করেছে। ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেন এমপি হিসেবে নির্বাচনী কমিটির প্রধান হয়ে বিধি ভঙ্গ করেছেন। আমরা ঢাকার স্টাইলে চট্টগ্রামে নির্বাচন হতে দেবো না। যদি ইসি আমাদের কথা না মানে তাহলে আমরা পদক্ষেপ নেবো। আমাদের সর্বশক্তি দিয়ে আমরা প্রতিরোধ করবো। তাই আপনাদের সুশৃংখলভাবে ভূমিকা পালন করতে হবে।

তিনি বলেন, আমাদের প্রত্যেকটি কেন্দ্রে নিয়ন্ত্রিভাবে নির্বাচন করতে হবে। কারণ আমরা ভোট ডাকাতদের বিরুদ্ধে নির্বাচন করছি। এটা কোন সাধারণ নির্বাচন নয়। প্রত্যেক নেতা কর্মীকে কেন্দ্রে শক্ত অবস্থান নিতে হবে। যাতে বাইরের কেউ এসে কোন সুযোগ নিতে না পারে। ভয়কে জয় করে শক্তিশালী অবস্থান থেকে নির্বাচন করতে হবে। আওয়ামীলীগ তো রাষ্ট্রযন্ত্র ও সরকারী বাহিনীর উপর নির্ভরশীল। তারা ভীত বলেই অন্যের উপর নির্ভর করে। আমাদের মনে সাহস আছে বলেই একটা সামন্য কথা বললেই তারা লাফ দেয়।

তিনি বলেন, আওয়ামীলীগ বেগম খালেদা জিয়া ও জনগণকে ভয় পায় বলেই দেশনেত্রীকে জেলে বন্দি করে রেখেছে। আওয়ামীলীগ এখন ভোটের ভয়ে আছে। এই ভয়ের থেকে ইভিএম চুরির মেশিন নিয়ে এসেছে। তারা জনগণের উপর নির্ভরশীল নয়। কিন্তু চোরের দশ দিন গৃহস্তের একদিন। এবার চট্টগ্রাম গৃহস্তরা জাগ্রত হয়ে গেছে। চট্টগ্রামে ভোট চুরি করতে দেব না। চট্টগ্রামে এবার ভোট চোর ধরবো। হাতেনাতে চোর ধরতে হবে। সাহসের সাথে মনোবল নিয়ে কেন্দ্রে গেলে জয় কেউ কেড়ে নিতে পারবে না।

তিনি বলেন, ডা. শাহাদাত হোসেন একজন ভাল মানুষ। একজন পেশাজীবি হিসেবে সবার কাছে জনপ্রিয়। আর বিএনপির নেতাকর্মীরা এখন জ্বলে পুরে খাঁটি সোনায় পরিণত হয়ে গেছে। তাই আমাদেও বিজয় কেউ কেড়ে নিতে পারবে না।

সভাপতির বক্তব্যে বিএনপির মেয়র প্রার্থী ও চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির সভাপতি ডাঃ শাহাদাত হোসেন বলেন, আমাদের লড়াই হচ্ছে গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার, আইনের শাসন ও ভোটাধিকার রক্ষার লড়াই। এই ভোটের অধিকার রক্ষার জন্য ২৯ মার্চ প্রতিটি কেন্দ্রে স্ব স্ব অবস্থান নিয়ে সবকিছুকে উপেক্ষা করে বিজয়ী হতে হবে। বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তির বার্তা ২৯ মার্চ বিজয়ের মাধ্যমে দিতে চায়। বিজয়ী হয়ে দেশনেত্রীকে মুক্ত করবো এই হচ্ছে আমাদেও স্লোগান। ইনশাআল্লাহ বিজয় আমাদের সুনিশ্চিত।

তিনি বলেন, বেগম খালেদা জিয়াকে বন্দি করে আওয়ামীলীগ রাজনৈতিক দেউলিয়াত্বের প্রমাণ দিয়েছে। আজকে জনগণ তাদের পাশে নেই। জনগণ এখন ধানের শীষ ও বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তির পক্ষে। জনগণ এখন ২৯ মার্চ বিজয়ীর মাধ্যমে বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তির প্রহর গুনছে। অতীতে চট্টগ্রামবাসীর পাশে ছিলাম ভবিষ্যতেও থাকবো। কোন বাঁধা বিপত্তি বিজয় থেকে আমাদের দূরে রাখতে পারবে না। তাই সবাইকে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তির বার্তা নিয়ে বিজয় সুনিশ্চিত করতে হবে।

প্রধান বক্তার বক্তব্যে কেন্দ্রীয় বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক মাহবুবের রহমান শামীম বলেন, দেশে এখন একটি অগণতান্ত্রিক সরকার ক্ষমতা দখল করে আছে। দেশে এখন জংলী শাসন চলছে। ভোট ডাকাতীর সরকার ক্ষমতায় আছে। এই অবস্থায় আমরা চসিক নির্বাচন করছি। গণতন্ত্রকে রক্ষার জন্য আমরা নির্বাচনে অংশ নিয়েছি। ২৯ মার্চের চসিক নির্বাচনকে ৯০’র গণআন্দোলনের মত নিতে চায়। সেইজন্য কেন্দ্রে কেন্দ্রে অবস্থান নিয়ে পাহারা বসাতে হবে। ২৯ মার্চ আমরা বিজয়ের মালা নিয়ে ঘরে ফিরবো ইনশাআল্লাহ।

এতে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিএনপি চেয়ারর্পাসনের উপদেষ্টাবেগম রোজি কবির, এস এম ফজলুল হক, বিএনপির কেন্দ্রীয় শ্রম বিষয়ক সম্পাদক এ এম নাজিম উদ্দীন, সাবেক মন্ত্রী জাফরুল ইসলাম চৌধুরী, কেন্দ্রীয় শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন। চট্টগ্রাম মহানগর বিএপির সি: যুগ্ম সম্পাদক এস এম সাইফুল আলমের পরিচালনায় অন্যান্যদের মধ্যে
বক্তব্য রাখেন চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আবুল হাসেম বক্কর, সিনিয়র সহসভাপতি আবু সুফিয়ান, বিএনপি নেতা এম এ হালিম, চাকসু ভিপি নাজিম উদ্দিন, ইসহাক কাদের চৌধুরী, আলহাজ্ব এম এ আজিজ, মোহাম্মদ মিয়া ভোলা, সামশুল আলম, সৈয়দ আজম উদ্দিন, ইদ্রীস মিয়া চেয়ারম্যান, মোহাম্মদ আলী, নাজিমুর রহমান, আশরাফ চৌধুরী, হারুন জামান, মাহবুবুল আলম, অধ্যাপক নুরুল আলম রাজু, ইকবাল চৌধুরী, জাহিদুল করিম কচি, ইঞ্জিনিয়ার বেলায়েত হোসেন, শাহ আলম, ইসকান্দর মির্জা, ইয়াছিন চৌধূরী লিটন, আবদুল মন্নান, জাহাঙ্গির আলম দুলাল, আহমেদুল আলম রাসেল, কাউন্সিলর আবুল হাসেম, আনোয়ার হোসেন লিপু, এডভোকেট আবু তাহের, মনজুর আলম চৌধুরী মনজু, মো. কামরুল ইসলাম, শেখ নুরুল্লা বাহার, জেলী চৌধুরী প্রমুখ।

Feb2

ঝিনাইদহে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর উপর ডিম নিক্ষেপ ও হামলা

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: শুক্রবার, ২২ মে, ২০২৬, ৩:৪৯ অপরাহ্ণ
ঝিনাইদহে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর উপর ডিম নিক্ষেপ ও হামলা

ঝিনাইদহে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখ্য সংগঠক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর ওপর ডিম নিক্ষেপ ও অতর্কিত হামলার ঘটনা ঘটেছে। ছাত্রদলের নেতা-কর্মীদের বিরুদ্ধে এ অভিযোগ উঠেছে। এসময় ছাত্রদলের হামলায় নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর সঙ্গে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের তিন নেতা-কর্মী আহত হন।

আজ শুক্রবার (২২ মে) দুপুর ২টার দিকে শহরের পুরাতন কালেক্টরেট মসজিদের সামনে এই ঘটনাটি ঘটে।

প্রত্যক্ষদর্শীদের সূত্রে জানা যায়, শুক্রবার জুমার নামাজ আদায় শেষে মসজিদ থেকে বের হচ্ছিলেন নাসির উদ্দিন পাটোয়ারী। এ সময় ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের আহ্বায়ক সাহেদ আহম্মেদ তাঁর সঙ্গে কথা বলতে এগিয়ে যান।

তাদের মধ্যে কথা বলার এক পর্যায়ে হঠাৎ পেছন থেকে কয়েকজন যুবক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর ওপর ডিম নিক্ষেপ করে এবং অতর্কিত হামলা চালায়। এই হামলায় এনসিপির স্থানীয় কয়েকজন যুবক আহত হয়েছেন।

ভুক্তভোগী নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক আইডি থেকে এক পোস্টে হামলার বিস্তারিত জানান। তিনি অভিযোগ করেন, পূর্বনির্ধারিত কর্মসূচি অনুযায়ী জুমার নামাজ আদায় করে মসজিদ থেকে বের হওয়ার পরপরই পুলিশের উপস্থিতিতেই ছাত্রদল ও যুবদলের নেতাকর্মীরা এই হামলা চালায়।

নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী পোস্টে লেখেন, “প্রথমে ডিম, ইট-পাটকেল নিক্ষেপ করা হয়, এরপর হকিস্টিক দিয়ে অতর্কিতভাবে আঘাত করা হয়। তিনজনের মাথা ফাটিয়ে দেওয়া হয় এবং বেশ কয়েকজন আহত হন। আমাকে লক্ষ্য করেও কিল-ঘুষি মারা হয়।”

তিনি আরও অভিযোগ করেন, হামলাকারীরা এ সময় তাদের মোবাইল ফোন, ক্যামেরা এবং মানিব্যাগ ছিনিয়ে নেয়। ঘটনার পর তারা থানায় অবস্থান নিয়ে মামলা দায়েরের প্রস্তুতি নিচ্ছেন বলেও জানান। একই সাথে ছাত্রদল, যুবদল ও বিএনপি থানার সামনে আবারও হামলার প্রস্তুতি নিচ্ছে বলে তিনি ফেসবুক পোস্টে দাবি করেন।

এই ঘটনার পর এনসিপির নেতাকর্মীরা তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে এলাকায় বিক্ষোভ মিছিল করেছেন। বিক্ষোভ থেকে তারা স্বরাষ্ট্র ও আইনমন্ত্রীর পদত্যাগ দাবি করেন এবং হামলায় জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় আনার জোর দাবি জানান।

 

চট্টগ্রামে তিন বছরের শিশুকে ধর্ষণের ঘটনায় মামলা

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: শুক্রবার, ২২ মে, ২০২৬, ২:৪৮ অপরাহ্ণ
চট্টগ্রামে তিন বছরের শিশুকে ধর্ষণের ঘটনায় মামলা

চট্টগ্রামের বাকলিয়ায় তিন বছরের এক শিশুকে ধর্ষণের ঘটনায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। আজ (শুক্রবার) দুপুরে মামলার বিষয়টি নিশ্চিত করেন বাকলিয়া থানার এক কর্মকর্তা।

তিনি বলেন, ভুক্তভোগী শিশুর পিতা বাদী হয়ে মামলা দায়ের করেছেন। মামলায় গ্রেপ্তার মনিরকে আসামি করা হয়েছে।

স্থানীয় সূত্র জানায়, বাকলিয়ার চেয়ারম্যানঘাটা এলাকায় তিন বছর বয়সী এক শিশু নিখোঁজ হওয়ার পর বৃহস্পতিবার বিকেলে তাকে উদ্ধার করা হয়। উদ্ধারের পর শিশুটির শারীরিক অবস্থা দেখে স্বজন ও স্থানীয়দের সন্দেহ হয়, সে যৌন নিপীড়নের শিকার হয়েছে। খবরটি এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে বিকেলের দিকে রাস্তায় নেমে আসেন স্থানীয়রা।

স্থানীয়দের দাবি, অভিযুক্ত যুবকের নাম মনির। তিনি স্থানীয় একটি ডেকোরেশন দোকানে কাজ করেন। তাদের অভিযোগ, মনির তাদের কাছে নিজের অপরাধ স্বীকারও করেছেন।

অভিযুক্ত মনির নিজের অপরাধ স্বীকার করেছেন বলে একটি তথ্য ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়লেও এর সত্যতা সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

গতকাল বিকেল ৪টার দিকে স্থানীয়রা অভিযুক্তের অবস্থান নিশ্চিত করে ‘বিসমিল্লাহ ম্যানশন’ নামের একটি ভবন ঘেরাও করে রাখেন। একপর্যায়ে ভবনটির কলাপসিবল গেট ভেঙে ফেলার চেষ্টাও করা হয়।

খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে শিশুটিকে পরীক্ষার জন্য হাসপাতালে পাঠায়। অন্যদিকে অভিযুক্তকে আটক করে নিয়ে যাওয়ার সময় বিক্ষুব্ধ জনতা পথ আটকে দেয় এবং তাকে নিজেদের হাতে তুলে দেওয়ার দাবি জানায়। বিকেল সাড়ে চারটা থেকে পুলিশকে অবরুদ্ধ করে রাখে স্থানীয়রা। এরপর রাত আটটার দিকে পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে টিয়ারগ্যাস ও সাউন্ড গ্রেনেড নিক্ষেপ করে।

এসময় পুলিশকে লক্ষ্য করে ইটপাটকেল ছোড়েন স্থানীয়রা। এতে পুরো এলাকা রণক্ষেত্রে পরিণত হয়। স্থানীয়দের বাধার মুখে তখন পুলিশ অভিযুক্ত নিয়ে যেতে পারেনি।

পরে রাত ১১টা সময় দিকে জনবল বাড়ায় পুলিশ। পরে বিদ্যুৎ বন্ধ করে অভিযুক্তকে পুলিশের পোশাক পরিয়ে থানায় নিয়ে যাওয়া হয়। এ সময় ফাঁকা গুলি, টিয়ারগ্যাস ও সাউন্ড গ্রেনেড নিক্ষেপ করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করে পুলিশ। এসময় স্থানীয়রা পুলিশের একটি গাড়িতে আগুন দেয়। এতে দফায় দফায় সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।

রামিসার বাসার সামনে বিক্ষোভ, কুলখানির জন্য ঢাকা ছাড়লেন বাবা-মা

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: শুক্রবার, ২২ মে, ২০২৬, ২:৩২ অপরাহ্ণ
রামিসার বাসার সামনে বিক্ষোভ, কুলখানির জন্য ঢাকা ছাড়লেন বাবা-মা

রাজধানীর পল্লবীতে ধর্ষণের পর নৃশংস হত্যার শিকার আট বছরের শিশু রামিসা আক্তারের মৃত্যুর ঘটনায় এখনও থামেনি মানুষের ক্ষোভ আর কান্না।

শুক্রবার (২২ মে) সকাল থেকেই পল্লবীর সেকশন-১১ এলাকায় রামিসাদের বাসার সামনে জড়ো হতে থাকেন বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ। ছোট-ছোট সামাজিক ও স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের ব্যানারে মানববন্ধন, বিক্ষোভ ও প্রতিবাদ কর্মসূচি পালন করতে দেখা যায় স্থানীয়দের।

সেখানে গিয়ে দেখা যায়, বেলা ১১টার পর থেকে রামিসাদের বাসার সামনের গলিতে একে একে জড়ো হন নারী-পুরুষসহ বিভিন্ন বয়সী মানুষ। অনেকের হাতে ছিল ‘রামিসার হত্যাকারীর ফাঁসি চাই’, ‘শিশু ধর্ষণ ও হত্যার বিচার চাই’ লেখা প্ল্যাকার্ড।

এসময় এলাকাজুড়ে ছিল থমথমে পরিবেশ। স্থানীয়দের অনেকেই ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, এমন নির্মম হত্যাকাণ্ডের দৃষ্টান্তমূলক বিচার না হলে সমাজে শিশুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত হবে না।

একটি মানববন্ধনে অংশ নেওয়া লামিয়া খানম নামে এক নারী বলেন, আমরা নিজের সন্তানদের নিয়েই এখন আতঙ্কে আছি। একটা শিশুকে এত নির্মমভাবে হত্যা কোনো মানুষ করতে পারে না।

এদিকে সন্তান হারানোর শোকে এখনও প্রায় নির্বাক রামিসার মা-বাবা। শুক্রবার (আজ) দুপুর ১২টার দিকে মেয়ের কুলখানি ও মিলাদে অংশ নিতে মুন্সীগঞ্জের সিরাজদিখানের উদ্দেশে ঢাকা ছাড়েন তারা। যাওয়ার আগে বাসার সামনে জড়ো হওয়া মানুষদের কান্না আর সান্ত্বনার শব্দে ভারী হয়ে ওঠে পরিবেশ।

পরিবারের স্বজনরা জানান, বৃহস্পতিবার (২১ মে) রাতে সিরাজদিখানে পারিবারিক কবরস্থানে দাফনের সময় পুরো এলাকায় শোকের ছায়া নেমে আসে। রামিসার মা এখনও মেয়ের জামাকাপড় ও ব্যবহৃত জিনিসপত্র বুকে জড়িয়ে কাঁদছেন। আর বাবা আব্দুল হান্নান মোল্লা বারবার মেয়ের শেষ আবদারের কথা মনে করে ভেঙে পড়ছেন। দুই দিন আগে মেয়ের জন্য একটি বোরকা কিনে এনেছিলেন তিনি। কিন্তু সেই বোরকা আর পরা হয়নি রামিসার।

গত মঙ্গলবার সকালে পল্লবীর সেকশন-১১ এলাকায় নিজ বাসার পাশ থেকে নিখোঁজ হয় দ্বিতীয় শ্রেণির ছাত্রী রামিসা। পরে প্রতিবেশী সোহেল রানার ফ্ল্যাট থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় শিশুটির বাবা পল্লবী থানায় মামলা করেন।

পুলিশ জানায়, প্রধান অভিযুক্ত সোহেল রানা শিশুটিকে ধর্ষণের পর হত্যা করে মরদেহ গোপনের চেষ্টা করেন। ঘটনার পর নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। আদালতে তিনি হত্যার দায় স্বীকার করে জবানবন্দিও দিয়েছেন। এ ঘটনায় সোহেলের স্ত্রী স্বপ্না আক্তারকেও গ্রেপ্তার করে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।