খুঁজুন
, ,

নির্বাচিত হলে চট্টগ্রাম বন্দরে স্থানীয়দের পর্যাপ্ত চাকুরির উদ্যোগ নেব : ডা.শাহাদাত

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Wednesday, 13 January, 2021, 6:20 pm
নির্বাচিত হলে চট্টগ্রাম বন্দরে স্থানীয়দের পর্যাপ্ত চাকুরির উদ্যোগ নেব : ডা.শাহাদাত

চসিক নির্বাচনে বিএনপির মনোনীত মেয়র প্রার্থী ও নগর বিএনপির আহবায়ক ডাঃ শাহাদাত হোসেন বলেছেন, চট্টগ্রাম বন্দর প্রতিষ্ঠাকালে ও সম্প্রসারণের সময় বিভিন্নভাবে স্থানীয় বাসিন্দদের জমি অধিগ্রহন করা হয়েছিল। দেশের স্বার্থে বন্দরের জন্য অনেকে নিজেদের বসতবাড়ী ফসলি জমি ছাড়তে হয়েছে। এতে করে বন্দর এলাকার স্থায়ী বাসিন্দারা ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে অথচ এখনও বন্দর এলাকার সুশিক্ষিত হাজার হাজার যুবক বেকার। এই বেকারত্বের কারণে স্থানীয় যুবকরা বিভিন্ন অসামাজিক কার্যকলাপে লিপ্ত হয়ে পরিবারের বোঝা হয়ে দাঁড়িয়েছে। বন্দরে স্থানীয় সুশিক্ষিত লোকের চাকরির কোন কোটা নেই। আমি মেয়র নির্বাচিত হলে চট্টগ্রাম বন্দরে স্থানীয় বাসিন্দাদের অগ্রাধিকারের ভিত্তিতে নিয়োগের উদ্যোগ গ্রহন করবো।

তিনি আজ বুধবার (১৩ জানুয়ারী) নগরীর ৩৬নং গোসাইলডাঙ্গা ও ৩৮নং দক্ষিণ মধ্যম হালিশহর ওয়ার্ডে নির্বাচনী গণসংযোগকালে এসব কথা বলেন।

গোসাইলডাঙ্গা ওয়ার্ডের বারিক বিল্ডিং মোড় থেকে গণসংযোগ শুরু হয়ে হাসেম সও. মসজিদ, কেবি দোভাস লেইন, মধ্যম গোসাইলডাঙ্গা, ফকিরহাট রোড়, হাজি ঠান্ডা মিয়া লেইন, রোহিঙ্গা পাড়া, বেচাখাঁ রোড়, ফকিরহাট বাজার, নিমতলা বিশ্বরোড় হয়ে কাস্টমস মোড় এবং দক্ষিণ মধ্যম হালিশহর ওয়ার্ডের সল্টগোলা রেলক্রসিং থেকে শুরু হয়ে ইশান মিস্ত্রীর হাট, পুরাতন ডাকঘর মোড়, লোহারপুল মোড়, মাইজপাড়া, ওমরশাহ পাড়া, কলসি দিঘী রোড়, ঈগল ক্লাব মোড়, ওয়াসিল চৌধুরী পাড়া, মাইলের মাথা, সিমেন্স হোস্টেল মোড়, নিশ্চিন্ত পাড়া ও হিন্দুপাড়া হয়ে ইসহাক ডিপুর সামনে গিয়ে পথসভায় মিলিত হয়।

তিনি বলেন, নিমতলা থেকে পতেঙ্গা সমুদ্র সৈকত পর্যন্ত বিশেষায়িত কোন হাসপাতাল নেই। চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের যে হাসপাতাল আছে তাতে স্থানীয় বাসিন্দারা কোন ধরণের চিকিৎসা পায় না। আপনাদের ভোটে আমি মেয়র নির্বাচিত হলে সিটি কর্পোরেশনের অধিনে বিশেষায়িত হাসপাতাল করার উদ্যোগ গ্রহণ করবো।

ডা. শাহাদাত হোসেন বলেন, মহানগরীর প্রধান সমস্যা হচ্ছে জলাবদ্ধতা। বিশেষ করে গোসাইলডাঙ্গা, মুনির নগর, দক্ষিণ মধ্যম হালিশহরসহ নগরীর বিভিন্ন এলাকা জোয়ারের পানিতে এবং সামান্ন বৃষ্টিপাত হলেই ডুবে যায়। তখন নগরবাসীকে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হয়। জলবদ্ধতা নিরসনে দীর্ঘমেয়াদী মহাপরিকল্পনা করে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করবো।

ডা. শাহাদাত বলেন, নগরীর বন্দর ও ইপিজেড এলাকায় বিপুল সংখ্যক গার্মেন্টস শ্রমিক বসবাস করে। তাদের মধ্যে ৬০ শতাংশ ভাড়াটিয়া। নিম্ম আয়ের এসব শ্রমিকদের যাতায়াত এবং আবাসন সংকট রয়েছে। পর্যাপ্ত গণপরিবহনের ব্যবস্থাসহ আবাসন সংকচ নিরসন করে ভাড়াটিয়াদের স্বার্থ রক্ষায় কাজ করবো।

ভোটারদের উদ্দেশে তিনি বলেন, আপনারা ধানের শীষে ভোট দিয়ে আপনাদের পিতা নয়, সেবক নির্বাচিত করুন। আমি আপনাদের সেবক হয়ে সুখ-দুঃখে পাশে থাকবো। আমি আপনাদের সন্ত্রাস, মাদক ও চাঁদাবাজমুক্ত, পরিচ্ছন্ন, স্মার্ট, নন্দনিক চট্টগ্রাম নগরী উপহার দিতে চাই।

পথসভায় অংশ নিয়ে চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির সদস্য সচিব আবুল হাসেম বক্কর বলেন, যেখানেই গণসংযোগে যাচ্ছি ধানের শীষের পক্ষে জনগণের ব্যাপক সাড়া পাচ্ছি। সাধারন মানুষের এই অগ্রযাত্রা কেউ দমিয়ে রাখতে পারবেনা। ২৭ জানুয়ারী ভোটকেন্দ্রে নিজেদের ভোটাধিকার প্রয়োগ ও রক্ষায় ঐক্যবদ্ধ হতে হবে। আপনার মূল্যবান ভোটটি গণতন্ত্র, আইনের শাসন, ভোটাধিকার প্রতিষ্ঠার আন্দোলনে নেতৃত্ব দানকারী দল বিএনপির প্রার্থী ডা. শাহাদাত হোসেনের ধানের শীষেই দিবেন। কোন অপশক্তি বাধা দিলে প্রতিরোধ গড়ে তুলবেন। আমরা ঐক্যবদ্ধ থাকলে কোন অশুভ শক্তি আমাদেরকে হারাতে পারবেনা।

গণসংযোগকালে উপস্থিত ছিলেন-মহানগর বিএনপির যুগ্ম আহবায়ক আলহাজ্ব এম এ আজিজ, ইয়াছিন চৌধুরী লিটন, আহবায়ক কমিটির সদস্য গাজী সিরাজ উল্লাহ, মঞ্জুর আলম চৌধুরী মঞ্জু, মহানগরী বিএনপির সাবেক সহ-সাধারণ সম্পাদক শামসুল আলম (ডক), মহানগর স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি এইচ এম রাশেদ খান, মহানগর জাসাস সভাপতি কন্ঠশিল্পী আব্দুল মান্নান রানা, দক্ষিণ মধ্যম হালিশহর ওয়ার্ড কাউন্সিলর প্রার্থী হাজি মো. হানিফ সওদাগর, গোসাইলডাঙ্গা ওয়ার্ড কাউন্সিলর প্রার্থী মো. হারুণ, নগর বিএনপি নেতা মো. সেলিম, গোসাইলডাঙ্গা ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি হুমায়ুন কবির সোহেল, সাধারণ সম্পাদক আবু সাঈদ হারুণ, দক্ষিণ মধ্যম হালিশহর ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি মোহাম্মদ আজম, সাধারণ সম্পাদক হাজি মো. জাহেদ, মহিলা কাউন্সিলর প্রার্থী কামরুন্নাহার লিজা, বিএনপি নেতা আলী আজম চৌধুরী, মো. নাছির, মো, ইউসূফ, মো. সালাউদ্দিন, আব্দুল কুদ্দুস সেন্টু, মাহবুবুল আলম বাচ্চু, হাজী মোহাম্মদ হোসেন, নেজাম উদ্দিন, রফিক সওদাগর, মো. সেকান্দর, মো. ইলিয়াছ, ইউসূফ কোম্পানী,মহানগর স্বেচ্ছাসেবক দলের সহসভাপতি মোহম্মদ হারুন, সি.যুগ্ম সম্পাদক আলী মুর্তজা খান, সাংগঠনিক সম্পাদক জিয়াউর রহমান জিয়া, মহানগর ছাত্রদলের যুগ্ন আহবায়ক তারিকুল ইসলাম তানভীর, বিএনপি নেতা মঞ্জুর মোরশেদ, আলী আহসান, আনোয়ার হোসেন জুনু, মাহবুব আলম, দেলোয়ার হোসেন, শহীদুল ইসলাম প্রিন্স মো. মুছা, মো. নিজাম, মো. সবুর, শওকত মান্নান, মো. সাইফুল, আক্তার সৈয়দ, মো. কামরুল, অঙ্গসংগঠনের নেতা আব্দুল নূর মিঠু, রিয়াজ উদ্দিন রাজু, মো. আরিফ, মো. কামরুদ্দিন, আলী রাসেদ, নুর জাফর রাহুল, আবু রায়হান চৌধুরী, ওয়াহিদ খান সারাদ, মো.আজম, মো. জাবেদ, মো. ফারুক, মো. ইয়াছিন, মো. কামাল, মো. হাশেম, মো. রনি, মো. পারভেজ, মো: হাসান, আক্তার, সাগর, ইমরান, লিটন, অভি, আকিল, ফয়সাল, জীবন, কায়সার, ওয়াহিদ প্রমুখ।

Feb2
Feb2

চট্টগ্রামে ডিবি অফিসের সামনেই ইয়াবার হাট, হাটের রাজা ইয়াবা সম্রাট জয়, জড়িত গোয়েন্দা পুলিশের কিছু অসাধু সদস্য

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Sunday, 23 August, 2026, 9:56 pm
চট্টগ্রামে ডিবি অফিসের সামনেই ইয়াবার হাট, হাটের রাজা ইয়াবা সম্রাট জয়, জড়িত গোয়েন্দা পুলিশের কিছু অসাধু সদস্য

চট্টগ্রাম প্রতিনিধি::চট্টগ্রামের মুনছুরাবাদে ডিবি (গোয়েন্দা) পুলিশের কার্যালয়ের সামনে কর্ণফুলী ক্লাবের মাঠে প্রকাশ্যে মাদক বেচাকেনার গুরুতর অভিযোগ উঠেছে।

জানাগেছে, চট্টগ্রামের ইয়াবা সম্রাট নামে খ্যাত জয় প্রতিদিন সন্ধ্যা ৬ টা থেকে রাত ১১টা পর্যন্ত কর্ণফুলী ক্লাবের মাঠে প্রকাশ্যে ইয়াবাসহ নানা নেশাজাত দ্রব্য বিক্রি করে । প্রতিদিন কোটি কোটি টাকার মাদক জাত দ্রব্য বিক্রি হয় কর্ণফুলী ক্লাবের মাঠে। এ ছাড়া পার্শ্ববর্তী রেশন স্টোর ও পুলিশের ব্র্যাক থেকেও ইয়াবা সাপ্লাই করে জয়।

অনুসন্ধানে জানা যায়, জয় এর এই অবৈধ মাদক ব্যবসার সাথে কিছু অসাধু গোয়েন্দা পুলিশের সদস্য জড়িত । ফলে নির্বিঘ্নে ও নিরাপদে মাদকের ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছে জয়।

‎অনুসন্ধানে জানাযায়, গনি আহামদের ছেলে জাবেদ ওরফে জয়, কাজীর দেউড়ি ২ নং গলির বাসিন্দা হলেও বর্তমানে বাকলিয়া থানার বলির হাট এলাকায় বসবাস করে।

সুত্র জানায়, ডিবি পুলিশের কনেস্টেবল আজাদ, রবিউল,  হানিফ, সঞ্জয়, আব্দুর রহিম, ইয়াবা সম্রাট জাবেদ ওরফে জয় এর সহযোগী বলে জানা গেছে।

‎এছাড়া কর্ণফুলী ক্লাব থেকে রূপসা বেকারী পর্যন্ত ব্যবসায়ী ও সাধারণ জনগণ জয়কে ডিবি অফিসার হিসাবে চিনে ও জানে, অনেকেই আবার জয়কে জয় স্যার বলে সম্বোধন করে।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে ডিবি পুলিশের কয়েকজন সদস্য বলেন, আইনের লোকেরা যখন বেআইনি কাজে জড়িয়ে পড়ে তখন কিছুই বলার থাকে না। পুলিশের ব্র্যাকে মাদক দ্রব্য রেখে গোয়েন্দা পুলিশের অফিসের সামনে কর্ণফুলী ক্লাবের মাঠে চট্টগ্রামের চিহ্নিত ইয়াবা ব্যবসায়ী মিস্ত্রী পাড়ার বিপ্লব ও বউ বাজারে ডাইল নুরুকে নিয়ে জয় যে মাদকের হাট বসায় তা মেনে নেওয়ার নয়। গোয়েন্দা পুলিশের যে সদস্যরা জয়ের সাথে জড়িত তারা সবাই কোটি কোটি টাকার মালিক তাদের টাকার দাপটে আমরা অসহায়। খোদ উর্ধ্বতনরাও টাকার কাছে জিম্মি বলে মনে হয়।

‎নেশাগ্রস্থ অবস্থায় জয় যখন পুলিশ ব্র্যাকে শুয়ে থাকে তখনও কিছুই বলার থাকেনা। সন্ধ্যা হলে নগরীর চিহ্নিত মাদক ব্যবসায়ীরা আসে কর্ণফুলী ক্লাবের মাঠে ।

‎সিএমপিতে দীর্ঘ দিন ধরে চট্টগ্রামের বাকলিয়ার মাদক সম্ম্রাট ইছহাক, সোবহান, ও পাহারতলীর মাদক সম্ম্রাট টেক্সি জসিম আলমগীর ও কদম তলীর শীর্ষ মাদক ব্যবসায়ি আলো সহ আরো অসংখ্য মাদক ব্যবসায়ীর নিকট মাদক ও ইয়াবা ট্যাবলেট বিক্রয় করে আসছে।

ক্লাবের ভিতরে মাঠে চেয়ার নিয়ে বসে থাকে, জয় , ডাইল নুরু ও ইয়াবা সম্রাট বিপ্লব। পার্টি আসলে ব্র্যাক থেকে মাদক দ্রব্য নিয়ে আসে অসাধু পুলিশ সদস্যরা।

‎এই বিষয়ে জয়ের কাছে জানতে চাইলে তিনি অসংলগ্ন কথাবার্তা বলেন। একবার বলেন আমি ফার্নিচার ব্যবসায়ী, আবার বলেন আমি এইসব ছেড়ে দিয়েছি। আবার অকথ্য ভাষায় গালাগালি করে বলেন, আমি জানি কে এইসব আমার ব্যাপারে বলেছে। আপনার খবর নিয়ে দেখবো আপনি কে ?

‎মাদকের ব্যাপারে সারাদেশের প্রসাশন জিরো টলারেন্স নীতি ঘোষনা করলেও সিএমপি গোয়েন্দা কার্যালয়ের সামনে এমন কান্ডকে ভাবিয়ে তোলে সচেতন মহলকে।

‎এই বিষয়ে ডিসি (ডিবি উত্তর) এর কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।

সিএমপিতে একসঙ্গে ৫ থানার ওসি রদবদল

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Sunday, 23 August, 2026, 9:29 pm
সিএমপিতে একসঙ্গে ৫ থানার ওসি রদবদল

চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের (সিএমপি) পাঁচ থানায় অফিসার ইনচার্জ (ওসি) পদে বড় ধরনের রদবদল করা হয়েছে। একই আদেশে কয়েকজন ওসিকে বদলি এবং বিভিন্ন ইউনিট থেকে নতুন কর্মকর্তাদের থানায় পদায়ন করা হয়েছে।

শনিবার (২৩ আগস্ট) সন্ধ্যায় সিএমপি কমিশনার হাসান মো. শওকত আলী স্বাক্ষরিত এক আদেশে এ রদবদলের তথ্য জানানো হয়।

আদেশ অনুযায়ী, কাউন্টার টেররিজম ইউনিটের পুলিশ পরিদর্শক নুর আহমদকে কর্ণফুলী থানার ওসি, সিটিএসবির মোহাম্মদ আবদুর রহিমকে খুলশী থানার ওসি এবং কর্ণফুলী থানার বর্তমান ওসি মো. ইখতিয়ারউদ্দিনকে বায়েজিদ বোস্তামি থানার ওসি হিসেবে পদায়ন করা হয়েছে।

এ ছাড়া ডিবি বন্দর জোনের পুলিশ পরিদর্শক মো. জয়নাল আবেদীন মন্ডলকে হালিশহর থানার ওসি এবং খুলশী থানার বর্তমান ওসি মোজাম্মেল হককে পাঁচলাইশ মডেল থানার ওসি করা হয়েছে।

অন্যদিকে, পাঁচলাইশ মডেল থানার বর্তমান ওসি মো. জাহেদুল ইসলামকে বদলি করে সিটিএসবিতে পদায়ন করা হয়েছে। পাশাপাশি সিটিএসবির মোহাম্মদ একরাম উল্লাহকে সদরঘাট থানার ওসি হিসেবে পদায়ন করা হয়েছে।

সিএমপির জনস্বার্থে জারি করা এ আদেশ অবিলম্বে কার্যকর হবে বলে আদেশে উল্লেখ করা হয়েছে।

পাহাড়ে ‘রেইনবো নেশন’ বাস্তবায়নে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান ভূমি ও পার্বত্য প্রতিমন্ত্রীর

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Sunday, 23 August, 2026, 8:20 pm
পাহাড়ে ‘রেইনবো নেশন’ বাস্তবায়নে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান ভূমি ও পার্বত্য প্রতিমন্ত্রীর

পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয় ও ভূমি মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ব্যারিস্টার মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দীন এমপি বলেছেন, পার্বত্য অঞ্চলের তিন জেলায় বসবাসরত পাহাড়ি-বাঙালি সব সম্প্রদায়ের মানুষের মধ্যে সম্প্রীতি সুদৃঢ় করে সরকার ঘোষিত ‘রেইনবো নেশন’ বাস্তবায়নে সবাইকে আন্তরিকভাবে কাজ করতে হবে।

তিনি উল্লেখ করেন, শুধু অবকাঠামোগত উন্নয়নই যথেষ্ট নয়; দুর্গম ও পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীর সামাজিক ও অর্থনৈতিক পরিবর্তনের লক্ষ্যে শিক্ষা, আধুনিক প্রযুক্তি এবং দক্ষতার বিকাশ ঘটিয়ে তাদের সুনাগরিক ও মানবসম্পদে পরিণত করতে হবে।

আজ রোববার রাঙ্গামাটিতে পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ড কর্তৃক আয়োজিত তথ্যপ্রযুক্তি বিষয়ক প্রশিক্ষণ সনদ, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে মাল্টিমিডিয়া সামগ্রী ও নারীদের আত্মকর্মসংস্থানের লক্ষ্যে সেলাই মেশিন বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। এর আগে প্রতিমন্ত্রী উন্নয়ন বোর্ডের কর্মকর্তা- কর্মচারীদের সাথে এক মতবিনিময় সভায় অংশ নেন।

প্রতিমন্ত্রী ব্যারিস্টার মীর হেলাল বলেন, পার্বত্য অঞ্চলের জনগণের জীবনমান উন্নয়ন ও অধিকার নিশ্চিত করার বৃহৎ দর্শন নিয়ে ১৯৭৬ সালে শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ড প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। সেই স্বপ্ন ও উদ্দেশ্য বাস্তবায়নে ধর্ম, বর্ণ বা গোত্র নির্বিশেষে সুবিধাবঞ্চিত মানুষের কাছে উন্নয়নের সুফল পৌঁছে দিতে হবে।

তরুণদের উদ্দেশ্যে ব্যারিস্টার মীর হেলাল বলেন, ফ্রিল্যান্সিংসহ আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর প্রশিক্ষণের ওপর জোর দেওয়া হচ্ছে যেন তারা ঘরে বসেই উপার্জন করতে পারেন এবং এই আয়কে সরকার করমুক্ত ঘোষণা করেছে। একইসঙ্গে ই-কমার্স প্ল্যাটফর্মের সুযোগ কাজে লাগানোর আহ্বান জানিয়ে তিনি যুবকদের দক্ষতা বৃদ্ধিতে উন্নয়ন বোর্ডকে নতুন নতুন স্কিম গ্রহণের নির্দেশনা দেন।

কর্মকর্তা-কর্মচারীদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, সরকার জনগণের সেবক। সেবার মানসিকতা নিয়ে সর্বোচ্চ নিষ্ঠার সঙ্গে কাজ করতে হবে যেন জনগণকে সেবার জন্য বারবার অফিসে আসতে না হয়, বরং সেবা পৌঁছে যায় মানুষের দোরগোড়ায়। এসডিজি অর্জনে মন্ত্রণালয় ও উন্নয়ন বোর্ডকে সমন্বিত পরিবারের মতো কাজ করতে হবে। এ সময় তিনি বোর্ডের শূন্য পদগুলো দ্রুত পূরণ করা, পেনশন সুবিধার বিষয়ে কার্যকর উদ্যোগ এবং পাড়া কেন্দ্রের কর্মীদের বেতন ও সুযোগ-সুবিধা যৌক্তিক পর্যায়ে উন্নীত করতে ডিপিপি (DPP) সংশোধনের আশ্বাস দেন।

দিনব্যাপী সফরকালে প্রতিমন্ত্রী ৫০ জন নারীকে সেলাই মেশিন ও ২৫০টি স্কুলে মাল্টিমিডিয়া সামগ্রী বিতরণ করেন। এছাড়া তিনি রাঙ্গামাটি শিশু পার্কের ওয়াচ টাওয়ার, জেলা পরিষদের ই-লার্নিং সেন্টার এবং খাগড়াছড়ি-রাঙ্গামাটি সড়কে মহাপুরম খালের ওপর ব্রিজের উদ্বোধন করেন।

পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ডের চেয়ারম্যান মেজর জেনারেল (অব.) অনুপ কুমার চাকমার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বোর্ডের ভাইস চেয়ারম্যান শেখ ছালেহ্ আহাম্মদ, জেলা পুলিশ সুপার মুহম্মদ আব্দুর রকিব, সদস্য (অর্থ) সুমন বড়ুয়া, সদস্য (পরিকল্পনা) জাহিদ ইকবালসহ সামরিক-বেসামরিক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।