খুঁজুন
শনিবার, ২৩শে মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ৯ই জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

চসিক প্রশাসকের দায়িত্ব নিলেন খোরশেদ আলম সুজন

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ৬ আগস্ট, ২০২০, ৪:০৪ অপরাহ্ণ
চসিক প্রশাসকের দায়িত্ব নিলেন খোরশেদ আলম সুজন

চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের (চসিক) প্রশাসকের দায়িত্বভার গ্রহণ করলেন মহানগর আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি খোরশেদ আলম সুজন।

বৃহস্পতিবার (৬ আগস্ট) সকাল সাড়ে নয়টায় নগরীর বাটালী হিলস্থ চসিক ভবনে যান তিনি। এ সময় তাকে স্বাগত জানান চসিকের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ শামসুদ্দোহা।

এরপর চসিক সম্মেলন কক্ষে প্রবেশ করেন বিদায়ী মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দীন। তার কাছ থেকে মেয়রের দায়িত্ব বুঝে নেন খোরশেদ আলম সুজন।

এসময় মেয়র নাছির উদ্দীন সদ্য নিযুক্ত প্রশাসক খোরশেদ আলম সুজনের হাত হাত রেখে এক সাথে কাজ করার অঙ্গীকার করেন।

এরপর চসিক সম্মেলন কক্ষে দোয়া মাহফিলে মোনাজাত পরিচালনা করেন খোরশেদ আলম সুজন। পরে চসিক সম্মেলন কক্ষে গিয়ে কর্মকর্তাদের সাথে মতবিনিময় করেন তিনি।

দায়িত্ব নিয়ে সুজন বলেন, আমি কিন্তু উদার না, যারা দুর্নীতি করছে তারা তওবা করে ফেলুন আজ থেকে। যারা দায়িত্বের সাথে বেঈমানি করবেন তাদের ছাড় দেবো না, ক্ষমা করবো না। না পারলে দায়িত্ব ছেড়ে দেবো, তবুও অন্যায়ের সাথে আপোষ করবো না।

অপরাধ করাটা অপরাধ না, তা স্বীকার না করা অপরাধ মন্তব্য করে সুজন বলেন, এখানে যারা আছেন সবাই জ্ঞানী-গুণী মানুষ, আপনাদের জ্ঞান-প্রজ্ঞাকে কাজে লাগান। আজ সকালে আসার সময় নিউ মার্কেট জিপিওয়ের সামনে ময়লা দেখেছি সকাল নয়টার সময়। কেন এত সকালে ময়লা থাকবে। পরিচ্ছন্ন কর্মকর্তাদের আহ্বান জানাবো, ভবিষ্যতে এ ময়লা আর দেখতে চাই না। বর্জ্য ব্যবস্থাপনা নিয়ে নাছির ভাই অনেক কাজ করছে, সেটা সাকসেসফুল করতে হবে।

তিনি বলেন, যেদিন বৃষ্টি হবে সেদিন আমিও থাকবো, কোথায় পানি জমছে তা সরেজমিনে দেখবো। ঘরে বসে কাজ করার দিন শেষ। আমরা মহিউদ্দিন চৌধুরীর কর্মী, কিভাবে কাজ করতে হয় তা আমরা জানি।

চসিককে দলীয় কার্যালয় বা পারিবারিক করা হবে না জানিয়ে সুজন বলেন, বাড়ি থেকে বের হবার সময় আমার সাথে চসিকের গেইট পর্যন্ত আমার ছেলে এসেছে, তাকে ভিতরে ডুকতে দিই নাই। এখানে তার কোন কাজ নেই, ঘরে বসে তাদের সাথে লুড়ু খেলবো, কিন্তু এখানে আপনারা সব আমার।

এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, একদিনের মিনিস্টার সিনেমায় দেখেছি, আমি ১৮০ দিনের প্রশাসক। প্রত্যেক দিন, মুহুর্তে কাজ করবো চ্যালেঞ্জ নিয়ে। জনস্বাস্থ্যের নিরাপত্তার জন্য খাদ্যে ভেজাল বন্ধ করার জন্য বিএসটিআইকে সাথে নিয়ে কাজ করবো। এক সপ্তাহ দশদিন গেলে বুঝবেন আমি কি করতে পারবো কি পারবো না সেটা।

সুজন বলেন, সবচেয়ে আশার কথা যিনি আমাকে দায়িত্ব দিয়ে এখানে পাঠিয়েছেন তিনিই এ শহরের দায়িত্ব নিয়েছেন। কাজেই উন্নয়ন নিয়ে চিন্তা করার কোন কারণ নাই। আমাকে পুকুরে নামতে দেন, নামার পরে দেখবেন কিভাবে সাঁতরাবো সেটা।

গত ৫ বছর মেয়র নাছির অক্লান্ত পরিশ্রম করেছেন উল্লেখ করে খোরশেদ আলম সুজন বলেন, মেয়াদ শেষ হলে সবাইকে দায়িত্ব ছাড়তে হবে। কিন্তু কর্মকতা যারা আছেন, তারা থাকবেন সব সময়। আমাকে সহযোগিতা করবেন আশা করি। প্রশাসক বা মেয়র হচ্ছে শীর্ষ পদ। প্রধানমন্ত্রী নিযুক্ত প্রশাসক হিসাবে সবার কাছে আন্তরিক সহযোগিতা চাচ্ছি। চসিককে দলীয় কার্যালয় বানাবো না, রাজনীতি পার্টি অফিসে। এখানে নগরবাসীকে সেবা দেওয়ার জন্য কাজ করবো।

তিনি বলেন, আমরা মিলেমিশে আমাদের শৈশব, কৈশোর এ শহরে কাটিয়েছি। পৃথিবীর কাছে এ শহরের গুরুত্ব অনেক, অনেকে আমার কাছে জানতে চান। চট্টগ্রাম শহরে জলাবদ্ধতা প্রধান সমস্যা, কিন্তু আমি এ শহরে জলাবদ্ধতা দেখি না, যা হয় সেটা জলজট। কিছুক্ষণ জমে থাকার পর কয়েক ঘন্টা পর তা নেমে যায়। এ জলজট নিরসনের জন্য প্রধানমন্ত্রী বিশাল বাজেটের কাজ দিয়েছেন, যা সেনাবাহিনী করছে। আশা করি জলজট সমস্যা আগামী বছর থেকে অনেকটা সমাধান হবে।

তিনি বলেন, আমি আপনাদের সহযোগিতা নিয়ে কাজ করতে আসছি। আগামী ৫ বছর পর এ শহর সিঙ্গাপুরের চেয়ে উন্নত শহর হবে।

গণমাধ্যমের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে সুজন বলেন, নাগরিক আন্দোলন করার সময় আপনাদের সহযোগিতা পেয়েছি। এখন আপনারা আমাকে সহযোগিতা করবেন। সমালোচনাকে আমি ভয় পাই না। তবে যৌক্তিক সমালোচনা আশা করবো। নগরের সমস্যাগুলো তুলে ধরবেন, আমাকে ১৮০ দিন সময় দিয়েছে, এসময়টা কাজে লাগিয়ে কাজ করবো। মানুষ হিসাবে ভুল হতে পারে। তাই ভুলগুলো তুলে ধরবেন আপনারা। আল্লাহ পাক অনেক দিয়েছেন, মানুষের কাছে যাওয়ার সুযোগ হয়েছে। কেউ আমাকে সন্ত্রাস বা অমুক-সমুক বলে না। এটাই আমার তৃপ্তি।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ শামসুদ্দোহা, প্রধান রাজস্ব কর্মকর্তা মফিদুল আলম, প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. সেলিম আকতার, প্রধান প্রকৌশলী লে. কর্নেল সোহেল আহমদ ও প্রধান নগর পরিকল্পনা কর্মকর্তা রেজাউল করিম প্রমুখ।

প্রসঙ্গত, করোনাভাইরাসের মহামারীর মধ্যে নির্ধারিত সময়ে ভোট করতে না পারায় চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনে প্রশাসক বসিয়েছে সরকার। গত মঙ্গলবার চট্টগ্রাম মহানগর আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি মোহাম্মদ খোরশেদ আলম সুজনকে এই সিটির প্রশাসকের দায়িত্ব দেওয়া হয়।

২৪ ঘণ্টা/এম আর

Feb2

ঝিনাইদহে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর উপর ডিম নিক্ষেপ ও হামলা

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: শুক্রবার, ২২ মে, ২০২৬, ৩:৪৯ অপরাহ্ণ
ঝিনাইদহে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর উপর ডিম নিক্ষেপ ও হামলা

ঝিনাইদহে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখ্য সংগঠক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর ওপর ডিম নিক্ষেপ ও অতর্কিত হামলার ঘটনা ঘটেছে। ছাত্রদলের নেতা-কর্মীদের বিরুদ্ধে এ অভিযোগ উঠেছে। এসময় ছাত্রদলের হামলায় নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর সঙ্গে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের তিন নেতা-কর্মী আহত হন।

আজ শুক্রবার (২২ মে) দুপুর ২টার দিকে শহরের পুরাতন কালেক্টরেট মসজিদের সামনে এই ঘটনাটি ঘটে।

প্রত্যক্ষদর্শীদের সূত্রে জানা যায়, শুক্রবার জুমার নামাজ আদায় শেষে মসজিদ থেকে বের হচ্ছিলেন নাসির উদ্দিন পাটোয়ারী। এ সময় ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের আহ্বায়ক সাহেদ আহম্মেদ তাঁর সঙ্গে কথা বলতে এগিয়ে যান।

তাদের মধ্যে কথা বলার এক পর্যায়ে হঠাৎ পেছন থেকে কয়েকজন যুবক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর ওপর ডিম নিক্ষেপ করে এবং অতর্কিত হামলা চালায়। এই হামলায় এনসিপির স্থানীয় কয়েকজন যুবক আহত হয়েছেন।

ভুক্তভোগী নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক আইডি থেকে এক পোস্টে হামলার বিস্তারিত জানান। তিনি অভিযোগ করেন, পূর্বনির্ধারিত কর্মসূচি অনুযায়ী জুমার নামাজ আদায় করে মসজিদ থেকে বের হওয়ার পরপরই পুলিশের উপস্থিতিতেই ছাত্রদল ও যুবদলের নেতাকর্মীরা এই হামলা চালায়।

নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী পোস্টে লেখেন, “প্রথমে ডিম, ইট-পাটকেল নিক্ষেপ করা হয়, এরপর হকিস্টিক দিয়ে অতর্কিতভাবে আঘাত করা হয়। তিনজনের মাথা ফাটিয়ে দেওয়া হয় এবং বেশ কয়েকজন আহত হন। আমাকে লক্ষ্য করেও কিল-ঘুষি মারা হয়।”

তিনি আরও অভিযোগ করেন, হামলাকারীরা এ সময় তাদের মোবাইল ফোন, ক্যামেরা এবং মানিব্যাগ ছিনিয়ে নেয়। ঘটনার পর তারা থানায় অবস্থান নিয়ে মামলা দায়েরের প্রস্তুতি নিচ্ছেন বলেও জানান। একই সাথে ছাত্রদল, যুবদল ও বিএনপি থানার সামনে আবারও হামলার প্রস্তুতি নিচ্ছে বলে তিনি ফেসবুক পোস্টে দাবি করেন।

এই ঘটনার পর এনসিপির নেতাকর্মীরা তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে এলাকায় বিক্ষোভ মিছিল করেছেন। বিক্ষোভ থেকে তারা স্বরাষ্ট্র ও আইনমন্ত্রীর পদত্যাগ দাবি করেন এবং হামলায় জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় আনার জোর দাবি জানান।

 

চট্টগ্রামে তিন বছরের শিশুকে ধর্ষণের ঘটনায় মামলা

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: শুক্রবার, ২২ মে, ২০২৬, ২:৪৮ অপরাহ্ণ
চট্টগ্রামে তিন বছরের শিশুকে ধর্ষণের ঘটনায় মামলা

চট্টগ্রামের বাকলিয়ায় তিন বছরের এক শিশুকে ধর্ষণের ঘটনায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। আজ (শুক্রবার) দুপুরে মামলার বিষয়টি নিশ্চিত করেন বাকলিয়া থানার এক কর্মকর্তা।

তিনি বলেন, ভুক্তভোগী শিশুর পিতা বাদী হয়ে মামলা দায়ের করেছেন। মামলায় গ্রেপ্তার মনিরকে আসামি করা হয়েছে।

স্থানীয় সূত্র জানায়, বাকলিয়ার চেয়ারম্যানঘাটা এলাকায় তিন বছর বয়সী এক শিশু নিখোঁজ হওয়ার পর বৃহস্পতিবার বিকেলে তাকে উদ্ধার করা হয়। উদ্ধারের পর শিশুটির শারীরিক অবস্থা দেখে স্বজন ও স্থানীয়দের সন্দেহ হয়, সে যৌন নিপীড়নের শিকার হয়েছে। খবরটি এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে বিকেলের দিকে রাস্তায় নেমে আসেন স্থানীয়রা।

স্থানীয়দের দাবি, অভিযুক্ত যুবকের নাম মনির। তিনি স্থানীয় একটি ডেকোরেশন দোকানে কাজ করেন। তাদের অভিযোগ, মনির তাদের কাছে নিজের অপরাধ স্বীকারও করেছেন।

অভিযুক্ত মনির নিজের অপরাধ স্বীকার করেছেন বলে একটি তথ্য ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়লেও এর সত্যতা সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

গতকাল বিকেল ৪টার দিকে স্থানীয়রা অভিযুক্তের অবস্থান নিশ্চিত করে ‘বিসমিল্লাহ ম্যানশন’ নামের একটি ভবন ঘেরাও করে রাখেন। একপর্যায়ে ভবনটির কলাপসিবল গেট ভেঙে ফেলার চেষ্টাও করা হয়।

খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে শিশুটিকে পরীক্ষার জন্য হাসপাতালে পাঠায়। অন্যদিকে অভিযুক্তকে আটক করে নিয়ে যাওয়ার সময় বিক্ষুব্ধ জনতা পথ আটকে দেয় এবং তাকে নিজেদের হাতে তুলে দেওয়ার দাবি জানায়। বিকেল সাড়ে চারটা থেকে পুলিশকে অবরুদ্ধ করে রাখে স্থানীয়রা। এরপর রাত আটটার দিকে পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে টিয়ারগ্যাস ও সাউন্ড গ্রেনেড নিক্ষেপ করে।

এসময় পুলিশকে লক্ষ্য করে ইটপাটকেল ছোড়েন স্থানীয়রা। এতে পুরো এলাকা রণক্ষেত্রে পরিণত হয়। স্থানীয়দের বাধার মুখে তখন পুলিশ অভিযুক্ত নিয়ে যেতে পারেনি।

পরে রাত ১১টা সময় দিকে জনবল বাড়ায় পুলিশ। পরে বিদ্যুৎ বন্ধ করে অভিযুক্তকে পুলিশের পোশাক পরিয়ে থানায় নিয়ে যাওয়া হয়। এ সময় ফাঁকা গুলি, টিয়ারগ্যাস ও সাউন্ড গ্রেনেড নিক্ষেপ করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করে পুলিশ। এসময় স্থানীয়রা পুলিশের একটি গাড়িতে আগুন দেয়। এতে দফায় দফায় সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।

রামিসার বাসার সামনে বিক্ষোভ, কুলখানির জন্য ঢাকা ছাড়লেন বাবা-মা

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: শুক্রবার, ২২ মে, ২০২৬, ২:৩২ অপরাহ্ণ
রামিসার বাসার সামনে বিক্ষোভ, কুলখানির জন্য ঢাকা ছাড়লেন বাবা-মা

রাজধানীর পল্লবীতে ধর্ষণের পর নৃশংস হত্যার শিকার আট বছরের শিশু রামিসা আক্তারের মৃত্যুর ঘটনায় এখনও থামেনি মানুষের ক্ষোভ আর কান্না।

শুক্রবার (২২ মে) সকাল থেকেই পল্লবীর সেকশন-১১ এলাকায় রামিসাদের বাসার সামনে জড়ো হতে থাকেন বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ। ছোট-ছোট সামাজিক ও স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের ব্যানারে মানববন্ধন, বিক্ষোভ ও প্রতিবাদ কর্মসূচি পালন করতে দেখা যায় স্থানীয়দের।

সেখানে গিয়ে দেখা যায়, বেলা ১১টার পর থেকে রামিসাদের বাসার সামনের গলিতে একে একে জড়ো হন নারী-পুরুষসহ বিভিন্ন বয়সী মানুষ। অনেকের হাতে ছিল ‘রামিসার হত্যাকারীর ফাঁসি চাই’, ‘শিশু ধর্ষণ ও হত্যার বিচার চাই’ লেখা প্ল্যাকার্ড।

এসময় এলাকাজুড়ে ছিল থমথমে পরিবেশ। স্থানীয়দের অনেকেই ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, এমন নির্মম হত্যাকাণ্ডের দৃষ্টান্তমূলক বিচার না হলে সমাজে শিশুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত হবে না।

একটি মানববন্ধনে অংশ নেওয়া লামিয়া খানম নামে এক নারী বলেন, আমরা নিজের সন্তানদের নিয়েই এখন আতঙ্কে আছি। একটা শিশুকে এত নির্মমভাবে হত্যা কোনো মানুষ করতে পারে না।

এদিকে সন্তান হারানোর শোকে এখনও প্রায় নির্বাক রামিসার মা-বাবা। শুক্রবার (আজ) দুপুর ১২টার দিকে মেয়ের কুলখানি ও মিলাদে অংশ নিতে মুন্সীগঞ্জের সিরাজদিখানের উদ্দেশে ঢাকা ছাড়েন তারা। যাওয়ার আগে বাসার সামনে জড়ো হওয়া মানুষদের কান্না আর সান্ত্বনার শব্দে ভারী হয়ে ওঠে পরিবেশ।

পরিবারের স্বজনরা জানান, বৃহস্পতিবার (২১ মে) রাতে সিরাজদিখানে পারিবারিক কবরস্থানে দাফনের সময় পুরো এলাকায় শোকের ছায়া নেমে আসে। রামিসার মা এখনও মেয়ের জামাকাপড় ও ব্যবহৃত জিনিসপত্র বুকে জড়িয়ে কাঁদছেন। আর বাবা আব্দুল হান্নান মোল্লা বারবার মেয়ের শেষ আবদারের কথা মনে করে ভেঙে পড়ছেন। দুই দিন আগে মেয়ের জন্য একটি বোরকা কিনে এনেছিলেন তিনি। কিন্তু সেই বোরকা আর পরা হয়নি রামিসার।

গত মঙ্গলবার সকালে পল্লবীর সেকশন-১১ এলাকায় নিজ বাসার পাশ থেকে নিখোঁজ হয় দ্বিতীয় শ্রেণির ছাত্রী রামিসা। পরে প্রতিবেশী সোহেল রানার ফ্ল্যাট থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় শিশুটির বাবা পল্লবী থানায় মামলা করেন।

পুলিশ জানায়, প্রধান অভিযুক্ত সোহেল রানা শিশুটিকে ধর্ষণের পর হত্যা করে মরদেহ গোপনের চেষ্টা করেন। ঘটনার পর নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। আদালতে তিনি হত্যার দায় স্বীকার করে জবানবন্দিও দিয়েছেন। এ ঘটনায় সোহেলের স্ত্রী স্বপ্না আক্তারকেও গ্রেপ্তার করে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।