খুঁজুন
, ,

ঝড়-বৃষ্টি, কাদা আর মানুষের পাশে এক জেলা প্রশাসক

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Tuesday, 7 July, 2026, 9:03 pm
ঝড়-বৃষ্টি, কাদা আর মানুষের পাশে এক জেলা প্রশাসক

সকাল থেকেই আকাশ কালো। একটানা বৃষ্টি। পাহাড়ের গা বেয়ে নেমে আসছে কাদা আর ঢলের পানি। আবহাওয়া অধিদপ্তরের পূর্বাভাস বলছে, বৃষ্টি আরও কয়েক দিন চলতে পারে। পাহাড়ধসের আশঙ্কায় উৎকণ্ঠায় দিন কাটছে চট্টগ্রামের হাজারো পরিবারের।

এমন পরিস্থিতিতে জেলা প্রশাসকের জন্য সবচেয়ে সহজ কাজ হতে পারত কার্যালয়ে বসে জরুরি বৈঠক করা কিংবা নির্দেশনা দেওয়া। কিন্তু সারাদেশে মানবিক ডিসি হিসেবে পরিচিত চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা বেছে নিলেন ভিন্ন পথ। তিনি নিজেই নেমে গেলেন পাহাড়ের পাদদেশে, মানুষের মাঝে।

মঙ্গলবার দুপুরে আকবর শাহ সংলগ্ন ৯ নম্বর উত্তর পাহাড়তলী ওয়ার্ডের ঝুঁকিপূর্ণ পাহাড়ি এলাকাগুলো ঘুরে দেখেন তিনি। কাদা, বৃষ্টি ও প্রতিকূল আবহাওয়া উপেক্ষা করে সরেজমিন পরিদর্শন করেন ১ নম্বর ঝিল, ২ নম্বর ঝিল, ৩ নম্বর ঝিল, বিজয়নগর এবং শান্তিবাগ (পানির ট্যাংক এলাকা)। পাহাড়ের নিচে বসবাসকারী পরিবারগুলোর সঙ্গে কথা বলেন। জানতে চান তাদের ভয়, প্রয়োজন ও প্রস্তুতির কথা। মাঠে থাকা নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট, স্বেচ্ছাসেবক ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের প্রয়োজনীয় নির্দেশনাও দেন।

পাহাড়ি এলাকা পরিদর্শনের পর জেলা প্রশাসক পৌঁছান ১ নম্বর ঝিলসংলগ্ন ব্র্যাক প্রাক-প্রাথমিক বিদ্যালয়ে স্থাপিত অস্থায়ী আশ্রয়কেন্দ্রে।
সেখানে আশ্রয় নেওয়া নারী, শিশু ও বয়স্ক মানুষদের সঙ্গে মেঝেতে দাড়িয়েই কথা বলেন তিনি। হাতে মেগাফোন নিয়ে সবাইকে আশ্বস্ত করেন—সরকার তাদের পাশে রয়েছে। কোনো অবস্থাতেই যেন তারা ঝুঁকিপূর্ণ পাহাড়ের পাদদেশে ফিরে না যান।

আশ্রয়কেন্দ্রে উপস্থিত মানুষের উদ্দেশে জেলা প্রশাসক বলেন, “আমরা সবাই এসেছি, যাতে আপনাদের মধ্যে কোনো ধরনের ভয় বা সংকোচ কাজ না করে। সরকার একটি মানবিক রাষ্ট্র গড়ে তুলতে চায়। সরকার আপনাদের পাশে আছে। আমরা আপনাদের জন্য এখানে এসেছি। আপনারা নিরাপদে থাকবেন। কারও কোনো বিশেষ প্রয়োজন হলে আমাদের জানাবেন। আমরা সেটি দেখব।”

তিনি আরও বলেন, প্রতিটি ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট, এসিল্যান্ড এবং স্বেচ্ছাসেবকদের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। “তারা যখন আপনাদের কোনো কিছু বলবেন বা অনুরোধ করবেন, দয়া করে তা শুনবেন। কারণ, প্রশাসনের কথা না শুনলে আপনারাই নিজেদের জীবনকে ঝুঁকির মধ্যে ফেলবেন।”

শুধু বক্তব্য দিয়েই দায়িত্ব শেষ করেননি জেলা প্রশাসক। তিনি আশ্রয় নেওয়া পরিবারগুলোর হাতে নিজেই শুকনা খাবারের প্যাকেট তুলে দেন। শিশু, অসুস্থ ব্যক্তি ও প্রবীণদের খোঁজ নেন। সঙ্গে থাকা সিভিল সার্জনকে প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করার নির্দেশ দেন।

পানিবাহিত রোগের ঝুঁকি বিবেচনায় প্রতিটি পরিবারের জন্য মিনারেল ওয়াটারের ব্যবস্থাও করা হয়েছে বলে জানান তিনি।

জেলা প্রশাসক বলেন, “আজ এখানে যারা এসেছেন, তাদের প্রত্যেকের হাতে শুকনা খাবার পৌঁছে দেওয়া হবে। পাশাপাশি নিরাপদ পানি নিশ্চিত করতে মিনারেল ওয়াটারেরও ব্যবস্থা করা হয়েছে।”

তিনি বলেন, “আগে জীবন, তারপর অন্য সবকিছু। জীবন না থাকলে অন্য কিছুর কোনো মূল্য নেই।”
তিনি জানান, আগের রাতে প্রায় ২৫ থেকে ২৬টি পরিবারকে আশ্রয়কেন্দ্রে নিয়ে আসার পরও তারা আবার নিজেদের ঘরে ফিরে গিয়েছিল।

এ বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে তিনি বলেন, পাহাড়ধসের বড় দুর্ঘটনাগুলো সাধারণত গভীর রাতে ঘটে।
“মানুষ তখন ঘুমিয়ে থাকে। বের হওয়ার সুযোগও পায় না। তাই কোনো অবস্থাতেই ঝুঁকি নিয়ে ঘরে ফিরে যাবেন না।” তবে মানুষের সম্পদের বিষয়টিও গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করছে প্রশাসন।

তিনি বলেন, কেউ যদি নিজের ঘরবাড়ি নিয়ে উদ্বিগ্ন থাকেন, তাহলে প্রশাসনের তত্ত্বাবধানে দলগতভাবে গিয়ে দেখে আসার ব্যবস্থাও করা হবে।

মৌসুমি নিম্নচাপের প্রভাবে টানা ভারী বৃষ্টিপাত এবং আবহাওয়া অধিদপ্তরের ৩ নম্বর স্থানীয় সতর্ক সংকেত জারির পর থেকেই চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসন সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।

জেলা প্রশাসনের তথ্য অনুযায়ী, চট্টগ্রাম মহানগরের চিহ্নিত ২৬টি ঝুঁকিপূর্ণ পাহাড়ের পাদদেশে প্রায় ৬ হাজার ৫৫৮টি পরিবার বসবাস করছে। তাদের নিরাপত্তায় আটটি আশ্রয়কেন্দ্র প্রস্তুত রাখা হয়েছে।
২৬টি পাহাড়কে পাঁচটি জোনে ভাগ করে প্রতিটি জোনে একজন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের নেতৃত্বে বিশেষ টিম দায়িত্ব পালন করছে। প্রায় ১৫০ জন স্বেচ্ছাসেবক ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা থেকে মানুষকে নিরাপদ আশ্রয়ে সরিয়ে নিতে মাঠে কাজ করছেন।

জেলা প্রশাসনের নির্দেশনায় গত সোমবার রাত থেকেই আকবর শাহর ১, ২ ও ৩ নম্বর ঝিল, বিজয়নগর, শান্তিবাগ (পানির ট্যাংক এলাকা), বেলতলীঘোনা, টাংকির পাহাড়, আমিন জুট মিল এলাকা, পাহাড়িকা, সমবায় আবাসিক এলাকা, মিয়ার পাহাড়, মুরাদপুর রেলস্টেশন-সংলগ্ন পাহাড়, মতিঝর্ণা, পোড়া কলোনি, ঢেবারপাড়, আমবাগান ও উত্তর হালিশহরসহ বিভিন্ন ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় মাইকিং করে মানুষকে নিরাপদ আশ্রয়ে সরে যাওয়ার আহ্বান জানানো হচ্ছে।

পাহাড়সংলগ্ন স্কুল, কলেজ, মসজিদ ও মাদ্রাসাগুলোকে অস্থায়ী আশ্রয়কেন্দ্র হিসেবে প্রস্তুত রাখা হয়েছে।

বর্তমানে ব্র্যাক প্রাক-প্রাথমিক বিদ্যালয়ে প্রায় ১১০ জন, ওয়াইডব্লিউসিএ কমিউনিটি স্কুলে ৪০ জন, ইলমুল কোরআন মাদ্রাসায় ৫০ জন এবং আল হেরা মাদ্রাসায় ১৫ জন আশ্রয় নিয়েছেন। অনেক পরিবার আবার আত্মীয়স্বজনের বাসায় নিরাপদে অবস্থান করছেন।

০১ নম্বর ঝিল এলাকা সমাজ উন্নয়ন কমিটির সভাপতি মো. আনোয়ার হোসেন বলেন,
“ডিসি স্যারের পরিদর্শনের সময় আমিও উপস্থিত ছিলাম। তিনি যেভাবে আন্তরিকতার সঙ্গে ছিন্নমূল ও সাধারণ মানুষের কথা শুনেছেন, তা সত্যিই প্রশংসার যোগ্য। মনে হয়নি তিনি শুধু একজন জেলা প্রশাসক। মনে হয়েছে, জেলার একজন অভিভাবক মানুষের খোঁজ নিতে এসেছেন। পাহাড়ধসের ঝুঁকি মোকাবিলায় তাঁর প্রতিটি কথায় মানুষের প্রতি দায়িত্ববোধ এবং মমত্ববোধ ফুটে উঠেছে।”

পাহাড়ের পাদদেশে গড়ে ওঠা ছিন্নমূল মানুষের স্থায়ী পুনর্বাসনের বিষয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে জেলা প্রশাসক বলেন, শহরের মধ্যে পর্যাপ্ত সরকারি খাসজমি নেই। শহরের বাইরে আবাসনের ব্যবস্থা করা হলেও কর্মসংস্থান, সন্তানদের পড়াশোনা ও যাতায়াতের কারণে অনেক পরিবার সেখানে যেতে চান না।

তবে তিনি বলেন, কেউ যদি স্বেচ্ছায় পুনর্বাসনে যেতে চান এবং আবেদন করেন, তাহলে সরকারি খাসজমি পাওয়া সাপেক্ষে তাদের পুনর্বাসনের ব্যবস্থা করার সর্বোচ্চ চেষ্টা করা হবে।

চট্টগ্রামে অতীতের পাহাড়ধসের ইতিহাস ভয়াবহ। অসংখ্য প্রাণহানি, বিধ্বস্ত পরিবার আর প্রশাসনিক ব্যর্থতার অভিযোগ বারবার সামনে এসেছে। সেই অভিজ্ঞতা থেকেই এবার চট্টগ্রাম প্রশাসক জাহিদুল ইসলাম ক্ষয়ক্ষতির হিসাব করার জন্য অপেক্ষা করেনি; বরং আগাম সতর্কতা, আশ্রয়কেন্দ্র প্রস্তুত, খাদ্য ও বিশুদ্ধ পানির ব্যবস্থা, স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিতকরণ এবং সর্বোপরি জেলা প্রশাসনের সরাসরি মাঠে উপস্থিতিকে অগ্রাধিকার দিয়েছে।

স্থানীয় বাসিন্দাদের মতে, ঝড়-বৃষ্টি আর কাদা মাড়িয়ে পাহাড়ের পাদদেশে মানুষের পাশে দাঁড়িয়ে মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম যে বার্তা দিয়েছেন, তা কেবল প্রশাসনিক নির্দেশনার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। এটি একটি মানবিক নেতৃত্বের প্রতিচ্ছবি—যেখানে দুর্যোগের সময়ে রাষ্ট্রের উপস্থিতি শুধু কাগজে-কলমে নয়, মানুষের সবচেয়ে কঠিন মুহূর্তে তাদের পাশে দাঁড়ানোর মধ্যেই প্রকাশ পায়। এমন উপস্থিতিই বিপদের সময় মানুষের মধ্যে আস্থা তৈরি করে, আর দুর্যোগ ব্যবস্থাপনাকে কেবল প্রশাসনিক দায়িত্ব নয়, মানবিক দায়িত্বেও পরিণত করে।

Feb2
Feb2

ঈদে মিলাদুন্নবী (দ.) উদযাপনে অশেষ কল্যাণ ও মাহাত্ম্য রয়েছে

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Tuesday, 18 August, 2026, 12:23 am
ঈদে মিলাদুন্নবী (দ.) উদযাপনে  অশেষ কল্যাণ ও মাহাত্ম্য রয়েছে

বাংলাদেশ সুফিবাদী ঐক্য ফোরাম কেন্দ্রীয় পরিষদের উদ্যোগে ‘সকল ঈদের সেরা ঈদ ঈদে মিলাদুন্নবী (দ.)’ শীর্ষক গোলটেবিল আলোচনা আজ ১৭ আগস্ট সোমবার বিকেলে চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবস্থ আলহাজ্ব সুলতান আহমদ হলে অনুষ্ঠিত হয়।

ফোরামের কেন্দ্রীয় চেয়ারম্যান সাংবাদিক নুর মোহাম্মদ রানার সভাপতিত্বে এবং মহাসচিব মাস্টার মুহাম্মদ আবুল হোসাইনের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত গোলটেবিল আলোচনায় উলামা মাশায়েখ নেতৃবৃন্দ বলেন, মহানবীর (দ.) দুনিয়ায় শুভাগমন হয়েছে বলেই মানবজাতিসহ সমগ্র সৃষ্টিজগৎ অস্তিত্ব লাভ করেছে। সকল সৃষ্টির উৎসই হচ্ছেন মহানবী (দ.)। তাঁর কারণে এবং তাঁরই উসিলায় সৃষ্টি জগৎ অস্তিত্ব পেয়েছে, টিকে আছে এবং টিকে থাকবে। তাই সকল ঈদের সেরা ঈদ ঈদে মিলাদুন্নবী (দ.) উদযাপনে অশেষ পুণ্য বরকত, কল্যাণ এবং সবিশেষ মাহাত্ম্য রয়েছে। ঈদে মিলাদুন্নবী (দ.) উদযাপন মানে কৃতজ্ঞতারই বহিঃপ্রকাশ।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন পীরে ত্বরিকত আল্লামা সৈয়দ আহমদ জামাল আশরাফ আল আশরাফী জিলানী। তিনি বলেন, সমগ্র সৃষ্টির মূল হচ্ছেন প্রিয় নবী হযরত মুহাম্মদ (দ.)। তাঁর আনুগত্য ও আহলে বাইতে রাসুলকে (দ.) ভালোবাসা ফরজ। উপমহাদেশসহ সমগ্র বিশ্বে সুফিবাদি সুন্নি মুসলমানরাই সংখ্যাগরিষ্ঠ। অথচ আন্তঃযোগাযোগ না থাকা, অনৈক্য-বিভাজনের কারণে সুফিবাদি সুন্নি মুসলমানরা পেছনে পড়ে রয়েছে। রাজনীতি, অর্থনীতিসহ দেশ পরিচালনার কেন্দ্রবিন্দুতে আমরা নেই। ফলে প্রতিপক্ষ গোষ্ঠী আমাদের মাথার ওপর ছড়ি ঘুরাচ্ছে। সুফিবাদী উদারনৈতিক মানবিক ইসলামের প্রসার ঘটাতে সকল সুন্নি মতাদর্শী ও তরিকতপন্থিদের একই প্ল্যাটফরমে আসতে হবে।

মুখ্য আলোচক ছিলেন জামেয়া আহমদিয়া সুন্নিয়া কামিল মাদ্রাসার সাবেক অধ্যক্ষ আল্লামা মুফতি সৈয়দ অছিয়র রহমান। তিনি বলেন, মহানবীর (দ.) দুনিয়ায় শুভাগমন আল্লাহ পাকের সেরা নিয়ামত। তাই নিয়ামতের শুকরিয়া হিসেবে আমরা ঈদে মিলাদুন্নবী (দ.) উদযাপন করি। বিগত দুই বছরে বহু মাজার খানকায় হামলা হয়েছে। মব সন্ত্রাস সৃষ্টি করে অসংখ্য মাজার গুঁড়িয়ে দেয়া হলেও এর বিচার হয়নি। বর্তমান সরকারকে অবিলম্বে এর প্রতিকারে এগিয়ে আসতে হবে।

উদ্বোধক ছিলেন মাইজভান্ডার দরবার শরীফের শাহজাদা সৈয়দ মুহাম্মদ নাফিসুর রহমান মাইজভাণ্ডারী। স্বাগত বক্তব্য দেন ফোরামের কেন্দ্রীয় সহসভাপতি এস এম বরকত আকাশ। নির্ধারিত বিষয়বস্তুর ওপর আলোচনায় অংশ নেন হযরত শাহ আমানত (রহ.) দরবার শরীফের আওলাদ শাহজাদা সৈয়দ হাবিবুল্লাহ খান মারুফ, গবেষক মুহাম্মদ আবদুর রহিম, শাহজাদা মাওলানা ফখরুল ইসলাম রিজভী, শাহজাদা মাওলানা সৈয়দ গোলাম রসুল, শাহজাদা মাওলানা সৈয়দ ছালেকুল মাওলা, আল্লামা শফিকুল ইসলাম আস সাঈদী, আল্লামা মঈনুদ্দিন রেজভী, মাওলানা রায়হান রেজা আশরাফী, মাওলানা আবদুল মান্নান আশরাফী,আলহাজ্ব মুহাম্মদ মুছা ও হালদা গবেষক মুহাম্মদ হারুন পাশা প্রমুখ আনিছ মুহাম্মদ বিপলু, এম মহিউল আলম চৌধুরী, আ ব ম খোরশিদ আলম খান, মাওলানা গিয়াস উদ্দিন নেজামী, মাওলানা করিম উদ্দিন নূরী, ফরিদুল আলম আশরাফী, মুহাম্মদ ইলিয়াছ সোহেল, নাজিম উদ্দিন মিয়াজী, প্রমুখ।

সভাপতির বক্তব্যে সাংবাদিক নূর মোহাম্মদ রানা বলেন, সুন্নি সুফিবাদিরা আজ জেগে উঠেছে। তাদের কেউ পরাভূত করতে পারবে না।

ফোরামের কেন্দ্রীয় মহাসচিব মাস্টার মুহাম্মদ আবুল হোসাইন গোলটেবিল আলোচনায় সমবেত সকলের প্রতি ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানান।

মাস্টার মুহাম্মদ আবুল হোসাইনের পরিবেশনায় মিলাদ কিয়াম শেষে দেশ ও জাতির শান্তি সমৃদ্ধি কল্যাণ এবং বিশ্বের মজলুম মানবতার পরিত্রাণ কামনায় মোনাজাত পরিচালনা করেন পীরে ত্বরিকত আল্লামা সৈয়দ আহমদ জামাল আশরাফ আল আশরাফী জিলানী।

পানি সরবরাহের জন্য টানেল ব্যবহার করে পাইপলাইন স্থাপনে সেতু কর্তৃপক্ষের অনাপত্তি

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Monday, 17 August, 2026, 6:45 pm
পানি সরবরাহের জন্য টানেল ব্যবহার করে পাইপলাইন স্থাপনে সেতু কর্তৃপক্ষের অনাপত্তি

কর্ণফুলী নদী তীরে গড়ে তোলা বোয়ালখালীর ভান্ডালজুড়ি পানি শোধনাগার প্রকল্পের পানি নগরীর পতেঙ্গা ও কাট্টলী এলাকায় আনার পরিকল্পনা নিয়ে কাজ করছে চট্টগ্রাম ওয়াসা। এটি ছিল সদ্য নিয়োগ পাওয়া চট্টগ্রাম ওয়াসার ব্যবস্থাপনা পরিচালক প্রকৌশলী সেলিম মোঃ জানে আলমের দায়িত্ব গ্রহণের পর প্রথম পদক্ষেপ।

চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের ৩৯, ৪০ ও ৪১নং ওয়ার্ডে দীর্ঘদিন ধরে তীব্র পানি সংকট। সাগর তীরবর্তী হওয়ায় এটি লবণাক্ততা প্রবণ এলাকা। সুপেয় পানির হাহাকার এবং পাইপলাইন না থাকায় অনেক এলাকায় ওয়াসার পানি সরবরাহ দুরুহ। এই তিন ওয়ার্ডে প্রচুর পানির চাহিদা রয়েছে।

ভান্ডালজুড়ি পানি শোধনাগার থেকে দৈনিক ২ কোটি লিটার পানি এই ওয়ার্ডগুলোতে বরাদ্দ করা সম্ভব। এতে করে এই সমস্ত এলাকায় পানির চাহিদা কিছুটা হলেও লাঘব হবে। ভান্ডালজুড়ি পানি শোধনাগার থেকে টানেল দিয়ে পানি পতেঙ্গা এলাকায় আনার বিষয়ে সেতু কর্তৃপক্ষ ও টানেলের মূল ঠিকাদারের সাথে কয়েকদফা সভা করে চট্টগ্রাম ওয়াসার উর্দ্ধতন কর্মকর্তাগণ। সভা ও চিঠি চালাচালির পর কর্ণফুলী টানেলের ইউটিলিটি ডাক্ট ব্যবহার করে চট্টগ্রাম ওয়াসা কর্তৃক ভান্ডালজুড়ি পানি শোধনাগারের পানি পতেঙ্গা এলাকায় সরবরাহের লক্ষ্যে পাইপলাইন স্থাপনের সম্ভাব্যতা যাচাই ও ডিটেইলড ডিজাইন প্রণয়নে অনাপত্তি প্রদান করে বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষ।

১১ আগষ্ট বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষের অপারেশন শাখার একটি পত্র মারফত এই অনাপত্তি প্রদান করা হয়। অনাপত্তি পত্রে প্রস্তাবিত পাইপলাইন স্থাপনের ক্ষেত্রে কর্ণফুলী টানেলের কাঠামোগত নিরাপত্তা, অগ্নি-নিরাপত্তা, পরিচালনা ও রক্ষণাবেক্ষণ কার্যক্রম, জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলা এবং বিদ্যমান ইউটিলিটিসমূহের সঙ্গে সামঞ্জস্যের বিষয়সমূহ যথাযথভাবে বিবেচনা করা আবশ্যক উল্লেখ করা হয়।

সে আলোকে কর্ণফুলী টানেলের ইউটিলিটি ডাক্ট ব্যবহার করে প্রস্তাবিত পাইপলাইন স্থাপন কাজের সম্ভাব্যতা যাচাই এবং ডিটেইলড ডিজাইন প্রণয়নের লক্ষ্যে চট্টগ্রাম ওয়াসাকে যথাযথ কর্তৃপক্ষের অনুমোদনক্রমে অনাপত্তি (No Objection) প্রদান করা হয়।

এবিষয়ে ব্যবস্থাপনা পরিচালক প্রকৌশলী সেলিম মোঃ জানে আলম বলেন, চট্টগ্রাম ওয়াসায় যোগদানের পর টানেল দিয়ে ভান্ডালজুড়ি হতে পানি পতেঙ্গা এলাকায় আনা এটি আমার প্রথম পদক্ষেপ ছিলো। বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষের এই অনাপত্তি প্রদানে আমার প্রথম পদক্ষেপ বাস্তবায়নের পথ সুগম হলো। এজন্য আমি সংশ্লিষ্ট সকলকে আন্তরিক ধন্যবাদ জানাই।

তিনি আরো বলেন, টানেল দিয়ে পানি আনার জন্য পাইপলাইন স্থাপন ও অন্যান্য আনষঙ্গিক কাজ সেতু কর্তৃপক্ষ ও টানেলের মুল ঠিকাদার মাধ্যমে করার পরিকল্পনা রয়েছে। এবিষয়ে আগামীকাল ঢাকায় মাননীয় অর্থমন্ত্রী জনাব আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীর সভাপতিত্বে সংশ্লিষ্ট সকলকে নিয়ে একটি সভা অনুষ্ঠিত হবে। এই উদ্যোগ বাস্তবায়ন হলে পতেঙ্গা এলাকার মানুষের দীর্ঘদিনের কষ্ট লাঘব হবে এবং সরকারের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল হবে।

প্রশিক্ষণ শেষে খালি হাতে ফিরবেন নারীরা, জানতে পেরেই উদ্যোগ নিলেন ডিসি জাহিদ

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Monday, 17 August, 2026, 6:10 pm
প্রশিক্ষণ শেষে খালি হাতে ফিরবেন নারীরা, জানতে পেরেই উদ্যোগ নিলেন ডিসি জাহিদ

দুই হাতে কাপড় ধরে সেলাইয়ের কাজ শিখছিলেন নাছরিন ফারজানা। প্রশিক্ষণ শেষে এই দক্ষতা কাজে লাগিয়ে সংসারের হাল ধরার স্বপ্ন তাঁর। কিন্তু নিজের কোনো সেলাই মেশিন নেই। প্রশিক্ষণ শেষ হলে মেশিনও পাবেন না। ফলে শেখা কাজটি কত দিন ধরে রাখতে পারবেন, তা নিয়ে ছিল অনিশ্চয়তা।

বিষয়টি জানতে পেরে থমকে দাঁড়ান চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা। প্রশিক্ষণকেন্দ্র থেকেই যোগাযোগ করেন স্বপ্নীল ব্রাইট ফাউন্ডেশনের সঙ্গে। তাঁর আহ্বানে পাঁচটি সেলাই মেশিন দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেয় সংস্থাটি। অন্য বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের সহযোগিতায় আরও ১৫টি মেশিনের ব্যবস্থা করার অঙ্গীকারও করা হয়।

মুহূর্তের মধ্যেই বদলে যায় প্রশিক্ষণকক্ষের পরিবেশ। প্রশিক্ষণ শেষে খালি হাতে ফেরার শঙ্কায় থাকা ২০ নারীর সামনে খুলে যায় শেখা দক্ষতা কাজে লাগিয়ে আয়ের পথে এগিয়ে যাওয়ার সুযোগ।

আজ সোমবার সকালে চট্টগ্রাম নগরের মহিলাবিষয়ক অধিদপ্তরের উপপরিচালকের কার্যালয়ে এ ঘটনা ঘটে। সেখানে ভালনারেবল উইমেন বেনিফিট (ভিডব্লিউবি) কার্যক্রমের ২০২৫–২০২৭ চক্রের আওতায় আয়োজিত দিনব্যাপী ‘প্রশিক্ষকদের প্রশিক্ষণ’ (টিওটি) কর্মসূচি উদ্বোধন করতে গিয়েছিলেন জেলা প্রশাসক।

প্রশিক্ষণার্থীদের সঙ্গে কথা বলার সময় জেলা প্রশাসক জানতে পারেন, আধুনিক দর্জিবিজ্ঞান ও এমব্রয়ডারি ট্রেডে অংশ নেওয়া নারীদের প্রশিক্ষণ শেষে সেলাই মেশিন দেওয়ার কোনো ব্যবস্থা নেই। তখনই তিনি তাঁদের জন্য মেশিন সংগ্রহের উদ্যোগ নেন।

জেলা প্রশাসকের উদ্যোগে উচ্ছ্বসিত মুরাদপুর থেকে আসা প্রশিক্ষণার্থী নাছরিন ফারজানা। তিনি বলেন, ‘আমরা কখনো ভাবিনি, প্রশিক্ষণ শেষে বিনা মূল্যে সেলাই মেশিন পাব। আজ ডিসি স্যার নিজে উদ্যোগী হয়ে আমাদের সবার জন্য নতুন সেলাই মেশিনের ব্যবস্থা করেছেন।’

তিন সন্তানের মা নাছরিনের স্বামী আগে প্রবাসে ছিলেন। বর্তমানে তিনি বেকার। সংসারে আর্থিক টানাপোড়েন রয়েছে। প্রশিক্ষণ শেষে একটি সেলাই মেশিন পেলে ঘরে বসে কাজ করে পরিবারের আয়ে ভূমিকা রাখতে চান নাছরিন।

তিনি বলেন, ‘সেলাই মেশিন না থাকায় অনেক নারী প্রশিক্ষণ নিয়েও কাজ করতে পারেন না। নিয়মিত চর্চা না থাকায় একসময় শেখা কাজ ভুলে যান। মেশিনটি পেলে আমি কাজ করে সংসারের টানাপোড়েন কিছুটা হলেও কমাতে পারব।’

উদ্বোধনের আগে জেলা প্রশাসক ‘জীবিকায়নের জন্য মহিলাদের দক্ষতাভিত্তিক প্রশিক্ষণ কর্মসূচি’র কেন্দ্র ঘুরে দেখেন। তিনি প্রশিক্ষণার্থীদের কাজ পর্যবেক্ষণ করেন এবং তাঁদের সঙ্গে কথা বলে প্রশিক্ষণের অগ্রগতি ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা সম্পর্কে জানতে চান।

শুধু প্রশিক্ষণ গ্রহণ নয়, শেখা দক্ষতাকে আয় ও স্বাবলম্বিতার মাধ্যমে পরিণত করার তাগিদ দেন জেলা প্রশাসক। প্রশিক্ষণের পর অংশগ্রহণকারীরা কীভাবে কাজের সুযোগ পাবেন, সেই পরিকল্পনাও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের করতে বলেন তিনি।

আয়োজকেরা জানান, পাঁচটি ট্রেডে ২০ জন করে মোট ১০০ নারী প্রশিক্ষণ নিচ্ছেন। জেলা প্রশাসক প্রতিটি ট্রেডের কার্যক্রম ঘুরে দেখেন। প্রশিক্ষণার্থীদের কাজের মান উন্নত করা এবং বাজারের চাহিদা অনুযায়ী পণ্য তৈরির ওপর গুরুত্ব দেন তিনি।

প্রশিক্ষকদের উদ্দেশে মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা বলেন, ‘আমরা যে কাজই করি, সেটি গুরুত্বের সঙ্গে করতে হবে। একটি সুনির্দিষ্ট ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা থাকতে হবে। যাঁদের প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে, তাঁদের জন্য সেটি কতটা কার্যকর এবং এই দক্ষতা নিয়ে তাঁরা বাস্তবে টিকে থাকতে পারবেন কি না, তা নিশ্চিত করতে হবে।’

জনগণকে দেশের প্রধান সম্পদ উল্লেখ করে জেলা প্রশাসক বলেন, প্রশিক্ষণের মাধ্যমে মানুষকে দক্ষ মানবসম্পদে পরিণত করার দায়িত্ব প্রশিক্ষকদের। একজন মানুষ প্রশিক্ষণ নেওয়ার পরও যদি অর্জিত দক্ষতা কাজে লাগিয়ে স্বাবলম্বী হতে না পারেন, তাহলে সেই প্রশিক্ষণের সার্থকতা নিয়ে প্রশ্ন থেকে যায়।

প্রশিক্ষণার্থীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘কোনো কাজই ছোট নয়। প্রশিক্ষণে ব্যয় করা সময়ের মূল্য দিতে হবে। নিষ্ঠার সঙ্গে অর্জিত দক্ষতা যেন আপনাদের জীবনের মোড় ঘুরিয়ে দিতে পারে।’

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন মহিলাবিষয়ক অধিদপ্তরের চট্টগ্রাম কার্যালয়ের উপপরিচালক আতিয়া চৌধুরী।

প্রশিক্ষণ কার্যক্রম বাস্তবায়নে সহযোগিতা করছে শরণ, স্বপ্নীল ব্রাইট ফাউন্ডেশন, বিভা, রিডো, ঠিকানা, স্পার, এসএসডি, পল্লী সেবা সংস্থা, প্রদীপন ও এআরপি।