খুঁজুন
, ,

ঝড়-বৃষ্টি, কাদা আর মানুষের পাশে এক জেলা প্রশাসক

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Tuesday, 7 July, 2026, 9:03 pm
ঝড়-বৃষ্টি, কাদা আর মানুষের পাশে এক জেলা প্রশাসক

সকাল থেকেই আকাশ কালো। একটানা বৃষ্টি। পাহাড়ের গা বেয়ে নেমে আসছে কাদা আর ঢলের পানি। আবহাওয়া অধিদপ্তরের পূর্বাভাস বলছে, বৃষ্টি আরও কয়েক দিন চলতে পারে। পাহাড়ধসের আশঙ্কায় উৎকণ্ঠায় দিন কাটছে চট্টগ্রামের হাজারো পরিবারের।

এমন পরিস্থিতিতে জেলা প্রশাসকের জন্য সবচেয়ে সহজ কাজ হতে পারত কার্যালয়ে বসে জরুরি বৈঠক করা কিংবা নির্দেশনা দেওয়া। কিন্তু সারাদেশে মানবিক ডিসি হিসেবে পরিচিত চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা বেছে নিলেন ভিন্ন পথ। তিনি নিজেই নেমে গেলেন পাহাড়ের পাদদেশে, মানুষের মাঝে।

মঙ্গলবার দুপুরে আকবর শাহ সংলগ্ন ৯ নম্বর উত্তর পাহাড়তলী ওয়ার্ডের ঝুঁকিপূর্ণ পাহাড়ি এলাকাগুলো ঘুরে দেখেন তিনি। কাদা, বৃষ্টি ও প্রতিকূল আবহাওয়া উপেক্ষা করে সরেজমিন পরিদর্শন করেন ১ নম্বর ঝিল, ২ নম্বর ঝিল, ৩ নম্বর ঝিল, বিজয়নগর এবং শান্তিবাগ (পানির ট্যাংক এলাকা)। পাহাড়ের নিচে বসবাসকারী পরিবারগুলোর সঙ্গে কথা বলেন। জানতে চান তাদের ভয়, প্রয়োজন ও প্রস্তুতির কথা। মাঠে থাকা নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট, স্বেচ্ছাসেবক ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের প্রয়োজনীয় নির্দেশনাও দেন।

পাহাড়ি এলাকা পরিদর্শনের পর জেলা প্রশাসক পৌঁছান ১ নম্বর ঝিলসংলগ্ন ব্র্যাক প্রাক-প্রাথমিক বিদ্যালয়ে স্থাপিত অস্থায়ী আশ্রয়কেন্দ্রে।
সেখানে আশ্রয় নেওয়া নারী, শিশু ও বয়স্ক মানুষদের সঙ্গে মেঝেতে দাড়িয়েই কথা বলেন তিনি। হাতে মেগাফোন নিয়ে সবাইকে আশ্বস্ত করেন—সরকার তাদের পাশে রয়েছে। কোনো অবস্থাতেই যেন তারা ঝুঁকিপূর্ণ পাহাড়ের পাদদেশে ফিরে না যান।

আশ্রয়কেন্দ্রে উপস্থিত মানুষের উদ্দেশে জেলা প্রশাসক বলেন, “আমরা সবাই এসেছি, যাতে আপনাদের মধ্যে কোনো ধরনের ভয় বা সংকোচ কাজ না করে। সরকার একটি মানবিক রাষ্ট্র গড়ে তুলতে চায়। সরকার আপনাদের পাশে আছে। আমরা আপনাদের জন্য এখানে এসেছি। আপনারা নিরাপদে থাকবেন। কারও কোনো বিশেষ প্রয়োজন হলে আমাদের জানাবেন। আমরা সেটি দেখব।”

তিনি আরও বলেন, প্রতিটি ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট, এসিল্যান্ড এবং স্বেচ্ছাসেবকদের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। “তারা যখন আপনাদের কোনো কিছু বলবেন বা অনুরোধ করবেন, দয়া করে তা শুনবেন। কারণ, প্রশাসনের কথা না শুনলে আপনারাই নিজেদের জীবনকে ঝুঁকির মধ্যে ফেলবেন।”

শুধু বক্তব্য দিয়েই দায়িত্ব শেষ করেননি জেলা প্রশাসক। তিনি আশ্রয় নেওয়া পরিবারগুলোর হাতে নিজেই শুকনা খাবারের প্যাকেট তুলে দেন। শিশু, অসুস্থ ব্যক্তি ও প্রবীণদের খোঁজ নেন। সঙ্গে থাকা সিভিল সার্জনকে প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করার নির্দেশ দেন।

পানিবাহিত রোগের ঝুঁকি বিবেচনায় প্রতিটি পরিবারের জন্য মিনারেল ওয়াটারের ব্যবস্থাও করা হয়েছে বলে জানান তিনি।

জেলা প্রশাসক বলেন, “আজ এখানে যারা এসেছেন, তাদের প্রত্যেকের হাতে শুকনা খাবার পৌঁছে দেওয়া হবে। পাশাপাশি নিরাপদ পানি নিশ্চিত করতে মিনারেল ওয়াটারেরও ব্যবস্থা করা হয়েছে।”

তিনি বলেন, “আগে জীবন, তারপর অন্য সবকিছু। জীবন না থাকলে অন্য কিছুর কোনো মূল্য নেই।”
তিনি জানান, আগের রাতে প্রায় ২৫ থেকে ২৬টি পরিবারকে আশ্রয়কেন্দ্রে নিয়ে আসার পরও তারা আবার নিজেদের ঘরে ফিরে গিয়েছিল।

এ বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে তিনি বলেন, পাহাড়ধসের বড় দুর্ঘটনাগুলো সাধারণত গভীর রাতে ঘটে।
“মানুষ তখন ঘুমিয়ে থাকে। বের হওয়ার সুযোগও পায় না। তাই কোনো অবস্থাতেই ঝুঁকি নিয়ে ঘরে ফিরে যাবেন না।” তবে মানুষের সম্পদের বিষয়টিও গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করছে প্রশাসন।

তিনি বলেন, কেউ যদি নিজের ঘরবাড়ি নিয়ে উদ্বিগ্ন থাকেন, তাহলে প্রশাসনের তত্ত্বাবধানে দলগতভাবে গিয়ে দেখে আসার ব্যবস্থাও করা হবে।

মৌসুমি নিম্নচাপের প্রভাবে টানা ভারী বৃষ্টিপাত এবং আবহাওয়া অধিদপ্তরের ৩ নম্বর স্থানীয় সতর্ক সংকেত জারির পর থেকেই চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসন সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।

জেলা প্রশাসনের তথ্য অনুযায়ী, চট্টগ্রাম মহানগরের চিহ্নিত ২৬টি ঝুঁকিপূর্ণ পাহাড়ের পাদদেশে প্রায় ৬ হাজার ৫৫৮টি পরিবার বসবাস করছে। তাদের নিরাপত্তায় আটটি আশ্রয়কেন্দ্র প্রস্তুত রাখা হয়েছে।
২৬টি পাহাড়কে পাঁচটি জোনে ভাগ করে প্রতিটি জোনে একজন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের নেতৃত্বে বিশেষ টিম দায়িত্ব পালন করছে। প্রায় ১৫০ জন স্বেচ্ছাসেবক ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা থেকে মানুষকে নিরাপদ আশ্রয়ে সরিয়ে নিতে মাঠে কাজ করছেন।

জেলা প্রশাসনের নির্দেশনায় গত সোমবার রাত থেকেই আকবর শাহর ১, ২ ও ৩ নম্বর ঝিল, বিজয়নগর, শান্তিবাগ (পানির ট্যাংক এলাকা), বেলতলীঘোনা, টাংকির পাহাড়, আমিন জুট মিল এলাকা, পাহাড়িকা, সমবায় আবাসিক এলাকা, মিয়ার পাহাড়, মুরাদপুর রেলস্টেশন-সংলগ্ন পাহাড়, মতিঝর্ণা, পোড়া কলোনি, ঢেবারপাড়, আমবাগান ও উত্তর হালিশহরসহ বিভিন্ন ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় মাইকিং করে মানুষকে নিরাপদ আশ্রয়ে সরে যাওয়ার আহ্বান জানানো হচ্ছে।

পাহাড়সংলগ্ন স্কুল, কলেজ, মসজিদ ও মাদ্রাসাগুলোকে অস্থায়ী আশ্রয়কেন্দ্র হিসেবে প্রস্তুত রাখা হয়েছে।

বর্তমানে ব্র্যাক প্রাক-প্রাথমিক বিদ্যালয়ে প্রায় ১১০ জন, ওয়াইডব্লিউসিএ কমিউনিটি স্কুলে ৪০ জন, ইলমুল কোরআন মাদ্রাসায় ৫০ জন এবং আল হেরা মাদ্রাসায় ১৫ জন আশ্রয় নিয়েছেন। অনেক পরিবার আবার আত্মীয়স্বজনের বাসায় নিরাপদে অবস্থান করছেন।

০১ নম্বর ঝিল এলাকা সমাজ উন্নয়ন কমিটির সভাপতি মো. আনোয়ার হোসেন বলেন,
“ডিসি স্যারের পরিদর্শনের সময় আমিও উপস্থিত ছিলাম। তিনি যেভাবে আন্তরিকতার সঙ্গে ছিন্নমূল ও সাধারণ মানুষের কথা শুনেছেন, তা সত্যিই প্রশংসার যোগ্য। মনে হয়নি তিনি শুধু একজন জেলা প্রশাসক। মনে হয়েছে, জেলার একজন অভিভাবক মানুষের খোঁজ নিতে এসেছেন। পাহাড়ধসের ঝুঁকি মোকাবিলায় তাঁর প্রতিটি কথায় মানুষের প্রতি দায়িত্ববোধ এবং মমত্ববোধ ফুটে উঠেছে।”

পাহাড়ের পাদদেশে গড়ে ওঠা ছিন্নমূল মানুষের স্থায়ী পুনর্বাসনের বিষয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে জেলা প্রশাসক বলেন, শহরের মধ্যে পর্যাপ্ত সরকারি খাসজমি নেই। শহরের বাইরে আবাসনের ব্যবস্থা করা হলেও কর্মসংস্থান, সন্তানদের পড়াশোনা ও যাতায়াতের কারণে অনেক পরিবার সেখানে যেতে চান না।

তবে তিনি বলেন, কেউ যদি স্বেচ্ছায় পুনর্বাসনে যেতে চান এবং আবেদন করেন, তাহলে সরকারি খাসজমি পাওয়া সাপেক্ষে তাদের পুনর্বাসনের ব্যবস্থা করার সর্বোচ্চ চেষ্টা করা হবে।

চট্টগ্রামে অতীতের পাহাড়ধসের ইতিহাস ভয়াবহ। অসংখ্য প্রাণহানি, বিধ্বস্ত পরিবার আর প্রশাসনিক ব্যর্থতার অভিযোগ বারবার সামনে এসেছে। সেই অভিজ্ঞতা থেকেই এবার চট্টগ্রাম প্রশাসক জাহিদুল ইসলাম ক্ষয়ক্ষতির হিসাব করার জন্য অপেক্ষা করেনি; বরং আগাম সতর্কতা, আশ্রয়কেন্দ্র প্রস্তুত, খাদ্য ও বিশুদ্ধ পানির ব্যবস্থা, স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিতকরণ এবং সর্বোপরি জেলা প্রশাসনের সরাসরি মাঠে উপস্থিতিকে অগ্রাধিকার দিয়েছে।

স্থানীয় বাসিন্দাদের মতে, ঝড়-বৃষ্টি আর কাদা মাড়িয়ে পাহাড়ের পাদদেশে মানুষের পাশে দাঁড়িয়ে মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম যে বার্তা দিয়েছেন, তা কেবল প্রশাসনিক নির্দেশনার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। এটি একটি মানবিক নেতৃত্বের প্রতিচ্ছবি—যেখানে দুর্যোগের সময়ে রাষ্ট্রের উপস্থিতি শুধু কাগজে-কলমে নয়, মানুষের সবচেয়ে কঠিন মুহূর্তে তাদের পাশে দাঁড়ানোর মধ্যেই প্রকাশ পায়। এমন উপস্থিতিই বিপদের সময় মানুষের মধ্যে আস্থা তৈরি করে, আর দুর্যোগ ব্যবস্থাপনাকে কেবল প্রশাসনিক দায়িত্ব নয়, মানবিক দায়িত্বেও পরিণত করে।

Feb2
Feb2

ঠাকুরগাঁও-১ সংসদীয় আসন শূন্য ঘোষণা, হবে উপনির্বাচন

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Saturday, 22 August, 2026, 4:11 pm
ঠাকুরগাঁও-১ সংসদীয় আসন শূন্য ঘোষণা, হবে উপনির্বাচন

রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব নেওয়ায় মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের ঠাকুরগাঁও-১ আসনটি শূন্য ঘোষণা করা হয়েছে। শনিবার (২২ আগস্ট) সংসদ সচিবালয় এ সংক্রান্ত চিঠি নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ে পাঠিয়েছে।

চিঠিতে বলা হয়, বাংলাদেশ জাতীয় সংসদের নির্বাচনী এলাকা ৩, ঠাকুরগাঁও-১ আসন থেকে নির্বাচিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের সংসদ সদস্য মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর গত (২১ আগস্ট, শুক্রবার) রাষ্ট্রপতির কার্যভার গ্রহণ করায় ওই আসনটি সংবিধানের ৫০(৪) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী তার কার্যভার গ্রহণের তারিখ থেকে শূন্য হলো। বিজ্ঞপ্তিটি অবিলম্বে বাংলাদেশ গেজেটের অতিরিক্ত সংখ্যায় প্রকাশের জন্য সরকারি মুদ্রণালয়ে পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এছাড়া শূন্য হওয়া আসনটিতে উপ-নির্বাচন আয়োজনের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য প্রজ্ঞাপনের অনুলিপি নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ের সিনিয়র সচিব বরাবর পাঠানো হয়েছে।

একইসঙ্গে মন্ত্রিপরিষদ সচিব, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়, স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকারের কার্যালয়, বিরোধীদলীয় নেতার কার্যালয়সহ সংশ্লিষ্ট সব দফতরে অবগতি ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য অনুলিপি পাঠানো হয়েছে।

এ বিষয়ে নির্বাচন কমিশনার আব্দুর রহমানেল মাছউদ বলেন, যেহেতু আসনটি শূণ্য ঘোষণা করা হয়েছে, এখন আমরা আইন-বিধি দেখে পরবর্তী ব্যবস্থা নেব।

৯০ দিনের মধ্যে উপ-নির্বাচন হবে উল্লেখ করে নির্বাচন কমিশনার বলেন, স্থানীয় সরকার নির্বাচন আসন্ন থাকায় ঠাকুরগাঁও-১ আসনের উপনির্বাচনের জন্য বেশি সময় নেব না, দ্রুতই নির্বাচন আয়োজন করা হবে।

জাতীয় স্মৃতিসৌধে শ্রদ্ধা জানালেন নবনিযুক্ত মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রীরা

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Saturday, 22 August, 2026, 3:52 pm
জাতীয় স্মৃতিসৌধে শ্রদ্ধা জানালেন নবনিযুক্ত মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রীরা

সাভারের জাতীয় স্মৃতিসৌধে মহান মুক্তিযুদ্ধের বীর শহীদদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানিয়েছেন মন্ত্রী পরিষদের দায়িত্ব পাওয়া নতুন চার মন্ত্রী ও দুই প্রতিমন্ত্রী।

শনিবার (২২ আগস্ট) বেলা ১টা ১৫ মিনিটের দিকে সাভারের জাতীয় স্মৃতিসৌধে প্রবেশ করেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী ড. আবদুল মঈন খান, বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী ​এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত, পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রী সাচিং প্রু জেরী। তবে তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী ব্যারিস্টার আন্দালিব রহমান পার্থ প্রবেশ করেন দুপুর ১টা ৫২ মিনিটে।

এদিন নতুন দুই প্রতিমন্ত্রী—হুমায়ুন কবির (পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়) ও মোহাম্মদ শামীম কায়সার লিংকন (ধর্ম মন্ত্রণালয়) শ্রদ্ধা জানাতে যান। তারা বীর শহীদদের প্রতি ফুলেল শ্রদ্ধা জানান।

এ সময় পুষ্পস্তবক অর্পণের পর কিছুক্ষণ নীরবে দাঁড়িয়ে মহান মুক্তিযুদ্ধের বীর শহীদদের স্মৃতির প্রতি গভীর শ্রদ্ধা প্রকাশ করেন তারা। শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে তারা জাতীয় স্মৃতিসৌধের পরিদর্শন বইয়ে স্বাক্ষর করেন।

সাভারের জাতীয় স্মৃতিসৌধের গণপূর্ত বিভাগের উপকৌশলী আনোয়ার হোসেন আনু বলেন, চার মন্ত্রী ও দুই প্রতিমন্ত্রী সাভারের জাতীয় স্মৃতিসৌধে এসে বীর শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়েছেন। মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রীরা স্মৃতিসৌধ প্রাঙ্গণ ত্যাগ করলে সাধারণ জনগণদের জন্য স্মৃতিসৌধ প্রাঙ্গণ উন্মুক্ত করা হবে বলে জানান তিনি।

শরিফুলের ৬ উইকেটে আশা বাঁচিয়ে দিন শেষ করল বাংলাদেশ

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Saturday, 22 August, 2026, 3:23 pm
শরিফুলের ৬ উইকেটে আশা বাঁচিয়ে দিন শেষ করল বাংলাদেশ

ডারউইন টেস্টে হাসান মাহমুদের পর এবার ম্যাকাই টেস্টে জ্বলে উঠলেন চোট থেকে ফেরা পেসার শরিফুল ইসলাম। অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে খেলতে নেমেই ক্যারিয়ারসেরা বোলিং ফিগার পেয়ে গেলেন বাঁ-হাতি এই পেসার। গড়লেন বাংলাদেশের হয়ে দ্বিতীয় দ্রুততম ফাইফারের রেকর্ড।

এই ম্যাচে নামার আগে টেস্টে শরিফুলের সেরা বোলিং ফিগার ছিল ২৮/৩। এছাড়া এক টেস্টের দুই ইনিংসে মিলিয়ে ৫৬/৫ ছিল তার সেরা বোলিং। অজিদের বিপক্ষে আজ দুটিই ছাড়িয়ে গেলেন শরিফুল। ৮.৫ ওভারে ফাইফার পূর্ণ করা এই পেসার ইতোমধ্যে ৬ উইকেট (এখন পর্যন্ত ফিগারটা- ৩৪/৬) শিকার করেছেন।

অবশ্য বাংলাদেশি বোলারদের মধ্যে দ্রুততম ৫ উইকেট শিকারের রেকর্ডটা এখনও বাঁ-হাতি স্পিনার তাইজুল ইসলামের দখলে আছে। ২০১৮ সালে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে চট্টগ্রাম টেস্টে তিনি মাত্র ৬.৫ ওভারেই ফাইফার নিয়েছিলেন। একই কীর্তি গড়তে আরও দুই ওভার বাড়তি লেগেছে শরিফুলের।

স্বভাবতই টেস্ট ক্রিকেটে বাংলাদেশের এই গতিতারকা প্রথমবার ৫ উইকেটের দেখা পেলেন। একইসঙ্গে অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে দ্বিতীয় পেসার হিসেবে ৫ উইকেট পেলেন তিনি। আগের টেস্টেই প্রথম ৫ উইকেট ছিল হাসান মাহমুদের। তিনিও শিকার বাগিয়েছিলেন ৬টি উইকেট। ম্যাকাই টেস্টে অস্ট্রেলিয়ার প্রথম ৮ উইকেটের ৬টিই গেছে শরিফুলের পকেটে।

এর আগে ব্যাটিংয়ে দারুণ বিপর্যয়ে পড়ে মাত্র ৬৪ রানে অলআউট হয়েছে বাংলাদেশ। অজি গতিতারকা মিচেল স্টার্ক নেন ৬ উইকেট। নিজেদের প্রথম ইনিংসে নামা স্বাগতিকদের ২৬ রানে প্রথম ধাক্কাটা দেন তাসকিন আহমেদ। দলীয় ৪৩ রানে ট্রাভিস হেডকে ইনসাইড এজে বোল্ড করে সেই দলে যোগ দেন শরিফুল। একই ওভারে বোল্ড করেন মার্নাস লাবুশেনকে। এরপর শরিফুল একে একে ফিরিয়েছেন স্টিভ স্মিথ, ব্যু ওয়েবস্টার, প্যাট কামিন্স ও স্টার্ককে।

এর মধ্যদিয়ে শেষ হয়েছে ম্যাকাই টেস্টের প্রথম দিন শেষ করেছে বাংলাদেশ। দিনের শুরুতে মাত্র ৬৪ রানে অলআউট হয় টাইগাররা। তবে দিনের শেষদিকে শরিফুলের ৬ উইকেট শিকারের মাধ্যমে ম্যাচে টিকে রইল বাংলাদেশ।