খুঁজুন
, ,

১৫ বছরে ১ লাখ ৫ হাজার কোটি টাকার ৯৫ প্রকল্প

কর্তাদের পকেটে ৩০ ভাগ

জরাজীর্ণ রেললাইন-ব্রিজ মেয়াদোত্তীর্ণ ইঞ্জিন-কোচ সংস্কারে নেই কার্যকর প্রকল্প

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Friday, 30 August, 2024, 9:10 am
কর্তাদের পকেটে ৩০ ভাগ

রেলওয়ের উন্নয়নে গত ১৫ বছরে রীতিমতো প্রকল্প নেওয়ার হিড়িক পড়েছিল। নতুন নতুন প্রকল্প নিতেই বেশি আগ্রহ ছিল এ খাতের দায়িত্বপ্রাপ্ত মন্ত্রী, সচিবসহ কর্তাব্যক্তিদের। কারণ বরাদ্দ অর্থের একটি বড় অংশ যায় কর্তাদের পকেটে-এটি এক রকম ‘ওপেন সিক্রেট’-অভিযোগ সংশ্লিষ্টদের। তাদের মতে, রাজনৈতিক বিবেচনায় নেওয়া প্রকল্প ব্যয়ের ১৫ থেকে ৩৫ শতাংশ দিতে হয় মন্ত্রণালয় ও রেল বিভাগের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের।

অন্যান্য খুচরা খরচের পর দেখা যায় বাস্তবে বরাদ্দের ৫০ শতাংশ ব্যয় হয় মূল কাজে। এতে এক রকম জোড়াতালি দিয়েই সম্পন্ন হচ্ছে রেলের অধিকাংশ উন্নয়ন কাজ। আর জরাজীর্ণ রেললাইন দিয়ে ঝুঁকি নিয়েই চলছে ট্রেন। ফলে লাইনচ্যুতির ঘটনাসহ ট্রেন দুর্ঘটনা হরহামেশাই ঘটছে। খবর সংশ্লিষ্ট সূত্রের।

রেলওয়ে পরিকল্পনা দপ্তর সূত্রে জানা গেছে, গত ১৫ বছরে রেলওয়ে উন্নয়নে ৯৫টি প্রকল্প বাস্তবায়ন হয়েছে। এতে খরচ হয়েছে ১ লাখ ৫ হাজার কোটি টাকার বেশি। বাস্তবায়িত অধিকাংশ প্রকল্পের মেয়াদ ২-৩ বার বৃদ্ধি করাসহ ব্যয় বেড়েছে দুই থেকে চারগুণ। ৯৫ প্রকল্পের মধ্যে জরাজীর্ণ রেলপথ, রেলওয়ে ব্রিজ, মেয়াদোত্তীর্ণ ইঞ্জিন-কোচ সংস্কারে যথাযথ প্রকল্প গ্রহণ করা হয়নি। এ সময়ে ক্ষমতাধর বড় কর্তা (রেলপথমন্ত্রী, সচিবসহ সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা) শুধু নতুন প্রকল্প গ্রহণ ও বাস্তবায়নের দিকে ছুটেছেন।

মাঠপর্যায়ের কিংবা সরাসরি রেলওয়ে অবকাঠামোর সঙ্গে সম্পৃক্ত দায়িত্বশীল কর্মকর্তারা নতুন প্রকল্পের পিডি (প্রকল্প পরিচালক) হিসাবে দায়িত্বে ছিলেন, এখনো আছেন অনেকে। রেলওয়ের সাবেক এক মহাপরিচালক (ডিজি) বলেন, জরাজীর্ণ লাইন নিয়ে মন্ত্রী, সচিবদের সামনে কথাই বলা যেত না।

নতুন প্রকল্প গ্রহণ ও বাস্তবায়ন রেলপথমন্ত্রী ও সচিবের ইশারায় হতো। ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানগুলো সরাসরি রাজনৈতিকভাবে রেলে কাজ করছে। রেলপথ বিভাগের ডিজিসহ কর্মকর্তারা শুধু হুকুম মানেন। প্রকল্প গ্রহণ থেকে বাস্তবায়ন পর্যন্ত প্রকল্পের পিডিকে (প্রকল্প পরিচালক) রেলপথমন্ত্রী এবং সচিবকে ‘ম্যানেজ’ করে কাজ করতে হয়েছে। এসব প্রকল্প থেকে নির্ধারিত ‘পার্সেন্টেজ’ বা ঘুস দিতে হয়েছে ঊর্ধ্বতনদের।

বুধবার ঢাকা-চট্টগ্রাম রুটের ষোলশহর এলাকায় তেলবাহী ট্রেন লাইনচ্যুত হয়েছে। প্রতি মাসে এমন লাইনচ্যুত, দুর্ঘটনার সংখ্যা (ছোট-বড়) প্রায় ২২ থেকে ২৫টি। মার্চে ২০ ঘণ্টার ব্যবধানে কুমিল্লার নাঙ্গলকোট ও বঙ্গবন্ধু সেতুর পূর্বপ্রান্তে যাত্রীবাহী বিজয় ও পঞ্চগড় এক্সপ্রেস লাইনচ্যুত হয়। এতে অন্তত ৭০ যাত্রী গুরুতর আহত হন।

এ প্রসঙ্গে রেলপথ মন্ত্রণালয়ের সচিব আবদুল বাকী বলেন, ‘রেলে লাইনচ্যুত কিংবা দুর্ঘটনা প্রায়ই ঘটছে। এসব দুর্ঘটনায় সাধারণ যাত্রী নিহতসহ গুরুতর আহতও হচ্ছেন। কার্যকর অর্থে রেলপথ সংস্কার এবং রক্ষণাবেক্ষণ করা হলে দুর্ঘটনা কমে আসত। অনিয়ম-দুর্নীতি হচ্ছে বলেই লাইনগুলো দিন দিন আরও জরাজীর্ণ হয়ে পড়ছে।

প্রকল্প গ্রহণ ও বাস্তবায়ন থেকে শুরু করে রেলপথে কী পরিমাণ বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে, কী পরিমাণ কাজ করা হয়েছে, সবই খোঁজ নেওয়া হচ্ছে। দুর্নীতিবাজদের বিন্দুমাত্র ছাড় দেওয়া হবে না। নতুন প্রকল্পের সঙ্গে সম্পৃক্ত ঠিকাদার, বাস্তবায়নের সঙ্গে থাকা রেলপথমন্ত্রী, সচিবসহ পিডিদের আমলনামা বের করা হবে। একই সঙ্গে জরাজীর্ণ লাইন সংস্কারে যথাযথ উদ্যোগ নেওয়া হবে।

৭৩ শতাংশ রেললাইন মেয়াদোত্তীর্ণ : রেলপথের প্রায় ৭৩ শতাংশ লাইন এবং ৭৭ শতাংশ রেল ইঞ্জিন মেয়াদোত্তীর্ণ। ফলে বারবার ট্রেন লাইনচ্যুত হয়। বাংলাদেশ রোড সেফটি ফাউন্ডেশনের হিসাবে ২০২৩ সালে ২৮৭টি রেলপথ দুর্ঘটনায় ৩১৮ জন নিহত ও ২৯৫ জন গুরুতর আহত হন। অন্যদিকে বাংলাদেশ যাত্রীকল্যাণ সমিতির হিসাব বলছে, ২০২১ সালে ৪০২টি রেল দুর্ঘটনায় কমপক্ষে ৩৯৬ জন নিহত হন। ২০২২ সালে ৬০৬টি রেল দুর্ঘটনায় ৫৫০ জন নিহত হয়েছেন।

রেলওয়ে অবকাঠামো দপ্তর সূত্র বলছে, দুর্ঘটনা-লাইনচ্যুতি কমে আসছে। কিন্তু এখনো যে হারে লাইনচ্যুতির ঘটনা ঘটছে তা বিশ্বের যে কোনো দেশের চেয়ে বেশি। ২০২৪-২৫ অর্থবছরের সারসংক্ষেপ থেকে জানা যায়, চলমান ২৯টি প্রকল্পের মধ্যে জরাজীর্ণ রেলপথ, রেলওয়ে ব্রিজ সংস্কার, টেকসই মেরামতের কোনো প্রকল্প নেই। এসব প্রকল্পে ১ লাখ ৩৮ হাজার ৯৯২ কোটি টাকা খরচ ধরা হয়েছে। অধিকাংশেই মেয়াদ ও অর্থ বৃদ্ধি করা হয়েছে। সমাপ্ত প্রকল্পের মধ্যে এমনো রয়েছে, শুরুতে ব্যয় ধরা ছিল ৭ হাজার কোটি টাকা। প্রকল্প শেষ হয়েছে ১৮ হাজার কোটি টাকায়।

রেলওয়ে অপারেশন, পরিবহণ, রোলিং স্টক ও পরিবহণ দপ্তর সূত্রে জানা যায়, ৩ হাজার ১১৪.৬৬ কিলোমিটার রেলপথের প্রায় ৯২ শতাংশ স্থানে যথাযথ পাথর নেই। ওইসব স্থানে হুক প্লেট খোলাসহ স্লিপার নড়বড়ে রয়েছে। রেলপথে দায়িত্বরত অতিরিক্ত প্রকৌশলী বলেন, রেলপথ সংস্কার অর্থ বরাদ্দ নামেমাত্র দেওয়া হয়।

গত অর্থবছরে দুই অঞ্চলে গড়ে ১৪০ কোটি টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়। প্রতিবছর শুধু রেললাইনে ৫ শতাংশ হারে প্রায় ৯০ লাখ সিএফটি পাথর প্রয়োজন। যার মূল্য আসে প্রায় ২০০ কোটি টাকা।

পরিবহণ দপ্তরের এক কর্মকর্তা বলেন, দুই অঞ্চলে যে বরাদ্দ দেওয়া হয়, সেই বরাদ্দের নামমাত্র কাজ করা হয়। সবই লুট হয়। লাইনে পাথর দেওয়া থেকে শুরু করে, ব্রিজ সংস্কার কিংবা অন্যান্য সংস্কারের ক্ষেত্রে-ছোটখাটো ঠিকাদারের সবাই রাজনৈতিক দলের। রেলপথমন্ত্রীর আত্মীয় কিংবা মন্ত্রীর ইশারা ছাড়া কোনো কাজই হয়নি।

২০২২ সালে ‘বঙ্গবন্ধু শতবার্ষিকী উদযাপন’ উপলক্ষ্যে রেলে প্রায় ২০০ কোটি টাকা ব্যয়ে ৫৩টি রেলওয়ে স্টেশন মেরামত-উঁচুকরণের প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হয়। এসব প্রকল্পের গুণগত মান দেখে, লিখিত বক্তব্য দিতে রেলের ১০ জন উপসচিবকে দায়িত্ব দেওয়া হয়।

রেল মন্ত্রণালয়ের এক উপসচিব জানান, বঙ্গবন্ধুর নামে যে ২০০ কোটি টাকার প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হয়েছে, এর অধিকাংশ অর্থই লুটপাট করা হয়েছে। ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানগুলোর কর্ণধার সবাই আওয়ামী লীগের ছিলেন।
আমরা (উপসচিবরা) প্রকল্প নিয়ে কিছুই বলতে পারিনি। একজন অতিরিক্ত সচিব প্রকল্পগুলো সমন্বয়ের দায়িত্বে ছিলেন। সেই অতিরিক্ত সচিব রেলপথমন্ত্রী যেভাবে চেয়েছেন, সেভাবেই সব করেছেন। রেলওয়ে অপারেশন ও পরিবহণ দপ্তর জরাজীর্ণ লাইন সংস্কারে ২০০ কোটি টাকা থেকে কিছু টাকা বরাদ্দের কথা জানালেও রেলপথমন্ত্রী ও সচিব সাড়া দেননি।

রেলওয়ে রোলিং স্টক দপ্তরে দুর্নীতি পদে পদে-এমন অভিযোগ দীর্ঘদিনের থাকলেও সংশ্লিষ্টরা আওয়ামী লীগ রাজনীতির ছত্রছায়ায় থাকায় কাউকেই শাস্তি পেতে হয়নি। কেনাকাটায় লাগাতার দুর্নীতি হলেও ক্ষমতাসীন দলের ছত্রছায়ায় থাকায় সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি।

রেলওয়ে প্রকৌশলী বিভাগের সাবেক এক প্রধান প্রকৌশলী জানান, গত ১৫ বছরে উচ্চগতির ইঞ্জিন ও কোচ আনা হলেও ওই সব প্রকল্পে দুর্নীতি-অনিয়মের ঘটনা ঘটেছে। বেশ কয়েকটি প্রকল্পে দুর্নীতি হওয়ায় দুদকে মামলাও রয়েছে। শুধু ক্ষমতাসীন দলের ছত্রছায়ায় থাকায় দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।

সূত্র বলছে, উচ্চমূল্যে বিদেশ থেকে ইঞ্জিন-কোচ আনা হলেও সুফল পাচ্ছেন না সাধারণ যাত্রীরা। ১২০-১৩০ কিলোমিটার গতির কোচ-ইঞ্জিন আনা হলেও বর্তমানে এসব কোচ, ইঞ্জিন গড়ে ৬৪ কিলোমিটার গতি নিয়ে চলাচল করছে। উচ্চমানের প্রায় ৪০টি ইঞ্জিন ক্রয় করা হলেও পূর্বাঞ্চলের আখাউড়া-সিলেটসহ রেলের বিভিন্ন সেকশনে এসব ইঞ্জিন চালানো সম্ভব হচ্ছে না।

শুধু জরাজীর্ণ লাইনের অজুহাতে। তাছাড়া দক্ষিণ কোরিয়া থেকে আনা ১০টি ইঞ্জিন ক্রয়ে ব্যাপক দুর্নীতির প্রমাণ পেয়েছে দুদক। ৩২২ কোটি ৬৮ লাখ ৮৯ হাজার টাকায় কেনা এসব ইঞ্জিনে গতিও উঠছে না। লাইন সংস্কার না করে এমন উচ্চ মানসম্পন্ন ইঞ্জিন-কোচ ক্রয়েও ছিল ব্যাপক লুটপাটের অভিযোগ।

Feb2

৫ ব্যাংকের মুনাফা কাটার সিদ্ধান্ত বাতিলের দাবিতে চট্টগ্রামে বিক্ষোভ

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Monday, 29 June, 2026, 2:50 pm
৫ ব্যাংকের মুনাফা কাটার সিদ্ধান্ত বাতিলের দাবিতে চট্টগ্রামে বিক্ষোভ

চট্টগ্রামে শরীয়াহভিত্তিক পাঁচটি ব্যাংকের আমানতের ওপর থেকে হেয়ারকাট বা মুনাফা কর্তনের সিদ্ধান্ত বাতিলের দাবিতে বিক্ষোভ করেছেন আমানতকারীরা।

সোমবার (২৯ জুন) বেলা সাড়ে ১১টার দিকে নগরের বাংলাদেশ ব্যাংক চট্টগ্রাম কার্যালয়ের সামনে আয়োজিত কর্মসূচিতে শত শত ভুক্তভোগী এতে অংশ নেন।

আমানতকারীদের অভিযোগ, কেন্দ্রীয় ব্যাংকের এই বিতর্কিত সিদ্ধান্তের ফলে দীর্ঘ দুই বছর ধরে তারা নিজেদের জমাকৃত টাকা উত্তোলন করতে পারছেন না। চিকিৎসা, শিক্ষা ও দৈনন্দিন ব্যয় মেটাতে না পেরে চরম মানবেতর জীবনযাপন করছেন তারা।

বিক্ষোভের সময় আমানতকারীরা বিভিন্ন ধরনের প্ল্যাকার্ড ও ফেস্টুন প্রদর্শন করেন। এ সময় তারা হেয়ারকাট মানি না, মানব না, এক দফা, এক দাবি, হেয়ারকাট বাতিল করবি, এবং আমানত কি নিরাপদ? আপনার কষ্টের টাকা কার পকেটে? সরকার কেন চুপ? প্রশাসন কেন চুপ? এমন নানা স্লোগান দিয়ে তাদের ক্ষোভ প্রকাশ করেন। আমানতকারীরা ব্যানার ও প্ল্যাকার্ড হাতে বাংলাদেশ ব্যাংকের সামনে অবস্থান নিয়েছেন, যার একটিতে হেয়ারকাট পদ্ধতির তীব্র সমালোচনা করা হয়েছে।

বিক্ষোভকারীরা জানান, গত ২১ জানুয়ারি বাংলাদেশ ব্যাংক একটি স্মারকপত্রের মাধ্যমে শরীয়াহভিত্তিক পাঁচটি ব্যাংকে গচ্ছিত আমানতের গত দুই বছরের মুনাফা কেটে নেওয়ার এবং তার পরিবর্তে মাত্র ৪ শতাংশ বিশেষ সুবিধা দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়। একে আমানতকারীরা ‘হেয়ারকাট’ আখ্যা দিয়ে প্রত্যাখ্যান করেছেন। তাদের দাবি, এটি চুক্তিভঙ্গ এবং অমানবিক।

সমাবেশ থেকে আমানতকারীরা পাঁচটি দাবি তুলে ধরেন। দাবিগুলো হলো- বিতর্কিত হেয়ারকাট নীতি বাতিল করে চুক্তি অনুযায়ী পূর্ণ মুনাফাসহ আমানতের অর্থ ফেরত দেওয়া। পাঁচটি ব্যাংকের স্বাভাবিক ব্যাংকিং লেনদেন দ্রুত চালু করা। তারল্য সংকট নিরসনে সরকারকে বিশেষ সহায়তা প্রদান করা। মেয়াদোত্তীর্ণ এফডিআর, ডিপিএস ও এমটিডিআরের অর্থ চুক্তি অনুযায়ী পরিশোধ করা এবং একতরফাভাবে ঘোষিত হ্রাসকৃত মুনাফার হার প্রত্যাহার করে পূর্বের চুক্তিভিত্তিক হার বহাল রাখা।

আন্দোলনরত আমানতকারীরা প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে পাঠানো স্মারকলিপিতে উল্লেখ করেন, একীভূতকরণের নামে গঠিত সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংক পিএলসি-এর অধীনে এখন পাঁচটি ব্যাংকের জন্য ভিন্ন ভিন্ন মুনাফার হার নির্ধারণ করা হয়েছে, যা সম্পূর্ণ অসংগত। আমানতকারীদের সঙ্গে কোনো আলোচনা ছাড়াই এই হার চাপিয়ে দেওয়া হয়েছে। এর ফলে ৭৫ লাখ পরিবারের প্রায় তিন কোটি সদস্য মারাত্মক অর্থনৈতিক বিপর্যয়ের মুখে পড়েছেন।

বিক্ষোভ শেষে বেলা ১২টার দিকে আমানতকারীরা একটি মিছিল নিয়ে কোতোয়ালি মোড় হয়ে নিউ মার্কেট মোড় পর্যন্ত প্রদক্ষিণ করেন।

আমানতকারীদের প্রতিনিধি দলের একজন জানান, বাংলাদেশ ব্যাংক কর্তৃপক্ষ তাদের দাবির বিষয়ে কথা বলার আশ্বাস দিয়েছেন। তিনি বলেন, আমরা অনেক কষ্ট করেছি। যতদিন পর্যন্ত এই হেয়ারকাট বাতিল না হবে, ততদিন আমরা আমাদের যৌক্তিক আন্দোলন চালিয়ে যাব।

এ বিষয়ে কোতোয়ালী থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) ইকবাল হোসেন বলেন, বিক্ষোভকারীরা অত্যন্ত শান্তিপূর্ণভাবে তাদের কর্মসূচি পালন করেছেন। কোনো ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটেনি। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে।

বরেণ্য চিত্রশিল্পী মুস্তাফা মনোয়ার আর নেই

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Monday, 29 June, 2026, 1:06 pm
বরেণ্য চিত্রশিল্পী মুস্তাফা মনোয়ার আর নেই

চিত্রশিল্পী ও নির্মাতা মুস্তাফা মনোয়ার মারা গেছেন। সোমবার (২৯ জুন) সকালে স্কয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। মৃত্যকালে তার বয়েস হয়েছিল ৯০ বছর।

নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত হয়ে গত ১৪ জুন রাজধানীর একটি বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি হন মুস্তাফা মনোয়ার। শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে তাকে নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) নেয়া হয়। কয়েক দিন আগে তার ভেন্টিলেটর সাপোর্ট খুলে নেওয়া হয়েছিল। পরে শারীরিক অবস্থার অবনতি হওয়ায় আবারও ভেন্টিলেটরে নেওয়া হয়।

১৯৩৫ সালের ১ সেপ্টেম্বর মাগুরা জেলার নাকোল গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন মুস্তাফা মনোয়ার। তার পৈতৃক বাড়ি ঝিনাইদহের শৈলকূপা উপজেলার মনোহরপুর গ্রামে। তিনি প্রখ্যাত কবি গোলাম মোস্তফার সন্তান।

দীর্ঘ কর্মজীবনে চিত্রকলা, শিশুতোষ অনুষ্ঠান নির্মাণ, টেলিভিশন ও সাংস্কৃতিক অঙ্গনে অসামান্য অবদান রাখেন মুস্তাফা মনোয়ার। শিল্প ও সংস্কৃতিতে বিশেষ অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ ২০০৪ সালে তিনি একুশে পদকে ভূষিত হন।

যেকোনো মূল্যে তিস্তা ব্যারেজ মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়ন করবে সরকার

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Monday, 29 June, 2026, 12:56 pm
যেকোনো মূল্যে তিস্তা ব্যারেজ মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়ন করবে সরকার

দেশের উত্তরাঞ্চলের মানুষের দীর্ঘদিনের দাবি ও পানির সংকট নিরসনে জাতীয় অগ্রাধিকার ভিত্তিতে যেকোনো মূল্যে ‘তিস্তা ব্যারেজ মহাপরিকল্পনা’ বাস্তবায়ন করার দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

সোমবার (২৯ জুন) জাতীয় সংসদে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ এর ২০২৬-২০২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটের ওপর সাধারণ আলোচনায় অংশ নিয়ে তিনি সরকারের এই ঐতিহাসিক সিদ্ধান্তের কথা জানান।

সংসদে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, তিস্তা অববাহিকার অসংখ্য মানুষের জীবন-জীবিকা নদীটির পানি প্রবাহের ওপর সরাসরি নির্ভরশীল। শুষ্ক মৌসুমে পানির সংকট এবং বর্ষাকালে তীব্র নদীভাঙনের ফলে এই অঞ্চলের মানুষকে প্রতিবছর বিপুল ক্ষয়ক্ষতির সম্মুখীন হতে হয়।

উত্তরাঞ্চলের মানুষের এই দীর্ঘদিনের হাহাকার ও দুর্ভোগের স্থায়ী অবসান ঘটাতেই সরকার তিস্তা মহাপরিকল্পনা হাতে নিয়েছে।

এর আগে, পবিত্র কুরআন তেলাওয়াতের মাধ্যমে সকাল ১০টা ৩১ মিনিটে এ অধিবেশন শুরু হয়। এতে সভাপতিত্ব করছেন স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমেদ বীর বিক্রম।