খুঁজুন
শুক্রবার, ৫ই জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ২২শে জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

জনতার আদালতে আ.লীগকে নিষিদ্ধ করা হবে: নাহিদ

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: শুক্রবার, ২ মে, ২০২৫, ৯:২১ অপরাহ্ণ
জনতার আদালতে আ.লীগকে নিষিদ্ধ করা হবে: নাহিদ

জাতীয় নাগরিক পার্টির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম বলেছেন, আওয়ামী লীগকে জনতার আদালতে নিষিদ্ধ করা হবে। পতনের ৯ মাস হয়ে গেলেও ফ্যাসিবাদী আওয়ামী লীগকে নিষিদ্ধ করতে আমাদের রাস্তায় নামতে হচ্ছে, এটা আমাদের সামষ্টিক ব্যর্থতা। বিচার ও সংস্কারের জন্যই মানুষ রাস্তায় নেমেছিল। গণহত্যা চালানোর দায়ে আওয়ামী লীগকে অন্তর্বর্তী সরকার এখনও নিষিদ্ধ করতে না পারায় হতাশ বোধ করছি।

শুক্রবার (২ মে) বিকেল ৩টায় রাজধানীর বায়তুল মোকাররম দক্ষিণ গেটে আওয়ামী লীগের বিচার ও নিষিদ্ধের দাবিতে এনসিপি আয়োজিত বিক্ষোভ সমাবেশে তিনি এসব কথা বলেন।

নাহিদ ইসলাম বলেন, বিচার চলাকালে আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক এবং রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড আইন করে নিষিদ্ধ ঘোষণা করতে হবে। আমরা জুলাই ঘোষণাপত্রের কথা বলেছিলাম; জুলাইকে সাংবিধানিক স্বীকৃতি দেওয়ার কথা বলেছিলাম। কিন্তু বিভিন্ন ষড়যন্ত্রের কারণে সেই জুলাই ঘোষণাপত্র এখনও আসছে না। ভুলে গেলে চলবে না- জুলাই গণঅভ্যুত্থানের ফলেই কিন্তু আজকে বাংলাদেশে যারা রাজনীতি করছে; যারা ক্ষমতায় যাওয়ার স্বপ্ন দেখছে; তারা কিন্তু এই শহীদ পরিবার এবং আহত যোদ্ধাদের আত্মত্যাগের ফলেই স্বপ্ন দেখতে পাচ্ছে। ফলে অবিলম্বে জুলাই ঘোষণাপত্র দিতে হবে।

তিনি আরও বলেন, আমরা চাই মৌলিক সংস্কারের ভিত্তিতে রাষ্ট্র কাঠামোর আমূল পরিবর্তন; শাসন ব্যবস্থার আমূল পরিবর্তন করে রাজনৈতিক ঐকমত্যের ভিত্তিতে মৌলিক সংস্কারের উদ্দেশ্যে জুলাই সনদ কার্যকর করা হবে। জুলাই সনদে সুস্পষ্টভাবে আওয়ামী লীগ নিষিদ্ধের কথাটি থাকতে হবে।

এনসিপির সদস্য সচিব আখতার হোসেন বলেন, যেই আওয়ামী লীগ বাংলাদেশ মানুষের ওপর বারবার গণহত্যা চালিয়েছে তাদের রাজনীতি চলতে পারে না। অন্তর্বর্তীকালীন সরকারকে বলতে চাই, আপনারা আগের কোনো তত্ত্বাবধায়ক সরকারের মতো নন। আওয়ামী লীগ নিষিদ্ধের ব্যাপারে আইনি সিদ্ধান্ত নিতে বাধা কোথায়? গত ৫ আগস্ট বাংলাদেশের মানুষ সিদ্ধান্ত নিয়েছে এখানে আর আওয়ামী লীগের কিছু থাকবে না। আওয়ামী লীগের নাম নির্বাচনের খাতা থেকে মুছে সন্ত্রাসীদের খাতায় লিখতে হবে। আওয়ামী লীগ নিষিদ্ধের দায় শুধু এনসিপির নয়। এ দায় সবার।

গত জুলাই-আগস্টের গণঅভ্যুত্থানে গুলিবিদ্ধ হয়ে আহত ও পঙ্গুত্ববরণ করা রোগীরা এখনও হাসপাতালের বেডে কাতরাচ্ছে আর আহাজারি করছে বলে মন্তব্য করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) জ্যেষ্ঠ যুগ্ম সদস্যসচিব ডা. তাসনিম জারা।

তিনি বলেন, আওয়ামী লীগের হাতে যারা নিপীড়িত হয়েছেন, তাদের কেউ এখনও বিচার পায়নি। দলটির মধ্যে কোনো অনুশোচনা নেই। বরং তারা আবার নির্বাচনে যাওয়ার স্বপ্ন দেখছে।

হুঁশিয়ার করে ডা. তাসনিম জারা আরও বলেন, আমরা হাল ছাড়ছি না। আওয়ামী লীগের বিচার বাংলাদেশেই হতে হবে। শুধু দল নয়— ছাত্রলীগ, যুবলীগসহ তাদের সহযোগী সংগঠনগুলোর যেসব নেতা এসব অপরাধে জড়িত, তাদেরও আইনের আওতায় আনতে হবে।

সমাবেশে এনসিপির কেন্দ্রীয় নেতা মশিউর রহমান বলেন, আওয়ামী লীগ বাংলাদেশে আর রাজনীতি করতে পারবে না; এই সিদ্ধান্ত গত ৫ আগস্ট হয়ে গেছে।

আরেক কেন্দ্রীয় নেতা আবু সাঈদ মুসা বলেন, আওয়ামী লীগ মাঠে নামার চেষ্টা করলে এনসিপি তাদের রাজপথে মোকাবিলা করবে।

কেন্দ্রীয় নেতা জয়নাল আবেদিন শিশির বলেন, দল হিসেবে আওয়ামী লীগ এবং খুনি হাসিনা ও তার দোসরদের বিচার অবশ্যই হতে হবে৷ এই দাবি আদায়ে এনসিপি মাঠে আছে, থাকবে।

এনসিপির যুগ্ম সদস্যসচিব মাহিন সরকার বলেছেন, ফাঁসির দড়ি ছাড়া হাসিনার দেশে ফেরার কোনো সুযোগ নেই।

তিনি আরও বলেন, যারা মনে করছেন শেখ হাসিনা দ্রুতই দেশে ফিরবে, তাদের জন্য বলতে চাই- শেখ হাসিনা শুধু একটি কারণেই বাংলাদেশে ফিরতে পারেন তা হলো ফাঁসির দড়ি গলায় ঝোলাতে।

মাহিন সরকার ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানকে ‘বিশ্বের বৃহত্তম ইলেকট্রনিক বিপ্লব’ বলে আখ্যা দেন। তিনি বলেন, এই বিপ্লব কেবল বাংলাদেশের নয়, কাশ্মীর ও ফিলিস্তিনের নিপীড়িত মানুষদের প্রতিও এক ধরনের আশার বার্তা।

ঢাকা মহানগরীর আয়োজনে এই সমাবেশে রাজধানীর বিভিন্ন এলাকার নেতাকর্মীরা যোগ দিয়েছেন। সমাবেশে মিছিল নিয়ে দলে দলে যোগ দেন তারা। ঢাকা মহানগরী, বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজের শিক্ষার্থীরা সমাবেশে অংশ নেন। এছাড়া বিভিন্ন শ্রেণিপেশার মানুষও যোগ দিয়েছেন এনসিপির সমাবেশে।

অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য রাখেন, মুখ্য সংগঠক (উত্তরাঞ্চল) সারজিস আলম, মূখ্য সংগঠক (দক্ষিণ অঞ্চল) হাসনাত আব্দুল্লাহ, আব্দুল হান্নান মাসুদ, শামান্তা শারমিন প্রমুখ।

Feb2

দুবাইতে উত্তর সর্তা জাগরণী ক্লাব প্রবাসী পরিষদের অভিষেক অনুষ্ঠান সম্পন্ন

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ৪ জুন, ২০২৬, ১১:৫৫ অপরাহ্ণ
দুবাইতে উত্তর সর্তা জাগরণী ক্লাব প্রবাসী পরিষদের অভিষেক অনুষ্ঠান সম্পন্ন

চট্টগ্রামের রাউজান উপজেলার ১নং হলদিয়া ইউনিয়নের উত্তর সর্তা জাগরণী ক্লাব প্রবাসী পরিষদের ঈদ পুনর্মিলনী ও অভিষেক অনুষ্ঠান দুবাই ইন্টারন্যাশনাল সিটিতে অনুষ্ঠিত হয়েছে 

শুক্রবার (২৯ মে) বাদে মাগরিব মহিউদ্দিন মাহফুজ এর সঞ্চালনায় এতে সভাপতিত্ব করেন সাবেক সভাপতি মাহমুদুল হক চৌধুরী। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন মোঃ রফিক উদ্দিন। বিশেষ অতিথি ছিলেন মোঃ ওসমান আলী সি আই পি।

বক্তব্য রাখেন প্রবাসী পরিষদের সভাপতি ইয়াহিয়া খান, প্রবাসী পরিষদের সাধারণ সম্পাদক হাবিব উল্লাহ। অন্যান্যদের মাঝে আরও বক্তব্য রাখেন- মৌলানা মনছুর, ইলিয়াস রেজা, সাংবাদিক এম আবদুল মান্নান, মোহাম্মদ আসলাম, মোহাম্মদ বেলাল, মাওলানা আলী রেজা, মোহাম্মদ বখতেয়ার, শফিক সিকদার, মোহাম্মদ ফিরোজ, মোহাম্মদ আজম খান, ইকবাল সেলিম, মোঃ ইলিয়াস আলী প্রমুখ।

অনুষ্ঠানে বক্তারা এলাকার সার্বিক কল্যাণে সকলকে আরো এগিয়ে আসার আহবান জানান। পরিশেষে দেশ, জাতি, প্রবাসী ও এলাকাবাসীর কল্যাণ কামনা করে মোনাজাত করা হয়।

৬ নবজাতকের মৃত্যুর দায় আদ্-দ্বীন হাসপাতালের : স্বাস্থ্যমন্ত্রী

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ৪ জুন, ২০২৬, ৮:৪১ অপরাহ্ণ
৬ নবজাতকের মৃত্যুর দায় আদ্-দ্বীন হাসপাতালের : স্বাস্থ্যমন্ত্রী

রাজধানীর আদ্-দ্বীন হাসপাতালের পোস্ট অপারেটিভ ওয়ার্ডে ৬ নবজাতকের মৃত্যুর দায় হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের।

বৃহস্পতিবার (৪ জুন) সচিবালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে এ কথা বলেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন।

তিনি বলেন, তদন্ত প্রতিবেদনে স্পষ্টভাবে আদ্-দ্বীন হাসপাতালের দায়িত্বে অবহেলা পাওয়া গেছে। পরবর্তী প্রক্রিয়া হিসেবে তাদের বিরুদ্ধে প্রচলিত আইনে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

তিনি বলেন, গেল ২৭ মে ভোর ৬টা থেকে সকাল ৯টার মধ্যে রাজধানীর মগবাজারের আদ্-দ্বীন হাসপাতালে ছয়টি নবজাতক শিশু মারা গেছে। এ ঘটনাটিকে খুবই সিরিয়াসলি নিয়েছি। আমরা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছি। একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছি, তাদের তিন দিন সময় দেওয়া হয়েছিল। আজ বিকেল ৩টায় সেই প্রতিবেদন হাতে পেয়েছি।

তিনি বলেন, তদন্ত কমিটি দেখেছে যে আদ্-দ্বীন হাসপাতালের ভবনটি একটি হাসপাতাল পরিচালনার জন্য উপযোগী না। তদন্ত কমিটি পোস্ট-অপারেটিভ কক্ষনম্বর-২ পরিদর্শন করেছে। তাদের কাছে মনে হয়েছে, কক্ষটিতে দীর্ঘসময় এসি বন্ধ থাকায় ও স্বাভাবিক ভেন্টিলেশন কার্যক্রম না থাকায় প্রয়োজনীয় অক্সিজেনের মাত্রার ঘাটতি হয়েছে। পাশাপাশি, কার্বন ডাই-অক্সাইডের পরিমাণ স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি ছিল।

স্বাস্থ্যমন্ত্রী আরও বলেন, সংশ্লিষ্ট কক্ষের দায়িত্বরত সব সেবিকা, পরিচ্ছন্নতাকর্মী ও মৃত নবজাতকদের অভিভাবকদের সঙ্গে কথা বলেছে তদন্ত সংশ্লিষ্টরা। তাতে প্রমাণ পেয়েছে যে সেবিকাদের দায়িত্বে চরম অবহেলা ও অসহযোগিতা ছিল।

‘নবজাতকের আকস্মিক শারীরিক অবনতির অবস্থায় হাসপাতালের ইমার্জেন্সি মেডিকেল রেসপন্স ছিল না। অভিভাবকদের আহ্বানে সাড়া না দিয়ে সংশ্লিষ্ট নার্স কোনো চিকিৎসককে বিষয়টি অবহিত করেনি। বরং কালক্ষেপণ করতে থাকে এবং নবজাতকের মৃত্যুরোধের উপযুক্ত যথাযথ ব্যবস্থাও গ্রহণ করা হয়নি’—বলেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী।

তিনি বলেন, কক্ষটি ৯০০ বর্গফুটের। যেখানে ১১ জন রোগী, নবজাতক ও রোগীর লোকসহ প্রায় ৫০ জনের উপস্থিতি ছিল। যা ধারণ ক্ষমতার চেয়ে অনেক বেশি। হাসপাতালের প্রশাসনিক ব্যক্তিদের জিজ্ঞাসাবাদ করে প্রমাণ পেয়েছে, তারা একটি হাসপাতাল পরিচালনার প্রাথমিক শর্তগুলো পালনে সক্ষম ছিল না। পোস্ট অপারেটিভ ওয়ার্ড দুইয়ে রোগীদের দেখাশোনার কোনো চিকিৎসক ছিল না। জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলায় সেবিকাদের প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণ ছিল না। কক্ষটিতে আলো-বাতাস চলাচলের ভেন্টিলেশনের জন্য কোনো পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়নি। কক্ষটিতে অতিরিক্ত লোকজনের উপস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করা হয়নি। এ ঘটনায় দায়ীদের বিরুদ্ধে আইন অনুসারে ব্যবস্থা হবে বলেও জানিয়েছেন সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন।

তিনি বলেন, হাসপাতালটিতে অনেক রোগী আছে। আমরা সেটা বন্ধ করে দিতে পারি না। তবে, আইন অনুসারে শাস্তি নিশ্চিত করা হবে। আগামী রোববারের মধ্যে এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

‘বাংলাদেশের একটি হত্যাকাণ্ড’ নিয়ে বক্তব্যের জেরে মমতার বিরুদ্ধে মামলা

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ৪ জুন, ২০২৬, ৮:৩৭ অপরাহ্ণ
‘বাংলাদেশের একটি হত্যাকাণ্ড’ নিয়ে বক্তব্যের জেরে মমতার বিরুদ্ধে মামলা

ভারতের পশ্চিমবঙ্গের সাবেক মুখ্যমন্ত্রী ও তৃণমূল কংগ্রেস প্রধান মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান ও কেন্দ্রীয় নিরাপত্তা সংস্থাগুলো সম্পর্কে বিতর্কিত মন্তব্যের অভিযোগে মামলা করা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (৪ জুন) শিলিগুড়ি সাইবার থানায় রিংকি চ্যাটার্জি সিং নামে এক আইনজীবী এ অভিযোগ করেন।

অভিযোগে বলা হয়েছে, সম্প্রতি বিভিন্ন রাজনৈতিক সভা, জনসমাবেশ এবং গণমাধ্যমের সামনে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ভারতের নির্বাচন কমিশন, কেন্দ্রীয় সশস্ত্র বাহিনীসহ বিভিন্ন সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানের নিরপেক্ষতা, সততা ও বিশ্বাসযোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন।

এর মাধ্যমে তিনি রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রতি জনগণের আস্থা ক্ষুণ্ন করার চেষ্টা করেছেন বলে দাবি অভিযোগকারীর।

অভিযোগে সিং দাবি করেছেন, সম্প্রতি বিভিন্ন জনসভা, রাজনৈতিক মঞ্চ এবং গণমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে অভিযুক্ত ব্যক্তি (মমতা ব্যানার্জি) ভারতের নির্বাচন কমিশন এবং নির্বাচনে আইনশৃঙ্খলা রক্ষার দায়িত্বে নিয়োজিত কেন্দ্রীয় সশস্ত্র বাহিনীসহ দেশের সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানগুলোর বিরুদ্ধে বেশ কিছু উসকানিমূলক ও উগ্র মন্তব্য করেছেন। অভিযুক্ত প্রকাশ্যে এই ধরনের সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানগুলোর সততা, নিরপেক্ষতা এবং নির্ভরযোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন, যার মাধ্যমে তিনি রাষ্ট্রীয় যন্ত্রের প্রতি জনগণের মধ্যে অবিশ্বাস ও অসন্তোষ তৈরির চেষ্টা করেছেন বলে অভিযোগ।

অভিযোগে গত ২ জুন একটি রাজনৈতিক মঞ্চে করা মন্তব্যের কথা উল্লেখ করে আইনের সংশ্লিষ্ট ধারা অনুযায়ী আইনি ব্যবস্থা ও তদন্তের দাবি জানানো হয়েছে।

এ বিষয়ে অভিযোগে বলা হয়েছে, গত ২ জুন রানি রাসমণি স্মরণে একটি রাজনৈতিক সমাবেশ থেকে অভিযুক্ত দাবি করেন— ভারত সরকারের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে তার গোপন আলোচনা হয়েছিল। এরপর তিনি ভারত সরকার ও কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে প্রতিবেশী দেশ বাংলাদেশের একটি রাজনৈতিক হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িয়ে অভিযোগ তোলেন। এই ধরনের অভিযোগ প্রকাশ্যে জনগণ ও গণমাধ্যমের সামনে করা হয়েছিল, যার স্পষ্ট উদ্দেশ্য ছিল আন্তর্জাতিক মহলে ভারত সরকারের ভাবমূর্তি ও নির্ভরযোগ্যতা ক্ষুণ্ন করা এবং দুটি সার্বভৌম রাষ্ট্রের মধ্যে শত্রুতা সৃষ্টি করা।

মামলার অন্যতম ভিত্তি হিসেবে গত ২ জুন কলকাতার ধর্মতলা এলাকায় অনুষ্ঠিত একটি রাজনৈতিক সমাবেশে দেওয়া মমতার বক্তব্যের কথা উল্লেখ করা হয়েছে। ওই সমাবেশে তিনি দাবি করেন, বাংলাদেশের একটি আলোচিত হত্যা মামলার এক অভিযুক্ত মেঘালয় সীমান্ত হয়ে পশ্চিমবঙ্গে প্রবেশ করলে রাজ্য পুলিশের স্পেশাল টাস্কফোর্স (এসটিএফ) তাকে গ্রেপ্তার করে।

অভিযোগকারী রিংকি চ্যাটার্জি সিং দাবি করেন, মমতার এই বক্তব্য পরোক্ষভাবে ভারতের কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এবং কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে একটি বিদেশি রাজনৈতিক হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে যুক্ত করার চেষ্টা করেছে।

তার মতে, এ ধরনের বক্তব্য আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ভারতের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করতে পারে এবং ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে কূটনৈতিক অস্বস্তি সৃষ্টি করতে পারে।

অভিযোগে আরও বলা হয়েছে, জনসমক্ষে এমন মন্তব্য দুই দেশের সম্পর্কের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে এবং বাংলাদেশে বসবাসরত সংখ্যালঘু হিন্দু সম্প্রদায়ের নিরাপত্তা পরিস্থিতিকেও প্রভাবিত করতে পারে।

এদিকে এক সপ্তাহ আগে কলকাতায় একটি ঈদ সংক্রান্ত অনুষ্ঠানে দেওয়া বক্তব্যকে কেন্দ্র করেও মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে আরেকটি অভিযোগ করা হয়। সেখানে সনাতন ধর্ম সম্পর্কে আপত্তিকর মন্তব্য করার অভিযোগ আনা হয়েছিল তার বিরুদ্ধে।

অভিযোগকারীর দাবি, ওই বক্তব্যে ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত এবং সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বিনষ্ট হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

পুলিশ জানিয়েছে, শিলিগুড়ি সাইবার ক্রাইম থানায় করা সর্বশেষ অভিযোগটি নথিভুক্ত করা হয়েছে এবং বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।

উল্লেখ্য, ধর্মতলার সমাবেশে সেই বক্তব্যে মমতা বলেছিলেন, ‘বাংলাদেশ থেকে এক বড় খুনিকে এসটিএফ গ্রেপ্তার করেছিল জেনে রাখুন, যা নিয়ে বাংলাদেশে অনেক ‘রেভোল্যুশন’ হয়েছিল।…মেঘালয় দিয়ে বাংলায় চলে আসে।…আমাদের এসটিএফ তাকে ধরে।…তারপর হোম মিনিস্টার (স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী) নিজে আমাকে ফোন করে বলেছেন…এত দিন তো কই আমি বলিনি, মুখ খুলিনি…আজকে অত্যাচারের শেষ সীমায় গেছেন বলে…আমি এখনো নামটা বলছি না ভদ্রতা করে। বাংলাদেশের লোক উত্তাল হয়ে যাবে, আমি সেটা চাই না, আমি দেশকে ভালোবাসি…।’