খুঁজুন
, ,

প্রণোদনার পোস্টমর্টেম : রিয়াজ হায়দার চৌধুরী

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Monday, 30 March, 2020, 8:18 pm
প্রণোদনার পোস্টমর্টেম : রিয়াজ হায়দার চৌধুরী

গণমাধ্যমের প্রণোদনা কার জন্য, কীসের জন্য ? এর বিন্দু ভাগ কি সাংবাদিকদের কপালে জুটবে ? নাকি শুধুই তেলে মাথায় তেল? — এরকম নানা প্রশ্ন এখন খুব’ই প্রাসঙ্গিক।

গনমাধ্যমের সুরক্ষা চাই আমরা। তার মানে এই নয় যে, তা নিছক পত্রিকা কিংবা টেলিভিশন মালিকপক্ষের জন্য । মাঠের সাংবাদিক থেকে শুরু করে সকল স্তরের কর্মী অর্থাৎ গণমাধ্যম পরিবারে এর সুফল মিলবে কিনা, তা খতিয়ে দেখা কিংবা নিশ্চিত করার দায়িত্ব সরকারেরই।‌

কথা স্পষ্ট, আমরা মালিকপক্ষের জন্য প্রণোদনা চাইনা। সার্বিক সুরক্ষা চাই। – গণমাধ্যমের ইতিহাস সেই পরিপ্রেক্ষিতে অনেকটা ভিন্ন।‌

মালিক কিংবা সাংবাদিক শুধু নয়, পত্রিকা ও টেলিভিশনের মাঠের সকল কর্মী; কম্পিউটার অপারেটর, মেশিনম্যান, পিয়ন দারোয়ান, ড্রাইভার থেকে শুরু করে সকল পর্যায়ের কর্মীদের সুরক্ষা দরকার।‌

প্রশ্ন উঠতে পারে এও, মালিকপক্ষকে প্রণোদনা না দিলে কি অংশীজন সহায়ক কর্মীরা এর সুফল পাবেন?

বছরের পর বছর সরকারি প্রণোদনা নিয়েও দেশের সিংহভাগ পত্রিকা ও টেলিভিশনের মালিক গণমাধ্যমের কর্মীদের তার সিকি ভাগও দেননি। সংবাদপত্রে প্রতিটি ওয়েজবোর্ডের বিপরীতে মালিকপক্ষ বিজ্ঞাপনসহ আনুষঙ্গিক সুবিধা পেলেও দেশের অন্তত শতকরা ৯০ ভাগ কাগজ গণমাধ্যমকর্মীদের তার হিস্যা দেননি। এক্ষেত্রে ঢাকার বেশ কিছু কাগজ তো রয়েছেই, ঢাকার বাইরের কাগজগুলোতে বঞ্চনা সীমাহীন। ‌

অতি আশ্চর্যের বিষয় যে, এসব মনিটরিংয়ের গঠিত ‘মনিটরিং সেল’ বরাবরই রহস্যজনক আচরণ করে গেছে। সংশ্লিষ্ট জেলা প্রশাসকদের যে দায়িত্ব, তারাও তা পালন করেননি।‌

ঢাকার বাইরের কাগজগুলোতে মনিটরিং নিশ্চিত করতে সাংবাদিকদের শুধু ঢাকার নির্বাচিত নেতৃত্বের বাইরেও আঞ্চলিক প্রতিনিধিত্ব রাখার জন্য মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর কাছে আরও অন্তত ৩ বছর আগে এক বৈঠকে দাবি তুলেছিলাম। ‌তিনি আমার উত্থাপিত সেই দাবি নিজে নোট নিয়ে তাঁর বক্তব্যে হ্যাঁ বোধক সিদ্ধান্ত জানিয়েছিলেন । আশা করেছিলাম, বঙ্গবন্ধুকন্যা প্রধানমন্ত্রীর ঘোষণার পর অন্তত আমাদের ভাগ্য বদল হবে। ‌ সংবাদপত্রে প্রণোদনার বিপরীতে আমাদের ন্যায্যতম হিস্যা পাবো। ‌ কিন্তু কে শোনে কার কথা!

প্রধানমন্ত্রীর ঘোষণার পরেও ঢাকার বাইরে নির্বাচিত নেতৃত্ব থেকে মনিটরিং সেলে আমাদের প্রতিনিধিত্ব হয়নি ! একইদিন আমার প্রস্তাবনায় সাংবাদিক কল্যাণ ট্রাস্টেও ঢাকার বাইরের সাংবাদিক প্রতিনিধিত্ব চেয়েছিলাম। তাও প্রধানমন্ত্রী আশ্বস্ত করে ঘোষণা দিয়েছিলেন। সে কথাও রাখেননি দায়িত্বশীল কেউ’ই।

একথা ভুলে গেলে চলবে না যে, একদিন সবাই সবকিছু ভুলে যাবেন। প্রধানমন্ত্রীর ঘোষণা বাস্তবায়ন করা যাদের দায়িত্ব, তাদের কাজকর্ম সাংবাদিকরা মনিটরিং করছেন। একদিন নিশ্চয়ই এর পোস্টমর্টেমও হবে।

একথা আমাদের মানতেই হবে যে, পদ পদবী কিংবা চেয়ার কারোরই স্হায়ী নয়। যাক প্রণোদনার কথাতেই ফিরে আসি। প্রণোদনা চেয়ে এডিটর গিলডস ছয় দফা দিয়েছে । সাংবাদিকদের এ নিয়ে উচ্ছ্বাস কিংবা স্বাগত জানানোর বদলে উদ্বেগ’ই দেখা দিয়েছে। দাবি উঠেছে, গণমাধ্যমে অতীতে দেয়া প্রণোদনা কার ভাগে কিরকম গেছে, তা খতিয়ে দেখার। ‌তা খতিয়ে দেখতে সাংবাদিকদের সর্বোচ্চ শীর্ষ সংগঠন বিএফইউজে-বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়নের নির্বাচিত সভাপতি মোল্লা জালাল ‘কমিশন’ গঠনের প্রস্তাব দিয়েছেন, যা খুবই বিবেচনা যোগ্য।

মালিকদের প্রণোদনা নিয়ে আওয়াজ তোলাদের ‘মতলববাজ’ আখ্যায়িত করেছেন মোল্লা জালাল।

ফেসবুকে নিজের ওয়ালে আপলোড দেয়া মন্তব্যে তিনি লিখেছেন, ‘মতলববাজদের পাঁয়তারা আঁচ করতে পেরে গত ২৯ মার্চ বিএফইউজে এবং ডিইউজে এক যুক্ত বিবৃতিতে করোনার এই আপদকালে অবিলম্বে গণমাধ্যম কর্মীদের বকেয়া বেতন পরিশোধ করার জোর দাবি জানায়। এতে মতলববাজরা বুঝে ফেলে, সাংবাদিকদের ঘাড়ে বন্দুক রেখে শিকার করা সহজ হবে না। ‘

বিএফইউজে সভাপতি আরো লিখেছেন, ‘আমি প্রনোদনার বিপক্ষে নই। তবে কথা আছে। কেন এবং কার জন্য এই প্রনোদনা?

‘বাংলাদেশে গত ৮ মার্চ করোনা সনাক্ত হয়েছে। ১০ মার্চ থেকে সরকার সবাইকে সতর্ক থাকার পরামর্শ দিচ্ছে। ২৬ মার্চ থেকে সকল সরকারি- বেসরকারি অফিস আদালত ছুটি ঘোষনা করা হয়। আজকে ৩০ মার্চ। এর মধ্যে সময় গেছে মাত্র ৪ দিন।

সমাজের দিনমজুররাও মহামারির এই দূঃসময়ে ৩/৪ দিনের মাথায় খাদ্যের জন্য অন্যের কাছে হাত পাতেনি।’

প্রশ্ন হচ্ছে, গণমাধ্যম মালিকদের কাছে কি ২/৪ মাস চলার মত টাকা নাই ? নিশ্চয়ই আছে , কিন্তু দেবে না। ‘ এই শীর্ষ সাংবাদিক নেতারও প্রশ্ন, ‘প্রনোদনা কি শুধু তেলের মাথায় তেল দেওয়ার জন্য? নাকি সারাদেশের সকল গনমাধ্যমের জন্য! সেটাও পরিষ্কার নয়।

গণমাধ্যম হচ্ছে ব্যক্তি মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠান। তারা যখন সরকারের আইন মানেনা, তখন মাননীয় প্রধানমন্ত্রীকেও বলতে হয়, “আমরাতো দিয়েছি, কিন্তু মালিকরা ওয়েজবোর্ড বাস্তবায়ন না করলে কি করবো”।

বিএফইউজের সভাপতি তাই সাফ জানিয়ে দিলেন, ‘এবার যখন মালিকরা প্রনোদনা চায়, তখন সরকারের সংশ্লিষ্ট মন্ত্রনালয়সহ মাননীয় প্রধামন্ত্রীর কাছে দাবি জানাই, এই সুযোগে একটি কমিশন গঠন করে দেখুনতো কে কত সুবিধা ভোগ করে আর বিনিময়ে তারা সংবাদ কর্মীদের বেতন-ভাতা ঠিকমত দেয় কিনা। এ প্রশ্নের নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত এদেশের সংবাদ কর্মীরা গণমাধ্যমের জন্য প্রনোদনার মতলববাজির পাঁয়তারার বিরুদ্ধে সোচ্চার থাকবে।”

জাতীয় দুর্যোগে প্রধানমন্ত্রী যখন বেসরকারিখাত ও ব্যক্তি পর্যায়ে বিত্তশালীদের সমাজের দুস্থ নিরীহ রিক্ত নিঃস্ব মানুষের পাশে এসে দাঁড়ানোর জন্য আহ্বান জানিয়েছেন, তখন গনমাধ্যম শিল্পে সংবাদপত্র, অনলাইন নিউজ পোর্টাল ও টেলিভিশন মালিকদের বিত্তের সাথে চিত্তের মিল-অমিল, অবস্থান খতিয়ে দেখার দাবি উঠতেই পারে।

এই কথা তো সবাই জানেন যে, তথ্য মন্ত্রনালয়ের দেওয়া এ্যাক্রেডিটিশন কার্ডধারি আন্ডার গ্রাউন্ড ও ওভারগ্রাউন্ড মিডিয়া মালিকরা সহযোগী নানা ব্যবসার নিয়ন্ত্রণ প্রভাব, বিভিন্ন সরকারি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে প্রতিনিধিত্ব ছাড়াও জমি-জমা, প্লট, ব্যাংক ঋণ, বিদেশ দৌড়া দৌড়ির নন চেকিং সুবিধা সহ বহু মাত্রিক প্রনোদনা পান। বিপরীতে মাঠের সাংবাদিক কিংবা অন্য বিভিন্ন সেকশনের কর্মীরা দুর্যোগেও সুরক্ষা পান না।
প্রধানমন্ত্রীর আহ্বান সত্ত্বেও বিত্তশালী বেশিরভাগ সংবাদপত্র ও টেলিভিশনের মালিকের বোধোদয় হচ্ছে না। তারা ভুলেই গেছেন, সংবাদ কর্মীরাওতো মানুষ। তাদেরওতো জীবন-জীবিকা, পরিবার পরিজন আছে। করোনা বিদ্ধ সময়ে সরকারি বেসরকারি অফিস আদালতে ছুটি ঘোষনা করে সবাইকে ‘ঘরে থাকার’ জন্য দেয়া সরকারি ঘোষনায় সৃষ্ট বর্তমানের নিয়ন্ত্রিত বাজার ব্যবস্থায় জীবন ঝুঁকি নিয়ে মাঠে থাকা সংবাদ কর্মী ও তাদের পরিবারের খবর কয়জন পত্রিকা ও টিভি মালিক নিয়েছেন?

সংবাদপত্রে বিজ্ঞাপন সহ রাস্ট্রিয় নানা সুবিধা নিয়ে ওয়েজবোর্ডের ছিটেফোটাও যখন সিংহভাগ পত্রিকা মালিক সাংবাদিকদের দেন না, টেলিভিশনগুলোতে যখন ওয়েজবোর্ডের কোন নাম নিশানাও নেই, তখন মালিকদের বিশেষ কোন জোটের প্রণোদনা প্রস্তাবে সাংবাদিকদের পক্ষ থেকে এমন প্রশ্ন কিংবা আপত্তি উঠতেই পারে। নিঃসন্দেহে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, প্রিয় তথ্যমন্ত্রীসহ দায়িত্বশীলরা এসব প্রশ্নের জবাব খুঁজে দেখবেন।

লেখক: সহ-সভাপতি, বিএফইউজে- বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়ন ও পেশাজীবী-নাগরিক সংগঠক।

Feb2
Feb2

ইনফান্তিনোকে ক্ষমতাচ্যুত করতে জোট গঠন, ফিফাকে ‘অচল করার’ পরিকল্পনা

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Tuesday, 4 August, 2026, 8:30 am
ইনফান্তিনোকে ক্ষমতাচ্যুত করতে জোট গঠন, ফিফাকে ‘অচল করার’ পরিকল্পনা

জিয়ান্নি ইনফান্তিনো যেন অথৈ সাগরে হাবুডুবু খাচ্ছেন। অথচ খুব সহজেই টানা চতুর্থবার ফিফা প্রধানের দায়িত্ব নেওয়ার কথা ছিল তার। সব টুর্নামেন্টের বাণিজ্যিক স্বত্ব বেসরকারি কোম্পানির কাছে বিক্রি করে দেওয়ার পরিকল্পনা হিসাবনিকাশ পাল্টে দিলো। এই পরিকল্পনা বাতিল করেও রেহাই পাচ্ছেন না। তাকে গদি থেকে নামাতে এবার একজোট হয়েছেন উয়েফা, কনকাকাফ ও এশিয়ান ফুটবল কনফেডারেশনের নেতারা।

ইতালিয়ান-সুইস প্রশাসকের ওপর আস্থা হারানোর কথা ইতোমধ্যে জানিয়েছিল উয়েফা। আগামী মার্চের নির্বাচনে তাকে পুনঃনির্বাচনে সমর্থন প্রত্যাহার করেছে ইংলিশ ও ওয়েলস ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন। এমন অবস্থায় চাকরি বাঁচানো তার জন্য কঠিন চ্যালেঞ্জের হয়ে দাঁড়িয়েছে। কিছু গণমাধ্যমের দাবি, টিকে থাকতে সোমবার হোয়াইট হাউজে ‘বন্ধু’ ডোনাল্ড ট্রাম্পের সাহায্য চেয়েছেন তিনি।

আর এবার দ্য টাইস এক প্রতিবেদনে বলেছে, ইনফান্তিনো পদত্যাগ না করলে ‘ফিফাকে অচল’ করতে তিন কনফেডারেশন সব ধরনের প্রস্তুতি নিচ্ছে। একই প্রতিবেদনে যোগ করা হয়েছে, ফিফা প্রেসিডেন্ট যদি ক্ষমতায় থেকে যান এবং আগামী নির্বাচনে লড়াই করতে চান, তাহলে বিভিন্ন ধরনের পরিকল্পনা করে রেখেছে তারা।

এর মধ্যে রয়েছে নিজেদের মতো করে একটি ‘বিদ্রোহী’ প্রতিযোগিতা আয়োজন করবে এই তিন ফুটবল সংস্থা। আর ‘সরকারি বয়কট’ তো রয়েছেই। এর মানে তারা ফিফার সিদ্ধান্ত কিংবা পরিষদ ও কমিটি বৈঠকে থাকতে অস্বীকৃতি জানাবে।

দ্য টাইমস এক সূত্রের বরাত দিয়ে লিখেছে, ‘সবাই দৃঢ়প্রতিজ্ঞ যে তাকে যেতেই হবে। তা না হলে আমরা তাকে ক্ষমতা থেকে সরানোর জন্য সব প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেব। এর মধ্যে ভবিষ্যতের আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতাও রয়েছে – দক্ষিণ আমেরিকার বড় দেশগুলো কি ফ্রান্স বা স্পেন নাকি লেবানন বা জিবুতির সঙ্গে খেলতে বেশি পছন্দ করবে? সবাই খুব দৃঢ়প্রতিজ্ঞ, এখন আর পিছু হটার কোনো সুযোগ নেই।’

জানা গেছে, বেশ কিছু দেশ ইনফান্তিনোর ওপর থেকে সমর্থন প্রত্যাহার করে নিচ্ছে। এখন পর্যন্ত কেবল ১৫ দেশের সমর্থন পেয়েছেন তিনি। অথচ সপ্তাহখানেক আগেও মার্চের পুনঃনির্বাচনে দাঁড়াতে ৫৬ বছর বয়সী ২১১ ফিফা সদস্যের প্রায় সবার সমর্থন পেয়েছিলেন। জিততে তার ১০৬ ভোটের দরকার ছিল।

এখন পর্যন্ত কোনো প্রার্থী তার বিরুদ্ধে নির্বাচনে দাঁড়াতে এগিয়ে আসেননি। অবশ্য ১৮ নভেম্বর পর্যন্ত হাতে সময় আছে। তবে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক দেশ ইনফান্তিনোর পদত্যাগের দাবি জানালে জরুরি ফিফা পরিষদ বৈঠক ডাকতেই হবে।

শীর্ষ সন্ত্রাসী রায়হানের সহযোগীসহ ৪ জন অস্ত্র-গুলিসহ গ্রেপ্তার

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Monday, 3 August, 2026, 2:57 pm
শীর্ষ সন্ত্রাসী রায়হানের সহযোগীসহ ৪ জন অস্ত্র-গুলিসহ গ্রেপ্তার

চট্টগ্রামের আলোচিত শীর্ষ সন্ত্রাসী রায়হানের সহযোগীসহ ৪ জন অপরাধীকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। অভিযানে তাদের কাছ থেকে বিদেশি অস্ত্র ও গুলি উদ্ধার করা হয়েছে।

গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন—পাহাড়তলী এলাকায় যুবদল নেতা মাসুদ হত্যা মামলার অন্যতম আসামি দিদার ও আফসার, জোরারগঞ্জ থানা এলাকার চিহ্নিত সন্ত্রাসী বোরহান এবং হাটহাজারী থানার আজম হত্যা মামলার প্রধান আসামি দিদার।

বিষয়টি নিশ্চিত করে চট্টগ্রাম জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ট্রাফিক) মো. রাসেল জানান, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে আসামিদের গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তারকৃতদের বিরুদ্ধে হত্যা ও সন্ত্রাসসহ একাধিক মামলা রয়েছে। এই বিষয়ে পরবর্তীতে জেলা পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে প্রেস ব্রিফিংয়ের মাধ্যমে বিস্তারিত জানানো হবে বলে জানান তিনি।

গ্যাসের জন্য হাহাকার, স্বাভাবিক হতে লাগতে পারে আরও ৮ দিন

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Monday, 3 August, 2026, 9:25 am
গ্যাসের জন্য হাহাকার, স্বাভাবিক হতে লাগতে পারে আরও ৮ দিন

সারাদেশে গ্যাসের চাহিদা চার হাজার মিলিয়ন ঘনফুটের কাছাকাছি। স্বাভাবিক সময়ে দেশি উৎস ও আমদানির মাধ্যমে পেট্রোবাংলা সরবরাহ দেয় তিন হাজার মিলিয়ন ঘনফুটের মতো। বর্তমানে ২১-২২শ ঘনফুট সরবরাহ দেওয়ায় সারাদেশের মতো চট্টগ্রামেও চলছে গ্যাসের জন্য হাহাকার।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, সরকারি প্রতিষ্ঠান পেট্রোবাংলা নিয়ন্ত্রণাধীন দেশি-বিদেশি প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে ২ হাজার ৭৫০ মিলিয়ন ঘনফুট প্রাকৃতিক গ্যাস উত্তোলন করার সক্ষমতা রয়েছে। পাশাপাশি এলএনজি (তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস) আমদানি করে ১১শ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস সরবরাহ করতে পারে।

এর মধ্যে কক্সবাজারের মহেশখালীতে স্থাপিত দুই ভাসমান এলএনজি টার্মিনাল (এফএসআরইউ- ফ্লোটিং স্টোরেজ অ্যান্ড রিগ্যাসিফিকেশন ইউনিট) থেকে নিয়মিতভাবে সাড়ে ৯শ থেকে এক হাজার মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস জাতীয় গ্যাস গ্রিডে সরবরাহ করে রূপান্তরিত প্রাকৃতিক গ্যাস কোম্পানি লিমিটেড (আরপিজিসিএল)।

গত ২১ জুলাই এক্সিলারেট এনার্জির এফএসআইইউতে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় টার্মিনালটির পুরো অপারেশন বন্ধ হয়ে যায়। ফলে আমদানি করা এলএনজি থেকে জাতীয় গ্রিডে প্রাকৃতিক গ্যাস সরবরাহ নেমে আসে অর্ধেকে।

এলএনজি থেকে গ্যাস সরবরাহ কমে যাওয়ায় সারাদেশে গ্যাসের ব্যবস্থাপনায় হিমশিম খেতে হচ্ছে পেট্রোবাংলার অঙ্গ ও নিয়ন্ত্রণাধীন প্রতিষ্ঠানগুলোকে। এর মধ্যে গ্যাসনির্ভর বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোতে রেশনিংয়ের মাধ্যমে গৃহস্থালি, বাণিজ্যিক ও শিল্পে সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে লেজেগোবরে অবস্থা গ্যাস ব্যবস্থাপনায়।

সবশেষ ১ আগস্ট সামিট এনার্জির এফএসআরইউ থেকে ৫শ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস সরবরাহ দেওয়া হয়। সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে ১০ আগস্ট পর্যন্ত সময় চেয়েছে ক্ষতিগ্রস্ত এফএসআরইউর মালিকানা প্রতিষ্ঠান এক্সিলারেট এনার্জি। আর ৫ আগস্ট আংশিকভাবে গ্যাস সরবরাহ করার আশা প্রকাশ করেছে আরপিজিসিএল।

কর্ণফুলী গ্যাস ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেডের (কেজিডিসিএল) তথ্য অনুযায়ী, কেজিডিসিএলের অধীনে ৬ লাখ ২ হাজার ৪০৬ ব্যক্তি-প্রতিষ্ঠান গ্রাহক হিসেবে আছেন। এর মধ্যে গৃহস্থালি ৫ লাখ ৯৮ হাজার ৬টি, বাণিজ্যিক সংযোগ ২ হাজার ৯১১টি, শিল্প সংযোগ রয়েছে ১ হাজার ১৯৯টি, কেপটিভ পাওয়ার ২০৯টি, সিএনজি রিফুয়েলিং স্টেশন ৭০টি, চা-বাগান দুটি, সার কারখানা চারটি এবং বিদ্যুৎকেন্দ্রে সংযোগ রয়েছে পাঁচটি। সবমিলিয়ে চট্টগ্রামে গ্যাসের চাহিদা রয়েছে ৩৫০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস।

তবে মহেশখালীতে দুর্ঘটনাজনিত কারণে স্বাভাবিক সময়ের চেয়ে গ্যাসের সরবরাহ ৫শ মিলিয়ন ঘনফুট কমলেও চট্টগ্রামে বরাদ্দ কমানো হয়েছে ১৫০ মিলিয়ন ঘনফুটের বেশি। স্বাভাবিক সময়েও ২৩০ মিলিয়ন ঘনফুটের কম-বেশি সরবরাহ পেতো কর্ণফুলী গ্যাস।

আমরা স্বাভাবিক সময়ে ২৩০ মিলিয়ন ঘনফুটের বেশি গ্যাস পেতাম। আজ (রোববার) ৭৫ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস পেয়েছি। যে কারণে নগরীতে গ্যাস সরবরাহ বিঘ্ন হচ্ছে। আশা করছি কয়েকদিনের মধ্যে সমস্যা সমাধান হয়ে যাবে।-কেজিডিসিএলের মহাব্যবস্থাপক (ইঞ্জিনিয়ারিং সার্ভিসেস ডিভিশন) প্রকৌশলী মো. তাজউদ্দিন ঢালী

কিন্তু ২ আগস্ট জাতীয় গ্রিড থেকে কেজিডিসিএল বরাদ্দ পেয়েছে মাত্র ৭৫ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস। এতে রোববার (২ আগস্ট) পুরো চট্টগ্রামে গ্যাসের জন্য হাহাকার শুরু হয়। শিল্প থেকে বিদ্যুৎকেন্দ্র, হোটেল রেস্তোরাঁ থেকে গৃহস্থালি- সবখানেই সারাদিন গ্যাস নিয়ে ভোগান্তি পোহাতে হয়েছে ভোক্তাদের।

কেজিডিসিএলের মহাব্যবস্থাপক (ইঞ্জিনিয়ারিং সার্ভিসেস ডিভিশন) প্রকৌশলী মো. তাজউদ্দিন ঢালী বলেন, ‘আমরা স্বাভাবিক সময়ে ২৩০ মিলিয়ন ঘনফুটের বেশি গ্যাস পেতাম। আজ (রোববার) ৭৫ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস পেয়েছি। যে কারণে নগরীতে গ্যাস সরবরাহ বিঘ্ন হচ্ছে। আশা করছি কয়েকদিনের মধ্যে সমস্যা সমাধান হয়ে যাবে।’

রোববার সকাল থেকে সরবরাহ লাইনে পর্যাপ্ত চাপ না থাকায় সিএনজি রিফুয়েলিং স্টেশনগুলোতে ঘণ্টার পর ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়ে থাকতে হয়েছে সিএনজিচালিত অটোরিকশা, কার, পিকআপভ্যানকে। আবার গৃহস্থালিতেও গ্যাসের চুলার পরিবর্তে বৈদ্যুতিক ও কেরোসিনের চুলার আশ্রয় নিতে হয়েছে নগরবাসীর।

জ্বলছে না চুলা
নগরীর হামজারবাগ এলাকার বাসিন্দা শ্যামলি নন্দী একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে কাজ করেন। তিনি বলেন, ‘প্রতিদিন সকালে পরিবারের দিনের রান্নাবান্না সেরে অফিসে যাই। কিন্তু আজ দুদিন ধরে গ্যাসের চাপ কম। সকালে চাপ একেবারে কমে গেছে। তাই বাধ্য হয়ে ইলেক্ট্রিক চুলায় রান্নার কাজ সারতে হয়েছে।’

হালিশহর এলাকার বাসিন্দা সরকারি কর্মকর্তা আলাউদ্দিন হোসেন বলেন, ‘আমি বেশ কয়েকবছর হালিশহর কে ব্লক এলাকায় বসবাস করি। গত কয়েকদিন ধরে গ্যাসে সমস্যা হচ্ছে। আজ সকালে চাপ একেবারে কম থাকায় রান্নায় সমস্যা হয়েছে। সকালে বাচ্চাদের টিফিন ও অন্য রান্না করতে অনেক সময়ক্ষেপণ হয়েছে।’

বিপাকে গ্যাসচালিত যানবাহন
সকাল থেকে নগরীর সিএনজি রিফুয়েলিং স্টেশনগুলোতেও ঘণ্টার পর ঘণ্টা লাইনে অপেক্ষা করে গ্যাস নিতে হয়েছে অটোরিকশা ও অন্য যানবাহনকে। দুপুরে দেখা যায়, নগরীর কদমতলী এলাকার ফোর স্টার সিন্ডিকেট সিএনজি রিফুয়েলিং স্টেশনে সরবরাহ বন্ধ থাকায় সিএনজিচালিত অটোরিকশার লাইন প্রায় এক কিলোমিটার ঘুরে সিআরবি সাত রাস্তা হয়ে উল্টো কদমতলী মোড়ের কাছাকাছি গিয়ে ঠেকে।

সিএনজিচালিত অটোরিকশাচালক বেলাল হোসেন প্রায় ২০ বছর ধরে চট্টগ্রাম শহরে অটোরিকশা চালান। ভোলার মনপুরা এলাকার বাসিন্দা বেলাল বলেন, ‘গ্যাসের সমস্যার কারণে আমাদের লাইন ধরে বসে থাকতে হচ্ছে। গ্যাস না থাকায় গাড়ি চালাতে পারছি না। গাড়ি না চালালেও গাড়ির মালিককে দিনের জমা বাধ্যতামূলক দিয়ে দিতে হবে। প্রতিদিন মালিকের গাড়ির জমা বাদ দিয়ে যা থাকে তা দিয়ে সংসার খরচ চালাতাম। এখন বসে থাকলেও আগে মালিকের জমা দিতে হবে।’

তিনি বলেন, ‘সরকার যদি আগে বলে দিতো, আজ গ্যাস পাওয়া যাবে না, আমরা আগে বিকল্প ব্যবস্থা নিতাম। আমাদের দিনভর ভোগান্তিতে পড়তে হতো না।’

পাশে সিআরবি এলাকায় লাইনে গাড়ি রেখে শিরিষ তলায় অপেক্ষা করছেন আরেক চালক আকতার হোসেন। তিনি বলেন, ১০-১২ দিন থেকে গ্যাস নিয়ে সমস্যা হচ্ছে। আজ একেবারে পাওয়া যাচ্ছে না। গ্যাস শেষ হয়ে যাওয়ায় এখানে এক ঘণ্টা ধরে লাইনে বসে আছি।’

মহেশখালীতে ক্ষতিগ্রস্ত এক্সিলারেট এনার্জির এফএসআরইউটি সারিয়ে তুলতে বিশেষজ্ঞ টিম কাজ করছে। পুরোপুরি স্বাভাবিক হতে ১০ আগস্ট পর্যন্ত লাগতে পারে।পেট্রোবাংলার পরিচালক (অপারেশন্স অ্যান্ড মাইনস) মো. রফিকুল ইসলাম

কদমতলী এলাকায় বেশ কয়েকজন সিএনজিচালিত অটোরিকশাচালক ফুটপাতে অলস সময় কাটাচ্ছেন। তাদের মধ্যে মোহাম্মদ ইব্রাহিম বলেন, ‘সরকার গ্যাসের দাম বাড়ানোর জন্য কৌশল নিয়েছে। দাম বাড়ালে বাড়াতো, আমাদের কষ্ট করতে হতো না।’

কথা হলে ফোর স্টার সিন্ডিকেট সিএনজি রিফুয়েলিং স্টেশনের বিক্রয় সহকারী মো. হৃদয় বলেন, ‘সকালে কিছুটা চাপ থাকলেও দুপুরের দিকে একেবারে বন্ধ হয়ে গেছে। সেজন্য আমরা বসে আছি। লাইনে গ্যাস আসার সঙ্গে সঙ্গে বিক্রি চালু করবো।’

স্বাভাবিক হতে পারে ১০ আগস্ট
চলমান গ্যাস সংকট সমাধান হতে আরও এক সপ্তাহের বেশি অপেক্ষা করতে হতে পারে ভোক্তাদের। কথা হলে পেট্রোবাংলার পরিচালক (অপারেশন্স অ্যান্ড মাইনস) মো. রফিকুল ইসলাম বলেন, ‘মহেশখালীতে ক্ষতিগ্রস্ত এক্সিলারেট এনার্জির এফএসআরইউটি সারিয়ে তুলতে বিশেষজ্ঞ টিম কাজ করছে। পুরোপুরি স্বাভাবিক হতে ১০ আগস্ট পর্যন্ত লাগতে পারে।’

আমদানি করা এলএনজি (তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস) পুনরায় প্রাকৃতিক গ্যাসে রূপান্তর করে জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ দেয় পেট্রোবাংলার প্রতিষ্ঠান রূপান্তরিত প্রাকৃতিক গ্যাস কোম্পানি লিমিটেড (আরপিজিসিএল)।

কথা হলে আরপিজিসিএল চট্টগ্রামের উপমহাব্যবস্থাপক (এলএনজি) প্রকৌশলী মো. নাছির উদ্দীন বলেন, ‘ক্ষতিগ্রস্ত এফএসআরইউটি পুরোপুরি সারিয়ে তোলা গেলে গ্যাস সরবরাহ স্বাভাবিক হবে। বর্তমানে সামিট এফএসআরইউ থেকে দৈনিক ৫শ মিলিয়ন ঘনফুটের মতো গ্যাস সরবরাহ দেওয়া হচ্ছে। রোববারও ৫শ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ দেওয়া হয়েছে। আশা করছি ৫ আগস্ট আংশিকভাবে গ্যাস সরবরাহ শুরু করা যাবে।’