খুঁজুন
, ,

প্রধানমন্ত্রীর পলোগ্রাউন্ডের জনসভায় চট্টগ্রামের উন্নয়নের নতুন সূর্য উদিত হবে: সুজন

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Sunday, 27 November, 2022, 8:48 pm
প্রধানমন্ত্রীর পলোগ্রাউন্ডের জনসভায় চট্টগ্রামের উন্নয়নের নতুন সূর্য উদিত হবে: সুজন

আগামী ৪ ডিসেম্বর মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর পলোগ্রাউন্ডের জনসভায় চট্টগ্রামের উন্নয়নের নতুন সূর্য উদিত হবে বলে অভিমত প্রকাশ করেছেন চট্টগ্রাম মহানগর আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি এবং চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের সাবেক প্রশাসক খোরশেদ আলম সুজন।

প্রধানমন্ত্রীর আগমনকে উৎসব মুখর করতে আজ রবিবার (২৭ নভেম্বর) বিকাল ৩টায় পলোগ্রাউন্ড মাঠে নাগরিক উদ্যোগ আয়োজিত চট্টগ্রামের ঐতিহ্যবাহী ঘুড়ি উৎসবের প্রধান অতিথি মাননীয় শিক্ষা উপমন্ত্রী ব্যারিস্টার মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল এমপি রাষ্ট্রীয় কর্মসূচীতে ঢাকায় অবস্থান করায় ঘুড়ি উৎসবের উদ্বোধন করতে গিয়ে উপরোক্ত মত প্রকাশ করেন সুজন।

ঘুড়ি উৎসবের উদ্বোধনী বক্তব্যে সাবেক চসিক প্রশাসক সুজন প্রথমেই বঙ্গবন্ধু টানেলের দক্ষিণ টিউবের পূর্ত কাজের সমাপ্তি উদযাপন অনুষ্ঠানে চট্টগ্রামের প্রতি মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর দরদ এবং আবেগমাখা বক্তব্যের জন্য মাননীয় প্রধানমন্ত্রীকে চট্টগ্রামবাসীর পক্ষ থেকে কৃতজ্ঞতা জানান।

সুজন বলেন, চট্টগ্রামে এতোসব বিশাল মেগা প্রকল্প বাস্তবায়নের পরেও চট্টগ্রামের প্রতি মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর উচ্ছ্বাস দেখে আমরা এ কথা অনুমান করতে পারি আগামী ৪ ডিসেম্বর পলোগ্রাউন্ড মাঠে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর জনসভায় চট্টগ্রামের উন্নয়নের নতুন সূর্য উদিত হবে।

তিনি আরো বলেন, ঘুড়ি উৎসব চট্টগ্রামের একটি প্রাচীন খেলা যা নগরায়নের কারণে যা হারিয়ে যেতে বসেছিল। আজ সে ঘুড়ি উৎসবের মাধ্যমে আমরা চট্টগ্রামের জনগনের দৃষ্টি আকর্ষণ করতে চাই চট্টগ্রামসহ সারা বাংলাদেশের উন্নয়ন এবং দেশকে যেকোন বিপর্যয়কর পরিস্থিতির হাত থেকে রক্ষা করতে চট্টগ্রামের জনগন সর্বদা মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর পাশে আছেন। দেশের যেকোন আন্দোলন সংগ্রাম চট্টগ্রাম থেকেই সূচিত হয়েছে ঠিক তেমনি সন্ত্রাস এবং নৈরাজ্যের বিরুদ্ধে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর যে অবস্থান সে অবস্থানকে আরো সুদৃঢ় করতে চট্টগ্রামবাসী মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর সাথে থেকে সকল অপশক্তির বিরুদ্ধে লড়াই করবে সেটা জানান দিতেই আজকের ঘুড়ি উৎসব।

সুজন আরো বলেন, একসময় ফ্লাইওভার দেখার আক্ষেপ থাকলেও সে আক্ষেপ ঘুচিয়ে দিয়েছেন মাননীয় প্রধানমন্ত্রী। না চাইতেই চট্টগ্রামে ফ্লাইওভার এবং এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের মতো বিশাল উন্নয়ন কর্মকান্ড সম্পন্ন হওয়ার পথে। পানির নীচে সুড়ঙ্গ পথে গাড়ি চলাচলের যে স্বপ্ন ছিল তা টানেল নির্মাণের মাধ্যমে বাস্তবে রূপদান করেছেন মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, যা চট্টগ্রামবাসীর জন্য বিশাল গৌরবের।

নাগরিক উদ্যোগের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান হাজী মো. ইলিয়াছের সভাপতিত্বে এবং সদস্য সচিব হাজী মো. হোসেনের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানের বিশেষ অতিথি চট্টগ্রাম মহানগর আওয়ামী লীগের কোষাধ্যক্ষ এবং সাবেক সিডিএ চেয়ারম্যান আবদুচ ছালাম বলেন মাননীয় প্রধানমন্ত্রী স্বপ্ন দেখান না, উনি বাস্তবে রূপ দান করেন। চট্টগ্রামের এতো এতো উন্নয়ন সবই মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর বাস্তবতার ফসল।

আজ আমরা অবাক তাকিয়ে রয় যে বাংলাদেশকে একসময় ক্ষুধা ও দারিদ্রের দেশ বলে সবাই উপহাস করতো আজ সে বাংলাদেশ বিশ্বের বুকে এক অপার বিস্ময় এবং তা সম্ভব হয়েছে শুধুমাত্র মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর কারণেই।

অনুষ্ঠানের অন্যতম বিশেষ অতিথি মহানগর আওয়ামী লীগের বন ও পরিবেশ সম্পাদক এবং ক্রীড়া সংগঠক মসিউর রহমান চৌধুরী বলেন, চট্টগ্রামকে ঘিরে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর যে বিশাল উন্নয়ন কর্মকান্ড তার সুফল ভোগ করবে সমগ্র চট্টগ্রামবাসী। আগামী দিনের চট্টগ্রামকে বিশ্বের বুকে একটি সমৃদ্ধশালী নগরীতে পরিণত করতে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী যে নিরলস শ্রম দিয়ে যাচ্ছেন সেজন্য সমগ্র চট্টগ্রামবাসী মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর নিকট বিশেষভাবে কৃতজ্ঞ। তাই মাননীয় প্রধানমন্ত্রীকে আমরা চট্টগ্রামবাসী উৎসবমুখর পরিবেশে বরণ করে নিতে চাই।

সংক্ষিপ্ত আলোচনা শেষে বাদক দলের মনোমুগ্ধকর দেশাত্নবোধক গানের পরিবেশনার সাথে সাথে পলোগ্রাউন্ডের বুকে শতাধিকেরও বেশি ঘুড়ি উড়িয়ে চট্টগ্রামের ঐতিহ্যকে পূণরায় নতুন প্রজন্মের কাছে উপস্থাপন করেন ঘুড়ি প্রেমিকগণ।

এসময় অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন কাউন্সিলর আতাউল্লাহ চৌধুরী, সাবেক কমিশনার সিরাজুল ইসলাম, আব্দুর রহমান মিয়া, রুহুল আমিন তপন, সাইদুর রহমান চৌধুরী, যুবনেতা মাহবুবুল হক সুমন, শওকত হোসাইন, ফরহান আহমদ, খলিলুর রহমান নাহিদ, রেজাউল করিম কায়সার, মো. নাজিম উদ্দিন, মো. আজম খাঁন, মো. ইলিয়াছ, নুরুল কবির, শফিউল আজম বাহার, ছালেহ আহমদ জঙ্গী, রেজাউল করিম ইরান, মোরশেদ আলম, শাহিন সরওয়ার, ডা. অঞ্জন কুমার দাশ, শেখ আহমদ জাহেদ, সাহেদ বশর, হাফেজ ওকার উদ্দিন, মো. সাজ্জাদ হোসাইন, আবুল হাসান সৈকত, এনামুল হক মিলন, জাহেদ আহমদ চৌধুরী, জানে আলম, মো. সেলিম, মো. মনির উদ্দিন, এহসানুল হক চৌধুরী, খন্দকার আসাদুজ্জামান, শেখ মামুনুর রশীদ, মো. বাবলু, সিরাজদৌল্লা নিপু, মোঃ. শাহজাহান, জমির উদ্দিন মাসুদ, অনির্বাণ দাশ বাবু, সমীর মহাজন লিটন, শহীদুল আলম লিটন, মো. সাইফুল্লাহ আনছারী, জাইদুল ইসলাম দুর্লভ, জাহাঙ্গীর আলম, রকিবুল আলম সাজ্জী, রাজীব হাসান রাজন, শাহনেওয়াজ রাজীব, সরওয়ার্দী এলিন, ফেরদৌস মাহমুদ আলমগীর, আফগানী বাবু, পাভেল ইসলাম, মহানগর ছাত্রলীগের সভাপতি এম. ইমরান আহমেদ ইমু, নাঈম রনি, নোমান চৌধুরী, সুজন বর্মন, মো. ওয়াসিম, লোকমান হোসেন, সফি আলম বাদশা, মো. ফারুক, আবদুল্লাহ আল মামুন, ইঞ্জিনিয়ার মিঠু চৌধুরী, আরাফাত রুবেল, শাহনেওয়াজ আশরাফী, মনিরুল হক মুন্নাসহ বিভিন্ন কলেজ, থানা ও ওয়ার্ড যুবলীগ এবং ছাত্রলীগ নেতৃবৃন্দ।

Feb2
Feb2

দুর্যোগের সময় মানুষের পাশে দাঁড়ানো আমাদের নৈতিক দায়িত্ব: ডা. শাহাদাত

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Tuesday, 21 July, 2026, 10:53 pm
দুর্যোগের সময় মানুষের পাশে দাঁড়ানো আমাদের নৈতিক দায়িত্ব: ডা. শাহাদাত

দুর্যোগকবলিত মানুষের কল্যাণ নিশ্চিত করা এবং তাদের পাশে দাঁড়ানোকে সর্বোচ্চ মানবিক দায়িত্ব হিসেবে উল্লেখ করেছেন চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের (চসিক) মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন।

তিনি বলেন, দুর্যোগের সময় মানুষের পাশে দাঁড়ানো আমাদের নৈতিক ও মানবিক দায়িত্ব। কোনো পরিবার যেন কষ্টে না থাকে, সে লক্ষ্যেই চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের পক্ষ থেকে ধারাবাহিকভাবে সহায়তা প্রদান করা হচ্ছে। নগরবাসীর যেকোনো দুর্যোগে চসিক সবসময় পাশে থাকবে। জনগণের কল্যাণই আমাদের প্রধান অঙ্গীকার।

মঙ্গলবার (২১ জুলাই) বিকেলে নগরীর পূর্ব বাকলিয়া চেয়ারম্যান ঘাটা এলাকায় হাজী মোহাম্মদ ইউসুফ ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে ৪০০টি ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের মাঝে ঢেউটিন বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

মেয়র ডা. শাহাদাত বলেন, ঘরবাড়ির ক্ষতি মানুষের জীবনে বড় বিপর্যয় ডেকে আনে। এই ঢেউটিন সহায়তা কেবল একটি বস্তুগত উপহার নয়, এটি ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের মাথা গোঁজার ঠাঁই পুনর্নির্মাণের এক আন্তরিক প্রচেষ্টা। চসিক প্রতিটি ওয়ার্ডের ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের তালিকা তৈরি করে পর্যায়ক্রমে তাদের প্রয়োজনীয় সাহায্য পৌঁছানোর কার্যক্রম জোরদার করেছে।

তিনি বলেন, প্রাকৃতিক ও পরিবেশগত নানা দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোকে স্বাবলম্বী করে তোলাই চসিকের লক্ষ্য। কেবল তাৎক্ষণিক ত্রাণ বিতরণ নয়, বরং স্থায়ী পুনর্বাসনের মাধ্যমে মানুষের মৌলিক চাহিদা নিশ্চিত করতে সিটি কর্পোরেশন কাজ করছে।

তিনি বলেন, শুধু ত্রাণ বিতরণ নয়, জলাবদ্ধতা নিরসন, ক্ষতিগ্রস্ত এলাকার দ্রুত পুনর্বাসন এবং নাগরিক দুর্ভোগ কমাতে সিটি কর্পোরেশন নিরলসভাবে কাজ করছে। দুর্যোগ মোকাবিলায় সকলকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে। চসিকের একা চেষ্টা যেমন গুরুত্বপূর্ণ, তেমনি নাগরিকদের সচেতন ভূমিকা ও সহযোগিতা ছাড়া বাসযোগ্য নগর গড়ে তোলা সম্ভব নয়। আমাদের খাল নালা পরিষ্কার রাখা এবং যেখানে সেখানে ময়লা না ফেলার বিষয়ে নগরবাসীকে দায়িত্বশীল হতে হবে।

মেয়র বলেন, আমাদের প্রথম অগ্রাধিকার মানুষের জীবন ও নিরাপত্তা। পানিবন্দি মানুষকে উদ্ধার, আশ্রয়কেন্দ্রে প্রয়োজনীয় সহায়তা, খাবার বিতরণ এবং জলাবদ্ধতা দ্রুত নিরসনে সিটি কর্পোরেশনসহ সংশ্লিষ্ট সব সংস্থা মাঠে কাজ করছে। পরিস্থিতি পুরোপুরি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত এই মানবিক ও উদ্ধার কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।

শেষে মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন উপস্থিত ৪০০টি সুবিধাভোগী পরিবারের হাতে ঢেউটিন তুলে দেন এবং স্থানীয় এলাকার সার্বিক অবস্থা সরেজমিনে পর্যবেক্ষণ করেন।

হাজী মো. ইউসুফ ফাউন্ডেশনের সভাপতি হাজী মো. ওসমান গনির সভাপতিত্বে এবং বিএনপি নেতা সাইফুল ইসলাম নিরব ও আবদুল কাদেরের যৌথ পরিচালনায় অনুষ্ঠানে প্রধান বক্তা হিসেবে বক্তব্য রাখেন চট্টগ্রাম-৯ আসনের সংসদ সদস্য আলহাজ্ব আবু সুফিয়ান।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিএনপি কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য শামসুল আলম, মহানগর বিএনপির আহবায়ক কমিটির সদস্য অধ্যাপক নুরুল আলম রাজু, আনোয়ার হোসেন লিপু, কোতোয়ালি থানা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক আলহাজ্ব জাকির হোসেন এবং সংশ্লিষ্ট ওয়ার্ড বিএনপির আহবায়ক মো. মহিউদ্দিনসহ চসিকের অন্যান্য ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ।

বাসযোগ্য চট্টগ্রাম গড়তে সরকারি দপ্তরে একযোগে পরিচ্ছন্নতা কর্মসূচি

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Tuesday, 21 July, 2026, 10:46 pm
বাসযোগ্য চট্টগ্রাম গড়তে সরকারি দপ্তরে একযোগে পরিচ্ছন্নতা কর্মসূচি

নিজস্ব প্রতিবেদক: চট্টগ্রামকে পরিচ্ছন্ন, নান্দনিক ও বাসযোগ্য জেলা হিসেবে গড়ে তুলতে আগামী শনিবার জেলার সব সরকারি দপ্তর ও সরকারি আবাসনে একযোগে বিশেষ পরিচ্ছন্নতা অভিযান শুরু হচ্ছে। প্রথম দিন ছাদ, আঙিনা ও আশপাশের এলাকা পরিষ্কার করা হবে। প্রতিটি দপ্তরকে পরিচ্ছন্নতার আগে ও পরে ছবি ও ভিডিও ধারণ করে জেলা প্রশাসনের কাছে পাঠাতে হবে। ভালো উদ্যোগের জন্য পুরস্কারের ব্যবস্থাও থাকবে।

মঙ্গলবার চট্টগ্রাম সার্কিট হাউসে জেলা প্রশাসনের আয়োজনে অনুষ্ঠিত প্রস্তুতিমূলক সভা ও সংবাদ ব্রিফিংয়ে এসব তথ্য জানান জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা। সভার প্রতিপাদ্য ছিল—‘পরিচ্ছন্ন করি নগর-গ্রাম, গড়ি নান্দনিক চট্টগ্রাম’।

সভায় চট্টগ্রাম বিভাগীয় কমিশনার ড. মো. জিয়াউদ্দীন, সিটি করপোরেশনের মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন, চট্টগ্রাম রেঞ্জের ডিআইজি মো. মনিরুজ্জামান, পুলিশ সুপার মো. মাসুদ আলম, সিএমপির অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (প্রশাসন ও অর্থ) ওয়াহিদুল হক চৌধুরীসহ বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তারা ভার্চ্যুয়ালি যুক্ত হন।

জেলা প্রশাসক বলেন, সরকারের লক্ষ্য শুধু অবকাঠামোগত উন্নয়ন নয়, প্রতিটি জেলাকে সত্যিকার অর্থে বাসযোগ্য করে তোলা। এ জন্য সরকারি কর্মকর্তাদের প্রচলিত দায়িত্ব পালনের গণ্ডি পেরিয়ে উদ্যোগী হতে হবে। তিনি বলেন, পরিচ্ছন্নতা অভিযান শুধু একদিনের কর্মসূচি নয়; এটিকে সামাজিক সংস্কৃতিতে পরিণত করতে হবে।

তিনি জানান, পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার কাজ শুরুর আগে ও পরে প্রতিটি দপ্তরকে ছবি ও ভিডিও ধারণ করে জমা দিতে হবে। এগুলো মূল্যায়ন করে সেরা উদ্যোগগুলোকে পুরস্কৃত করা হবে এবং কার্যক্রমের অগ্রগতি সরকারের উচ্চপর্যায়েও জানানো হবে।
জেলা প্রশাসক বলেন, ছাদ ও প্রাঙ্গণ থেকে অপসারণ করা বর্জ্য নির্ধারিত ব্যাগে ভরে নির্দিষ্ট স্থানে রাখতে হবে। সিটি করপোরেশন বা সংশ্লিষ্ট পৌরসভা সেগুলো সংগ্রহ করবে। পর্যায়ক্রমে বায়ুদূষণ ও শব্দদূষণ নিয়ন্ত্রণেও পৃথক কর্মপরিকল্পনা নেওয়া হবে।
দায়িত্ব অন্যের ওপর চাপিয়ে দিলে পরিবর্তন আসবে না

বিভাগীয় কমিশনার ড. মো. জিয়াউদ্দীন বলেন, পরিচ্ছন্ন ও বাসযোগ্য চট্টগ্রাম গড়ে তুলতে সম্মিলিত উদ্যোগের বিকল্প নেই। তিনি বলেন, সমাজে নিজের দায়িত্ব অন্যের ওপর চাপিয়ে দেওয়ার প্রবণতা তৈরি হয়েছে। পরিচ্ছন্ন পরিবেশ নিশ্চিত করা শুধু সিটি করপোরেশনের দায়িত্ব নয়; প্রতিটি নাগরিককে নিজ নিজ অবস্থান থেকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে।

তিনি সরকারি দপ্তরের প্রাঙ্গণে দীর্ঘদিন ধরে পড়ে থাকা জব্দ বা বাজেয়াপ্ত যানবাহন ও অন্যান্য মালামাল দ্রুত বিধি অনুযায়ী নিষ্পত্তিরও তাগিদ দেন।

স্বচ্ছ পানিতেও জন্মায় এডিসের লার্ভা

চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন বলেন, বর্ষাকালে জমে থাকা স্বচ্ছ পানিও এডিস মশার প্রজননের উপযোগী পরিবেশ তৈরি করে। ফেলে রাখা ডাবের খোসা, মিনারেল ওয়াটারের বোতল কিংবা ছোট পাত্রে জমে থাকা পানিতেও লার্ভা জন্মাতে পারে। তাই ছাদ, ছাদবাগান ও ভবনের আশপাশে কোথাও পানি জমে থাকতে দেওয়া যাবে না।

সিভিল সার্জনের তথ্য তুলে ধরে তিনি জানান, চলতি বছরের ২১ জুলাই পর্যন্ত চট্টগ্রাম মহানগরে ২২৯ জন এবং উপজেলা পর্যায়ে ২৪১ জন ডেঙ্গু রোগী শনাক্ত হয়েছেন। জুলাই মাসেই আক্রান্তের সংখ্যা দ্রুত বেড়েছে। উপজেলা পর্যায়ে এ বছর দুজনের মৃত্যু হয়েছে।

মেয়র নাগরিকদের ময়লা-আবর্জনা, পানি জমে থাকা কিংবা ডেঙ্গুর সম্ভাব্য প্রজননস্থলের তথ্য ‘আমাদের চট্টগ্রাম’ মোবাইল অ্যাপের মাধ্যমে জানাতে আহ্বান জানান।

সমন্বিত উদ্যোগের আহ্বান
সিটি করপোরেশনের প্রধান পরিচ্ছন্ন কর্মকর্তা ক্যাপ্টেন ইখতিয়ার উদ্দীন আহমেদ চৌধুরী (অব.) বলেন, পরিচ্ছন্নতা অভিযানে সংগৃহীত বর্জ্য নির্ধারিত ডাম্পিং স্থানে বা গাড়ি প্রবেশ করতে পারে—এমন খোলা জায়গায় রাখতে হবে। পরে সিটি করপোরেশনের গাড়ি সেগুলো সংগ্রহ করবে। যেসব ভবনের ছাদে পানি জমে থাকে, সেখানে প্রয়োজন হলে বিটিআই প্রয়োগের ব্যবস্থা করা হবে।

পুলিশ সুপার মো. মাসুদ আলম বলেন, সরকারি দপ্তর ও আবাসনের পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম নিয়মিত হচ্ছে কি না, জেলা পুলিশ তা পর্যবেক্ষণ করবে। সিএমপির অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার ওয়াহিদুল হক চৌধুরী এবং চট্টগ্রাম রেঞ্জের ডিআইজি মো. মনিরুজ্জামানও কর্মসূচি বাস্তবায়নে পুলিশের পূর্ণ সহযোগিতার আশ্বাস দেন।

সভায় সমাজসেবা বিভাগের উপপরিচালক মোহাম্মদ ওমর ফারুক ভবঘুরে ও আশ্রয়হীন মানুষের পুনর্বাসনে সমন্বিত উদ্যোগের প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরেন। জেলা প্রশাসকও নগরের উন্মুক্ত স্থানে বসবাসকারী মানুষের পরিচয় যাচাই করে পুনর্বাসনের উদ্যোগ নিতে সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর প্রতি আহ্বান জানান।

আগামী ৯ আগস্ট প্রধানমন্ত্রীর সম্ভাব্য চট্টগ্রাম সফরকে সামনে রেখে পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম আরও জোরদার করার কথা জানিয়ে জেলা প্রশাসক বলেন, এই উদ্যোগ কোনো বিশেষ সফরকে কেন্দ্র করে নয়; এটি চট্টগ্রামের স্থায়ী নাগরিক সংস্কৃতিতে পরিণত করাই প্রশাসনের লক্ষ্য।

দুস্থ মানুষের পাশে বিএনপি সবসময় থাকবে

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Tuesday, 21 July, 2026, 8:21 pm
দুস্থ মানুষের পাশে বিএনপি সবসময় থাকবে

চট্টগ্রাম নগরীর ২৩ নম্বর উত্তর পাঠানটুলী ওয়ার্ডে দুস্থ, অসহায় ও নিম্নআয়ের মানুষের মাঝে মানবিক সহায়তার অংশ হিসেবে চাল বিতরণ করা হয়েছে। চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেনের পক্ষ থেকে এ খাদ্য সহায়তা প্রদান করা হয়। স্থানীয় বিএনপির উদ্যোগে আয়োজিত এ কর্মসূচিতে পাঁচ শতাধিক সুবিধাবঞ্চিত পরিবারের মাঝে চাল বিতরণ করা হয়।

২৩ নম্বর উত্তর পাঠানটুলী ওয়ার্ড বিএনপির উদ্যোগে আয়োজিত এ কর্মসূচিতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন বলেন, জনগণের সেবা করাই আমাদের রাজনীতির মূল লক্ষ্য। মানুষের দুঃসময় ও দুর্যোগে তাদের পাশে দাঁড়ানো আমাদের নৈতিক দায়িত্ব। অতীতের মতো বর্তমানেও অসহায়, দুস্থ ও নিম্নআয়ের মানুষের পাশে রয়েছি এবং ভবিষ্যতেও থাকব।

তিনি বলেন, যে পরিমাণ চাল বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে তা যদি প্রয়োজনের তুলনায় কম হয়, তাহলে আরও চালের ব্যবস্থা করা হবে। কোনো অসহায় পরিবার যেন খাদ্য সংকটে না থাকে, সে বিষয়ে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হবে।

তিনি আরও বলেন, বিএনপি সবসময় জনগণের দল। মানুষের সুখ দুঃখ, দুর্যোগ ও সংকটের সময় বিএনপির নেতাকর্মীরা মাঠে থেকে কাজ করেছে এবং ভবিষ্যতেও করবে। জনগণের কল্যাণ ও মানবিক সেবার এ ধারা অব্যাহত থাকবে। সমাজের বিত্তবানদেরও অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ানোর আহ্বান জানান তিনি।

অনুষ্ঠান শেষে প্রধান অতিথি ডা. শাহাদাত হোসেন সুবিধাবঞ্চিত পরিবারের সদস্যদের হাতে চাল তুলে দেন।

ওয়ার্ড বিএনপির আহ্বায়ক আব্দুল হালিমের সভাপতিত্বে এবং সদস্য সচিব এম এ হাসনাতের পরিচালনায় অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক এস এম সাইফুল আলম, নিয়াজ মোহাম্মদ খান এবং কেন্দ্রীয় মহিলা দলের যুগ্ম সম্পাদক ফাতেমা বাদশা। উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপি নেতা মুস্তাফিজুর রহমান বুলু, এম এ হাসেম, বিএনপি নেতা সুলতান মোহাম্মদ খান সুমন, আকবর কবির ডিউক, সিরাজুল ইসলাম, মো. আব্বাস, মো. তাহের, মো. আলীসহ স্থানীয় বিএনপি, যুবদল, ছাত্রদল ও অঙ্গ সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মী এবং এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ।