খুঁজুন
, ,

বিশৃঙ্খলা রোধে কঠোর সরকার পোশাক কারখানা খুলছে আজ

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Thursday, 5 September, 2024, 7:35 am
বিশৃঙ্খলা রোধে কঠোর সরকার পোশাক কারখানা খুলছে আজ

সরকারের পক্ষে নিরাপত্তার আশ্বাস পেয়ে আজ বৃহস্পতিবার থেকে সব কারখানা খোলা রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে তৈরি পোশাক উৎপাদন ও রপ্তানিকারক উদ্যোক্তাদের সংগঠন বিজিএমইএ। গত কয়েক দিনের মতো গতকাল বুধবারও পোশাকশিল্প অধ্যুষিত এলাকায় বিক্ষোভ-ভাঙচুর হলে অন্তত ১৬৭ প্রতিষ্ঠানে ছুটি ঘোষণা করে কর্তৃপক্ষ।

উদ্ভূত পরিস্থিতিতে রাজধানীর উত্তরায় নিজস্ব ভবনে বৈঠকে বসেন বিজিএমইএ নেতারা। এতে সংগঠনের সাবেক ছয় সভাপতি, সেনাবাহিনী, পুলিশ, শিল্প পুলিশ, গোয়েন্দা সংস্থাসহ বিভিন্ন সংস্থার প্রতিনিধি অংশ নেন। বৈঠকে যৌথ বাহিনী বিশৃঙ্খলা রোধে কঠোর অবস্থানের আশ্বাস দিলে কারখানা খোলার সিদ্ধান্ত নেন ব্যবসায়ী নেতারা।

পরে সংবাদ সম্মেলনে বিজিএমইএ সভাপতি খন্দকার রফিকুল ইসলাম বলেন, সেনাবাহিনীর নেতৃত্বাধীন যৌথ বাহিনী থেকে আমাদের সর্বোচ্চ নিরাপত্তার আশ্বাস দেওয়া হয়েছে। প্রয়োজনে বিশৃঙ্খলাকারীদের গ্রেপ্তার করবে তারা। পোশাক মালিকরা আশ্বস্ত হওয়ায় বৃহস্পতিবার থেকে একযোগে সব কারখানা খোলা রাখা হবে। এতদিন শিল্প এলাকায় সেনাবাহিনী টহল দিয়েছে। যৌথ বাহিনী হলেও ছিল না গ্রেপ্তারের ক্ষমতা।

বৈঠক সূত্রে জানা যায়, উপস্থিত ব্যবসায়ী নেতারা মতামত দেন, এতদিন যৌথ বাহিনী আন্দোলনকারীদের বুঝিয়ে বিরত রাখার চেষ্টা করেছে। এতে হিতে বিপরীত হয়েছে। হামলা-ভাঙচুরের ঘটনা বেড়েছে। বিশৃঙ্খলা হলেও কোনো ব্যবস্থা নেওয়া সম্ভব হয়নি। পরে যৌথ বাহিনীর পক্ষ থেকে কঠোর অবস্থানের কথা জানানো হয়। ব্যবসায়ী নেতারা নারীর চেয়ে পুরুষ শ্রমিক বেশি নিয়োগের দাবিকে ‘অদ্ভুত’ বলেও মন্তব্য করেন।

সংবাদ সম্মেলনে বিজিএমইএ সভাপতি বলেন, ‘যেভাবেই হোক কারখানা নিরাপদ রাখা হবে– যৌথ বাহিনী এমন আশ্বাস দিয়েছে। সেনাবাহিনী, পুলিশ ও শিল্প পুলিশ নিজেদের মতো পরিকল্পনা করছে। শ্রমিক নেতারাও সহায়তা দেবেন। সবকিছু ইতিবাচক মনে হওয়ায় কারখানা চালু রাখা হবে।’

তিনি বলেন, ‘কারখানায় অভ্যন্তরীণ সমস্যা খুবই কম। মূল সমস্যা বহিরাগতরা। রাজনৈতিক কারণেও কিছু পরিবর্তন কিংবা বদল হতে পারে। তবে বিক্ষোভকারীরা বহিরাগত কিনা, তা চিহ্নিত করবে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। সহায়তা চাইলে আমরা করব।’ ক্রেতাদের উদ্বেগের কথা জানিয়ে বিজিএমইএ সভাপতি বলেন, ‘ক্রেতারা উদ্বিগ্ন। সময়মতো পণ্য বুঝে পেতে তারা শিল্পের নিরাপত্তা চেয়েছেন।’

সংগঠনের সিনিয়র সহসভাপতি আবদুল্লাহিল রাকিব বলেন, ‘অস্থিতিশীলতার পেছনে রাজনৈতিক দলের ইন্ধন রয়েছে। ওষুধসহ বিভিন্ন শিল্পকেও পরিকল্পিতভাবে অস্থিতিশীল করার অপচেষ্টা হচ্ছে। এসব শ্রমিকের কাজ নয়, বরং তারা প্রতিবাদ করছে।’ রাজনৈতিক দলের প্রতি অনুরোধ জানিয়ে তিনি বলেন, ‘শিল্প বাঁচলে দেশ বাঁচবে। আপনাদের কাছে অনুরোধ, শিল্প ও দেশকে বাঁচান।’

আবদুল্লাহিল রাকিব বলেন, ‘ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে শেখ হাসিনার পতনের পর গোটা পুলিশ বিভাগই বিপর্যস্ত। শিল্প পুলিশ সক্ষমতা দেখাতে পারছে না। এরই ফায়দা নিচ্ছে একটি মহল। কারখানায় শ্রমিকরা কাজ করছেন। হঠাৎ ৫০-৬০ বহিরাগত এসে হামলা-ভাঙচুর করছে। তাদের মধ্যে কিশোর গ্যাং, টোকাইসহ নানা ধরনের মানুষ রয়েছে।’ প্রশ্ন রেখে তিনি বলেন, ‘নতুন করে শ্রমিক নিয়োগ হচ্ছে না। তাহলে নিয়োগে নারী-পুরুষ বৈষম্যের প্রশ্ন কেন আসবে?’

রপ্তানি আদেশ চলে যাচ্ছে ভারত-পাকিস্তানে

সংবাদ সম্মেলনের আগে বৈঠকে হা-মীম গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও এফবিসিসিআইর সাবেক সভাপতি এ. কে. আজাদ বলেন, ‘কারখানা খোলা কিংবা বন্ধ রাখার বিষয়ে সম্মিলিত সিদ্ধান্ত হতে হবে। মজুরি পরিশোধ নিয়ে সমস্যা দেখা দিলে বিজিএমইএ আর্থিক সহায়তা দিতে পারে।’ বিজিএমইএর সাবেক সভাপতি রুবানা হক বলেন, শিল্পের চলমান সংকট কাটাতে সব উপদেষ্টাসহ সংশ্লিষ্টদের বসা উচিত। বহিরাগত কারা, কেন রাজনৈতিক পট পরিবর্তনে তারা এমন ভূমিকায় এলো– খতিয়ে দেখতে হবে। অস্থিতিশীল পরিস্থিতিতে রপ্তানি আদেশ ভারত ও পাকিস্তানে চলে যাচ্ছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।

সাবেক সভাপতি কুতুব উদ্দিন বলেন, সমস্যা সমাধানে প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে বৈঠক করা গেলে তিনি হয়তো সমাধান দিতে পারবেন। বৈঠকে সাবেক সভাপতি আনিসুর রহমান সিনহা, আনার-উল আলম চৌধুরী পারভেজ, এস এম ফজলুল হক প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

বিশৃঙ্খলাকারীরা বহিরাগত: উপদেষ্টা হাসান আরিফ

স্থানীয় সরকারের উপদেষ্টা হাসান আরিফ বলেছেন, শিল্পাঞ্চল এলাকায় শ্রমিক আন্দোলনের নামে বিশৃঙ্খলাকারীরা শ্রমিক নন, বহিরাগত। গতকাল সচিবালয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টার অফিস কক্ষে বৈঠক শেষে তিনি এ কথা বলেন। টানা কয়েক দিনের শ্রমিক বিক্ষোভের পরিপ্রেক্ষিতে গতকাল বৈঠকে বসেন কয়েকটি মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা।

বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের হাসান আরিফ বলেন, ‘আমাদের কথা হচ্ছে, প্রকৃত শ্রমিক কখনও নিজের বাড়ি (কর্মস্থল) পোড়াবে না। কারণ, এটা তাদের জীবিকা। প্রাণ কোম্পানিকে জ্বালিয়ে দেওয়া হলো। সেখানে তো শ্রমিক বিশৃঙ্খলা ছিল না। এটা যদি নষ্ট হয়, তাহলে বৈদেশিক মুদ্রা আসা বন্ধ হবে। স্থানীয় শিল্প ক্ষতিগ্রস্ত হবে। সবকিছু চিন্তা করেই আমাদের এগোতে হচ্ছে। এসব যারা করছে, তাদের অধিকাংশই বহিরাগত। তাদের কীভাবে মোকাবিলা করা যায়, সে জন্য হয়তো আমাদের একটু কঠোর হতে হবে, শক্ত হতে হবে।’

বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন শ্রম উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া। তিনি বলেন, ‘এ আন্দোলনে শ্রমিকদের দেখা যাচ্ছে না। টাকা দিয়ে যাদের এমন আন্দোলনে নিয়ে আসা হয়, সেসব টোকাইকে দেখা যাচ্ছে। শ্রমিকদের কিছু দাবি আছে, যেগুলো দীর্ঘমেয়াদি। যেমন– বেতন বাড়ানো, শ্রম আইন সংশোধন। এগুলো তো একদিনে করা যাবে না। তার পরও ব্যবসায়ী নেতারা বলছেন, তারা তাদের সঙ্গে কথা বলবেন।’

আসিফ বলেন, ‘আমরা বলেছি, যারা বহিরাগত, তাদের আলাদা করেন। শ্রমিকদের আলাদা করেন। যারা ছোট ব্যবসা নিয়ে সন্ত্রাস করছে, আওয়ামী লীগের লোকেরা যেসব সিন্ডিকেট চালাত, তারা সেগুলো ছেড়ে চলে গেছে। এখন যারা দখলের চেষ্টা করছে এবং বহিরাগত যারা বিশৃঙ্খলার চেষ্টা করছে, তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

আশুলিয়ায় ৮০ কারখানায় ছুটি

সাভার-আশুলিয়ায় গতকালও শ্রমিক বিক্ষোভ ও ভাঙচুর হয়েছে। পরে ৮০টি পোশাক কারখানায় ছুটি ঘোষণা করে কর্তৃপক্ষ। শিল্প পুলিশ জানায়, আশুলিয়ার বিভিন্ন কারখানার শ্রমিকরা সকালে কাজে আসেন। তবে বন্ধ কারখানার শ্রমিকরা এসে চালু প্রতিষ্ঠানের সামনে বিক্ষোভ ও ইটপাটকেল ছোড়েন। তাদের সঙ্গে চাকরিপ্রত্যাশীরা যোগ দিলে কর্তৃপক্ষ কারখানা ছুটি ঘোষণা করে। পরে বিক্ষুব্ধরা সড়ক অবরোধ করেন। সেনাবাহিনী ও শিল্প পুলিশ তাদের বুঝিয়ে সড়ক থেকে সরিয়ে দেয়। নরসিংহপুর এলাকায় হা-মীম গ্রুপের কারখানার পাশে এক প্রত্যক্ষদর্শী জানান, সকাল থেকে কারখানা চলছিল। চাকরির জন্য লোকজন কারখানার সামনে এসে বিক্ষোভ করলে কর্তৃপক্ষ ছুটি ঘোষণা করে। শারমিন গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ইসমাইল হোসেন জানান, কারখানার বাইরে তাদের স্টাফ বহনকারী দুটি মিনিবাস ভাঙচুর করা হয়। নিরাপত্তার স্বার্থে ছুটি দেওয়া হয়।

পলাশবাড়ী এলাকার পার্ল গার্মেন্টের সামনে হাজিরা বোনাস ৮০০ টাকাসহ বিভিন্ন দাবিতে বিক্ষোভ হয়। এক পর্যায়ে তারা নবীনগর-চন্দ্রা মহাসড়ক অবরোধ করে। এতে যানজট দেখা দেয়। দুপুর ২টার দিকে সেনাবাহিনী ও ঢাকা জেলা পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। ঢাকা জেলার পুলিশ সুপার (এসপি) আহম্মদ মুঈদ জানান, জিরাবো থেকে বিশৃঙ্খলায় জড়িত তিনজনকে ধরে সেনাবাহিনী তাদের কাছে দিয়েছে।

আশুলিয়া শিল্পাঞ্চল পুলিশ-১-এর পুলিশ সুপার মোহাম্মদ সারোয়ার আলম জানান, চালু কারখানার ওপর সকালে চড়াও হন শ্রমিকরা। পরে আশুলিয়া এলাকার অন্তত ৮০ কারখানায় ছুটি ঘোষণা করে কর্তৃপক্ষ।

ঢাকার ধামরাইয়ে বেতন-ভাতা বৃদ্ধিসহ ১১ দাবিতে কর্মবিরতি ও ঢাকা-আরিচা মহাসড়ক অবরোধ করেন প্রতীক সিরামিক কারখানার শ্রমিকরা। পরে সেনাবাহিনীর অনুরোধে তারা সরে যান এবং সন্ধ্যা ৭টা পর্যন্ত কারখানার সামনে বিক্ষোভ করেন। কারখানার ব্যবস্থাপক আকরাম হোসেন জানান, তারা বেতন বৃদ্ধির আশ্বাস দিলে শ্রমিকরা কর্মসূচি প্রত্যাহার করেন।

গাজীপুরের ১০ স্থানে বিক্ষোভ

ভারতীয় কর্মকর্তা অপসারণ, বেতন বৃদ্ধিসহ ১১ দাবিতে গতকাল গাজীপুরের অন্তত ১০ স্থানে বিক্ষোভ হয়েছে। এর মধ্যে শ্রীপুরে ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেন আরএকে সিরামিক বিডি লিমিটেড কারখানার শ্রমিকরা। সেনাবাহিনী ও শিল্প পুলিশ পৌঁছে মালিকপক্ষের সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে দাবি পূরণের আশ্বাস দিলে শ্রমিকরা চলে যান। আন্দোলনকারীরা জানান, কারখানায় কর্মরত ভারতীয়রা তাদের মূল্যায়ন করেন না; দুর্ব্যবহার করেন। তাদের অপসারণ করে দেশীয় লোকবল দিতে হবে। গাজীপুর শিল্প পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ইমরান আহম্মেদ জানান, শ্রমিকদের সরিয়ে দিলে বেলা ১১টা থেকে যান চলাচল স্বাভাবিক হয়।

চাকরি পুনর্বহালসহ বিভিন্ন দাবিতে গাজীপুরের চান্দনা চৌরাস্তা, সাইনবোর্ড, জিরানি বাজার, কোনাবাড়ী, বাসন, বাঘের বাজারসহ বেশ কয়েকটি স্থানে বিক্ষোভ হয়েছে। ‘বেকার সংগঠন’-এর ব্যানারে চান্দনা চৌরাস্তা ও আশপাশের কিছু এলাকায় বিক্ষোভ হয়। এ সময় বিভিন্ন কারখানায় ইটপাটকেল ছোড়েন শ্রমিকরা। পরে কারখানার শ্রমিকরা অবস্থান নিলে বিক্ষুব্ধরা পিছু হটেন। সদর উপজেলার কিছু স্থানে বিক্ষোভ ও ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়ক আটকে রাখা হয়। এর মধ্যে বাঘের বাজার এলাকায় গোল্ডেন রিফিট গার্মেন্ট লিমিটেডের সামনে চাকরিপ্রত্যাশীরা ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়ক অবরোধ করেন। শ্রমিক নিয়োগে নারী-পুরুষের বৈষম্য নিরসন দাবিতে নগরের বাসন এলাকায় ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়ক অবরোধ করা হয়।

টঙ্গীতে সকালে একদল শ্রমিক বিক্ষোভ করলে বিএনপি ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা ধাওয়া দেন। এর পর দিনভর বিসিক এলাকার পানির ট্যাঙ্কির মোড়ে অবস্থান করেন টঙ্গী পূর্ব থানা বিএনপির সভাপতি সরকার জাবেদ আহমেদ সুমনের নেতৃত্বে কর্মীরা।

ময়মনসিংহের ভালুকার জামিরদিয়া কালার মাস্টার এলাকায় গতকাল মহাসড়কে বিক্ষোভ করেন চাকরিপ্রত্যাশীরা। এতে প্রায় দুই ঘণ্টা ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কে যান চলাচল বন্ধ ছিল। পরে পুলিশ, শিল্প পুলিশসহ স্থানীয় প্রশাসন গিয়ে বুঝিয়ে বিক্ষোভকারীদের সরিয়ে দিলে যান চলাচল স্বাভাবিক হয়।

মাধবপুরে বকেয়া দাবিতে বিক্ষোভ

হবিগঞ্জের মাধবপুরে বকেয়া বেতনের দাবিতে স্টার ফোরসোলিন কারখানার সামনে ঢাকা-সিলেট মহাসড়ক অবরোধ করেন শ্রমিকরা। এতে সড়কের উভয় পাশে পাঁচ-ছয় কিলোমিটার যানজট দেখা দেয়। শ্রমিক নেতা সবুজ মিয়া ও আলাউদ্দিন জানান, তাদের তিন মাসের বেতন বকেয়া। সংসার চালাতে পারছেন না। কারখানার ব্যবস্থাপক মিঠু আনোয়ার বলেন, ‘আর্থিক সংকটের কারণে বকেয়া পড়েছে। আলোচনা করে ন্যায়সংগত পাওনা পরিশোধ করা হবে।’ মাধবপুরের ইউএনও এ কে এম ফয়সাল জানান, বৃহস্পতিবার মালিকপক্ষ বকেয়া পরিশোধের আশ্বাস দেওয়ায় শ্রমিকরা বিকেলে অবরোধ প্রত্যাহার করেন।

Feb2
Feb2

দুর্যোগের সময় মানুষের পাশে দাঁড়ানো আমাদের নৈতিক দায়িত্ব: ডা. শাহাদাত

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Tuesday, 21 July, 2026, 10:53 pm
দুর্যোগের সময় মানুষের পাশে দাঁড়ানো আমাদের নৈতিক দায়িত্ব: ডা. শাহাদাত

দুর্যোগকবলিত মানুষের কল্যাণ নিশ্চিত করা এবং তাদের পাশে দাঁড়ানোকে সর্বোচ্চ মানবিক দায়িত্ব হিসেবে উল্লেখ করেছেন চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের (চসিক) মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন।

তিনি বলেন, দুর্যোগের সময় মানুষের পাশে দাঁড়ানো আমাদের নৈতিক ও মানবিক দায়িত্ব। কোনো পরিবার যেন কষ্টে না থাকে, সে লক্ষ্যেই চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের পক্ষ থেকে ধারাবাহিকভাবে সহায়তা প্রদান করা হচ্ছে। নগরবাসীর যেকোনো দুর্যোগে চসিক সবসময় পাশে থাকবে। জনগণের কল্যাণই আমাদের প্রধান অঙ্গীকার।

মঙ্গলবার (২১ জুলাই) বিকেলে নগরীর পূর্ব বাকলিয়া চেয়ারম্যান ঘাটা এলাকায় হাজী মোহাম্মদ ইউসুফ ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে ৪০০টি ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের মাঝে ঢেউটিন বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

মেয়র ডা. শাহাদাত বলেন, ঘরবাড়ির ক্ষতি মানুষের জীবনে বড় বিপর্যয় ডেকে আনে। এই ঢেউটিন সহায়তা কেবল একটি বস্তুগত উপহার নয়, এটি ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের মাথা গোঁজার ঠাঁই পুনর্নির্মাণের এক আন্তরিক প্রচেষ্টা। চসিক প্রতিটি ওয়ার্ডের ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের তালিকা তৈরি করে পর্যায়ক্রমে তাদের প্রয়োজনীয় সাহায্য পৌঁছানোর কার্যক্রম জোরদার করেছে।

তিনি বলেন, প্রাকৃতিক ও পরিবেশগত নানা দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোকে স্বাবলম্বী করে তোলাই চসিকের লক্ষ্য। কেবল তাৎক্ষণিক ত্রাণ বিতরণ নয়, বরং স্থায়ী পুনর্বাসনের মাধ্যমে মানুষের মৌলিক চাহিদা নিশ্চিত করতে সিটি কর্পোরেশন কাজ করছে।

তিনি বলেন, শুধু ত্রাণ বিতরণ নয়, জলাবদ্ধতা নিরসন, ক্ষতিগ্রস্ত এলাকার দ্রুত পুনর্বাসন এবং নাগরিক দুর্ভোগ কমাতে সিটি কর্পোরেশন নিরলসভাবে কাজ করছে। দুর্যোগ মোকাবিলায় সকলকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে। চসিকের একা চেষ্টা যেমন গুরুত্বপূর্ণ, তেমনি নাগরিকদের সচেতন ভূমিকা ও সহযোগিতা ছাড়া বাসযোগ্য নগর গড়ে তোলা সম্ভব নয়। আমাদের খাল নালা পরিষ্কার রাখা এবং যেখানে সেখানে ময়লা না ফেলার বিষয়ে নগরবাসীকে দায়িত্বশীল হতে হবে।

মেয়র বলেন, আমাদের প্রথম অগ্রাধিকার মানুষের জীবন ও নিরাপত্তা। পানিবন্দি মানুষকে উদ্ধার, আশ্রয়কেন্দ্রে প্রয়োজনীয় সহায়তা, খাবার বিতরণ এবং জলাবদ্ধতা দ্রুত নিরসনে সিটি কর্পোরেশনসহ সংশ্লিষ্ট সব সংস্থা মাঠে কাজ করছে। পরিস্থিতি পুরোপুরি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত এই মানবিক ও উদ্ধার কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।

শেষে মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন উপস্থিত ৪০০টি সুবিধাভোগী পরিবারের হাতে ঢেউটিন তুলে দেন এবং স্থানীয় এলাকার সার্বিক অবস্থা সরেজমিনে পর্যবেক্ষণ করেন।

হাজী মো. ইউসুফ ফাউন্ডেশনের সভাপতি হাজী মো. ওসমান গনির সভাপতিত্বে এবং বিএনপি নেতা সাইফুল ইসলাম নিরব ও আবদুল কাদেরের যৌথ পরিচালনায় অনুষ্ঠানে প্রধান বক্তা হিসেবে বক্তব্য রাখেন চট্টগ্রাম-৯ আসনের সংসদ সদস্য আলহাজ্ব আবু সুফিয়ান।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিএনপি কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য শামসুল আলম, মহানগর বিএনপির আহবায়ক কমিটির সদস্য অধ্যাপক নুরুল আলম রাজু, আনোয়ার হোসেন লিপু, কোতোয়ালি থানা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক আলহাজ্ব জাকির হোসেন এবং সংশ্লিষ্ট ওয়ার্ড বিএনপির আহবায়ক মো. মহিউদ্দিনসহ চসিকের অন্যান্য ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ।

বাসযোগ্য চট্টগ্রাম গড়তে সরকারি দপ্তরে একযোগে পরিচ্ছন্নতা কর্মসূচি

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Tuesday, 21 July, 2026, 10:46 pm
বাসযোগ্য চট্টগ্রাম গড়তে সরকারি দপ্তরে একযোগে পরিচ্ছন্নতা কর্মসূচি

নিজস্ব প্রতিবেদক: চট্টগ্রামকে পরিচ্ছন্ন, নান্দনিক ও বাসযোগ্য জেলা হিসেবে গড়ে তুলতে আগামী শনিবার জেলার সব সরকারি দপ্তর ও সরকারি আবাসনে একযোগে বিশেষ পরিচ্ছন্নতা অভিযান শুরু হচ্ছে। প্রথম দিন ছাদ, আঙিনা ও আশপাশের এলাকা পরিষ্কার করা হবে। প্রতিটি দপ্তরকে পরিচ্ছন্নতার আগে ও পরে ছবি ও ভিডিও ধারণ করে জেলা প্রশাসনের কাছে পাঠাতে হবে। ভালো উদ্যোগের জন্য পুরস্কারের ব্যবস্থাও থাকবে।

মঙ্গলবার চট্টগ্রাম সার্কিট হাউসে জেলা প্রশাসনের আয়োজনে অনুষ্ঠিত প্রস্তুতিমূলক সভা ও সংবাদ ব্রিফিংয়ে এসব তথ্য জানান জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা। সভার প্রতিপাদ্য ছিল—‘পরিচ্ছন্ন করি নগর-গ্রাম, গড়ি নান্দনিক চট্টগ্রাম’।

সভায় চট্টগ্রাম বিভাগীয় কমিশনার ড. মো. জিয়াউদ্দীন, সিটি করপোরেশনের মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন, চট্টগ্রাম রেঞ্জের ডিআইজি মো. মনিরুজ্জামান, পুলিশ সুপার মো. মাসুদ আলম, সিএমপির অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (প্রশাসন ও অর্থ) ওয়াহিদুল হক চৌধুরীসহ বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তারা ভার্চ্যুয়ালি যুক্ত হন।

জেলা প্রশাসক বলেন, সরকারের লক্ষ্য শুধু অবকাঠামোগত উন্নয়ন নয়, প্রতিটি জেলাকে সত্যিকার অর্থে বাসযোগ্য করে তোলা। এ জন্য সরকারি কর্মকর্তাদের প্রচলিত দায়িত্ব পালনের গণ্ডি পেরিয়ে উদ্যোগী হতে হবে। তিনি বলেন, পরিচ্ছন্নতা অভিযান শুধু একদিনের কর্মসূচি নয়; এটিকে সামাজিক সংস্কৃতিতে পরিণত করতে হবে।

তিনি জানান, পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার কাজ শুরুর আগে ও পরে প্রতিটি দপ্তরকে ছবি ও ভিডিও ধারণ করে জমা দিতে হবে। এগুলো মূল্যায়ন করে সেরা উদ্যোগগুলোকে পুরস্কৃত করা হবে এবং কার্যক্রমের অগ্রগতি সরকারের উচ্চপর্যায়েও জানানো হবে।
জেলা প্রশাসক বলেন, ছাদ ও প্রাঙ্গণ থেকে অপসারণ করা বর্জ্য নির্ধারিত ব্যাগে ভরে নির্দিষ্ট স্থানে রাখতে হবে। সিটি করপোরেশন বা সংশ্লিষ্ট পৌরসভা সেগুলো সংগ্রহ করবে। পর্যায়ক্রমে বায়ুদূষণ ও শব্দদূষণ নিয়ন্ত্রণেও পৃথক কর্মপরিকল্পনা নেওয়া হবে।
দায়িত্ব অন্যের ওপর চাপিয়ে দিলে পরিবর্তন আসবে না

বিভাগীয় কমিশনার ড. মো. জিয়াউদ্দীন বলেন, পরিচ্ছন্ন ও বাসযোগ্য চট্টগ্রাম গড়ে তুলতে সম্মিলিত উদ্যোগের বিকল্প নেই। তিনি বলেন, সমাজে নিজের দায়িত্ব অন্যের ওপর চাপিয়ে দেওয়ার প্রবণতা তৈরি হয়েছে। পরিচ্ছন্ন পরিবেশ নিশ্চিত করা শুধু সিটি করপোরেশনের দায়িত্ব নয়; প্রতিটি নাগরিককে নিজ নিজ অবস্থান থেকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে।

তিনি সরকারি দপ্তরের প্রাঙ্গণে দীর্ঘদিন ধরে পড়ে থাকা জব্দ বা বাজেয়াপ্ত যানবাহন ও অন্যান্য মালামাল দ্রুত বিধি অনুযায়ী নিষ্পত্তিরও তাগিদ দেন।

স্বচ্ছ পানিতেও জন্মায় এডিসের লার্ভা

চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন বলেন, বর্ষাকালে জমে থাকা স্বচ্ছ পানিও এডিস মশার প্রজননের উপযোগী পরিবেশ তৈরি করে। ফেলে রাখা ডাবের খোসা, মিনারেল ওয়াটারের বোতল কিংবা ছোট পাত্রে জমে থাকা পানিতেও লার্ভা জন্মাতে পারে। তাই ছাদ, ছাদবাগান ও ভবনের আশপাশে কোথাও পানি জমে থাকতে দেওয়া যাবে না।

সিভিল সার্জনের তথ্য তুলে ধরে তিনি জানান, চলতি বছরের ২১ জুলাই পর্যন্ত চট্টগ্রাম মহানগরে ২২৯ জন এবং উপজেলা পর্যায়ে ২৪১ জন ডেঙ্গু রোগী শনাক্ত হয়েছেন। জুলাই মাসেই আক্রান্তের সংখ্যা দ্রুত বেড়েছে। উপজেলা পর্যায়ে এ বছর দুজনের মৃত্যু হয়েছে।

মেয়র নাগরিকদের ময়লা-আবর্জনা, পানি জমে থাকা কিংবা ডেঙ্গুর সম্ভাব্য প্রজননস্থলের তথ্য ‘আমাদের চট্টগ্রাম’ মোবাইল অ্যাপের মাধ্যমে জানাতে আহ্বান জানান।

সমন্বিত উদ্যোগের আহ্বান
সিটি করপোরেশনের প্রধান পরিচ্ছন্ন কর্মকর্তা ক্যাপ্টেন ইখতিয়ার উদ্দীন আহমেদ চৌধুরী (অব.) বলেন, পরিচ্ছন্নতা অভিযানে সংগৃহীত বর্জ্য নির্ধারিত ডাম্পিং স্থানে বা গাড়ি প্রবেশ করতে পারে—এমন খোলা জায়গায় রাখতে হবে। পরে সিটি করপোরেশনের গাড়ি সেগুলো সংগ্রহ করবে। যেসব ভবনের ছাদে পানি জমে থাকে, সেখানে প্রয়োজন হলে বিটিআই প্রয়োগের ব্যবস্থা করা হবে।

পুলিশ সুপার মো. মাসুদ আলম বলেন, সরকারি দপ্তর ও আবাসনের পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম নিয়মিত হচ্ছে কি না, জেলা পুলিশ তা পর্যবেক্ষণ করবে। সিএমপির অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার ওয়াহিদুল হক চৌধুরী এবং চট্টগ্রাম রেঞ্জের ডিআইজি মো. মনিরুজ্জামানও কর্মসূচি বাস্তবায়নে পুলিশের পূর্ণ সহযোগিতার আশ্বাস দেন।

সভায় সমাজসেবা বিভাগের উপপরিচালক মোহাম্মদ ওমর ফারুক ভবঘুরে ও আশ্রয়হীন মানুষের পুনর্বাসনে সমন্বিত উদ্যোগের প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরেন। জেলা প্রশাসকও নগরের উন্মুক্ত স্থানে বসবাসকারী মানুষের পরিচয় যাচাই করে পুনর্বাসনের উদ্যোগ নিতে সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর প্রতি আহ্বান জানান।

আগামী ৯ আগস্ট প্রধানমন্ত্রীর সম্ভাব্য চট্টগ্রাম সফরকে সামনে রেখে পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম আরও জোরদার করার কথা জানিয়ে জেলা প্রশাসক বলেন, এই উদ্যোগ কোনো বিশেষ সফরকে কেন্দ্র করে নয়; এটি চট্টগ্রামের স্থায়ী নাগরিক সংস্কৃতিতে পরিণত করাই প্রশাসনের লক্ষ্য।

দুস্থ মানুষের পাশে বিএনপি সবসময় থাকবে

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Tuesday, 21 July, 2026, 8:21 pm
দুস্থ মানুষের পাশে বিএনপি সবসময় থাকবে

চট্টগ্রাম নগরীর ২৩ নম্বর উত্তর পাঠানটুলী ওয়ার্ডে দুস্থ, অসহায় ও নিম্নআয়ের মানুষের মাঝে মানবিক সহায়তার অংশ হিসেবে চাল বিতরণ করা হয়েছে। চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেনের পক্ষ থেকে এ খাদ্য সহায়তা প্রদান করা হয়। স্থানীয় বিএনপির উদ্যোগে আয়োজিত এ কর্মসূচিতে পাঁচ শতাধিক সুবিধাবঞ্চিত পরিবারের মাঝে চাল বিতরণ করা হয়।

২৩ নম্বর উত্তর পাঠানটুলী ওয়ার্ড বিএনপির উদ্যোগে আয়োজিত এ কর্মসূচিতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন বলেন, জনগণের সেবা করাই আমাদের রাজনীতির মূল লক্ষ্য। মানুষের দুঃসময় ও দুর্যোগে তাদের পাশে দাঁড়ানো আমাদের নৈতিক দায়িত্ব। অতীতের মতো বর্তমানেও অসহায়, দুস্থ ও নিম্নআয়ের মানুষের পাশে রয়েছি এবং ভবিষ্যতেও থাকব।

তিনি বলেন, যে পরিমাণ চাল বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে তা যদি প্রয়োজনের তুলনায় কম হয়, তাহলে আরও চালের ব্যবস্থা করা হবে। কোনো অসহায় পরিবার যেন খাদ্য সংকটে না থাকে, সে বিষয়ে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হবে।

তিনি আরও বলেন, বিএনপি সবসময় জনগণের দল। মানুষের সুখ দুঃখ, দুর্যোগ ও সংকটের সময় বিএনপির নেতাকর্মীরা মাঠে থেকে কাজ করেছে এবং ভবিষ্যতেও করবে। জনগণের কল্যাণ ও মানবিক সেবার এ ধারা অব্যাহত থাকবে। সমাজের বিত্তবানদেরও অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ানোর আহ্বান জানান তিনি।

অনুষ্ঠান শেষে প্রধান অতিথি ডা. শাহাদাত হোসেন সুবিধাবঞ্চিত পরিবারের সদস্যদের হাতে চাল তুলে দেন।

ওয়ার্ড বিএনপির আহ্বায়ক আব্দুল হালিমের সভাপতিত্বে এবং সদস্য সচিব এম এ হাসনাতের পরিচালনায় অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক এস এম সাইফুল আলম, নিয়াজ মোহাম্মদ খান এবং কেন্দ্রীয় মহিলা দলের যুগ্ম সম্পাদক ফাতেমা বাদশা। উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপি নেতা মুস্তাফিজুর রহমান বুলু, এম এ হাসেম, বিএনপি নেতা সুলতান মোহাম্মদ খান সুমন, আকবর কবির ডিউক, সিরাজুল ইসলাম, মো. আব্বাস, মো. তাহের, মো. আলীসহ স্থানীয় বিএনপি, যুবদল, ছাত্রদল ও অঙ্গ সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মী এবং এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ।