খুঁজুন
, ,

চট্টগ্রামে কোল্ড স্টোরেজে আগুন, আহত ৪

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Wednesday, 19 April, 2023, 5:09 am
চট্টগ্রামে কোল্ড স্টোরেজে আগুন, আহত ৪

চট্টগ্রাম মহানগরের বাকলিয়া থানার রাজাখালী হাজী জনতার কোল্ড স্টোরেজে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। রাত একটার দিকে বিস্ফোরণের পর ফায়ার সার্ভিসের সাতটি ইউনিটের চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে। এ ঘটনায় দেয়াল ধসে চারজন আহত হয়েছে

মঙ্গলবার (১৮ এপ্রিল) রাত সাড়ে ১২টার দিকে এ ঘটনা ঘটে।

আহতরা হলেন, মো. তারেক(২৮), নুর হোসেন, মো.মান্নান (৩৪) ও রবিন(২২)। তাদের চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

ফায়ার সার্ভিস চট্টগ্রাম বিভাগের উপপরিচালক মো. আবদুল হালিম সংবাদমাধ্যমকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

তিনি বলেন, রাত সোয়া ১টার দিকে বাকলিয়া থানাধীন রাজাখালি এলাকায় জনতা কোল্ড স্টোরেজ গোডাউনে অ্যামোনিয়া সিলিন্ডার বিস্ফোণে আগুনের সূত্রপাত হয়। রাত ২টার দিকে ভবনটির দেয়াল ধসে পড়েছে। বড় ধরণের দুর্ঘটনা এড়াতে আশপাশের কয়েকটি ভবনের বাসিন্দাদের সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত চারজন আহত হয়েছে।

আগুনের কারণে ভবনের চারপাশের মানুষদের সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।

আসাদগঞ্জ শুটকি ব্যবসায়ী সমিতির যুগ্ম সম্পাদক মো.নাজিম উদ্দীন বলেন, আগুনের সংবাদ শুনে ঘটনাস্থলে এসেছি।

ভবনের পাশের স্থানীয় সাকিব বলেন, জনতা ভবনের নিচতলা থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়। গ্যাসের কারণে ভবনের নিচতলার দেওয়াল ভেঙে গেছে। আমরা কোন রকমভাবে ভবন থেকে বের হয়েছি।

চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ (চমেক) হাসপাতাল পুলিশ বক্সের ইনচার্জ নুর উল্লাহ আশেক বলেন, আগুনের ঘটনায় চারজনকে হাসপাতালে আনা হয়েছে। তার মধ্যে দুইজনের অবস্থা আশঙ্কা জনক। চারজনেই হাসপাতালের বিভিন্ন ওয়ার্ডে চিকিৎসাধীন রয়েছে।

বাকলিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুর রহিম বলেন, রাজাখালী এলাকায় জনতা কোল্ড স্টোরেজে আগুন লাগে। বিস্ফোরণে গ্যাস আশেপাশে ছড়িয়ে পড়েছে। আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ করছে ফায়ার সার্ভিসের কাজ করছে।

Feb2
Feb2

শ্বাসরুদ্ধকর লড়াইয়ে মিসরকে হারিয়ে কোয়ার্টার ফাইনালে আর্জেন্টিনা

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Wednesday, 8 July, 2026, 1:09 am
শ্বাসরুদ্ধকর লড়াইয়ে মিসরকে হারিয়ে কোয়ার্টার ফাইনালে আর্জেন্টিনা

অবিশ্বাস্য প্রত্যাবর্তনের গল্প লিখে বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে উঠে গেল আর্জেন্টিনা। দুই গোলে পিছিয়ে পড়েও শেষ পর্যন্ত মিসরকে ৩-২ গোলের ব্যবধানে হারিয়েছে বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা।

মঙ্গলবার (৭ জুলাই) আটলান্টায় বাংলাদেশ সময় রাত ১০টায় ম্যাচটি শুরু হয়।

জয়সূচক গোল আসে ম্যাচের যোগ করা সময়ে।

কাউন্টার অ্যাটাকে উঠে এসে লাউতারো মার্তিনেজের ক্রসে মাথা ছুঁইয়ে গোলটা করেন এনজো ফার্নান্দেজ।
৭৮ মিনিট পর্যন্ত ২–০ গোলে পিছিয়েছিল আর্জেন্টিনা। বিশ্বকাপ থেকে বিদায়ের পথ ছিল মাত্র কয়েক মিনিট দূরে। এরপরই আর্জেন্টিনার দুর্দান্ত প্রত্যাবর্তন, আর তা মেসির হাত ধরেই।

৭৯তম মিনিটে মেসির অ্যাসিস্টে একটি গোল শোধ দিলেন ক্রিস্টিয়ান রোমেরো। ৮৩ মিনিটে ম্যাচে সমতা নিয়ে এলেন মেসি নিজেই। মূলত, তখনই ‘লাইফলাইন’ পেয়ে যায় আর্জেন্টিনা, জেগে ওঠে মেসির বিশ্বকাপে টিকে থাকার সম্ভাবনাও।

যোগ করা সময়ের দ্বিতীয় মিনিটে লাওতারো মার্তিনেজের ক্রসে এনজো ফার্নান্দেজের হেড করে দেয় বাকি কাজটা।

৩–২ গোলে জিতে আর্জেন্টিনা উঠে গেল কোয়ার্টার ফাইনালে।

ঝড়-বৃষ্টি, কাদা আর মানুষের পাশে এক জেলা প্রশাসক

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Tuesday, 7 July, 2026, 9:03 pm
ঝড়-বৃষ্টি, কাদা আর মানুষের পাশে এক জেলা প্রশাসক

সকাল থেকেই আকাশ কালো। একটানা বৃষ্টি। পাহাড়ের গা বেয়ে নেমে আসছে কাদা আর ঢলের পানি। আবহাওয়া অধিদপ্তরের পূর্বাভাস বলছে, বৃষ্টি আরও কয়েক দিন চলতে পারে। পাহাড়ধসের আশঙ্কায় উৎকণ্ঠায় দিন কাটছে চট্টগ্রামের হাজারো পরিবারের।

এমন পরিস্থিতিতে জেলা প্রশাসকের জন্য সবচেয়ে সহজ কাজ হতে পারত কার্যালয়ে বসে জরুরি বৈঠক করা কিংবা নির্দেশনা দেওয়া। কিন্তু সারাদেশে মানবিক ডিসি হিসেবে পরিচিত চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা বেছে নিলেন ভিন্ন পথ। তিনি নিজেই নেমে গেলেন পাহাড়ের পাদদেশে, মানুষের মাঝে।

মঙ্গলবার দুপুরে আকবর শাহ সংলগ্ন ৯ নম্বর উত্তর পাহাড়তলী ওয়ার্ডের ঝুঁকিপূর্ণ পাহাড়ি এলাকাগুলো ঘুরে দেখেন তিনি। কাদা, বৃষ্টি ও প্রতিকূল আবহাওয়া উপেক্ষা করে সরেজমিন পরিদর্শন করেন ১ নম্বর ঝিল, ২ নম্বর ঝিল, ৩ নম্বর ঝিল, বিজয়নগর এবং শান্তিবাগ (পানির ট্যাংক এলাকা)। পাহাড়ের নিচে বসবাসকারী পরিবারগুলোর সঙ্গে কথা বলেন। জানতে চান তাদের ভয়, প্রয়োজন ও প্রস্তুতির কথা। মাঠে থাকা নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট, স্বেচ্ছাসেবক ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের প্রয়োজনীয় নির্দেশনাও দেন।

পাহাড়ি এলাকা পরিদর্শনের পর জেলা প্রশাসক পৌঁছান ১ নম্বর ঝিলসংলগ্ন ব্র্যাক প্রাক-প্রাথমিক বিদ্যালয়ে স্থাপিত অস্থায়ী আশ্রয়কেন্দ্রে।
সেখানে আশ্রয় নেওয়া নারী, শিশু ও বয়স্ক মানুষদের সঙ্গে মেঝেতে দাড়িয়েই কথা বলেন তিনি। হাতে মেগাফোন নিয়ে সবাইকে আশ্বস্ত করেন—সরকার তাদের পাশে রয়েছে। কোনো অবস্থাতেই যেন তারা ঝুঁকিপূর্ণ পাহাড়ের পাদদেশে ফিরে না যান।

আশ্রয়কেন্দ্রে উপস্থিত মানুষের উদ্দেশে জেলা প্রশাসক বলেন, “আমরা সবাই এসেছি, যাতে আপনাদের মধ্যে কোনো ধরনের ভয় বা সংকোচ কাজ না করে। সরকার একটি মানবিক রাষ্ট্র গড়ে তুলতে চায়। সরকার আপনাদের পাশে আছে। আমরা আপনাদের জন্য এখানে এসেছি। আপনারা নিরাপদে থাকবেন। কারও কোনো বিশেষ প্রয়োজন হলে আমাদের জানাবেন। আমরা সেটি দেখব।”

তিনি আরও বলেন, প্রতিটি ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট, এসিল্যান্ড এবং স্বেচ্ছাসেবকদের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। “তারা যখন আপনাদের কোনো কিছু বলবেন বা অনুরোধ করবেন, দয়া করে তা শুনবেন। কারণ, প্রশাসনের কথা না শুনলে আপনারাই নিজেদের জীবনকে ঝুঁকির মধ্যে ফেলবেন।”

শুধু বক্তব্য দিয়েই দায়িত্ব শেষ করেননি জেলা প্রশাসক। তিনি আশ্রয় নেওয়া পরিবারগুলোর হাতে নিজেই শুকনা খাবারের প্যাকেট তুলে দেন। শিশু, অসুস্থ ব্যক্তি ও প্রবীণদের খোঁজ নেন। সঙ্গে থাকা সিভিল সার্জনকে প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করার নির্দেশ দেন।

পানিবাহিত রোগের ঝুঁকি বিবেচনায় প্রতিটি পরিবারের জন্য মিনারেল ওয়াটারের ব্যবস্থাও করা হয়েছে বলে জানান তিনি।

জেলা প্রশাসক বলেন, “আজ এখানে যারা এসেছেন, তাদের প্রত্যেকের হাতে শুকনা খাবার পৌঁছে দেওয়া হবে। পাশাপাশি নিরাপদ পানি নিশ্চিত করতে মিনারেল ওয়াটারেরও ব্যবস্থা করা হয়েছে।”

তিনি বলেন, “আগে জীবন, তারপর অন্য সবকিছু। জীবন না থাকলে অন্য কিছুর কোনো মূল্য নেই।”
তিনি জানান, আগের রাতে প্রায় ২৫ থেকে ২৬টি পরিবারকে আশ্রয়কেন্দ্রে নিয়ে আসার পরও তারা আবার নিজেদের ঘরে ফিরে গিয়েছিল।

এ বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে তিনি বলেন, পাহাড়ধসের বড় দুর্ঘটনাগুলো সাধারণত গভীর রাতে ঘটে।
“মানুষ তখন ঘুমিয়ে থাকে। বের হওয়ার সুযোগও পায় না। তাই কোনো অবস্থাতেই ঝুঁকি নিয়ে ঘরে ফিরে যাবেন না।” তবে মানুষের সম্পদের বিষয়টিও গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করছে প্রশাসন।

তিনি বলেন, কেউ যদি নিজের ঘরবাড়ি নিয়ে উদ্বিগ্ন থাকেন, তাহলে প্রশাসনের তত্ত্বাবধানে দলগতভাবে গিয়ে দেখে আসার ব্যবস্থাও করা হবে।

মৌসুমি নিম্নচাপের প্রভাবে টানা ভারী বৃষ্টিপাত এবং আবহাওয়া অধিদপ্তরের ৩ নম্বর স্থানীয় সতর্ক সংকেত জারির পর থেকেই চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসন সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।

জেলা প্রশাসনের তথ্য অনুযায়ী, চট্টগ্রাম মহানগরের চিহ্নিত ২৬টি ঝুঁকিপূর্ণ পাহাড়ের পাদদেশে প্রায় ৬ হাজার ৫৫৮টি পরিবার বসবাস করছে। তাদের নিরাপত্তায় আটটি আশ্রয়কেন্দ্র প্রস্তুত রাখা হয়েছে।
২৬টি পাহাড়কে পাঁচটি জোনে ভাগ করে প্রতিটি জোনে একজন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের নেতৃত্বে বিশেষ টিম দায়িত্ব পালন করছে। প্রায় ১৫০ জন স্বেচ্ছাসেবক ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা থেকে মানুষকে নিরাপদ আশ্রয়ে সরিয়ে নিতে মাঠে কাজ করছেন।

জেলা প্রশাসনের নির্দেশনায় গত সোমবার রাত থেকেই আকবর শাহর ১, ২ ও ৩ নম্বর ঝিল, বিজয়নগর, শান্তিবাগ (পানির ট্যাংক এলাকা), বেলতলীঘোনা, টাংকির পাহাড়, আমিন জুট মিল এলাকা, পাহাড়িকা, সমবায় আবাসিক এলাকা, মিয়ার পাহাড়, মুরাদপুর রেলস্টেশন-সংলগ্ন পাহাড়, মতিঝর্ণা, পোড়া কলোনি, ঢেবারপাড়, আমবাগান ও উত্তর হালিশহরসহ বিভিন্ন ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় মাইকিং করে মানুষকে নিরাপদ আশ্রয়ে সরে যাওয়ার আহ্বান জানানো হচ্ছে।

পাহাড়সংলগ্ন স্কুল, কলেজ, মসজিদ ও মাদ্রাসাগুলোকে অস্থায়ী আশ্রয়কেন্দ্র হিসেবে প্রস্তুত রাখা হয়েছে।

বর্তমানে ব্র্যাক প্রাক-প্রাথমিক বিদ্যালয়ে প্রায় ১১০ জন, ওয়াইডব্লিউসিএ কমিউনিটি স্কুলে ৪০ জন, ইলমুল কোরআন মাদ্রাসায় ৫০ জন এবং আল হেরা মাদ্রাসায় ১৫ জন আশ্রয় নিয়েছেন। অনেক পরিবার আবার আত্মীয়স্বজনের বাসায় নিরাপদে অবস্থান করছেন।

০১ নম্বর ঝিল এলাকা সমাজ উন্নয়ন কমিটির সভাপতি মো. আনোয়ার হোসেন বলেন,
“ডিসি স্যারের পরিদর্শনের সময় আমিও উপস্থিত ছিলাম। তিনি যেভাবে আন্তরিকতার সঙ্গে ছিন্নমূল ও সাধারণ মানুষের কথা শুনেছেন, তা সত্যিই প্রশংসার যোগ্য। মনে হয়নি তিনি শুধু একজন জেলা প্রশাসক। মনে হয়েছে, জেলার একজন অভিভাবক মানুষের খোঁজ নিতে এসেছেন। পাহাড়ধসের ঝুঁকি মোকাবিলায় তাঁর প্রতিটি কথায় মানুষের প্রতি দায়িত্ববোধ এবং মমত্ববোধ ফুটে উঠেছে।”

পাহাড়ের পাদদেশে গড়ে ওঠা ছিন্নমূল মানুষের স্থায়ী পুনর্বাসনের বিষয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে জেলা প্রশাসক বলেন, শহরের মধ্যে পর্যাপ্ত সরকারি খাসজমি নেই। শহরের বাইরে আবাসনের ব্যবস্থা করা হলেও কর্মসংস্থান, সন্তানদের পড়াশোনা ও যাতায়াতের কারণে অনেক পরিবার সেখানে যেতে চান না।

তবে তিনি বলেন, কেউ যদি স্বেচ্ছায় পুনর্বাসনে যেতে চান এবং আবেদন করেন, তাহলে সরকারি খাসজমি পাওয়া সাপেক্ষে তাদের পুনর্বাসনের ব্যবস্থা করার সর্বোচ্চ চেষ্টা করা হবে।

চট্টগ্রামে অতীতের পাহাড়ধসের ইতিহাস ভয়াবহ। অসংখ্য প্রাণহানি, বিধ্বস্ত পরিবার আর প্রশাসনিক ব্যর্থতার অভিযোগ বারবার সামনে এসেছে। সেই অভিজ্ঞতা থেকেই এবার চট্টগ্রাম প্রশাসক জাহিদুল ইসলাম ক্ষয়ক্ষতির হিসাব করার জন্য অপেক্ষা করেনি; বরং আগাম সতর্কতা, আশ্রয়কেন্দ্র প্রস্তুত, খাদ্য ও বিশুদ্ধ পানির ব্যবস্থা, স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিতকরণ এবং সর্বোপরি জেলা প্রশাসনের সরাসরি মাঠে উপস্থিতিকে অগ্রাধিকার দিয়েছে।

স্থানীয় বাসিন্দাদের মতে, ঝড়-বৃষ্টি আর কাদা মাড়িয়ে পাহাড়ের পাদদেশে মানুষের পাশে দাঁড়িয়ে মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম যে বার্তা দিয়েছেন, তা কেবল প্রশাসনিক নির্দেশনার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। এটি একটি মানবিক নেতৃত্বের প্রতিচ্ছবি—যেখানে দুর্যোগের সময়ে রাষ্ট্রের উপস্থিতি শুধু কাগজে-কলমে নয়, মানুষের সবচেয়ে কঠিন মুহূর্তে তাদের পাশে দাঁড়ানোর মধ্যেই প্রকাশ পায়। এমন উপস্থিতিই বিপদের সময় মানুষের মধ্যে আস্থা তৈরি করে, আর দুর্যোগ ব্যবস্থাপনাকে কেবল প্রশাসনিক দায়িত্ব নয়, মানবিক দায়িত্বেও পরিণত করে।

রেকর্ড বৃষ্টিপাতে জলাবদ্ধতা নিয়ন্ত্রণে তৎপর চসিক মেয়র, ১০১ সদস্যের র‌্যাপিড রেসপন্স টিম গঠন

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Tuesday, 7 July, 2026, 8:37 pm
রেকর্ড বৃষ্টিপাতে জলাবদ্ধতা নিয়ন্ত্রণে তৎপর চসিক মেয়র, ১০১ সদস্যের র‌্যাপিড রেসপন্স টিম গঠন

চট্টগ্রামে চলতি মৌসুমের ২৪ ঘণ্টায় ৩৮৬.৮ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে, যা গত ৩৩ বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ। রেকর্ড পরিমাণ বৃষ্টিপাতের মধ্যেও জলাবদ্ধতায় জনভোগান্তি কমাতে মাঠে থেকে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করছেন চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের (চসিক) মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন।

মঙ্গলবার তিনি চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল এলাকা, কাতালগঞ্জ, টাইগারপাস, পাঁচলাইশসহ বিভিন্ন জলাবদ্ধতাপ্রবণ ও পাহাড়ঘেঁষা এলাকা সরেজমিন পরিদর্শন করেন এবং সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা ও সংস্থাগুলোকে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেন।

পরিদর্শনকালে মেয়র বলেন, “চট্টগ্রামে মৌসুমের রেকর্ড পরিমাণ বৃষ্টিপাত হয়েছে। এই বৃষ্টির কারণে যাতে নগরবাসী দীর্ঘসময় জলাবদ্ধতার দুর্ভোগে না পড়েন, সে লক্ষ্যে আমরা বিভিন্ন সংস্থার সমন্বয়ে প্রয়োজনীয় কার্যক্রম বাস্তবায়ন করছি। আমি নিজে মাঠে থেকে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছি।”

তিনি বলেন, বর্তমানে নগরীর জলাবদ্ধতা নিরসন প্রকল্পের প্রায় ৭০ শতাংশ কাজ সম্পন্ন হয়েছে এবং এর সুফল ইতোমধ্যে নগরবাসী পাচ্ছেন। তবে অবশিষ্ট প্রায় ৩০ শতাংশ কাজ, বিশেষ করে হিজড়া খাল, জামালখান খাল ও গুলজার খালের কাজ শেষ না হওয়ায় কয়েকটি এলাকায় এখনও জলাবদ্ধতার সমস্যা রয়ে গেছে।

মেয়র জানান, কাতালগঞ্জ ও পাঁচলাইশ আবাসিক এলাকার পানি মূলত হিজড়া খাল দিয়ে নিষ্কাশিত হয়। কিন্তু এলাকাটি ভৌগোলিকভাবে নিচু হওয়ায় ভারী বর্ষণে সাময়িকভাবে পানি জমে যায়। তবে বৃষ্টি বন্ধ হওয়ার পর সাধারণত এক থেকে দেড় ঘণ্টার মধ্যেই পানি নেমে যায়।

তিনি বলেন, হিজড়া খালের কাজ সেনাবাহিনীর ৩৪ ইঞ্জিনিয়ারিং ব্রিগেড বাস্তবায়ন করছে। বর্ষা শুরুর আগে কাজের একটি অংশ স্থগিত রাখতে হয়েছে। বর্ষা শেষে কাজ শেষ হলে এই এলাকার জলাবদ্ধতার সমস্যাও অনেকাংশে দূর হবে।

ডা. শাহাদাত হোসেন বলেন, নগরীর বহদ্দারহাট, মুরাদপুর, মির্জাপুর, বৃহত্তর বাকলিয়া, চকবাজার, কোতোয়ালী, দেওয়ানহাট, লালখান বাজার, আকবরশাহ, হালিশহর ও বন্দর এলাকায় এবার উল্লেখযোগ্য জলাবদ্ধতা দেখা যায়নি, যা চলমান উন্নয়নকাজের ইতিবাচক ফলাফল।

তিনি আরও বলেন, আগ্রাবাদ কমার্স কলেজের সামনে গুলজার খালের কিছু কাজ এখনও চলমান রয়েছে। সেটিও শেষ হলে আগ্রাবাদ বাণিজ্যিক এলাকাতেও জলাবদ্ধতা অনেকাংশে কমে আসবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

মেয়র বলেন, “আমরা বলেছিলাম ৭০ শতাংশ জলাবদ্ধতা কমবে। আজকের পরিস্থিতি সেই বাস্তবতারই প্রমাণ। অবশিষ্ট ৩০ শতাংশ সমস্যার সমাধানও চলমান প্রকল্পগুলো শেষ হলে সম্ভব হবে। এছাড়া ৪০টি খালের উন্নয়নে নতুন ডিপিপি বাস্তবায়িত হলে ভবিষ্যতে চট্টগ্রামের জলাবদ্ধতা প্রায় শূন্যের কোঠায় নেমে আসবে বলে আমরা আশা করছি।”

পরিদর্শনকালে ভারী বর্ষণে লালখান বাজার এলাকায় কয়েকটি বড় গাছ উপড়ে পড়া এবং এয়ারপোর্ট রোডের একটি অংশ ধসে যাওয়ার বিষয়েও দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দেন মেয়র।

পাঁচলাইশ-কাতালগঞ্জ এলাকায় যত্রতত্র বর্জ্য ফেলার কারণে জলাবদ্ধতা আরও প্রকট হচ্ছে উল্লেখ করে মেয়র বলেন, কিছু ক্লাব, কমিউনিটি সেন্টার ও ইভেন্ট ম্যানেজমেন্ট প্রতিষ্ঠান অনুষ্ঠান শেষে ব্যবহৃত ককশিট, প্লাস্টিক ও অন্যান্য অপচনশীল বর্জ্য নালা-নর্দমায় ফেলে দিচ্ছে। এসব বর্জ্য পানিতে না মিশে ড্রেনেজ ব্যবস্থাকে বাধাগ্রস্ত করছে।

তিনি বলেন, নালা পরিষ্কারের সময় টুকরিভর্তি পলিথিন, প্লাস্টিক ও ককশিট পাওয়া গেছে। এগুলো পানি চলাচলে বড় ধরনের প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করছে। যারা এভাবে বর্জ্য ফেলছে, তাদের বিরুদ্ধে ম্যাজিস্ট্রেটের মাধ্যমে অভিযান পরিচালনা করা হবে এবং আইন অনুযায়ী জরিমানা ও শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

মেয়র নগরবাসীকেও সচেতন হওয়ার আহ্বান জানিয়ে বলেন, জলাবদ্ধতা নিরসনে শুধু অবকাঠামোগত উন্নয়নই নয়, নাগরিকদের দায়িত্বশীল আচরণও সমান গুরুত্বপূর্ণ।

উল্লেখ্য, বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তরের পতেঙ্গা কেন্দ্রের তথ্যমতে, মঙ্গলবার দুপুর ১২টা পর্যন্ত আগের ২৪ ঘণ্টায় ৩৮৬.৮ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে, যা চলতি মৌসুমের সর্বোচ্চ। একই সময়ে আমবাগান আবহাওয়া অফিসে ৩০০ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়।

১০১ সদস্যের র‌্যাপিড রেসপন্স টিম গঠন

পরিদর্শন শেষে টাইগারপাসস্থ চসিক কার্যালয়ে বাংলাদেশ রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটির স্বেচ্ছাসেবকদের সঙ্গে মতবিনিময় সভা করেন মেয়র।

সভায় দুর্যোগকালীন জরুরি সেবা নিশ্চিত করতে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন-রেড ক্রিসেন্টের ১০১ সদস্যবিশিষ্ট র‌্যাপিড রেসপন্স টিম গঠনের ঘোষণা দেন তিনি।

এ কমিটিতে চসিকের ভারপ্রাপ্ত প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ও সচিব মো. আশরাফুল আমিনকে আহ্বায়ক এবং চট্টগ্রাম সিটি রেড ক্রিসেন্টের সেক্রেটারি গোলাম বাকি মাসুদকে সদস্যসচিব করা হয়েছে।

মেয়র বলেন, “আমরা রেড ক্রিসেন্টের ভলান্টিয়ারদের সহযোগিতায় একটি সার্বক্ষণিক মনিটরিং সেল গঠন করেছি। যেকোনো দুর্যোগ বা জরুরি পরিস্থিতিতে এই র‌্যাপিড রেসপন্স টিম তাৎক্ষণিকভাবে মাঠে কাজ করবে।”

এ সময় রেড ক্রিসেন্টের পক্ষ থেকে নগরবাসীকে যেকোনো জরুরি সহযোগিতার জন্য ০১৮০৫-৭৮৩৩৮৯ নম্বরে যোগাযোগ করার আহ্বান জানানো হয়।

টানা বর্ষণের ফলে পাহাড়ধসের আশঙ্কা বৃদ্ধি পাওয়ায় বিভিন্ন পাহাড়ঘেঁষা ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা পরিদর্শন করেন মেয়র। এ সময় তিনি বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বলেন এবং সম্ভাব্য দুর্ঘটনা এড়াতে দ্রুত আশ্রয়কেন্দ্রে বা নিরাপদ স্থানে সরে যাওয়ার অনুরোধ জানান। একই সঙ্গে তিনি সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ঝুঁকিপূর্ণ এলাকাগুলোতে নজরদারি জোরদার এবং প্রয়োজনে স্থানীয় প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বয় করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দেন।