খুঁজুন
শুক্রবার, ৫ই জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ২২শে জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

সোনালী লাইফের ৩৫৩ কোটি তছরুপ, কুদ্দুসের পকেটেই ১৮৪ কোটি টাকা

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: রবিবার, ৬ অক্টোবর, ২০২৪, ৯:৫৪ পূর্বাহ্ণ
সোনালী লাইফের ৩৫৩ কোটি তছরুপ, কুদ্দুসের পকেটেই ১৮৪ কোটি টাকা

দুর্নীতি, প্রতারণা ও জালিয়াতির মাধ্যমে সোনালী লাইফ ইন্স্যুরেন্সের তহবিল থেকে ৩৫৩ কোটি টাকা তছরুপ করা হয়েছে। কোম্পানিটির বিভিন্ন ব্যাংক হিসাব ও পেটিক্যাশ থেকে সরানো হয়েছে এসব অর্থ। আবার জালিয়াতির মাধ্যমে সোনালী লাইফের টাকায়ই কোম্পানিটির শেয়ারের মালিক হয়েছেন ১০ পরিচালক।

এমন তথ্য উঠে এসেছে আর্থিক গোয়েন্দা সংস্থা বাংলাদেশ ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিটের (বিএফআইইউ) পরিদর্শন প্রতিবেদনে। অর্থ তছরুপের সঙ্গে জড়িত প্রতিষ্ঠান ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য বিমা খাতের নিয়ন্ত্রক সংস্থা বীমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষকে (আইডিআরএ) চিঠি দিয়েছে বিএফআইইউ।

এ বিষয়ে নেওয়া ব্যবস্থার অগ্রগতি সম্পর্কেও সংস্থাটিকে অবহিত করতে বলা হয়েছে। বিএফআইইউর যুগ্ম-পরিচালক মো. মোশাররফ হোসেন স্বাক্ষরিত এ সংক্রান্ত চিঠি গত ২২ সেপ্টেম্বর আইডিআরএকে পাঠানো হয়।

সোনালী লাইফের ভাউচার, ইআরপি সফটওয়্যারের তথ্য, ব্যাংক, ফাইন্যান্স কোম্পানি, ইন্স্যুরেন্স কোম্পানি, রিয়েল এস্টেট ডেভেলপার প্রতিষ্ঠান, সিকিউরিটিজ হাউজ ও গাড়ি বিক্রেতা প্রতিষ্ঠান (ব্যাংকের মাধ্যমে) থেকে সংগ্রহ করা তথ্য বিশ্লেষণ করে তহবিল তছরুপ সংক্রান্ত এ প্রতিবেদন তৈরি করেছে আর্থিক গোয়েন্দা সংস্থা বিএফআইইউ।

বিএফআইইউর প্রতিবেদনের তথ্য অনুসারে, সোনালী লাইফের ৩৫৩ কোটি টাকা তছরুপের সঙ্গে জড়িত কোম্পানিটির সাবেক চেয়ারম্যান ও ভাইস চেয়ারম্যানসহ আট পরিচালক, ভারপ্রাপ্ত মুখ্য নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) ও অন্য দুই কর্মকর্তা। এছাড়া কোম্পানিটির ভারপ্রাপ্ত মুখ্য নির্বাহী কর্মকর্তার এক ভাই ও ফুপুর নাম উঠে এসেছে তহবিল তছরুপে জড়িত ব্যক্তিদের তালিকায়।

মোস্তফা গোলাম কুদ্দুসে পকেটে ১৮৪ কোটি টাকা
সাবেক চেয়ারম্যান মোস্তফা গোলাম কুদ্দুস নিয়মবহির্ভূতভাবে সোনালী লাইফের তহবিল থেকে নিয়েছেন ১৮৩ কোটি ৬৮ লাখ টাকা। এর মধ্যে ভবন বিক্রির নামে নিয়েছেন ১৩৯ কোটি ১০ লাখ টাকা। বাকি ৪৪ কোটি ৫৮ লাখ টাকা তিনি নিয়েছেন নিজের ও তার মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠানের নামে। এই টাকা তিনি নেন ২০১৫ থেকে ২০২৩ সালে। সোনালী লাইফের বিভিন্ন ব্যাংক হিসাব ও পেটিক্যাশ থেকে এসব অর্থ নিয়েছেন বলে বিএফআইইউর প্রতিবেদনে উঠে এসেছে।

বিএফআইইউর তদন্ত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ভবন বিক্রির নামে ১৩৯ কোটি ১০ লাখ টাকা নিলেও এই ভবন কেনার বিষয়ে সোনালী লাইফের বোর্ডসভার কোনো অনুমোদন নেই। অনুমোদন নেই বিমা খাত নিয়ন্ত্রক সংস্থা আইডিআরএর। এছাড়া ভবনটি ৩৫ কোটি ৫০ লাখ টাকা ঋণের বিপরীতে যমুনা ব্যাংকের ফরেন এক্সচেঞ্জ শাখায় বন্ধক রাখা।

প্রতিবেদনটিতে বলা হয়েছে, ভবন বিক্রির নামে নেওয়া এই ১৩৯ কোটি ১০ লাখ টাকা থেকে জনতা ব্যাংকে সিডি অ্যাক্রিলিক বাংলাদেশের ঋণ পরিশোধ করা হয়েছে ২৭ কোটি টাকা। ড্রাগন সোয়েটারের ঋণ পরিশোধ করা হয়েছে ২৩ কোটি টাকা।

বাকি টাকা তিনি তার মালিকানাধীন যেসব প্রতিষ্ঠানের নামে নিয়েছেন তার মধ্যে রয়েছে- ড্রাগন সোয়েটার্স বাংলাদেশ, ড্রাগন সোয়েটার্স অ্যান্ড স্পিনিং, ড্রাগন ইনফরমেশন টেকনোলজি অ্যান্ড কমিউনিকেশনস, সিডি অ্যাক্রিলিক বাংলাদেশ এবং ইম্পেরিয়াল সোয়েটার্স বাংলাদেশ।

তদন্তকারী প্রতিষ্ঠানটি বলছে, প্রতিবেদনটি প্রস্তুতের সময় মোস্তফা গোলাম কুদ্দুসের মতামত নেওয়া হয়েছে। মতামতে মোস্তফা গোলাম কুদ্দুস জানিয়েছেন, তিনি ১৩৯ কোটি ১০ লাখ টাকা নিয়েছেন ইম্পেরিয়াল ভবনের ভাড়া বাবদ। তবে এর পক্ষে তিনি কোনো দলিলাদি দেখাতে পারেননি।

প্রতিবেদনটিতে বলা হয়েছে, সোনালী লাইফের ইআরপি সফটওয়্যার ও কোম্পানিটির বিভিন্ন ভাউচারের তথ্য অনুসারে ইম্পেরিয়াল ভবনের ভাড়া বাবদ ২০১৫ থেকে ২০২৩ সাল পর্যন্ত ১৮ কোটি ১৭ লাখ টাকা নেওয়ার প্রমাণ পেয়েছে বিএফআইইউ। তবে বিএফআইইউ বলছে, পর্যাপ্ত দলিলাদি না পাওয়ায় মোস্তফা গোলাম কুদ্দুস ভবনের ভাড়া বাবদ কত টাকা নিয়েছেন তা তারা নিশ্চিত হতে পারেনি।

সোনালী লাইফের বিভিন্ন ব্যাংক হিসাব থেকে নগদে উত্তোলন ১৬৯ কোটি টাকা
২০১৩ সালের সেপ্টেম্বর থেকে ২০২৩ সালের নভেম্বর পর্যন্ত সোনালী লাইফের বিভিন্ন ব্যাংক হিসাব থেকে নগদে উত্তোলন করা হয়েছে ১৬৯ কোটি ৯ লাখ টাকা। একক চেকের মাধ্যমে সর্বোচ্চ ৮ কোটি ৯৫ লাখ টাকা পর্যন্ত নগদে উত্তোলন করা হয়েছে। ২০১৮ সালের ২৬ জুন কোম্পানিটির এসবিএসি ব্যাংক থেকে একক চেকে এ টাকা তোলা হয়েছে। এই বিশাল অংকের টাকা নগদে উত্তোলন করায় তা তহবিল তছরুপের ইঙ্গিত বহন করে বলে মন্তব্য করা হয়েছে বিএফআইইউর তদন্ত প্রতিবেদনে।

রূপালী ইন্স্যুরেন্সকে দেওয়া হয়েছে ১ কোটি ৯২ লাখ টাকা
২০১৯, ২০২০ ও ২০২২ সালে রূপালী ইন্স্যুরেন্সকে দেওয়া হয়েছে ১ কোটি ৯২ লাখ টাকা। ছয়টি ধাপে এসব টাকা দেওয়া হয়েছে নন-লাইফ বিমা কোম্পানিটিকে। তবে এ অর্থের প্রকৃত সুবিধাভোগী বলা হয়েছে মোস্তফা গোলাম কুদ্দুসকে।

ভারপ্রাপ্ত মুখ্য নির্বাহী মীর রাশেদ বিন আমানের অনিয়ম
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২০ থেকে ২০২৩ সাল এই চার বছরে রাশেদ বিন আমান বেতনের বাইরে চার কোটি ছয় লাখ টাকা নিয়েছেন সোনালী লাইফ থেকে। সোনালী লাইফের হিসাব থেকে বিভিন্ন ব্যক্তির নামে এই টাকা নগদে তুলেছেন রাশেদ। তবে এই টাকা রাশেদ তছরুপ বা আত্মসাৎ করেছে কি না এমন কোনো মতামত দেওয়া হয়নি প্রতিবেদন।

২০২০ থেকে ২০২১ সালের মধ্যে রাশেদ তিনটি বিলাসবহুল গাড়ি কিনেছেন। এই গাড়িগুলোর মোট মূল্য সাত কোটি ১৭ লাখ টাকা। এর মধ্যে মার্সিডিজ বেঞ্জ ই২০০কোপ ব্র্যান্ডের একাটি গাড়ি কিনেছেন এক কোটি ৪৭ লাখ টাকায়, মার্সিডিজ বেঞ্জ জিএলই৫৩ গাড়িটি কিনেছেন ২ কোটি ২০ লাখ টাকায় এবং সাড়ে ৩ কোটি টাকায় একটি ব্র্যান্ড নিউ পোরশে গাড়ি কেনেন। এসব গাড়ির মূল্য পরিশোধ করা হয়েছে ঋণ নিয়ে এবং রাশেদের ব্যক্তিগত ব্যাংক অ্যাকাউন্ট থেকে।

গাড়ির মূল্য ও গাড়ির বিপরীতে নেওয়া ঋণের টাকা রাশেদ সোনালী লাইফ থেকে বিধিসম্মতভাবে নিয়েছে কি না পরিদর্শন চলাকালে পরিদর্শন দলকে তা নিশ্চিত করতে পারেনি সোনালী লাইফ। এছাড়া গাড়ির বিপরীতে নেওয়া ঋণের কিস্তির টাকা সোনালী লাইফের অ্যাকাউন্ট থেকে পেটি ক্যাশের মাধ্যমে নগদে গ্রহণ করে ঋণের কিস্তি পরিশোধ করা হয়ে থাকতে পারে বলে উল্লেখ করা হয়েছে বিএফআইইউর প্রতিবেদনে।

প্রতিবেদনটিতে আরও বলা হয়, গুলশানে বিল্ডিং টেকনোলজি অ্যান্ড আইডিয়াস (বিটিআই) থেকে মীর রাশেদ বিন আমান ও ফৌজিয়া কামরুন তানিয়ার নামে ১৮ কোটি ৩৯ লাখ ৩৪ হাজার টাকা মূল্যের একটি অ্যাপার্টমেন্ট বুকিং দেওয়া হয়। এই অ্যাপার্টমেন্টের মূল্য বাবদ ১৩ কোটি টাকা পরিশোধ করা হয় ন্যাশনাল হাউজিং ফাইন্যান্স অ্যান্ড ইনভেস্টমেন্ট থেকে ঋণ নিয়ে। বাকি পাঁচ কোটি ৩৯ লাখ টাকা পরিশোধ করেন রাশেদ ও ফৌজিয়া। আর ঋণের ১৩ কোটি টাকার মধ্যে তিন লাখ দুই হাজার টাকাও পরিশোধ করেন তারা।

বিটিআইকে সরাসরি পরিশোধ করা পাঁচ কোটি টাকার মধ্যে আড়াই কোটি টাকা পরিশোধ করা হয় রাশেদের ব্যক্তিগত অ্যাকাউন্ট থেকে। যার মধ্যে এক কোটি ৫০ লাখ টাকা ২০২০ সালে ও এক কোটি টাকা ২০২২ সালে পরিশোধ করা হয়। ২০২০ সালে পরিশোধ করা এক কোটি ৫০ লাখ টাকার মধ্যে ৫০ লাখ টাকা রাশেদ সোনালী লাইফ থেকে নিয়েছেন বলে মনে করছে বিএফআইইউ।

বাকি দুই কোটি ৫৪ লাখ টাকা ২০২২ সালের ২৬ জুন ও ৫ জুলাই দুটি পে-অর্ডারে জমা করা হয় বিটিআইর অ্যাকাউন্টে। এই পে-অর্ডার দুটি করা হয় সোনালী লাইফের অ্যাকাউন্ট থেকে। দুটি পে-অর্ডারেরই ফরওয়ার্ডিং লেটারে স্বাক্ষর করেন সোনালী লাইফের সাবেক চেয়ারম্যান নূর-ই-হাফজা ও ফৌজিয়া কামরুন তানিয়া।

ন্যাশনাল হাউজিং থেকে নেওয়া ঋণের ১৩ কোটি টাকার মধ্যে ২০২২ সালের ১০ আগস্ট থেকে ২০২৪ সালের ২ ফেব্রুয়ারি তিন কোটি ৩৭ লাখ টাকা পরিশোধ করা হয়েছে রাশেদ ও তানিয়ার মিউচুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংকের যৌথ অ্যাকাউন্ট থেকে। রাশেদ ও তানিয়ার যৌথ ওই অ্যাকাউন্টটিতে অধিকাংশ টাকাই জমা হয়েছে নগদে। বিএফআইইউ মনে করছে, সোনালী লাইফের পেটিক্যাশের মাধ্যমে টাকা নিয়ে রাশেদ ও তানিয়া যৌথ অ্যাকাউন্টটিতে জমা করে থাকতে পারেন।

২০২০ থেকে ২০২১ সালের ডিসেম্বরের মধ্যে দুই দফায় পেটিক্যাশ থেকে ডেভেলপমেন্ট ইনসেনটিভ বাবদ বিভিন্ন ব্যক্তির নামে এক কোটি ৩৪ লাখ টাকা ও এক কোটি ৫৫ লাখ টাকা (মোট দুই কোটি ৮৯ লাখ টাকা) অনুমোদনবিহীনভাবে গ্রহণ করেছেন। তবে এই টাকা রাশেদ তছরুপ করেছেন কি না এমন কোনো মতামত দেয়নি বিএফআইইউ।

সোনালী লাইফের টাকায় শেয়ারের মালিক ১০ পরিচালক
বিএফআইইউর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০১৮ সালে সোনালী লাইফের পরিশোধিত মূলধন ১৮ কোটি থেকে ১০ কোটি টাকা বাড়িয়ে ২৮ কোটি টাকা করার অনুমোদন দেয় পুঁজিবাজারের নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিএসইসি।

উদ্যোক্তা পরিচালকদের এই টাকা পরিশোধ করার কথা থাকলেও তা না করে সোনালী লাইফের সাউথ বাংলা এগ্রিকালচার ব্যাংকের এসওডি অ্যাকাউন্ট থেকে আট কোটি ৯৫ লাখ ও এক কোটি ৫৫ লাখ টাকা নগদে উত্তোলন করে ১০ জন পরিচালকের নামে শেয়ারের মূল্য পরিশোধ বাবদ পে-অর্ডার ইস্যু করা হয়।

এসব পে-অর্ডার করা হয় ২৬ জুন ২০১৮ সালে। ওই দিনই এই পে-অর্ডারগুলো সাউথ বাংলা এগ্রিকালচার এবং কমার্স ব্যাংকে সোনালী লাইফের নামে খোলা এসএনডি অ্যাকাউন্টে জমা করা হয়। এসএনডি অ্যাকাউন্ট নম্বর- ০০০২১৩০০০০৭৭২। পরে আবার এ অ্যাকাউন্ট থেকে ওইদিনই অপর একটি এসএনডি অ্যাকাউন্টে (নম্বর ০০০২১৩০০০০৩৩৪) এক কোটি ৩৭ লাখ এবং ২ জুলাই ২০১৮ তারিখে ৯ কোটি ১৩ লাখ টাকা জমা করা হয়।

মূলত সোনালী লাইফের অর্থ দিয়েই ১০ জন পরিচালক কোম্পানিটির মূলধন বৃদ্ধিজনিত শেয়ার কিনেছেন, যা জালিয়াতি।

গ্যালাক্সি হলিডেজের মাধ্যমে ৩৭ কোটি ৬৪ লাখ টাকা পাচার
বিএফআইইউর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গ্যালাক্সি হলিডেজ লিমিটেডকে বিভিন্ন দেশে ট্যুর, সেমিনার, ওমরা পালন ও অস্ট্রেলিয়ায় বিশ্বকাপ ক্রিকেট খেলা দেখার নামে ৩৭ কোটি ৬৪ লাখ টাকা দিয়েছে সোনালী লাইফ। তবে এই লেনদেনের ভাউচার ছাড়া কোনো প্রকার সহায়ক দলিলাদি প্রধান কার্যালয়ের সংশ্লিষ্ট বিভাগ বা হিসাব বিভাগের কাছে রক্ষিত নেই মর্মে পরিদর্শন দলকে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা অবহিত করেন।

বিএফআইইউ মনে করছে, এই টাকা গ্যালাক্সি হলিডেজের মাধ্যমে বিদেশে পাচার করা হয়ে থাকতে পারে এবং প্রতিষ্ঠানটির মুখ্য নির্বাহী কর্মকর্তা মীর রাশেদ বিন আমানের ওপরই এর দায়ভার বর্তায়।

ক্রাউন মানি চেঞ্জারের মাধ্যমে পাচার ৬ কোটি ৪৬ লাখ টাকা
ক্রাউন মানি চেঞ্জার কোম্পানির মাধ্যমে বিভিন্ন সময় সোনালী লাইফের ছয় কোটি ৪৬ লাখ টাকা বিদেশে পাচার করা হয়েছে বলে মনে করছে বিএফআইইউ। এসব টাকা দেওয়া হয়েছে বিমা কোম্পানিটির পেটিক্যাশ ও বিভিন্ন ব্যাংক হিসাব থেকে নগদে উত্তোলন করে। হুন্ডি অথবা বাহকের মাধ্যমে এই টাকা বিদেশে পাচার করা হয়েছে।

প্রতিবেদনটিতে বলা হয়েছে, পাউন্ড কেনা, লন্ডনে অর্থ পাঠানো, লন্ডনে শপিং, দুবাই ট্যুর, লন্ডন কার্ড, সফটওয়্যার কেনা পারপাস, পরিচালক সফিয়া সোবহান চৌধুরী ও মোস্তফা কামরুস সোবহানের কন্যা মাহেরাকে প্রদান, মুখ্য নির্বাহী রাশেদের মেডিকেল ব্যয়সহ অন্য বাবদ এসব টাকা দেওয়া হয়েছে ক্রাউন মানি চেঞ্জার কোম্পানিকে।

শেয়ার কেনার নামে সোনালী লাইফের ৭ কোটি ৬ লাখ টাকা স্থানান্তর
বিএফআইইউর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সোনালী লাইফের হিসাব থেকে ৭ কোটি ৬ লাখ টাকা স্থানান্তর করে শেয়ার কেনা হয়। এসব শেয়ার কেনা হয়েছে সাবেক মুখ্য নির্বাহী মীর রাশেদ বিন আমানের আত্মীয়-স্বজনসহ সোনালী লাইফের বিভিন্ন কর্মকর্তা, ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের নামে। কমার্স ব্যাংক সিকিউরিটিজ অ্যান্ড ইনভেস্টমেন্ট লিমিটেডে এসব ব্যক্তির নামে খোলা বিভিন্ন বিও হিসাবে শেয়ার কেনা বাবদ এই টাকা স্থানান্তর করা হয়।

পরিচালক ও পরিচালকদের আত্মীয়-স্বজনরা আর্থিক সুবিধা নিয়েছেন দুই কোটি টাকার
সোনালী লাইফের তহবিল থেকে নিয়মবহির্ভূতভাবে প্রায় দুই কোটি টাকার আর্থিক সুবিধা নেন সাবেক চেয়ারম্যান নূর-ই-হাফজাসহ মোস্তফা গোলাম কুদ্দুসের পরিবারের সদস্যরা। এর মধ্যে সাবেক চেয়ারম্যান নূর-ই-হাফসার অনিয়ম এক কোটি ১৫ লাখ টাকা। ভাইস চেয়ারম্যান ফৌজিয়া কামরুন তানিয়ার আত্মসাৎ ১১ লাখ ৬৬ হাজার টাকা। তাসনিয়া কামরুন আনিকার আত্মসাৎ ১১ লাখ ১২ হাজার টাকা। অবৈধভাবে শেখ মোহাম্মদ ড্যানিয়েল নিয়েছেন ৩০ লাখ ৩৪ হাজার টাকা। মোস্তফা কামরুস সোবহানের আত্মসাৎ চার লাখ ১৩ হাজার টাকা। ভ্রমণ ও বৈদেশিক মুদ্র কেনায় মোস্তফা কামরুস সোবহানের মেয়েকে দেওয়া হয় ২৫ লাখ ৭৫ হাজার টাকা।

বিএফআইইউর তদন্তে বেরিয়ে আসা অনিয়মের বিষয়ে মন্তব্য জানতে মোবাইলে যোগাযোগ করা হলে মোস্তফা গোলাম কুদ্দুস বলেন, ‘এসব মিথ্যা তথ্য। এগুলো ছাপালে আপনারা আইনের আওতায় আসবেন।’

এরপর ব্যস্ততা দেখিয়ে তিনি মোবাইল সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেন। কোম্পানিটির সাবেক ভারপ্রাপ্ত মুখ্য নির্বাহী কর্মকর্তা মীর রাশেদ বিন আমান দেশের বাইরে থাকায় তার সঙ্গে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।

Feb2

‘জিয়া স্মৃতি কমপ্লেক্সকে স্বাধীনতা কমপ্লেক্স করা প্রতিহিংসার রাজনীতির ছোবল’

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: শুক্রবার, ৫ জুন, ২০২৬, ২:৫০ অপরাহ্ণ
‘জিয়া স্মৃতি কমপ্লেক্সকে স্বাধীনতা কমপ্লেক্স করা প্রতিহিংসার রাজনীতির ছোবল’

জিয়া স্মৃতি কমপ্লেক্সকে ফ্যাসিবাদের সময়ে স্বাধীনতা কমপ্লেক্স করা প্রতিহিংসামূলক রাজনীতির ছোবল বলে মন্তব্য করেছেন মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী আহমেদ আযম খান।

শুক্রবার (৫ জুন) নগরের কাজীর দেউড়ির জিয়া স্মৃতি জাদুঘর পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী এ মন্তব্য করেন।

এক প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, দেখুন এই বাংলাদেশের অভ্যুদয়ে মেজর জিয়া থেকে শুরু করে রাষ্ট্রপতি জিয়া ঘাটে ঘাটে, ইতিহাসের বাঁকে বাঁকে তাঁর যে অবস্থান সেটা বাংলাদেশকে অনেক বেশি আলোড়িত করেছে, সমৃদ্ধ করেছে। সেই রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের স্মৃতি রক্ষার্থেই এ স্মৃতি জাদুঘর। এটা আমরা দেখলাম, পরিপূর্ণভাবে দেখতে পারিনি। আজ সকালে এসেছি।

আমার পাশে আছেন মুক্তিযুদ্ধ মন্ত্রণালয়ের মাননীয় প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেন, ডান পাশে চট্টগ্রামের কৃতী সন্তান মাননীয় সংসদ সদস্য এরশাদ উল্লাহ, চট্টগ্রাম দক্ষিণের আহ্বায়ক সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান ইদ্রিস মিয়া, জেলা প্রশাসক, আমার মন্ত্রণালয়ের সচিব, অতিরিক্ত সচিবসহ অন্যান্য কর্মকর্তা আছেন। আমরা এটা দেখলাম। এসে শুনলাম। এর অনেক রুম আমরা খালি দেখেছি। কারণ এটা রেনোভেশন হচ্ছে। সুন্দর করে রেনোভেট করে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের স্মৃতিবিজড়িত জিনিসগুলো সংরক্ষণ করা হবে। আমরা এরপর যাব জিয়া স্মৃতি কমপ্লেক্সে যেটি ফ্যাসিবাদের সময়ে স্বাধীনতা কমপ্লেক্স করা হয়েছিল সম্পূর্ণভাবে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের প্রতি ঈর্ষা করে। এটা একটা প্রতিহিংসামূলক রাজনীতির ছোবল। ইনশাআল্লাহ ভবিষ্যতে জিয়া স্মৃতি কমপ্লেক্স আমরা নতুন করে করব। সেটি আমরা পরিদর্শন করব। আরও কিছু স্থাপনা পরিদর্শন করব।

তিনি বলেন, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান এ দেশের স্বাধীনতায় মহান মুক্তিযুদ্ধে যে মহান ঘোষণাটি দিয়েছিলেন। সেই ঘোষণার পর একটার পর একটা উনার পদক্ষেপ ছিল। উনি যুদ্ধ করেছেন। উনি বীরউত্তম হয়েছেন। উনি সেনাপ্রধান হয়েছেন। উনি সফল রাষ্ট্রনায়ক হয়েছেন। বাংলাদেশের সমৃদ্ধির জন্য উনি একসময় বাংলাদেশের চিত্রই পাল্টে ফেলেছিলেন। যদিও ফ্যাসিবাদ এসে বারবার সেটি ভূলুণ্ঠিত করেছে। আমরা সেই শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানকে শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করি এবং তাঁর স্মৃতিগুলো সংরক্ষণের জন্য মুক্তিযুদ্ধ মন্ত্রণালয় সব কিছু করবে।

কত দ্রুত জিয়া স্মৃতি জাদুঘরের মেরামত কাজ শেষ হবে জানতে চাইলে প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেন বলেন, আমাদের সরকার অত্যন্ত আন্তরিক এ বিষয়ে। এ জন্য আজ মাননীয় মন্ত্রী মহোদয়ের নেতৃত্বে আমরা পরিদর্শনে এসেছি। এ স্থাপনাটি এবং জিয়া স্মৃতি কমপ্লেক্স যেটিকে পরবর্তীতে স্বাধীনতা কমপ্লেক্স ঘোষণা করা হয়েছিল। এগুলো ঐতিহাসিক নিদর্শন। আগামী প্রজন্মের আসলে এগুলো জানতে হবে। তাদের এখানে আসতে হবে, দেখতে হবে। আমাদের ইতিহাস যদি না জানি তাহলে জাতি হিসেবে নিজেদের গড়ে তুলতে পারব না। ভূমিকম্পের কারণে এখানে কিছু ডেমেজ হয়েছে। আমরা দ্রুততম সময়ে মেরামত করে জনসাধারণের জন্য উন্মুক্ত করে দেওয়ার পদক্ষেপ নেব ইনশাআল্লাহ।

বিশ্ব পরিবেশ দিবস আজ

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: শুক্রবার, ৫ জুন, ২০২৬, ১১:১৫ পূর্বাহ্ণ
বিশ্ব পরিবেশ দিবস আজ

পরিবেশ সংরক্ষণ সম্পর্কে জনসচেতনতা বৃদ্ধি এবং কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণের লক্ষ্যে বিশ্বের অন্যান্য দেশের মতো বাংলাদেশেও আজ বিশ্ব পরিবেশ দিবস-২০২৬ পালিত হচ্ছে।

জাতিসংঘের মানবিক পরিবেশ সম্মেলন (ইউনাইটেড নেশনস কনফারেন্স অন দ্য হিউম্যান এনভায়রনমেন্ট) এই দিনেই শুরু হয়েছিল। এই সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছিল ১৯৭২ সালের ৫-১৬ জুন পর্যন্ত। তখন থেকেই প্রতি বছর এই দিবস পালিত হয়ে আসছে। দিবসটি প্রথম পালিত হয় ১৯৭৪ সালে। প্রতি বছরই দিবসটি আলাদা আলাদা শহরে, আলাদা আলাদা প্রতিপাদ্য বিষয় নিয়ে পালিত হয়। এ বছর দিবসটির প্রতিপাদ্য- ‘প্রকৃতি থেকে প্রেরণা, জলবায়ুর জন্য, আমাদের ভবিষ্যতের জন্য’।

দিবসটি উপলক্ষ্যে বাংলাদেশ সরকার এবং বিভিন্ন পরিবেশ ও উন্নয়নমূলক সংগঠন নানা কর্মসূচি গ্রহণ করেছে।

বিশ্ব পরিবেশ দিবস হলো পরিবেশ সুরক্ষায় জনসচেতনতা সৃষ্টি ও কার্যক্রম জোরদারের জন্য জাতিসংঘের অন্যতম প্রধান উদ্যোগ। বছরের পর বছর ধরে এটি জনসচেতনতা বৃদ্ধির অন্যতম বৃহৎ বৈশ্বিক প্ল্যাটফর্মে পরিণত হয়েছে, যা বিশ্বের ১০০টিরও বেশি দেশে কোটি কোটি মানুষের অংশগ্রহণে পালিত হয়ে আসছে।

দৌলতদিয়া ঘাটে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে আবারও বাস পড়ল নদীতে

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: শুক্রবার, ৫ জুন, ২০২৬, ১১:০৫ পূর্বাহ্ণ
দৌলতদিয়া ঘাটে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে আবারও বাস পড়ল নদীতে

রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ উপজেলার দৌলতদিয়া ৭নং ফেরিঘাটে আবারও নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে একটি বাস পদ্মায় পড়ে যাওয়ার ঘটনা ঘটেছে।

শুক্রবার (৫ জুন) সকাল সাড়ে ৯টার দিকে এ ঘটনা ঘটে। তবে এ ঘটনায় এখনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি।

বিআইডব্লিউটিসি দৌলতদিয়া ঘাট কার্যালয়ের সহকারী মহাব্যবস্থাপক মোহাম্মদ সালাহউদ্দিন বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, সকাল সাড়ে ৯টার দিকে কুষ্টিয়া থেকে ঢাকাগামী এসবি পরিবহনের একটি বাস দৌলতদিয়া ৭নং ফেরিঘাট পন্টুন থেকে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে পদ্মায় পড়ে যায়। এখন পর্যন্ত হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি। বাস থেকে যাত্রী নামানো অবস্থায় ছিল বলে মনে হচ্ছে।

রাজবাড়ীর জেলা প্রশাসক আফরোজা পারভীন বলেন, বাস পদ্মায় ডুবে যাওয়ার ঘটনা শুনেছি। আমি ঘটনাস্থলে যাচ্ছি।

প্রসঙ্গত, গত ২৫ মার্চ দৌলতদিয়া ফেরিঘাটে ৩ নম্বর পল্টুন থেকে কুষ্টিয়ার কুমারখালি থেকে ঢাকাগামী যাত্রীবাহী ‘সৌহার্দ্য পরিবহনে’র একটি বাস ফেরিতে ওঠার সময় নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে নদীতে পড়ে যায়। এ ঘটনায় মোট ২৬ জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়।