খুঁজুন
, ,

প্রণোদনার পোস্টমর্টেম : রিয়াজ হায়দার চৌধুরী

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Monday, 30 March, 2020, 8:18 pm
প্রণোদনার পোস্টমর্টেম : রিয়াজ হায়দার চৌধুরী

গণমাধ্যমের প্রণোদনা কার জন্য, কীসের জন্য ? এর বিন্দু ভাগ কি সাংবাদিকদের কপালে জুটবে ? নাকি শুধুই তেলে মাথায় তেল? — এরকম নানা প্রশ্ন এখন খুব’ই প্রাসঙ্গিক।

গনমাধ্যমের সুরক্ষা চাই আমরা। তার মানে এই নয় যে, তা নিছক পত্রিকা কিংবা টেলিভিশন মালিকপক্ষের জন্য । মাঠের সাংবাদিক থেকে শুরু করে সকল স্তরের কর্মী অর্থাৎ গণমাধ্যম পরিবারে এর সুফল মিলবে কিনা, তা খতিয়ে দেখা কিংবা নিশ্চিত করার দায়িত্ব সরকারেরই।‌

কথা স্পষ্ট, আমরা মালিকপক্ষের জন্য প্রণোদনা চাইনা। সার্বিক সুরক্ষা চাই। – গণমাধ্যমের ইতিহাস সেই পরিপ্রেক্ষিতে অনেকটা ভিন্ন।‌

মালিক কিংবা সাংবাদিক শুধু নয়, পত্রিকা ও টেলিভিশনের মাঠের সকল কর্মী; কম্পিউটার অপারেটর, মেশিনম্যান, পিয়ন দারোয়ান, ড্রাইভার থেকে শুরু করে সকল পর্যায়ের কর্মীদের সুরক্ষা দরকার।‌

প্রশ্ন উঠতে পারে এও, মালিকপক্ষকে প্রণোদনা না দিলে কি অংশীজন সহায়ক কর্মীরা এর সুফল পাবেন?

বছরের পর বছর সরকারি প্রণোদনা নিয়েও দেশের সিংহভাগ পত্রিকা ও টেলিভিশনের মালিক গণমাধ্যমের কর্মীদের তার সিকি ভাগও দেননি। সংবাদপত্রে প্রতিটি ওয়েজবোর্ডের বিপরীতে মালিকপক্ষ বিজ্ঞাপনসহ আনুষঙ্গিক সুবিধা পেলেও দেশের অন্তত শতকরা ৯০ ভাগ কাগজ গণমাধ্যমকর্মীদের তার হিস্যা দেননি। এক্ষেত্রে ঢাকার বেশ কিছু কাগজ তো রয়েছেই, ঢাকার বাইরের কাগজগুলোতে বঞ্চনা সীমাহীন। ‌

অতি আশ্চর্যের বিষয় যে, এসব মনিটরিংয়ের গঠিত ‘মনিটরিং সেল’ বরাবরই রহস্যজনক আচরণ করে গেছে। সংশ্লিষ্ট জেলা প্রশাসকদের যে দায়িত্ব, তারাও তা পালন করেননি।‌

ঢাকার বাইরের কাগজগুলোতে মনিটরিং নিশ্চিত করতে সাংবাদিকদের শুধু ঢাকার নির্বাচিত নেতৃত্বের বাইরেও আঞ্চলিক প্রতিনিধিত্ব রাখার জন্য মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর কাছে আরও অন্তত ৩ বছর আগে এক বৈঠকে দাবি তুলেছিলাম। ‌তিনি আমার উত্থাপিত সেই দাবি নিজে নোট নিয়ে তাঁর বক্তব্যে হ্যাঁ বোধক সিদ্ধান্ত জানিয়েছিলেন । আশা করেছিলাম, বঙ্গবন্ধুকন্যা প্রধানমন্ত্রীর ঘোষণার পর অন্তত আমাদের ভাগ্য বদল হবে। ‌ সংবাদপত্রে প্রণোদনার বিপরীতে আমাদের ন্যায্যতম হিস্যা পাবো। ‌ কিন্তু কে শোনে কার কথা!

প্রধানমন্ত্রীর ঘোষণার পরেও ঢাকার বাইরে নির্বাচিত নেতৃত্ব থেকে মনিটরিং সেলে আমাদের প্রতিনিধিত্ব হয়নি ! একইদিন আমার প্রস্তাবনায় সাংবাদিক কল্যাণ ট্রাস্টেও ঢাকার বাইরের সাংবাদিক প্রতিনিধিত্ব চেয়েছিলাম। তাও প্রধানমন্ত্রী আশ্বস্ত করে ঘোষণা দিয়েছিলেন। সে কথাও রাখেননি দায়িত্বশীল কেউ’ই।

একথা ভুলে গেলে চলবে না যে, একদিন সবাই সবকিছু ভুলে যাবেন। প্রধানমন্ত্রীর ঘোষণা বাস্তবায়ন করা যাদের দায়িত্ব, তাদের কাজকর্ম সাংবাদিকরা মনিটরিং করছেন। একদিন নিশ্চয়ই এর পোস্টমর্টেমও হবে।

একথা আমাদের মানতেই হবে যে, পদ পদবী কিংবা চেয়ার কারোরই স্হায়ী নয়। যাক প্রণোদনার কথাতেই ফিরে আসি। প্রণোদনা চেয়ে এডিটর গিলডস ছয় দফা দিয়েছে । সাংবাদিকদের এ নিয়ে উচ্ছ্বাস কিংবা স্বাগত জানানোর বদলে উদ্বেগ’ই দেখা দিয়েছে। দাবি উঠেছে, গণমাধ্যমে অতীতে দেয়া প্রণোদনা কার ভাগে কিরকম গেছে, তা খতিয়ে দেখার। ‌তা খতিয়ে দেখতে সাংবাদিকদের সর্বোচ্চ শীর্ষ সংগঠন বিএফইউজে-বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়নের নির্বাচিত সভাপতি মোল্লা জালাল ‘কমিশন’ গঠনের প্রস্তাব দিয়েছেন, যা খুবই বিবেচনা যোগ্য।

মালিকদের প্রণোদনা নিয়ে আওয়াজ তোলাদের ‘মতলববাজ’ আখ্যায়িত করেছেন মোল্লা জালাল।

ফেসবুকে নিজের ওয়ালে আপলোড দেয়া মন্তব্যে তিনি লিখেছেন, ‘মতলববাজদের পাঁয়তারা আঁচ করতে পেরে গত ২৯ মার্চ বিএফইউজে এবং ডিইউজে এক যুক্ত বিবৃতিতে করোনার এই আপদকালে অবিলম্বে গণমাধ্যম কর্মীদের বকেয়া বেতন পরিশোধ করার জোর দাবি জানায়। এতে মতলববাজরা বুঝে ফেলে, সাংবাদিকদের ঘাড়ে বন্দুক রেখে শিকার করা সহজ হবে না। ‘

বিএফইউজে সভাপতি আরো লিখেছেন, ‘আমি প্রনোদনার বিপক্ষে নই। তবে কথা আছে। কেন এবং কার জন্য এই প্রনোদনা?

‘বাংলাদেশে গত ৮ মার্চ করোনা সনাক্ত হয়েছে। ১০ মার্চ থেকে সরকার সবাইকে সতর্ক থাকার পরামর্শ দিচ্ছে। ২৬ মার্চ থেকে সকল সরকারি- বেসরকারি অফিস আদালত ছুটি ঘোষনা করা হয়। আজকে ৩০ মার্চ। এর মধ্যে সময় গেছে মাত্র ৪ দিন।

সমাজের দিনমজুররাও মহামারির এই দূঃসময়ে ৩/৪ দিনের মাথায় খাদ্যের জন্য অন্যের কাছে হাত পাতেনি।’

প্রশ্ন হচ্ছে, গণমাধ্যম মালিকদের কাছে কি ২/৪ মাস চলার মত টাকা নাই ? নিশ্চয়ই আছে , কিন্তু দেবে না। ‘ এই শীর্ষ সাংবাদিক নেতারও প্রশ্ন, ‘প্রনোদনা কি শুধু তেলের মাথায় তেল দেওয়ার জন্য? নাকি সারাদেশের সকল গনমাধ্যমের জন্য! সেটাও পরিষ্কার নয়।

গণমাধ্যম হচ্ছে ব্যক্তি মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠান। তারা যখন সরকারের আইন মানেনা, তখন মাননীয় প্রধানমন্ত্রীকেও বলতে হয়, “আমরাতো দিয়েছি, কিন্তু মালিকরা ওয়েজবোর্ড বাস্তবায়ন না করলে কি করবো”।

বিএফইউজের সভাপতি তাই সাফ জানিয়ে দিলেন, ‘এবার যখন মালিকরা প্রনোদনা চায়, তখন সরকারের সংশ্লিষ্ট মন্ত্রনালয়সহ মাননীয় প্রধামন্ত্রীর কাছে দাবি জানাই, এই সুযোগে একটি কমিশন গঠন করে দেখুনতো কে কত সুবিধা ভোগ করে আর বিনিময়ে তারা সংবাদ কর্মীদের বেতন-ভাতা ঠিকমত দেয় কিনা। এ প্রশ্নের নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত এদেশের সংবাদ কর্মীরা গণমাধ্যমের জন্য প্রনোদনার মতলববাজির পাঁয়তারার বিরুদ্ধে সোচ্চার থাকবে।”

জাতীয় দুর্যোগে প্রধানমন্ত্রী যখন বেসরকারিখাত ও ব্যক্তি পর্যায়ে বিত্তশালীদের সমাজের দুস্থ নিরীহ রিক্ত নিঃস্ব মানুষের পাশে এসে দাঁড়ানোর জন্য আহ্বান জানিয়েছেন, তখন গনমাধ্যম শিল্পে সংবাদপত্র, অনলাইন নিউজ পোর্টাল ও টেলিভিশন মালিকদের বিত্তের সাথে চিত্তের মিল-অমিল, অবস্থান খতিয়ে দেখার দাবি উঠতেই পারে।

এই কথা তো সবাই জানেন যে, তথ্য মন্ত্রনালয়ের দেওয়া এ্যাক্রেডিটিশন কার্ডধারি আন্ডার গ্রাউন্ড ও ওভারগ্রাউন্ড মিডিয়া মালিকরা সহযোগী নানা ব্যবসার নিয়ন্ত্রণ প্রভাব, বিভিন্ন সরকারি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে প্রতিনিধিত্ব ছাড়াও জমি-জমা, প্লট, ব্যাংক ঋণ, বিদেশ দৌড়া দৌড়ির নন চেকিং সুবিধা সহ বহু মাত্রিক প্রনোদনা পান। বিপরীতে মাঠের সাংবাদিক কিংবা অন্য বিভিন্ন সেকশনের কর্মীরা দুর্যোগেও সুরক্ষা পান না।
প্রধানমন্ত্রীর আহ্বান সত্ত্বেও বিত্তশালী বেশিরভাগ সংবাদপত্র ও টেলিভিশনের মালিকের বোধোদয় হচ্ছে না। তারা ভুলেই গেছেন, সংবাদ কর্মীরাওতো মানুষ। তাদেরওতো জীবন-জীবিকা, পরিবার পরিজন আছে। করোনা বিদ্ধ সময়ে সরকারি বেসরকারি অফিস আদালতে ছুটি ঘোষনা করে সবাইকে ‘ঘরে থাকার’ জন্য দেয়া সরকারি ঘোষনায় সৃষ্ট বর্তমানের নিয়ন্ত্রিত বাজার ব্যবস্থায় জীবন ঝুঁকি নিয়ে মাঠে থাকা সংবাদ কর্মী ও তাদের পরিবারের খবর কয়জন পত্রিকা ও টিভি মালিক নিয়েছেন?

সংবাদপত্রে বিজ্ঞাপন সহ রাস্ট্রিয় নানা সুবিধা নিয়ে ওয়েজবোর্ডের ছিটেফোটাও যখন সিংহভাগ পত্রিকা মালিক সাংবাদিকদের দেন না, টেলিভিশনগুলোতে যখন ওয়েজবোর্ডের কোন নাম নিশানাও নেই, তখন মালিকদের বিশেষ কোন জোটের প্রণোদনা প্রস্তাবে সাংবাদিকদের পক্ষ থেকে এমন প্রশ্ন কিংবা আপত্তি উঠতেই পারে। নিঃসন্দেহে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, প্রিয় তথ্যমন্ত্রীসহ দায়িত্বশীলরা এসব প্রশ্নের জবাব খুঁজে দেখবেন।

লেখক: সহ-সভাপতি, বিএফইউজে- বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়ন ও পেশাজীবী-নাগরিক সংগঠক।

Feb2
Feb2

অপ্রতিম হত্যার বিচার দাবিতে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক অবরোধ

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Sunday, 20 September, 2026, 12:54 pm
অপ্রতিম হত্যার বিচার দাবিতে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক অবরোধ

কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুবি) শিক্ষক ড. নাহিদা বেগমের একমাত্র ছেলে ইশিয়াত শাহরিয়ার অপ্রতিম (১৩) হত্যার প্রতিবাদ ও বিচার দাবিতো ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করছেন কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা।

রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) বেলা সাড়ে ১১টার দিকে মহাসড়কের কুমিল্লার কোটবাড়ি বিশ্বরোড অংশ অবরোধ করেন তারা।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, রোববার সকাল সোয়া ১০টার দিকে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে অপ্রতিমের প্রথম জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। জানাজা শেষে বিশ্ববিদ্যালয়ের শতশত শিক্ষার্থী মিছিল নিয়ে ঢাকা-চট্রগ্রাম মহাসড়কে আসেন। এ সময় মহাসড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ শুরু করেন তারা। অবরোধের ফলে মহাসড়কের দুই পাশে অন্তত ৫ কিলোমিটার যানজট সৃষ্টি হয়েছে।

বিক্ষোভরত শিক্ষার্থীরা বিভিন্ন লেখা সম্বলিত ফ্যাস্টুন, প্লেকার্ড নিয়ে মহাসড়কে অবস্থান নিয়েছেন। এ ছাড়া তাদেরকে ‘আমার ভাই মরল কেন, প্রশাসন জবাব চাই’, ‘জ্বালোরে জ্বালো, আগুন জ্বালো’, ‘লেগেছে রে লেগেছে, রক্তে আগুন লেগেছে’, ‘দড়ি লাগলে দড়ি নে, খুনিরে ফাঁসি দে’, ‘আমার ভাই কবরে, খুনি কেন বাহিরে’ ইত্যাদি স্লোগান দিতে দেখা গেছে।

এ প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত (দুপুর ১২টা ৫ মিনিট) মহাসড়ক অবরোধ করে রেখেছেন শিক্ষার্থীরা।

ময়নামতি হাইওয়ে থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আনিছুর রহমান বলেন, শিক্ষার্থীরা মহাসড়ক অবরোধ করে রেখেছেন। দুই পাশে যানজট বৃদ্ধি পাচ্ছে। তারা অবরোধ সরিয়ে নিলে যানজট কমে যাবে। যে কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে পুলিশ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।

প্রসঙ্গত, গত শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) বিকেলে কুমিল্লা কোটবাড়ি এলাকা থেকে নিখোঁজ হয় অপ্রতিম। কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. নাহিদা বেগমের একমাত্র সন্তান সে। শুক্রবার বিকেলে মায়ের আইফোন নিয়ে ছবি তুলতে গিয়ে আর বাসায় ফেরেনি। পরে তার বাবা ফিরোজ শাহরিয়ার সদর দক্ষিণ মডেল থানায় একটি নিখোঁজ ডায়েরি করেন। নিখোঁজের পরদিন শনিবার দুপুর কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের দক্ষিণ গেটের পাশে লালমাই পাহাড়ঘেঁষা সানন্দা গ্রামের ঝোপ থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।

অপ্রতিম কুমিল্লা কোটবাড়ি এলাকায় বর্ডার গার্ড পাবলিক স্কুলের ৭ম শ্রেণির শিক্ষার্থী। এ ঘটনায় জড়িত সন্দেহে তুহিন (১৯) নামের একজনকে আটক করে পুলিশ। বিকেলে আনাস নামের আরও একজনকে আটক করে এসআরবি। ধারণা করা হচ্ছে আইফোনটি নেওয়ার জন্য তাকে হত্যা করা হয়ে থাকতে পারে। তবে আটককৃতদের জিজ্ঞাসাবাদ চলছে। ঘটনার বিষয়ে রোববার দুপুরে সংবাদ সম্মেলন ডেকেছে জেলা পুলিশ।

রোববার বেলা ১১টা ৪০ মিনিটের দিকে অপ্রতিমকে বাড়ির পাশে কবরস্থানে দাফন করা হয়েছে।

রাজধানীতে ৩ বাসে আগুন, চার ককটেল বিস্ফোরণ

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Saturday, 19 September, 2026, 10:44 pm
রাজধানীতে ৩ বাসে আগুন, চার ককটেল বিস্ফোরণ

রাজধানীর বিভিন্ন স্থানে তিনটি বাসে আগুন দিয়েছে দুর্বৃত্তরা। এছাড়াও যাত্রাবাড়ীতে চারটি ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। আজ শনিবার সন্ধ্যা সোয়া ৭টার দিকে মিরপুর-১ নম্বরে অভিজাত পরিবহন এবং প্রায় একই সময় পল্লবীর ১১ নম্বরে শিখড় পরিবহনের যাত্রীবাহী বাসে আগুনের ঘটনা ঘটে। এ ছাড়া রাত ৮টার দিকে বাড্ডায় আরেকটি বাসে আগুন দেয় দুর্বৃত্তরা। পৃথক এই তিন ঘটনাস্থল ও এর পাশের সিসি ক্যামেরার ফুটেজ সংগ্রহ করে পুলিশ।

এদিকে রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় ককটেল বিস্ফোরণ এবং বাসে আগুন দেওয়ার ঘটনার পর তল্লাশি ও টহল জোরদার করেছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। রাজধানীর প্রবেশপথসহ গুরুত্বপূর্ণ স্থানগুলোতে দুই শতাধিক চেকপোস্ট বসিয়েছে পুলিশ ও স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন (এসআরবি)। সেখানে সন্দেহভাজন ব্যক্তি ও গাড়ি থামিয়ে তল্লাশি করা হয়।

মিরপুর থানার ওসি হাফিজুর রহমান সমকালকে বলেন, দুর্বৃত্তরা মিরপুর-১ এ অভিজাত পরিবহনের একটি বাসে আগুন দেওয়ার চেষ্টা করেছিল। বাসের একটি সিট পুড়ে গেছে। এই ঘটনায় কেউ হতাহত হয়নি।

পল্লবী থানার ওসি হাসান বাসির বলেন, যাত্রীবেশে বাসে উঠে ১১ নম্বরে বাসে আগুন লাগিয়ে দুর্বৃত্ত নেমে যায়। সিসি ক্যামেরার ফুটেজ সংগ্রহ করে জড়িতকে শনাক্তের চেষ্টা চলছে।

ফায়ার সদর দপ্তরের নিয়ন্ত্রণ কক্ষ থেকে জানানো হয়, সন্ধ্যা ৭টা ১৩ মিনিটে আগুন লাগার খবর পাওয়ার পর ফায়ার সার্ভিসের দুইটি ইউনিট ঘটনাস্থলে গিয়ে আগুন নেভায়। এতে কেউ হতাহত হয়নি।

যাত্রাবাড়ী থানার ওসি মোহাম্মদ রাজু বলেন, সন্ধ্যায় যাত্রাবাড়ী মোড়ে চারটি ককটেল বিস্ফোরণ ঘটেছে। এতে বিল্লাল নামে এক রিকশা চালক আহত হয়েছেন। ধারণা করা হচ্ছে, ফ্লাইওভার থেকে দুর্বৃত্তরা এই চারটি ককটেল নিক্ষেপ করেছে।

ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) কন্ট্রোলরুম থেকে বেতার বার্তায় সব থানা পুলিশকে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি বিষয়ে সতর্ক থাকতে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। মাঠে থাকতে বলা হয়েছে সব কর্মকর্তাকে। ডিএমপির দায়িত্বশীল একজন কর্মকর্তা জানান, কোনো এলাকায় কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ ও এর অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা যাতে একটি ঝটিকা মিছিল, ককটেল বিস্ফোরণ ও বাসে আগুন দিতে না পারে পারে সেজন্য মাঠপর্যায়ের পুলিশ সদস্যদের তৎপর থাকতে বলা হয়েছে। ইউনিফর্মের পাশাপাশি বিপুলসংখ্যক গোয়েন্দা সদস্য মাঠে কাজ করছেন বলেও জানান তিনি।

এর আগে, গতকাল শুক্রবার ঢাকা মহানগরের সাত স্থানে অন্তত ১২টি ককটেলের বিস্ফোরণ ঘটেছে। এ ছাড়া একটি বাসে আগুন দেওয়া হয়। এই পরিস্থিতিতে আজ শনিবার ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) মিডিয়া শাখা থেকে এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে এবং নগরবাসীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে রাজধানীজুড়ে বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। ঢাকা মহানগর এলাকা ও এর আশপাশের গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্ট, ফ্লাইওভার এবং প্রবেশপথগুলোতে বিশেষ চেকপোস্ট বসিয়ে তল্লাশি ও সার্বিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়।

নিরাপত্তা জোরদার করার অংশ হিসেবে রাজধানীর প্রধান প্রধান সড়ক ও গুরুত্বপূর্ণ মোড়গুলোর পাশাপাশি ঢাকা শহরের প্রধান প্রবেশদ্বারগুলোতে কড়া নজরদারি চালানো হয়। যেকোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা বা অপরাধমূলক তৎপরতা প্রতিরোধে মোটরসাইকেলসহ সব ধরনের সন্দেহজনক যানবাহনে তল্লাশি চালানো হয়। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে রাজধানীজুড়ে বিশেষ অভিযান চলমান রয়েছে।

ডিএমপি জানায়, নগরীর নিরাপত্তা ও সার্বিক আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ স্থানে চেকপোস্ট বসানো হয়েছে। এছাড়া ‘পিকেট ডিউটি’ জোরদার করার কথা জানিয়ে পুলিশ বলছে, নগরজুড়ে গাড়ি ও মোটরসাইকেল নিয়ে টহলের পাশাপাশি হেঁটে টহলদলের সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়ানো হয়েছে। এ ছাড়া কোনো বড় ধরনের অপরাধ বা নাশকতা প্রতিরোধে মাঠে ডিবি, সিটিটিসি এবং এপিবিএন টিম মোতায়েন রাখার কথা জানায় ডিএমপি।

ডিএমপির যুগ্ম কমিশনার (ক্রাইম) ফারুক হোসেন বলেন, যারা অস্থিতিশীল পরিস্থিতি সৃষ্টির চেষ্টা করবে যেভাবেই হোক তাদের আইনের আওতায় আনা হবে। ঢাকা মহানগরের আইনশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণে রাখতে বিপুলসংখ্যক পুলিশ সদস্য সতর্ক অবস্থায় মাঠে রয়েছেন।

ককটেল–বাসে আগুনের ঘটনায় ২ মামলা

গতকাল শুক্রবার দুপুর থেকে রাত পর্যন্ত রাজধানীর অন্তত সাতটি স্থানে ককটেল বিস্ফোরণ এবং কাফরুলে বাসে আগুন দেওয়ার ঘটনা ঘটে। এরমধ্যে যাত্রাবাড়ী থানার প্রধান ফটক ও চৌরাস্তা মোড়ে অন্তত চারটি ককটেলের বিস্ফোরণ ঘটানো হয়। এ ঘটনায় একজন অটোরিকশাচালক আহত হন।

যাত্রাবাড়ী থানার ওসি মোহাম্মদ রাজু বলেন, ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনায় অজ্ঞাতপরিচয় আসামিদের বিরুদ্ধে বিস্ফোরকদ্রব্য আইনে একটি মামলা হয়েছে। মামলাটির তদন্ত করছে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)।

ডিবি সূত্র জানায়, এ ঘটনায় মো. রায়হান নামে এক যুবককে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তার কাছ থেকে ককটেল ছোড়ার সময় ব্যবহৃত মোটরসাইকেল উদ্ধার করা হয়েছে। তাকে জিজ্ঞাসাবাদে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে জড়িত অন্যদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।

এদিকে, কাফরুল থানার সামনে বাসে আগুনের ঘটনায় নাশকতার অভিযোগে মামলা হয়েছে। পুলিশের মিরপুর বিভাগের উপকমিশনার মোস্তাক সরকার জানান, বাসে আগুন দেওয়ার নির্দেশদাতাসহ সাতজনের নামে মামলা করা হয়েছে। জড়িতদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।

শেরেবাংলা নগর থানার ওসি মনিরুল ইসলাম জানান, আগারগাঁওয়ে ককটেল বিস্ফোরণের কোনো আলামত না পাওয়ায় মামলা হয়নি। তবে এ ঘটনায় থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়েছে। অপরদিকে মহাখালীতে ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনায় জড়িতদের এখনও শনাক্ত করতে পারেনি পুলিশ।

পুলিশের গুলশান বিভাগের এক কর্মকর্তা বলেন, মহাখালী ফ্লাইওভারের ঢালে ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনায় সিসিটিভি ফুটেজসহ অন্যান্য আলামত বিশ্লেষণ করা হচ্ছে। এ ঘটনায় মামলার বিষয়টি প্রক্রিয়াধীন। এ ছাড়াও শুক্রবার মালিবাগ, মগবাজার, বাবুবাজার ও রামপুরায় ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে।

সিসিটিভি ফুটেজ দেখে ৩ জন আটক, চলছে জিজ্ঞাসাবাদ

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Saturday, 19 September, 2026, 10:29 pm
সিসিটিভি ফুটেজ দেখে ৩ জন আটক, চলছে জিজ্ঞাসাবাদ

কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুবি) বাংলা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. নাহিদা বেগমের ছেলে ইশায়াত শাহরিয়ার ওরফে অপ্রতিম (১৩) হত্যাকাণ্ডে সিসিটিভি ফুটেজের সূত্র ধরে তিনজনকে আটক করেছে পুলিশ। প্রথমে তুহিন নামে এক তরুণকে আটক করা হয়। তাকে জিজ্ঞাসাবাদে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে পরে আরও দু’জনকে আটক করা হয়।

বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন সহকারী পুলিশ সুপার (সদর দক্ষিণ সার্কেল) মোস্তাইন বিল্লাহ ফেরদৌস। তিনি জানান, অপ্রতিম নিখোঁজের পর কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকসহ আশপাশের এলাকার সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনা করা হয়। সেখানে অপ্রতিমের সঙ্গে তুহিনকে দেখা যায়। পরে তাকে সন্দেহভাজন হিসেবে আটক করা হয়। তুহিনকে জিজ্ঞাসাবাদে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে আনাস ও ফাহিম আহমেদকে আটক করা হয়েছে। তাদের জিজ্ঞাসা করা হচ্ছে।

ফাহিম আহমেদকে আটকের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন কোটবাড়ি পুলিশ ফাঁড়ির পরিদর্শক। তিনি বলেন, তুহিন ও আনাসকে আটকের পর ফাহিমকে আটক করা হয়। আটক তুহিনের বাড়ি সানন্দা এলাকায়। তার বাবার নাম নুরুল আলম।

বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন জানায়, অপ্রতিম নিখোঁজ হওয়ার পর তাকে উদ্ধারে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টরিয়াল টিম ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী বিভিন্নভাবে তৎপরতা চালায়। বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটক ও আশপাশের এলাকার সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনার সময় অপ্রতিমের সঙ্গে এক তরুণকে দেখা যায়। ওই ব্যক্তির গতিবিধি সন্দেহজনক মনে হওয়ায় বিষয়টি পুলিশকে জানানো হয়।

এর আগে, শুক্রবার বিকেলে কোটবাড়ি এলাকার ভাড়া বাসা থেকে বন্ধুদের সঙ্গে ছবি তোলার কথা বলে মায়ের আইফোন নিয়ে বের হয় অপ্রতিম। এরপর আর বাসায় ফেরেনি। পরে তার বাবা কুমিল্লা সদর দক্ষিণ থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন। অপ্রতিমের মুঠোফোনের অবস্থান শুক্রবার সন্ধ্যা ৬টা ১৫ মিনিট পর্যন্ত গন্ধমতী এলাকায় শনাক্ত হয়। এরপর ফোনটির আর কোনো অবস্থান পাওয়া যায়নি।

আজ শনিবার দুপুর ১টার দিকে কুমিল্লা সদর দক্ষিণ উপজেলার বিজয়পুর ইউনিয়নের সানন্দা গ্রামের লালমাই পাহাড়ের একটি নির্জন জঙ্গল থেকে অপ্রতিমের মরদেহ উদ্ধার হয়। তার মাথায় আঘাতের চিহ্ন রয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। তবে মরদেহের সঙ্গে অপ্রতিমের মায়ের আইফোনটি পাওয়া যায়নি।

অপ্রতিম স্থানীয় বর্ডার গার্ড পাবলিক স্কুলের সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল। সে ড. নাহিদা বেগম ও কে এম ফিরোজ শাহরিয়ারের একমাত্র সন্তান। তার মরদেহ উদ্ধারের পর ঘটনাটির রহস্য উদ্‌ঘাটনে তদন্ত শুরু করে পুলিশ। মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে।