খুঁজুন
সোমবার, ৪ঠা মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ২১শে বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

প্রণোদনার পোস্টমর্টেম : রিয়াজ হায়দার চৌধুরী

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: সোমবার, ৩০ মার্চ, ২০২০, ৮:১৮ অপরাহ্ণ
প্রণোদনার পোস্টমর্টেম : রিয়াজ হায়দার চৌধুরী

গণমাধ্যমের প্রণোদনা কার জন্য, কীসের জন্য ? এর বিন্দু ভাগ কি সাংবাদিকদের কপালে জুটবে ? নাকি শুধুই তেলে মাথায় তেল? — এরকম নানা প্রশ্ন এখন খুব’ই প্রাসঙ্গিক।

গনমাধ্যমের সুরক্ষা চাই আমরা। তার মানে এই নয় যে, তা নিছক পত্রিকা কিংবা টেলিভিশন মালিকপক্ষের জন্য । মাঠের সাংবাদিক থেকে শুরু করে সকল স্তরের কর্মী অর্থাৎ গণমাধ্যম পরিবারে এর সুফল মিলবে কিনা, তা খতিয়ে দেখা কিংবা নিশ্চিত করার দায়িত্ব সরকারেরই।‌

কথা স্পষ্ট, আমরা মালিকপক্ষের জন্য প্রণোদনা চাইনা। সার্বিক সুরক্ষা চাই। – গণমাধ্যমের ইতিহাস সেই পরিপ্রেক্ষিতে অনেকটা ভিন্ন।‌

মালিক কিংবা সাংবাদিক শুধু নয়, পত্রিকা ও টেলিভিশনের মাঠের সকল কর্মী; কম্পিউটার অপারেটর, মেশিনম্যান, পিয়ন দারোয়ান, ড্রাইভার থেকে শুরু করে সকল পর্যায়ের কর্মীদের সুরক্ষা দরকার।‌

প্রশ্ন উঠতে পারে এও, মালিকপক্ষকে প্রণোদনা না দিলে কি অংশীজন সহায়ক কর্মীরা এর সুফল পাবেন?

বছরের পর বছর সরকারি প্রণোদনা নিয়েও দেশের সিংহভাগ পত্রিকা ও টেলিভিশনের মালিক গণমাধ্যমের কর্মীদের তার সিকি ভাগও দেননি। সংবাদপত্রে প্রতিটি ওয়েজবোর্ডের বিপরীতে মালিকপক্ষ বিজ্ঞাপনসহ আনুষঙ্গিক সুবিধা পেলেও দেশের অন্তত শতকরা ৯০ ভাগ কাগজ গণমাধ্যমকর্মীদের তার হিস্যা দেননি। এক্ষেত্রে ঢাকার বেশ কিছু কাগজ তো রয়েছেই, ঢাকার বাইরের কাগজগুলোতে বঞ্চনা সীমাহীন। ‌

অতি আশ্চর্যের বিষয় যে, এসব মনিটরিংয়ের গঠিত ‘মনিটরিং সেল’ বরাবরই রহস্যজনক আচরণ করে গেছে। সংশ্লিষ্ট জেলা প্রশাসকদের যে দায়িত্ব, তারাও তা পালন করেননি।‌

ঢাকার বাইরের কাগজগুলোতে মনিটরিং নিশ্চিত করতে সাংবাদিকদের শুধু ঢাকার নির্বাচিত নেতৃত্বের বাইরেও আঞ্চলিক প্রতিনিধিত্ব রাখার জন্য মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর কাছে আরও অন্তত ৩ বছর আগে এক বৈঠকে দাবি তুলেছিলাম। ‌তিনি আমার উত্থাপিত সেই দাবি নিজে নোট নিয়ে তাঁর বক্তব্যে হ্যাঁ বোধক সিদ্ধান্ত জানিয়েছিলেন । আশা করেছিলাম, বঙ্গবন্ধুকন্যা প্রধানমন্ত্রীর ঘোষণার পর অন্তত আমাদের ভাগ্য বদল হবে। ‌ সংবাদপত্রে প্রণোদনার বিপরীতে আমাদের ন্যায্যতম হিস্যা পাবো। ‌ কিন্তু কে শোনে কার কথা!

প্রধানমন্ত্রীর ঘোষণার পরেও ঢাকার বাইরে নির্বাচিত নেতৃত্ব থেকে মনিটরিং সেলে আমাদের প্রতিনিধিত্ব হয়নি ! একইদিন আমার প্রস্তাবনায় সাংবাদিক কল্যাণ ট্রাস্টেও ঢাকার বাইরের সাংবাদিক প্রতিনিধিত্ব চেয়েছিলাম। তাও প্রধানমন্ত্রী আশ্বস্ত করে ঘোষণা দিয়েছিলেন। সে কথাও রাখেননি দায়িত্বশীল কেউ’ই।

একথা ভুলে গেলে চলবে না যে, একদিন সবাই সবকিছু ভুলে যাবেন। প্রধানমন্ত্রীর ঘোষণা বাস্তবায়ন করা যাদের দায়িত্ব, তাদের কাজকর্ম সাংবাদিকরা মনিটরিং করছেন। একদিন নিশ্চয়ই এর পোস্টমর্টেমও হবে।

একথা আমাদের মানতেই হবে যে, পদ পদবী কিংবা চেয়ার কারোরই স্হায়ী নয়। যাক প্রণোদনার কথাতেই ফিরে আসি। প্রণোদনা চেয়ে এডিটর গিলডস ছয় দফা দিয়েছে । সাংবাদিকদের এ নিয়ে উচ্ছ্বাস কিংবা স্বাগত জানানোর বদলে উদ্বেগ’ই দেখা দিয়েছে। দাবি উঠেছে, গণমাধ্যমে অতীতে দেয়া প্রণোদনা কার ভাগে কিরকম গেছে, তা খতিয়ে দেখার। ‌তা খতিয়ে দেখতে সাংবাদিকদের সর্বোচ্চ শীর্ষ সংগঠন বিএফইউজে-বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়নের নির্বাচিত সভাপতি মোল্লা জালাল ‘কমিশন’ গঠনের প্রস্তাব দিয়েছেন, যা খুবই বিবেচনা যোগ্য।

মালিকদের প্রণোদনা নিয়ে আওয়াজ তোলাদের ‘মতলববাজ’ আখ্যায়িত করেছেন মোল্লা জালাল।

ফেসবুকে নিজের ওয়ালে আপলোড দেয়া মন্তব্যে তিনি লিখেছেন, ‘মতলববাজদের পাঁয়তারা আঁচ করতে পেরে গত ২৯ মার্চ বিএফইউজে এবং ডিইউজে এক যুক্ত বিবৃতিতে করোনার এই আপদকালে অবিলম্বে গণমাধ্যম কর্মীদের বকেয়া বেতন পরিশোধ করার জোর দাবি জানায়। এতে মতলববাজরা বুঝে ফেলে, সাংবাদিকদের ঘাড়ে বন্দুক রেখে শিকার করা সহজ হবে না। ‘

বিএফইউজে সভাপতি আরো লিখেছেন, ‘আমি প্রনোদনার বিপক্ষে নই। তবে কথা আছে। কেন এবং কার জন্য এই প্রনোদনা?

‘বাংলাদেশে গত ৮ মার্চ করোনা সনাক্ত হয়েছে। ১০ মার্চ থেকে সরকার সবাইকে সতর্ক থাকার পরামর্শ দিচ্ছে। ২৬ মার্চ থেকে সকল সরকারি- বেসরকারি অফিস আদালত ছুটি ঘোষনা করা হয়। আজকে ৩০ মার্চ। এর মধ্যে সময় গেছে মাত্র ৪ দিন।

সমাজের দিনমজুররাও মহামারির এই দূঃসময়ে ৩/৪ দিনের মাথায় খাদ্যের জন্য অন্যের কাছে হাত পাতেনি।’

প্রশ্ন হচ্ছে, গণমাধ্যম মালিকদের কাছে কি ২/৪ মাস চলার মত টাকা নাই ? নিশ্চয়ই আছে , কিন্তু দেবে না। ‘ এই শীর্ষ সাংবাদিক নেতারও প্রশ্ন, ‘প্রনোদনা কি শুধু তেলের মাথায় তেল দেওয়ার জন্য? নাকি সারাদেশের সকল গনমাধ্যমের জন্য! সেটাও পরিষ্কার নয়।

গণমাধ্যম হচ্ছে ব্যক্তি মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠান। তারা যখন সরকারের আইন মানেনা, তখন মাননীয় প্রধানমন্ত্রীকেও বলতে হয়, “আমরাতো দিয়েছি, কিন্তু মালিকরা ওয়েজবোর্ড বাস্তবায়ন না করলে কি করবো”।

বিএফইউজের সভাপতি তাই সাফ জানিয়ে দিলেন, ‘এবার যখন মালিকরা প্রনোদনা চায়, তখন সরকারের সংশ্লিষ্ট মন্ত্রনালয়সহ মাননীয় প্রধামন্ত্রীর কাছে দাবি জানাই, এই সুযোগে একটি কমিশন গঠন করে দেখুনতো কে কত সুবিধা ভোগ করে আর বিনিময়ে তারা সংবাদ কর্মীদের বেতন-ভাতা ঠিকমত দেয় কিনা। এ প্রশ্নের নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত এদেশের সংবাদ কর্মীরা গণমাধ্যমের জন্য প্রনোদনার মতলববাজির পাঁয়তারার বিরুদ্ধে সোচ্চার থাকবে।”

জাতীয় দুর্যোগে প্রধানমন্ত্রী যখন বেসরকারিখাত ও ব্যক্তি পর্যায়ে বিত্তশালীদের সমাজের দুস্থ নিরীহ রিক্ত নিঃস্ব মানুষের পাশে এসে দাঁড়ানোর জন্য আহ্বান জানিয়েছেন, তখন গনমাধ্যম শিল্পে সংবাদপত্র, অনলাইন নিউজ পোর্টাল ও টেলিভিশন মালিকদের বিত্তের সাথে চিত্তের মিল-অমিল, অবস্থান খতিয়ে দেখার দাবি উঠতেই পারে।

এই কথা তো সবাই জানেন যে, তথ্য মন্ত্রনালয়ের দেওয়া এ্যাক্রেডিটিশন কার্ডধারি আন্ডার গ্রাউন্ড ও ওভারগ্রাউন্ড মিডিয়া মালিকরা সহযোগী নানা ব্যবসার নিয়ন্ত্রণ প্রভাব, বিভিন্ন সরকারি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে প্রতিনিধিত্ব ছাড়াও জমি-জমা, প্লট, ব্যাংক ঋণ, বিদেশ দৌড়া দৌড়ির নন চেকিং সুবিধা সহ বহু মাত্রিক প্রনোদনা পান। বিপরীতে মাঠের সাংবাদিক কিংবা অন্য বিভিন্ন সেকশনের কর্মীরা দুর্যোগেও সুরক্ষা পান না।
প্রধানমন্ত্রীর আহ্বান সত্ত্বেও বিত্তশালী বেশিরভাগ সংবাদপত্র ও টেলিভিশনের মালিকের বোধোদয় হচ্ছে না। তারা ভুলেই গেছেন, সংবাদ কর্মীরাওতো মানুষ। তাদেরওতো জীবন-জীবিকা, পরিবার পরিজন আছে। করোনা বিদ্ধ সময়ে সরকারি বেসরকারি অফিস আদালতে ছুটি ঘোষনা করে সবাইকে ‘ঘরে থাকার’ জন্য দেয়া সরকারি ঘোষনায় সৃষ্ট বর্তমানের নিয়ন্ত্রিত বাজার ব্যবস্থায় জীবন ঝুঁকি নিয়ে মাঠে থাকা সংবাদ কর্মী ও তাদের পরিবারের খবর কয়জন পত্রিকা ও টিভি মালিক নিয়েছেন?

সংবাদপত্রে বিজ্ঞাপন সহ রাস্ট্রিয় নানা সুবিধা নিয়ে ওয়েজবোর্ডের ছিটেফোটাও যখন সিংহভাগ পত্রিকা মালিক সাংবাদিকদের দেন না, টেলিভিশনগুলোতে যখন ওয়েজবোর্ডের কোন নাম নিশানাও নেই, তখন মালিকদের বিশেষ কোন জোটের প্রণোদনা প্রস্তাবে সাংবাদিকদের পক্ষ থেকে এমন প্রশ্ন কিংবা আপত্তি উঠতেই পারে। নিঃসন্দেহে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, প্রিয় তথ্যমন্ত্রীসহ দায়িত্বশীলরা এসব প্রশ্নের জবাব খুঁজে দেখবেন।

লেখক: সহ-সভাপতি, বিএফইউজে- বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়ন ও পেশাজীবী-নাগরিক সংগঠক।

Feb2

শপথ নিলেন সংরক্ষিত নারী আসনের ৪৯ এমপি

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: রবিবার, ৩ মে, ২০২৬, ১০:৫০ অপরাহ্ণ
শপথ নিলেন সংরক্ষিত নারী আসনের ৪৯ এমপি

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত মহিলা আসনে নব-নির্বাচিত সংসদ সদস্যরা আনুষ্ঠানিকভাবে শপথ নিয়েছেন।

রোববার (৩ মে) জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের শপথ কক্ষে সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্যদের শপথ পড়ান স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ।

সংসদ সচিবালয় জানায়, রাত ৯টায় সংসদ ভবনের পূর্ব ব্লকের লেভেল-১ এ অবস্থিত শপথ কক্ষে এই শপথ অনুষ্ঠানটি অনুষ্ঠিত হয়। জাতীয় সংসদের স্পিকার নব-নির্বাচিত এই নারী জনপ্রতিনিধিদের শপথ বাক্য পাঠ করান। নব-নির্বাচিত সংসদ সদস্যদের এই শপথ গ্রহণের মাধ্যমে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ পূর্ণাঙ্গ রূপ পেল।

এর আগে, গত ৩০ এপ্রিল নির্বাচন কমিশন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত নারী আসনে নির্বাচনে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত ৪৯ জনের গেজেট প্রকাশ করে।

রিটার্নিং কর্মকর্তা জানান, ৫৩ জন প্রার্থী মনোনয়নপত্র দাখিল করেছিলেন (এনসিপি নেত্রী নুসরাত তাবাসসুম বাদে, তিনি ১৯ মিনিট পর মনোনয়ন জমা দিয়েছিলেন)। এদের মধ্যে বিএনপি জোটে ৩৬ জন বৈধ প্রার্থী, জামায়াত জোটের ১২ জন বৈধ প্রার্থী ও স্বতন্ত্রদের জোটের এক বৈধ প্রার্থীরসহ মোট ৪৯ জন বৈধ প্রার্থীকে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত ঘোষণা করে তাদের নামে গেজেট প্রকাশ করা হয়।

বিএনপির ৩৬ নির্বাচিত নারী সংসদ সদস্য (এমপি) হলেন – সেলিমা রহমান, শিরিন সুলতানা, রাশেদা বেগম হিরা, রেহানা আক্তার রানু, নেওয়াজ হালিমা আর্লি, মোছাম্মত ফরিদা ইয়াসমিন, বিলকিস ইসলাম, শাকিলা ফারজানা, হেলেন জেরিন খান, নিলুফার চৌধুরী মনি, নিপুণ রায় চৌধুরী, জেবা আমিন খান, মাহমুদা হাবিবা, সাবিরা সুলতানা, সানসিলা জেবরিন, সানজিদা ইসলাম তুলি, সুলতানা আহমেদ, ফাহমিদা হক, আন্না মিঞ্জ, সুবর্ণা শিকদার, শামীম আরা বেগম স্বপ্না, শাম্মী আক্তার, ফেরদৌসী আহমেদ, বিথীকা বিনতে হুসাইন, সুরাইয়া জেরিন, মানছুরা আক্তার, জহরত আদিব চৌধুরী, মমতাজ আলম, ফাহিমা নাসরিন, আরিফা সুলতানা, সানজিদা ইয়াসমিন, শওকত আর আক্তার, মাধবী মারমা, সেলিনা সুলতানা ও রেজেকা সুলতানা।

জামায়াত জোটের ১২ এমপি হলেন- নুরুন্নিসা সিদ্দীকা, মারজিয়া বেগম, সাবিকুন্নাহার মুন্নী, নাজমুন নাহার নীলু, মাহফুজা হান্নান, সাজেদা সামাদ, শামছুন্নাহার বেগম, ইঞ্জি: মারদিয়া মমতাজ, রোকেয়া বেগম, ডা. মাহমুদা আলম মিতু, তাসমিয়া প্রধান ও ইঞ্জি: মাহবুবা হাকিম।

এছাড়া স্বতন্ত্র জোটের সুলতানা জেসমিনকে এমপি নির্বাচিত ঘোষণা করে গেজেট প্রকাশ করা হয়েছে।

হামের উপসর্গে আরও ১০ শিশুর মৃত্যু

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: রবিবার, ৩ মে, ২০২৬, ৭:৪০ অপরাহ্ণ
হামের উপসর্গে আরও ১০ শিশুর মৃত্যু

গত ২৪ ঘণ্টায় সারা দেশে হাম ও এর উপসর্গ নিয়ে আরও ১০ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। পাশাপাশি এই সময়ে নতুন করে আরও এক হাজার ২৬১ শিশু হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে।

রোববার (০৩ মে) বিকালে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হেলথ ইমার্জেন্সি অপারেশন সেন্টার ও কন্ট্রোল রুম থেকে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, গত ১৫ মার্চের পর থেকে এ পর্যন্ত হামে ৫০ জনের মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে সন্দেহভাজন হামজনিত মৃত্যুর সংখ্যা ২৪৪ জন।

১৫ মার্চের পর থেকে এ পর্যন্ত নিশ্চিত হামে আক্রান্ত হয়েছেন ৫ হাজার ৩১৩ জন। একই সময়ে সন্দেহভাজন হামে আক্রান্তের সংখ্যা ৪০ হাজার ৪৯১ জন।

এ পর্যন্ত হাম সন্দেহে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ২৭ হাজার ৮১৬ জন এবং হাসপাতাল থেকে ছাড়া পেয়েছেন ২০ হাজার ৯০ জন।

জনপ্রশাসন সঠিকভাবে কাজ করলে অবশ্যই জনগণের রায় প্রতিফলিত হয়

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: রবিবার, ৩ মে, ২০২৬, ৩:৩৩ অপরাহ্ণ
জনপ্রশাসন সঠিকভাবে কাজ করলে অবশ্যই জনগণের রায় প্রতিফলিত হয়

প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়াম্যান তারেক রহমান বলেছেন, জনপ্রশাসন যদি সঠিকভাবে কাজ করে তাহলে অবশ্যই জনগণের রায় প্রতিফলিত হয়। ১২ ফেব্রুয়ারি নির্বাচনে জনগণের সামনে একটি বিষয় কিন্তু প্রমাণিত হয়েছে।

তিনি বলেন, এই নির্বাচনে জনরায়ের প্রতি ফলন ঘটেছে। জনপ্রশাসনের পক্ষে সুষ্ঠু নির্বাচন পরিচালনা করা সম্ভব। সেটি আপনারা প্রমাণ করেছেন ১২ তারিখের নির্বাচনে। অপরদিকে যদি আপনাদের কাজ করতে না দেওয়া হয়, তাহলে কি হতে পারে সেটি আমরা ১৪, ১৮ বা ২৪ সালের নির্বাচনগুলোতে দেখেছি।

রোববার (৩ মে) রাজধানীর ওসমানি স্মৃতি মিলনায়তনে চার দিন ব্যাপী জেলা প্রশাসক (ডিসি) সম্মেলন-২০২৬ এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।

প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের পর জেলা প্রশাসকদের সঙ্গে এটিই তার প্রথম আনুষ্ঠিক সভা জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, একটি অবাধ সুষ্ঠু এবং নিরপেক্ষভাবে অনুষ্ঠিত জাতীয় নির্বাচনে জনগণের রায়ে বিএনপি রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব গ্রহণের পর আপনাদের সঙ্গে আমার এটাই প্রথম আনুষ্ঠানিক একটি সভা বা বৈঠক।

তিনি বলেন, ১২ ফেব্রুয়ারি জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠানে আপনাদের সবাই হয়তো জেলা প্রশাসক হিসেবে সরাসরি জাতীয় নির্বাচনের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ছিলেন না। তবে আপনারা প্রায় প্রত্যেকেই হয়তো যিনি যার অবস্থান থেকে প্রত্যক্ষ কিংবা পরোক্ষভাবে জাতীয় নির্বাচন পরিচালনা কার্যক্রমের সঙ্গে হয়তো জড়িত ছিলেন। বিগত জাতীয় নির্বাচন পরিচালনায় পেশাদারিত্বের পরিচয় দিয়ে জনপ্রশাসনে যারা জাতীয় দায়িত্ব পালন করেছেন, আমি প্রথমেই তাদের জানাই আন্তরিক অভিনন্দন এবং ধন্যবাদ।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, এই জেলা প্রশাসক সম্মেলন অবশ্যই নতুন কিছু নয়, এটি জেলা প্রশাসকদের একটি নিয়মিত বাৎসরিক সম্মেলন। আজ থেকে এটি শুরু হবে এবং ৬ মে পর্যন্ত চলবে। জনস্বার্থে প্রশাসনের কী ভূমিকা পালন করা উচিত সেটি অবশ্যই আপনারা-কম বেশি অবগত রয়েছেন। এটি নিয়েও বোধহয় নতুন করে বিস্তারিত কিছু বলার নেই। তবে এটি যেহেতু বর্তমান গণতান্ত্রিক সরকারের সঙ্গে আপনাদের প্রথম আনুষ্ঠানিক বৈঠক, সেহেতু সরকারের গৃহীত নীতিমালা এবং জনপ্রশাসন সম্পর্কে সরকারের কিছু পদক্ষেপ বা পর্যবেক্ষণ এবং নির্দেশনা নিয়েই মূলত আমি আপনাদের সামনে কয়েকটি কথা তুলে ধরতে চাই বা বলতে চাই।

তিনি বলেন, একটি দেশের জনপ্রশাসনে পদোন্নতি কিংবা পোস্টিংয়ের জন্য যতগুলো প্রশাসনিক পদ রয়েছে, প্রতিটি পদই রাষ্ট্র এবং সরকারের জন্য অবশ্যই প্রয়োজনীয় ও গুরুত্বপূর্ণ। সুতরাং শুধুমাত্র পদোন্নতি কিংবা নিজেদের পছন্দের জায়গায় পোস্টিংয়ের জন্য পেশাদারিত্বের সঙ্গে আপস করলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা সাময়িকভাবে হয়তো লাভবান হতে পারেন। তবে আমি ব্যক্তিগতভাবে মনে করি, সেটি সার্বিকভাবে জনপ্রশাসনের দক্ষতা এবং নিরপেক্ষতার উপরে একটা নেতিবাচক প্রভাব ফেলে। সুতরাং জনপ্রশাসনের কর্মকর্তাদের সব পদে কাজ করার মানসিকতা থাকা জরুরি।

তিনি আরও বলেন, সবসময় নিজেদের পছন্দের পদে পদায়ন কিংবা পোস্টিং পাওয়ার মানসিকতাই কিন্তু জনপ্রশাসনকে হয়তোবা দুর্নীতি পরায়ন এবং অপেশাদার করে তোলার অন্যতম একটি কারণ। সুতরাং আপনাদের প্রতি আমার বিশেষ আহ্বান থাকবে জনপ্রশাসনের প্রতিটি পদকেই গুরুত্বপূর্ণ এবং অনিবার্য ভাবুন। দেশের যেকোনো স্থানেই যেকোনো সময় জনপ্রশাসনের যেকোনো পদে দায়িত্ব পালনের জন্য নিজেদের মানসিকভাবে প্রস্তুত করে রাখুন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, সরকার যেরকম চিরস্থায়ী নয়, জনপ্রশাসনের কোনো পদ কারও জন্য চিরস্থায়ী নয়। এজন্যই আমি পূর্বের কথাটি বলেছি আপনাদের সামনে। জনপ্রশাসনের যেকোন স্তরের কর্মকর্তারা যদি রাষ্ট্রের প্রয়োজনে, যেকোনো সময়, যেকোনো পদে, দেশের স্বার্থে, যেকোনো স্থানে কাজ করার জন্য মানসিকভাবে প্রস্তুতি থাকেন, আমার বিশ্বাস জনপ্রশাসনে পেশাদারিত্ব গড়ে ওঠার ক্ষেত্রে এটা একটা সহায়ক ভূমিকা রাখবে।

তারেক রহমান বলেন, জনগণ সরাসরি ভোটের মাধ্যমে দীর্ঘদিন ধরে একটি জবাবদিহিমূলক ন্যায়ভিত্তিক ও জনকল্যাণমুখী শাসন ব্যবস্থার প্রত্যাশা থেকে সাধারণ মানুষের আকাঙ্ক্ষার প্রতিফলন হচ্ছে বর্তমান সরকার। স্বাভাবিকভাবেই জনগণ সরকারের প্রতিটি কাজের মাধ্যমে তাদের আকাঙ্ক্ষার একটি বাস্তব প্রতিফলন দেখতে চাইবে। বিশেষ করে বিভাগীয় কমিশনার এবং জেলা প্রশাসকরাই জনগণের সঙ্গে সরকারের প্রধান সেতু বন্ধন। আপনাদের সততা কর্মদক্ষতা এবং দায়বদ্ধতার উপরে সরকারের গৃহীত কার্যক্রমের সাফল্য বলা যায় প্রায় পুরোটাই নির্ভর।

তিনি বলেন, দেশের বর্তমান রাজনৈতিক অর্থনৈতিক অবস্থা ব্যবস্থা সম্পর্কে আমার মনে হয় আপনারা ভালোভাবে অবগত রয়েছেন। দেশের ইতিহাসের সবচেয়ে ভঙ্গুর অর্থনীতি দুর্বল বিভাজিত জনপ্রশাসন এবং অবনতিশীল আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির মধ্যে বর্তমান সরকারকে কাজ শুরু করতে হয়েছিল। অবশ্যই আমি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি, আপনাদের সহযোগিতায় অনেকখানি সেই পরিস্থিতি আমরা পরিবর্তন করতে সক্ষম হয়েছি, এই আড়াই মাসে। তবে সম্পূর্ণভাবে সেটি এখনো পরিবর্তিত হয়নি। ফ্যাসিবাদী শাসন আমলে দুর্নীতি, লুটপাট, রাষ্ট্র এবং জনগণকে ঋণগ্রস্ত করে ফেলেছিল। সেই শাসন আমল ৩০ লাখ কোটি টাকা ঋণের বোঝা বর্তমান সরকারের কাঁধে। বিগত সরকারের সময় দেশকে একটা আমদানিনির্ভর রাষ্ট্রে পরিণত করে ফেলা হয়েছিল। বিভিন্ন স্ট্যাটিস্টিকস যেটা বলে দেশে দারিদ্র বেড়েছে। দেশে বেকারত্ব বেড়েছে। নতুন কর্মসংস্থান হয় নাই বললেই চলে। প্রতিটি সাংবিধানিক এবং বিধিবদ্ধ প্রতিষ্ঠানকে বলা যায় অকার্যকর করে ফেলা হয়েছিল। আপনারা মনে হয় তার সবচেয়ে বড় উদাহরণ।

তিনি বলেন, বর্তমানে যুদ্ধ পরিস্থিতি নতুন সরকারের সামনে একটি চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। যুদ্ধ পরিস্থিতি থেকে হয়তো এই মুহূর্তে পৃথিবীর কোনো দেশই রক্ষা পায়নি। সব দেশই কমবেশি এফেক্টেড হয়েছে। বাংলাদেশে এফেক্টেড হয়েছে। তবে জনগণের ভোগান্তি না বাড়িয়ে আমরা সকলে মিলে কিভাবে পরিস্থিতির মোকাবিলা করা যায় সেটি হচ্ছে আমাদের চেষ্টা বা অব্যাহত চেষ্টা। আপনাদের সহযোগিতায় সেই চেষ্টা আমরা অব্যাহত রেখেছি। ঠিক এই পরিস্থিতি মোকাবিলা করেই কিন্তু বর্তমান সরকার দেশের আবহমান কালের ধর্মীয় সামাজিক মূল্যবোধের আলোকে একটি ন্যায়ভিত্তিক কল্যাণ রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা করতে চাইছি আমরা। এই লক্ষ্যকে বাস্তবায়নে সরকার দেশের প্রতিটি শ্রেণিপেশার মানুষের জীবন মান উন্নয়নের বিভিন্ন পদক্ষেপের বাস্তবায়ন কাজ শুরু করেছে সরকার।