খুঁজুন
বৃহস্পতিবার, ৯ই এপ্রিল, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ২৬শে চৈত্র, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

ঢাকার স্টাইলে চট্টগ্রামে নির্বাচন হতে দেবো না:খসরু

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: রবিবার, ৮ মার্চ, ২০২০, ৮:৩২ অপরাহ্ণ
ঢাকার স্টাইলে চট্টগ্রামে নির্বাচন হতে দেবো না:খসরু

বিএনপির জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেছেন, চসিক নির্বাচন বাংলাদেশের মানুষের ভোটাধিকার ফিরে পাবার একটি বড় আন্দোলন। সংবিধান প্রত্যেক নাগরিকের জন্য ভোটাধিকার নিশ্চিত করেছে। যেটা বর্তামান অনির্বাচিত সরকার অবৈধ সংসদের মাধ্যমে জনগণের কাছ থেকে কেড়ে নিয়েছে। ভোট কেড়ে নেয়ার পর একটার পর একটা অধিকার কেড়ে নিচ্ছে। ক্ষমতায় থাকার জন্য ও ক্ষমতায় যাওয়ার জন্য জনগণের অধিকার হাইজ্যাক করছে। তা না হলে তাদের ক্ষমতায় ঠিকে থাকা সম্ভব নয়।

এই প্রেক্ষাপটে আজকে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হচ্ছে। আন্দোলনের অংশ হিসাবে এই নির্বাচনে আমাদের ভোটাধিকার দিয়ে পাবার মাধ্যমে আমরা সফল হতে পারবো। ২৯ মার্চ যদি ভোটাধিকার ফিরিয়ে দিতে পারি তাহলে রাজনৈতিক অধিকার ফিরে পাবো।

তিনি আজ রবিবার (৮ মার্চ) বিকালে চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির উদ্যোগে নাসিমন ভবনস্থ দলীয় কার্যালয় মাঠে চসিক নির্বাচনের বিএনপির মেয়র প্রার্থী ডা. শাহাদাত হোসেনের প্রধান নির্বাচনী কার্যালয় উদ্বোধনকালে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এ কথা বলেন।

তিনি বলেন, বিভিন্ন নির্বাচনে আমরা দেখেছি চট্টগ্রামের মানুষ সময় মতো তাদের উদ্যোগ নেয়। এটা অন্য কোন বড় শহরের মতো নয়। ঢাকার নির্বাচনে ইভিএম দিয়ে ভোট কেড়ে নিয়েছে। চট্টগ্রামে আমরা সেটা হতে দেবো না। ওবায়দুল কাদের ইতিমধ্যে চট্টগ্রামের সার্কিট হাউসে নির্বাচনী সভা করেছে। এটা সম্পূর্ণভাবে নির্বাচনী আচরণ বিধি লংগন করেছে। ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেন এমপি হিসেবে নির্বাচনী কমিটির প্রধান হয়ে বিধি ভঙ্গ করেছেন। আমরা ঢাকার স্টাইলে চট্টগ্রামে নির্বাচন হতে দেবো না। যদি ইসি আমাদের কথা না মানে তাহলে আমরা পদক্ষেপ নেবো। আমাদের সর্বশক্তি দিয়ে আমরা প্রতিরোধ করবো। তাই আপনাদের সুশৃংখলভাবে ভূমিকা পালন করতে হবে।

তিনি বলেন, আমাদের প্রত্যেকটি কেন্দ্রে নিয়ন্ত্রিভাবে নির্বাচন করতে হবে। কারণ আমরা ভোট ডাকাতদের বিরুদ্ধে নির্বাচন করছি। এটা কোন সাধারণ নির্বাচন নয়। প্রত্যেক নেতা কর্মীকে কেন্দ্রে শক্ত অবস্থান নিতে হবে। যাতে বাইরের কেউ এসে কোন সুযোগ নিতে না পারে। ভয়কে জয় করে শক্তিশালী অবস্থান থেকে নির্বাচন করতে হবে। আওয়ামীলীগ তো রাষ্ট্রযন্ত্র ও সরকারী বাহিনীর উপর নির্ভরশীল। তারা ভীত বলেই অন্যের উপর নির্ভর করে। আমাদের মনে সাহস আছে বলেই একটা সামন্য কথা বললেই তারা লাফ দেয়।

তিনি বলেন, আওয়ামীলীগ বেগম খালেদা জিয়া ও জনগণকে ভয় পায় বলেই দেশনেত্রীকে জেলে বন্দি করে রেখেছে। আওয়ামীলীগ এখন ভোটের ভয়ে আছে। এই ভয়ের থেকে ইভিএম চুরির মেশিন নিয়ে এসেছে। তারা জনগণের উপর নির্ভরশীল নয়। কিন্তু চোরের দশ দিন গৃহস্তের একদিন। এবার চট্টগ্রাম গৃহস্তরা জাগ্রত হয়ে গেছে। চট্টগ্রামে ভোট চুরি করতে দেব না। চট্টগ্রামে এবার ভোট চোর ধরবো। হাতেনাতে চোর ধরতে হবে। সাহসের সাথে মনোবল নিয়ে কেন্দ্রে গেলে জয় কেউ কেড়ে নিতে পারবে না।

তিনি বলেন, ডা. শাহাদাত হোসেন একজন ভাল মানুষ। একজন পেশাজীবি হিসেবে সবার কাছে জনপ্রিয়। আর বিএনপির নেতাকর্মীরা এখন জ্বলে পুরে খাঁটি সোনায় পরিণত হয়ে গেছে। তাই আমাদেও বিজয় কেউ কেড়ে নিতে পারবে না।

সভাপতির বক্তব্যে বিএনপির মেয়র প্রার্থী ও চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির সভাপতি ডাঃ শাহাদাত হোসেন বলেন, আমাদের লড়াই হচ্ছে গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার, আইনের শাসন ও ভোটাধিকার রক্ষার লড়াই। এই ভোটের অধিকার রক্ষার জন্য ২৯ মার্চ প্রতিটি কেন্দ্রে স্ব স্ব অবস্থান নিয়ে সবকিছুকে উপেক্ষা করে বিজয়ী হতে হবে। বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তির বার্তা ২৯ মার্চ বিজয়ের মাধ্যমে দিতে চায়। বিজয়ী হয়ে দেশনেত্রীকে মুক্ত করবো এই হচ্ছে আমাদেও স্লোগান। ইনশাআল্লাহ বিজয় আমাদের সুনিশ্চিত।

তিনি বলেন, বেগম খালেদা জিয়াকে বন্দি করে আওয়ামীলীগ রাজনৈতিক দেউলিয়াত্বের প্রমাণ দিয়েছে। আজকে জনগণ তাদের পাশে নেই। জনগণ এখন ধানের শীষ ও বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তির পক্ষে। জনগণ এখন ২৯ মার্চ বিজয়ীর মাধ্যমে বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তির প্রহর গুনছে। অতীতে চট্টগ্রামবাসীর পাশে ছিলাম ভবিষ্যতেও থাকবো। কোন বাঁধা বিপত্তি বিজয় থেকে আমাদের দূরে রাখতে পারবে না। তাই সবাইকে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তির বার্তা নিয়ে বিজয় সুনিশ্চিত করতে হবে।

প্রধান বক্তার বক্তব্যে কেন্দ্রীয় বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক মাহবুবের রহমান শামীম বলেন, দেশে এখন একটি অগণতান্ত্রিক সরকার ক্ষমতা দখল করে আছে। দেশে এখন জংলী শাসন চলছে। ভোট ডাকাতীর সরকার ক্ষমতায় আছে। এই অবস্থায় আমরা চসিক নির্বাচন করছি। গণতন্ত্রকে রক্ষার জন্য আমরা নির্বাচনে অংশ নিয়েছি। ২৯ মার্চের চসিক নির্বাচনকে ৯০’র গণআন্দোলনের মত নিতে চায়। সেইজন্য কেন্দ্রে কেন্দ্রে অবস্থান নিয়ে পাহারা বসাতে হবে। ২৯ মার্চ আমরা বিজয়ের মালা নিয়ে ঘরে ফিরবো ইনশাআল্লাহ।

এতে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিএনপি চেয়ারর্পাসনের উপদেষ্টাবেগম রোজি কবির, এস এম ফজলুল হক, বিএনপির কেন্দ্রীয় শ্রম বিষয়ক সম্পাদক এ এম নাজিম উদ্দীন, সাবেক মন্ত্রী জাফরুল ইসলাম চৌধুরী, কেন্দ্রীয় শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন। চট্টগ্রাম মহানগর বিএপির সি: যুগ্ম সম্পাদক এস এম সাইফুল আলমের পরিচালনায় অন্যান্যদের মধ্যে
বক্তব্য রাখেন চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আবুল হাসেম বক্কর, সিনিয়র সহসভাপতি আবু সুফিয়ান, বিএনপি নেতা এম এ হালিম, চাকসু ভিপি নাজিম উদ্দিন, ইসহাক কাদের চৌধুরী, আলহাজ্ব এম এ আজিজ, মোহাম্মদ মিয়া ভোলা, সামশুল আলম, সৈয়দ আজম উদ্দিন, ইদ্রীস মিয়া চেয়ারম্যান, মোহাম্মদ আলী, নাজিমুর রহমান, আশরাফ চৌধুরী, হারুন জামান, মাহবুবুল আলম, অধ্যাপক নুরুল আলম রাজু, ইকবাল চৌধুরী, জাহিদুল করিম কচি, ইঞ্জিনিয়ার বেলায়েত হোসেন, শাহ আলম, ইসকান্দর মির্জা, ইয়াছিন চৌধূরী লিটন, আবদুল মন্নান, জাহাঙ্গির আলম দুলাল, আহমেদুল আলম রাসেল, কাউন্সিলর আবুল হাসেম, আনোয়ার হোসেন লিপু, এডভোকেট আবু তাহের, মনজুর আলম চৌধুরী মনজু, মো. কামরুল ইসলাম, শেখ নুরুল্লা বাহার, জেলী চৌধুরী প্রমুখ।

Feb2

মানবিক ডিসি জাহিদের কাছে সাহায্যপ্রার্থীদের ঢল

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: বুধবার, ৮ এপ্রিল, ২০২৬, ১১:০০ অপরাহ্ণ
মানবিক ডিসি জাহিদের কাছে সাহায্যপ্রার্থীদের ঢল

চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসকের গণশুনানিতে ভিড় বাড়ছেই মানবিক সহায়তা প্রত্যাশী মানুষের। অসুস্থতা, দারিদ্র্য, কর্মহীনতা ও চরম আর্থিক সংকটে পড়ে জেলার বিভিন্ন প্রান্ত থেকে মানুষ ছুটে আসছেন শেষ আশ্রয়ের খোঁজে। এসব আবেদন ঘেঁটে দেখা গেছে—প্রতিটি কাগজের আড়ালে লুকিয়ে আছে বেঁচে থাকার তীব্র আর্তি।

ক্যানসারে আক্রান্ত লাভলী দাস গুপ্তা ভারতের একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন। দীর্ঘদিন ধরে চিকিৎসা চালাতে গিয়ে তার পরিবারের সঞ্চয় শেষ হয়ে গেছে। চিকিৎসা ব্যয় বহন করতে না পেরে তিনি আজ বুধবার (৮ এপ্রিল) সারা দেশে মানবিক ডিসি হিসেবে পরিচিত চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞার কাছে আর্থিক সহায়তা চেয়েছেন। চিকিৎসা বন্ধ হয়ে গেলে জীবন ঝুঁকিতে পড়বে জেনে জেলা প্রশাসক তাকে আর্থিক সহয়তা প্রদান করেন তাৎক্ষণিকভাবে।

৫৫ বছর বয়সী মোহাম্মদ সুমন গুরুতর অসুস্থতায় ভুগছেন। রোগ নির্ণয়ের জন্য তাকে একাধিক পরীক্ষা করাতে হয়েছে একটি বেসরকারি ডায়াগনস্টিক সেন্টারে। এসব পরীক্ষার খরচ বহন করতে গিয়ে তিনি এখন আর্থিকভাবে বিপর্যস্ত। জেলার অভিভাবককে তিনি জানান, প্রয়োজনীয় চিকিৎসা চালিয়ে যাওয়ার মতো সামর্থ্য তার আর নেই। তাকেও নিরাশ করলেন না মানবিক ডিসি।

একইভাবে ৬৫ বছর বয়সী হাছিনা বেগমও চিকিৎসা ব্যয়ের ভারে ন্যুব্জ। বয়সজনিত অসুস্থতায় ভুগলেও অর্থাভাবে নিয়মিত চিকিৎসা নিতে পারছেন না। জীবনের এই শেষ সময়ে চিকিৎসা সহায়তা না পেলে পরিস্থিতি আরও অবনতি হওয়ার আশঙ্কার কথা জানান জেলার শীর্ষ কর্মকর্তাকে।

জামিলা বেগম নামের এক নারী জেলা প্রশাসকের সাপ্তাহিক গণশুনানিতে হাজির হয়ে ডিসি জাহিদুল ইসলামকে বলেন, দীর্ঘদিন ধরে অসুস্থ থাকায় চিকিৎসা চালিয়ে যাওয়া তার পক্ষে অসম্ভব হয়ে পড়েছে। পরিবারের আয়ের কোনো নির্ভরযোগ্য উৎস না থাকায় তিনি এখন সম্পূর্ণ অসহায় অবস্থায় দিন কাটাচ্ছেন। জেলা প্রশাসকের আর্থিক সহয়তা পেয়ে উচ্ছ্বসিত জামিলা।

অসুস্থতার কারণে কর্মক্ষমতা হারানোর কথা জানিয়েছেন মো. মনজুর আলম আরেক নাগরিক। আগে উপার্জন করে পরিবার চালালেও বর্তমানে কাজ করতে না পারায় সংসার চালানোই কঠিন হয়ে পড়েছে। চিকিৎসা ব্যয় বহনের পাশাপাশি পরিবারের নিত্যপ্রয়োজনীয় খরচ জোগানোও এখন অসম্ভব হয়ে দাঁড়িয়েছে বলে জানানো হয় জেলা প্রশাসককে। তার পাশেও দাড়ালেন মানবিক ডিসি।

মো. নুরুল ইসলাম আরেক অসহায় নাগরিক দীর্ঘদিন ধরে চিকিৎসা নিতে গিয়ে তিনি নিঃস্ব হয়ে পড়েছেন। ধার-দেনা করে চিকিৎসা চালালেও এখন আর কোনো উপায় নেই। চিকিৎসা বন্ধ হয়ে যাওয়ার ঝুঁকির কথা উল্লেখ করে তিনি জেলা প্রশাসকের জরুরি সহায়তা কামনা করেছিলেন। তাকেও ফিরিয়ে দেননি ডিসি জাহিদুল ইসলাম।

একই নামে আরেক প্রবীণ নাগরিক নিজেকে বয়সের ভারে ন্যুব্জ ও অসহায় উল্লেখ করে চিকিৎসা সহায়তা চেয়েছেন। তিনি জানান, শারীরিক দুর্বলতা ও অসুস্থতার কারণে তিনি সম্পূর্ণ অন্যের ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়েছেন। তাকেও নিরাশ করেন নাই ডিসি।

রাঙামাটি জেলার লংগদু উপজেলার বাসিন্দা, বর্তমানে চট্টগ্রামে বসবাসরত মো. সামাদ আলী জেলা প্রশাসককে বলেন, দারিদ্র্য ও অসুস্থতার কারণে চিকিৎসা চালিয়ে যাওয়া তার পক্ষে সম্ভব হচ্ছে না। তিনি নিজেকে সম্পূর্ণ অসহায় উল্লেখ করে ডিসির সহযোগিতা কামনা করেছিলেন। তাকেও নগদ অর্থ সাহায্য করলেন জেলা প্রশাসক।

গণশুনানিতে জমা পড়া আবেদনগুলোর সার্বিক চিত্রে দেখা যায়, অধিকাংশ আবেদনকারী দীর্ঘমেয়াদি বা জটিল রোগে আক্রান্ত। চিকিৎসা ব্যয় বহন করতে গিয়ে অনেকে নিঃস্ব হয়ে পড়েছেন। আবার অনেকে অসুস্থতার কারণে কর্মক্ষমতা হারিয়ে পরিবার নিয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছেন।

জেলা প্রশাসকের সাপ্তাহিক গণশুনানিতে এ ধরনের আবেদন সরাসরি শোনা হচ্ছে এবং তাৎক্ষণিক সহায়তা ও প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়া হচ্ছে বলে জানা গেছে।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এই প্রক্রিয়া প্রশাসনকে মানুষের আরও কাছাকাছি নিয়ে এসেছে এবং জরুরি সহায়তা প্রদানে কার্যকর ভূমিকা রাখছে।

দিল্লিতে ভারত-বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের বৈঠক

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: বুধবার, ৮ এপ্রিল, ২০২৬, ৭:১২ অপরাহ্ণ
দিল্লিতে ভারত-বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের বৈঠক

দিল্লিতে ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্করের সঙ্গে বৈঠক করেছেন বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান। বুধবার (৮ এপ্রিল) দুপুরে দিল্লির হায়দ্রাবাদ হাউসে আনুষ্ঠানিক বৈঠকের পর তারা একান্তে আলোচনা করেন।

কূটনৈতিক সূত্রে জানা গেছে, বৈঠকে দুই দেশের আঞ্চলিক ও দ্বীপক্ষীয় সম্পর্কের বিষয়গুলো নিয়ে আলোচনা হয়। এ সময় বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবিরও উপস্থিত ছিলেন।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে করা এক পোস্টে ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী জয়শঙ্কর বলেন, ‘বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান ও তার প্রতিনিধিদলকে আজ বিকেলে আতিথেয়তা দিতে পেরে আনন্দিত।’

তিনি আরও বলেন, ‘আমরা দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের বিভিন্ন দিক আরও জোরদার করার বিষয়ে আলোচনা করেছি। পাশাপাশি আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক পরিস্থিতি নিয়েও মতবিনিময় হয়েছে। আমরা ভবিষ্যতেও ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক বজায় রাখতে সম্মত।’

গত ফেব্রুয়ারিতে অনুষ্ঠিত বাংলাদেশের ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর সরকার গঠন করে বিএনপি। নতুন সরকারের আমলে এটিই বাংলাদেশের কোনো মন্ত্রীর প্রথম ভারত সফর।

এ শুভেচ্ছা সফরে গতকাল দিল্লিতে পৌঁছান খলিলুর রহমান। ভারতে পৌঁছানোর প্রথম দিনেই দেশটির জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা অজিত দোভালের সঙ্গে বৈঠক করেন তিনি।

এরপর আজ সকালে ভারতের কয়েকজন সম্পাদক ও জ্যেষ্ঠ সাংবাদিকের সঙ্গে প্রাতঃরাশ সভায় যোগদান করেন। বিকেলে ভারতের পেট্রোলিয়াম ও প্রাকৃতিক গ্যাসবিষয়ক মন্ত্রী হারদীপ সিং পুরির সঙ্গে তার বৈঠকের কথা রয়েছে।

২০২৪-এর জুলাই আন্দোলনে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের কূটনৈতিক সম্পর্কে ভাটা পড়ে। তবে তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন বিএনপি সরকার ক্ষমতা গ্রহণের পর সে সম্পর্ক পুনরুজ্জীবিত হচ্ছে বলে মনে করছেন অনেকে।

আগামী ১১ ও ১২ তারিখ মরিশাসের পোর্ট লুইসে অনুষ্ঠিতব্য ভারত মহাসাগরীয় সম্মেলনে যোগ দেবেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান। এর আগে পারস্পরিক মর্যাদা ও আস্থার ভিত্তিতে দীর্ঘ মেয়াদে সম্পর্ক এগিয়ে নেওয়ার বার্তা নিয়ে ভারত সফরে যান তিনি।

বিসিবিতে বাপের দোয়া, মায়ের দোয়া কমিটি করিনি : স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: বুধবার, ৮ এপ্রিল, ২০২৬, ৬:১৯ অপরাহ্ণ
বিসিবিতে বাপের দোয়া, মায়ের দোয়া কমিটি করিনি : স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

আমিনুল ইসলাম বুলবুলের কমিটি ভেঙে মঙ্গলবার তামিম ইকবালের নেতৃত্বে গঠিত হয়েছে ১১ সদস্যের অ্যাডহক কমিটি। এই কমিটি এখন গোটা বাংলাদেশের ভক্ত-সমর্থকদের আলোচনার বিষয়। এই আলোচনা আজ জায়গা করে নিয়েছে জাতীয় সংসদের অধিবেশনেও।

সেখানেই স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, ‘বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডে (বিসিবি) তামিম ইকবালের নেতৃত্বে আহ্বায়ক কমিটি করা হয়েছে। তিনি একজন খেলোয়াড়। এখানে বাপের দোয়া মায়ের দোয়া কমিটি করিনি।’

মূলত, আজ বুধবার (৮ এপ্রিল) জাতীয় সংসদে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখ্য সংগঠক ও কুমিল্লা-৪ আসনের সংসদ সদস্য হাসনাত আব্দুল্লাহর এক প্রশ্নের জবাবেই এসব কথা বলেন তিনি। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ আরও বলেন, ‘ক্রিকেট বোর্ডসহ সারাদেশের ক্লাবগুলোতে প্রভাব বিস্তার করে অন্তর্বর্তী সরকারের ক্রীড়া উপদেষ্টা। বর্তমান গণতান্ত্রিক সরকার ইনকোয়ারি করেছে, তদন্তের পর বোর্ড ভেঙে দেয়া হয়েছে। পরে তামিম ইকবালের নেতৃত্বে বিসিবির আহ্বায়ক কমিটি করা হয়েছে। এখানে বাপের দোয়া মায়ের দোয়া কমিটি করিনি।’

এর আগে হাসনাত আবদুল্লাহ বলেন, ‘বিসিবি এখন আর বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড নাই, এটা এখন বাপের দোয়া ক্রিকেট বোর্ডে পরিণত হয়ে গেছে।’