খুঁজুন
, ,

স্মাট বাংলাদেশ বিনির্মাণে স্মার্ট পরিবার পরিকল্পনা সেবা নিশ্চিত করতে হবে : বিভাগীয় কমিশনার

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Thursday, 7 December, 2023, 5:19 pm
স্মাট বাংলাদেশ বিনির্মাণে স্মার্ট পরিবার পরিকল্পনা সেবা নিশ্চিত করতে হবে : বিভাগীয় কমিশনার

চট্টগ্রাম বিভাগীয় কমিশনার মোঃ তোফায়েল ইসলাম বলেছেন, বর্তমান সরকারের নিরলস প্রচেষ্টায় পরিবার পরিকল্পনা বিভাগ বাংলাদেশের উন্নয়নের ক্ষেত্রে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে চলছে। বিনামূল্যের পরিবার পরিকল্পনা সেবায় চট্টগ্রাম জেলার স্মার্ট মনিটরিং কার্যক্রম দেশের সর্বত্র প্রশংসিত হয়েছে। আগামী ২০৪১ সালের মধ্যে স্মাট বাংলাদেশ বিনির্মাণে চট্টগ্রামসহ সর্বত্র স্মার্ট পরিবার পরিকল্পনা সেবা নিশ্চিত করতে হবে। মাতৃ মৃত্যু ও শিশু মৃত্যুর হার শূণ্যের কোঠায় নামিতে আনতে শতভাগ প্রাতিষ্ঠানিক ডেলিভারী সেবা নিশ্চিত করতে হবে। পরিবার পরিকল্পনা সেবাকেন্দ্র গুলোকে জনগণের আস্থার স্থল হিসেবে পরিচিত করতে হবে।

আজ ৭ ডিসেম্বর বৃহস্পতিবার সকাল ১১টায় নগরীর কর্ণেলহাট ১০ শয্যা বিশিষ্ট মা ও শিশু কল্যাণ কেন্দ্রে পরিবার পরিকল্পনা চট্টগ্রাম বিভাগীয় কার্যালয় আয়োজিত পরিবার কল্যাণ সেবা ও প্রচার সপ্তাহের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

পরিবার কল্যাণ সেবা ও প্রচার সপ্তাহের (৯-১৪ ডিসেম্বর) এবারের মূল প্রতিপাদ্য বিষয় হচ্ছে-“নিরাপদ মাতৃত্ব পরিকল্পিত পরিবার, স্মার্ট বাংলাদেশ হোক আমাদের অঙ্গীকার”। অনুষ্ঠানের শুরুতে বেলুন ও পায়রা উড়িয়ে কর্মসূচীর উদ্বোধন করেন বিভাগীয় কমিশনার। সভা শেষে ফিতা কেটে কর্ণেলহাট ১০ শয্যা বিশিষ্ট মা ও শিশু কল্যাণ কেন্দ্র পরিদর্শন করেন তিনি।

অনুষ্ঠানে বিভাগীয় কমিশনার বলেন, বাল্যবিবাহ ফৌজদারী অপরাধ ও এটি রোধে জরিমানার বিধান রয়েছে। উন্নত জাতি গঠনে বাল্যবিবাহ রোধ করে প্রত্যেক মা, সন্তান ও পরিবারকে সুস্থ রাখতে সরকার বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছেন। জাতিসংঘ ও এনজিও সংস্থাগুলো সরকারকে এ বিষয়ে সহযোগিতা করছে। রুগ্ন মা ও সন্তানেরা উন্নত দেশ গঠনে নেতৃত্ব দিতে পারবেনা, আমরা বাল্যবিবাহমুক্ত স্মাট বাংলাদেশ গড়তে চাই। এ লক্ষ্যে ১৮ বছরের আগে বিয়ে ও ২০ বছরের আগে সন্তান নয়। গত নভেম্বর মাসে নগরীর কর্ণেলহাট ১০ শয্যা বিশিষ্ট মা ও শিশু কল্যাণ কেন্দ্রে ৫১টি প্রাতিষ্ঠানিক নরমাল ডেলিভারীর প্রশংসাসহ প্রাতিষ্ঠানিক নরমাল ডেলিভারীর সংখ্যা বৃদ্ধির বিষয়ে গুরুত্বারোপ করেন বিভাগীয় কমিশনার।

তিনি আরও বলেন, অনাকাঙ্খিত গর্ভধারণে মাতৃ ও শিশু স্বাস্থ্যের ঝুঁকি বাড়ে। সরকার এ বিষয় যথেষ্ট গুরুত্ব দিয়ে পরিবার পরিকল্পনা সেবাকে মানুষের দৌরগোড়ায় পৌঁছে দিচ্ছে। দেশের সকল হাসপাতাল, মা-শিশু কল্যাণ কেন্দ্র ও কমিউনিটি ক্লিনিকগুলো প্রাতিষ্ঠানিক ডেলিভারীর বিষয়ে অগ্রাধিকার দেয়ার কারণে মাতৃ ও শিশু মৃত্যুর হার কমেছে। মানুষের গড় আয়ু ৪৬/৪৭ বছর থেকে ৭২ বছরে উন্নীত হয়েছে। এর ধারাবাহিকতা ধরে রেখে পরিবার পরিকল্পনা, মা ও শিশু স্বাস্থ্য এবং কৈশোরকালীন স্বাস্থ্যসেবা প্রদানে সংশ্লিষ্ট সকলকে আরও আন্তরিক হতে হবে।

পরিবার পরিকল্পনা চট্টগ্রাম বিভাগীয় পরিচালক গোলাম মোঃ আজমের সভাপতিত্বে ও পরিবার পরিকল্পনা চট্টগ্রাম জেলা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক নাজমুল হাসানের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত পরিবার কল্যাণ সেবা ও প্রচার সপ্তাহের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন পরিবার পরিকল্পনা চট্টগ্রাম জেলার উপ-পরিচালক মোহাম্মদ আবুল কালাম ও সহকারী পরিচালক (সিসি) ডা. ছেহেলী নারগিস। স্বাগত বক্তব্য রাখেন কর্ণেলহাট ১০ শয্যা বিশিষ্ট মা ও শিশু কল্যাণ কেন্দ্রের মেডিকেল অফিসার ডা. শিরীণ আকতার রুহিনা। পরিবার পরিকল্পনা চট্টগ্রাম বিভাগীয় ও জেলা কার্যালয়ের বিভিন্ন স্তরে কর্মরত চিকিৎসক ও কর্মচারীরা অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।

পরিবার পরিকল্পনা চট্টগ্রাম বিভাগীয় পরিচালক গোলাম মোঃ আজম জানান, স্মার্ট বাংলাদেশ বির্নিমাণে এ অধিদপ্তর তথা স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রনালয় বদ্ধপরিকর। এরই আলোকে ২৪/৭ ঘন্টা সেবা প্রদানে সুখী পরিবার ১৬৭৬৭ কল সেন্টারসহ প্রত্যেকটি ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্রের জন্য চালু রয়েছে জরুরী হটলাইন সার্ভিস সেবা। বাল্যবিয়ে প্রতিরোধে বা যে কোন শিশু নির্যাতন প্রতরোধে প্রয়োজনীয় তথ্য ও সহায়তার জন্য ১০৯ ডায়েল করলেই মিলবে প্রয়োজনীয় তথ্যসেবা।

Feb2
Feb2

কক্সবাজার ও বান্দরবানে পাহাড়ধসে ৭ জনের মৃত্যু

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Thursday, 9 July, 2026, 12:27 pm
কক্সবাজার ও বান্দরবানে পাহাড়ধসে ৭ জনের মৃত্যু

টানা ভারী বর্ষণে কক্সবাজারের চকরিয়া ও বান্দরবানের লামায় পাহাড়ধসের পৃথক ঘটনায় ৭ জন নিহত হয়েছেন।

বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) ভোরে চকরিয়া উপজেলার মছনিয়া কাটা এলাকায় বসতঘরের ওপর পাহাড়ধসে মাটি চাপা পড়ে একই পরিবারের দুই শিশু মারা যাওয়ার তথ্য দিয়েছে চকরিয়া উপজেলা প্রশাসন। এছাড়া আজ ভোরে চকরিয়ার পার্শ্ববর্তী বান্দরবানের লামা উপজেলার আজিজনগর ইউনিয়নের মিশনপাড়া-পাগলির ঝিরি এলাকায় পৃথক দুই ঘটনায় পাঁচজন নিহত হয়েছেন।

চকরিয়ার ঘটনায় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শাহীন দেলোয়ার বলেন, তাৎক্ষণিকভাবে মৃতদের নাম জানা যায়নি। ভোরবেলায় মছনিয়াকাটা এলাকায় একটি বসতঘরে পাহাড়ধসে দুই শিশুসহ তাদের মা চাপা পড়েন। স্থানীয়রা তাদের উদ্ধার করে চকরিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক দুই শিশুকে মৃত ঘোষণা করেন এবং তাদের মা হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছেন।

অন্যদিকে বান্দারবানের লামায় আজিজনগরে একটি ঘটনায় একই পরিবারের তিনজন এবং অপর ঘটনায় স্বামী-স্ত্রী মারা গেছেন।

মৃত পাঁচজন হলেন- মিশনপাড়ার বাসিন্দা মোহাম্মদ ইউনুস (৪০), তার স্ত্রী রানু আক্তার (৩৫) ও তাদের ছেলে মোহাম্মদ সোলেমান (৫)। অপর ঘটনায় স্থানীয় বাসিন্দা মোহাম্মদ জুয়েল (৩৪) ও স্ত্রী কুলছুমা আক্তার (২৫) মাটিচাপা পড়ে মারা যান।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ভোরে পাহাড়ধসের পর এলাকার মানুষের চিৎকারে আশপাশের লোকজন ঘটনাস্থলে ছুটে যায়। পরে ফায়ার সার্ভিস ও পুলিশের সদস্যরা উদ্ধার অভিযান চালিয়ে পাঁচজনের মরদেহ উদ্ধার করেন।

বিষয়টি নিশ্চিত করে বান্দরবান জেলা পুলিশ সুপার মোহাম্মদ ওহাবুল ইসলাম খন্দকার বলেন, লামার আজিজনগরে পৃথক দুই ঘটনায় শিশুসহ পাঁচজনের মৃত্যু হয়েছে। ঘটনাস্থল থেকে মরদেহগুলো উদ্ধার করা হয়েছে এবং এ ঘটনায় আইনগত প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে বলে জানান তিনি।

সারোয়ার আলমগীরের প্রার্থিতা বহাল, গেজেট ও শপথে বাধা নেই

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Thursday, 9 July, 2026, 11:51 am
সারোয়ার আলমগীরের প্রার্থিতা বহাল, গেজেট ও শপথে বাধা নেই

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে চট্টগ্রাম-২ আসনে বিজয়ী বিএনপির প্রার্থী সারোয়ার আলমগীর সংসদ সদস্য হিসেবে শপথ নিতে বাধা নেই বলে রায় দিয়েছেন হাইকোর্ট। তার প্রার্থিতা বৈধ ঘোষণা করে আদালত এ রায় দেন। বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) হাইকোর্টের বিচারপতি ফাহমিদা কাদের ও বিচারপতি মো. আসিফ হাসানের সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চ এ রায় দেন।

এর আগে এ বিষয়ে রায় ঘোষণার জন্য আজকের দিন ধার্য করেন হাইকোর্ট। আদালতে ওই দিন রিট আবেদনকারীর পক্ষে শুনানিতে ছিলেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী আহসানুল করিম ও ব্যারিস্টার এ. এম. মাহবুব উদ্দিন খোকন। সঙ্গে ছিলেন আইনজীবী মো. আনোয়ার হোসেন। জামায়াতের প্রার্থী নুরুল আমিনের পক্ষে ছিলেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী মুহাম্মদ শিশির মনির ও আইনজীবী আজিম উদ্দিন পাটোয়ারী।

গত ১২ ফেব্রুয়ারি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। এতে চট্টগ্রাম-২ আসনে বিএনপির প্রার্থী সারোয়ার আলমগীর অংশ নেন। তবে নির্বাচনে তার ফলাফল প্রকাশ সুপ্রিম কোর্টের সিদ্ধান্তে স্থগিত রয়েছে।

এর আগে নির্বাচন কমিশনে চট্টগ্রাম-২ আসনে বিএনপির প্রার্থী সারোয়ার আলমগীরের প্রার্থিতা বাতিল হয়। এ নিয়ে নির্বাচনের আগে প্রার্থিতা ফিরে পেতে হাইকোর্টে রিট করেন সারোয়ার আলমগীর। রিটের প্রাথমিক শুনানি নিয়ে গত ২৭ জানুয়ারি হাইকোর্ট রুল জারি করে সারোয়ার আলমগীরকে নির্বাচনে অংশগ্রহণের অনুমতি দিতে এবং ‘ধানের শীষ’ প্রতীক বরাদ্দ দিতে নির্দেশ দেন।

তবে হাইকোর্টের ওই আদেশের বিরুদ্ধে লিভ টু আপিল (আপিলের অনুমতি চেয়ে আবেদন) করেন একই আসনে জামায়াতের প্রার্থী মুহাম্মদ নুরুল আমিন। ঋণখেলাপির অভিযোগ এনে তিনি এ আবেদন করেন। লিভ টু আপিল মঞ্জুর করে গত ৩ ফেব্রুয়ারি আদেশ দেন আপিল বিভাগ। তাতে বলা হয়, যদি সারোয়ার আলমগীর নির্বাচনে বিজয়ী হন, তবে সংশ্লিষ্ট আসনের নির্বাচনের ফলাফল (যতটুকু তার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য) এ-সংক্রান্ত আপিলের চূড়ান্ত নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত প্রকাশ স্থগিত থাকবে।

লিভ টু আপিল মঞ্জুরের পর গত ৩১ মার্চ নিয়মিত আপিল করেন জামায়াতের প্রার্থী। ওই আপিলের ওপর শুনানি শেষে ১৬ জুন আদেশ দেন আপিল বিভাগ। আপিল নিষ্পত্তি করে দেওয়া আদেশে আপিল বিভাগ দ্রুত, সম্ভব হলে দুই সপ্তাহের মধ্যে, হাইকোর্টকে রুল নিষ্পত্তি করতে বলেন। রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত গত ৩ ফেব্রুয়ারি আপিল বিভাগের দেওয়া আদেশ বহাল থাকবে বলেও উল্লেখ করা হয়। অর্থাৎ, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত সারোয়ার আলমগীরের নির্বাচনী ফলাফল (যতটুকু তার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য) প্রকাশ স্থগিত থাকবে।

আপিল বিভাগের আদেশের পর রিটটি চূড়ান্ত শুনানির জন্য ২১ জুন হাইকোর্টের কার্যতালিকায় ওঠে। সেদিন আদালত রুল শুনানির জন্য দিন ধার্য করেন। এর ধারাবাহিকতায় শুনানি অনুষ্ঠিত হয়।

ইসরায়েলের প্রতি অকুণ্ঠ সমর্থন আর্জেন্টিনার প্রেসিডেন্টের

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Thursday, 9 July, 2026, 8:07 am
ইসরায়েলের প্রতি অকুণ্ঠ সমর্থন আর্জেন্টিনার প্রেসিডেন্টের

মধ্যপ্রাচ্যের ইহুদিবাদী দখলদার রাষ্ট্র ইসরায়েল এবং সেখানকার ইহুদি জনগণের প্রতি নিজের অটল সমর্থন আবারও স্পষ্ট করলেন আর্জেন্টিনার প্রেসিডেন্ট হাভিয়ের মিলেই। যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কভিত্তিক ইয়েশিভা ইউনিভার্সিটিতে দেওয়া এক ভাষণে তিনি নিজেকে ‘বিশ্বের সবচেয়ে বড় জায়নবাদী (ইহুদিবাদী) রাষ্ট্রপ্রধান’ বলে দাবি করেন।

একই সঙ্গে তিনি পশ্চিমা সভ্যতার ভিত্তি, ধর্মীয় মূল্যবোধ এবং আর্জেন্টিনার নতুন পররাষ্ট্রনীতি নিয়েও নিজের অবস্থান তুলে ধরেন।

গত সোমবার স্থানীয় য়েশিভা বিশ্ববিদ্যালয়ে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেওয়ার সময় মিলেই তার কট্টর ইসরায়েলপন্থী পররাষ্ট্রনীতির সমালোচনাকারী রাজনৈতিক তাত্ত্বিকদের তীব্র সমালোচনা করেন।

কট্টর উদারতাবাদী (লিবার্টারিয়ান) তাত্ত্বিক হান্স-হারম্যান হোপের সমালোচনার প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, ‘আমি ইসরায়েলের একজন শক্তিশালী সমর্থক হওয়ায় হোপে বিরক্ত।’ এরপর উপস্থিত দর্শকদের করতালির মধ্যে তিনি গর্বের সঙ্গে নিজেকে বিশ্বের সবচেয়ে বড় জায়নবাদী রাষ্ট্রপ্রধান হিসেবে ঘোষণা করেন।

রাজনৈতিক অবস্থানের পাশাপাশি নিজের দার্শনিক দৃষ্টিভঙ্গিও তুলে ধরেন মিলেই। তিনি দাবি করেন, পশ্চিমা সভ্যতার তিনটি মৌলিক ভিত্তি-জীবন, স্বাধীনতা এবং ব্যক্তিগত সম্পত্তি- আসলে তাওরাত (তোরাহ) ও বাইবেলের ‘দশটি আদেশের’ (টেন কমান্ডমেন্টস) ওপর প্রতিষ্ঠিত।

বাইবেলের ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘আমাদের জন্য আইনের ফলকে যা লেখা রয়েছে তা হলো: চুরি করা ভুল, হত্যা করা ভুল।’

তিনি আরও বলেন, বাইবেলের এক্সোডাস বা মিসর থেকে ইসরায়েলিদের ঐতিহাসিক প্রস্থানের কাহিনীর মধ্যেই স্বাধীনতার মূল ধারণা গভীরভাবে নিহিত রয়েছে। প্রথম আদেশের উদ্ধৃতি দিয়ে তিনি বলেন, ‘সেখানেই স্বাধীনতা, জীবন এবং সম্পত্তিকে অলঙ্ঘনীয় অধিকার হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছে।’

নিজেকে একজন ‘অ্যানার্কো-ক্যাপিটালিস্ট’ (নৈরাজ্যবাদী-পুঁজিবাদী) হিসেবে পরিচয় দেওয়া হাভিয়ের মিলেই দীর্ঘদিন ধরেই ইহুদি ধর্মের প্রতি গভীর ব্যক্তিগত আগ্রহ দেখিয়ে আসছেন। নিয়মিত বিভিন্ন র‍্যাবাইয়ের (ইহুদি ধর্মযাজক) পরামর্শও নিয়ে থাকেন তিনি।

ধর্মীয় মূল্যবোধকে অপরিবর্তনীয় উল্লেখ করে আর্জেন্টিনার প্রেসিডেন্ট বলেন, এই মূল্যবোধগুলো নিয়ে কোনো ধরনের আপস করা যায় না। কিছু বিষয় নিয়ে আমরা কোনো আপস করব না এবং এই মূল্যবোধগুলোর ওপর ভিত্তি করেই পশ্চিমা সভ্যতার সব অগ্রগতি অর্জিত হয়েছে।

আধুনিক দার্শনিক চিন্তাধারার সমালোচনা করে মিলেই ‘নৈতিক আপেক্ষিকতাবাদ’ প্রত্যাখ্যান করেন। তার ভাষ্য, সামগ্রিক সব বিষয়ের জন্য কোনো নৈতিক আপেক্ষিকতাবাদ হতে পারে না; বরং পবিত্র ধর্মগ্রন্থগুলোতে এমন কিছু মৌলিক মূল্যবোধ নির্ধারণ করে দেওয়া হয়েছে, যা কখনোই লঙ্ঘন করা উচিত নয়।

২০২৩ সালের শেষভাগে ক্ষমতা গ্রহণের পর থেকেই আর্জেন্টিনার দীর্ঘদিনের পররাষ্ট্রনীতিতে নাটকীয় পরিবর্তন এনেছেন হাভিয়ের মিলেই। তিনি দেশটিকে চীন বা রাশিয়ার বলয় থেকে বের করে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং ইসরায়েলের অন্যতম ঘনিষ্ঠ মিত্র হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করার চেষ্টা করছেন।

প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হওয়ার পরপরই প্রথম বিদেশ সফরে তিনি ইসরায়েল যান। সেখানে জেরুজালেমের পবিত্র ‘ওয়েস্টার্ন ওয়াল’ বা পশ্চিম দেয়ালে প্রার্থনা করার পাশাপাশি বুয়েনস এইরেসে অবস্থিত আর্জেন্টিনার দূতাবাস জেরুজালেমে স্থানান্তরের প্রতিশ্রুতি দেন, যা ফিলিস্তিনিদের দাবির প্রেক্ষাপটে আন্তর্জাতিকভাবে অত্যন্ত সংবেদনশীল একটি বিষয়।