খুঁজুন
, ,

পচা বাসি ভেজাল মুক্ত মানসম্মত পণ্য প্রাপ্তি নিশ্চিত করুন-সুজন

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Wednesday, 1 January, 2020, 8:17 pm
পচা বাসি ভেজাল মুক্ত মানসম্মত পণ্য প্রাপ্তি নিশ্চিত করুন-সুজন

নিরাপদ খাদ্য ব্যস্থাপনার লক্ষ্যে পচা বাসি ভেজাল মুক্ত মানসম্মত পণ্য প্রাপ্তি নিশ্চিত করার জন্য বাংলাদেশ স্ট্যান্ডার্ডস এন্ড টেস্টিং ইন্সটিটিউশন (বিএসটিআই) চট্টগ্রাম আঞ্চলিক কার্যালয়ের পরিচালক ইঞ্জিনিয়ার মোঃ সেলিম রেজার প্রতি আহবান জানিয়েছেন চট্টগ্রাম মহানগর আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি খোরশেদ আলম সুজন।

তিনি আজ বুধবার (১ জানুয়ারী) বিকেলে আগ্রাবাদ জাম্বুরী পার্কস্থ বিএসটিআই চট্টগ্রাম আঞ্চলিক কার্যালয়ের পরিচালকের দপ্তরে এক মতবিনিময় সভায় উপরোক্ত মন্তব্য করেন।

এ সময় সুজন বলেন মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বাধীন বর্তমান সরকার দেশের সাধারন জনগনের মাঝে নিরাপদ খাদ্য দ্রব্য পৌঁছে দেওয়ার অঙ্গীকার নিয়ে নানাবিধ প্রকল্পের মাধ্যমে বিএসটিআইকে গতিশীল করার উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। বিএসটিআইও সে লক্ষ্যে তাদের কর্মকান্ড পরিচালনা করছে। তথাপি আমরা সাধারন জনগন উদ্বিগ্ন এবং শংকিত। কতিপয় অসাধু ব্যবসায়ীরা যেভাবে ভেজালের জাল বিস্তৃত করে রেখেছে তার থেকে সাধারন জনগনকে মুক্তি দিতে বিএসটিআইয়ের কার্যক্রমকে আরো গতিশীল করতে হবে। শুধুমাত্র মাঝে মাঝে কিছু কারখানা কিংবা দোকানপাটে অভিযান পরিচালনা করে জনগনকে ভেজালের হাত থেকে মুক্ত করা কোনভাবেই সম্ভব নয়। এজন্য প্রয়োজন সারা বছরব্যাপী পরিকল্পিত অভিযান। কারন আপনাদের মনে রাখতে হবে সরকারী প্রতিষ্ঠান হিসেবে বিএসটিআই জনগনের নিকট দায়বদ্ধ। জনগনের দায়বদ্ধতা থেকে কাজ করার জন্য বিএসটিআই এর সকল পর্যায়ের কর্মকর্তা কর্মচারীর নিকট উদাত্ত আহবান জানান তিনি।

তিনি আরো বলেন, ইদানিং আমরা লক্ষ্য করছি ভেজাল খাদ্য উৎপাদনকারী এবং বিপণনকারীরা তাদের নিত্য নতুন অপকৌশল চালিয়ে যাচ্ছে। তিনি দুঃখ প্রকাশ করে বলেন হরিপুর থেকে তেল এনে পরিশোধিত করে বিভিন্ন নামী দামী প্রতিষ্ঠান সেই তেল পেট্রোল পাম্পে ব্যবহার করছে। যার ফলে জনসাধারনের লাখ লাখ টাকার গাড়ীর যান্ত্রিক ত্রুটি ধরা পড়ছে। নষ্ট হচ্ছে ইঞ্জিন সহ দামী যন্ত্রপাতি। তাছাড়া সৌদি আরব এবং অন্যান্য দেশ থেকে ব্রোষ্টের তেল এনে সেই তেল পরিশোধিত করে ভোজ্য তেলের সাথে মিশ্রন করে প্রকাশ্যে বাজারে বিক্রয় করা হচ্ছে। এছাড়া বিভিন্ন দেশ থেকে আমদানীকৃত পচা বিবর্ণ খেজুর বাজারে বিক্রয় হচ্ছে। সাধারন জনগন না বুঝে এসব পণ্য ক্রয় করে প্রতারিত হচ্ছে। জনসন্মূখে এতোসব অপকর্ম চললেও বিএসটিআইয়ের কার্যত কোন দৃষ্টি নেই তাদের বিরুদ্ধে। ইতিমধ্যে আমরা বিভিন্ন মাধ্যম থেকে খবর পাচ্ছি আসন্ন রমজানকে টার্গেট করে ভেজাল খাদ্য উৎপাদনকারীরা এখন থেকেই ভোজ্যতেল, সেমাই, লাচ্ছা সেমাই, নুডুলস, ঘি সহ প্রয়োজনীয় ভেজাল খাদ্য দ্রব্য উৎপাদন শুরু করে দিয়েছে। কারণ রমজানের সময় আইন শৃংখলা বাহিনীর কঠোর নজরদারি থাকে তাই এ সময়টাকে টার্গেট করে তারা তাদের অপকর্ম চালিয়ে যাচ্ছে। আগে তারা বিভিন্ন হাট বাজারে তাদের ভেজাল খাদ্য দ্রব্য উৎপাদন করে বিপণন করতো। কিন্তু এখন তারা সরকারের বিভিন্ন বাহিনীর লোক চক্ষুর অন্তরালে অভিজাত এলাকার বাসা বাড়ি কিংবা ফ্ল্যাটে তাদের ভেজাল খাদ্য দ্রব্যের উৎপাদন চালিয়ে যাচ্ছে। তাদের চাকচিক্য মোড়কে ভোক্তাগণ প্রতিনিয়তই প্রতারিত হচ্ছে। বিভিন্ন নামহীন ব্র্যান্ডধারী অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে উৎপাদিত মিনারেল ওয়াটার নামক দূষিত পানি পান করে জনগন প্রায়শই দীর্ঘ মেয়াদী পীড়ায় পতিত হচ্ছে। এসব ভেজাল পণ্য সামগ্রী গ্রহণ করে বিভিন্ন পীড়ায় পতিত দেশের জনগনের আয়ের বিরাট একটি অংশ অসুখ বিসুখে ব্যয় হচ্ছে। তাই জনগনকে এসব ভেজাল খাদ্র দ্রব্য থেকে মুক্তি দিতে বিএসটিআইকে কার্যত একটি শক্তিশালী সেবাধর্মী প্রতিষ্টানে পরিনত করার উদ্যোগ গ্রহণ করার অনুরোধ জানান সুজন।

তিনি নিত্য নতুন প্রযুক্তি কিংবা অ্যাপস ব্যবহারের মাধ্যমে সাধারন জনগনের কাছাকাছি পৌছে ভেজাল খাদ্য দ্রব্য উৎপাদনকারী এবং সরবরাহকারীর তথ্য সংগ্রহ করার আহবান জানান। এছাড়া ভেজাল খাদ্য দ্রব্য উৎপাদনকারীদের বিরুদ্ধে শুধু জরিমানা নয় প্রয়োজনে আইন করে জেলসহ কঠোর শাস্তির ব্যবস্থা করার জন্য পরিচালকের নিকট আহবান জানান।

বিএসটিআই চট্টগ্রাম আঞ্চলিক কার্যালয়ের পরিচালক ইঞ্জিনিয়ার মোঃ সেলিম রেজা আন্তরিকতার সাথে নাগরিক উদ্যোগের নেতৃবৃন্দকে তার সাথে মতবিনিময় করতে আসায় সাধুবাদ জানান। তিনি বলেন বিভিন্ন সংবাদপত্র এবং সোশ্যাল মিডিয়া মারফত আমি নাগরিক উদ্যোগের জনহিতকর কর্মকান্ড সম্পর্কে অবহিত হয়েছি। সমাজের দায়বদ্ধতার জায়গা থেকে কাজ করার জন্য তিনি নাগরিক উদ্যোগের প্রধান উপদেষ্টা সহ সকল সদস্যকে অভিনন্দন জানান। তিনি বলেন যে কোন রাষ্ট্রের মূল ভিত্তি হচ্ছে জনগন। জনগন সচেতন থাকলে সেখানে কোন অনিয়ম দূর্নীতি দীর্ঘস্থায়ী হয় না। তিনি আরো বলেন ইতিমধ্যে মহাপরিচালক মহোদয় সকল আঞ্চলিক কার্যালয়কে ভেজাল খাদ্র দ্রব্য উৎপাদন এবং বিপণন বিষয়ে বিভিন্ন দিক নির্দেশনা প্রদান করেছেন। মহাপরিচালক মহোদয়ের নির্দেশনার সাথে নাগরিক উদ্যোগের উত্থাপিত বিষয়গুলো একে অপরের পরিপূরক হিসেবে কাজ করছে। বিএসটিআইকে গতিশীল করার মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর উদ্যোগের কথা জানিয়ে তিনি বলেন চট্টগ্রামের গুরুত্ব অনুধাবন করে বিএসটিআই চট্টগ্রাম আঞ্চলিক কার্যালয়ের প্রস্তাবিত তিন তলার স্থলে ইতিমধ্যে দশ তলা ভবন নির্মাণের অনুমোদন প্রদান করা হয়েছে। যার উন্নয়ন কাজও চলমান। এছাড়া পঞ্চাশ কোটি টাকার আধুনিক যন্ত্রপাতিও ক্রয় করা হয়েছে। নতুন ভবনে স্থানান্তরিত হলে বিএসটিআই নব উদ্যোমে কাজ করার অঙ্গীকার করবে জানিয়ে তিনি বলেন তখন বিভিন্ন পরীক্ষা নিরীক্ষা করার জন্য আর ঢাকায় যেতে হবে না। চট্টগ্রামেই সমগ্র পণ্যের পরীক্ষা নিরীক্ষা করা যাবে।

তিনি বিএসটিআইকে জনগনের কাছাকাছি পৌঁছে দেওয়ার জন্য তথ্য প্রযুক্তিবিদের পরামর্শ গ্রহণ করবেন বলে নেতৃবৃন্দকে আশ্বস্ত করেন।

এ সময় অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন বিএসটিআই উপ-পরিচালক (মেট) মোঃ শওকত ওসমান, উপ-পরিচালক (সিএম) মোঃ নুরুল আমিন, রাজনীতিবিদ আব্দুর রহমান মিয়া, সাইদুর রহমান চৌধুরী, নাগরিক উদ্যোগের সদস্য সচিব হাজী মোঃ হোসেন, নগর যুবলীগ সদস্য আব্দুল আজিম, অধ্যক্ষ কামরুল হোসেন, মোঃ শাহজাহান, মোঃ জাহাঙ্গীর, মোঃ নাছির, সফি আলম বাদশা, নগর ছাত্রলীগ সভাপতি এম ইমরান আহমেদ ইমু, মোঃ ওয়াসিম, আজম আলী জুয়েল, জাহিদুল ইসলাম প্রমূখ।

Feb2
Feb2

চট্টগ্রামে ডিবি অফিসের সামনেই ইয়াবার হাট, হাটের রাজা ইয়াবা সম্রাট জয়, জড়িত গোয়েন্দা পুলিশের কিছু অসাধু সদস্য

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Sunday, 23 August, 2026, 9:56 pm
চট্টগ্রামে ডিবি অফিসের সামনেই ইয়াবার হাট, হাটের রাজা ইয়াবা সম্রাট জয়, জড়িত গোয়েন্দা পুলিশের কিছু অসাধু সদস্য

চট্টগ্রাম প্রতিনিধি::চট্টগ্রামের মুনছুরাবাদে ডিবি (গোয়েন্দা) পুলিশের কার্যালয়ের সামনে কর্ণফুলী ক্লাবের মাঠে প্রকাশ্যে মাদক বেচাকেনার গুরুতর অভিযোগ উঠেছে।

জানাগেছে, চট্টগ্রামের ইয়াবা সম্রাট নামে খ্যাত জয় প্রতিদিন সন্ধ্যা ৬ টা থেকে রাত ১১টা পর্যন্ত কর্ণফুলী ক্লাবের মাঠে প্রকাশ্যে ইয়াবাসহ নানা নেশাজাত দ্রব্য বিক্রি করে । প্রতিদিন কোটি কোটি টাকার মাদক জাত দ্রব্য বিক্রি হয় কর্ণফুলী ক্লাবের মাঠে। এ ছাড়া পার্শ্ববর্তী রেশন স্টোর ও পুলিশের ব্র্যাক থেকেও ইয়াবা সাপ্লাই করে জয়।

অনুসন্ধানে জানা যায়, জয় এর এই অবৈধ মাদক ব্যবসার সাথে কিছু অসাধু গোয়েন্দা পুলিশের সদস্য জড়িত । ফলে নির্বিঘ্নে ও নিরাপদে মাদকের ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছে জয়।

‎অনুসন্ধানে জানাযায়, গনি আহামদের ছেলে জাবেদ ওরফে জয়, কাজীর দেউড়ি ২ নং গলির বাসিন্দা হলেও বর্তমানে বাকলিয়া থানার বলির হাট এলাকায় বসবাস করে।

সুত্র জানায়, ডিবি পুলিশের কনেস্টেবল আজাদ, রবিউল,  হানিফ, সঞ্জয়, আব্দুর রহিম, ইয়াবা সম্রাট জাবেদ ওরফে জয় এর সহযোগী বলে জানা গেছে।

‎এছাড়া কর্ণফুলী ক্লাব থেকে রূপসা বেকারী পর্যন্ত ব্যবসায়ী ও সাধারণ জনগণ জয়কে ডিবি অফিসার হিসাবে চিনে ও জানে, অনেকেই আবার জয়কে জয় স্যার বলে সম্বোধন করে।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে ডিবি পুলিশের কয়েকজন সদস্য বলেন, আইনের লোকেরা যখন বেআইনি কাজে জড়িয়ে পড়ে তখন কিছুই বলার থাকে না। পুলিশের ব্র্যাকে মাদক দ্রব্য রেখে গোয়েন্দা পুলিশের অফিসের সামনে কর্ণফুলী ক্লাবের মাঠে চট্টগ্রামের চিহ্নিত ইয়াবা ব্যবসায়ী মিস্ত্রী পাড়ার বিপ্লব ও বউ বাজারে ডাইল নুরুকে নিয়ে জয় যে মাদকের হাট বসায় তা মেনে নেওয়ার নয়। গোয়েন্দা পুলিশের যে সদস্যরা জয়ের সাথে জড়িত তারা সবাই কোটি কোটি টাকার মালিক তাদের টাকার দাপটে আমরা অসহায়। খোদ উর্ধ্বতনরাও টাকার কাছে জিম্মি বলে মনে হয়।

‎নেশাগ্রস্থ অবস্থায় জয় যখন পুলিশ ব্র্যাকে শুয়ে থাকে তখনও কিছুই বলার থাকেনা। সন্ধ্যা হলে নগরীর চিহ্নিত মাদক ব্যবসায়ীরা আসে কর্ণফুলী ক্লাবের মাঠে ।

‎সিএমপিতে দীর্ঘ দিন ধরে চট্টগ্রামের বাকলিয়ার মাদক সম্ম্রাট ইছহাক, সোবহান, ও পাহারতলীর মাদক সম্ম্রাট টেক্সি জসিম আলমগীর ও কদম তলীর শীর্ষ মাদক ব্যবসায়ি আলো সহ আরো অসংখ্য মাদক ব্যবসায়ীর নিকট মাদক ও ইয়াবা ট্যাবলেট বিক্রয় করে আসছে।

ক্লাবের ভিতরে মাঠে চেয়ার নিয়ে বসে থাকে, জয় , ডাইল নুরু ও ইয়াবা সম্রাট বিপ্লব। পার্টি আসলে ব্র্যাক থেকে মাদক দ্রব্য নিয়ে আসে অসাধু পুলিশ সদস্যরা।

‎এই বিষয়ে জয়ের কাছে জানতে চাইলে তিনি অসংলগ্ন কথাবার্তা বলেন। একবার বলেন আমি ফার্নিচার ব্যবসায়ী, আবার বলেন আমি এইসব ছেড়ে দিয়েছি। আবার অকথ্য ভাষায় গালাগালি করে বলেন, আমি জানি কে এইসব আমার ব্যাপারে বলেছে। আপনার খবর নিয়ে দেখবো আপনি কে ?

‎মাদকের ব্যাপারে সারাদেশের প্রসাশন জিরো টলারেন্স নীতি ঘোষনা করলেও সিএমপি গোয়েন্দা কার্যালয়ের সামনে এমন কান্ডকে ভাবিয়ে তোলে সচেতন মহলকে।

‎এই বিষয়ে ডিসি (ডিবি উত্তর) এর কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।

সিএমপিতে একসঙ্গে ৫ থানার ওসি রদবদল

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Sunday, 23 August, 2026, 9:29 pm
সিএমপিতে একসঙ্গে ৫ থানার ওসি রদবদল

চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের (সিএমপি) পাঁচ থানায় অফিসার ইনচার্জ (ওসি) পদে বড় ধরনের রদবদল করা হয়েছে। একই আদেশে কয়েকজন ওসিকে বদলি এবং বিভিন্ন ইউনিট থেকে নতুন কর্মকর্তাদের থানায় পদায়ন করা হয়েছে।

শনিবার (২৩ আগস্ট) সন্ধ্যায় সিএমপি কমিশনার হাসান মো. শওকত আলী স্বাক্ষরিত এক আদেশে এ রদবদলের তথ্য জানানো হয়।

আদেশ অনুযায়ী, কাউন্টার টেররিজম ইউনিটের পুলিশ পরিদর্শক নুর আহমদকে কর্ণফুলী থানার ওসি, সিটিএসবির মোহাম্মদ আবদুর রহিমকে খুলশী থানার ওসি এবং কর্ণফুলী থানার বর্তমান ওসি মো. ইখতিয়ারউদ্দিনকে বায়েজিদ বোস্তামি থানার ওসি হিসেবে পদায়ন করা হয়েছে।

এ ছাড়া ডিবি বন্দর জোনের পুলিশ পরিদর্শক মো. জয়নাল আবেদীন মন্ডলকে হালিশহর থানার ওসি এবং খুলশী থানার বর্তমান ওসি মোজাম্মেল হককে পাঁচলাইশ মডেল থানার ওসি করা হয়েছে।

অন্যদিকে, পাঁচলাইশ মডেল থানার বর্তমান ওসি মো. জাহেদুল ইসলামকে বদলি করে সিটিএসবিতে পদায়ন করা হয়েছে। পাশাপাশি সিটিএসবির মোহাম্মদ একরাম উল্লাহকে সদরঘাট থানার ওসি হিসেবে পদায়ন করা হয়েছে।

সিএমপির জনস্বার্থে জারি করা এ আদেশ অবিলম্বে কার্যকর হবে বলে আদেশে উল্লেখ করা হয়েছে।

পাহাড়ে ‘রেইনবো নেশন’ বাস্তবায়নে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান ভূমি ও পার্বত্য প্রতিমন্ত্রীর

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Sunday, 23 August, 2026, 8:20 pm
পাহাড়ে ‘রেইনবো নেশন’ বাস্তবায়নে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান ভূমি ও পার্বত্য প্রতিমন্ত্রীর

পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয় ও ভূমি মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ব্যারিস্টার মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দীন এমপি বলেছেন, পার্বত্য অঞ্চলের তিন জেলায় বসবাসরত পাহাড়ি-বাঙালি সব সম্প্রদায়ের মানুষের মধ্যে সম্প্রীতি সুদৃঢ় করে সরকার ঘোষিত ‘রেইনবো নেশন’ বাস্তবায়নে সবাইকে আন্তরিকভাবে কাজ করতে হবে।

তিনি উল্লেখ করেন, শুধু অবকাঠামোগত উন্নয়নই যথেষ্ট নয়; দুর্গম ও পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীর সামাজিক ও অর্থনৈতিক পরিবর্তনের লক্ষ্যে শিক্ষা, আধুনিক প্রযুক্তি এবং দক্ষতার বিকাশ ঘটিয়ে তাদের সুনাগরিক ও মানবসম্পদে পরিণত করতে হবে।

আজ রোববার রাঙ্গামাটিতে পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ড কর্তৃক আয়োজিত তথ্যপ্রযুক্তি বিষয়ক প্রশিক্ষণ সনদ, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে মাল্টিমিডিয়া সামগ্রী ও নারীদের আত্মকর্মসংস্থানের লক্ষ্যে সেলাই মেশিন বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। এর আগে প্রতিমন্ত্রী উন্নয়ন বোর্ডের কর্মকর্তা- কর্মচারীদের সাথে এক মতবিনিময় সভায় অংশ নেন।

প্রতিমন্ত্রী ব্যারিস্টার মীর হেলাল বলেন, পার্বত্য অঞ্চলের জনগণের জীবনমান উন্নয়ন ও অধিকার নিশ্চিত করার বৃহৎ দর্শন নিয়ে ১৯৭৬ সালে শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ড প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। সেই স্বপ্ন ও উদ্দেশ্য বাস্তবায়নে ধর্ম, বর্ণ বা গোত্র নির্বিশেষে সুবিধাবঞ্চিত মানুষের কাছে উন্নয়নের সুফল পৌঁছে দিতে হবে।

তরুণদের উদ্দেশ্যে ব্যারিস্টার মীর হেলাল বলেন, ফ্রিল্যান্সিংসহ আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর প্রশিক্ষণের ওপর জোর দেওয়া হচ্ছে যেন তারা ঘরে বসেই উপার্জন করতে পারেন এবং এই আয়কে সরকার করমুক্ত ঘোষণা করেছে। একইসঙ্গে ই-কমার্স প্ল্যাটফর্মের সুযোগ কাজে লাগানোর আহ্বান জানিয়ে তিনি যুবকদের দক্ষতা বৃদ্ধিতে উন্নয়ন বোর্ডকে নতুন নতুন স্কিম গ্রহণের নির্দেশনা দেন।

কর্মকর্তা-কর্মচারীদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, সরকার জনগণের সেবক। সেবার মানসিকতা নিয়ে সর্বোচ্চ নিষ্ঠার সঙ্গে কাজ করতে হবে যেন জনগণকে সেবার জন্য বারবার অফিসে আসতে না হয়, বরং সেবা পৌঁছে যায় মানুষের দোরগোড়ায়। এসডিজি অর্জনে মন্ত্রণালয় ও উন্নয়ন বোর্ডকে সমন্বিত পরিবারের মতো কাজ করতে হবে। এ সময় তিনি বোর্ডের শূন্য পদগুলো দ্রুত পূরণ করা, পেনশন সুবিধার বিষয়ে কার্যকর উদ্যোগ এবং পাড়া কেন্দ্রের কর্মীদের বেতন ও সুযোগ-সুবিধা যৌক্তিক পর্যায়ে উন্নীত করতে ডিপিপি (DPP) সংশোধনের আশ্বাস দেন।

দিনব্যাপী সফরকালে প্রতিমন্ত্রী ৫০ জন নারীকে সেলাই মেশিন ও ২৫০টি স্কুলে মাল্টিমিডিয়া সামগ্রী বিতরণ করেন। এছাড়া তিনি রাঙ্গামাটি শিশু পার্কের ওয়াচ টাওয়ার, জেলা পরিষদের ই-লার্নিং সেন্টার এবং খাগড়াছড়ি-রাঙ্গামাটি সড়কে মহাপুরম খালের ওপর ব্রিজের উদ্বোধন করেন।

পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ডের চেয়ারম্যান মেজর জেনারেল (অব.) অনুপ কুমার চাকমার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বোর্ডের ভাইস চেয়ারম্যান শেখ ছালেহ্ আহাম্মদ, জেলা পুলিশ সুপার মুহম্মদ আব্দুর রকিব, সদস্য (অর্থ) সুমন বড়ুয়া, সদস্য (পরিকল্পনা) জাহিদ ইকবালসহ সামরিক-বেসামরিক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।