মানুষের জীবন নিয়ে কাউকে জুয়া খেলতে দেয়া হবে না : সুজন
মানুষের জীবন নিয়ে কাউকে জুয়া খেলতে দেয়া হবে না বলে হুশিয়ারি উচ্চারন করেছেন চট্টগ্রাম মহানগর আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি খোরশেদ আলম সুজন।
তিনি আজ বৃহস্পতিবার (১৬ এপ্রিল) এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে উপরোক্ত মন্তব্য করেন।
এ সময় জনদুর্ভোগ লাঘবে জনতার ঐক্য চাই শীর্ষক নাগরিক উদ্যোগের প্রধান উপদেষ্টা বলেন, স্বাস্থ্য সেবা জনগনের সাংবিধানিক অধিকার। বিশ্বব্যাপী মহামারি আকার ধারণ করা করোনাভাইরাসের সংক্রমণ ঘটেছে বাংলাদেশেও। এই পরিস্থিতিতে সাধারণ ছুটি ঘোষণা করে দেশবাসীকে বিনা প্রয়োজনে ঘরের বাইরে বের না হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন সরকার। ইতিমধ্যে করোনাভাইরাসের ফলে সৃষ্ট পরিস্থিতি মোকাবেলায় করণীয় সম্পর্কে ৩১ দফা নির্দেশনা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। করোনাভাইরাস কেন্দ্রিক পরিস্থিতিতে জনগনের স্বাস্থ্য সেবা নিশ্চিত করতে তিনি প্রতিদিনই স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়, চিকিৎসক, নার্সসহ সংশ্লিষ্ট সকলকে প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা প্রদান করছেন।
আমরা জানতে পেরেছি করোনাভাইরাসে আক্রান্ত রোগীদের সেবা দেওয়ার জন্য ইনটেনসিভ কেয়ার ইউনিট (আইসিইউ) বেড ও ভেন্টিলেটর সম্বলিত ১২টি বেসরকারি হাসপাতাল নির্বাচিত করে প্রজ্ঞাপন জারি করেছে চট্টগ্রামের স্বাস্থ্য বিভাগ।
কিন্তু গভীর উদ্বেগের সাথে লক্ষ্য করছি যে স্বাস্থ্য বিভাগের তালিকায় থাকা পার্কভিউ হাসপাতালটি একজন রোগীকে চিকিৎসা সুবিধা না দিয়ে ফিরিয়ে দিয়েছে। কিন্তু করোনাভাইরাসের চিকিৎসায় চট্টগ্রামে কোনো আইসিইউ নেই।
ফলতঃ এ ভাইরাসে আক্রান্ত দুই রোগী আইসিইউ সুবিধা না পেয়ে মারা গেছেন। আমরা জানি যে পার্কভিউ হাসপাতালটি স্বাধীনতা বিরোধী তথা জামাত শিবির পরিচালিত একটি প্রতিষ্ঠন। চট্টগ্রামে যেসব প্রতিষ্ঠান থেকে সরকার বিরোধী বিভিন্ন কর্মকান্ড পরিচালিত হয় তার মধ্যে এ হাসপাতাল অন্যতম। সরকারের প্রত্যক্ষ নির্দেশনা সত্বেও হাসপাতালটি রোগী ভর্তি না করে রোগীকে মৃত্যুর মুখোমুখি ঠেলে দেওয়ার ঘটনায় হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে আইনের আওতায় নিয়ে আসার অনুরোধ জানান তিনি।
এছাড়া হাসপাতালটি কোন অশুভ শক্তির ক্রীড়নক হিসেবে কাজ করছে কি-না তাও গভীর ভাবে খতিয়ে দেখার আহবান জানান সুজন।
পর্যাপ্ত সুবিধা থাকা সত্বেও শুধুমাত্র হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের গোয়ার্তুমির কারণে একজন রোগী মৃত্যুযন্ত্রণায় মারা যাবে তা কোনভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। এভাবে মানুষের প্রয়োজনে যদি স্বাস্থ্যসেবা দেওয়া না হয় তাহলে মানুষ হতাশাগ্রস্ত হয়ে পড়বে এবং জনমনে ক্ষোভের সঞ্চারও সৃষ্টি হবে বলে জানান তিনি।
তাছাড়া নির্বাচিত বেসরকারি হাসপাতাল মালিকরা তাদের নিজেদের দায়িত্ব এড়াতে বিকল্প হিসেবে পরিত্যক্ত হয়ে পড়ে থাকা হলি ক্রিসেন্ট হাসপাতালকে করোনা রোগীর চিকিৎসার জন্য প্রস্তুত করছে। অথচ হাসপাতালটির গ্যাস, বিদ্যুত ও পানির সংযোগও নেই। এটা জনগনের স্বাস্থ্যসেবা নিয়ে প্রতারণা ছাড়া আর কিছুই নয়। তাই স্বাভাবিকভাবেই আমাদের মনে প্রশ্ন জাগে এতোদিন চটকদার বিজ্ঞাপনের মাধ্যমে ঐসব নামী দামী বেসরকারি হাসপাতালগুলো যারা রোগীদের কাছ থেকে বিভিন্ন উপায়ে কোটি কোটি টাকা আদায় করেছে দেশের এ দূর্যোগে তাদের কি কোন দায়িত্ব নেই? তারা কিভাবে একজন রোগীর সাথে এরকম মনুষ্যত্বহীন আচরণ করে?
তিনি বলেন, ঢাকার পরেই চট্টগ্রামের অবস্থান। দেশের মোট আয়ের সিংহভাগের যোগান হয় চট্টগ্রাম থেকেই। কিন্তু চট্টগ্রামের মানুষকে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা সেবার অভাবে রেখে কোন উদ্যোগই সফল হবে না বলে অভিমত দেন তিনি।
এছাড়া চট্টগ্রামে করোনা চিকিৎসায় সমন্বয়হীনতা রয়েছে বলে মত প্রকাশ করে অতিসত্বর তা দূর করার জন্য সংশ্লিষ্ট সকলের প্রতি বিনীত অনুরোধ জানান তিনি।
এছাড়া করোনা চিকিৎসার জন্য প্রয়োজনীয় সংখ্যক আইসিইউ বেড, ভেন্টিলেটর, কিট এবং ঔষধপত্রসহ অন্যান্য চিকিৎসা সরঞ্জামও বৃদ্ধি করার আহবান জানান।
তিনি জনগনের নিকট কোন ভূল তথ্য না দেওয়ার জন্য সিভিল সার্জনের নিকট আহবান জানান এবং চিকিৎসক, নার্সসহ সংশ্লিষ্টদের স্বাস্থ্য সুরক্ষা নিশ্চিত করার জন্য পরিচালক স্বাস্থ্য’র নিকট বিশেষ অনুরোধ জানান।
পার্কভিউ হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের অবহেলাজনিত মুত্যুর কারণে সংশ্লিষ্ট রোগীর আত্নীয় স্বজন যদি কোন ধরণের আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করতে নাগরিক উদ্যোগের সহযোগিতা চায় সেক্ষেত্রে নাগরিক উদ্যোগ সর্বাত্নক সহযোগিতা দিতেও প্রস্তুত বলে জানান তিনি।
সুজন আজ বেলা ১২টায় চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার মোঃ মাহাবুবর রহমান বিপিএম, পিপিএম এর সাথে তার কার্যালয়ে স্বাক্ষাত করেন।
স্বাক্ষাতকালে তিনি বলেন, বর্তমান সময়ে করোনা আক্রান্ত রোগী ছাড়াও অসুস্থতাজনিত কারণে এ্যাম্বুলেন্স পাওয়াটাও ভীষন কষ্টসাধ্য হয়ে দাড়িয়েছে। এ অবস্থায় জনগনের প্রয়োজনে ডিসি ট্রাফিকের অধীনে কিছু সংখ্যক জরুরী এ্যাম্বুলেন্স সার্ভিসের ব্যবস্থা করার জন্য নগর পুলিশ কমিশনারের সুদৃষ্টি কামনা করেন। নগরবাসীর ঘরে থাকা নিশ্চিত করা এবং সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখতে প্রশাসনকে আরো কঠোর হওয়ারও অনুরোধ জানান তিনি।
এছাড়া সরকারি নির্দেশনা অমান্য করে যারা অপ্রয়োজনে বাহিরে ঘোরাফেরা করছে তাদেরকে শাস্তি হিসেবে স্বেচ্ছাশ্রমে করোনা ওয়ার্ডে রোগীদের সেবা করতে পাঠানোর আহবান জানান তিনি।
নগর পুলিশ কমিশনার নাগরিক উদ্যোগের প্রেরিত প্রস্তাবনায় সন্তুষ্টি প্রকাশ করেন। তিনি এভাবে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে এগিয়ে আসার জন্য সকলের নিকট আহবান জানান।
তিনি বলেন, বর্তমানে করেনা পরিস্থিতি মোকাবেলায় পুলিশ প্রশাসন সাহসিকতার সাথে তাদের উপর অর্পিত দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছে। পুলিশের অনেক সদস্য কোয়ারেন্টিনে রয়েছে। তারপরও জনগনের প্রয়োজনে পুলিশ যে কোন ঝুঁকি নিতে প্রস্তুত রয়েছে।
তিনি নাগরিক উদ্যোগের দাবীকে গুরুত্বের সাথে বিবেচনা করে ডিসি ট্রাফিকের অধীনে এ্যাম্বুলেন্স সার্ভিস চালু করার আশ্বাস প্রদান করেন। নগরবাসীকে সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখার জন্যও নাগরিক উদ্যোগের মাধ্যমে আহবান জানান তিনি।
বর্তমানে যে সব নতুন রোগী করোনায় আক্রান্ত হচ্ছে তারা সবাই একে অন্যজনের সংস্পর্শে এসে সংক্রমিত হয়েছেন বলেও মত প্রকাশ করেন তিনি।
তাই নগরবাসীকে ঘরে থাকার নির্দেশনা বাস্তবায়নে সমাজের সর্বস্তরের জনগনের সহযোগিতা কামনা করেন নগর পুলিশ কমিশনার।


আপনার মতামত লিখুন