খুঁজুন
, ,

জামিন পেলেন ইমরান খান

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Friday, 12 May, 2023, 5:27 pm
জামিন পেলেন ইমরান খান

পাকিস্তানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী, রাজনৈতিক দল পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফ (পিটিআই) এর চেয়ারম্যান ইমরান খান আল-কাদির ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় ইসলামাবাদ হাই কোর্ট থেকে জামিন পেয়েছেন।

শুক্রবার ইসলামাবাদ হাই কোর্টের (আইএইচসি) একটি ডিভিশন বেঞ্চ ইমরানের জামিন মঞ্জুর করেন বলে জানিয়েছে ডন অনলাইন।

একদিন আগে বৃহস্পতিবার পাকিস্তান সুপ্রিম কোট আইএইচসি প্রাঙ্গণ থেকে পিটিআইয়ের শীর্ষ নেতার গ্রেপ্তারকে ‘অবৈধ ও বেআইনি’ বলে উল্লেখ করেছিল।

বিচারক মিয়ানগুল হাসান আওরঙ্গজেব ও বিচারক সামান রাফাত ইমতিয়াজের ডিভিশন বেঞ্চ আদালতের ২ নম্বর কক্ষে ইমরানের জামিনের আবেদনের শুনানি করেন।

এ সময় ইমরানের আইনজীবীরা অতিরিক্ত আরও চারটি আবেদন দাখিল করেন। এসব আবেদনে ইমরানের বিরুদ্ধে দায়ের করা সব মামলা একত্রিত করার এবং সেসব মামলার বিস্তারিত জানানোর জন্য কর্তৃপক্ষকে নিদের্শনা দিতে আইএইচসির কাছে আর্জি জানানো হয়।

শুনানি চলাকালে ইমরান বলেছিলেন, তাকে আবার গ্রেপ্তার করা হলে দেশজুড়ে অশান্তি দেখা দিতে পারে, তবে তিনি এমনটি চান না।

হাই কোর্টের নির্দেশনা অনুযায়ী এ দিন স্থানীয় সময় সকাল ১১টায় শুনানি শুরুর কথা থাকলেও প্রায় দুই ঘণ্টা দেরিতে তা শুরু হয়। গণমাধ্যমের প্রতিবেদনগুলোতে বলা হয়েছে, কর্মকর্তারা আদালত কক্ষের বাইরে নিরাপত্তা তল্লাশি পরিচালনা করছিলেন, যার কারণে শুনানি শুরু হতে দেরি হয়।

দুপুর ১টায় শুনানি শুরু হলেও জুমার নামাজের জন্য কিছুক্ষণের মধ্যেই তা মুলতবী করা হয়। অপরদিকে জিও নিউজ জানিয়েছে, আদালত কক্ষে ইমরানের পক্ষে শ্লোগান দেওয়া হলে বিচারকদ্বয় তাকে ‘অগ্রহণযোগ্য’ মন্তব্য করে কক্ষ ত্যাগ করেন।

দুপুর আড়াইটার পর শুনানি আবার শুরু হয়। এ সময় নিজের আইনজীবী দলের সঙ্গে ইমরান আদালত কক্ষে উপস্থিত ছিলেন আর তার আইনজীবী খাজা হ্যারিস তার যুক্তিতর্ক তুলে ধরেন।

হ্যারিস ‍যুক্তি তুলে দরে আদালতকে বলেন, ন্যাশনাল অ্যাকাউন্টেবিলিটি ব্যুরো (এনএবি) ইমরানকে যেভাবে গ্রেপ্তার করে তা অবৈধ ছিল। তিনি জানান, অনুসন্ধান আনুষ্ঠানিকভাবে তদন্তে রূপ নিলে এনএবি শুধু একটি গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করতে পারে।

হ্যারিস আরও জানান, পিটিআই জানতে পেরেছে এনএবি গণমাধ্যমের প্রতিবেদনের ওপর ভিত্তি করে আনুষ্ঠানিক তদন্তের উদ্যোগ নিয়েছিল। তিনি বলেন, পিটিআই প্রধান এনএবির অনুসন্ধানের প্রতিবেদন চাইতে ৯ মে আইএইচসিতে এসেছিলেন, কিন্তু আদালত কক্ষে প্রবেশের আগেই তাকে গ্রেপ্তার করে নিয়ে যাওয়া হয়। অ্যাকাউন্টেবিলিটি ব্যুরো ওই সময় ‘পক্ষপাতদুষ্ট’ আচরণ করেছে বলে হ্যারিস অভিযোগ করেন।

আদালত তখন ইমরানের জামিন আবেদন গ্রহণ করেন এবং এনএবির প্রসিকিউটর জেনারেল ও ইমরানের আইনজীবীদের পরবর্তী শুনানির জন্য প্রস্তুত থাকতে বলেন। আদালত জানান, ইমরানের জামিন বাতিল করা হবে না এর সময় বাড়ানো হবে তা পরবর্তী শুনানিতে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

আপাতত ইমরানকে ১৫ দিনের সুরক্ষামূলক জামিন দেওয়া হয়েছে এবং ৯ মে-র পরে দায়ের করা কোনো মামলায় বুধবার (১৭ মে) পর্যন্ত তাকে গ্রেপ্তার না করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ দিয়েছেন আদালত, জানিয়েছে জিও নিউজ।

Feb2
Feb2

সারোয়ার আলমগীরের প্রার্থিতা বহাল, গেজেট ও শপথে বাধা নেই

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Thursday, 9 July, 2026, 11:51 am
সারোয়ার আলমগীরের প্রার্থিতা বহাল, গেজেট ও শপথে বাধা নেই

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে চট্টগ্রাম-২ আসনে বিজয়ী বিএনপির প্রার্থী সারোয়ার আলমগীর সংসদ সদস্য হিসেবে শপথ নিতে বাধা নেই বলে রায় দিয়েছেন হাইকোর্ট। তার প্রার্থিতা বৈধ ঘোষণা করে আদালত এ রায় দেন। বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) হাইকোর্টের বিচারপতি ফাহমিদা কাদের ও বিচারপতি মো. আসিফ হাসানের সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চ এ রায় দেন।

এর আগে এ বিষয়ে রায় ঘোষণার জন্য আজকের দিন ধার্য করেন হাইকোর্ট। আদালতে ওই দিন রিট আবেদনকারীর পক্ষে শুনানিতে ছিলেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী আহসানুল করিম ও ব্যারিস্টার এ. এম. মাহবুব উদ্দিন খোকন। সঙ্গে ছিলেন আইনজীবী মো. আনোয়ার হোসেন। জামায়াতের প্রার্থী নুরুল আমিনের পক্ষে ছিলেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী মুহাম্মদ শিশির মনির ও আইনজীবী আজিম উদ্দিন পাটোয়ারী।

গত ১২ ফেব্রুয়ারি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। এতে চট্টগ্রাম-২ আসনে বিএনপির প্রার্থী সারোয়ার আলমগীর অংশ নেন। তবে নির্বাচনে তার ফলাফল প্রকাশ সুপ্রিম কোর্টের সিদ্ধান্তে স্থগিত রয়েছে।

এর আগে নির্বাচন কমিশনে চট্টগ্রাম-২ আসনে বিএনপির প্রার্থী সারোয়ার আলমগীরের প্রার্থিতা বাতিল হয়। এ নিয়ে নির্বাচনের আগে প্রার্থিতা ফিরে পেতে হাইকোর্টে রিট করেন সারোয়ার আলমগীর। রিটের প্রাথমিক শুনানি নিয়ে গত ২৭ জানুয়ারি হাইকোর্ট রুল জারি করে সারোয়ার আলমগীরকে নির্বাচনে অংশগ্রহণের অনুমতি দিতে এবং ‘ধানের শীষ’ প্রতীক বরাদ্দ দিতে নির্দেশ দেন।

তবে হাইকোর্টের ওই আদেশের বিরুদ্ধে লিভ টু আপিল (আপিলের অনুমতি চেয়ে আবেদন) করেন একই আসনে জামায়াতের প্রার্থী মুহাম্মদ নুরুল আমিন। ঋণখেলাপির অভিযোগ এনে তিনি এ আবেদন করেন। লিভ টু আপিল মঞ্জুর করে গত ৩ ফেব্রুয়ারি আদেশ দেন আপিল বিভাগ। তাতে বলা হয়, যদি সারোয়ার আলমগীর নির্বাচনে বিজয়ী হন, তবে সংশ্লিষ্ট আসনের নির্বাচনের ফলাফল (যতটুকু তার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য) এ-সংক্রান্ত আপিলের চূড়ান্ত নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত প্রকাশ স্থগিত থাকবে।

লিভ টু আপিল মঞ্জুরের পর গত ৩১ মার্চ নিয়মিত আপিল করেন জামায়াতের প্রার্থী। ওই আপিলের ওপর শুনানি শেষে ১৬ জুন আদেশ দেন আপিল বিভাগ। আপিল নিষ্পত্তি করে দেওয়া আদেশে আপিল বিভাগ দ্রুত, সম্ভব হলে দুই সপ্তাহের মধ্যে, হাইকোর্টকে রুল নিষ্পত্তি করতে বলেন। রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত গত ৩ ফেব্রুয়ারি আপিল বিভাগের দেওয়া আদেশ বহাল থাকবে বলেও উল্লেখ করা হয়। অর্থাৎ, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত সারোয়ার আলমগীরের নির্বাচনী ফলাফল (যতটুকু তার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য) প্রকাশ স্থগিত থাকবে।

আপিল বিভাগের আদেশের পর রিটটি চূড়ান্ত শুনানির জন্য ২১ জুন হাইকোর্টের কার্যতালিকায় ওঠে। সেদিন আদালত রুল শুনানির জন্য দিন ধার্য করেন। এর ধারাবাহিকতায় শুনানি অনুষ্ঠিত হয়।

ইসরায়েলের প্রতি অকুণ্ঠ সমর্থন আর্জেন্টিনার প্রেসিডেন্টের

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Thursday, 9 July, 2026, 8:07 am
ইসরায়েলের প্রতি অকুণ্ঠ সমর্থন আর্জেন্টিনার প্রেসিডেন্টের

মধ্যপ্রাচ্যের ইহুদিবাদী দখলদার রাষ্ট্র ইসরায়েল এবং সেখানকার ইহুদি জনগণের প্রতি নিজের অটল সমর্থন আবারও স্পষ্ট করলেন আর্জেন্টিনার প্রেসিডেন্ট হাভিয়ের মিলেই। যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কভিত্তিক ইয়েশিভা ইউনিভার্সিটিতে দেওয়া এক ভাষণে তিনি নিজেকে ‘বিশ্বের সবচেয়ে বড় জায়নবাদী (ইহুদিবাদী) রাষ্ট্রপ্রধান’ বলে দাবি করেন।

একই সঙ্গে তিনি পশ্চিমা সভ্যতার ভিত্তি, ধর্মীয় মূল্যবোধ এবং আর্জেন্টিনার নতুন পররাষ্ট্রনীতি নিয়েও নিজের অবস্থান তুলে ধরেন।

গত সোমবার স্থানীয় য়েশিভা বিশ্ববিদ্যালয়ে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেওয়ার সময় মিলেই তার কট্টর ইসরায়েলপন্থী পররাষ্ট্রনীতির সমালোচনাকারী রাজনৈতিক তাত্ত্বিকদের তীব্র সমালোচনা করেন।

কট্টর উদারতাবাদী (লিবার্টারিয়ান) তাত্ত্বিক হান্স-হারম্যান হোপের সমালোচনার প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, ‘আমি ইসরায়েলের একজন শক্তিশালী সমর্থক হওয়ায় হোপে বিরক্ত।’ এরপর উপস্থিত দর্শকদের করতালির মধ্যে তিনি গর্বের সঙ্গে নিজেকে বিশ্বের সবচেয়ে বড় জায়নবাদী রাষ্ট্রপ্রধান হিসেবে ঘোষণা করেন।

রাজনৈতিক অবস্থানের পাশাপাশি নিজের দার্শনিক দৃষ্টিভঙ্গিও তুলে ধরেন মিলেই। তিনি দাবি করেন, পশ্চিমা সভ্যতার তিনটি মৌলিক ভিত্তি-জীবন, স্বাধীনতা এবং ব্যক্তিগত সম্পত্তি- আসলে তাওরাত (তোরাহ) ও বাইবেলের ‘দশটি আদেশের’ (টেন কমান্ডমেন্টস) ওপর প্রতিষ্ঠিত।

বাইবেলের ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘আমাদের জন্য আইনের ফলকে যা লেখা রয়েছে তা হলো: চুরি করা ভুল, হত্যা করা ভুল।’

তিনি আরও বলেন, বাইবেলের এক্সোডাস বা মিসর থেকে ইসরায়েলিদের ঐতিহাসিক প্রস্থানের কাহিনীর মধ্যেই স্বাধীনতার মূল ধারণা গভীরভাবে নিহিত রয়েছে। প্রথম আদেশের উদ্ধৃতি দিয়ে তিনি বলেন, ‘সেখানেই স্বাধীনতা, জীবন এবং সম্পত্তিকে অলঙ্ঘনীয় অধিকার হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছে।’

নিজেকে একজন ‘অ্যানার্কো-ক্যাপিটালিস্ট’ (নৈরাজ্যবাদী-পুঁজিবাদী) হিসেবে পরিচয় দেওয়া হাভিয়ের মিলেই দীর্ঘদিন ধরেই ইহুদি ধর্মের প্রতি গভীর ব্যক্তিগত আগ্রহ দেখিয়ে আসছেন। নিয়মিত বিভিন্ন র‍্যাবাইয়ের (ইহুদি ধর্মযাজক) পরামর্শও নিয়ে থাকেন তিনি।

ধর্মীয় মূল্যবোধকে অপরিবর্তনীয় উল্লেখ করে আর্জেন্টিনার প্রেসিডেন্ট বলেন, এই মূল্যবোধগুলো নিয়ে কোনো ধরনের আপস করা যায় না। কিছু বিষয় নিয়ে আমরা কোনো আপস করব না এবং এই মূল্যবোধগুলোর ওপর ভিত্তি করেই পশ্চিমা সভ্যতার সব অগ্রগতি অর্জিত হয়েছে।

আধুনিক দার্শনিক চিন্তাধারার সমালোচনা করে মিলেই ‘নৈতিক আপেক্ষিকতাবাদ’ প্রত্যাখ্যান করেন। তার ভাষ্য, সামগ্রিক সব বিষয়ের জন্য কোনো নৈতিক আপেক্ষিকতাবাদ হতে পারে না; বরং পবিত্র ধর্মগ্রন্থগুলোতে এমন কিছু মৌলিক মূল্যবোধ নির্ধারণ করে দেওয়া হয়েছে, যা কখনোই লঙ্ঘন করা উচিত নয়।

২০২৩ সালের শেষভাগে ক্ষমতা গ্রহণের পর থেকেই আর্জেন্টিনার দীর্ঘদিনের পররাষ্ট্রনীতিতে নাটকীয় পরিবর্তন এনেছেন হাভিয়ের মিলেই। তিনি দেশটিকে চীন বা রাশিয়ার বলয় থেকে বের করে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং ইসরায়েলের অন্যতম ঘনিষ্ঠ মিত্র হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করার চেষ্টা করছেন।

প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হওয়ার পরপরই প্রথম বিদেশ সফরে তিনি ইসরায়েল যান। সেখানে জেরুজালেমের পবিত্র ‘ওয়েস্টার্ন ওয়াল’ বা পশ্চিম দেয়ালে প্রার্থনা করার পাশাপাশি বুয়েনস এইরেসে অবস্থিত আর্জেন্টিনার দূতাবাস জেরুজালেমে স্থানান্তরের প্রতিশ্রুতি দেন, যা ফিলিস্তিনিদের দাবির প্রেক্ষাপটে আন্তর্জাতিকভাবে অত্যন্ত সংবেদনশীল একটি বিষয়।

দুঃখী মানুষের পাশে সবসময় আছেন প্রধানমন্ত্রী : মীর হেলাল

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Wednesday, 8 July, 2026, 11:31 pm
দুঃখী মানুষের পাশে সবসময় আছেন প্রধানমন্ত্রী : মীর হেলাল

দেশের যেকোনো দুর্যোগে ও দেশের কল্যাণ সাধনে দুঃখী মানুষের পাশে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সবসময় আছেন এবং ভবিষ্যতেও থাকবেন। প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনায় চট্টগ্রামের প্রতিটি ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের দ্বারে দ্বারে ত্রাণসামগ্রী যথাসময়ে পৌঁছে দেওয়া হবে, কেউ সহায়তাহীন থাকবে না।

আজ বুধবার (৮ জুলাই) বিকালে চট্টগ্রামের বিভিন্ন বন্যা ও পাহাড়ধস প্রবণ এলাকা পরিদর্শন এবং ক্ষতিগ্রস্তদের মাঝে প্রধানমন্ত্রীর ত্রাণসামগ্রী বিতরণকালে ভূমি ও পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ব্যারিস্টার মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দীন এমপি এসব কথা বলেন।

এর আগে আজ বিকালে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান-এর নির্দেশে ঢাকায় তাঁর কার্যালয়ে সাক্ষাৎ করেন প্রতিমন্ত্রী মীর হেলাল উদ্দীন। সাক্ষাৎকালে প্রধানমন্ত্রী চট্টগ্রাম ও পার্বত্য চট্টগ্রামের বিভিন্ন এলাকায় অধিক বৃষ্টিপাতে সৃষ্ট প্রাকৃতিক বিপর্যয়ে উদ্ভূত পরিস্থিতির সার্বিক খোঁজখবর নেন এবং এ সংক্রান্ত দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্ট সকলকে নির্দেশনা দেন। তিনি কঠিন এই পরিস্থিতিতে দেশবাসীকে ধৈর্য ধারণের আহ্বান জানিয়ে দুর্গত মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণসহ খাদ্য, বস্ত্র ও আশ্রয় দিয়ে সহায়তা করার প্রতি বিশেষ জোর দেন।

প্রধানমন্ত্রীর সেই সদয় নির্দেশনা পাওয়ার পর পরই বৈরী আবহাওয়াকে উপেক্ষা করে মানুষের কল্যাণের জন্য তড়িঘড়ি করে চট্টগ্রামের উদ্দেশ্যে রওয়ানা হন প্রতিমন্ত্রী ব্যারিস্টার মীর হেলাল। তিনি সন্ধ্যা ৬.৩০ মিনিটে চট্টগ্রাম শহরে পৌঁছান এবং দিনব্যাপী কঠোর পরিশ্রম করে চট্টগ্রামের বিভিন্ন এলাকা ও হাটহাজারী উপজেলার ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের মাঝে প্রধানমন্ত্রীর ত্রাণসামগ্রী পৌঁছে দেন। এ সময় স্থানীয় প্রশাসন, দলীয় নেতাকর্মীসহ ত্রাণ গ্রহীতা সর্বস্তরের ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।

প্রতিমন্ত্রীর ঝটিকা সফর ও ত্রাণ বিতরণের সময়সূচি অনুযায়ী আজ রাত ৯ টা চট্টগ্রামের হাটহাজারী পৌরসভার ৩নং আজিমপুর ওয়ার্ড এলাকায় প্রবল বর্ষণে ক্ষতিগ্রস্ত জনগণকে প্রধানমন্ত্রীর পক্ষ থেকে ত্রাণসহায়তা পৌঁছে দেন প্রতিমন্ত্রী। এর আগে রাত ৮.৩০ মিনিটে হাটহাজারী উপজেলার মেখলস্থ ইছাপুর এলাকায় প্রবল বর্ষণে ক্ষতিগ্রস্ত দুর্গত মানুষের মাঝে ত্রাণসামগ্রী বিতরণ করেন। তিনি আজ রাত ৭.৩০ মিনিটে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের ১নং দক্ষিণ পাহাড়তলীস্থ খিল্লাপাড়া এলাকায় প্রবল বর্ষণে ক্ষতিগ্রস্ত জনগণকে প্রধানমন্ত্রীর ত্রাণসহায়তা পৌঁছে দেন। রাত ৭.০০ টায় চট্টগ্রামের জালালাবাদস্থ বটতল এলাকায় প্রবল বর্ষণে প্লাবিত এলাকা পরিদর্শন করেন ও ত্রাণ বিতরণ করেন এবং প্রধানমন্ত্রীর পক্ষ থেকে সরকারি সহায়তার বার্তা পৌঁছে দেন।

ভূমি ও পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী মীর হেলাল আজ ৬.৪০ মিনিটে চট্টগ্রাম মহানগরের বায়েজিদ থানার অন্তর্গত বাংলাবাজার ব্যাংক কলোনি পাহাড়ের ফাটলস্থল পরিদর্শন করেন এবং এলাকাবাসীকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানান। একই সাথে প্রধানমন্ত্রীর পক্ষ থেকে দ্রুত সরকারি সহায়তা পৌঁছে দেওয়ার আশ্বাস প্রদান করেন।

উল্লেখ্য, কয়েকদিনের অবিরাম বর্ষণে চট্টগ্রাম এবং পার্বত্য চট্টগ্রামের তিন জেলায় তৈরি হওয়া জলাবদ্ধতা ও স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ব্যাহত হওয়ায় গভীর দুঃখ প্রকাশ করেছেন প্রতিমন্ত্রী ব্যারিস্টার মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দীন, এমপি।

গতকাল রাতে দেওয়া এক ভিডিও বার্তায় তিনি প্রাকৃতিকভাবে সৃষ্ট এই বৈরী আবহাওয়া থেকে নিজেদের জানমাল রক্ষা এবং ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোকে সহায়তা করার জন্য চট্টগ্রাম বিভাগের স্থানীয় প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) ও এর অঙ্গসংগঠনসহ সকল জনপ্রতিনিধি, দলীয় নেতাকর্মী এবং স্থানীয় তরুণ সমাজকে সমন্বিতভাবে সর্বাত্মক পাশে দাঁড়ানোর উদাত্ত আহ্বান জানিয়েছেন।