খুঁজুন
, ,

মানুষের জীবন নিয়ে কাউকে জুয়া খেলতে দেয়া হবে না : সুজন

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Thursday, 16 April, 2020, 4:19 pm
মানুষের জীবন নিয়ে কাউকে জুয়া খেলতে দেয়া হবে না : সুজন

মানুষের জীবন নিয়ে কাউকে জুয়া খেলতে দেয়া হবে না বলে হুশিয়ারি উচ্চারন করেছেন চট্টগ্রাম মহানগর আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি খোরশেদ আলম সুজন।

তিনি আজ বৃহস্পতিবার (১৬ এপ্রিল) এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে উপরোক্ত মন্তব্য করেন।

এ সময় জনদুর্ভোগ লাঘবে জনতার ঐক্য চাই শীর্ষক নাগরিক উদ্যোগের প্রধান উপদেষ্টা বলেন, স্বাস্থ্য সেবা জনগনের সাংবিধানিক অধিকার। বিশ্বব্যাপী মহামারি আকার ধারণ করা করোনাভাইরাসের সংক্রমণ ঘটেছে বাংলাদেশেও। এই পরিস্থিতিতে সাধারণ ছুটি ঘোষণা করে দেশবাসীকে বিনা প্রয়োজনে ঘরের বাইরে বের না হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন সরকার। ইতিমধ্যে করোনাভাইরাসের ফলে সৃষ্ট পরিস্থিতি মোকাবেলায় করণীয় সম্পর্কে ৩১ দফা নির্দেশনা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। করোনাভাইরাস কেন্দ্রিক পরিস্থিতিতে জনগনের স্বাস্থ্য সেবা নিশ্চিত করতে তিনি প্রতিদিনই স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়, চিকিৎসক, নার্সসহ সংশ্লিষ্ট সকলকে প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা প্রদান করছেন।

আমরা জানতে পেরেছি করোনাভাইরাসে আক্রান্ত রোগীদের সেবা দেওয়ার জন্য ইনটেনসিভ কেয়ার ইউনিট (আইসিইউ) বেড ও ভেন্টিলেটর সম্বলিত ১২টি বেসরকারি হাসপাতাল নির্বাচিত করে প্রজ্ঞাপন জারি করেছে চট্টগ্রামের স্বাস্থ্য বিভাগ।

কিন্তু গভীর উদ্বেগের সাথে লক্ষ্য করছি যে স্বাস্থ্য বিভাগের তালিকায় থাকা পার্কভিউ হাসপাতালটি একজন রোগীকে চিকিৎসা সুবিধা না দিয়ে ফিরিয়ে দিয়েছে। কিন্তু করোনাভাইরাসের চিকিৎসায় চট্টগ্রামে কোনো আইসিইউ নেই।

ফলতঃ এ ভাইরাসে আক্রান্ত দুই রোগী আইসিইউ সুবিধা না পেয়ে মারা গেছেন। আমরা জানি যে পার্কভিউ হাসপাতালটি স্বাধীনতা বিরোধী তথা জামাত শিবির পরিচালিত একটি প্রতিষ্ঠন। চট্টগ্রামে যেসব প্রতিষ্ঠান থেকে সরকার বিরোধী বিভিন্ন কর্মকান্ড পরিচালিত হয় তার মধ্যে এ হাসপাতাল অন্যতম। সরকারের প্রত্যক্ষ নির্দেশনা সত্বেও হাসপাতালটি রোগী ভর্তি না করে রোগীকে মৃত্যুর মুখোমুখি ঠেলে দেওয়ার ঘটনায় হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে আইনের আওতায় নিয়ে আসার অনুরোধ জানান তিনি।

এছাড়া হাসপাতালটি কোন অশুভ শক্তির ক্রীড়নক হিসেবে কাজ করছে কি-না তাও গভীর ভাবে খতিয়ে দেখার আহবান জানান সুজন।

পর্যাপ্ত সুবিধা থাকা সত্বেও শুধুমাত্র হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের গোয়ার্তুমির কারণে একজন রোগী মৃত্যুযন্ত্রণায় মারা যাবে তা কোনভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। এভাবে মানুষের প্রয়োজনে যদি স্বাস্থ্যসেবা দেওয়া না হয় তাহলে মানুষ হতাশাগ্রস্ত হয়ে পড়বে এবং জনমনে ক্ষোভের সঞ্চারও সৃষ্টি হবে বলে জানান তিনি।

তাছাড়া নির্বাচিত বেসরকারি হাসপাতাল মালিকরা তাদের নিজেদের দায়িত্ব এড়াতে বিকল্প হিসেবে পরিত্যক্ত হয়ে পড়ে থাকা হলি ক্রিসেন্ট হাসপাতালকে করোনা রোগীর চিকিৎসার জন্য প্রস্তুত করছে। অথচ হাসপাতালটির গ্যাস, বিদ্যুত ও পানির সংযোগও নেই। এটা জনগনের স্বাস্থ্যসেবা নিয়ে প্রতারণা ছাড়া আর কিছুই নয়। তাই স্বাভাবিকভাবেই আমাদের মনে প্রশ্ন জাগে এতোদিন চটকদার বিজ্ঞাপনের মাধ্যমে ঐসব নামী দামী বেসরকারি হাসপাতালগুলো যারা রোগীদের কাছ থেকে বিভিন্ন উপায়ে কোটি কোটি টাকা আদায় করেছে দেশের এ দূর্যোগে তাদের কি কোন দায়িত্ব নেই? তারা কিভাবে একজন রোগীর সাথে এরকম মনুষ্যত্বহীন আচরণ করে?

তিনি বলেন, ঢাকার পরেই চট্টগ্রামের অবস্থান। দেশের মোট আয়ের সিংহভাগের যোগান হয় চট্টগ্রাম থেকেই। কিন্তু চট্টগ্রামের মানুষকে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা সেবার অভাবে রেখে কোন উদ্যোগই সফল হবে না বলে অভিমত দেন তিনি।

এছাড়া চট্টগ্রামে করোনা চিকিৎসায় সমন্বয়হীনতা রয়েছে বলে মত প্রকাশ করে অতিসত্বর তা দূর করার জন্য সংশ্লিষ্ট সকলের প্রতি বিনীত অনুরোধ জানান তিনি।

এছাড়া করোনা চিকিৎসার জন্য প্রয়োজনীয় সংখ্যক আইসিইউ বেড, ভেন্টিলেটর, কিট এবং ঔষধপত্রসহ অন্যান্য চিকিৎসা সরঞ্জামও বৃদ্ধি করার আহবান জানান।

তিনি জনগনের নিকট কোন ভূল তথ্য না দেওয়ার জন্য সিভিল সার্জনের নিকট আহবান জানান এবং চিকিৎসক, নার্সসহ সংশ্লিষ্টদের স্বাস্থ্য সুরক্ষা নিশ্চিত করার জন্য পরিচালক স্বাস্থ্য’র নিকট বিশেষ অনুরোধ জানান।

পার্কভিউ হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের অবহেলাজনিত মুত্যুর কারণে সংশ্লিষ্ট রোগীর আত্নীয় স্বজন যদি কোন ধরণের আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করতে নাগরিক উদ্যোগের সহযোগিতা চায় সেক্ষেত্রে নাগরিক উদ্যোগ সর্বাত্নক সহযোগিতা দিতেও প্রস্তুত বলে জানান তিনি।

সুজন আজ বেলা ১২টায় চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার মোঃ মাহাবুবর রহমান বিপিএম, পিপিএম এর সাথে তার কার্যালয়ে স্বাক্ষাত করেন।

স্বাক্ষাতকালে তিনি বলেন, বর্তমান সময়ে করোনা আক্রান্ত রোগী ছাড়াও অসুস্থতাজনিত কারণে এ্যাম্বুলেন্স পাওয়াটাও ভীষন কষ্টসাধ্য হয়ে দাড়িয়েছে। এ অবস্থায় জনগনের প্রয়োজনে ডিসি ট্রাফিকের অধীনে কিছু সংখ্যক জরুরী এ্যাম্বুলেন্স সার্ভিসের ব্যবস্থা করার জন্য নগর পুলিশ কমিশনারের সুদৃষ্টি কামনা করেন। নগরবাসীর ঘরে থাকা নিশ্চিত করা এবং সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখতে প্রশাসনকে আরো কঠোর হওয়ারও অনুরোধ জানান তিনি।

এছাড়া সরকারি নির্দেশনা অমান্য করে যারা অপ্রয়োজনে বাহিরে ঘোরাফেরা করছে তাদেরকে শাস্তি হিসেবে স্বেচ্ছাশ্রমে করোনা ওয়ার্ডে রোগীদের সেবা করতে পাঠানোর আহবান জানান তিনি।

নগর পুলিশ কমিশনার নাগরিক উদ্যোগের প্রেরিত প্রস্তাবনায় সন্তুষ্টি প্রকাশ করেন। তিনি এভাবে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে এগিয়ে আসার জন্য সকলের নিকট আহবান জানান।

তিনি বলেন, বর্তমানে করেনা পরিস্থিতি মোকাবেলায় পুলিশ প্রশাসন সাহসিকতার সাথে তাদের উপর অর্পিত দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছে। পুলিশের অনেক সদস্য কোয়ারেন্টিনে রয়েছে। তারপরও জনগনের প্রয়োজনে পুলিশ যে কোন ঝুঁকি নিতে প্রস্তুত রয়েছে।

তিনি নাগরিক উদ্যোগের দাবীকে গুরুত্বের সাথে বিবেচনা করে ডিসি ট্রাফিকের অধীনে এ্যাম্বুলেন্স সার্ভিস চালু করার আশ্বাস প্রদান করেন। নগরবাসীকে সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখার জন্যও নাগরিক উদ্যোগের মাধ্যমে আহবান জানান তিনি।

বর্তমানে যে সব নতুন রোগী করোনায় আক্রান্ত হচ্ছে তারা সবাই একে অন্যজনের সংস্পর্শে এসে সংক্রমিত হয়েছেন বলেও মত প্রকাশ করেন তিনি।

তাই নগরবাসীকে ঘরে থাকার নির্দেশনা বাস্তবায়নে সমাজের সর্বস্তরের জনগনের সহযোগিতা কামনা করেন নগর পুলিশ কমিশনার।

 

Feb2
Feb2

রাঙ্গুনিয়ায় রাহাতিয়া দরবারে জশনে জুলূস ও মীলাদ মাহ্ফিল

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Monday, 24 August, 2026, 7:52 pm
রাঙ্গুনিয়ায় রাহাতিয়া দরবারে জশনে জুলূস ও মীলাদ মাহ্ফিল

আনজুমান-এ রাহাতিয়া বিসমিল্লাহ্ শাহ্ বয়ানিয়ার উদ্যোগে ঐতিহ্যবাহী রাঙ্গুনিয়া রাহাতিয়া দরবার শরীফ প্রাঙ্গণ থেকে ৯ রবীউল আউয়াল ২৩ আগস্ট সকাল ১১ টায় পবিত্র জশনে জুলূসে ঈদে মীলাদুন্নবী (সা.) উপলক্ষে এক বর্ণাঢ্য র‍্যালি ও মীলাদ মাহ্ফিল অনুষ্ঠিত হয়।

জুলূসে নেতৃত্ব দেন রাহাতিয়া দরবার শরীফের সাজ্জাদানশীন, পীরে কামিল শাহ্ সূফী আল্লামা সৈয়্যদ মুহাম্মদ আবুল বয়ান শাহ্ নঈমী আশরাফী নকশবন্দী (মু.যি.আ.)।

রাঙ্গুনিয়া রাহাতিয়া দরবার শরীফ যিয়ারতের মাধ্যমে জুলূস শুরু হয়। রাঙ্গুনিয়া সরকারি কলেজ রোড হয়ে রাহাতুল্লাহ্ নকশবন্দী সড়ক হয়ে মরিয়ম নগর চৌমুহনী শাহী জামে মসজিদ সামনে সংক্ষিপ্ত আলোচনা ও মুনাজাত হয়। পুনরায় কাপ্তাই সড়ক প্রদক্ষিণ করে রাঙ্গুনিয়া কলেজ গেট হয়ে
রাহাতিয়া দরবার শরীফ পার্শস্থ রাহাতিয়া শাহী ঈদগাহ্ ময়দানে এসে জড়ো হয়। জুলূসে অংশ নেওয়া সুন্নী জনতার হাতে ছিল বাংলাদেশের জাতীয় পতাকা, আনজুমান-এ রাহাতিয়া বিসমিল্লাহ্ শাহ্ বয়ানিয়ার পতাকা, প্লেকার্ড ও ফেস্টুন।

জলূসে অংশগ্রহণকারীদের কণ্ঠে “ইয়া নবী সালাম আলাইকা”, “মুস্তফা জানে রহমত পেহ্ লাখো সালাম” ইত্যাদি হামদ, না’তে রাসূল (সা.) এবং “না’রায়ে তাকবীর আল্লাহু আকবর”, “না’রায়ে রিসালাত ইয়া রাসুলাল্লাহ্ (দ.)”।

রাহমাতুল্লিল আলামীন (সা.)-এর শুভাগমণের শুকরগুযার সম্পর্কিত স্লোগানে পুরো এলাকা মুখরিত হয়।

রাহাতিয়া দরবার শরীফের নায়েবে সাজ্জাদানশীন, পীরযাদাহ্ মাওলানা সৈয়্যদ মুহাম্মদ গোলাম রসুল শাহ্ নঈমী (মু.যি.আ.)-এর সার্বিক তত্ত্বাবধান ও পরিচালনায় এতে প্রধান মেহমান ছিলেন ভারত থেকে আগত পীরযাদাহ্ মাওলানা মুহাম্মদ বায়েজীদ আশরাফী।

বক্তব্য রাখেন আনজুমান-এ আহলে তাসাওউফ বাংলাদেশ-এর চেয়ারম্যান আলহাজ্ব মাওলানা গাজী মুঈনুদ্দীন রিজভী, বায়েজীদ দায়রায়ে মঈনিয়া রহমানিয়ার মুনতাজিম, মাওলানা মুহাম্মদ নজরুল ইসলাম আশরাফী মাইজভান্ডারী, বাংলাদেশ সূফীবাদী ঐক্য ফোরাম বাংলাদেশ-এর চেয়ারম্যান সাংবাদিক নূর মোহাম্মদ রানা, আনজুমান-এ রাহাতিয়া বিসমিল্লাহ্ শাহ্ বয়ানিয়ার মহাসচিব মুহাম্মদ নঈম উদ্দিন প্রমুখ।

না’তে রাসূল (সা.) পরিবেশন করেন শায়ের ওমর ফারুক ইরন, শায়ের আলভী হাসান।

অনুষ্ঠানের শুরুতে পবিত্র কুরআন তিলাওয়াত, না’তে রাসূল (সা.) শেষে মীলাদ, ক্বিয়াম ও মুনাজাতের মাধ্যমে মুসলিম উম্মাহ্’র শান্তি ও সমৃদ্ধির জন্য বিশেষ দু’আ করা হয়।

মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় কারাগারে শ্যামল-মোজাম্মেল-রুপা

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Monday, 24 August, 2026, 2:52 pm
মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় কারাগারে শ্যামল-মোজাম্মেল-রুপা

চব্বিশের জুলাই গণঅভ্যুত্থানে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রীর সংবাদ সম্মেলনে প্রশ্ন করার নামে উসকানিমূলক বক্তব্য দেওয়ার অভিযোগে করা মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় তিন সাংবাদিককে গ্রেপ্তার দেখিয়ে কারাগারে পাঠিয়েছেন ট্রাইব্যুনাল। একইসঙ্গে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের জন্য আগামী ২৫ অক্টোবর দিন ধার্য করা হয়েছে।

সোমবার (২৪ আগস্ট) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ এর সদস্য বিচারক মো. মঞ্জুরুল বাছিদের নেতৃত্বাধীন দুই সদস্যের বিচারিক প্যানেল এ আদেশ দেন। প্যানেলের অপর সদস্য বিচারক নূর মোহাম্মদ শাহরিয়ার কবীর।

তিন সাংবাদিক হলেন, জাতীয় প্রেসক্লাবের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও ভোরের কাগজের সম্পাদক শ্যামল দত্ত, একাত্তর টেলিভিশনের সাবেক প্রধান সম্পাদক মোজাম্মেল বাবু এবং একই প্রতিষ্ঠানের সাবেক প্রধান প্রতিবেদক ফারজানা রুপা।

ট্রাইব্যুনালে প্রসিকিউশনের পক্ষে শুনানি করেন প্রসিকিউটর ফারুক আহাম্মদ। সঙ্গে ছিলেন প্রসিকিউটর জহিরুল আমিন, মার্জিনা রায়হান, তারেক আবদুল্লাহসহ অন্যান্য প্রসিকিউটর।

শুনানিতে প্রসিকিউটর ফারুক আহাম্মদ জানান, জুলাই গণঅভ্যুত্থান-সংশ্লিষ্ট মানবতাবিরোধী অপরাধের একটি মামলায় তিন সাংবাদিকের বিরুদ্ধে ১৭ আগস্ট প্রোডাকশন ওয়ারেন্ট জারি করা হয়েছিল। এর পরিপ্রেক্ষিতে তাদের আজ ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হয়েছে। এ মামলায় তিনজনকেই গ্রেপ্তার দেখিয়ে কারাগারে পাঠানোর আবেদন করছে প্রসিকিউশন। একইসঙ্গে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের জন্য দুই মাস সময় চান তিনি।

শুনানি শেষে প্রসিকিউশনের আবেদন মঞ্জুর করে শ্যামল দত্ত, মোজাম্মেল বাবু ও ফারজানা রুপাকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন ট্রাইব্যুনাল। পাশাপাশি তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের জন্য পরবর্তী তারিখ নির্ধারণ করা হয়।

প্রসিকিউশন জানায়, ২০২৪ সালের ১৪ জুলাই গণভবনে একটি সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করেছিলেন তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। ওই দিন তাকে প্রশ্ন করার নামে কিছু উসকানিমূলক বক্তব্য দিয়েছিলেন কয়েকজন সাংবাদিক। এর পরিপ্রেক্ষিতে আন্দোলনকারীদের রাজাকারের বাচ্চা ও রাজাকারের নাতিপুতি বলেছিলেন শেখ হাসিনা।

রাষ্ট্রপক্ষের অভিযোগ, ওই উসকানিমূলক প্ররোচনার ধারাবাহিকতায় জুলাইয়ে মানবতাবিরোধী অপরাধ সংঘটিত হয়। এ মামলায় ১৪ জুলাইয়ের ওই ঘটনার বিষয়ে তদন্ত চলছে।

নুসরাত হত্যা : হাইকোর্টে দুই আসামির মৃত্যুদণ্ড, ১০ জন খালাস

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Monday, 24 August, 2026, 1:11 pm
নুসরাত হত্যা : হাইকোর্টে দুই আসামির মৃত্যুদণ্ড, ১০ জন খালাস

ফেনীর সোনাগাজীর বহুল আলোচিত মাদ্রাসাছাত্রী নুসরাত হত্যা মামলায় সোনাগাজী ইসলামিয়া ফাজিল (ডিগ্রি) মাদ্রাসার বরখাস্ত হওয়া অধ্যক্ষ সিরাজ উদদৌলাসহ দুই আসামির মৃত্যুদণ্ড, ১০ আসামিকে খালাস ও চার আসামিকে আমৃত্যু কারাদণ্ড দিয়েছেন হাইকোর্ট।

সোমবার (২৪ আগস্ট) দুপুরে বিচারপতি ভীষ্মদেব চক্রবর্তী ও বিচারপতি কে এম রাশেদুজ্জামান রাজার হাইকোর্ট বেঞ্চ এ রায় ঘোষণা করেন।

মৃত্যুদণ্ড বহাল রাখা হয়েছে যে দুই আসামির তারা হলেন-সোনাগাজী ইসলামিয়া ফাজিল (ডিগ্রি) মাদ্রাসার তৎকালীন অধ্যক্ষ সিরাজ উদদৌলা (৫৭) এবং শাহাদাত হোসেন শামীম(২০)।

আলোচিত এই মামলায় ফেনীর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল ২০১৯ সালের ২৪ অক্টোবর রায় দিয়েছিলেন। রায়ে মাদ্রাসার বরখাস্ত হওয়া অধ্যক্ষ সিরাজ উদদৌলাসহ ১৬ জনকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছিল।

নথিপত্র অনুযায়ী, ২০১৯ সালের ২৭ মার্চ সোনাগাজী ইসলামিয়া ফাজিল (ডিগ্রি) মাদ্রাসার তৎকালীন অধ্যক্ষ সিরাজ উদদৌলা নিজ কক্ষে ডেকে নিয়ে নুসরাতের শ্লীলতাহানি করেন। এ ঘটনায় মামলা হলে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়।

মামলা তুলে না নেওয়ায় ৬ এপ্রিল মাদ্রাসার ছাদে ডেকে নিয়ে নুসরাতের হাত-পা বেঁধে গায়ে কেরোসিন ঢেলে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়। ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ওই বছরের ১০ এপ্রিল নুসরাতের মৃত্যু হয়। এ ঘটনায় নুসরাতের বড় ভাই মাহমুদুল হাসান (নোমান) সোনাগাজী থানায় মামলা করেন। পরে মামলাটি হত্যা মামলায় রূপান্তরিত হয়।