খুঁজুন
, ,

ঝড়-বৃষ্টি, কাদা আর মানুষের পাশে এক জেলা প্রশাসক

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Tuesday, 7 July, 2026, 9:03 pm
ঝড়-বৃষ্টি, কাদা আর মানুষের পাশে এক জেলা প্রশাসক

সকাল থেকেই আকাশ কালো। একটানা বৃষ্টি। পাহাড়ের গা বেয়ে নেমে আসছে কাদা আর ঢলের পানি। আবহাওয়া অধিদপ্তরের পূর্বাভাস বলছে, বৃষ্টি আরও কয়েক দিন চলতে পারে। পাহাড়ধসের আশঙ্কায় উৎকণ্ঠায় দিন কাটছে চট্টগ্রামের হাজারো পরিবারের।

এমন পরিস্থিতিতে জেলা প্রশাসকের জন্য সবচেয়ে সহজ কাজ হতে পারত কার্যালয়ে বসে জরুরি বৈঠক করা কিংবা নির্দেশনা দেওয়া। কিন্তু সারাদেশে মানবিক ডিসি হিসেবে পরিচিত চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা বেছে নিলেন ভিন্ন পথ। তিনি নিজেই নেমে গেলেন পাহাড়ের পাদদেশে, মানুষের মাঝে।

মঙ্গলবার দুপুরে আকবর শাহ সংলগ্ন ৯ নম্বর উত্তর পাহাড়তলী ওয়ার্ডের ঝুঁকিপূর্ণ পাহাড়ি এলাকাগুলো ঘুরে দেখেন তিনি। কাদা, বৃষ্টি ও প্রতিকূল আবহাওয়া উপেক্ষা করে সরেজমিন পরিদর্শন করেন ১ নম্বর ঝিল, ২ নম্বর ঝিল, ৩ নম্বর ঝিল, বিজয়নগর এবং শান্তিবাগ (পানির ট্যাংক এলাকা)। পাহাড়ের নিচে বসবাসকারী পরিবারগুলোর সঙ্গে কথা বলেন। জানতে চান তাদের ভয়, প্রয়োজন ও প্রস্তুতির কথা। মাঠে থাকা নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট, স্বেচ্ছাসেবক ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের প্রয়োজনীয় নির্দেশনাও দেন।

পাহাড়ি এলাকা পরিদর্শনের পর জেলা প্রশাসক পৌঁছান ১ নম্বর ঝিলসংলগ্ন ব্র্যাক প্রাক-প্রাথমিক বিদ্যালয়ে স্থাপিত অস্থায়ী আশ্রয়কেন্দ্রে।
সেখানে আশ্রয় নেওয়া নারী, শিশু ও বয়স্ক মানুষদের সঙ্গে মেঝেতে দাড়িয়েই কথা বলেন তিনি। হাতে মেগাফোন নিয়ে সবাইকে আশ্বস্ত করেন—সরকার তাদের পাশে রয়েছে। কোনো অবস্থাতেই যেন তারা ঝুঁকিপূর্ণ পাহাড়ের পাদদেশে ফিরে না যান।

আশ্রয়কেন্দ্রে উপস্থিত মানুষের উদ্দেশে জেলা প্রশাসক বলেন, “আমরা সবাই এসেছি, যাতে আপনাদের মধ্যে কোনো ধরনের ভয় বা সংকোচ কাজ না করে। সরকার একটি মানবিক রাষ্ট্র গড়ে তুলতে চায়। সরকার আপনাদের পাশে আছে। আমরা আপনাদের জন্য এখানে এসেছি। আপনারা নিরাপদে থাকবেন। কারও কোনো বিশেষ প্রয়োজন হলে আমাদের জানাবেন। আমরা সেটি দেখব।”

তিনি আরও বলেন, প্রতিটি ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট, এসিল্যান্ড এবং স্বেচ্ছাসেবকদের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। “তারা যখন আপনাদের কোনো কিছু বলবেন বা অনুরোধ করবেন, দয়া করে তা শুনবেন। কারণ, প্রশাসনের কথা না শুনলে আপনারাই নিজেদের জীবনকে ঝুঁকির মধ্যে ফেলবেন।”

শুধু বক্তব্য দিয়েই দায়িত্ব শেষ করেননি জেলা প্রশাসক। তিনি আশ্রয় নেওয়া পরিবারগুলোর হাতে নিজেই শুকনা খাবারের প্যাকেট তুলে দেন। শিশু, অসুস্থ ব্যক্তি ও প্রবীণদের খোঁজ নেন। সঙ্গে থাকা সিভিল সার্জনকে প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করার নির্দেশ দেন।

পানিবাহিত রোগের ঝুঁকি বিবেচনায় প্রতিটি পরিবারের জন্য মিনারেল ওয়াটারের ব্যবস্থাও করা হয়েছে বলে জানান তিনি।

জেলা প্রশাসক বলেন, “আজ এখানে যারা এসেছেন, তাদের প্রত্যেকের হাতে শুকনা খাবার পৌঁছে দেওয়া হবে। পাশাপাশি নিরাপদ পানি নিশ্চিত করতে মিনারেল ওয়াটারেরও ব্যবস্থা করা হয়েছে।”

তিনি বলেন, “আগে জীবন, তারপর অন্য সবকিছু। জীবন না থাকলে অন্য কিছুর কোনো মূল্য নেই।”
তিনি জানান, আগের রাতে প্রায় ২৫ থেকে ২৬টি পরিবারকে আশ্রয়কেন্দ্রে নিয়ে আসার পরও তারা আবার নিজেদের ঘরে ফিরে গিয়েছিল।

এ বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে তিনি বলেন, পাহাড়ধসের বড় দুর্ঘটনাগুলো সাধারণত গভীর রাতে ঘটে।
“মানুষ তখন ঘুমিয়ে থাকে। বের হওয়ার সুযোগও পায় না। তাই কোনো অবস্থাতেই ঝুঁকি নিয়ে ঘরে ফিরে যাবেন না।” তবে মানুষের সম্পদের বিষয়টিও গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করছে প্রশাসন।

তিনি বলেন, কেউ যদি নিজের ঘরবাড়ি নিয়ে উদ্বিগ্ন থাকেন, তাহলে প্রশাসনের তত্ত্বাবধানে দলগতভাবে গিয়ে দেখে আসার ব্যবস্থাও করা হবে।

মৌসুমি নিম্নচাপের প্রভাবে টানা ভারী বৃষ্টিপাত এবং আবহাওয়া অধিদপ্তরের ৩ নম্বর স্থানীয় সতর্ক সংকেত জারির পর থেকেই চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসন সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।

জেলা প্রশাসনের তথ্য অনুযায়ী, চট্টগ্রাম মহানগরের চিহ্নিত ২৬টি ঝুঁকিপূর্ণ পাহাড়ের পাদদেশে প্রায় ৬ হাজার ৫৫৮টি পরিবার বসবাস করছে। তাদের নিরাপত্তায় আটটি আশ্রয়কেন্দ্র প্রস্তুত রাখা হয়েছে।
২৬টি পাহাড়কে পাঁচটি জোনে ভাগ করে প্রতিটি জোনে একজন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের নেতৃত্বে বিশেষ টিম দায়িত্ব পালন করছে। প্রায় ১৫০ জন স্বেচ্ছাসেবক ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা থেকে মানুষকে নিরাপদ আশ্রয়ে সরিয়ে নিতে মাঠে কাজ করছেন।

জেলা প্রশাসনের নির্দেশনায় গত সোমবার রাত থেকেই আকবর শাহর ১, ২ ও ৩ নম্বর ঝিল, বিজয়নগর, শান্তিবাগ (পানির ট্যাংক এলাকা), বেলতলীঘোনা, টাংকির পাহাড়, আমিন জুট মিল এলাকা, পাহাড়িকা, সমবায় আবাসিক এলাকা, মিয়ার পাহাড়, মুরাদপুর রেলস্টেশন-সংলগ্ন পাহাড়, মতিঝর্ণা, পোড়া কলোনি, ঢেবারপাড়, আমবাগান ও উত্তর হালিশহরসহ বিভিন্ন ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় মাইকিং করে মানুষকে নিরাপদ আশ্রয়ে সরে যাওয়ার আহ্বান জানানো হচ্ছে।

পাহাড়সংলগ্ন স্কুল, কলেজ, মসজিদ ও মাদ্রাসাগুলোকে অস্থায়ী আশ্রয়কেন্দ্র হিসেবে প্রস্তুত রাখা হয়েছে।

বর্তমানে ব্র্যাক প্রাক-প্রাথমিক বিদ্যালয়ে প্রায় ১১০ জন, ওয়াইডব্লিউসিএ কমিউনিটি স্কুলে ৪০ জন, ইলমুল কোরআন মাদ্রাসায় ৫০ জন এবং আল হেরা মাদ্রাসায় ১৫ জন আশ্রয় নিয়েছেন। অনেক পরিবার আবার আত্মীয়স্বজনের বাসায় নিরাপদে অবস্থান করছেন।

০১ নম্বর ঝিল এলাকা সমাজ উন্নয়ন কমিটির সভাপতি মো. আনোয়ার হোসেন বলেন,
“ডিসি স্যারের পরিদর্শনের সময় আমিও উপস্থিত ছিলাম। তিনি যেভাবে আন্তরিকতার সঙ্গে ছিন্নমূল ও সাধারণ মানুষের কথা শুনেছেন, তা সত্যিই প্রশংসার যোগ্য। মনে হয়নি তিনি শুধু একজন জেলা প্রশাসক। মনে হয়েছে, জেলার একজন অভিভাবক মানুষের খোঁজ নিতে এসেছেন। পাহাড়ধসের ঝুঁকি মোকাবিলায় তাঁর প্রতিটি কথায় মানুষের প্রতি দায়িত্ববোধ এবং মমত্ববোধ ফুটে উঠেছে।”

পাহাড়ের পাদদেশে গড়ে ওঠা ছিন্নমূল মানুষের স্থায়ী পুনর্বাসনের বিষয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে জেলা প্রশাসক বলেন, শহরের মধ্যে পর্যাপ্ত সরকারি খাসজমি নেই। শহরের বাইরে আবাসনের ব্যবস্থা করা হলেও কর্মসংস্থান, সন্তানদের পড়াশোনা ও যাতায়াতের কারণে অনেক পরিবার সেখানে যেতে চান না।

তবে তিনি বলেন, কেউ যদি স্বেচ্ছায় পুনর্বাসনে যেতে চান এবং আবেদন করেন, তাহলে সরকারি খাসজমি পাওয়া সাপেক্ষে তাদের পুনর্বাসনের ব্যবস্থা করার সর্বোচ্চ চেষ্টা করা হবে।

চট্টগ্রামে অতীতের পাহাড়ধসের ইতিহাস ভয়াবহ। অসংখ্য প্রাণহানি, বিধ্বস্ত পরিবার আর প্রশাসনিক ব্যর্থতার অভিযোগ বারবার সামনে এসেছে। সেই অভিজ্ঞতা থেকেই এবার চট্টগ্রাম প্রশাসক জাহিদুল ইসলাম ক্ষয়ক্ষতির হিসাব করার জন্য অপেক্ষা করেনি; বরং আগাম সতর্কতা, আশ্রয়কেন্দ্র প্রস্তুত, খাদ্য ও বিশুদ্ধ পানির ব্যবস্থা, স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিতকরণ এবং সর্বোপরি জেলা প্রশাসনের সরাসরি মাঠে উপস্থিতিকে অগ্রাধিকার দিয়েছে।

স্থানীয় বাসিন্দাদের মতে, ঝড়-বৃষ্টি আর কাদা মাড়িয়ে পাহাড়ের পাদদেশে মানুষের পাশে দাঁড়িয়ে মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম যে বার্তা দিয়েছেন, তা কেবল প্রশাসনিক নির্দেশনার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। এটি একটি মানবিক নেতৃত্বের প্রতিচ্ছবি—যেখানে দুর্যোগের সময়ে রাষ্ট্রের উপস্থিতি শুধু কাগজে-কলমে নয়, মানুষের সবচেয়ে কঠিন মুহূর্তে তাদের পাশে দাঁড়ানোর মধ্যেই প্রকাশ পায়। এমন উপস্থিতিই বিপদের সময় মানুষের মধ্যে আস্থা তৈরি করে, আর দুর্যোগ ব্যবস্থাপনাকে কেবল প্রশাসনিক দায়িত্ব নয়, মানবিক দায়িত্বেও পরিণত করে।

Feb2
Feb2

দুঃখী মানুষের পাশে সবসময় আছেন প্রধানমন্ত্রী : মীর হেলাল

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Wednesday, 8 July, 2026, 11:31 pm
দুঃখী মানুষের পাশে সবসময় আছেন প্রধানমন্ত্রী : মীর হেলাল

দেশের যেকোনো দুর্যোগে ও দেশের কল্যাণ সাধনে দুঃখী মানুষের পাশে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সবসময় আছেন এবং ভবিষ্যতেও থাকবেন। প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনায় চট্টগ্রামের প্রতিটি ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের দ্বারে দ্বারে ত্রাণসামগ্রী যথাসময়ে পৌঁছে দেওয়া হবে, কেউ সহায়তাহীন থাকবে না।

আজ বুধবার (৮ জুলাই) বিকালে চট্টগ্রামের বিভিন্ন বন্যা ও পাহাড়ধস প্রবণ এলাকা পরিদর্শন এবং ক্ষতিগ্রস্তদের মাঝে প্রধানমন্ত্রীর ত্রাণসামগ্রী বিতরণকালে ভূমি ও পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ব্যারিস্টার মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দীন এমপি এসব কথা বলেন।

এর আগে আজ বিকালে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান-এর নির্দেশে ঢাকায় তাঁর কার্যালয়ে সাক্ষাৎ করেন প্রতিমন্ত্রী মীর হেলাল উদ্দীন। সাক্ষাৎকালে প্রধানমন্ত্রী চট্টগ্রাম ও পার্বত্য চট্টগ্রামের বিভিন্ন এলাকায় অধিক বৃষ্টিপাতে সৃষ্ট প্রাকৃতিক বিপর্যয়ে উদ্ভূত পরিস্থিতির সার্বিক খোঁজখবর নেন এবং এ সংক্রান্ত দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্ট সকলকে নির্দেশনা দেন। তিনি কঠিন এই পরিস্থিতিতে দেশবাসীকে ধৈর্য ধারণের আহ্বান জানিয়ে দুর্গত মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণসহ খাদ্য, বস্ত্র ও আশ্রয় দিয়ে সহায়তা করার প্রতি বিশেষ জোর দেন।

প্রধানমন্ত্রীর সেই সদয় নির্দেশনা পাওয়ার পর পরই বৈরী আবহাওয়াকে উপেক্ষা করে মানুষের কল্যাণের জন্য তড়িঘড়ি করে চট্টগ্রামের উদ্দেশ্যে রওয়ানা হন প্রতিমন্ত্রী ব্যারিস্টার মীর হেলাল। তিনি সন্ধ্যা ৬.৩০ মিনিটে চট্টগ্রাম শহরে পৌঁছান এবং দিনব্যাপী কঠোর পরিশ্রম করে চট্টগ্রামের বিভিন্ন এলাকা ও হাটহাজারী উপজেলার ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের মাঝে প্রধানমন্ত্রীর ত্রাণসামগ্রী পৌঁছে দেন। এ সময় স্থানীয় প্রশাসন, দলীয় নেতাকর্মীসহ ত্রাণ গ্রহীতা সর্বস্তরের ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।

প্রতিমন্ত্রীর ঝটিকা সফর ও ত্রাণ বিতরণের সময়সূচি অনুযায়ী আজ রাত ৯ টা চট্টগ্রামের হাটহাজারী পৌরসভার ৩নং আজিমপুর ওয়ার্ড এলাকায় প্রবল বর্ষণে ক্ষতিগ্রস্ত জনগণকে প্রধানমন্ত্রীর পক্ষ থেকে ত্রাণসহায়তা পৌঁছে দেন প্রতিমন্ত্রী। এর আগে রাত ৮.৩০ মিনিটে হাটহাজারী উপজেলার মেখলস্থ ইছাপুর এলাকায় প্রবল বর্ষণে ক্ষতিগ্রস্ত দুর্গত মানুষের মাঝে ত্রাণসামগ্রী বিতরণ করেন। তিনি আজ রাত ৭.৩০ মিনিটে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের ১নং দক্ষিণ পাহাড়তলীস্থ খিল্লাপাড়া এলাকায় প্রবল বর্ষণে ক্ষতিগ্রস্ত জনগণকে প্রধানমন্ত্রীর ত্রাণসহায়তা পৌঁছে দেন। রাত ৭.০০ টায় চট্টগ্রামের জালালাবাদস্থ বটতল এলাকায় প্রবল বর্ষণে প্লাবিত এলাকা পরিদর্শন করেন ও ত্রাণ বিতরণ করেন এবং প্রধানমন্ত্রীর পক্ষ থেকে সরকারি সহায়তার বার্তা পৌঁছে দেন।

ভূমি ও পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী মীর হেলাল আজ ৬.৪০ মিনিটে চট্টগ্রাম মহানগরের বায়েজিদ থানার অন্তর্গত বাংলাবাজার ব্যাংক কলোনি পাহাড়ের ফাটলস্থল পরিদর্শন করেন এবং এলাকাবাসীকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানান। একই সাথে প্রধানমন্ত্রীর পক্ষ থেকে দ্রুত সরকারি সহায়তা পৌঁছে দেওয়ার আশ্বাস প্রদান করেন।

উল্লেখ্য, কয়েকদিনের অবিরাম বর্ষণে চট্টগ্রাম এবং পার্বত্য চট্টগ্রামের তিন জেলায় তৈরি হওয়া জলাবদ্ধতা ও স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ব্যাহত হওয়ায় গভীর দুঃখ প্রকাশ করেছেন প্রতিমন্ত্রী ব্যারিস্টার মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দীন, এমপি।

গতকাল রাতে দেওয়া এক ভিডিও বার্তায় তিনি প্রাকৃতিকভাবে সৃষ্ট এই বৈরী আবহাওয়া থেকে নিজেদের জানমাল রক্ষা এবং ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোকে সহায়তা করার জন্য চট্টগ্রাম বিভাগের স্থানীয় প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) ও এর অঙ্গসংগঠনসহ সকল জনপ্রতিনিধি, দলীয় নেতাকর্মী এবং স্থানীয় তরুণ সমাজকে সমন্বিতভাবে সর্বাত্মক পাশে দাঁড়ানোর উদাত্ত আহ্বান জানিয়েছেন।

রোহিঙ্গা ক্যাম্পে মাদরাসার ওপর পাহাড় ধসে ৭ শিক্ষার্থীর মৃত্যু

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Wednesday, 8 July, 2026, 6:09 pm
রোহিঙ্গা ক্যাম্পে মাদরাসার ওপর পাহাড় ধসে ৭ শিক্ষার্থীর মৃত্যু

কক্সবাজারের উখিয়ার কুতুপালং রোহিঙ্গা ক্যাম্পে পাহাড়ধসে একটি মাদরাসাচাপা পড়ে ৭ রোহিঙ্গা শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এছাড়া বহু সংখ্যক শিশু আটকা পড়েছে।

৮ জুলাই বুধবার দুপুর আনুমানিক সোয়া ১টার দিকে উখিয়ার কুতুপালং ৫ নম্বর রোহিঙ্গা ক্যাম্পের এ-০৩ ব্লকে এ দুর্ঘটনা ঘটে।

প্রত্যক্ষদর্শী ও ক্যাম্প সূত্রে জানা যায়, টানা বৃষ্টিতে পাহাড়ের একটি বড় অংশ ধসে পাশের একটি মাদরাসার ওপর পড়ে। ওই সময় মাদরাসায় পাঠদান চলছিল। আকস্মিক পাহাড়ধসে ভবনটি মাটিচাপা পড়লে ভেতরে থাকা শিক্ষার্থীরা আটকা পড়ে।

খবর পেয়ে স্থানীয় বাসিন্দারা উদ্ধারকাজ শুরু করেন। পরে ফায়ার সার্ভিসের দুটি ইউনিট ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার অভিযান চালায়।

ক্যাম্পের রোহিঙ্গা স্বেচ্ছাসেবক রফিক জানান, বিকেল পৌনে ৩টা পর্যন্ত সাত শিক্ষার্থীর মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। তার দাবি, ধ্বংসস্তূপের নিচে আরও বহু শিক্ষার্থী আটকা পড়ে আছে এবং স্থানীয়দের পাশাপাশি ফায়ার সার্ভিস উদ্ধারকাজ চালিয়ে যাচ্ছে।

তবে উখিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) পান্না আক্তার বলেন, এখন পর্যন্ত দুই শিশুর মরদেহ উদ্ধারের তথ্য নিশ্চিত হওয়া গেছে। তিনি জানান, ফায়ার সার্ভিসের দুটি দল উদ্ধার অভিযান পরিচালনা করছে এবং তিনি ঘটনাস্থলে যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন।

শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত উদ্ধার অভিযান চলছিল। ধ্বংসস্তূপের নিচে আরও শিক্ষার্থী আটকা পড়ে থাকতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। ফলে হতাহতের সংখ্যা বাড়তে পারে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।

অনার্স পর্যন্ত মেয়েদের শিক্ষা ব্যবস্থা ফ্রি করতে চান প্রধানমন্ত্রী

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Wednesday, 8 July, 2026, 5:57 pm
অনার্স পর্যন্ত মেয়েদের শিক্ষা ব্যবস্থা ফ্রি করতে চান প্রধানমন্ত্রী

মেয়েদের স্নাতক (অনার্স) পর্যন্ত শিক্ষাব্যবস্থা অবৈতনিক করার পাশাপাশি ভালো ফলাফলের ভিত্তিতে বৃত্তি দেওয়ার পরিকল্পনার কথা জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

একই সঙ্গে প্রাথমিকের শিক্ষার্থীদের বিনামূল্যে স্কুল ড্রেস ও ব্যাগ প্রদান এবং কৃষকের সুরক্ষায় পেঁয়াজ-রসুন সংরক্ষণে আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহারের কথাও জানান তিনি।

বুধবার (৮ জুলাই) বিকেলে জাতীয় সংসদে বাজেট অধিবেশনে সংসদ সদস্যদের সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী এসব তথ্য জানান।

সংসদ সদস্য হেলেন জেরিন খানের সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘বর্তমান বিএনপি সরকার নারী শিক্ষার পাশাপাশি নারী এম্পাওয়ারমেন্ট অর্থাৎ অর্থনৈতিকভাবেও যাতে তারা শক্তিশালী হতে পারে, সেজন্য ফ্যামিলি কার্ড চালু করেছেন। আমরা একই সঙ্গে আরেকটি পরিকল্পনা গ্রহণ করেছি, যেটি খালেদা জিয়া সরকার মেয়েদের শিক্ষা ব্যবস্থা ইন্টারমিডিয়েট (এইচএসসি) পর্যন্ত ফ্রি করেছিলেন। আমরা এবার ডিগ্রি বা অনার্স পর্যন্ত মেয়েদের শিক্ষা ব্যবস্থা ফ্রি করতে চাই।’

তিনি আরও বলেন, ‘আজকে আমাদের সঙ্গে গ্যালারিতে অনেক নারী শিক্ষার্থী উপস্থিত আছে। তারাও সরাসরি এই সংসদ অধিবেশনটি দেখছে। আমরা অনার্স পর্যন্ত যে নারীদের শিক্ষা ব্যবস্থা ফ্রি করব। তাদের মধ্যে যারা ভালো রেজাল্ট করবে, তাদেরকে আমরা স্কলারশিপ দিতে চাই।’

মহিলা আসনের সাংসদ শাম্মী আক্তারের সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা ক্লাস ওয়ান থেকে ক্লাস ফাইভ পর্যন্ত প্রাইমারি স্কুলের বাচ্চাদেরকে স্কুল ড্রেস দেওয়ার পরিকল্পনা গ্রহণ করেছি। একই সঙ্গে আমরা তাদেরকে স্কুল ব্যাগও দেব। আমি এখানে সকল সংসদ সদস্যকে আশ্বস্ত করে বলতে চাই, আমরা পর্যায়ক্রমে সমগ্র বাংলাদেশের সরকারি প্রায় ৬৫ হাজার প্রাথমিক বিদ্যালয় বিদ্যালয় আছে। ৬৫ হাজার প্রাথমিক বিদ্যালয় প্রায় এক কোটি ২০ লাখের মতো বাচ্চা আছে। আমরা পর্যায়ক্রমে ক্লাস ওয়ান থেকে ফাইভ পর্যন্ত সকল বাচ্চাদের কাছেই পৌঁছানোর চেষ্টা করব।’

৮ হাজার বায়ুপ্রবাহ মেশিন স্থাপনের পরিকল্পনা

কৃষি খাত নিয়ে কথা বলতে গিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘পেঁয়াজ ও রসুনের অপচয় রোধ, কৃষকের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিতকরণ এবং সংরক্ষণ ব্যবস্থা আধুনিকায়নের লক্ষ্যে সরকার ইতোমধ্যে একাধিক বাস্তবমুখী উদ্যোগ বাস্তবায়ন করছে।’

তিনি বলেন, “বাংলাদেশ পেঁয়াজ উৎপাদন এলাকায় পরিবর্তিত জলবায়ুর প্রতিকূল প্রভাব প্রশমনে অংশীদারিত্বের ভিত্তিতে পেঁয়াজ সংরক্ষণ” প্রকল্পের আওতায় ৩ হাজার ৫০০টি এয়ার ফ্লো মেশিন বিতরণ করা হয়েছে।

এ ছাড়া ‘কৃষক পর্যায়ে পেঁয়াজ ও রসুন সংরক্ষণ পদ্ধতি আধুনিকায়ন এবং বিপণন কার্যক্রম উন্নয়ন’ শীর্ষক চলমান প্রকল্পের আওতায় ফরিদপুরসহ পেঁয়াজ ও রসুন উৎপাদনকারী জেলাগুলোতে ৯০০টি মডেল সংরক্ষণ ঘর নির্মাণ করা হয়েছে। প্রতিটি সংরক্ষণ ঘরের ধারণক্ষমতা ১০ থেকে ১২ টন। এসব সংরক্ষণাগার কৃষকদের উৎপাদিত পেঁয়াজ ও রসুন দীর্ঘ সময় সংরক্ষণে সহায়তা করছে।

প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, ‘প্রকল্পের মাধ্যমে কৃষকদের প্রয়োজনীয় প্রযুক্তিগত জ্ঞান ও প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে এবং বাজারসংযোগ তৈরির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এর ফলে পেঁয়াজ ও রসুনের পচনশীলতা কমানো সম্ভব হচ্ছে।’

তিনি বলেন, ‘২০২৫–২৬ অর্থবছরে প্রণোদনা ও পুনর্বাসন কর্মসূচির আওতায় পেঁয়াজ সংরক্ষণের জন্য ১৯ হাজার কৃষকের মধ্যে এয়ার ফ্লো মেশিন বিতরণ করা হয়েছে।’

সংসদ নেতা জানান, বর্তমানে ‘বায়ুপ্রবাহ পদ্ধতিতে পেঁয়াজ ও রসুন সংরক্ষণ পদ্ধতি আধুনিকায়ন এবং বিপণন কার্যক্রম উন্নয়ন’ শীর্ষক নতুন একটি প্রকল্প প্রণয়ন করা হচ্ছে। প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে ফরিদপুরসহ দেশের প্রধান পেঁয়াজ উৎপাদন এলাকায় মোট ৮ হাজার বায়ুপ্রবাহ মেশিন স্থাপন করা হবে।

তিনি বলেন, ‘এ প্রযুক্তির মাধ্যমে পেঁয়াজ ও রসুনের অপচয় উল্লেখযোগ্য হারে কমবে এবং কৃষকরা মৌসুম শেষে ন্যায্যমূল্যে তাদের উৎপাদিত পণ্য বিক্রির সুযোগ পাবেন।’