খুঁজুন
বৃহস্পতিবার, ১৮ই জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ৪ঠা আষাঢ়, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

প্রণোদনার পোস্টমর্টেম : রিয়াজ হায়দার চৌধুরী

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: সোমবার, ৩০ মার্চ, ২০২০, ৮:১৮ অপরাহ্ণ
প্রণোদনার পোস্টমর্টেম : রিয়াজ হায়দার চৌধুরী

গণমাধ্যমের প্রণোদনা কার জন্য, কীসের জন্য ? এর বিন্দু ভাগ কি সাংবাদিকদের কপালে জুটবে ? নাকি শুধুই তেলে মাথায় তেল? — এরকম নানা প্রশ্ন এখন খুব’ই প্রাসঙ্গিক।

গনমাধ্যমের সুরক্ষা চাই আমরা। তার মানে এই নয় যে, তা নিছক পত্রিকা কিংবা টেলিভিশন মালিকপক্ষের জন্য । মাঠের সাংবাদিক থেকে শুরু করে সকল স্তরের কর্মী অর্থাৎ গণমাধ্যম পরিবারে এর সুফল মিলবে কিনা, তা খতিয়ে দেখা কিংবা নিশ্চিত করার দায়িত্ব সরকারেরই।‌

কথা স্পষ্ট, আমরা মালিকপক্ষের জন্য প্রণোদনা চাইনা। সার্বিক সুরক্ষা চাই। – গণমাধ্যমের ইতিহাস সেই পরিপ্রেক্ষিতে অনেকটা ভিন্ন।‌

মালিক কিংবা সাংবাদিক শুধু নয়, পত্রিকা ও টেলিভিশনের মাঠের সকল কর্মী; কম্পিউটার অপারেটর, মেশিনম্যান, পিয়ন দারোয়ান, ড্রাইভার থেকে শুরু করে সকল পর্যায়ের কর্মীদের সুরক্ষা দরকার।‌

প্রশ্ন উঠতে পারে এও, মালিকপক্ষকে প্রণোদনা না দিলে কি অংশীজন সহায়ক কর্মীরা এর সুফল পাবেন?

বছরের পর বছর সরকারি প্রণোদনা নিয়েও দেশের সিংহভাগ পত্রিকা ও টেলিভিশনের মালিক গণমাধ্যমের কর্মীদের তার সিকি ভাগও দেননি। সংবাদপত্রে প্রতিটি ওয়েজবোর্ডের বিপরীতে মালিকপক্ষ বিজ্ঞাপনসহ আনুষঙ্গিক সুবিধা পেলেও দেশের অন্তত শতকরা ৯০ ভাগ কাগজ গণমাধ্যমকর্মীদের তার হিস্যা দেননি। এক্ষেত্রে ঢাকার বেশ কিছু কাগজ তো রয়েছেই, ঢাকার বাইরের কাগজগুলোতে বঞ্চনা সীমাহীন। ‌

অতি আশ্চর্যের বিষয় যে, এসব মনিটরিংয়ের গঠিত ‘মনিটরিং সেল’ বরাবরই রহস্যজনক আচরণ করে গেছে। সংশ্লিষ্ট জেলা প্রশাসকদের যে দায়িত্ব, তারাও তা পালন করেননি।‌

ঢাকার বাইরের কাগজগুলোতে মনিটরিং নিশ্চিত করতে সাংবাদিকদের শুধু ঢাকার নির্বাচিত নেতৃত্বের বাইরেও আঞ্চলিক প্রতিনিধিত্ব রাখার জন্য মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর কাছে আরও অন্তত ৩ বছর আগে এক বৈঠকে দাবি তুলেছিলাম। ‌তিনি আমার উত্থাপিত সেই দাবি নিজে নোট নিয়ে তাঁর বক্তব্যে হ্যাঁ বোধক সিদ্ধান্ত জানিয়েছিলেন । আশা করেছিলাম, বঙ্গবন্ধুকন্যা প্রধানমন্ত্রীর ঘোষণার পর অন্তত আমাদের ভাগ্য বদল হবে। ‌ সংবাদপত্রে প্রণোদনার বিপরীতে আমাদের ন্যায্যতম হিস্যা পাবো। ‌ কিন্তু কে শোনে কার কথা!

প্রধানমন্ত্রীর ঘোষণার পরেও ঢাকার বাইরে নির্বাচিত নেতৃত্ব থেকে মনিটরিং সেলে আমাদের প্রতিনিধিত্ব হয়নি ! একইদিন আমার প্রস্তাবনায় সাংবাদিক কল্যাণ ট্রাস্টেও ঢাকার বাইরের সাংবাদিক প্রতিনিধিত্ব চেয়েছিলাম। তাও প্রধানমন্ত্রী আশ্বস্ত করে ঘোষণা দিয়েছিলেন। সে কথাও রাখেননি দায়িত্বশীল কেউ’ই।

একথা ভুলে গেলে চলবে না যে, একদিন সবাই সবকিছু ভুলে যাবেন। প্রধানমন্ত্রীর ঘোষণা বাস্তবায়ন করা যাদের দায়িত্ব, তাদের কাজকর্ম সাংবাদিকরা মনিটরিং করছেন। একদিন নিশ্চয়ই এর পোস্টমর্টেমও হবে।

একথা আমাদের মানতেই হবে যে, পদ পদবী কিংবা চেয়ার কারোরই স্হায়ী নয়। যাক প্রণোদনার কথাতেই ফিরে আসি। প্রণোদনা চেয়ে এডিটর গিলডস ছয় দফা দিয়েছে । সাংবাদিকদের এ নিয়ে উচ্ছ্বাস কিংবা স্বাগত জানানোর বদলে উদ্বেগ’ই দেখা দিয়েছে। দাবি উঠেছে, গণমাধ্যমে অতীতে দেয়া প্রণোদনা কার ভাগে কিরকম গেছে, তা খতিয়ে দেখার। ‌তা খতিয়ে দেখতে সাংবাদিকদের সর্বোচ্চ শীর্ষ সংগঠন বিএফইউজে-বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়নের নির্বাচিত সভাপতি মোল্লা জালাল ‘কমিশন’ গঠনের প্রস্তাব দিয়েছেন, যা খুবই বিবেচনা যোগ্য।

মালিকদের প্রণোদনা নিয়ে আওয়াজ তোলাদের ‘মতলববাজ’ আখ্যায়িত করেছেন মোল্লা জালাল।

ফেসবুকে নিজের ওয়ালে আপলোড দেয়া মন্তব্যে তিনি লিখেছেন, ‘মতলববাজদের পাঁয়তারা আঁচ করতে পেরে গত ২৯ মার্চ বিএফইউজে এবং ডিইউজে এক যুক্ত বিবৃতিতে করোনার এই আপদকালে অবিলম্বে গণমাধ্যম কর্মীদের বকেয়া বেতন পরিশোধ করার জোর দাবি জানায়। এতে মতলববাজরা বুঝে ফেলে, সাংবাদিকদের ঘাড়ে বন্দুক রেখে শিকার করা সহজ হবে না। ‘

বিএফইউজে সভাপতি আরো লিখেছেন, ‘আমি প্রনোদনার বিপক্ষে নই। তবে কথা আছে। কেন এবং কার জন্য এই প্রনোদনা?

‘বাংলাদেশে গত ৮ মার্চ করোনা সনাক্ত হয়েছে। ১০ মার্চ থেকে সরকার সবাইকে সতর্ক থাকার পরামর্শ দিচ্ছে। ২৬ মার্চ থেকে সকল সরকারি- বেসরকারি অফিস আদালত ছুটি ঘোষনা করা হয়। আজকে ৩০ মার্চ। এর মধ্যে সময় গেছে মাত্র ৪ দিন।

সমাজের দিনমজুররাও মহামারির এই দূঃসময়ে ৩/৪ দিনের মাথায় খাদ্যের জন্য অন্যের কাছে হাত পাতেনি।’

প্রশ্ন হচ্ছে, গণমাধ্যম মালিকদের কাছে কি ২/৪ মাস চলার মত টাকা নাই ? নিশ্চয়ই আছে , কিন্তু দেবে না। ‘ এই শীর্ষ সাংবাদিক নেতারও প্রশ্ন, ‘প্রনোদনা কি শুধু তেলের মাথায় তেল দেওয়ার জন্য? নাকি সারাদেশের সকল গনমাধ্যমের জন্য! সেটাও পরিষ্কার নয়।

গণমাধ্যম হচ্ছে ব্যক্তি মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠান। তারা যখন সরকারের আইন মানেনা, তখন মাননীয় প্রধানমন্ত্রীকেও বলতে হয়, “আমরাতো দিয়েছি, কিন্তু মালিকরা ওয়েজবোর্ড বাস্তবায়ন না করলে কি করবো”।

বিএফইউজের সভাপতি তাই সাফ জানিয়ে দিলেন, ‘এবার যখন মালিকরা প্রনোদনা চায়, তখন সরকারের সংশ্লিষ্ট মন্ত্রনালয়সহ মাননীয় প্রধামন্ত্রীর কাছে দাবি জানাই, এই সুযোগে একটি কমিশন গঠন করে দেখুনতো কে কত সুবিধা ভোগ করে আর বিনিময়ে তারা সংবাদ কর্মীদের বেতন-ভাতা ঠিকমত দেয় কিনা। এ প্রশ্নের নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত এদেশের সংবাদ কর্মীরা গণমাধ্যমের জন্য প্রনোদনার মতলববাজির পাঁয়তারার বিরুদ্ধে সোচ্চার থাকবে।”

জাতীয় দুর্যোগে প্রধানমন্ত্রী যখন বেসরকারিখাত ও ব্যক্তি পর্যায়ে বিত্তশালীদের সমাজের দুস্থ নিরীহ রিক্ত নিঃস্ব মানুষের পাশে এসে দাঁড়ানোর জন্য আহ্বান জানিয়েছেন, তখন গনমাধ্যম শিল্পে সংবাদপত্র, অনলাইন নিউজ পোর্টাল ও টেলিভিশন মালিকদের বিত্তের সাথে চিত্তের মিল-অমিল, অবস্থান খতিয়ে দেখার দাবি উঠতেই পারে।

এই কথা তো সবাই জানেন যে, তথ্য মন্ত্রনালয়ের দেওয়া এ্যাক্রেডিটিশন কার্ডধারি আন্ডার গ্রাউন্ড ও ওভারগ্রাউন্ড মিডিয়া মালিকরা সহযোগী নানা ব্যবসার নিয়ন্ত্রণ প্রভাব, বিভিন্ন সরকারি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে প্রতিনিধিত্ব ছাড়াও জমি-জমা, প্লট, ব্যাংক ঋণ, বিদেশ দৌড়া দৌড়ির নন চেকিং সুবিধা সহ বহু মাত্রিক প্রনোদনা পান। বিপরীতে মাঠের সাংবাদিক কিংবা অন্য বিভিন্ন সেকশনের কর্মীরা দুর্যোগেও সুরক্ষা পান না।
প্রধানমন্ত্রীর আহ্বান সত্ত্বেও বিত্তশালী বেশিরভাগ সংবাদপত্র ও টেলিভিশনের মালিকের বোধোদয় হচ্ছে না। তারা ভুলেই গেছেন, সংবাদ কর্মীরাওতো মানুষ। তাদেরওতো জীবন-জীবিকা, পরিবার পরিজন আছে। করোনা বিদ্ধ সময়ে সরকারি বেসরকারি অফিস আদালতে ছুটি ঘোষনা করে সবাইকে ‘ঘরে থাকার’ জন্য দেয়া সরকারি ঘোষনায় সৃষ্ট বর্তমানের নিয়ন্ত্রিত বাজার ব্যবস্থায় জীবন ঝুঁকি নিয়ে মাঠে থাকা সংবাদ কর্মী ও তাদের পরিবারের খবর কয়জন পত্রিকা ও টিভি মালিক নিয়েছেন?

সংবাদপত্রে বিজ্ঞাপন সহ রাস্ট্রিয় নানা সুবিধা নিয়ে ওয়েজবোর্ডের ছিটেফোটাও যখন সিংহভাগ পত্রিকা মালিক সাংবাদিকদের দেন না, টেলিভিশনগুলোতে যখন ওয়েজবোর্ডের কোন নাম নিশানাও নেই, তখন মালিকদের বিশেষ কোন জোটের প্রণোদনা প্রস্তাবে সাংবাদিকদের পক্ষ থেকে এমন প্রশ্ন কিংবা আপত্তি উঠতেই পারে। নিঃসন্দেহে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, প্রিয় তথ্যমন্ত্রীসহ দায়িত্বশীলরা এসব প্রশ্নের জবাব খুঁজে দেখবেন।

লেখক: সহ-সভাপতি, বিএফইউজে- বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়ন ও পেশাজীবী-নাগরিক সংগঠক।

Feb2

নিরাপত্তার ঘেরাটোপে সরকার প্রধানকে জনগণ থেকে দূরে ঠেলে না দেওয়ার আহ্বান

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ১৮ জুন, ২০২৬, ৫:৪১ অপরাহ্ণ
নিরাপত্তার ঘেরাটোপে সরকার প্রধানকে জনগণ থেকে দূরে ঠেলে না দেওয়ার আহ্বান

একটি বিশেষায়িত বাহিনী হিসেবে সাহস, দক্ষতা, কৌশল এবং সর্বাধুনিক প্রযুক্তিতে এসএসএফ-এর পিছিয়ে থাকার কোনো সুযোগ নেই বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

তিনি বলেন, এসএসএফ যখন প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল, সেই সময়ের সঙ্গে বর্তমান সময়ের অনেক পার্থক্য। বর্তমানে আর্থ-সামাজিক-রাজনৈতিক অবস্থা ও ব্যবস্থা, ভূ-রাজনৈতিক পরিস্থিতি এবং তথ্যপ্রযুক্তির অবাধ বিকাশের ফলে বহুমাত্রিক নিরাপত্তা চ্যালেঞ্জ তৈরি হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে স্পেশাল সিকিউরিটি ফোর্স ‘এসএসএফ’-এর ৪০তম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী উপলক্ষ্যে আয়োজিত অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেন তিনি।

তরুণ বেলা থেকেই এসএসএফের কার্যক্রমের সঙ্গে নিজের পরিচিত হওয়ার প্রসঙ্গ টেনে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সরকার প্রধান হিসেবে বর্তমানে প্রতিদিন-প্রতি সময় আমি এসএসএফের কার্যক্রম সরাসরি প্রত্যক্ষ করছি। তবে এসএসএফের কার্যক্রমের সঙ্গে আমার পরিচয় নতুন নয়। মরহুমা প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া যখন সরকার প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন তখন থেকেই অর্থাৎ আমার তরুণ বেলা থেকেই আমি এসএসএফের কার্যক্রমের সঙ্গে পরিচিত।

তিনি বলেন, খালেদা জিয়ার মৃত্যুর পর শুধু বাংলাদেশ নয়, বিশ্বের ইতিহাসের অন্যতম বৃহত্তম নামাজে জানাজা আয়োজনের ক্ষেত্রেও প্রধান সমন্বয়ক হিসেবে এসএসএফ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে। আমি এসএসএফকে আমার ও আমার পরিবারের পক্ষ থেকে আবারো ধন্যবাদ জানাই।

তিনি বলেন, এইসব চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় আধুনিক ও যুগোপযোগী প্রশিক্ষণের মাধ্যমে নিজেদেরকে সার্বক্ষণিক প্রস্তুত রাখা জরুরি। একটি বিশেষায়িত বাহিনী হিসেবে সাহস, দক্ষতা, কৌশল এবং সর্বাধুনিক প্রযুক্তিতে এসএসএফ-এর পিছিয়ে থাকার কোনোই সুযোগ নেই।

এসএসএফের প্রতিষ্ঠা বার্ষিকীতে প্রধানমন্ত্রী নিজের বিশেষ দৃষ্টিভঙ্গি শেয়ার করতে চান বলে উল্লেখ করে বলেন, সেটি হলো, সরকার প্রধান হিসেবে জনগণের বিশ্বাস এবং ভালোবাসার ওপরই আমার সবচেয়ে বেশি নির্ভরতা। সুতরাং, নিরাপত্তার ঘেরাটোপ যাতে সরকার প্রধানকে জনগণ থেকে দূরে ঠেলে না দেয়, একটি সফিসটিকেটেড বাহিনী হিসেবে সেদিকে বিশেষভাবে লক্ষ্য রাখার জন্য আমি আপনাদের প্রতি আহ্বান জানাই।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিগত ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত জাতীয় নির্বাচনে রাষ্ট্র পরিচালনার জন্য বিএনপি জনগণের ম্যান্ডেট পাওয়ার পর ১৭ ফেব্রুয়ারি থেকে বর্তমান গণতান্ত্রিক সরকার রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব পালন করছে। রাষ্ট্রীয় নিয়ম অনুযায়ী সরকার প্রধান হিসেবে এসএসএফ সার্বিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে। আপনারা জানেন, জনগণের দুর্ভোগ লাঘব করে সড়কে যানবাহনের চলাচল স্বাভাবিক রাখতে আমি আমার গাড়িবহরের আকার সীমিত করেছি। ফলে বিদ্যমান পরিস্থিতিতে সদস্য সংখ্যা বাড়ানোর পরিবর্তে এসএসএফকে হয়তো দক্ষতা এবং নিরাপত্তা কৌশলের ওপর বেশি জোর দিতে হচ্ছে। আপনারা যথাসম্ভব সুন্দরভাবে দায়িত্ব পালন করছেন, আপনাদেরকে ধন্যবাদ।

সরকার প্রধান বলেন, একটি গণতান্ত্রিক সরকারের প্রধান হিসেবে রাজধানী ঢাকা ও ঢাকার বাইরে দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলে প্রায়শই জনসভা এবং বিভিন্ন রাষ্ট্রীয় কর্মসূচিতে অংশ গ্রহণ করতে হয়। এই ধরনের অনুষ্ঠানে ব্যাপক জনসমাগমের মধ্যে নিরাপত্তা নিশ্চিত করা কিছুটা জটিল। এ ধরণের পরিস্থিতিতে একদিকে সরকার প্রধানের নিরাপত্তা ব্যবস্থা বজায় রাখা, অপরদিকে নাগরিক জীবনের স্বাচ্ছন্দ্য নিশ্চিত রাখা এই দুটির মধ্যে ভারসাম্য রক্ষা করেই এসএসএফকে তাদের নিরাপত্তা কৌশল প্রণয়ন করতে হয়।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমি মনে করি, এ ধরণের পরিস্থিতিতে সুষ্ঠু এবং সমন্বিতভাবে দায়িত্ব পালনের মাধ্যমে এসএসএফের কর্মদক্ষতাও প্রতিভাত হয়ে ওঠে।

তারেক রহমান বলেন, কিছুক্ষণ আগেই আমি এসএসএফ-এর নবনির্মিত অত্যাধুনিক ফায়ারিং রেঞ্জটি উদ্বোধন করেছি। উদ্বোধনী মহড়াও প্রত্যক্ষ করেছি। পেশাগত কর্মদক্ষতা বাড়াতে নবনির্মিত এই ফায়ারিং রেঞ্জ নিঃসন্দেহে বিশেষ ভূমিকা রাখবে। আশা করি, নিরাপত্তা কৌশল প্রণয়ন এবং নিজেদের পেশাগত কর্মদক্ষতা বাড়াতে আপনারা এই ফায়ারিং রেঞ্জের সর্বোত্তম ব্যবহার নিশ্চিত করবেন।

২০০২ সালের পর এসএসএফের রেড বুক সময়ের চাহিদানুযায়ী পুনরায় সংস্কার করে বর্তমানে আরও আধুনিক এবং সময়োপযোগী করা হয়েছে বলে উল্লেখ করেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, এই ‘রেড বুক’ এসএসএফের কার্যপদ্ধতি এবং কর্মপদ্ধতির নীতিমালা প্রদানের পাশাপাশি আইনি সুরক্ষাও নিশ্চিত করেছে। আপনাদের জন্য রেড বুকে উল্লেখিত নির্দেশনাসমূহ যথাযথভাবে অনুসরণ করা অবশ্য জরুরি। তবে রেড বুকের নির্দেশনার পাশাপাশি সময় এবং পরিস্থিতি বিবেচনায় প্রয়োজনীয় তাৎক্ষণিক সিদ্ধান্ত গ্রহণ এবং বাস্তবায়নেরও সুযোগ রয়েছে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, এসএসএফের মতো বিশেষায়িত বাহিনীর জন্য আধুনিক নিরাপত্তা কৌশল এবং প্রযুক্তিগত দক্ষতা অর্জনের পাশাপাশি প্রতিটি সদস্যের সাহস, সততা, বিশ্বস্ততা, সর্বোচ্চ পেশাদারিত্ব, নিয়মানুবর্তিতা এবং সর্বোপরি চেইন অব কমান্ড এই বিষয়গুলো কঠোরভাবে মেনে চলা অপরিহার্য।

প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, রাষ্ট্র প্রধান, সরকার প্রধান এবং দেশে-বিদেশে রাষ্ট্রঘোষিত বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার সঙ্গে দেশের জাতীয় নিরাপত্তার বিষয়টিও জড়িত। সুতরাং, নিরাপত্তা ব্যবস্থা সুদৃঢ় করতে দেশের অন্য সকল নিরাপত্তা ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী, গোয়েন্দা সংস্থা এবং বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের সাঙ্গে সমন্বয়ের মাধ্যমেই এসএসএফকে নিরাপত্তা কৌশল নিশ্চিত করতে হয়। আমি মনে করি, সমন্বয় যত বেশি দক্ষতার সঙ্গে করা যায়, নিরাপত্তা ব্যবস্থাও তত বেশি সুচারুভাবে সম্পন্ন করা সম্ভব হয়।

তিনি আরও বলেন, আরও একটি বিষয়ে আপনাদের দৃষ্টি আকর্ষণ করতে চাই, অবশ্যই আপনারা গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের নিরাপত্তাকে সর্বোচ্চ প্রাধান্য দেবেন। তবে দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে জনগণ যাতে দুর্ব্যবহারের শিকার না হয় সে দিকেও বিশেষভাবে সতর্ক থাকবেন। গণতান্ত্রিক রীতিনীতির প্রতি শ্রদ্ধাশীল থেকে দেশপ্রেমের আদর্শে উজ্জীবিত হয়ে এসএসএফ সর্বোচ্চ পেশাদারিত্বের সঙ্গে দায়িত্ব পালন অব্যাহত রাখবেন।

পটিয়ায় মুক্তিপণের জন্য অপহরণ, বস্তাবন্দি লাশ উদ্ধার: প্রতিবেশীসহ ৫ জন গ্রেপ্তার

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ১৮ জুন, ২০২৬, ২:২৩ অপরাহ্ণ
পটিয়ায় মুক্তিপণের জন্য অপহরণ, বস্তাবন্দি লাশ উদ্ধার: প্রতিবেশীসহ ৫ জন গ্রেপ্তার

আবদুল্লাহ আল নোমান পটিয়া (চট্টগ্রাম) প্রতিনিধি: চট্টগ্রামের পটিয়ায় অপহরণের দুই দিন পর পাঁচ বছর বয়সী শিশু মো. জায়হানের বস্তাবন্দি মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ।

বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) ভোরে পটিয়া পৌরসভার ৮ নম্বর ওয়ার্ডের দক্ষিণ গোবিন্দারখীল গ্রামের পূর্বপাড়া এলাকার একটি ময়লার ভাগাড়ে যৌথ অভিযানে ডিবি ও থানা পুলিশ মরদেহটি উদ্ধার করে।

এ ঘটনায় সন্দেহভাজন হিসেবে পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন— মো. সাইফুল, শাহানুর, নিহা, নিহান ও ওয়াসিফা।

পুলিশ জানায়, তাদের বসতঘরের পেছনের ময়লার ভাগাড় থেকে বস্তাবন্দি অবস্থায় শিশুটির মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে।

এর আগে অপহৃত শিশুর পরিবারের শয়নকক্ষের বিছানায় একটি হাতে লেখা মুক্তিপণের চিঠি পাওয়া যায়। চিঠিতে শিশুটিকে ফেরত পেতে ৩০ মিনিটের মধ্যে ৩ লাখ টাকা এবং পরিবারের একজনের আনলক করা মোবাইল ফোন নির্দিষ্ট স্থানে রেখে যেতে বলা হয়েছিল। ঘটনাটি জানার পর পুলিশ চিরকুটটি আলামত হিসেবে জব্দ করে তদন্ত শুরু করে।

পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মঙ্গলবার (১৬ জুন) দুপুরে বাড়ির সামনের রাস্তায় খেলতে গিয়ে নিখোঁজ হয় শিশু জায়হান। দীর্ঘ সময় খোঁজাখুঁজির পরও তাকে না পেয়ে প্রথমে পরিবারের ধারণা ছিল, সে পাশের পুকুরে পড়ে গেছে। পরে এলাকাবাসীর সহযোগিতায় পুকুরে তল্লাশি চালিয়েও কোনো সন্ধান না মেলায় পটিয়া থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়। একই সময়ে উদ্ধার হয় মুক্তিপণের সেই চিঠি।

নিহত শিশুর স্বজনদের অভিযোগ, অর্থ আদায়ের উদ্দেশ্যে পরিকল্পিতভাবে প্রতিবেশীরাই শিশুটিকে অপহরণ করে। পরে বিষয়টি ফাঁস হয়ে যাওয়ার আশঙ্কায় তাকে হত্যা করে মরদেহ বস্তায় ভরে ময়লার ভাগাড়ে ফেলে রাখা হয়। অভিযোগ রয়েছে, ঘটনার পর অভিযুক্তরাই পরিবারের সঙ্গে শিশুটিকে খোঁজার নাটকও করেছিল।

চট্টগ্রামের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সাতকানিয়া সার্কেল) আরিফুল ইসলাম সিদ্দিকী জানান, ভোরে অভিযান চালিয়ে বাড়ির পাশের ডোবা সংলগ্ন স্থান থেকে বস্তাবন্দি মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহটি চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। ঘটনার প্রকৃত কারণ উদঘাটনে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।

উজবেকিস্তানকে বিশ্বমঞ্চ চেনাল কলম্বিয়া

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ১৮ জুন, ২০২৬, ১২:৩৪ অপরাহ্ণ
উজবেকিস্তানকে বিশ্বমঞ্চ চেনাল কলম্বিয়া

ফুটবল বিশ্বকাপে প্রথমবার চমক দেখানোর স্বপ্ন নিয়ে মাঠে নেমেছিল উজবেকিস্তান। তবে নবাগতদের সেই রঙিন স্বপ্নকে লাতিন আমেরিকার মাঠের কঠোর বাস্তবতার মুখোমুখি দাঁড় করিয়ে দিল কলম্বিয়া। উজবেক ডিফেন্সের সব প্রতিরোধ ভেঙে ৩-১ গোলের বড় ব্যবধানে জয় পেয়েছে লাতিন আমেরিকার দেশটি।

ম্যাচের শুরু থেকেই চেনা লাতিন ছন্দে আক্রমণ চালাতে থাকে কলম্বিয়া। এরপরও প্রথম গোলে র জন্য ৪০ পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হয় তাদের। এসময় গোল করে দলকে লিড এনে দেন ড্যানিয়াল মুনোজ। লুইস দিয়াজের দেওয়া পাসে গোলটি করেন তিনি। প্রথমার্ধ শেষ হয় ১-০ ব্যবধানে।

ম্যাচে ফিরতে দ্বিতীয়ার্ধে আক্রমণ বাড়াতে থাকে উজবেকিস্তান। সেই সুবাদে ৬০তম মিনিটে আসে সমতাসূচক গোলটি। গোলটি করেন আববোসবেক ফয়জুললভ।

কিন্তু তাতেও শেষ রক্ষা হয়নি প্রথমবার বিশ্বকাপ খেলতে আসা দলটির। এরপর উজবেকিস্তানের জালে আরও দুবার বল পাঠায় কলম্বিয়া। ৬৫তম মিনিটে দলের হয়ে দ্বিতীয় গোলটি করেন লুইস দিয়াজ। আর ম্যাচের একদম অন্তিম মুহূর্তে ব্যবধান ৩-০ করেন জেমিনটন ক্যাম্পাজ।

এই জয়ের ফলে গ্রুপ পর্বে নিজেদের অবস্থান অনেকটাই মজবুত করল কলম্বিয়া। সর্বোচ্চ তিন পয়েন্ট নিয়ে টেবিলের শীর্ষে অবস্থান তাদের। আর টেবিলের তলানিতে রয়েছে উজবেকিস্তান।