খুঁজুন
, ,

ডামি নির্বাচন ইতিমধ্যেই ড্যাম হয়ে গেছে: ডা. শাহাদাত

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Tuesday, 2 January, 2024, 6:01 pm
ডামি নির্বাচন ইতিমধ্যেই ড্যাম হয়ে গেছে: ডা. শাহাদাত

চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির আহবায়ক ডা. শাহাদাত হোসেন বলেছেন, আসন ভাগাভাগির এই নির্বাচনে আওয়ামীলীগ নিজেরা নিজেরা খুন করছে, নাশকতা করছে, মানুষ মারছে, আর এটা চাপিয়ে দিচ্ছে বিএনপির উপর। যারা দীর্ঘদিন ধরে মানুষের অধিকারের জন্য লড়াই করছে তাদের উপর চাপিয়ে দিচ্ছে। তারা জোর করে অবৈধ ক্ষমতা টিকিয়ে রাখতে চায়। তাই একতরফা নির্বাচনের ফলাফল ভোটের আগেই ঠিক করে রেখেছে। ১৮ সালে কেন্দ্রে যেতে বাধা দেওয়া ভোট ডাকাতরা ২৪ সালে এসে কেন্দ্রে নেওয়ার জন্য পাগল হয়ে গেছে। তবে অবৈধ সরকার যাতে জোর করে ক্ষমতায় থাকতে না পারে তাদের বিরুদ্ধে জণগণের শান্তিপূর্ণ অধিকার প্রয়োগ করতে হবে, কেউ ভোট দিতে যাবেন না, অবৈধ নির্বাচন মানবেন না। শুধু শুধু রাষ্ট্রের কয়েক হাজার কোটি টাকা খরচ করা ছাড়া আর কিছু নেই। তারা দেশের জনগণকে একদিকে পরিচালিত করার চেষ্টা করছে। একনেত্রীর নির্বাচনের মধ্যে দিয়ে গণতন্ত্রের কবর রচনা করেছে। ডামি নির্বাচন ইতিমধ্যেই ড্যাম হয়ে গেছে। এই নির্বাচন দেশের জনগণ প্রত্যাখ্যান করেছে। আওয়ামী লীগের সমর্থকরাও ভোট দিতে যাবে না।

তিনি মঙ্গলবার (২ জানুয়ারী) দুপুরে বকসির হাট ও টেরি বাজার এলাকায় সরকার পতনের একদফা দাবি ও ৭ জানুয়ারীর নির্বাচন বর্জনের আহ্বান জানিয়ে বিএনপির ডাকা অসহযোগ আন্দোলনের সমর্থনে জনমত তৈরির লক্ষ্যে কোতোয়ালি থানা বিএনপির গণসংযোগ ও লিফলেট বিতরণকালে এসব কথা বলেন।

তিনি নেতাকর্মীদের সাথে নিয়ে স্থানীয় ব্যবসায়ী, দোকানদার ও সাধারণ মানুষের মাঝে লিফলেট বিতরণ করে আসন ভাগাভাগির একতরফা ডামি নির্বাচন বর্জন করার আহ্বান জানান।

তিনি বলেন, সরকার জানে তাদের নৈতিক পরাজয় এরই মধ্যে হয়েছে। তাই সুষ্ঠু নির্বাচনে আসতে তাদের ভয় দেখেই তারা পাতানো নির্বাচন করছে। তারা উন্নয়ন আর অগ্রগতির কথা বলে। এত উন্নয়ন করেও নিরপেক্ষ নির্বাচন দিতে ভয় কেন? তারা পরাজয় নিশ্চিত জেনেই সুষ্ঠু নির্বাচন দিতে ভয় পায়। তারা দেশে আবার বাকশাল প্রতিষ্ঠা করতে চায়। তাদের এই দ্বিতীয় বাকশাল হতে দেয়া হবে না। মুক্তিযুদ্ধের পর একদলীয় শাসন ব্যবস্থা যেমন সফল হয়নি। তেমনি বর্তমান দ্বিতীয় বাকশাল শাসন ব্যবস্থা অব্যাহত রাখার অপচেষ্টাও সফল হবে না। আওয়ামী লীগ দেশের ওপর যে অবস্থা চাপিয়ে দিয়েছে, এটা অস্বাভাবিক, এভাবে চলতে পারে না। অবশ্যই পরিবর্তন হবে।

এতে উপস্থিত ছিলেন মহানগর বিএনপির যুগ্ম আহবায়ক ইয়াছিন চৌধুরী লিটন, আবদুল মান্নান, আহবায়ক কমিটির সদস্য হারুন জামান, মো. কামরুল ইসলাম, কোতোয়ালি থানা বিএনপির সভাপতি মন্জুর রহমান চৌধুরী, সাধারণ সম্পাদক আলহাজ্ব জাকির হোসেন, বকসির হাট ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি এস এম মুফিজ উল্লাহ, ওয়ার্ড বিএনপির সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ আবুল বশর, জসিম মিয়া, আবু ফয়েজ, বিএনপি নেতা দিদারুল আলম, নকিব উদ্দীন ভূইয়া, আনোয়ার হোসেন, আবুল কালাম, মহানগর যুবদলের সহ সভাপতি ইকবাল হোসেন সংগ্রাম, সম্পাদক মো. আলাউদ্দিন, মো. সালাউদ্দিন, বিএনপি নেতা মো. রিয়াদ, আবু বক্কর প্রমূখ।

তাছাড়া মঙ্গলবার সকালে রিয়াজুদ্দিন বাজার ও চৈতন্য গলি কাঁচা বাজার এলাকায় চট্টগ্রাম মহানগর বিএন‌পির সদস‌্য স‌চিব আবুল হা‌শেম বক্ক‌রের নেতৃ‌ত্বে গণসংযোগ ও লিফলেট বিতরণ করা হয়।

এতে আবুল হাশেম বক্কর বলেন, ৭ জানুয়ারী ‌জবরদস্তি করে জনগণকে ধমক দিয়ে আওয়ামী লীগ একটি অবৈধ একতরফা নির্বাচন করতে যাচ্ছে। তারা গণতন্ত্রকে আগেই হত্যা করেছে, এখন ডামি নির্বাচনের মাধ্যমে গণতন্ত্রকে দাফন করতে চায়। তারা একটা ‘আমরা আর মামুরা’ নির্বাচন করতে ছাচ্ছে। এ নির্বাচনের বিরুদ্ধে গোটা দেশ, গোটা জাতি। গত ১৫ বছর ধরে দুঃশাসনের হাতে বাংলাদেশের জনগণ জিম্মি। মানুষের মানবাধিকার আজ ধ্বংসের পথে। অবৈধ সরকারের পাতানো এই নির্বাচনে প্রার্থী নিজেই বলেন, আমি ভারতের প্রার্থী। ভাগ বাটোয়ারার এই নির্বাচন দেশের জনগণ প্রত্যাখ্যান করবে।

এতে উপস্থিত ছিলেন মহানগর বিএনপির যুগ্ম আহবায়ক এস এম সাইফুল আলম, মো. শাহ আলম, আলকরন ওয়ার্ড বিএনপির সাধারণ সম্পাদক জসিম মিয়া, বাগমনিরাম ওয়ার্ড বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আবু ফয়েজ, কোতোয়ালি থানা বিএনপির যুগ্ম সম্পাদক আনোয়ার হোসেন, আবুল কালাম, মহানগর যুবদলের যুগ্ম সম্পাদক সেলিম খান, তানভীর মল্লিক, কোষাধ্যক্ষ নুর হোসেন উজ্জ্বল, সহ সম্পাদক মো. বেলাল, বিএনপি নেতা জসিম উদ্দিন, মো. রিয়াদ, জানে আলম বাচা, যুবদল নেতা মাঈনুদ্দীন খান রাজিব, মাঈন উ‌দ্দিন, এমরান হো‌সেন প্রমূখ।

এছাড়া মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সদস্য আহমেদ উল আলম চৌধুরী রাসেল, মহানগর যুবদলের ক্রীড়া সম্পাদক জসিম উদ্দিন সাগর, সাবেক ছাত্রদল নেতা মো. আলমগীর, মহানগর ছাত্রদলের যুগ্ম আহ্বায়ক জাহেদ হোসেন জোসির নেতৃত্বে বদরপাতি এলাকায়, ইপিজেড থানা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক রোকন উদ্দিন মাহমুদের নেতৃত্বে মাদ্রাজী শাহ রোড, নেভী কলোনী রোড এলাকায়, মহানগর বিএনপির সাবেক সহ সাংগঠনিক সম্পাদক আব্দুল আলীম স্বপনের নেতৃত্বে মতিঝর্না, টাইগারপাস ও বাঘঘোনা এলাকায়, মহানগর যুবদলের সহ সভাপতি ফজলুল হক সুমন, পাহাড়তলী থানা যুবদলের সদস্য সচিব শওকত খাঁন রাজু ও যুগ্ম আহবায়ক দেলোয়ার হোসেন ফরহাদের নেতৃত্বে পাহাড়তলী স্টেশন রোড, ডেবারপাড় ও লেক ভিউ আবাসিক এলাকায়, মহানগর যুবদলের সহ সভাপতি ফজলুল হক সুমন, বন্দর থানা যুবদলের সি. যুগ্ম আহ্বায়ক মো. ইয়াছিন ও হালিশহর থানা যুবদলের সি. যুগ্ম আহবায়ক সাজ্জাদ আহমেদ সাদ্দামের নেতৃত্বে নিমতলা ও হালিশহর থানার রঙ্গীপাড়া বাজার এলাকায়, পাঁচলাইশ থানা যুবদলের আহবায়ক মো. আলী সাকি, মহানগর যুবদলের যুগ্ম সম্পাদক সেলিম উদ্দিন রাসেল, সহ সম্পাদক হামিদুল হক চৌধুরী ও থানা যুবদলের যুগ্ম আহবায়ক সরোয়ার উদ্দিন সেলিমের নেতৃত্বে হামজার বাগ এলাকায়, চবি ছাত্রদলের সাধারন সম্পাদক আব্দুল্লাহ আল নোমানের নেতৃত্বে কাজীর দেউড়ী এলাকায় গণসংযোগ ও লিফলেট বিতরণ করা হয়।

Feb2
Feb2

কক্সবাজার ও বান্দরবানে পাহাড়ধসে ৭ জনের মৃত্যু

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Thursday, 9 July, 2026, 12:27 pm
কক্সবাজার ও বান্দরবানে পাহাড়ধসে ৭ জনের মৃত্যু

টানা ভারী বর্ষণে কক্সবাজারের চকরিয়া ও বান্দরবানের লামায় পাহাড়ধসের পৃথক ঘটনায় ৭ জন নিহত হয়েছেন।

বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) ভোরে চকরিয়া উপজেলার মছনিয়া কাটা এলাকায় বসতঘরের ওপর পাহাড়ধসে মাটি চাপা পড়ে একই পরিবারের দুই শিশু মারা যাওয়ার তথ্য দিয়েছে চকরিয়া উপজেলা প্রশাসন। এছাড়া আজ ভোরে চকরিয়ার পার্শ্ববর্তী বান্দরবানের লামা উপজেলার আজিজনগর ইউনিয়নের মিশনপাড়া-পাগলির ঝিরি এলাকায় পৃথক দুই ঘটনায় পাঁচজন নিহত হয়েছেন।

চকরিয়ার ঘটনায় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শাহীন দেলোয়ার বলেন, তাৎক্ষণিকভাবে মৃতদের নাম জানা যায়নি। ভোরবেলায় মছনিয়াকাটা এলাকায় একটি বসতঘরে পাহাড়ধসে দুই শিশুসহ তাদের মা চাপা পড়েন। স্থানীয়রা তাদের উদ্ধার করে চকরিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক দুই শিশুকে মৃত ঘোষণা করেন এবং তাদের মা হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছেন।

অন্যদিকে বান্দারবানের লামায় আজিজনগরে একটি ঘটনায় একই পরিবারের তিনজন এবং অপর ঘটনায় স্বামী-স্ত্রী মারা গেছেন।

মৃত পাঁচজন হলেন- মিশনপাড়ার বাসিন্দা মোহাম্মদ ইউনুস (৪০), তার স্ত্রী রানু আক্তার (৩৫) ও তাদের ছেলে মোহাম্মদ সোলেমান (৫)। অপর ঘটনায় স্থানীয় বাসিন্দা মোহাম্মদ জুয়েল (৩৪) ও স্ত্রী কুলছুমা আক্তার (২৫) মাটিচাপা পড়ে মারা যান।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ভোরে পাহাড়ধসের পর এলাকার মানুষের চিৎকারে আশপাশের লোকজন ঘটনাস্থলে ছুটে যায়। পরে ফায়ার সার্ভিস ও পুলিশের সদস্যরা উদ্ধার অভিযান চালিয়ে পাঁচজনের মরদেহ উদ্ধার করেন।

বিষয়টি নিশ্চিত করে বান্দরবান জেলা পুলিশ সুপার মোহাম্মদ ওহাবুল ইসলাম খন্দকার বলেন, লামার আজিজনগরে পৃথক দুই ঘটনায় শিশুসহ পাঁচজনের মৃত্যু হয়েছে। ঘটনাস্থল থেকে মরদেহগুলো উদ্ধার করা হয়েছে এবং এ ঘটনায় আইনগত প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে বলে জানান তিনি।

সারোয়ার আলমগীরের প্রার্থিতা বহাল, গেজেট ও শপথে বাধা নেই

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Thursday, 9 July, 2026, 11:51 am
সারোয়ার আলমগীরের প্রার্থিতা বহাল, গেজেট ও শপথে বাধা নেই

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে চট্টগ্রাম-২ আসনে বিজয়ী বিএনপির প্রার্থী সারোয়ার আলমগীর সংসদ সদস্য হিসেবে শপথ নিতে বাধা নেই বলে রায় দিয়েছেন হাইকোর্ট। তার প্রার্থিতা বৈধ ঘোষণা করে আদালত এ রায় দেন। বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) হাইকোর্টের বিচারপতি ফাহমিদা কাদের ও বিচারপতি মো. আসিফ হাসানের সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চ এ রায় দেন।

এর আগে এ বিষয়ে রায় ঘোষণার জন্য আজকের দিন ধার্য করেন হাইকোর্ট। আদালতে ওই দিন রিট আবেদনকারীর পক্ষে শুনানিতে ছিলেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী আহসানুল করিম ও ব্যারিস্টার এ. এম. মাহবুব উদ্দিন খোকন। সঙ্গে ছিলেন আইনজীবী মো. আনোয়ার হোসেন। জামায়াতের প্রার্থী নুরুল আমিনের পক্ষে ছিলেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী মুহাম্মদ শিশির মনির ও আইনজীবী আজিম উদ্দিন পাটোয়ারী।

গত ১২ ফেব্রুয়ারি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। এতে চট্টগ্রাম-২ আসনে বিএনপির প্রার্থী সারোয়ার আলমগীর অংশ নেন। তবে নির্বাচনে তার ফলাফল প্রকাশ সুপ্রিম কোর্টের সিদ্ধান্তে স্থগিত রয়েছে।

এর আগে নির্বাচন কমিশনে চট্টগ্রাম-২ আসনে বিএনপির প্রার্থী সারোয়ার আলমগীরের প্রার্থিতা বাতিল হয়। এ নিয়ে নির্বাচনের আগে প্রার্থিতা ফিরে পেতে হাইকোর্টে রিট করেন সারোয়ার আলমগীর। রিটের প্রাথমিক শুনানি নিয়ে গত ২৭ জানুয়ারি হাইকোর্ট রুল জারি করে সারোয়ার আলমগীরকে নির্বাচনে অংশগ্রহণের অনুমতি দিতে এবং ‘ধানের শীষ’ প্রতীক বরাদ্দ দিতে নির্দেশ দেন।

তবে হাইকোর্টের ওই আদেশের বিরুদ্ধে লিভ টু আপিল (আপিলের অনুমতি চেয়ে আবেদন) করেন একই আসনে জামায়াতের প্রার্থী মুহাম্মদ নুরুল আমিন। ঋণখেলাপির অভিযোগ এনে তিনি এ আবেদন করেন। লিভ টু আপিল মঞ্জুর করে গত ৩ ফেব্রুয়ারি আদেশ দেন আপিল বিভাগ। তাতে বলা হয়, যদি সারোয়ার আলমগীর নির্বাচনে বিজয়ী হন, তবে সংশ্লিষ্ট আসনের নির্বাচনের ফলাফল (যতটুকু তার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য) এ-সংক্রান্ত আপিলের চূড়ান্ত নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত প্রকাশ স্থগিত থাকবে।

লিভ টু আপিল মঞ্জুরের পর গত ৩১ মার্চ নিয়মিত আপিল করেন জামায়াতের প্রার্থী। ওই আপিলের ওপর শুনানি শেষে ১৬ জুন আদেশ দেন আপিল বিভাগ। আপিল নিষ্পত্তি করে দেওয়া আদেশে আপিল বিভাগ দ্রুত, সম্ভব হলে দুই সপ্তাহের মধ্যে, হাইকোর্টকে রুল নিষ্পত্তি করতে বলেন। রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত গত ৩ ফেব্রুয়ারি আপিল বিভাগের দেওয়া আদেশ বহাল থাকবে বলেও উল্লেখ করা হয়। অর্থাৎ, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত সারোয়ার আলমগীরের নির্বাচনী ফলাফল (যতটুকু তার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য) প্রকাশ স্থগিত থাকবে।

আপিল বিভাগের আদেশের পর রিটটি চূড়ান্ত শুনানির জন্য ২১ জুন হাইকোর্টের কার্যতালিকায় ওঠে। সেদিন আদালত রুল শুনানির জন্য দিন ধার্য করেন। এর ধারাবাহিকতায় শুনানি অনুষ্ঠিত হয়।

ইসরায়েলের প্রতি অকুণ্ঠ সমর্থন আর্জেন্টিনার প্রেসিডেন্টের

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Thursday, 9 July, 2026, 8:07 am
ইসরায়েলের প্রতি অকুণ্ঠ সমর্থন আর্জেন্টিনার প্রেসিডেন্টের

মধ্যপ্রাচ্যের ইহুদিবাদী দখলদার রাষ্ট্র ইসরায়েল এবং সেখানকার ইহুদি জনগণের প্রতি নিজের অটল সমর্থন আবারও স্পষ্ট করলেন আর্জেন্টিনার প্রেসিডেন্ট হাভিয়ের মিলেই। যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কভিত্তিক ইয়েশিভা ইউনিভার্সিটিতে দেওয়া এক ভাষণে তিনি নিজেকে ‘বিশ্বের সবচেয়ে বড় জায়নবাদী (ইহুদিবাদী) রাষ্ট্রপ্রধান’ বলে দাবি করেন।

একই সঙ্গে তিনি পশ্চিমা সভ্যতার ভিত্তি, ধর্মীয় মূল্যবোধ এবং আর্জেন্টিনার নতুন পররাষ্ট্রনীতি নিয়েও নিজের অবস্থান তুলে ধরেন।

গত সোমবার স্থানীয় য়েশিভা বিশ্ববিদ্যালয়ে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেওয়ার সময় মিলেই তার কট্টর ইসরায়েলপন্থী পররাষ্ট্রনীতির সমালোচনাকারী রাজনৈতিক তাত্ত্বিকদের তীব্র সমালোচনা করেন।

কট্টর উদারতাবাদী (লিবার্টারিয়ান) তাত্ত্বিক হান্স-হারম্যান হোপের সমালোচনার প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, ‘আমি ইসরায়েলের একজন শক্তিশালী সমর্থক হওয়ায় হোপে বিরক্ত।’ এরপর উপস্থিত দর্শকদের করতালির মধ্যে তিনি গর্বের সঙ্গে নিজেকে বিশ্বের সবচেয়ে বড় জায়নবাদী রাষ্ট্রপ্রধান হিসেবে ঘোষণা করেন।

রাজনৈতিক অবস্থানের পাশাপাশি নিজের দার্শনিক দৃষ্টিভঙ্গিও তুলে ধরেন মিলেই। তিনি দাবি করেন, পশ্চিমা সভ্যতার তিনটি মৌলিক ভিত্তি-জীবন, স্বাধীনতা এবং ব্যক্তিগত সম্পত্তি- আসলে তাওরাত (তোরাহ) ও বাইবেলের ‘দশটি আদেশের’ (টেন কমান্ডমেন্টস) ওপর প্রতিষ্ঠিত।

বাইবেলের ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘আমাদের জন্য আইনের ফলকে যা লেখা রয়েছে তা হলো: চুরি করা ভুল, হত্যা করা ভুল।’

তিনি আরও বলেন, বাইবেলের এক্সোডাস বা মিসর থেকে ইসরায়েলিদের ঐতিহাসিক প্রস্থানের কাহিনীর মধ্যেই স্বাধীনতার মূল ধারণা গভীরভাবে নিহিত রয়েছে। প্রথম আদেশের উদ্ধৃতি দিয়ে তিনি বলেন, ‘সেখানেই স্বাধীনতা, জীবন এবং সম্পত্তিকে অলঙ্ঘনীয় অধিকার হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছে।’

নিজেকে একজন ‘অ্যানার্কো-ক্যাপিটালিস্ট’ (নৈরাজ্যবাদী-পুঁজিবাদী) হিসেবে পরিচয় দেওয়া হাভিয়ের মিলেই দীর্ঘদিন ধরেই ইহুদি ধর্মের প্রতি গভীর ব্যক্তিগত আগ্রহ দেখিয়ে আসছেন। নিয়মিত বিভিন্ন র‍্যাবাইয়ের (ইহুদি ধর্মযাজক) পরামর্শও নিয়ে থাকেন তিনি।

ধর্মীয় মূল্যবোধকে অপরিবর্তনীয় উল্লেখ করে আর্জেন্টিনার প্রেসিডেন্ট বলেন, এই মূল্যবোধগুলো নিয়ে কোনো ধরনের আপস করা যায় না। কিছু বিষয় নিয়ে আমরা কোনো আপস করব না এবং এই মূল্যবোধগুলোর ওপর ভিত্তি করেই পশ্চিমা সভ্যতার সব অগ্রগতি অর্জিত হয়েছে।

আধুনিক দার্শনিক চিন্তাধারার সমালোচনা করে মিলেই ‘নৈতিক আপেক্ষিকতাবাদ’ প্রত্যাখ্যান করেন। তার ভাষ্য, সামগ্রিক সব বিষয়ের জন্য কোনো নৈতিক আপেক্ষিকতাবাদ হতে পারে না; বরং পবিত্র ধর্মগ্রন্থগুলোতে এমন কিছু মৌলিক মূল্যবোধ নির্ধারণ করে দেওয়া হয়েছে, যা কখনোই লঙ্ঘন করা উচিত নয়।

২০২৩ সালের শেষভাগে ক্ষমতা গ্রহণের পর থেকেই আর্জেন্টিনার দীর্ঘদিনের পররাষ্ট্রনীতিতে নাটকীয় পরিবর্তন এনেছেন হাভিয়ের মিলেই। তিনি দেশটিকে চীন বা রাশিয়ার বলয় থেকে বের করে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং ইসরায়েলের অন্যতম ঘনিষ্ঠ মিত্র হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করার চেষ্টা করছেন।

প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হওয়ার পরপরই প্রথম বিদেশ সফরে তিনি ইসরায়েল যান। সেখানে জেরুজালেমের পবিত্র ‘ওয়েস্টার্ন ওয়াল’ বা পশ্চিম দেয়ালে প্রার্থনা করার পাশাপাশি বুয়েনস এইরেসে অবস্থিত আর্জেন্টিনার দূতাবাস জেরুজালেমে স্থানান্তরের প্রতিশ্রুতি দেন, যা ফিলিস্তিনিদের দাবির প্রেক্ষাপটে আন্তর্জাতিকভাবে অত্যন্ত সংবেদনশীল একটি বিষয়।